
সবার হিসাব মেলে, লিভারপুলের মেলছে না। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অ্যানফিল্ডের ক্লাবের অবস্থা ঠিক এমনই। ২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়নস লিগেও শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে পর্দাপন। তবে নতুন মৌসুমে পা রাখতেই সব এলোমেলো।
গত মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল চলতি আসরে প্রতিযোগীতা নেই। টেবিলের পঞ্চমে তাদের অবস্থান। আর চ্যাম্পিয়নস লিগে টেনে টুনে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে আর্নে স্লটের দল। এখানে এসেও নিস্তার নেই। কারণ তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি)।
পার্ক দ্য প্রিন্সেসে বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টার ম্যাচের আগে কথা বলেছেন স্লট। অল রেডসদের ডাচ কোচ স্লট স্বীকার করে নিয়েছেন, মৌসুমজুড়ে তার দলের পারফরম্যান্স তেমন একটা সুবিধা মতো নয়।
মঙ্গলবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি সত্য যে পুরো মৌসুমজুড়েই আমাদের পারফরম্যান্স আর ফলাফল বেশ ওঠানামার মধ্যে ছিল।’
দলের অবস্থা যেমনই হোক, স্লট মনে করেন, দুঃসময় এলেই ঠিকই জ্বলে ওঠে লিভারপুল। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর উত্তর লুকিয়ে আছে লিভারপুলের ইতিহাসেই। কঠিন সময়ে এই দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমরাও অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছি—কয়েকবার ঘুরে দাঁড়িয়েছি, আবার পড়ে গেছি।’
‘আমাদের আবার সেই মানসিকতাই দেখাতে হবে—হতাশার পর নিজেকে তুলে দাঁড় করানো এবং এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা।’- যোগ করেন স্লট।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্লট স্মরণ করিয়েছেন গালাতাসারায়ের ম্যাচের কথা। তিনি বলেন, ‘এই ক্লাব অতীতেও কঠিন মুহূর্তে অসাধারণ কিছু করে দেখিয়েছে। আমরা যদি এই ম্যাচটা অ্যানফিল্ডে নিতে পারি, যেমনটা গত মৌসুমে দেখেছি, এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও—গালাতাসারায়ের বিপক্ষে—সেটাই ছিল আমাদের মৌসুমের সেরা পারফরম্যান্স।’
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৮ পিএম

বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তামিম ইকবালকে প্রধান করে আজ নতুন ১১ সদস্যের এডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)।
এর আগে গত বছরের নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। গত রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। সেই প্রতিবেদনে নানা অনিয়ম প্রমানিত হওয়ায় আমিনুল ইসলাম বুল্বুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিসিবির নির্বাচন। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ বয়স ছয় মাস হওয়ার মধ্যেই বিলুপ্ত হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অবশ্য চরম বিরোধিতার মুখে পড়েন বুলবুল। অনিয়মের অভিযোগ এনে নির্বাচনের পরপরই বিসিবিকে বয়কট করেন অনেক ক্লাব কাউন্সিলররা। প্রথম বিভাগ লিগেও অংশ নেয়নি ৮টি দল। একই কারণে এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। বিদ্রোহী কাউন্সিলরদের দেয়া চিঠির ভিত্তিতে বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত করেছে এনএসসি। তদন্তের পর বিলুপ্তই করা হলো কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে আমিনুল এহসানের জানানো বিসিবি নির্বাচনের অনিয়মগুলো দেখে নিন একসঙ্গে।
১
৬.২ ক্যাটাগরি ১ থেকে অভিযোগ জেলা বা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে এসেছিল। অভিযোগের উৎস ছিল মিস্টার শরিফুল আলম এবং অন্যান্য সাবেক কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে। অভিযোগের তারিখ ছিল ১০ মার্চ ২০২৬।
কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগটি ছিল। কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ প্রথমে ১৭-০৯-২০২৫ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে ০১-০৯-২০২৫ এবং ০২-০৯-২০২৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেখা যায় বিসিবি প্রথমে ১৯-০৯-২০২৫ বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং পরে ২২-০৯-২০২৫ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে।
সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে—আমার এই কথাগুলো হচ্ছে তদন্ত কমিটির কথা—সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে যে এই সময়সীমা যথাযথ কারণ ছাড়াই এবং গোপন উদ্দেশ্যে বাড়ানো হয়েছিল যাতে পূর্বে মনোনীত কাউন্সিলরদের পরিবর্তন করে পছন্দসই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।
২
সংস্থাগুলোকে অ্যাডহক কমিটি থেকে পুনরায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্নভাবে জেলা সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করে। এছাড়া তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার এপিএস মিস্টার সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন যা বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস হোসনে আরা আফরোজা এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস ফরিদা খানমের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়। এটি স্থানীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মনে হলেও এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে চলমান মামলা থাকাতে কমিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
৩
নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ। জেলা বা বিভাগীয় সভাপতিদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে, বিশেষ করে এনএসসি কর্মকর্তারা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কমিটির মতে, এটি ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।
৪
অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন। অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। যদিও তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল। অ্যাডহক কমিটি বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কমিটি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
৫
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং একাধিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। ২৩-০৯-২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ৬টি জেলার ভোটার ছিল না, কিন্তু ২৬-০৯-২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকায় ওই ৬টি জেলার মধ্যে ৫টি জেলার ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৬
ক্যাটাগরি ১ এ প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ। কমিটি দেখতে পায় যে ০৮-০৯-২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা অ্যাডহক কমিটির গঠন পরিবর্তন করে ২ জন নতুন সদস্য যোগ করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ জনে দাঁড়ায়।
একই দিনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটিতেও ৪ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে ১১ জনে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে ১১-০৯-২০২৫ তারিখে রংপুর বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি ১১ সদস্য নিয়ে অনুমোদিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন হওয়ার কথা। অতএব কমিটির মতে আসন্ন বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সরকার এনএসসির মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাব খাটিয়েছে। যাতে তাদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন।
৭
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা মিস্টার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ। একাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি দেখতে পায় যে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্য পরিবর্তন, তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছেন। কমিটির মতে এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে। তবে দুঃখজনকভাবে তাদের প্রকৃত অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তারা কেউই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।
৮
ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি। কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কমিটি আরও লক্ষ্য করে যে সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কাউন্সিলররা মতামত দেন যে ই-ভোটিং পদ্ধতিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। পদ্ধতিটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
৯
নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান। কমিটি দেখতে পায় যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে ই-ভোট প্রদান করা হয়েছে এবং এতে ভোটের গোপনীয়তা রাখা হয়নি যা মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিসিবি সংবিধানের পরিপন্থী। আবার এদের অধিকাংশ ভোটারই ই-ভোটার শারীরিক ভোট গ্রহণের দিনেও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি ভোট প্রদানের সুযোগ থাকলেও রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ৫ তারিখ রাতে এক জায়গায় জড়ো হয়েই ই-ভোট দেওয়া হয় এবং এর প্রক্রিয়া কমিটির কাছে ভোট কারচুপি মনে হয়েছে।
১০
অ্যাডহক কমিটিতে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মিস্টার নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করতে অযৌক্তিক প্রভাব খাটানো। কমিটি দেখতে পায় যে ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসি কর্মকর্তাদের সহায়তায় গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিভাগ এবং ঢাকা জেলার অ্যাডহক কমিটিতে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং মিস্টার নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যাতে তারা কাউন্সিলর পদ নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে পারেন। এটি ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষপাত এবং প্রভাব প্রতিফলিত করে যারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং তাদের বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে সহায়তা করেছে। এটি গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহার।
১১
নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ। কমিটি দেখতে পায় যে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত বা স্বচ্ছ ছিল না। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
১২
বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রাপ্ত কমিটি দেখতে পায় যে এ তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
১৩
৬.৩ ক্যাটাগরি ২ মেট্রোপলিটন ক্লাব থেকে অভিযোগ। অভিযোগ সূত্র ৫৪টি মেট্রোপলিটন ক্লাবের সভাপতি, সেক্রেটারি এবং কাউন্সিলরগণ। অভিযোগের তারিখ ৯ মার্চ ২০২৬। নির্বাচনে কারচুপি। কমিটি দেখতে পায় যে মিস্টার আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে কারচুপি করা হয়েছে যা বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করেছে। ক্লাব কাউন্সিলরদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কমিটি আরও দেখেছে যে নির্বাচনের সময় হুমকি প্রদান ও বেআইনিভাবে জবরদস্তি করা হয়েছিল।
১৪
ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার। কমিটি দেখতে পায় যে কাউন্সিলরদের ই-ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং তাদের হোটেল শেরাটন বনানীতে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল যেখানে অংশীদার হচ্ছেন বিসিবির বর্তমান সহ-সভাপতি মিস্টার মোহাম্মদ সাখাওয়াত যিনি কিনা ওই হোটেলের একজন স্টেকহোল্ডার। কাউন্সিলরদের ভোট দিতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। কমিটি আরও দেখতে পায় যে ই-ভোটিং সিস্টেমটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৫
সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ। মিস্টার ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ২৩/০৯/২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত কাউন্সিলর তালিকা পেয়েছিল যদিও নির্ধারিত সময় ছিল ২২/০৯/২০২৫। তবে নির্বাচন কমিশন তালিকার সময়ের পরে জমা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেনি। অন্যদিকে বিসিবি সিইও মিস্টার নিজামুদ্দিন চৌধুরী তার লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে বোর্ডের অনুমোদনের পরে বিসিবি ২২/০৯/২০২৫ তারিখে কাউন্সিলর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। এছাড়াও এক সাক্ষাৎকারে মিস্টার ফাহিম সিনহা দাবি করেছেন যে কিছু পরিচালক মিস্টার ফারুক আহমেদের মনোনয়ন ফরম গ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। পুনরাবৃত্ত অনুরোধের পরেও কমিটি উক্ত সভার কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পায়নি। এই বিপরীত বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে এবং বিসিবি কমিটির মনে করে যে মিস্টার ফারুক আহমেদ একটি বেআইনি সুবিধা পেয়েছেন যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
১৬
পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান। কমিটি দেখতে পায় যে তৎকালীন স্পোর্টস অ্যাডভাইজারের অপছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ, ভোটার তালিকার আগাম প্রবেশাধিকার, বেআইনি প্রচারণা সহায়তা ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা। কমিটি দেখতে পায় যে ই-ভোটারদের নির্দিষ্ট স্থানে ভোট দিতে নির্দেশ করা সামাজিক যা ভোট প্রদানের গোপনীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে। ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা। কমিটি দেখতে পায় যে ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে যা স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মূলনীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এই কার্যক্রম ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
১৭
সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ। কমিটি দেখতে পায় যে সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
১৮
বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রাপ্ত কমিটি দেখতে পায় যে এ তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
ধারা ৩ থেকে অভিযোগ, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অন্যান্য। অভিযোগ সূত্র জনাব কাজী মোহাম্মদ ইউশা এবং অন্যান্য প্রাক্তন ক্রিকেটার বা কাউন্সিলরদের পক্ষে। অভিযোগের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
১৯
নমিনেশনের আগে বোর্ড সভা ডাকা হয়েছে কিনা। কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি বোর্ড অফ ডিরেক্টরসের ২১তম বৈঠকে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল এবং বোর্ডের পরিচালকরা জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজেই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে পারেন। তবে অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকরা তাদের বক্তব্যে এই দাবিটি অস্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিটি বিসিবি সিইও মিস্টার নিজামুদ্দিন চৌধুরীকে বোর্ড বৈঠকের অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে অনুরোধ করেছিল যা এখনো প্রদান করা হয়নি। এর বিপরীতে বিসিবি সিইও ০৪/০৪/২০২৬ তারিখে একটি ইমেইলের মাধ্যমে বোর্ড সভার অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহের জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন যা কমিটি অযৌক্তিক এবং অসহযোগী মনে করেছে। তাই কমিটি বিশ্বাস করে যে বিসিবি কমিটিকে অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয়। সুতরাং বোর্ড অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন।
২০
বিসিবি সভাপতি হিসেবে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছিলেন? জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিসিবি সভাপতি, জনাব নিজামুদ্দিন চৌধুরী বিসিবি সিইও এবং অন্যান্য পরিচালকরা বিসিবি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বিবৃতিতে সংঘর্ষপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। এছাড়াও কমিটি উক্ত বৈঠকের কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড পায়নি যদিও বিসিবি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। অতএব অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকদের বিবৃতির ভিত্তিতে কমিটি অনুমান করেছে যে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যথাযথভাবে অনুমোদিত ছিলেন না।
এছাড়াও বিসিবি সংবিধানের আর্টিকেল ৯.৩.৩ অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং বিসিবি সভাপতি হিসেবে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি সুস্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।
২১
মনোনয়নের নির্বাচন প্রভাব। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন করা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি ওই কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করেছেন এবং সম্ভাব্যভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন।
২২
প্রণালীগত অনুসন্ধান, সংবিধানগত অপ্রতুলতা। বিসিবি সংবিধানের অপ্রতুলতা প্রাপ্তি। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে বিসিবি সংবিধান মৌলিকভাবে যথেষ্ট নয় যাতে স্বাধীন, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়। সংবিধানের কাঠামোগত দুর্বলতা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যেখানে শনাক্তকৃত অনিয়মগুলো ঘটতে সুযোগ পেয়েছে।
২৩
বিসিবি নির্বাচন নিয়মের অসম্পূর্ণতা প্রাপ্তি। কমিটি দেখতে পেয়েছে যে বিসিবি নির্বাচন নিয়ম ২০২৫ অসম্পূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত। ই-ভোটিং, স্বাধীন তত্ত্বাবধান এবং গোপন ব্যালট গোপনীয়তার জন্য কোনো ধারা না থাকায় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে যা অপব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।

আরেকটি ট্রফিশূন্য মৌসুম এড়াতে রিয়াল মাদ্রিদকে পাড়ি দিতে হবে দূর্গম পথ। চোট আর ছন্দহীনতায় এমনিতেই ব্যাকফুটে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সেলোনার কাছে লিগ শিরোপা প্রায় হাতছাড়া হওয়ার পর এবার তাদের লড়াই চ্যাম্পিয়নস লিগে। আর ইউরোপ সেরা এই প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বিপদে পড়তে পারে রিয়াল। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে আজ স্প্যানিশ জায়ান্টদের ৬ ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখলেই নিষেধাজ্ঞার শাস্তির মুখে পড়বেন।
এই মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণভাগ এমনিতেই অধরাবাহিক। আলভারো আরবেলোয়ার দলের আক্রমণের দুই প্রাণভোমরা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও কিলিয়ান এমবাপে উভয়ই বায়ার্নের বিপক্ষে পরের লেগে দর্শক বনে যেতে পারেন।
এছাড়া জুড বেলিংহাম, আলভারো কারেরাস, ডিন হুইসেন ও অরেলিন শুয়োমেনিও নিষেধাজ্ঞার শাস্তি থেকে একটি কার্ড দূরে। রদ্রিগোও এই তালিকায় আছেন, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী চোটে তিনি খেলবেন না।
ইতিহাদে ম্যানচেস্টার সিটি বাধা টপকাতে রিয়ালের ত্রাদা হয়ে এসেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের নৈপুণ্যে আসে দুটি গোল। সম্প্রতি ছন্দহীনতায় থাকলেও বড় ম্যাচে এমবাপের উপস্থিতির গুরুত্ব ভালো করেই জানা আছে রিয়াল কোচের। এই বায়ার্নের বিপক্ষে সাত ম্যাচে তিনটি গোল ও এক অ্যাসিস্ট আছে ফরাসি ফরোয়ার্ডের। তাতে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে সতর্কই থাকতে হবে তাকে।
ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার রিয়াল-বায়ার্ন ম্যাচের দায়িত্বে। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে সাত ম্যাচে গড়ে ৪.৪টি হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি। এর মধ্যে পিএসভি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ম্যাচে সাতবার হলুদ কার্ড দেখাতে হয়েছে তাকে। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩.৫৬ ফাউল হয়েছে, যা প্রমাণ করে খেলোয়াড়দের কার্ড দিতে ‘প্রসিদ্ধই’ তিনি।
রিয়ালের সাম্প্রতিক ম্যাচে ক্যামাভিঙ্গা ও আর্দা গুলার-কে কার্ড দেখিয়েছিলেন রেফারি অলিভার। চ্যাম্পিয়নস লিগের যে ম্যাচে রিয়াল ৩-৪ ব্যবধানে অলিম্পিয়াকসের বিপক্ষে জয় পেয়েছিল। রিয়ালের জয়ে চার গোল এসেছিল এমবাপের সৌজন্যে।
মোট চারবার রিয়ালের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন অলিভার—চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুইবার এবং ২০২২ ইউইএফএ সুপার কাপ ফাইনালে একবার, যেখানে তিনি কোনো রিয়ালের খেলোয়াড়কে কার্ড দেখাননি।
তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কার্ড দেখানোর অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৮ সালে জুভেন্তাসের বিপক্ষে তিনি দানি কারভাহাল, মার্কেলো ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো-কে কার্ড দেখান। ২০২৩ সালে ব্রাগার বিপক্ষে এডুয়ার্দো ক্যামাভিঙ্গা ও নাচো-কে সতর্ক করেছিলেন।

কোয়াড্রপল জয়ের সুযোগ ছিল আর্সেনালের। টানা দুই ম্যাচে দুই ট্রফি খুইয়ে নিজেদের চিরচিত অভ্যাসই যেন দেখিয়ে দিল মিকেল আরতেতার দল। গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লিগ কাপে হারের পর রোববার সাউদাম্পটনের সঙ্গে হেরে এফএ কাপ থেকে বিদায়। ঘরোয়া কাপে হারের ক্ষত নিয়েই এবার ইউরোপীয় মঞ্চে ভাগ্য ফেরাতে পর্তুগাল পাড়ি দিচ্ছে আর্সেনাল।
এস্তাদিও হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হচ্ছে আর্সেনাল ও স্পোর্টিং লিসবন।
লিগ কাপ এবং এফএ কাপ হাঁতছাড়া হলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে চলতি মৌসুমে অপ্রতিরোধ্য আর্সেনাল। ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে একটি ম্যাচেও এবার হারেনি মিকেল আরতেতার দল।
আরও পড়ুন
| বড় জয়ে ফেডারেশন কাপের রেসে ফিরল বসুন্ধরা কিংস |
|
অবশ্য পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের মাঠে নকআউট পর্বে আর্সেনালের রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পর্তুগালে ইংলিশ ক্লাবটি এখন পর্যন্ত জয়ের দেখা পায়নি (৪ ড্র, ২ হার)। সবশেষ ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেষ ষোলোর ম্যাচে পোর্তোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আর্সেনালের জন্য কাজটা আরও কঠিন—কারণ চোটের কারণে এই ম্যাচে থাকছেন না বুকায়ো সাকা এবং জুরি এন টিম্বার। যদিও স্বস্তির খবরও আছে—গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়ায়েস, ডেকলান রাইস এবং লেয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড লিসবনে উড়াল দেওয়ার আগে অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন।
আর্সেনালের সেরা ‘অস্ত্র’ ভিক্টর গিওকেরেস। গত মৌসুমে স্পোর্টিংয়ের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড এবার ফিরছেন চেনা আঙিনায়, তবে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে। স্পোর্টিংয়ের হয়ে ১০২ ম্যাচে ৯৭ গোল করা গিওকেরেস ভালোভাবেই জানেন দলটির শক্তি ও দুর্বলতার জায়গা। আর্সেনালের আক্রমণভাগের মূল ভরসা এখন তিনিই।
নিজেদের মাঠে স্পোর্টিং রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য। হোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে টানা ১৭ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড নিয়ে তারা আর্সেনালকে আতিথ্য দেবে। এর আগে বোদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ৩ গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে রুই বোরগেসের দল।
আরও পড়ুন
| কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি আফঈদা-সাগরিকাদের সামনে |
|
যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে পর্তুগিজ ক্লাবগুলো ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত ৯টি কোয়ার্টার ফাইনাল লড়াইয়ের সবকটিতেই হেরেছে। তবে ২০২৩ সালে এই আর্সেনালকেই পেনাল্টিতে হারিয়ে ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছিল স্পোর্টিং।
বোদো/গ্লিমটের বিপক্ষে পঞ্চম হলুদ কার্ড দেখায় আজকের ম্যাচে স্পোর্টিংয়ের অধিনায়ক মর্টেন হিউলম্যান্ড খেলতে পারবেন না। এছাড়া চোটের কারণে জিওভানি কুয়েন্ডা ও লুইস গুইলহের্মেকে পাচ্ছে না পর্তুগিজ চ্যাম্পিয়নরা। স্পোর্টিংয়ের হয়ে লুইস সুয়ারেজ আর একটি গোল করলেই ক্লাবের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ইউরোপীয় গোলের রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে রক্ষণভাগ ফাঁকি দেওয়া প্রতিপক্ষ দলের জন্য বেশ কঠিনই। গানাররা প্রতি ম্যাচে গড়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ গোল হজম করেছে। বিপরীতে স্পোর্টিং এই আসরে নিজেদের মাঠে খেলা ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে। পর্তুগিজ কোনো ক্লাবের জন্য ১৯৯৯ সালের পর এটিই দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।

আক্রমণাত্মক শুরুর পর দ্রুতই গোলের দেখা পেল বসুন্ধরা কিংস। এরপর পুরো ম্যাচে সেই ধারা বজায় রেখেছেন রাকিব-ফাহিমরা। নিয়মিত বিরতিতে গোল দিয়ে শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে হারিয়েছে ফেডারেশন কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষা সৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের খেলায় আরামবাগকে ৫-০ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ফেডারেশন কাপে এর আগের দুই ম্যাচেই ড্র করেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে জয়ের দেখা পেল তারা। এই জয়ে তিন খেলায় ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দুইয়ে কিংস। সমান ম্যাচে এখনও জয়ের দেখা পায়নি তলানিতে থাকা আরামবাগ।
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে আজ জোড়া গোল করেছেন দোরিয়েলতন গোমেজ নাসিমেন্তো। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন রাকিব হোসেন, সোহেল রানা জুনিয়র ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। দুটি অ্যাসিস্ট করা ফাহিমের নামে হ্যাটট্রিক থাকতে পারত, তবে দুবার বল জালে জড়িয়েও অফসাইডে কাটা পড়েছেন জাতীয় দলের এই উইঙ্গার।
এদিন ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই ভালো সুযোগ আসে বসুন্ধরা কিংসের সামনে। আক্রমণে উঠে গোলপোস্টের কাছ থেকে ক্যাটব্যাক দেওয়ার জন্য অবশ্য কাউকে খুঁজে পাননি দোরিয়েলতন।
১৪ মিনিটে সোহেল রানার থ্রু পাসে আকাশে উড়িয়ে মারেন ফাহিম। এ সময় পরপর দুটি কর্নার আদায় করে নেয় কিংস। শেষটি থেকেই দোরিয়েলতন দলকে এগিয়ে দেন। কর্নার প্রতিহতের পর ফিরতি বলে সেই কর্নারের কাছ থেকে ক্রস দেন ফাহিম। অনেকটা লাফিয়ে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।
২২ মিনিটে ডান দিক থেকে রাকিবের ক্রস; আলতো টোকায় লিড দ্বিগুণ করেন গোলমুখের সামনে ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা ফাহিম। ৫ মিনিট পর আবারও রাকিবের দারুণ একটা নিচু ক্রস। তবে এবার সেটি কর্নার করে দেন আরামবাগের ডিফেন্ডার নিক্সন চাকমা।
আরও পড়ুন
| এবারই প্রথম নয়, ইউরোপের দলের বিপক্ষে আগেও খেলেছিল বাংলাদেশ |
|
৪১ মিনিটে সানডের পাস থেকে দোরিয়েলতন শট নিলে বল বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট পোস্ট ঘেঁষে। ওই মিনিটেই ফাহিমের দারুণ ক্রস খুঁজে পায়নি কাউকে। চার মিনিট পর হেডে জাল কাঁপান আরামবাগের জাহিদুল। গোলের উদযাপন করার আগেই অবশ্য ওড়ে অফসাইডের পতাকা। জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ার পর থেকে কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে খেলে আরামবাগ।
বিরতির পর ৫২ মিনিটে ইমানুয়েল সানডে আরামবাগের গোলকিপার আজাদের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে ঠেলে দেন। ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বসুন্ধরা কিংস। ৫৫ মিনিটে ফাহিমের আরও একটি নিচু ক্রসে দলকে এগিয়ে দেন দোরিয়েলতন।
৬৬ মিনিটে ফাহিমের শট ঠেকিয়ে দেন আরামবাগের গোলকিপার আজাদ। কিন্তু বল বিপদমুক্ত হয়নি। বক্সে জটলার মধ্য থেকে বটম কর্নার দিয়ে দলের স্কোরলাইন ৫-০ করেন সোহেল রানা জুনিয়র। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হ্যাটট্রিক হতে পারত দোরিয়েলতনের; কিন্তু দারুণ হেডেও গোল পাননি তিনি।
‘বি’ গ্রুপের দিনের অপর ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। টেবিল টপার থেকে পুলিশ এফসির বিপক্ষে মাঠে নামে ফর্টিস ফুটবল ক্লাব। যদিও তারা এগিয়ে গিয়ে ১-২ গোলে হেরেছে পুলিশের কাছে। এই জয়ে ৩ খেলায় এক জয় এক হারে টেবিলের শীর্ষস্থানে উঠেছে পুলিশ। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট পেয়ে তিনে নেমে গেছে ফর্টিস।

প্রথমবারের মতো ইউরোপে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তবে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ নয়। এর আগে ইউরোপের দুটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে।
২০০১ সালে তিন মহাদেশের ১৩ দল নিয়ে সাহারা কাপ আয়োজন করে ভারত। সেই টুর্নামেন্টে গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল বসনিয়া এন্ড হার্জেগোভিনা ও এফআর যুগোস্লাভিয়। দুটো দলই ইউরোপের। বসনিয়া তো এবার ইতালিকে বিদায় করে বিশ্বকাপেই জায়গা করে নেয়। ওই টুর্নামেন্টেই কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন আলমেদিন হোতা। বসনিয়ার হয়ে ২২ ম্যাচ খেলা এই মিডফিল্ডার এখনো অপেশাদার ফুটবল ও ফুটসাল খেলে যাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ হারে ৪-১ গোলে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ফিরোজ মাহমুদ। বাংলাদেশ এগিয়ে যায় তাঁর গোলে। যদিও পরে তা ধরে রাখতে পারেনি। যুগোস্লাভিয়া ২০০৩ সালে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো হিসেবে আবির্ভুত হয়। ২০০৬ সালে অবশ্য সার্বিয়া আর মন্টেনেগ্রো আলাদা দলে পরিণত হয়।
২৫ বছর পর বাংলাদেশ আবারও পেতে যাচ্ছে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে খেলার স্বাদ। তবে এবার ইউরোপের দলের বিপক্ষে ইউরোপের মাটিতেই খেলবেন হামজা-জামালরা। ১৯৮৭ সালে প্রথম ম্যাচ খেলা সান মারিনো এখন পর্যন্ত জয় পেয়েছে মাত্র ৩ ম্যাচে। তিনটিই লিখটেনস্টেইনের বিপক্ষে। যার দুটি ২০২৪ সালে। নেশনস লিগে প্রমোশন পেয়ে আগামী মৌসুমে তৃতীয় স্তরে খেলবে তারা। সম্প্রতি বিশ্বকাপে খেলা বসনিয়ার সঙ্গে কেবল ১-০ গোলে হেরেছে সান মারিনো। নিয়মিতই তারা খেলে ইউরোপের পরাশক্তি দলগুলোর বিপক্ষে।