
একদিন সকালে জোসেফ কে. নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ঘুম থেকে উঠে দেখলেন দুজন লোক তাঁর বাসায়। কুশলাদি বিনিময়ের আগেই তাঁরা বলে উঠলেন, ‘আপনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।’
শীতের ভোর। রুম হিটার আর কম্বলে উষ্ণতা খোঁজার বিপরীতে দুঃসংবাদের অভিঘাতে কেঁপে উঠল জোসেফের আত্মা। কিছুক্ষণ চুপ থেকে ভাবতে থাকলেন অতীত–বর্তমান। আদৌ কোনো অপরাধ করেছিলেন কি না। তবে আগন্তুকেরা এও জানান, গ্রেপ্তার হলেও এই মুহূর্তে থানায় নেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। বরং নির্দিষ্ট সময় শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে জোসেফের।
জোসেফের রীতিমতো মূর্ছা যাওয়ার দশা। তবু রোজকার কাজ চালিয়ে যান তিনি—ঘুম থেকে ওঠা, অফিসে যাওয়া–ফেরা, বন্ধুদের ডাকে বারবিকিউ পার্টিতে অংশ নেওয়া। যদিও সেখানকার বাতাসে ভেসে থাকা কাঁকড়া কেকের ঘ্রাণ তাঁকে আর মোহিত করে না। মনের ভেতর চলতে থাকে উত্থাল–পাতাল ঝড়। বিকেলের রঙ আর ভালো লাগে না তার। যে বৃষ্টি স্মৃতিতে ভাসাত, সেটাই আজ দুঃখের নীল।
মিশর ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহর অবস্থাও অস্ট্রিয়ান লেখক ফ্রান্ৎস কাফকার দ্য ট্রায়াল-এর জোসেফের মতোই। ঘুরছেন–ফিরছেন, অনুশীলন করছেন, খেলছেনও। তবুও তাঁর মনের ভেতর ঝড়। ‘গোল ড্রায়’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটুক্তি, বন্ধুদের আড্ডায় এখন তিনি অমনযোগী শ্রোতা।
প্রিমিয়ার লিগের ২০২৪–২৫ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের জার্সিতে ২৯ গোল ও ১৮ অ্যাসিস্টের দেখা পেয়েছিলেন সালাহ। অথচ ২০২৫–২৬ মৌসুমে ভুগছেন ‘গোল ড্রাই’-এ। গত মৌসুমে প্রথম ১০ ম্যাচে করেছিলেন ৭ গোল, নতুন মৌসুমে মাত্র ৪টি। অ্যাসিস্ট দুটি। অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের কাছে প্রত্যাশা অবশ্য আরও বেশি!
নতুন মৌসুমে এফসি বোর্নমাউথের জালে বল জড়িয়ে যাত্রা শুরু হয় সালাহর। শেষ ম্যাচেও (গতকাল) গোল পেয়েছেন তিনি। তার আগে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষেও গোল করেন মিসর ফরোয়ার্ড। লেখায় বিষয়টি সহজ মনে হলেও বাস্তবতা—নতুন মৌসুমে লিগে ছয় ম্যাচে গোল পাননি সালাহ।
গতকাল অ্যানফিল্ডে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে লিভারপুলকে লিড এনে দেন সালাহ। গোলটি যেন একপ্রকার উপহার—অতিথি গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অসাবধানতার সুযোগ কাজে লাগান ৩৩ বছর বয়সী এই তারকা। ডি-বক্সে বল পেয়ে এক টাচে গোল আদায় করেন তিনি। তাতেই লিভারপুলের জার্সিতে ২৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন সালাহ।
তবু ম্যাচজুড়ে সেই ব্যাংকার জোসেফের মতো কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে সালাহকে। তাঁর আক্রমণে ওঠা ও ক্লিয়ার পাস ধরে গোল দেওয়ার চেষ্টায় ফুটে উঠেছে কৃত্রিমতা। গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন একবার, শট নিয়েছেন তিনবার, সফল হয়েছেন একবার। ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ফুটমবের’ রেটিংয়ে ৮ পেলেও ম্যাচজুড়ে একধরনের হীনমন্যতায় ভুগতে দেখা গেছে সালাহকে।
মোহাম্মদ সালাহ প্রিমিয়ার লিগে টানা দুই ম্যাচে গোল পেয়েছেন, এটা সত্য। তবে আর্জেন্টাইন গোলকিপার মার্তিনেজ যেন তাঁকে কাফকার মেটামরফোসিসের গ্রেগর সামসা হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছেন—এটাও বাস্তব। তাঁকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল প্রবলভাবে; তিনি যেন সামসার মতো কীটপতঙ্গে রূপ নিচ্ছিলেন। সে মাত্রা যদি প্রিয়জনের চেয়ে প্রয়োজন বেশি হয়ে উঠত, নিশ্চিতভাবেই তাঁকে নিয়ে ভাবতে শুরু করত ‘অল রেডস’ কর্তৃপক্ষ।
এই কঠিন যাত্রায় সালাহ পেয়েছেন কোচের সমর্থন। লিগে দলের টানা চার হারকে দুর্ভাগ্য হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন আর্নে স্লট। গতকাল জয়ের পর তিনি বলেন,
‘প্রতি ম্যাচে ব্যবধান খুবই ছোট। আজ (গতকাল) শুরুতেই ভিলার বল গোলবারে লেগেছিল—শেষ কয়েক সপ্তাহে এগুলো গোল হয়ে যেত। এবার হয়নি। আমরা কোনো সেটপিসে গোল খাইনি, সেটি সাহায্য করেছে। কিছুটা ভাগ্যও আমাদের সঙ্গে ছিল, যা সম্প্রতি ছিল না। আমাদের দ্বিতীয় গোলটিও এসেছে ডিফ্লেকশন থেকে।’
এখানে কিছুটা সত্য আড়াল করতে চেয়েছেন লিভারপুল কোচ। অ্যানফিল্ড, যেখানে সালাহদের তীর্থভূমি—সেখানেও চোখে চোখ রেখে লড়েছে ভিলার কোনসা ও ম্যাটি ক্যাশ। প্রায় ৪৭ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল অতিথিরা। গোলমুখে শট কিংবা সুযোগ তৈরিতে পিছিয়ে থাকলেও অ্যাস্টন ভিলা পাসের নির্ভুলতায় ছিল এগিয়ে—প্রায় ৮৪ শতাংশ পাস ছিল অ্যাকুরেট।
তারপরও দলের প্রতি আস্থা রেখেছেন স্লট। আস্থা রেখেছেন সালাহর প্রতিও। অ্যানফিল্ডে নামার আগে তিনি বলেছিলেন,
‘আমি খুব খুশি আমার দল নিয়ে। এখানে সব কোয়ালিটির খেলোয়াড় আছে।’
তাঁর মতে,
‘গ্রীষ্মে দলে কিছু পরিবর্তন এসেছে। ফলে সবাইকে নতুন করে একে-অপরকে বুঝে নিতে হচ্ছে। হয়তো এর সঙ্গেই সালাহর পারফরম্যান্সের সম্পর্ক আছে।’
এর আগেও স্লট বলেছিলেন,
‘সালাহও মানুষ। আমরা অভ্যস্ত নই তাকে এত সুযোগ নষ্ট করতে দেখতে।’
লিভারপুল নিয়ে স্লটের মন্তব্য কিংবা সালাহর প্রতি তাঁর সমর্থন ফিকে হয়ে যাবে যদি না অ্যানফিল্ডের প্রতি আস্থা হারান সমর্থকেরা—অথবা আস্থাহীন হয়ে পড়েন সালাহ নিজেই। তবেই ধীরে ধীরে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠবে প্রিয়জন আর প্রয়োজনের সম্পর্ক। প্রিয় সামসার মতো তিনিও হয়তো একসময় বিরক্তির কারণ হয়ে উঠবেন। আপেলের আঘাতে শেষ হবে তাঁর অধ্যায়।
তবে এটা-ও সত্য—সালাহ হয়তো নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন, হয়তো ফেরার চেষ্টাও করছেন। তিনি জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। গিরিখাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও বহুবার তিনি ফিরেছেন। তাঁকে যে ফিরতেই হবে—সেটা মিসর ফরোয়ার্ডের চেয়ে ভালো জানে আর কে!
No posts available.

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েল গ্রাভিনা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালি জায়গা করতে না পারায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যায় ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো মূল পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন গ্রাভিনা।
আজ্জুরিদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইতালি দল বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবল ইতালিয়া।
ফুটবল সংবাদ পরিবেশক ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইতালির হেড কোচ জেনেরো গাত্তুসো ও ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফন পদত্যাগ করতে পারেন।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিরি আ প্রেসিডেন্ট ইজিও সিমোনেল্লি, সিরি বি প্রেসিডেন্ট পাওলো বেডেন, সিরি সি প্রেসিডেন্ট মাতেও মারানি, অ্যামেচার লিগ প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো আবিতি, খেলোয়াড় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট উমবার্তো ক্যালকানো, অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট রেনজো অলিভিয়েরি।

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের শুরুটা ভালো হয়েও হলো না; থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও দিনশেষে পরাজিতের কাতারে বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে রাখার মতো একটা দিনই ছিল মোসাম্মৎ সাগরিকার জন্য। বুধবার শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জেতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ফরোয়ার্ড গোলের কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। আজ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেনও জানালেন দলের প্রত্যেককে সমান চোখে দেখা হয়। তিনি জানান, গতকাল সাগরিকা গোল করেছে, পরের দিন অন্য কেউ করবে। এভাবেই তারা মেয়েদেরকে উজ্জীবিত রাখেন।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শনিবার, চীনের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে করা ভুল নিয়ে আজ কাজ করেছে কোচিং স্টাফ। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় আবুল হোসেন বলেন,
‘গতকাল আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছি। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। সামান্য ভুলের কারণে আমরা জিততে পারিনি। কারণ এমন ভুল তো আর সচরাচর হয় না। কিন্তু হয়ে গেছে। আজ সেই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। পরের ম্যাচ চীনের বিপক্ষে। তাদের সঙ্গে যেন একই ভুল না হয় তা নিয়ে কাজ করছি। মেয়েদের বলেছি যা হয়েছে সেটা এখন অতীত। এ নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হবে না।’
সাগরিকাকে নিয়ে আলাদা করে প্রশংসা ঝরেছে সহকারী কোচের কণ্ঠে। বলেছেন,
‘সাগরিকা অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সে বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে জাতীয় দলেও সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরে।’ তবে আবুল হোসেন সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে তারা সবাইকে সমান চোখে দেখেন, ‘আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করি। কে কখন জ্বলে উঠবে তা বলা যায় না, সেভাবেই আমরা মেয়েদের মোটিভেট করি। সবাইকে সমান নজরে দেখি।’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরুর অপেক্ষায়। যেখানে অনেকে অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারকে গ্যালারিতে বসেই দেখতে হবে খেলা।
আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে বুধবার সকালে সবশেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক। আগের রাতে ইউরোপয়ীয় প্লে অফ থেকে জায়গা নিশ্চত করে সুইডেন, তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
কোয়ালিফায়ার ফাইনালে হেরে বাড়ির টিকিট কাটতে হয়েছে জিয়ানলুইজি দোনারুমা, রবার্ট লেভানডফস্কি, কালাফিওরির মতো তারকাদের।
ইতালির চার তারার অসহায়ত্ব: বাছাইপর্বে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির পালে। বসনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হচ্ছে না আজ্জুরিদের। বিশ্বকাপে দেখা যাবে না দলটির চার তারকা দোনারুমা, রিকার্দো কালাফিওরি, সান্দ্রো টোনালি ও নিকোলো বারেল্লাকে।
পোলান্ডের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ল রবার্ট লেভানডফস্কির: ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে শেষ মূহুর্তে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড। এর মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি লেভানফস্কির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।
হাঙ্গেরির বিদায়ে স্বপ্ন ভাঙল সোবোসলাইয়েরও: বিশ্বকাপের বাছাইয়ে হাঙ্গেরির বিদায় ছিল ট্র্যাজিক। রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত তাদের। কিন্তু ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এ এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ট্রয় প্যারটের হ্যাটট্রিকে স্বপ্ন ভাঙে হাঙ্গেরির। লিভারপুলের হয়ে দূরপাল্লার শট আর নিখুঁত পাসের জন্য পরিচিত সোবোসলাইকে মিস করবেন ভক্তরা।
কঙ্গোতে বাঁধা ব্রায়ান এমবেউমোর উচ্চাশা: ব্রেন্টফোর্ড থেকে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া এমবেউমো গত মৌসুমে ২০ গোল করে নজর কাড়েন। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর কাছে ৯১ মিনিটের গোলে ক্যামেরুন হেরে যাওয়ায় এই উইঙ্গারকেও গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপ দেখতে হবে।
কাভারাস্কেইয়ার ড্রিবলিং মিস করবে বিশ্ব: ইউরো ২০২৪-এ নজরকাড়া জর্জিয়া এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি। ফেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কাভারস্কেইয়ারের জাদুকরী ড্রিবলিং দেখার সুযোগ এবার হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
অপেক্ষা বাড়ল হইলুন্দের: চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে ডেনমার্ক। যেখানে হইলুন্দ পেনাল্টি মিস করে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে দলে জায়গা পাননি তিনি, এবার দলের ব্যর্থতায় তাঁর অপেক্ষা আরও বাড়ল।