
মাইনাস ২ ডিগ্রি তাপমাত্রা। বরফ পেরিয়ে ভেতরে ঢুকছেন সংবাদকর্মী ও অতিথিরা। ওয়াশিংটন ডিসিতে এ আর নতুন কি। এসব অবশ্য আজ আর ধোপে টেকবে না। ফিফা বিশ্বকাপের ড্র এমন একটি ইভেন্ট, যা চার বছর পরপর একবার আসে। ফুটবল–সমর্থকদের মধ্যেও বড়সড় প্রভাব ফেলে এটি। কারণ ড্র–ই ঠিক করে দেয় কোন দলের সামনে কেমন পথ অপেক্ষা করছে।
ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে তাপমাত্রা কম, কিন্তু প্রত্যাশার মাত্রা বেশ উঁচু। বরফঢাকা পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে থাকছে তারকাখচিত লাইনআপ—যেখানে সঞ্চালনায় থাকবেন সুপারমডেল হাইডি ক্লুম, অভিনেতা কেভিন হার্ট ও ড্যানি রামিরেজ।
বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো ২০০ দিনের কম সময় বাকি, তাই কে কার মুখোমুখি হবে— এটি জানার জন্য সবার দৃষ্টি থাকবে ড্রয়ের দিকে। যদিও কোন ম্যাচ কখন ও কোথায় হবে, তা জানতে ভক্তদের আগামীকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নজর থাকবে বিতর্কিত ‘ফিফা পিস প্রাইজের' দিকেও, যা ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রদান করা হবে। কর্মকর্তারা পুরস্কারজয়ীর বিষয়ে এখনো মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তবে ফিফা প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই সপ্তাহে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘নিঃসন্দেহে’ এটির যোগ্য।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, তারা ফিফার কাছে পুরস্কারটির মানদণ্ড, মনোনীতেরা কারা এবং কারা বিচার করবেন—এসব জানতে আবেদন করেছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি।
অধিক সংখ্যক দেশ অংশ নেওয়ায় এবার আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও খেলাধুলার ছেদ আরও বেশি দেখা যেতে পারে। আয়োজক দেশগুলোর নেতাদের— কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম— আজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে, বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মাঝেই।
কীভাবে হবে ড্র
ড্র শুরু হবে পট–১ দিয়ে। পট থাকবে মোট ৪টি। প্রত্যেক পটে ১২টি প্লাস্টিক বল থাকবে। আর প্রত্যেক বলে কাগজে লেখা একটি করে দলের নাম। ১২টি করে চার পটে মোট ৪৮ দল।
পটের বলগুলো প্রতিনিধিরা মেশাবেন। প্রতিটি পট থেকে একটি করে বল (দল) তোলা হবে, আর গ্রুপে বসানো হবে। ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত ১২টি গ্রুপ। প্রত্যেক পট থেকে একটি দল সব গ্রুপে জায়গা পাবে। এভাবে ৪ দল নিয়ে একটি গ্রুপ হবে।
পট নির্ধারণেও আছে নিয়ম
ড্র শুরু হবে পট–১ দিয়ে। ফিফা নির্ধারিত ১২টি শীর্ষ বাছাই দল থাকবে ১ নম্বর পটে। সেখান থেকে গ্রুপ ‘এ’ থেকে ‘এল’ পর্যন্ত রাখা হবে একটি করে দল।
র্যাংকিংয়ের শীর্ষ চার দল থাকবে ১ নম্বর পটে- স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড। পরের পাঁচ সেরা দল- বেলজিয়াম, ব্রাজিল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল। তাদের সঙ্গে থাকবে তিন স্বাগতিক দেশ- কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র।
তারপর যথাক্রমে পট–২, ৩ ও ৪ থেকে দল ওঠানো হবে।
বাকি আরও ছয় দল
বিশ্বকাপের মূলপর্ব নিশ্চিত করেছে ৪২টি দল। আগামী বছরের মার্চে ২২ দলের প্লে-অফ শেষে বাকি ছয় দলের টিকিট নিশ্চিত হবে।
ইউরোপ ব্যতীত দুই দল থাকবে না একই কনফেডারেশনের
কোনো গ্রুপে একই কনফেডারেশনের দুই দল থাকবে না। ব্যতিক্রম হলো ইউয়েফা। ১৬টি ইউরোপীয় দল থাকায় প্রত্যেক গ্রুপে সর্বোচ্চ দুটি ইউরোপীয় দল থাকতে পারবে।
আগেই নির্ধারিত হয়েছে তিন স্বাগতিক দেশের গ্রুপ
মেক্সিকো— গ্রুপ ‘এ’
কানাডা— গ্রুপ ‘বি’
যুক্তরাষ্ট্র— গ্রুপ ‘ডি’
১ নম্বর পটে রয়েছে স্বাগতিক তিন দল। বাকি ৯টি দল নয় গ্রুপে রাখা হবে।
শীর্ষ দলগুলো কবে মুখোমুখি হতে পারে
২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র শীর্ষ চার দলকে— স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ডকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। টেনিস–স্টাইল ব্র্যাকেট অনুযায়ী চার দলকে আলাদা সেকশনে রাখা হবে। ফিফা বলেছে, যদি এই চার দল গ্রুপে প্রথম হয়, সেমিফাইনালের আগে দেখা হবে না তাদের।
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ও লামিন ইয়ামালের স্পেনের মধ্যে ফাইনালের আগে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
৪৮ দলের কোন দল কোন পটে
পট-১: কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, জার্মানি।
পট-২: ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, সুইজারল্যান্ড, জাপান, সেনেগাল, ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইকুয়েডর, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া।
পট-৩: নরওয়ে, পানামা, মিশর, আলজেরিয়া, স্কটল্যান্ড, প্যারাগুয়ে, তিউনিসিয়া, আইভরি কোস্ট, উজবেকিস্তান, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা
পট ৪: জর্ডান, কেপ ভার্দে, কুরাসাও, ঘানা, হাইতি, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় প্লে–অফ বিজয়ী এ, বি, সি, ডি, আন্তঃমহাদেশীয় প্লে–অফ বিজয়ী ১ ও ২।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ১০:২০ পিএম
শিরোপার অপেক্ষা কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস লিগ-২ এর ফাইনালে পুরো ম্যাচ দাপট দেখিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারল না আল নাসর। ফাইনাল হেরে অপেক্ষা আরও বাড়ল রোনালদোর।
রিয়াদের আলাওল পার্কে শনিবার রাতে এসিএল-২ এর ফাইনালে আল নাসরকে ১-০ গোলে হারিয়েছে জাপানের ক্লাব গাম্বা ওসাকা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করে ক্লাবকে দ্বিতীয় মহাদেশীয় শিরোপা এনে দেন ডেনিজ হুমেট।
অথচ ম্যাচজুড়ে দাপট ছিল আল নাসরের। ম্যাচে ৬৭ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল আল নাসরের দখলে। গোলের জন্য ১৭টি শট করে ৬টি লক্ষ্য বরাবর রাখেন রোনালদোরা। কিন্তু জালের দেখা পাননি। বিপরীতে ৩ শটের ২টি লক্ষ্যে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় ওসাকা।
ফাইনাল হেরে যাওয়ায় আল নাসরের হয়ে রোনালদোর শিরোপা জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হলো। ২০২৩ সালে ক্লাবটিতে আসার পর এখনও কোনো শিরোপা জেতা হয়নি পর্তুগিজ সুপারস্টারের। তবে সৌদি প্রো লিগে এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আশা রয়েছে আল নাসরের।
লিগে এখন পর্যন্ত ৩৩ ম্যাচে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আল নাসর। সমান ম্যাচে ৮১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে আল হিলাল। শেষ ম্যাচে তাই ড্র করতে পারলেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে আল নাসর। আর জিতলে কোনো শর্ত ছাড়াই ট্রফি উঠবে রোনালদোদের হাতে।
শিরোপার অপেক্ষা অবশ্য ঘুচতে পারত এসিএল-২ ফাইনালেই। তবে ওসাকার তরুণ গোলরক্ষক রুই আরাকি দেয়াল হয়ে দাঁড়ান। ভাগ্যের সহায়তাও তেমন পায়নি আল নাসর। তাদের একাধিক শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে আব্দুলরহমান ঘারিবের শট পোস্টে প্রতিহত হয়। ১৬ মিনিটে পাশের জালে লাগে সাদিও মানের শট। ম্যাচের বয়স আধঘণ্টা হওয়ার আগে ১৬ গজ দূর থেকে হুমেটের ঠাণ্ডা মাথার শটে এগিয়ে যায় ওসাকা।
বিরতির আগে আবারও জোরাল সম্ভাবনা জাগান আব্দুলরহমান। কিন্তু কাজ হয়নি। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায় রোনালদোর হেডার। পরে ৭৭ মিনিটে হোয়াও ফেলিক্সের দূরপাল্লার শট লাগে পোস্টে।
ম্যাচের ৬ মিনিট বাকি থাকতে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন ওসাকার ডিফেন্ডার তাকেরু কিশিমোতো। তাই পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আল নাসর ও রোনালদোর।

চেলসির পরবর্তী প্রধান কোচ হিসেবে চার বছরের চুক্তিতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন স্প্যানিশ কোচ জাবি আলোনসো।
রিয়াল মাদ্রিদ এবং বায়ার লেভারকুসেনের সাবেক এই কোচের নিয়োগের বিষয়টি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসি।
গত মাসে লিয়াম রোসেনিওরকে বরখাস্ত করে চেলসি। তার জায়গায় নতুন প্রধান কোচ খুঁজছিল ক্লাবটি। গত সোমবার বিবিসি স্পোর্টস জানায়, চেলসি তাদের সম্ভাব্য নতুন ম্যানেজারদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এই তালিকায় আলোনসো ছাড়াও ছিলেন বোর্নমাউথের আন্দোনি ইরাওলা, ফুলহামের মার্কো সিলভা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অলিভার গ্লাজনার।
তবে ৪৪ বছর বয়সী আলোনসোকেই চেলসি প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেয়। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে নীতিগতভাবে আলোচনা অনেকটাই এগিয়ে গেছে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে এই নিয়োগের বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চায়নি স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি।
সাম্প্রতিক সময়ে লিভারপুলের সম্ভাব্য কোচ হিসেবেও আলোনসোর নাম শোনা যাচ্ছিল, যেখানে তিনি খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচ মৌসুম কাটিয়েছেন। চলতি মৌসুমে আশানুরূপ পারফরম্যান্স না হওয়ায় অল রেডদের বর্তমান কোচ আর্নে স্লটের ওপর সন্তুষ্ট নয় ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যানফিল্ডের ক্লাবটি আগামী মৌসুমের জন্যও স্লটের ওপরই ভরসা রাখছে। যদি তারা ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়, তবে লিভারপুলের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে কি না সেটিই এখন দেখার বিষয়।
গত জানুয়ারিতে মাত্র আট মাসের মাথায় রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে আলোনসো বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত নন। সিনিয়র ক্লাবের ম্যানেজার হিসেবে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ২০২৩-২৪ মৌসুমে তিনি লেভারকুসেনকে কোনো ম্যাচ না হেরে তাদের ইতিহাসের প্রথম বুন্দেসলিগা শিরোপার পাশাপাশি জার্মান কাপ জিতিয়েছিলেন। এরপর গত গ্রীষ্মে তিনি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে যোগ দেন। সেখানে অবশ্য জার্মানিতে ফেলা আসা দারুণ সময়টা সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারেননি। ফলাফলস্বরূপ তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
সবশেষ কয়েক মৌসুমে চেলসির অবস্থাও খুব একটা ভাল কাটেনি। পশ্চিম লন্ডনে ফিরে আলোনসো ব্লুজদের চেনা পথে ফেরাতে পারেন কি না সেটিও থাকবে দেখার বিষয়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মৌসুমটা ভালো যায়নি চেলসির জন্য। শিরোপা রেসে তারা কখনও তো ছিলই না বরং ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় আগামী মৌসুমে তারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি। ৩৬ ম্যাচ খেলে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯-এ অবস্থান দলটির।

গত দুই আসরের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে হেরে খালি হাতে ফেরার সেই দগদগে ক্ষতে প্রলেপ দিল ম্যানচেস্টার সিটি। ওয়েম্বলির চেনা আঙিনায় পেপ গার্দিওলা যে কোনো নবাগত নন, তা আরও একবার প্রমাণ করল ম্যানচেস্টার সিটি।
এফ এ কাপের ফাইনালে আজ ওয়েম্বলির চেনা মঞ্চে চেলসিকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে রাজত্ব ফিরে পেল ম্যানচেস্টার সিটি। সিটিজেনদের জয়ের নায়ক আন্তনি সেমেনিও। দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন ঘানার এই উইঙ্গার।
টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে খেলা সিটি এ নিয়ে আটবার এফএ কাপ জিতল। মৌসুমে কারাবাও কাপ জয়ের পর ‘ডাবল’ নিশ্চিত হলো ইতিহাদের ক্লাবটির। বিপরীতে ক্লাব ইতিহাসে এবার নিয়ে ১৭ বারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে ওঠা চেলসি সবশেষ সাত আসরে চারবারই রানার্স-আপ হওয়ার ক্ষত নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। মোট ১৭ বারের ফাইনালে আটবার জিতেছে ব্লুজরা, আর রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাকি নয়বার।
ফাইনালে বল দখল কিংবা লক্ষ্যে শট রাখ—চেলসির চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিল ম্যান সিটি। ৫৬ শতাংশ বল পজিশনে রেখে মোট ৯টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখে গার্দিওলার শিষ্যরা। যেখানে ৬টি শট নিয়ে মাত্র একটি গোলমুখে রাখতে পেরেছে চেলসি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই বাড়তি ঝুঁকি নিয়ে গোল হজম করতে চায়নি।ম্যাচের শুরু থেকেই পেপ গার্দিওলার দল স্বভাবসুলভভাবে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলার ছন্দ খোঁজার চেষ্টা করে। মাঠের সব পজিশনেই সিটিজেনরা আধিপত্য দেখালেও চেলসির ডি-বক্সের ভেতর গিয়ে যেন খেই হারিয়ে ফেলছিল তাদের আক্রমণগুলো। ওয়ান-টু-ওয়ানের পাসে ওমর মারমুশ ও সেমেনিয়ো গোল করার মতো সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এর মাঝেই চেলসির জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতেছিলেন আর্লিং হালান্ড, কিন্তু আক্রমণের শুরুতে অফসাইড থাকায় রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই সেই গোল বাতিল করে দেন।
বিপরীতে চেলসি কোচ অ্যালেন ম্যাকফার্লেনের কৌশল ছিল স্পষ্ট—শুরুতে সিটির চড়াও হওয়া আক্রমণগু সামলে নিয়ে প্রতি-আক্রমণে ওঠা। তবে রক্ষণ থেকে দ্রুত গতিতে ওপরে উঠে আসার ক্ষেত্রে চেলসিকে পুরোপুরি বোতলবন্দী করে রাখেন সিটির দুই ডিফেন্ডার আবদুকোদির খুসানভ ও মার্ক গুয়েহি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে ব্লুজরা কিছুটা ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও আক্রমণগুলো মূলত ক্রসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও একই ধারায় এগোচ্ছিল। তবে ম্যাচের ভাগ্য বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে, সেমেনিয়োর সেই জাদুকরী ব্যাকহিল ফিনিশ পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে সিটিকে এগিয়ে নেয়। গোল হজম করার পর অবশ্য সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল চেলসি; কিন্তু ডি-বক্সের ভেতর ভারসাম্য হারিয়ে নেওয়া এনজো ফার্নান্দেজের ভলি জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

অবশেষে চীনের সঙ্গে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্বের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ২৭ দিন আগে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো। তবে ফিফা শুরুতে যে দাম চেয়েছিল, তার চেয়ে অনেক কম মূল্যে চুক্তিটি করতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চায়না মিডিয়া গ্রুপের (সিএমজি) সঙ হওয়া এই সামগ্রিক চুক্তির আওতায় ২০৩১ সাল পর্যন্ত আগামী চারটি বিশ্বকাপ—পুরুষ ও নারীদের দুটি করে—অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে আগামী ১১ জুন থেকে উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া ৪৮ দলের ১০৪ ম্যাচের বিশ্বকাপও।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে ৬ কোটি ডলার (প্রায় ৭৩২ কোটি টাকা)। তবে চুক্তি করার সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছিল, ফিফা শুরুতে এই স্বত্বের জন্য ৩০ কোটি ডলার দাবি করেছিল বলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খবর প্রকাশ করেছিল চীনা সংবাদমাধ্যমগুলো। অর্থাৎ, নিজেদের চাহিদার চেয়ে প্রায় ৮০ শতাংশ কম মূল্যে স্বত্ব বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে ফিফা।
এদিকে, ভারতের বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফিফা। চীনের সঙ্গে এই সমঝোতা নিয়ে ফিফার সাধারণ সম্পাদক মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সিএমজির সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত।’ গ্রাফস্ট্রোম চলতি সপ্তাহেই চীন সফরে ছিলেন, যেখানে চীনা ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশ্বকাপের ১৬টি আয়োজক শহরের সঙ্গে বেইজিংয়ের সময়ের ব্যবধান প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। মূলত এই বিশাল সময়ের পার্থক্যের কারণেই (ম্যাচগুলো চীনের মধ্যরাতে বা ভোরে সম্প্রচারিত হবে বলে) বেইজিংয়ের ওপর ফিফার দর-কষাকষির চাপ বা নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কম ছিল। তবে তা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ফিফা যে রেকর্ড ১১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

বিশ্বকাপের মঞ্চ কখনোই কোনো চেনা ব্যাকরণ বা সমীকরণ মেনে চলে না। তীব্র গরম, আর্দ্রতা, পেনাল্টি ভাগ্য, বলের অবাধ্য বাউন্স কিংবা আকস্মিক কোনো ঝড়ে পাল্টে যেতে পারে পুরো দৃশ্যপট। পর্তুগালের অভিজ্ঞ কোচ রবার্তো মার্তিনেসের সেটা ভালো করেই জানা। বিশেষ করে এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে দলগুলোকে দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে হলে শুধু প্রতিভার জোর থাকলেই চলবে না, পর্তুগাল কোচের চোখে বিশ্বকাপ জিততে প্রয়োজন বিশেষ কিছু গুণ।
বিশ্বকাপের আগে লিসবনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পর্তুগালের কোচ মার্তিনেস বলেন, চিরসবুজ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল এখন দারুণ ছন্দে থাকলেও, মূল টুর্নামেন্ট শুরু হলে এই ছন্দের মূল্য থাকবে খুবই কম। বিশেষ করে তিনটি দেশ জুড়ে আয়োজিত এবারের ৪৮ দলের বিশ্বকাপটি সবার জন্যই এক ‘অজানা জগতে’ পা রাখার মতো।
মার্তিনেস বলেন,
‘আমরা মূলত এক অজানা পরিস্থিতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ৪৮টি দল থাকার মানে হলো টুর্নামেন্টটি আরও দীর্ঘ হবে। এর জন্য দলের মধ্যে অবিশ্বাস্য রকমের মানসিক শক্তি ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। আপনি কখনোই ম্যাচের কোনো জাদুকরী মুহূর্তের জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারবেন না; আপনার কাজ হলো যেকোনো পরিস্থিতিতে পারফর্ম করার জন্য দলকে প্রস্তুত রাখা।’
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির একটি বিখ্যাত দর্শন আছে—
‘বিশ্বকাপে সাধারণত টুর্নামেন্টের সেরা দল নয়, বরং সবচেয়ে লড়াকু ও মানসিক শক্তিসম্পন্ন দলটাই জেতে’
—এই বিষয়ে মার্তিনেসের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি আনচেলত্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত পোষণ করেন।
মার্তিনেস বলেন,
‘ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে একটা পেনাল্টি শুটআউট, ফাইনাল থার্ডে নেওয়া একটা সঠিক সিদ্ধান্ত, কিংবা ভাগ্যের সামান্য ছোঁয়া—যেখানে বল পোস্টে লেগে ভেতরেও ঢুকতে পারে, আবার পোস্টে লেগে বাইরেও চলে যেতে পারে।’
পর্তুগালের কোচ আরও যোগ করেন,
‘বিশ্বকাপে সফল হতে হলে কখনো কখনো আপনার এমন কিছু গুণের প্রয়োজন হবে, যার সাথে প্রতিভার কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা হলো দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ, কঠিন পরিস্থিতি সামলানোর মানসিক শক্তি এবং প্রতিকূলতার মধ্যে বুক চিতিয়ে টিকে থাকার লড়াই।’
মার্তিনেসের মতে, পর্তুগাল দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তবে এবারের বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে তাদের ফুটবলীয় টেকনিকের পাশাপাশি পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার ক্ষমতারও বড় পরীক্ষা নেবে। স্প্যানিশ এই কোচ সতর্ক করে দিয়ে বলেন,
‘এখানে জয়ের ব্যবধান বা মার্জিন খুবই সামান্য। আর যখন টুর্নামেন্টটি ৪৮টি দল নিয়ে তিনটি দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন এই ভুল করার সুযোগ আরও অনেক কমে আসবে।’
বাছাইপর্বের সব ম্যাচে জয় এবং নেশনস লিগের শিরোপা জিতে রোনালদোর পর্তুগাল এবার পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে। তবে মাঠের এই সাম্প্রতিক ছন্দ দেখে দলে যেন কোনো ধরনের আত্মতুষ্টি বা অতি-অহংকার চলে না আসে, সেই ব্যাপারে আগেভাগেই সতর্ক করে দিয়েছেন মার্তিনেস,
‘এতদিন পর্যন্ত আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা আমাদের কেবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ নিশ্চিত করবে। এর বাইরে এটি আপনাকে বাড়তি কোনো সুবিধাই দেবে না। বিশ্বকাপে পা রাখার পর গ্রুপ পর্বে আপনি তিনটি ম্যাচ পাবেন, আর সেখান থেকেই মূলত নতুন করে সবকিছু শুরু হবে।’
বিশ্বকাপে পর্তুগালের অভিযান শুরু হবে ১৭ জুন ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘কে’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। .বিশ্বকাপের মূল লড়াইয়ে নামার আগে দুই স্বাগতিক মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে নিজেদের ঝালিয়ে নেবে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-বের্নার্দো সিলভাদের পর্তুগাল।