১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ এম

প্যাট্রিক ক্লুইভার্টর এক মন্তব্যেই নতুন করে তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব। আধুনিক ফুটবলের সেরা নম্বর নাইন হিসেবে হুলিয়ান আলভারেজকে বেছে নিয়ে বার্সেলোনায় তাঁর সম্ভাব্য যোগ দেওয়া নিয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন এই ডাচ কিংবদন্তি। তাঁর ভাষায়, ‘ওরা খুব কাছাকাছি, একেবারেই কাছাকাছি।’
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্লুইভার্টকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আধুনিক ফুটবলে নিজের জায়গায় কাকে দেখতে চান। উত্তরে সরাসরি আলভারেজের নাম নেন তিনি। তারপর বার্সেলোনায় তাঁকে নিতে চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নে ক্লুইভার্টের জবাব, ‘সম্ভব, অবশ্যই সম্ভব। আমার মনে হয়, বিষয়টি অনেকটাই এগিয়ে গেছে।’
শুধু প্রশংসাতেই থেমে থাকেননি ক্লুইভার্ট। বার্সেলোনায় গেলে আলভারেজের সামনে কী অপেক্ষা করছে, সেটিও পরিষ্কার করে দিয়েছেন। বললেন, ‘বার্সেলোনায় গেলে তার সামনে একদম পরিষ্কার পথ থাকবে। চারপাশে অনেক বড় খেলোয়াড় থাকবে, যারা তাকে আরও বড় কিছু অর্জনে সহায়তা করবে। কারণ বার্সেলোনা মানেই বার্সেলোনা।’
তবে এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আলেতিকো মাদ্রিদ নিজেদের তারকা ফরোয়ার্ডকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। ক্লাবটির সভাপতি এনরিক সেরেসো এরই মধ্যে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আলভারেজকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগের আগে বার্সেলোনার রাস্তায় হঠাৎ এক সংবাদ সম্মেলনে সেরেসো বলেন, ‘আমি যতক্ষণ না তাকে যেতে বলছি, ততক্ষণ আলভারেজ কোথাও যাচ্ছে না।’ এমনকি আগামী মৌসুমেও তিনি ক্লাবে থাকবেন কি না—এই প্রশ্নে কড়া সুর, ‘সে আমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। আমি বলার আগে সে কোথাও যাচ্ছে না।’
দুই ক্লাবের কথার লড়াইয়ে উত্তাপ বাড়ছেই। এর মাঝেই ক্লুইভার্টের মন্তব্য নতুন করে জল্পনায় ঘি ঢেলেছে।
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু ১১ জুন। এই মুহূর্তে শেষ সময়ের প্রস্তুতি সারছে অংশগ্রহণকারী ৪৮ দল। কয়েকটি দল ফ্রেন্ডলি ম্যাচে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সে ধারাবাহিতকায় নিজেদের আরও নিঁখুতভাবে তৈরি করে নিতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড।
২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বের শেষ ধাপে নিউ জিল্যান্ড ও কোস্টা রিকার বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড। টাম্পা ও অরল্যান্ডোয় ম্যাচ দুটি হবে আগামী জুনে। ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার ম্যাচ দুটির সূচি ঘোষণা করে।
২০১০ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে নিউ জিল্যান্ড। তাদের বিপক্ষে ৬ জুন মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। চার দিন পর ২০১৪ সালে কোয়ার্টার-ফাইনাল খেলা কোস্টা রিকার মুখোমুখি হবে টমাস টুখেলের দল।
বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ‘এল’ গ্রুপে পড়েছে। গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামা। আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু ইংলিশদের।

চ্যাম্পিয়নস লিগে কোণঠাসা হয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ শোক পালনের সময় পাচ্ছে কই! মঙ্গলবার বন্ধ ছাদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সাদা গ্যালারির গর্জন থামিয়ে দুঃসাহসিক মহাকাব্য লিখে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রায় ২০ বছর পর বার্নাব্যুতে এসে জয় পুনরুদ্ধার করে বাভারিয়ানরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, আর উত্তেজনার ম্যাচে জিতে ইউরোপের সবচেয়ে সম্মানের লিগের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখল ভিনসেন্ট কোম্পানি দল। আর শোকের মাঝেই লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। শুক্রবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হবে এই ম্যাচ।
লা লিগাতেও অস্বস্তিতে রিয়াল মাদ্রিদ। শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। দুই দলের ম্যাচ বাকি আটটি করে। এই সময় বড় কোনো অঘটন না ঘটলে আবারও বার্সেলোনাতেই যাচ্ছে ট্রফি।
২০২৫-২৬ মৌসুম দ্বিতীয়বারের মতো জিরোনার মুখোমুখি হচ্ছে রিয়াল। গত বছরের ডিসেম্বরের ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়। পিছিয়ে থাকার পর ৬৭ মিনিটের পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে উদ্ধার করেন কিলিয়ান এমবাপে। ওভারঅল পরিসংখ্যানে অবশ্য লস ব্লাঙ্কোসদের পাল্লাই ভারি। রিয়ালের ৮টি জয়ের বিপরীতে মাত্র তিনটি জয় জিরোনার। দুটি ড্র।
জিরোনার বিপক্ষে রিয়ালের স্মৃতি মধুর হলেও সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগায় সবশেষ দুই ম্যাচ হেরে বেকাদায় আরবেলোয়ার দল। মায়ার্কোর বিপক্ষে যোগ করা সময়ে মারুকির গোলে স্নায়ুযুদ্ধে হেরে বসে রিয়াল। আর চ্যাম্পিয়নস লিগের ক্ষত এখনও তাজা। এমন বাজে পরিস্থিতির মধ্যেই খেলতে নামতে হবে রিয়ালকে।
মিচেল সানচেজের দল অবশ্য নিজেদের শেষ ম্যাচে ভিয়ারিয়ালকে বেশ চাপে ফেলে জয় ছিনিয়ে এনেছে। তবে লিগে জিরোনার অবস্থান সুবিধাজনক নয়। ৩০ ম্যাচে ৯ জয়ের বিপরীতে হার ১১টি। ড্র ১০ ম্যাচে। পয়েন্ট টেবিলে দলটির অবস্থান ১২তম।
দেয়ালে পিঠ ঠেকে পড়া ক্ষধার্ত রিয়াল আরেকবার গা ঝাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আরবেলোয়ার কথায় সেটি স্পষ্ট। জিরোনা ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেছেন,
‘‘ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে খেলতে মুখিয়ে আছি। জানি, আমাদের তিন পয়েন্ট পেতেই হবে এবং দারুণ একটা ম্যাচ খেলতে হবে। আমি সত্যিই এটার জন্য অপেক্ষা করছি।’’
আরবেলোয়া জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী হলেও জিরোনা কোচ মিচেল ফলাফলের চেয়েও দলের পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,
“ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে জয়ের বাইরে, আমরা যে ভালো ফুটবল খেলেছি সেটাই আমি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।”
প্রতিপক্ষের অবস্থান বা পরিস্থিতি দেখে ম্যাচ প্রস্তুতি নেন না বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি,
“আমি টেবিল বা তারা আগে-পরে কী খেলছে—এসব দেখি না। বার্নাব্যুতে খেলা কখনোই সহজ নয়। সাধারণত এটা এমন ম্যাচ, যেখানে আমাদের অনেক ভুগতে হবে।”

বিশ্বকাপের আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে দুটি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি আইকনিক কলেজ ফুটবল স্টেডিয়ামে খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা ৬ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনের 'কাইল ফিল্ড'-এ হন্ডুরাসের মুখোমুখি হবে। এরপর ৯ জুন আলাবামার অবার্নে অবস্থিত 'জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে' লড়বে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আইসল্যান্ডের ম্যাচটি দারুণ এক ইতিহাসেরও সাক্ষী হবে। লিওনেল মেসিদের ম্যাচ দিয়ে ৮৭ বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ হবে জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে। অন্যদিকে, কাইল ফিল্ডে এর আগে ২০২৪ সালের জুনে মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের একটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেলোসাওদের যে ম্যাচে দর্শক উপস্থিত ছিল ৮৫,২৪৯ জন।
অবার্ন অ্যাথলেটিকস ডিরেক্টর জন কোহেন আর্জেন্টিনা-আইসল্যান্ডের ভেন্যু নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন,
‘বর্তমান ফিফা বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তাদের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে শেষ ভেন্যু হিসেবে অবার্নকে বেছে নেওয়ায় এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাথলেটিকস বিভাগের জন্য এক বিরাট সাফল্য। এই ম্যাচটি অবার্ন এবং আমাদের পুরো কমিউনিটির প্রতি বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে।’
এই প্রীতি দুই প্রীতি ম্যাচ আমেরিকায় মেসির প্রভাব কতটা বিস্তৃত তা আরও একবার প্রমাণ করছে। এর আগে মেসি আমেরিকার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটসের জিলেট স্টেডিয়াম এবং আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের মতো এনএফএল স্টেডিয়ামগুলোতে গ্যালারি ভর্তি দর্শক টেনেছেন। ২০২৪ সালে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা কটন বোলে একটি প্রাক-মৌসুম প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলেন।
টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-এর অ্যাথলেটিকস ডিরেক্টর ট্রেভ অ্যালবার্টস বলেন,
‘আমরা কাইল ফিল্ডে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছি। এটি আমাদের ক্যাম্পাস এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ভেন্যুতে ভক্তদের স্বাগত জানানোর এক দারুণ সুযোগ। এ ধরনের আয়োজন টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ব্র্যান্ডের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।"
কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ২ হাজারেরও বেশি।
মেসির পরিসংখ্যান ট্র্যাকিং সাইট 'মেসিস্ট্যাটস ডটকম'-এর তথ্যমতে, মেসি বিশ্বের ২২৩টি ভিন্ন ভেন্যুতে গোল করেছেন, যার মধ্যে আমেরিকার ৩২টি স্টেডিয়াম রয়েছে। ইন্টার মায়ামির এই তারকা যদি এই দুটি প্রীতি ম্যাচের কোনোটিতে গোল করেন, তবে সেটি হবে কোনো কলেজ ফুটবল স্টেডিয়ামে তাঁর করা প্রথম আনুষ্ঠানিক গোল। আর অবার্নে গোল করলে সেটি হবে আলাবামা অঙ্গরাজ্যে তাঁর প্রথম গোল (আমেরিকার ১৮তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে)।
আর্জেন্টিনা এর আগে হন্ডুরাসের বিপক্ষে তিনটি লড়াইয়ের সবকটিতেই জিতেছে, যার মধ্যে ২০২২ সালে মিয়ামিতে ৩-০ ব্যবধানের জয়টি অন্যতম। অন্যদিকে, আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এটি হবে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় দেখা। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চমকে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এই ম্যাচ দুটির মাধ্যমে আরও একটি বিষয় নিশ্চিত হলো, আর্জেন্টিনা এমন ৭টি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপের শিরোপা রক্ষার মিশনে নামছে যারা এবারের আসরে খেলার সুযোগ পায়নি এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা খেলবে 'জে' গ্রুপে, যেখানে আলবিসেলেস্তাদের প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান।

বুড়ো হাড়ের ভেলকি নিয়মিতই দেখাচ্ছেন ম্যানুয়েল নয়্যার। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী বায়ার্ন মিউনিখের এই গোলকিপারকে নিয়ে নতুন করে স্তুতি গাওয়ারও যে কিছু নেই। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স দেখে কে বলবে বায়ার্নের কিংবদন্তি এই গোলকিপারের বয়স ৪০ বছর! স্প্যানিশ জায়ান্টদের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ের নায়কের এমন ভেলকি দেখার পর একটি প্রশ্ন আবারও অনেকের মনে উদয় হয়েছে—সর্বকালের অন্যতম সেরা এই গোলকিপারকে কি আবার জার্মান দলে দেখা যাবে?
২০২৪ সালের আগস্টে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন নয়্যার। তবে বর্তমান ছন্দ দেখে প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি আবারও ফিরবেন কি না। জার্মান কিংবদন্তি ফুটবলার লোথার ম্যাথাউসের কথা শুনলে অবশ্য হতাশই হতে হবে নয়্যারের ভক্তদের। অবসর ভেঙে নয়্যারের জার্মান দলে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই দেখছেন না ব্যালন ডি’অর জয়ী সাবেক এই ফুটবলার। আর বায়ার্নের এই গোলকিপারের ফেরার পথে বাধা নাকি জার্মানের কোচ ইউলিয়ান নাগসমান।
স্কাই অস্ট্রিয়া-কে ম্যাথাউস বলেন,
‘নয়্যারের এই রূপ বিশ্বমানের, সে জাতীয় দলে থাকার যোগ্য। আমি আশা করি নাগেলসমান এই ম্যাচটি দেখেছেন।’
অবশ্য 'স্পোর্ট বিল্ড'-এর পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হলে ম্যাথাউস পরিষ্কার করে দেন যে, নয়্যারের ফেরাটা এখন বাস্তবতার চেয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছাই বেশি। তিনি যোগ করেন,
‘আমি সত্যিই ম্যানুয়েল নয়্যারকে এই ছন্দে বিশ্বকাপে দেখতে চাই। কিন্তু আমি এও জানি যে, তা হবে না। ইউলিয়ান নাগেলসমান সেই দরজা আর খুলবেন না। আর ঠিক এই কারণেই অবসরের ব্যাপারে ম্যানুয়েলের কথাগুলোই শেষ কথা হিসেবে থেকে যাচ্ছে।’
জার্মানের কোচ নাগলসমানের সঙ্গে নয়্যারের দ্বন্দ্বের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। দু’জনের মনোমালিন্যের শুরুটা হয়েছিল যখন নাগেলসমান বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ছিলেন। নয়্যার যখন স্কিইং করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে মাঠের বাইরে ছিলেন, নাগেলসমান নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে গোলকিপিং কোচ টনি টাপালোভিচকে ছাঁটাই করেন। নয়্যার এই ঘটনাকে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখেছিলেন এবং তারপর থেকেই তাদের দুজনের সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।
২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী নয়্যারকে নিয়ে জার্মানির ফুটবল ফেডারেশন এবং কোচের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। রিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচের পর নয়্যার নিজেও বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বর্তমান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু শুধুই বায়ার্ন মিউনিখ,
‘আমাদের কি আবারও এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা উচিত? না। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা বায়ার্নের হয়ে বার্নাব্যু-তে এই ম্যাচটি জিতেছি এবং ফিরতি পর্বেও এই ধারা বজায় রাখার চেষ্টা করা।’
নয়্যার আরও যোগ করেন,
‘এটাই এখন আসল কথা, বাকি সবকিছুই আমার কাছে এখন অপ্রাসঙ্গিক। আমরা জাতীয় দল নিয়ে কথা বলছি না। আমি আমার বক্তব্য আগেই পরিষ্কার করেছি, সবকিছুই স্বাভাবিক আছে। আমি এখন শুধুই বায়ার্ন মিউনিখ নিয়ে ভাবছি।’
শেষ পর্যন্ত কি নিজের জেদ বা অহংকার ভুলে এই বিশ্বকাপে নয়্যারকে আবারও জাতীয় দলে ডাকবেন নাগলসমান? নাকি নয়্যার তাঁর অবসরের সিদ্ধান্তেই অটল থাকবেন সেটাই দেখার।

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) ফাইনাল এখনও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সেনেগাল কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) সিদ্ধান্তে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার বিরুদ্ধে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল।
চলমান বিতর্কের মাঝেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ম্যাচ এবং নিজের উদ্ভট আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি,
“কঠিন একটা সময় ছিল তখন, মাঠে উত্তেজনা ছিল ব্যাপক। তোয়ালে নিয়ে আমি যে চিত্রটা ফুটিয়ে তুলেছি, সেটা মোটেও গর্বের বিষয় নয়। এটা ঠিক যে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি এবং টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে চলেছি।”
আফকনের ফাইনাল ম্যাচে গোলকিপারের তোয়ালে ছুঁড়ে ফেলে দেন হাকিমি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) রাইটব্যাকের সে দৃশ্যের নিন্দা করেন ফুটবল ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও এবার স্পেনের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং চ্যালেন মুভিস্টারে কথা বলেন হাকিমি।
অনুশোচনায় ভুগলেও সেনেগালের আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন হাকিমি এবং মরক্কো শিরোপা পাওয়ার যৌগ্য বলে জানিয়েছেন তিনি,
“তারা (সিএএফ) বিচার করছে কি হওয়া দরকার। আশা করি ফুটবল ও আফ্রিকার ভালোর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করি আমরা জিতব, কারণ আমরা তা পাওয়ার যোগ্য এবং এমন সময় মাঠ ত্যাগ করা ঠিক নয়।”
হাকিমি আফকন ইস্যু ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন,
“লিভারপুলের বিপক্ষে আমরা সুযোগ তৈরি করলেও বড় ব্যবধানের সুবিধা পেতে পারিনি, তাই একটু হতাশা আছে। তবে পুরো দলের কাজ দেখে খুশি।”
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন হাকিমি,
“আমি আগেও বলেছি, এই দলের ওপর সন্দেহের দরকার নেই। আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এটা বহুবার প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন আমাদের বাদ দেয়, তখনই আমরা আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠি। আমরা জানি, মৌসুমের কোথায় আছি এবং আশা করি এমনই খেলতে থাকব, যতদূর সম্ভব যেতে চাই।”