
শেষবার কোনো প্রতিযোগিতায় রিয়াল মাদ্রিদ ফাইনাল হেরেছিল কবে? উত্তর খুঁজতে কিছুটা বিপাকেই পড়ার কথা। গুগল বলছে শেষবার রিয়াল ফাইনালে হেরেছে ২০২৩ সালে। লস ব্লাঙ্কোদের হারার তেতো স্বাদটা দিয়েছিল এই বার্সেলোনাই। তাও সেই একই প্রতিযোগিতায়। ঠিক দুই বছর বাদে সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি করলো বার্সেলোনা। এবার অবশ্য জয়ের ব্যবধানে রয়েছে বড় ফারাক।
জেদ্দার কিংস আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে রবিবার রাতে রিয়ালকে নিয়ে ছেলে খেলায় মেতেছিল বার্সেলোনা। মরুর বুকে তপ্ত গরমে রিয়ালকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। তাতে কোচ হিসেবে বার্সেলোনার ডাগআউটে প্রথম শিরোপার দেখা পেয়েছেন এই জার্মান কোচ। স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সেলোনা ফিরে পেয়েছে তাদের হারানো মুকুট। রেকর্ড ১৫তম বারের মত শিরোপাটা ঘরে তুলেছে তারা।
ম্যাচটা রিয়ালের জন্য ছিল প্রতিশোধের মঞ্চ। শেষ এল ক্লাসিকোতে ঘরের মাঠে রিয়ালকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল বার্সেলোনা। অবশ্য মাঠে দেখা মিলেছে উল্টো চিত্রের। প্রতিশোধের জায়গায় রিয়ালকে আরও এক দুঃস্বপ্নের রাতই উপহার দিয়েছে বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন
| রিয়ালকে উড়িয়ে দেওয়া বার্সাকে নিয়ে গর্বিত ফ্লিক |
|
যার দায়টা রিয়াল সমর্থকরা দিতে পারে জোড়া তালি দিয়ে চলা তাদের রক্ষণকে। লুকাস ভাসকেজ, চুয়েমেনি কিংবা রুডিগারদের একের পর এক ভুল রিয়ালকে বিপাকে ফেলেছে। বার্সেলোনার প্রেসিং আর হাই লাইন ডিফেন্সে আরও একবার খাবি খেয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
তারকা নির্ভর রিয়ালকে প্রথমআর্ধেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে তারুণ্য নির্ভর বার্সেলোনা। এমন চিত্র রিয়াল সমর্থকদের জন্য বেশ হৃদয়বিদারকই। বলের দখল কিংবা সুযোগ তৈরি সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল কাতালান ক্লাবটি।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই রিয়ালকে চেপে ধরে বার্সেলোনা। তবে চাপ সামলে ম্যাচের প্রথম গোলের দেখা পায় রিয়ালই। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। গেল এল ক্লাসিকোতে দুইবার গোল করলেও অফ সাইডে বাতিল হয়েছিল এমবাপের গোল। তবে এদিন আর বার্সেলোনা ডিফেন্ডাররা আটকাতে পারেননি এমবাপেকে।
প্রতিআক্রমণ থেকে ম্যাচের পাঁচ মিনিটের মাথায় রিয়ালকে এগিয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপে। নিজেদের আর্ধ থেকে প্রায় একাই বার্সেলোনা ডিফেন্ডার খাবি খাইয়ে বল জালে জড়ান ফরাসি অধিনায়ক। এই একটা মুহূর্তই রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা প্রথমআর্ধে উদযাপনের সুযোগ পেয়েছিল। এরপরের গল্প পুরটাই বার্সেলোনার।
আরও পড়ুন
| ফোরেন্তিনো পেরেজকে নকশীকাঁথা, জার্সি উপহার দিয়ে এলেন বাংলাদেশ সমর্থকেরা |
|
যার শুরু ২২ মিনিটে লামিন ইয়ামালের হাত ধরে। এমবাপের করা চোখ ধাঁধানো গোলকে ভুলিয়ে দিতে ২০ মিনিটও সময় নেননি ১৭ বছর বয়সী এই তরুণ। রুডিগার, চুয়েমেনির মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দর্শক বানিয়ে কোর্তোয়াকে ফাঁকি দিয়ে ডি বক্সের ভেতর থেকে আড়াআড়ি এক শটে বার্সাকে সমতায় ফেরান ইয়ামাল।
এই একটা গোল বদলে দেয় পুরো ম্যাচের চিত্র। এরপর রিয়ালকে নিয়ে রীতিমত ছেলেখেলায় মাতে বার্সেলোনা। ৩৬ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে গাভিকে ফাউল করে বসেন রিয়াল মিডফিল্ডার কামাভিঙ্গা। ভিএআরের সাহয্য নিয়ে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রবার্ট লেভানডফস্কি। তিন মিনিটে বাদে বার্সেলোনা আবারও পায় গোলের দেখা। তিন নম্বর গোলটা আসে রাফিনিয়ার কাছ থেকে।
দুই রিয়াল ডিফেন্ডার লুকাস ভাস্কেজ ও চুয়েমেনির মাঝখানে বিরাট ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে ভুল করেননি রাফিনিয়া। কুন্দের বাড়ানো বল থেকে জোরালো হেডে জাল খুঁজে নেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। যোগ করা সময়ে আরও একবার গোলের দেখা মেলে বার্সেলোনার। এবার প্রতিআক্রমণে রাফিনিয়ার বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান বাড়ান বালদে। তাতে প্রথমআর্ধেই ম্যাচ হেলে পড়ে বার্সেলোনার দিকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও বার্সেলোনা শুরু করে একই তালে। বিরতি থেকে ফেরার তিন মিনিটের মাথায় মেলে গোলের দেখা। প্রতিআক্রমণ থেকে আরও একবার গোলের দেখা পান রাফিনিয়া। তবে ম্যাচ জমে উঠে ৫৭ মিনিটে সেজনির লাল কার্ডে। কিলিয়ান এমবাপেকে ডি বক্সের বাইরে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বার্সা গোলকিপার। সেই ফাউল থেকে গোল করে রিয়ালের হয়ে ব্যবধান কমান রদ্রিগো।
আরও পড়ুন
| ভিনিসিয়ুস হয়ে বাঁচা সহজ নয় : আনচেলত্তি |
|
দশ জনের বার্সেলোনা অবশ্য এরপর আক্রমণের ধারা কমায়। তাতে গতি কমে খেলারও। রিয়ালের সামনে ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকলেও বার্সেলোনার দারুণ ডিফেন্ডিংয়ে সেটা আর হয়ে উঠেনি। বদলি হিসেবে নামা ইনাকি পেনিয়ার দারুণ কিছু সেইভে রিয়ালও আর পারেনি গোলের ব্যবধান কমাতে। তাতে ৫-২ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।
No posts available.
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৫ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২২ পিএম
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১২ পিএম

চলতি মৌসুমে সব শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা আরেকটু উজ্জ্বল হলো আর্সেনালের। চ্যাম্পিয়নস লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে শেষ করার পর লিগ কাপে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে গানাররা। আর লিগে যে গতিতে এগোচ্ছে মিকেল আর্তেতার দল, তাতে তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা ঠেকায় সে সাধ্য কার।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ আর্সেনাল জিতেছে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে। ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে গানাররা আজ প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছে ৩-০ গোলে। মার্টিন জুবিমেন্দির গোলের পর বদলি নেমে জোড়া গোল করেন ভিক্টর গিওকেরেস।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে আর্সেনালের ব্যবধান হলো ৯। ২৫ ম্যাচে ১৭ জয়, পাঁচ ড্র ও তিন হারে আর্সেনালের পয়েন্ট ৫৬। আর এক ম্যাচ কম খেলে দুই নম্বরে থাকা পেপ গার্দিওলার সিটির পয়েন্ট ৪৭। ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে সান্ডারল্যান্ড।
একই সময়ে শুরু হওয়ার প্রিমিয়ার লিগের আরেক ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে চেলসি। ক্যারিয়ারে প্রথম হ্যাটট্রিক করেছেন কোল পালমার। ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের তিনটি গোলই আসে প্রথমার্ধে।
উলভারহ্যাম্পটনকে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে এসেছে চেলসি। ২৫ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে লিয়াম রসেনিওরের দল। বিপরীতে মৌসুমের ১৯তম হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতেই আছে উলভারহ্যাম্পটন।
উলভারহ্যাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল চেলসির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পালমারের ‘সেঞ্চুরি’র ম্যাচ। শততম ম্যাচের এই মাইলফলক কি দারুণভাবেই না রাঙালেন ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার।
পালমারের প্রথম গোলটি আসে ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে। জোয়াও পেদ্রোকে উলভারহ্যাম্পটনের ডিফেন্ডার ম্যাট ডোহার্টি ফেলে দিলে পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। তারপর স্পট কিক থেকে জালের নিচের ডান কোনে বল জালে পাঠান পালমার।
১০ মিনিট পর আবারও পেনাল্টি পেয়ে যায় চেলসি। এবার নিজেই ফাউলের শিকার হন পালমার। এবারও লক্ষ্যভেদ করতে ভুল করলেন না ইংলিশ মিডফিল্ডার। তিন মিনিট পর হ্যাটট্রিক করে ষোলো কলা পূর্ণ করেন তিনি। মার্ক কুকুরেয়ার বাড়ানো বল থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন পালমার।
তারপর দ্বিতীয়ার্ধে উলভারহ্যাম্পটনের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড তলু আরোকোদারে একটি গোল শোধ করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ৩-১ রেখেই পুরো তিন পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরে চেলসি।
রসেনিওর ডাগ-আউটের দায়িত্ব নেওয়ার পর লিগে টানা চার ম্যাচে জয় পেল চেলসি। ব্লুজদের ইতিহাসে দ্বিতীয় ইংলিশ কোচ হিসেবে এই কীর্তিতে নাম লেখালেন ৪১ বছর বয়সী এই কোচ।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে বল দখলে আর্সেনালের সঙ্গে সমানতালেই লড়েছে সান্ডারল্যান্ড। তবে গোল করার আসল কাজটাই করতে পারেনি তারা। ৫০ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৬টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে আর্সেনাল। যেখানে পাঁচটি শট নেওয়া সফরকারীরা লক্ষ্যে রাখে তিনটি।
প্রথমার্ধে মার্টিন জুবিমেন্দির দুর্দান্ত গোলই বিরতির সময় পার্থক্য গড়ে দেয়। বক্সের ঠিক বাইরে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের পাস পেয়ে জোরালো শট নেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। বলটি বাঁ দিকের পোস্টে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সান্ডারল্যান্ডই বেশি আক্রমণাত্মক ছিল। বিরতির পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তালবি শট নিয়ে আর্সেনালের গোলকিপার ডেভিড রায়াকে পরীক্ষা নেন। ছন্দটা ঠিক খুঁজে পাচ্ছিল না আর্সেনাল।
তবে মিকেল আর্তেতার আরেক অস্ত্র মাঠে নামাতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ৬০ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বদলি নামা গিওকেরেস মাঠে নামার ছয় মিনিট পরই বল জালে পাঠান। কাই হাভার্টজের পাস থেকে ব্যবধান ২-০ করেন সুইডিশ ফরোয়ার্ড। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।

ম্যাচ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে একটি বিবৃতি দেয় খেলোয়াড়রা। এরপর স্থগিত হয়ে যায় লা লিগার ম্যাচটি। রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে রিয়াল অভিয়েদোর এই ম্যাচ আর মাঠে গড়ায়নি।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবা এবং মৌলিক সরঞ্জামের অভাব ছিল। খেলোয়াড়রা দাবি করছেন, ‘তাদের স্বাস্থ্যের ও পারফরম্যান্সের সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে কাঠামোগত পেশাদারীকরণ জরুরি।’
রায়ো ভায়েকানোর ফুটবলারদের অভিযোগ, গত এক মাসে, ভায়েকাস স্টেডিয়ামের লনের অবস্থা বাজে ছিল। মাঠের অবস্থা ক্রমশ খারাপের দিকে যাওয়ায় স্পোর্টস সিটিতে অনুশীলন করতে হয়েছে তাদের। বিবৃতিতে তারা লিখেছে,
‘আমরা মনে করি, খেলার মাঠ সর্বোচ্চ স্তরের ম্যাচ খেলার জন্য ন্যূনতম শর্তও পূরণ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন ব্যবহৃত সুবিধাসমূহের ঘাটতিও যোগ হয়েছে, যেমন—কদিন শাওয়ারে গরম পানি নেই, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পর্যাপ্ত নয় এবং যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে তা প্রথম বিভাগের ক্লাবের পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে মিলছে না।’
ফুটবল স্পানা জানিয়েছে, এই বিবৃতি ভায়েকানো স্কোয়াডের পক্ষ থেকে, কোচিং স্টাফ এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সমিতির (এইএফ) সমর্থনে স্বাক্ষরিত।
এই ম্যাচে ভায়েকানোর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল অভিয়েদোও দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটি লিখেছে,
‘আজ ভায়েকাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়া রায়ো ভায়েকানো ও রিয়াল অভিয়েডো ম্যাচের আনুষ্ঠানিক স্থগিতের পর, রিয়াল অভিয়েডো নিম্নলিখিত তথ্য জানাচ্ছে: রায়ো ভায়েকানোর স্টাফ, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের প্রতি সংহতি এবং সহানুভূতি প্রকাশ করছে ক্লাব। যাদের অবস্থার তথ্য গতকাল স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড়দের সমিতির বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।’
একই সঙ্গে, রিয়াল অভিয়েদো স্বীকার করছে যে, কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের শারীরিক নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা পেশাদার ক্রীড়া ক্ষেত্রে যে কোনো পরিস্থিতিতে বজায় থাকা অপরিহার্য।
লা লিগায় অবনমন অঞ্চলে আছে রায়ো ভায়েকানো। ২২ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে অবস্থান করছে ক্লাবটি।

সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল লাল-সবুজের আলপি আক্তার। প্রতিযোগিতায় মোট ৭ গোল করে হয়েছেন সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। সেই সঙ্গে বয়সভিত্তিক এই সাফের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) প্রচারের আলোয় কেন নেই আলপি।
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে চার তিন গোল করেছিলেন আলপি। পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতে বাংলাদেশ। সে ম্যাচের ৪০তম মিনিটে আলপি গোল করেন। আর রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হওয়া লিগ পর্বের শেষ খেলায় নেপালের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জেতে পিটার বাটলারের দল। ওই ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রতীমা মুন্ডার গোলের পরের তিনটি গোলই করেন পঞ্চগড়ের কিশোরী আলপি।
আজ ফাইনাল শেষ বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন সাফের সভাপতি কাজী সালাহ উদ্দিন। অনুষ্ঠান শেষে আলপির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলপির প্রতিক্রিয়া না পাঠানোর দায় বর্তায় দলের সঙ্গে থাকা ডেপুটি মিডিয়া ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমির ওপর। আগের ম্যাচগুলোয় খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও ফাইনাল শেষে কোচ, অধিনায়ক, খেলোয়াড় কিংবা নেপালে থাকা নারী উইংয়ের প্রধানের প্রতিক্রিয়া নিতে পারেননি তিনি।
টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখানো আলপির পারফরম্যান্স তাই থেকে গেলো অনেকটাই আড়ালে। তাঁর গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুট জেতার দুটি ছবি শেয়ার হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ফেসবুক পেজে। কিন্তু আগের ম্যাচগুলোয় সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর তাদের প্রতিক্রিয়া (ভিডিও আকারে) দেওয়া হয়েছিল। ফাইনাল শেষে যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে ২০২৫-২৬ মৌসুমের নারী লিগের দুই রাউন্ড খেলা বাকি। রাজশাহী স্টার্সের হয়ে খেলছেন আলপি। সেখানে ৮ খেলায় সর্বোচ্চ ২৫ গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড। সেই ধারাবাহিকতা তিনি বজায় রেখেছেন নেপালেও।

দল নিয়ে বেশ কদিনই ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন। টটেনহ্যামের বোর্ড কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রাগ-ঢাক না রেখেই মনের ঝাল মেটান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। সেই রাগের বসেই কি না কে জানে, ক্যারেমিরোকে বাজেভাবেই ফাউল করে বসেন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। তাতে সরাসরি লাল কার্ড দিতে একটুও কাল-ক্ষেপণ করেননি রেফারি। সঙ্গে নিশ্চিত হলো রোমেরোর চার ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকা। আর রোমেরোর এমন দুঃস্বপ্নের ম্যাচে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁর দল টটেনহ্যামকে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আজ আরও একবার ‘রেড ডেভিলদের’ সুদিন ফেরানোর স্বপ্নের পালে জোর হাওয়া দিলেন মাইকেল ক্যারিক। ঘরের মাঠে তাঁর দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড টটেনহামকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। ব্রায়ান এমবুয়েমোর গোলের পর ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলটি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
দেড় বছর ডাগ-আউটে থেকে যেটা করতে পারেননি রুবেন আমোরিম, সেটা মাত্র ২১ দিনেই করে দেখালেন ইউনাইটেডের কাণ্ডারি হয়ে হাজির হওয়ার ক্যারিক। তাঁর কোচিংয়ে লিগে টানা চার জয় পেয়েছে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি। ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এর পর প্রথমবার লিগে টানা চার জয় দেখল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
পয়েন্ট টেবিলেও পড়েছে ম্যান ইউনাইটেডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ছাপ। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে তারা ব্যবধান কমিয়ে এনেছে ৯ পয়েন্টের। ২৫ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে ম্যান ইউনাইটেড।
নিজেদের মাঠে ম্যাচের ২৯ মিনিট থেকে একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা পাওয়া ইউনাইটেড সব পরিসংখ্যানেই টটেনহ্যাম থেকে ঢের এগিয়ে ছিল। ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে ২৩টি শট নেয় ক্যারিকের দল, লক্ষ্যে রাখে দশটি। বিপরীতে সাতটি শট নেওয়া টটেনহাম মাত্র একটি গোলমুখে রেখেছে।
২৯ মিনিটে ভয়াবহ ভুল করে দলকে বিপদে ফেলেন টটেনহাম ডিফেন্ডার রোমেরো। ক্যাসেমিরোকে ভয়াবহ ট্যাকল করে বসেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ডেও নাম উঠে যায় তাঁর। রোমেরো এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে চারটি রেড কার্ড পেয়েছেন। টটেনহামের কোনো খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি যৌথ সর্বোচ্চ। ক্লাবটির ইতিহাসে রোমেরোর সমান লাল কার্ড দেখেছেন শুধু ইউনেস কাবুল।
৯ মিনিট পরই ১০ জনের টটেনহামের জালে বল পাঠিয়ে ইউনাইটেডকে এগিয়ে নেন এমবুয়েমো। ব্রুনো ফার্নান্দেসের নেওয়া কর্নার রিসিভ করেন কোবি মাইনুর। ইংলিশ মিডফিল্ডার বল বাড়িয়ে দেন এমবুয়েমোর দিকে। তারপর ১৫ গজের দূর থেকে ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড সাইড-ফুটেড ফিনিশে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালের ডান দিকের নিচের কোণে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের পসরা সাজানো ইউনাইটেড ৮১ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে। দিয়োগো দালোতের ক্রস থেকে বল জালে পাঠান ব্রুনো ফার্নান্দেস। লিগে চলতি মৌসুম সাত গোলের সঙ্গে ১৩ অ্যাসিস্ট হলো পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের।
উড়তে থাকা ম্যান ইউনাইটেডের পরের ম্যাচ ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে। লিগে মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের মাঠে নামবে ‘রেড ডেভিলরা’।

শেষ পর্যন্ত রইল না আর কেউ। রিয়াল মাদ্রিদ হয়ে গেল একেবারেই নিঃসঙ্গ। আনুষ্ঠানিকভাবে বার্সেলোনা ঘোষণা করেছে সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে তারা।
২০২১ সালের এপ্রিলে ফুটবলবিশ্বে বোমা ফাটায় ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তোলপাড় সৃষ্টি করে ইউরোপের কুলীন ১২টি ক্লাব মিলে বিতর্কিত ইউরোপিয়ান সুপার লিগ নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছিল স্প্যানিশ জায়ান্টরা। সঙ্গে সঙ্গেই উয়েফা, ফিফা–সংশ্লিষ্ট সবাই এর নাম দিয়ে দেয় বিদ্রোহী লিগ। উয়েফা, ফিফা ও ক্লাব সমর্থকদের বিরোধিতার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে ৯টি ক্লাব সরে যায়। কিন্তু এই লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা করা মূল হোতা রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস ঠিকই এগিয়ে চলছিল। শেষ পর্যন্ত বাকি দুই সঙ্গীকেও হারাল ফ্লোরেন্তিনো প্যারেজ।
বার্সেলোনা তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লিখেছে, তারা আর সুপার লিগ নামক প্রতিযোগিতার অংশ হবে না। সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তাদের এই সিদ্ধান্তের অন্যান্য কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কাতালান ক্লাবটি লিখেছে,
‘বার্সেলোনা ইউরোপীয় ফুটবলের শান্তির পক্ষে। আমরা চাই সব ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা হোক এবং আমরা ইউয়েফার কাছে ফিরে যাব। এটিই সব ক্লাবের ইচ্ছা। আমরা এখানে এসেছি ভালো সঙ্গতি তৈরি করতে এবং এই সমঝোতায় পৌঁছাতে।’
প্রথমে বলা হয়েছিল, বার্সেলোনা সুপার লিগের পক্ষে ছিল কারণ এটি ক্লাবটির অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। তবে সম্প্রতি বার্সার সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা স্বীকার করেছেন যে, প্রকল্পের প্রতি সমর্থন ধসে যাওয়ার পর ক্লাব এখন ইউয়েফার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করবে।
FC Barcelona official statement
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে লাপোর্তা বলেছিলেন,
‘ইউয়েফার সভাপতি ও ইসি'এর (এখন ইএফসি) সভাপতি আমাদের রোমে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি কয়েকটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছি। এটি অসাধারণ ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল, এবং আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা সুপার লিগ এবং ইউয়েফার মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বার্সার অবস্থান স্পষ্ট, যারা প্রভাবিত এবং দায়ী তারা ইতোমধ্যেই জানে। আমরা শান্তির পক্ষে আছি, কারণ ক্লাবগুলোকে সুপার লিগ থেকে ইউয়েফাতে ফেরানোর সম্ভাবনা একসঙ্গে খতিয়ে দেখা সম্ভব।’
বার্সার এমন সিদ্ধান্ত রিয়ালের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়ার সাম্প্রতিক পদক্ষেপই বলা যায়। বার্সেলোনার ক্ষেত্রে ইউয়েফার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শক্ত করার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ নেগ্রেইরা মামলায় বার্সেলোনার শাস্তির পক্ষে আরও স্পষ্টভাবে মুখ খুলেছে, যেখানে কাতালান ক্লাবকে খেলাধুলার দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে লাপোর্তা দাবি করেন, নেগ্রেইরা মামলায় রিয়াল মাদ্রিদ শুধু বার্সেলোনার দিকে আঙুল তুলছে, কারণ তারা সুপার লিগে তাদের অবস্থানের কারণে। তাতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।