
ভিসেন্তে ক্যালডেরন স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে বাবার কোলে চড়ে যখন প্রথম মাঠে নেমেছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র দুই বছর। আজ দিয়েগো 'চোলো' সিমিওনের ছোট ছেলে জিউলিয়ানো সিমিওনে আতলেতিকো মাদ্রিদের গল্পের নিছক কোনো দর্শক নয়; বরং এই গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র।
গত মঙ্গলবার ছিল দিয়েগো সিমিওনের ৫৬তম জন্মদিন। কোচ হিসেবে নিজের চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নিতে নিতেই তিনি দিনটি পালন করেছেন। তবে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বাবার দীর্ঘ ক্যারিয়ার নয়, বরং ছেলের উত্থান। আতলেতিকোর হয়ে জিউলিয়ানোর এই বেড়ে ওঠা আসলে ক্রীড়াজগতে 'স্বজনপ্রীতির' অভিযোগকে ভুল প্রমাণ করে নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।
বলবয় থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের দাবিদার
সাইডলাইন থেকে মূল একাদশে আসার এই পথটা জিউলিয়ানোর জন্য ছিল অত্যন্ত কঠিন। দীর্ঘ কয়েক বছর বলবয় হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালের এক ডার্বি জয়ের পর সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট জিউলিয়ানোর বাবার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ার দৃশ্যটি আজও সবার মনে থাকার কথা। তবে ‘বসের ছেলে’ হওয়ার কারণে তাঁকে যে পরিমাণ কড়া নজরদারি আর সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে, তা অন্য কেউ হলে হয়তো ভেঙে পড়তেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলো শুরুতে জিউলিয়ানোর যুব দলে অন্তর্ভুক্তিকে কেবল বাবার প্রভাব হিসেবেই দেখেছিল। এই সমালোচনা মোকাবিলা করতে দিয়েগো সিমিওনেও ছিলেন কঠোর। ছেলেকে সরাসরি মূল দলে সুযোগ না দিয়ে ধারে (লোন) পাঠিয়েছিলেন আলাভেস-এ। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—আতলেতিকোর ড্রেসিংরুমে বসার আগে লা লিগার কঠিন লড়াইয়ে নিজেকে প্রমাণ করা।
রক্তের উত্তরাধিকার ও লড়াইয়ের গল্প
মাত্র ২৩ বছরের তরুণ জিউলিয়ানো এখন সিমিওনে সাম্রাজ্যের এক পরীক্ষিত সৈনিক। আলাভেসের হয়ে ৯ গোল করে তিনি প্রমাণ করেছেন, বাবার নাম নয়—নিজের পায়ের ধারেই তিনি আজ আতলেতিকোর আঙিনায়। ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবে টানা ১৪ বছর ড্রেসিংরুম শাসন করে দিয়েগো সিমিওনে যখন রেকর্ড বই নতুন করে লিখছেন, ঠিক তখনই প্রথম সন্তান হিসেবে বাবার কড়া শাসনের অধীনে লড়ছেন জিউলিয়ানো। বড় দুই ছেলে জিওভানি কিংবা জিয়ানলুকারা অন্য ক্লাবে আলো ছড়ালেও, জিউলিয়ানোর নিয়তি যেন বাঁধা ছিল বাবার এই লাল-সাদা দুর্গের কঠিন লড়াইয়েই।
"চলো-ইজমো’র বিবর্তন: জিউলিয়ানোর পায়ে সিমিওনে দর্শন
জিউলিয়ানোর খেলার ধরনে বাবার সেই চিরচেনা আগ্রাসী মেজাজ ফুটে উঠলেও, তিনি মাঠে নিয়ে এসেছেন আধুনিক ফুটবলের বহুমাত্রিক সামর্থ্য। দিয়েগো সিমিওনে যখন খেলতেন, তিনি ছিলেন নিখুঁত এক 'নাম্বার ফাইভ' মিডফিল্ডার—যাঁর কাজই ছিল প্রতিপক্ষের আক্রমণ গুঁড়িয়ে দেওয়া। তবে জিউলিয়ানো নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন 'হাইব্রিড ফরোয়ার্ড' হিসেবে। সামনে থেকে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার (প্রেসিং) অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে তিনি স্থবির হয়ে পড়া আতলেতিকোকে নতুন প্রাণ দিয়েছেন।
মাদ্রিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যাকটিক্যাল অ্যানালিস্টদের মতে, জিউলিয়ানো প্রতি ম্যাচে গড়ে ১১.৪ কিলোমিটার দূরত্ব দৌড়ান, যা বর্তমান দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি সিমিওনের সেই বিখ্যাত ‘চলো-ইজমো’ দর্শনেরই প্রতিফলন—যেখানে সাফল্যের মূল মন্ত্র হলো মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেওয়া।
ক্রীড়া পরিবারের বৈশ্বিক আখ্যান: সিমিওনে থেকে কেনিয়া
সিমিওনে পরিবারের এই গল্প কেনিয়ার ক্রীড়াপ্রেমীদের মনেও গভীর নাড়া দিচ্ছে। যেখানে পারিবারিক ঐতিহ্যই জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। ক্রিকেটের সেই কিংবদন্তি ওধিয়াম্বো ভাইদের থেকে শুরু করে ফুটবলের ওয়ানিয়ামা পরিবার—বিখ্যাত পদবি বইয়ে বেড়ানোর চাপ কেনিয়ার ভক্তদের কাছে খুব পরিচিত।
কেনিয়ার নাইরোবির স্পোর্টস বারগুলোতে এখন সিমিওনেদের নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলে: বিখ্যাত বাবার নাম কি আশীর্বাদ নাকি বোঝা? সেখানকার স্থানীয় কোচদের মতে—পরিবারের নাম হয়তো বড় কোনো সুযোগের দরজা খুলে দেয়, কিন্তু সেখানে টিকে থাকতে হলে মেধা আর পরিশ্রমেরই দরকার হয়। নাইরোবির এনগং রোডের 'লিগি এনডোগো' অ্যাকাডেমির তরুণ অ্যাথলেটদের কাছে জিউলিয়ানোর এই সাফল্য এক বড় অনুপ্রেরণা। সে প্রমাণ করেছে, উত্তরাধিকার কেবল জন্মগতভাবে পাওয়া বিষয় নয়, এটি নিজের পরিশ্রমে গড়ে নেওয়ার বিষয়।
শেষ অঙ্ক: একটি স্বপ্নের সন্ধানে
আতলেতিকো যখন সেমিফাইনালের মহারণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন বাজিটা কিন্তু অনেক বড়। দিয়েগো সিমিওনের জন্য এটি সেই ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার শেষ সুযোগ, যা দুবার ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েও তাঁর হাত ফসকে গেছে। আর জিউলিয়ানোর জন্য এটি বাবার দীর্ঘ ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের ভাগ্য গড়ার এক মহাসুযোগ। 'চোলো' যুগের শেষ অঙ্কটা এখন এক ব্যক্তিগত আবেগ আর প্রাপ্তির লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ এম

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পার্ক দে প্রাঁসে যখন গোলের উৎসব চলছিল তখন গ্যালারিতে বসে থাকা একজনের জন্য বেশ যন্ত্রনার। তিনি ভিনসেন্ট কোম্পানি। ডাগআউটে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বায়ার্ন মিউনিখের এই কোচকে মঙ্গলবার রাতে গ্যালারির মিডিয়া বক্সে বসে হজম করতে হয়েছে ৫-৪ গোলের হার। ম্যাচ শেষে কোম্পানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডাগআউট থেকে দূরে থাকার এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে মোটেও ‘মজাদার’ ছিল না।
তিনটি হলুদ কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি কোম্পানি। কানের ইয়ারপিস লাগিয়ে সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কসকে নির্দেশনা দিলেও নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়েছে তাঁর। ম্যাচ শেষে প্রাইম ভিডিওকে কোম্পানি বলেন, ‘গ্যালারিতে বসে থাকা মোটেও আনন্দের কিছু নয়। আমার জীবনে এমনটা আর কখনো না ঘটলে আমি খুশি হব। ৮০ মিটার দূর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।‘
আরও পড়ুন
| ‘ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ’, বায়ার্নকে হারিয়ে উচ্ছ্বসিত এনরিকে |
|
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে এই ম্যাচকে তাঁর কোচিং জীবনের সেরা ম্যাচ বলে মন্তব্য করেছেন। অতীতে এনরিকে কৌশলগত আলোচনার জন্য মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছায় গ্যালারিতে বসতেন, কিন্তু কোম্পানি সেই ধারণার সাথে একমত নন। বেলজিয়ান এই কোচ বলেন, ‘আমি জানি না কেন তিনি এমনটা করেন। আমি নিজে কখনোই তা করব না।‘
ম্যাচের শুরুটা ভালো হওয়ায় গ্যালারিতে কোম্পানির মুখে হাসি দেখা গেলেও পিএসজি যখন ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখন বেশ বিবর্ণ দেখা যায় তাকে। তবে ৩ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে তাঁর দল লড়াইয়ে ফিরে ৪-৫ ব্যবধান করেছে তাতে খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করতে ভুল করেননি বেলজিয়ান এই কোচ।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোম্পানি আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে পুনরায় ডাগআউটে ফিরবেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ের চেয়েও আরও উত্তাল পরিবেশ তিনি মিউনিখে আশা করছেন। সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কোম্পানি বলেন, ‘মাদ্রিদ ম্যাচে যে উন্মাদনা ছিল, আমার তার চেয়েও বেশি কিছু চাই। মিউনিখে গ্যালারি যেন শান্ত না থাকে।‘
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৯ গোলের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। রেকর্ড ৫-৪ ব্যবধানের জয়কে কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড।
বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি-নেইমার জুনিয়র-লুইস সুয়ারেজদের নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া এনরিকে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচের তীব্রতায় অভিভূত। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এত তীব্র গতির ম্যাচ আর দেখিনি। আমি তো এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি, তবুও আমি ভীষণ পরিশ্রান্ত। জানি না খেলোয়াড়দের মনের অবস্থা এখন কী!’
আরও পড়ুন
| গ্রিজম্যানের রাজকীয় বিদায়ের লক্ষ্যেই লড়বে আতলেতিকো |
|
৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪ গোল হজম করা নিয়ে সাধারণত কোচরা চিন্তিত থাকেন, কিন্তু এনরিকে সেসব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘আজকে দলের কোনো খুঁত বা ভুল ধরার সময় নয়। আজ কেবল সবাইকে অভিনন্দন জানানোর দিন। আমরা যেমন জেতার দাবিদার ছিলাম, তেমনি ড্র করা কিংবা হারার সম্ভাবনাও ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এটিই আমার দেখা সেরা ম্যাচ।‘
আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগে বায়ার্নের মাঠে খেলতে হবে পিএসজিকে। প্রথম লেগ শেষে এগিয়ে থাকলেও কাজটা যে সহজ হবে না তা বেশ ভালো করেই জানেন এনরিকে। তাইতো ম্যাচ শেষে ছক কষা শুরু করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ ‘স্টাফদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আমাদের জেতার জন্য কয়টি গোল করতে হবে বলে মনে করো?' তারা বলেছে, 'ন্যূনতম তিনটি।' বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিজেদের মাঠে আরও বেশি শক্তিশালী, তবে আমরা একই মানসিকতা নিয়ে খেলার চেষ্টা করব।‘
মঙ্গলবার রাতের এই ৫-৪ গোলের জয় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে। ফিরতি লেগেও যে রোমাঞ্চ ছড়াবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক গোলের ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে থাকা প্যারিসিয়ানদের চোখ এখন সেই ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ইউরোপ সেরার ট্রফি উচিয়ে ধরার আরও কাছে যাওয়া।

পার্ক দে প্রাঁসে গোল উৎসব হবে সেটা সহজ অনুমেয় ছিল। পরিসংখ্যান বলছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের আগে মৌসুমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ ৩৮টি করে গোল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে। এবার তারা একে অন্যের বিপক্ষে গোল করেছে ৯টি। যার পাঁচটি পিএসজির, চারটি বায়ার্নের।
প্যারিসে গোল উৎসবের রাতে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফিরতি লেগের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সারল লুইস এনরিকের দল। তাছাড়া টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ফরাসি ক্লাবটি।
মঙ্গলবারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বিরতির আগেই ৫টা গোল হয়। যার দুটি গেল পিএসজির জালে, তিনটা হজম করল বাভারিয়ানরা। বিরতির পর তাই দুই পাশের জালে ঢুকল আরও দুটি করে গোল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গোলপ্রসবা সেমিফাইনালের রেকর্ড গড়া ম্যাচে পিএসজি জিতল ৫-৪ গোলে।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাঁপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে ভিতিনিয়ার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন আশরাফ হাকিমি। বক্সে তার পাঠানো বিপজ্জনক নিচু ক্রসটি উসমান দেম্বেলে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ছেড়ে দিলে বল পান খিচা কাভারাস্কাইয়া। কোনো ভুল না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। বাঁ প্রান্ত থেকে দুয়ের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন উসমান ডেম্বেলে। উপামেকানোর পায়ের ফাঁক দিয়ে নেওয়া তার নিখুঁত নিচু শটটি বাম দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার কেবল চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। পিএসজির গোল উৎসব এখন পূর্ণতা পেল।
৬৪তম মিনিটে সেটপিস থেকে ব্যবধান কমাতে সাহায্যে করেন উপকোমানো। জশুয়া কিমিখের বুলেট গতির শট কেবল মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যবেদ করেন ফরাসি সেন্টারব্যাক। পরের মিনিটে আরও একটি গোল করেন লুইস দিয়াজ। নিজেদের অর্ধ থেকে কেইনের লং রেঞ্জের শট নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে ডান পায়ের কৌশলী শটে আদায় করেন গোল। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেয়ে পেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ শেষ হয় ম্যাচ।
ফার্স্ট রেগে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও অতিথি বায়ার্ন মাঠের দখলে এগিয়ে ছিঝল। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১২টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। ১০টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে বায়ার্ন।

পার্ক দে প্রাঁসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি।
এদিন ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উইলিয়ান পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাভারিয়ানদের লিড এনে দেন কেইন।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট জাল কাঁপায়। গোলরক্ষক সাফোনভের কিছু করার ছিল না।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন আজ ৫৪ নম্বর গোলটি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন রবার্ট লেভানডভস্কির সমান্তরালে তিনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন হ্যারি কেইন।

জমেও যেন জমছিল না। গুমোট এক আবহাওয়া আর একরাশ বিরক্তি ভর করেছিল পার্ক দে প্রাঁসে। প্রায় ৪৮ হাজার দর্শকের কম্পন তোলা মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত গোল ছিল যেন হাওয়াই মিঠাই। প্রথম ১০ মিনিট আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ ছাড়া কেটে যাওয়া পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হয়েছে মোট পাঁচটি। যার তিনটি পিএসজির আর দুটি বায়ার্নের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে যেন আগুন নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন-পিএসজি। ম্যাচে ৪৯ শতাংশ বল দখলে ছিল পিএসজির, ৫১ শতাংশ বায়ার্নের। ৯টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে ফরাসি জায়ান্টরা। সমান সংখ্যক বল লক্ষ্যে রাখে অতিথিরাও। দুটি করে বড় সুযোগ তৈরি করে দুদল। ক্লিয়ারেন্সে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন দু’দলের গোলকিপার। ১১টি ক্লিয়ারেন্স ছিল সাফনভের, ছয়টি নয়্যারের।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।