
টসে জিতে বোলিং নিয়েই কি প্রথম ভুলটা করলেন শান মাসুদ? মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ১০৪ রানের ঐতিহাসিক হারের পর এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে হারের পর কোনো অজুহাত না খুঁজে ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পাশপাশি শান মাসুদের মতে, কন্ডিশন সিমিং হলেও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারেনি তাঁর দল। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে বল ও ব্যাট—উভয় বিভাগেই পিছিয়ে পড়াটাকে পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।
এই চরম হতাশার মাঝেও অবশ্য দুটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন মাসুদ। ব্যর্থতার গ্লানির মাঝেও দুই অভিষিক্ত ব্যাটার আজান ও ফজলের লড়াই ছিল পাকিস্তানের অধিনায়কের জন্য সান্ত্বনা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করেন আজান, আর দুই ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন ফজল।
টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিলেও কন্ডিশনের সুবিধা কেন নিতে পারেননি, সে প্রসঙ্গে মাসু বলেন, ‘পেছনের কথা বলা সহজ। আমরা কন্ডিশন দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এবং সিম বোলারদের জন্য তখন কন্ডিশন আমাদের অনুকূলেই ছিল। আমরা শুরুতে দ্রুত দুটি উইকেটও পেয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম ইনিংসে আমরা সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারিনি, এমনকি ব্যাটিংয়েও আমরা পিছিয়ে ছিলাম। আমরা আরও বেশি রান করতে পারতাম। সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে বল এবং ব্যাট—উভয় বিভাগেই আমাদের আরও ভালো করার প্রয়োজন ছিল।’
পাকিস্তান অধিনায়কের মতে, ব্যাটিং বিপর্যয়েই মিরপুরে পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে তাঁদের। রান তাড়ায় ১৫২ রানে পাঁচ উইকেট থেকে স্কোরবোর্ডে ১১ রান যোগ হতেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। চার বিরতির পর হঠাৎ এই ধস নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, আমার মনে হয় চা-বিরতি পর্যন্ত আমরা বেশ ভালো অবস্থানেই ছিলাম, কিন্তু বিরতির পরপরই আমরা দ্রুত কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি। গেম সেন্স বা ম্যাচ বোঝার ক্ষেত্রে আমার মনে হয় কিছু ব্যাটার আরও সচেতন হতে পারত। আমরা লক্ষ্যের খুব বেশি দূরে ছিলাম না, তাই তখন টিকে থাকাটাই জরুরি ছিল। আমরা ভুল সময়ে উইকেট হারিয়েছি; ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আমরা আরও বিচক্ষণ হতে পারতাম।’
আগের দিন সালমান আলী আগা বলেছিলেন লক্ষ্য ২৭০-এর নিচে হলে পাকিস্তান জয়ের জন্য খেলবে পাকিস্তান। কিন্তু চা-বিরতির পর দলের হয়ে খেলতে গিয়েই তিনি আউট হয়ে গেলেন। আগা সালমানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বা আউট হওয়াকে আলাদা করে টার্নিং পয়েন্ট মানতে নারাজ মাসুদ।
নির্দিষ্ট কোনো মুহূর্তকে দায়ী না করে সামগ্রিক পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাসুদ বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি,লক্ষ্য যখন নির্ধারিত হয়েছিলতখন আমাদের মূল ভাবনা ছিলকেবল ব্যাটিং করা এবং পরিস্থিতিবুঝে আগানো। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো বলকে সম্মানদিতেই হবে এবং স্কোরিংসুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে। চা-বিরতির সময় আমরা বেশভালো অবস্থানে থাকলেও জয়ের লক্ষ্যে ঝাঁপিয়েপড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরিহয়নি। আমাদের আলোকস্বল্পতার কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল; আমার মনে হয়না ওই অবস্থায় ৭৫ওভার খেলা সম্ভব ছিল। নির্দিষ্ট সময়ে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আরটার্নিং পয়েন্টের কথা বললে, এইম্যাচে এমন অনেক মুহূর্তছিল; নির্দিষ্ট করে একটিকে দায়ী করা যাবে না। দল হিসেবে আমাদের সামগ্রিকভাবে ভুলগুলো দেখতে হবে।’
পাকিস্তানের এই দল নিয়ে ১৫ টেস্টের মধ্যে ১১টিতেই পরাজয়—এমন লজ্জাজনক পরিসংখ্যানের সামনে দাঁড়িয়ে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও আত্মোপলব্ধির কথা জানিয়েছেন মাসুদ, ‘নিজের ভবিষ্যৎ ও দলের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেনআমি এই পরিসংখ্যান মেনে নিচ্ছি। আমি কখনোই কাউকে দোষারোপ করার খেলায় বিশ্বাস করি না; আমি নিজে এই ব্যর্থতার দায় নিচ্ছি। আমার সমস্ত প্রচেষ্টা থাকে আমরা কী ভালো করছি এবং একটি ভালো টেস্ট দল হয়ে উঠতে আমাদের আর কী কী উন্নতি প্রয়োজন—সেদিকে। দল নির্বাচন হোক, আমার ব্যাটিং পজিশন হোক বা দল সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়—আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকে কীভাবে পাকিস্তান দলের উন্নতি সম্ভব।’
হেরে যাওয়া ম্যাচে আজান ফয়সালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘এই ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজলে এই দুইজনের পারফরম্যান্স সবার উপরে থাকবে। প্রথম ইনিংসে তারা অসাধারণ খেলেছে, বিশেষ করে মাথায় আঘাত পাওয়ার পরও আজান যেভাবে লড়েছে। আব্দুল্লাহ তো টেস্ট শুরু হওয়ার আগের রাত পর্যন্ত জানত না যে সে খেলছে। এমনকি আজ সকালেও অনুশীলনের সময় সে মাথায় চোট পেয়েছিল। তবুও তারা মাঠে নেমে যথেষ্ট পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছে। পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে তারা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে। আরও বেশি টেস্ট খেললে তারা আরও অভিজ্ঞ হবে, তবে এই ম্যাচে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শট সিলেকশন ছিল এক কথায় অনন্য।’
No posts available.