২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

মহাপুরুষ কিংবা নায়ক হতে হলে ঠিক কী করতে হয়? নশ্বর পৃথিবীর ইতিহাসে বহু রথী-মহারথী কতভাবেই তো স্মৃতির পাতায় অম্লান হয়ে আছেন। তবে জগৎ যদি হয় ফুটবলের, তখন ঠিক কোন পাল্লায় মেপে আপনি কাউকে মহানায়ক বলবেন? গোলের খেলা ফুটবলে শুধু গোল করেই কী মহাপুরুষ হওয়া যায়? জটিল মনে হওয়া এই প্রশ্নের জবাব অনেক আগেই দিয়ে গেছেন কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা। তবে যাকে নিয়ে এত আলাপ তাঁর সঙ্গে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির তুলনা চলে না। কিন্তু নিজ দেশে মহাপুরুষ হওয়ার মতো অসংখ্য কীর্তি তাঁর ঠিকই আছে।
মহাপুরুষ আর মহানায়কের আলাপ একপাশে রেখে মহানাটকীয় এক ফাইনালের বিশেষ মুহূর্তে নজর দেওয়া যাক। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) মহারণে তখন টান টান উত্তেজনা। টুর্নামেন্টের আয়োজক মরক্কো প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবার সেরার মুকুট থেকে কেবল একটি ঠিকঠাক শটের দূরত্বে। ৯০ মিনিটের লড়াই শেষ হয়ে আট মিনিটের যোগ করা সময়েরও অন্তিম মুহূর্ত।
রাবাতের প্রিন্স মুলে আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে সমর্থকদের বুনো উল্লাসের উপলক্ষ্য এসে গেল হঠাৎ। পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছেন রেফারি। এর আগে সেনেগালের ডিফেন্ডার ইসমাইল সারের একটি গোল বাতিল হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সবকিছুর শুরু মরক্কোর নেওয়া একটি কর্নার থেকে। কর্নার থেকে নেওয়া শট উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ। ভিএআরের মনিটরে চোখ দেন রেফারি। সাইডলাইনে তাঁকে ঘিরে ধরে সবাই, ভিড়ের মাঝেই যাচাই করে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
কিন্ত রেফারির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মানতে না পারা সেনেগালের কোচ নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দেন। ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গাদের’ কোচ পাপ ঝাও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার ইশারা দেন। খানিক পর টানেল ধরে চলেও যায় তারা, রয়ে যান কেবল দলটির তারকা ফুটবলার সাদিও মানে। এরপরের গল্প শুধুই ফুটবলের দূত, আফ্রিকার গর্ব, সেনেগালের মহানায়কের।
ক্ষুদ্ধ সেনেগাল খেলোয়াড়রা তখন ড্রেসিংরুমের পথ ধরছেন। মানেকে তখন দেখা যায় গোলকিপার এদুয়ার্দো মেন্ডির সহায়তায় সবাইকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনছেন। ১৬ মিনিটের অদ্ভুত বিরতির পর দিয়াজের পানেনকা পেনাল্টি মিস। পরে অতিরিক্ত সময়ে পাপে গেয়ের চমৎকার গোল। শেষ পর্যন্ত তার গোলেই দ্বিতীয়বারের মতো আরেকটি চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ঘরে তোলে সেনেগাল।
দিয়াজের সেই মিস আর পাপের জয়সূচক গোলটি নিয়েই তো যত মাতামাতি হওয়ার কথা। তবে গোল মিস আর গোল করা, সব ছাপিয়ে আলোচনায় সেনেগালের আর ফুটবলেরই পথপ্রদর্শক হয়ে যাওয়া সাদিও মানে। লিভারপুলের সাবেক এই ফুটবলারে মনে তখন কি চলছিল?
ম্যাচ শেষে ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড মানের মুখ থেকে মুক্তোর মতো ঝরে পড়া সেই কথা যেন ফুটবলেরই অমর বাণী। একটি ম্যাচের নেহাৎ হার-জিত কিংবা একটি শিরোপাকে অতিক্রম করে মানে যেন গাইলেন ফুটবলের জয়গান, ‘ফুটবল একটি বিশেষ ব্যাপার। সারা বিশ্ব দেখছিল, বিশ্ব ফুটবলকে ভালোবাসে। আমার মনে হয় ফুটবল একটি আনন্দের খেলা, তাই ফুটবলের জন্য আমাদের ভালো একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে। শুধু একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ম্যাচ না খেলাটা একেবারেই পাগলাটে হতো। বিশেষ করে আফ্রিকান ফুটবলের জন্য সেটা হতো সবচেয়ে বাজে উদাহরণ।’
এরপর মানে যা বললেন, সেটা শুধু ফুটবলপ্রেমী নয় অন্তত হার-জিত বোঝেন এমন নিরপেক্ষ সমর্থকের মনে চিরকালের জন্য গেঁথে যাওয়ার কথা। ফেরা যাক মানের অমৃত বাণীর কাছে, ‘এই ধরনের ঘটনা ফুটবলে ঘটার চেয়ে আমি হার মেনে নেওয়াকেই বেশি পছন্দ করব।
এটা খুবই খারাপ পরিস্থিতি ছিল। ফুটবল তো দশ মিনিটের জন্যও থামার কথা নয়। কিন্তু আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না—যা হয়েছে, তা মেনে নিতে হয়েছে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ফিরে এসে ম্যাচটা শেষ করেছি, আর এরপর যা ঘটেছে, তা ঘটে গেছে।’
আফকনের এই সংস্করণই শেষ মানের। এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন সেনেগাল তারকা। বিদায়ের এই মঞ্চ এভাবেও যে রাঙানো যায়, সেটা মানেকে না দেখে থাকলে বিশ্বাস হওয়া কঠিনই। উদার-মহানুভব ফুটবলার হিসেবে পরিচিত মানের এমন রাজসিক বিদায় ছুঁয়ে গেছে অনেকের হৃদয়।
সাদিও মানের ভূয়সী প্রশংসা করে নাইজেরিয়ার সাবেক ফুটবলার ড্যারিয়েল আমোকাচি বিবিসিকে বলেছেন, ‘মানে তার দলের খেলোয়াড়দের মাঠে ফেরাতে সীমার বাইরে গিয়ে চেষ্টা করেছেন, এবং সফল হয়েছেন। কি অসাধারণ একজন ফুটবলের দূত তিনি। আমরা জানি, মাঠের বাইরে তিনি কেমন মানুষ এবং তিনি ফুটবলকে সত্যিই বোঝেন।’
যে মরক্কোকে হারিয়ে সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হলো সেই দলেরই সাবেক ফুটবলার হাসান কচলৌল বলেন, ‘আফ্রিকার ফুটবল এবং বিশ্বের ফুটবল কিছুটা হেরে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না মানে হস্তক্ষেপ করলেন। যা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে, সেটি হলো, সেনেগালের দলে কেবল একজন খেলোয়াড়ই ছিলেন—সাদিও মানে। আর এটাই প্রমাণ করে তিনি কত বড় মনের মানুষ।’
এবার এই বিশেষ ফুটবল দূত মানের ক্যারিয়ারটা নাহয় দেখে আসা যাক। সাদিও মানের গল্পের শুরু বামবালিতে—দক্ষিণ-পশ্চিম সেনেগালের এক প্রান্তিক গ্রামে। লাল-মাটি ধুলোয় ভরা রাস্তা আর বালি-মাখা মাঠেই তার ফুটবলের প্রথম পাঠ।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে টেলিভিশনের পর্দায় তিনি দেখেছিলেন ২০০৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল—ইস্তাম্বুলে এসি মিলানের বিপক্ষে লিভারপুলের সেই ঐতিহাসিক কামব্যাক। সেদিনের ম্যাচ যেন তার স্বপ্নের দিকনির্দেশক হয়ে ওঠে।
তারপর সময় অনেক গড়িয়েছে। সেই কিশোরই একদিন জিতেছেন ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ট্রফি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লিভারপুলের সঙ্গে তুলে ধরেছেন প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাও। জাতীয় দলের জার্সিতে ‘তেরাঙ্গা লায়ন্স’-এর হয়ে জিতলেন দুটি আফ্রিকা কাপ অব নেশনস।
২০২১ সালের আফকন ফাইনালে মিসরের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিটি মানে বর্ণনা করেছিলেন এভাবে, ‘এটাই আমার জীবনের সেরা দিন, আমার জীবনের সেরা ট্রফি।’ সেই ঐতিহাসিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তার জন্মভূমি থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরের সেদিউ শহরে একটি স্টেডিয়ামের নাম রাখা হয় সাদিও মানের নামে।
ভিয়াররিয়ালের মিডফিল্ডার ও সেনেগাল সতীর্থ পাপে গেয়ে মনে করেন, গল্পটা এখানেই শেষ হওয়া উচিত নয়। গেয়ে জানান, দলের লক্ষ্য হলো—যাকে তিনি ‘সেনেগালের কিংবদন্তি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন—মানেকে অন্তত আরও একবার সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করানো এবং ২০২৭ সালে কেনিয়া, তানজানিয়া ও উগান্ডায় অনুষ্ঠিত আফকনেও তাঁকে দলে রাখা।
সেনেগাল আর আফ্রিকা ছাপিয়ে ফুটবলেরই একজন ঝাণ্ডাবাহক হয়ে যাওয়া সাদিও মানের মতো ফুটবলারকে তো অন্ততকাল দরকার ক্রীড়ার এই অঙ্গনে। ইতিহাসে কজন ফুটবলার এই খেলাকে অন্তরে এভাবে ধারণ করতে পারেন? অবসরের সিদ্ধান্ত সাদিও মানের একান্তই নিজের। তবে আমার আপনার মতো অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী শুধু বলে যেতে পারি, ‘ধন্য মানে, তোমাকে পেয়ে ধন্য ফুটবল।’
No posts available.
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০২ পিএম
২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫ পিএম

তিন ম্যাচে দুই জয় এবং এক হার। লিয়াম রসেনিয়রের চেলসি যাত্রা একেবারে মন্দ বলার উপায় নেই। তবে দিন যত বাড়ছে, ততই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন ইংলিশ কোচ। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর ভিন্ন তিন প্রতিযোগিতায় চেলসির ডাগআউটে দাঁড়ানো রসেনিয়রের সামনে এবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
এক মাস বিরতির পর ফেরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চেলসির প্রতিপক্ষ সাইপ্রাসের ক্লাব পাফোস এফসি। বৃহস্পতিবার স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় শুরু হবে ম্যাচটি। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আজ দলের অভ্যন্তরীণ নানা ইস্যুতে কথা বলেছেন রসেনিয়র।
চেলসির ৪১ বছর বয়সী ম্যানেজার জানিয়েছেন, দলের নির্ভরযোগ্য এনজো ফার্নান্দেজ অসুস্থ। অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। তবে তার জন্য শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে চেলসি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড উইলিয়াম এস্তেভাও ও জেমি গিটেন্স দলে ফিরেছেন। একই সঙ্গে মালো গুস্তোও অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন।
সুসংবাদের মাঝেই আরেকটি দুঃসংবাদ দিয়েছেন চেলসি ম্যানেজার। দুর্ভাগ্যক্রমে শেষ মুহূর্তে তোসিন হ্যামস্ট্রিং চোটে পড়েছেন। তাকে স্কোয়াডের বাইরে রাখা হয়েছে। সামনের কয়েক সপ্তাহ রিহ্যাবে থাকবেন এই ডিফেন্ডার।
এদিন চেলসি কোচ রসেনিয়রকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, চেলসি থেকে ধারে স্ট্রাসবুর্গে খেলা মামাদু সার ভবিষ্যতে তার পরিকল্পনায় আছেন কি না। প্রশ্নটির মূল কারণ, সম্প্রতি আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছে মামাদুর দেশ সেনেগাল, যেখানে তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা।
সাংবাদিকের প্রশ্নে প্রথমে তিনি সারকে আফকন জেতার জন্য অভিনন্দন জানান। এরপর বলেন,
‘আফকন জেতা সত্যিই বড় সম্মান। আমি ম্যাচটা দেখেছি, সেটা দারুণ রোমাঞ্চকর ছিল।’
তিনি যোগ করেন,
‘সে ম্যাচে মামাদু ভালো খেলেছে বলে মনে হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সে আমার খেলোয়াড় নয়। স্ট্রাসবুর্গ ক্লাবের প্রতি আমার অনেক সম্মান রয়েছে, সেখানে গ্যারি ও’নিল যা করছেন, সেটার প্রতিও সম্মান রয়েছে। তাই আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনই এ বিষয়ে কথা বলার সময় হয়নি।’

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) দ্বিতীয় পর্ব স্থগিত থাকলেও দল গড়ায় বসে নেই ফর্টিস এফসি। লিগ শিরোপা জেতার লক্ষ্যে মধ্যবর্তী দলবদল মৌসুমে চমক দেখিয়েছে তারা।
ভুটান প্রিমিয়ার লিগের সেরা উইঙ্গার দাওয়া টিশেরিংকে দলে ভিড়িয়েছে ফর্টিস। থিম্পু সিটি এফসির হয়ে ভুটান প্রিমিয়ার লিগের মোস্ট ভ্যালুয়েবল এই খেলোয়াড়কে লোনে দলে নিয়েছে ফর্টিস।
মঙ্গলবার ফর্টিস এফসির টিম ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা তাঁকে ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত লোনে নিয়েছি। ওই তারিখের পর লিগ শেষ হোক বা না হোক, আমি তাঁকে আর রাখতে পারব না। আমাদের ক্লাব সভাপতির (শাহিন হাসান) সঙ্গে আলোচনা করেই এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।'
বর্তমানে দাওয়া টিশেরিং ব্যাংককে অনুষ্ঠিত চলমান সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের হয়ে খেলছেন। সেখানে তিন ম্যাচে ৩ গোল করে নিজের ফর্ম অব্যাহত রেখেছেন।
লিগের প্রথম পর্ব শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছে ফর্টিস।

একমাস বিরতির পর ফিরছে উইয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ। মার্সেইর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু লিভারপুলের। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত দুইটার শুরু হবে এই ম্যাচ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের রেসে টিকে থাকতে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যানফিল্ডের ক্লাবের জন্য। ছয় ম্যাচে তিন জয়ে নবমে থাকা আর্নে স্লটের দলের লক্ষ্য জয়। সে জন্য মার্সেইয়ের বিপক্ষে ২০ জনের ব্যালেন্সড স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন অলরেডস কোচ।
স্লটের স্কোয়াডে রয়েছেন মোহাম্মদ সালাহ। আফ্রিকা কাপ অব নেশন মিশন শেষে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তিনি। ক্লাবের হয়ে সবশেষ ব্রাইটনের বিপক্ষে খেলেছিলেন সালাহ। ম্যাচটিতে ২-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল।
সালাহ ফিরলেও ইব্রাহিমা কোনাতে নেই স্লটের দলে। বিবিসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আচমকা পরিবারিক সমস্যার কারণে দেশে গেছেন ফরাসি ডিফেন্ডার। তিনি কবে, কখন ফিরবেন তা নিয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
লিভারপুলের ২০ সদস্যের দল:
অ্যালিসন বেকার, জো গোমেজ, ওয়াতারু এন্ডু, ভার্জিল ভ্যান ডাইক, কেরকেজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টজ, ডমিনিক সোবোস্লাই, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, মোহাম্মদ সালাহ, ফেদরিকো কিয়েসা, কার্টিস জোনস, কোডি গাকপো, হুগো একিতিকে, জিওর্জি মামারদাশভিলি, অ্যান্ডি রবার্টসন, ফ্রেডি উডম্যান, জেরেমি ফ্রিমপং, রায়ান গ্রাভেনবার্চ, ট্রে নায়োনি, রিও এনগুমোহা।

এবারের নারী ফুটবল লিগে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও রাজশাহী স্টার্স। ৬ ম্যাচে টানা ছয় জয় তুলে নিয়েছে দল দুটি।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে আজ দিনের প্রথম ম্যাচে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ১১-০ গোলে হারিয়েছে পুরাণ ঢাকার ক্লাব ফরাশগঞ্জ। হ্যাটট্রিক করেছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা। জোড়া গোল এসেছে তহুরা খাতুন ও মনিকা চাকমার কাছ থেকে। পেনাল্টি থেকে অন্য গোলটি করেছেন শামসুন্নাহার সিনিয়র।
চলমান লিগে এ নিয়ে ৬ ম্যাচে মোট ২২ গোল হলো ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে উঠে আসা ছোট শামসুননাহারের। তবে আগের ৫ জয়ে এই ফরোয়ার্ড ম্যাচসেরা হলেও এবার সেই পুরস্কার উঠেছে মারিয়ার হাতে।
ম্যাচ শেষে ফরাশগঞ্জের অধিনায়ক মারিয়া বলেন, ‘সব দিক থেকে সহায়তা পাওয়ার কারণেই ম্যাচসেরা হয়েছি। খুব ভালো লাগছে।’
এদিন অবশ্য এক গোল কম করেছে নারী লিগের নবাগত দল রাজশাহী। ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে ১০-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে মাহমুদা শরীফা অদিতির দল। ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন আলপি আক্তার। সৌরভী আকন্দ প্রীতি জোড়া এবং পূজা ও দীপা শাহি জাল কাঁপান একবার করে।
পয়েন্ট টেবিলে রাজশাহী ও ফরাশগঞ্জ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে যৌথভাবে। আগামী শনিবার পরের রাউন্ডে যে একে অপরের মুখোমুখি হবে তারা। লিগের শিরোপা লড়াইয়ের সমীকরণও অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে সেই ম্যাচের পর।
সমান ১৮ পয়েন্ট সেনাবাহিনীরও। তবে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে তারা। হেরেছেও একটিতে। ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে সেই হার ভুলে আজ জয়ে ফিরেছে দলটি। সিরাজ স্মৃতি সংসদকে হারায় ৪-০ গোলে।
লিগে গোলবন্যায় ভাসতে থাকা কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থা মঙ্গলবার বিকেএসপির কাছে হজম করেছে ৯ গোল। বিপরীতে দিতে পারেনি একটিও। এনিয়ে ৭ ম্যাচে ৯৭ গোল খেয়েছে তারা। দিনের শেষ ম্যাচে পুলিশের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাব।

সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের পর এবার শ্রীলঙ্কাকে ৫-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক রাহবার খান।
থাইল্যান্ডের ননথাবুরি হলে আজ বাংলাদেশের এগিয়ে যেতে সময় লাগে ৪ মিনিট। একক প্রচেষ্টায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান রাহবার। এক মিনিট পর সমতায় ফেরে শ্রীলঙ্কা। গোল করেন অধিনায়ক আমান মোহামেদ ফায়জার।
১৯ মিনিটে আবারও বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন রাহবার। বিরতির পর ২২ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করেন মঈন আহমেদ। ৩৪ মিনিটে তাজওয়ার বিন কাশেম প্রথম শটে লঙ্কান গোলকিপারকে পরাস্ত করতে না পারলেও ফিরতি শটে ঠিকই খুঁজে নেন জাল।
৩৯ মিনিটে পোস্ট ছেড়ে আক্রমণে উঠে আসেন লঙ্কান গোলকিপার আর্নিকান শিভানাথান। আবির হোসেনও সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি। নিজেদের অর্ধ থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
৪ ম্যাচে ২ জয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মালদ্বীপ। বাংলাদেশের সমান ৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানেরই মুখোমুখি হবে সাঈদ খোদারাহমির দল। ৬ ম্যাচ শেষে টেবিলের চূড়ায় থাকা দল পাবে শিরোপা।