
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় আবারও শুরু হয়ে গেল কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। ৩২টি মিডিয়া হাউজের অংশগ্রহণে মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবন সংলগ্ন আর্টিফিশিয়াল টার্ফে ঐতিহ্যবাহী কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবলের উদ্বোধন হয়েছে রোববার।
প্রথম দিনের খেলায় জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দৈনিক যুগান্তর, এখন টিভি, দীপ্ত টিভি, বাংলা ভিশন, দৈনিক কালের কণ্ঠ, দ্য ডেইলি স্টার, ক্রিকফ্রেঞ্জি ও এনটিভি।
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিন সোমবার মাঠে নামবে দেশের একমাত্র খেলাধুলার টিভি চ্যানেল টি স্পোর্টস। বেলা ১১টায় তাদের প্রতিপক্ষ অনলাইন নিউজপোর্টার জাগোনিউজ২৪ডটকম।
বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক রোববার মাঠে উপস্থিত থেকে কুল-বিএসজেএ মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদউদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এসএম সুমন ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক রায়হান আল মুঘনি। এছাড়া স্পন্সর প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজের পক্ষ থেকে ছিলেন হেড অব মিডিয়া এন্ড রিসার্চ ফেরদৌসুল ইসলাম ও সিনিয়র ব্র্যান্ড ম্যানেজার আদিব বিন শহীদ।
দিনের প্রথম ম্যাচে এটিএন নিউজকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে এখন টিভি। জোড়া গোলের পাশাপাশি এক অ্যাসিস্ট করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন রাকিব আহমেদ। এছাড়া ১টি করে গোল পেয়েছেন আবুল কালাম, আব্দুল কাদের লিওন ও রেজাউল করিম। একই সময়ে হওয়া অন্য ম্যাচে দৈনিক সমকালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে দীপ্ত টিভি। জয়সূচক গোল করে ম্যাচ সেরা হন ইমাম হোসেন রাহাত।
ডেইলি অবজারভারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে বাংলাভিশন। ইনামুল হাবিব রুবেল জোড়া গোল করে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের পর ১-১ গোলে ড্র থাকে দৈনিক কালের কণ্ঠ ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ম্যাচ। পরে টাইব্রেকারে ৩-১ ব্যবধানে জয় পায় কালের কণ্ঠ। ম্যাচ সেরা হন তৌকির।
প্রাণপণ চেষ্টার পরও গোলের ডেডলক ভাঙতে পারেনি দৈনিক যুগান্তর ও বৈশাখী টেলিভিশন। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে পরের রাউন্ডের টিকিট পায় দৈনিক যুগান্তর। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন গোলরক্ষক রিফাত। গোলের দেখা মেলেনি দ্য ডেইলি স্টার ও নিউজ ২৪ ম্যাচেও। টাইব্রেকার ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় দ্য ডেইলি স্টার। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন অর্কিড চাকমা।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকে ক্রিকফ্রেঞ্জি ও নয়া দিগন্তের ম্যাচ। পরে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জেতে ক্রিকফ্রেঞ্জি। ম্যাচ সেরা হন লিখন সরকার। দিনের শেষ ম্যাচে অন্তিম মুহূর্তের গোলে মাছরাঙা টেলিভিশনকে ১-০ গোলে হারায় এনটিভি। জয়সূচক গোলটি করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ফাহাদ মোহাম্মদ।
প্রথম দিনের বিজয়ী ৮ দল পেয়েছে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট। মতিঝিলস্থ বাফুফে আর্টিফিশিয়াল টার্ফে সোমবার হবে প্রথম রাউন্ডের বাকি ৮ ম্যাচ।
No posts available.

ইন্টার মায়ামির হয়ে শততম ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ গোলের বড় লিড নিয়ে সমর্থকদের উৎসবের উপলক্ষও তৈরি করেছিল তারা। কিন্তু আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি অরল্যান্ডো সিটি।
মেজর লিগ সকারে আজ ভোরে হওয়া ম্যাচে মায়ামিকে স্তব্ধ করে ৪-৩ ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিয়েছে অরল্যান্ডো। এই হারের ফলে নিজেদের নতুন ভেন্যু নু স্টেডিয়ামে টানা চার ম্যাচ জয়হীন রইল মায়ামি।
ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট ছিল ইন্টার মায়ামির। মাত্র চার মিনিটের মাথায় ইয়ান ফ্রের গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপরই শুরু হয় মেসি ম্যাজিক। ২৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দারুণভাবে এগিয়ে গিয়ে লুইস সুয়ারেজকে পাস দেন মেসি। সুয়ারেজ ফিরতি পাসে বক্সের ভেতর বল বাড়ান মেসিকে। আর্জেন্টাইন তারকার নিখুঁত পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তেলাসকো সেগোভিয়া।
৩৩ মিনিটে এবার নিজেই গোলের খাতায় নাম লেখান মেসি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বা পায়ের শটে ব্যবধান ৩-০ করেন। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এটি ছিল মেসির ৮৬তম গোল।
৩৯ মিনিটে অরল্যান্ডোর মার্তিন ওজেদা এক গোল শোধ করলে নাটকের শুরু হয়। ৬৮ মিনিটে ওজেদা নিজের দ্বিতীয় গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২। ৭৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করার পাশাপাশি ম্যাচে ৩-৩ সমতা ফেরান এই আর্জেন্টাইন। ইনজুরি টাইমে টাইরেস স্পাইসার জয়সূচক গোলটি করলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি।
এমএলএসের ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে ৩-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও কোনো দল ম্যাচ জিতল। এর আগে ২০১৭ সালে সিয়াটল সাউন্ডার্স এবং ২০১৮ সালে এলএ গ্যালাক্সি এই কীর্তি গড়েছিল। অথচ এই ম্যাচের আগে গত ১৫ ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছিল অরল্যান্ডো।
এই হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মায়ামির টানা ১১ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রাও থেমে গেল। ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে ইন্টার মায়ামি। ১০ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ন্যাশভিল এসসি। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ১৩ নম্বরে অরল্যান্ডো।
লা লিগায় শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল বার্সেলোনা। শনিবার রাতে ওসাসুনাকে হারিয়ে টানা দশম জয় তুলে নিয়েছে কাতালানরা। আজ রিয়াল মাদ্রিদ পয়েন্ট খোয়ালেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ঘরে তুলবে বার্সেলোনা।
প্রতিপক্ষের মাঠে হান্সি ফ্লিকের দলের জয় ২-১ ব্যবধানে। এই জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি।
আজ রাতে এস্পানিওলের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ যদি জয় না পায়, তবে মাঠের লড়াইয়ে না নেমেই চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত হয়ে যাবে বার্সেলোনার। রিয়াল জিতলে আগামী ১০ মে ঘরের মাঠে এল ক্লাসিকোতে হার এড়ালেই শিরোপা ঘরে তুলবে কাতালানরা।
শনিবার রাতে পুরো ম্যাচ জুড়ে ওসাসুনার রক্ষণে বারবার হানা দিলেও গোলের দেখা পেতে বার্সাকে অপেক্ষা করতে হয় ৮১ মিনিট পর্যন্ত। মার্কাস রাশফোর্ড নিখুঁত এক ক্রস বাড়ান রবার্ট লেভানডফস্কির দিকে, জোরালো হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার।
পাঁচ মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। মাঝমাঠ থেকে ফারমিন লোপেজের পাস ধরে ওসাসুনা গোলকিপারকে পরাস্ত করেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
৮৯ মিনিটে দুর্দান্ত হেডে ওসাসুনার রাউল গার্সিয়া একটি গোল শোধ করলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের ঘামঝরানো জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্লিকের দল।
৩৪ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৮৮, এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৭৪। লিগে আর মাত্র চারটি রাউন্ড বাকি। রিয়াল মাদ্রিদ তাদের হাতে থাকা সব ম্যাচ জিতলেও বার্সেলোনাকে ছোঁয়া এখন প্রায় অসম্ভব। রিয়ালের আজকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে বার্সার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষণ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির ওপর আরও চাপ বাড়াল আর্সেনাল। শনিবার রাতে ঘরের মাঠে ভিক্টর ইয়োকেরেসের জোড়া গোলে ফুলহ্যামকে সহজেই হারিয়েছে মিকেল আরতেতার দল।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় ৩-০ ব্যবধানে। ইয়োকেরেসের সঙ্গে গোলের তালিকায় নাম লেখান বুকায়ো সাকা।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল গানাররা। অবশ্য আর্সেনালের চেয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দুই ম্যাচ কম খেলেছে। সোমবার এভারটনের বিপক্ষে মাঠে নামবে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ফুলহ্যামকে চেপে ধরে আর্সেনাল। চোট কাটিয়ে দীর্ঘ সময় পর একাদশে ফেরা বুকায়ো সাকা নবম মিনিটেই ডান প্রান্ত দিয়ে ফুলহ্যাম ডিফেন্ডার রাউল জিমেনেজকে পরাস্ত করে বক্সে ক্রস বাড়ান। নিখুঁত ট্যাপ-ইনে বল জালে পাঠিয়ে গানারদের এগিয়ে নেন ইয়োকেরেস। এটি ছিল মৌসুমে এই সুইডিশ স্ট্রাইকারের ২০তম গোল।
বিরতির পাঁচ মিনিট আগে সাকা ও ইয়োকেরেসের রসায়ন আবারও দেখা যায়। এবার ইয়োকেরেসের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন সাকা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে দর্শনীয় হেডে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন ইয়োকেরেস।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে থাকায় প্রথমার্ধের পরেই সাকা এবং ৬৪ মিনিটে ইয়োকেরেসকে তুলে নেন আরতেতা। চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের কথা ভেবেই দলের মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ।
দ্বিতীয়ার্ধে রিকার্ডো ক্যালাফিওরোর একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে ব্যবধান আর বাড়েনি। এর আগে প্রথমার্ধে অফসাইডের কারণে তাঁর একটি গোল বাতিল হয়েছিল।
৩৫ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আর্সেনাল, সমান ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দশ নম্বরে ফুলহ্যাম। আর্সেনালের চেয়ে দুই ম্যাচ কম খেলা ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৭০।
মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদকে আতিথ্য দেবে আর্সেনাল। আতলেতিকোর ঘরের মাঠে প্রথম লেগ ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল।

চ্যাম্পিয়নশিপের মৌসুমজুড়ে চলা রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের যবনিকা পড়ল এক মহানাটকীয় শেষ দিনে। কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ইংলিশ ফুটবলের শীর্ষ স্তর প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে ইপসউইচ টাউন। একই দিনে প্লে-অফের টিকিট কাটার লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে হাল সিটি।
মৌসুমের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে ইপসউইচের সমীকরণ ছিল পরিষ্কার—জয় পেলেই নিশ্চিত হবে প্রিমিয়ার লিগ। স্নায়ুচাপের এই ম্যাচে শুরুর নয় মিনিটেই প্রতিপক্ষকে ধসিয়ে দেয় তারা। জর্জ হার্স্ট ও জ্যাডন ফিলোমিনের জোড়া গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শুরুতেই ইপসউইচের হাতে চলে আসে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ক্যাসি ম্যাকাটিয়ার দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করলে গ্যালারিতে শুরু হয় আগাম উদযাপনের উৎসব।
ইপসউইচের এই সাফল্যের রূপকার হিসেবে আবারও নাম লিখিয়েছেন কোচ কিয়েরান ম্যাককেনা। প্রথম ম্যানেজার হিসেবে ইপসউইচকে তিনবার পদোন্নতি (প্রমোশন) এনে দেওয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি, যার মধ্যে দুবারই ছিল প্রিমিয়ার লিগে ওঠার গৌরব।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ ছিল বেশ কঠিন। মিলওয়াল ও মিডলসবরো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইপসউইচের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছিল। মিলওয়াল তাদের ম্যাচে অক্সফোর্ডকে ২-০ গোলে হারালেও মিডলসবরো ২-২ গোলে ড্র করে রেক্সহ্যামের সঙ্গে। ফলে ১ পয়েন্টের ব্যবধানে টেবিলের দ্বিতীয় দল হিসেবে সরাসরি প্রিমিয়ার লিগে উঠে গেল ইপসউইচ।
এর আগে ২০২৪-২৫ মৌসুমে দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল ক্লাবটি। কিন্তু সেই যাত্রা সুখকর ছিল না। মাত্র ৪টি জয় আর ২২ পয়েন্ট নিয়ে অবনমিত হয়ে তারা আবারও চ্যাম্পিয়নশিপে নেমে যায়। এরপরই শুরু হয় দল পুনর্গঠনের কাজ। গত দুই মৌসুমের প্রমোশনে বড় ভূমিকা রাখা লিয়াম ড্যাপ ও ওমারি হাচিনসনের মতো তারকাদের মোটা অঙ্কের বিনিময়ে যথাক্রমে চেলসি ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের কাছে বিক্রি করে দেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
শূন্যস্থান পূরণে ১১ জন নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়ান ম্যাককেনা। ডেনমার্কের ক্লাব নর্ডসিল্যান্ড থেকে উইঙ্গার সিনদ্রে ওয়াল এগেলি, ওয়েস্ট ব্রমউইচ থেকে ডারনেল ফারলং এবং প্রতিপক্ষ নরউইচ থেকে মার্সেলিনো নুনিয়েজকে এনে দল সাজান তিনি। তবে নতুন রূপের এই দলটির শুরুটা ছিল হতাশাজনক। লিগে প্রথম জয়ের জন্য তাদের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আগস্টে লিগ কাপ থেকেও বিদায় নিতে হয়েছিল তলানির দল ব্রমলির কাছে হেরে।

তবে অক্টোবর মাসের পর থেকেই বদলে যায় ইপসউইচের ভাগ্য। ২৫ অক্টোবর ওয়েস্ট ব্রমের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়টি ছিল মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো। এরপর ১০ ম্যাচের মধ্যে তারা হার মাত্র একটিতে। বড়দিনের আগে তারা টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে আসে। এরপর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ঘরের মাঠ পোর্টম্যান রোডকে তারা কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করে। পুরো মৌসুমে ঘরের মাঠে তারা হেরেছে মাত্র একটি ম্যাচ।
লিয়াম ড্যাপের অনুপস্থিতিতে গোল করার দায়িত্ব ভাগ করে নেন দলের বাকিরা। ১৬ গোল করে আসরের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন জ্যাক ক্লার্ক। অ্যাস্টন ভিলা থেকে আসা জ্যাডন ফিলোমিন উইংয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে করেন ১১ গোল। স্ট্রাইকার হিসেবে জর্জ হার্স্ট করেছেন ১০ গোল।
মৌসুমের শেষ ১৫ ম্যাচে ইপসউইচ ছিল অপ্রতিরোধ্য। এই সময়ে মাত্র একটি ম্যাচে হারের মুখ দেখেছে তারা। বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিলে সরাসরি পদোন্নতির প্রতিদ্বন্দ্বী মিলওয়াল ও মিডলসবরোর বিপক্ষে ড্র করে নিজেদের শীর্ষস্থান সুসংহত রাখে তারা।
শেষ দিনে কিউপিআরের বিপক্ষে ৩ মিনিটে হার্স্টের গোলটি ভক্তদের স্নায়ুচাপ কমিয়ে দেয়। এরপর ফিলোমিনের জোড়া গোল আর ম্যাচের অন্তিম লগ্নে ম্যাকাটিয়ারের গোল উৎসবে ভাসায় পুরো স্টেডিয়াম। চ্যাম্পিয়ন কভেন্ট্রি সিটির সঙ্গী হয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফিরল ইপসউইচ। অন্যদিকে তৃতীয় দল হিসেবে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার লড়াইয়ে প্লে-অফে মুখোমুখি হবে মিলওয়াল, সাউদাম্পটন, মিডলসবরো এবং হাল সিটি।
ইপসউইচ ভক্তদের জন্য এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং এক মৌসুমের কঠোর পরিশ্রম আর ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে আবারও সেরাদের মঞ্চে ফেরার গল্প।

লা লিগা জয়ের দৌড়ে বার্সেলোনা এখন চালকের আসনে। তবে লিগ শিরোপা প্রায় হাতের মুঠোয় থাকলেও বসে নেই ক্লাবটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী মৌসুমের জন্য এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামছে কাতালান জায়ান্টরা।
বার্সেলোনার মূল লক্ষ্য এখন তাদের ‘আরাধ্য’ ষষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। ২০১৫ সালের পর ইউরোপের এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পাওয়া হয়নি কাতালান জায়ান্টদের। চলতি মৌসুমেও কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় সেই অপেক্ষা আরও অন্তত দীর্ঘ হলো।
কোচ হান্সি ফ্লিক তাঁর অভিষেক মৌসুমেই বার্সাকে লা লিগা জিতিয়েছেন এবং এবারও ক্লাবটি সেই পথেই আছে। কিন্তু দুইবার চেষ্টা করেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দলকে সাফল্যের চূড়ায় নিতে পারেননি এই জার্মান কোচ। ফলে ইউরোপসেরার ট্রফি জিততে ফ্লিক এখন এমন এক স্কোয়াড গড়তে মরিয়া, যেখানে থাকবে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ‘অস্ত্র’।
তবে এই বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। হাতে খরচের জন্য অঢেল টাকা নেই ক্যাম্প ন্যূ’এর ক্লাবটির। স্প্যানিশ সংবামা ‘এএস ডায়ারিও’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন খেলোয়াড় কিনতে হলে ক্লাবটিকে তাদের বর্তমান কিছু তারকা খেলোয়াড়কে বিক্রি করে সেই ফান্ড জোগাড় করতে হবে।
সবচেয়ে বড় চমক হলো, যে তিন ডিফেন্ডারকে ক্লাব ছাড়ার তালিকায় রাখা হতে পারে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রোনাল্ড আরাউহো। মাঠ এবং মাঠের বাইরে বার্সার রক্ষণের অন্যতম নেতা হিসেবে পরিচিত এই উরুগুইয়ান তারকাকেও হয়তো দলের শক্তি বাড়াতে বিসর্জন দিতে পারে বার্সা কর্তৃপক্ষ।
গত নভেম্বরে বিষণ্নতার কারণে খেলা থেকে বিরতি নিয়েছিলেন আরাউহো। ফেরার পর লা লিগায় মাত্র দুটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন এই উরুগুইয়ান ডিফেন্ডার। নিয়মিত মাঠে নামতে না পারার এই চিত্রই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্লাব হয়তো তাকে এখন অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করছে।
আরাউহো ছাড়াও আরও দুই ডিফেন্ডার—জুলস কুন্দে এবং আলেহান্দ্রো বালদের ক্লাব ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। যদিও কোচ ফ্লিক তাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন এবং তারা দলের নির্ভরযোগ্য মুখ, তবুও আর্থিক সংকটের কারণে চিত্রপট বদলে যেতে পারে। যদি এই পজিশনগুলোতে আরও দক্ষ খেলোয়াড় পাওয়া যায় কিংবা বড় সাইনিংয়ের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে তাদেরও ছেড়ে দিতে পারে বার্সা।
লা মাসিয়ার প্রতিভাবান মিডফিল্ডার মার্ক কাসাদোকেও হয়তো দলবদলের বাজারে তুলতে পারে ক্লাব। গত কয়েক মাসে অনেক ক্লাবই এই মিডফিল্ডারের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। এতদিন বার্সেলোনার হয়ে খেলার তীব্র ইচ্ছার কারণে কাসাদো ক্লাব ছাড়তে রাজি হননি। তবে সৌদি আরব, প্রিমিয়ার লিগ এবং লা লিগার ক্লাবগুলো তাকে পেতে মরিয়া। পর্যাপ্ত গেমটাইম না পাওয়ায় কাসাদো এবার হয়তো ক্লাব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন।
সবচেয়ে জটিল অবস্থা রুনি বারদঘজিকে নিয়ে। সুইডিশ এই উইঙ্গারকে সহজে হারাতে চায় না বার্সা। তবে আক্রমণভাগের ডানপ্রান্তে লামিন ইয়ামালের বিকল্প হিসেবে খুব একটা মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন না বারদঘজি। তাতে এই উইঙ্গারকে বিক্রি করলেও চুক্তিতে 'বাই-ব্যাক' (পুনরায় কিনে নেওয়ার সুযোগ) ক্লজ রাখা হতে পারে, যাতে অন্য ক্লাবে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়ে নিজেকে আরও ঝালিয়ে নিতে পারেন তিনি।
বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সায় যোগ দেওয়া রবার্ট লেভানডফস্কির ক্লাব ছাড়া অনেকটাই নিশ্চিত। মৌসুম শেষেই পোলিশ ফরোয়ার্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বার্সার হয়ে চার মৌসুমে ১৮৮ ম্যাচে ১৮৮ গোল করেছেন লেভানডফস্কি। জিতেছেন দুটি লা লিগা, একটি কোপা দেল’রে ও তিনটি সুপার কোপা শিরোপা।