১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৬ পিএম

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি টটেনহামের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর ম্যাচ শেষে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়েন রদ্রি। ম্যানচেস্টার সিটির অধিনায়ক রেফারি রবার্ট জোন্সকে নিয়ে করা মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) পরে এক বিবৃতিতে জানায়, তাঁর এই মন্তব্যের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই মন্তব্যের জন্য আচারণবিধি ভঙ্গের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় আছেন ব্যালন ডি’অর জয়ী স্প্যানিশ মিডফিল্ডার।
লন্ডনে চোটজর্জর টটেনহামের-এর মুখোমুখি হয়েছিল ম্যান সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে ২-০ গোলের লিড নিয়ে সহজ এক জয়ই দেখছিল পেপ গার্দিওলার দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে সময় নেয়নি স্বাগতিকরা। বিরতির আগে রায়ান শেরকি অ্যান্তনি সেমেনিওর গোলে এগিয়ে যাওয়া সিটি ৫৩ ও ৭০ মিনিটে গোল খেয়ে ড্র করে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের বিতর্কিত মুহূর্তটি আসে দ্বিতীয়ার্ধে। টটেনহ্যাম ফরোয়ার্ড ডমিনিচ সোলাঙ্কে সিটির ডিফেন্ডার আব্দুকাদির খুশানোভ এবং মার্ক গেহির ওপর চাপ সৃষ্টি করলে শেষ পর্যন্ত গেহির আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান হয়ে যায় ২-২। রদ্রির দাবি ছিল, গোলটি হওয়ার আগে সোলাঙ্কে সিটি ডিফেন্ডারের পায়ে লাথি মেরে ফাউল করেছিলেন, তবু গোলটি বৈধ ধরা হয়।
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রদ্রি বলেন,
‘আমরা হতাশ, কারণ এটা স্পষ্ট ফাউল ছিল—সে পায়ে লাথি মেরেছে। এসব ছোট বিষয়েও নজর দিতে হবে, নাহলে সবার জন্যই কঠিন হয়ে যাবে, কারণ এই লিগ ছোট ছোট পার্থক্যের ওপরই নির্ভর করে। আমরা অনেক জিতেছি বলে হয়তো অনেকেই আমাদের জিততে দেখতে চায় না, কিন্তু রেফারিকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এটা ন্যায্য নয়, কারণ আমরা অনেক পরিশ্রম করি। ম্যাচ শেষ হলে এমন সিদ্ধান্তে হতাশা থাকেই।’
Rodri crying on my tv and talking about fairness several years after city has been…yeah, you know 😂😉
— Declanmendi (@joe_samm1) February 1, 2026
I’ve waited for this moment for years and I’m loving it 😂😂
No Arsenal fan will pass without liking these tears. pic.twitter.com/nUTHsT8pS7
রেফারির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিতপূর্ণ এই মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে এফএ জানায়, ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করে ম্যাচ অফিসিয়ালের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে রদ্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা এফএ নিয়ম ৩.১-এর পরিপন্থী।
এফএ আরও জানায়, অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য রদ্রিকে আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে উত্তর জমা দিতে বলা হয়েছে। ঠিক কতদিনের জন্য নিষিদ্ধ হতে পারেন রদ্রি তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সিটি অধিনায়ক শাস্তি পেলে বড় ধাক্কাই খাবে তাঁর ক্লাব। লিগে বর্তমানে শীর্ষে থাকা আর্সেনাল থেকে মাত্র চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে সিটিজেনরা।
রদ্রি শেষ পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা পান কি না, বা পেলেও তার মেয়াদ কতদিন হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। যদিও খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে রেফারির পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেওয়ার নজির কম, তবে প্রিমিয়ার লিগে কোচদের এমন মন্তব্যের জন্য শাস্তি পাওয়ার উদাহরণ রয়েছে। ২০২৩ সালের মে’তে লিভারপুল কোচ ইয়র্গেন ক্লপ রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন।
No posts available.
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৫ পিএম
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:১২ পিএম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতিয়েছেন অনেক ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারই। তবে এই লিগের ইতিহাসে কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারই কখনো দু’বার মাসসেরা হতে পারেননি। রবার্তো ফিরমিনো, ফার্নান্দিনহো কিংবা কৌতিনহোর মতোর তারকা ফুটবলার যেটা করতে পারেননি সেটাই করে দেখালেন ইগর থিয়াগো। ব্রেন্টফোর্ডের এই ফরোয়ার্ড প্রথম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দু’বার মাসসেরার পুরষ্কার জিতলেন।
আজই বেন্টফোর্ডের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ বছরের চুক্তি নবায়ন করেন ইগর থিয়াগো। এই সুখবর দ্বিগুণ করে জানুয়ারি মাসের সেরা নির্বাচিত হন ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে মাসের সেরা ফুটবলারের পুরষ্কার জিতেছিলেন তিনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাজিলিয়ানদের মধ্যে একবার মাসসেরা হয়েছেন ডেভিড লুইজ, জুনিনহো পাউলিস্টা, রদ্রিগো মুনিজ, এডু ও লুকাস মাউরা। তাতে একমাত্র ফুটবলার হিসেবে একাধিকবার এই স্বীকৃতি পাওয়া ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হওয়ার মর্যাদা পেলেন থিয়াগো।
গত মাসে পাঁচটি গোল করেন থিয়াগো। এভার্টনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে জোর লড়াইয়ে আছেন থিয়াগো। ম্যান সিটির নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের ২২ গোলের বিপরীতে থিয়াগোর গোল সংখ্যা ১৭।
ব্রেন্টফোর্ডের হয়েও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন থিয়াগো। এর আগে লিগে ক্লাবটির কোনো ফুটবলারই মাসসেরা হতে পারেনি। অসাধারণ এই অর্জনের পর উচ্ছ্বসিত ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড বলেন,
‘আমি ক্লাবের লোকদের জিজ্ঞেস করেছি, আগে কতজন ব্রেন্টফোর্ড খেলোয়াড় এই পুরস্কার জিতেছেন। তারা বলেছে, আমার আগে কেউই এই ট্রফি পাননি। তাই আমি সত্যিই খুব খুশি যে এখন পর্যন্ত দুইবার এটি জিততে পেরেছি এবং আশা করি আরও জিতব।’
থিয়াগো আরও যোগ করেন,
‘আমি সব স্টাফ এবং সহকর্মী খেলোয়াড়দেরও ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং মাঠে সাহায্য করেছেন।’
এর আগে আরও একটি রেকর্ড গড়েছিলেন ইগর থিয়াগো। ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি।
জানুয়ারিতে প্রিমিয়ার লিগে মাসের সেরা গোল নির্বাচিত হয় ফুলহামের মিডফিল্ডার মিডফিল্ডার হ্যারিসন রিডের গোল। লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাল কাঁপিয়ে ২–২ গোলে ড্র নিশ্চিত করেন তিনি।
মাসের সেরা কোচের পুরষ্কার জিতেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ মাইকেল ক্যারিক। সুদিন ফেরানোর স্বপ্ন দেখানো এই কোচের অধীনে গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২–০ গোলে ডার্বি জিতেছে ‘রেড ডেভিলরা’। একই মাসে আর্সেনালের বিপক্ষে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ৩-২ গোলের জয় পায় ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি।

কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ৪–০ গোলে হারের পর শুধু মাঠের ফল নয়, বিতর্কের কেন্দ্রেও চলে এসেছে বার্সেলোনা। ম্যাচের একটি ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাফা ইউস্তে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিফেন্ডার পাউ কুবারসির একটি গোল বাতিল করা হয় ভিএআর যাচাইয়ের পর। বার্সার দাবি, সেই গোলটি থাকলে ম্যাচের গতি বদলে যেতে পারত। সিদ্ধান্ত ঘোষণায় দীর্ঘ সময় লাগা নিয়েও অসন্তোষ দেখা দেয় খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে।
ম্যাচ শেষে ইউস্তে সরাসরি বলেন,
‘আমি এটাকে লজ্জাজনক বলতেই চাই। একটা সিদ্ধান্তের জন্য আট মিনিট অপেক্ষা করা মেনে নেওয়া যায় না। সভাপতি হিসেবে বলছি, আমরা বিষয়টি এভাবে ছেড়ে দেব না এবং ব্যাখ্যা দাবি করব।’
ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, ড্রেসিংরুমেও একই ধরনের হতাশা কাজ করেছে। খেলোয়াড়দের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে রিভিউ চলা এবং পরিষ্কার ব্যাখ্যার অভাবে বিভ্রান্ত ছিলেন। ফলে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে এই সিদ্ধান্তই।
তবে হতাশার মাঝেও পরের লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়ছেন না ইউস্তে,
‘আমরা কঠিন ধাক্কা খেয়েছি। কিন্তু দ্বিতীয় লেগে স্টেডিয়াম ভরে দলকে সমর্থন দিলে এবং মনোবল বাড়ালে—কেন ভাবব না যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারি?’
দ্বিতীয় লেগে বড় ব্যবধানে জয় পেলেই কেবল ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বার্সেলোনার।

ভালো মন্দ মিলিয়ে তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে দারুণই খেলছিল বার্সেলোনা। চলতি মৌসুমে সব শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এখনো টিকে আছে কাতালান ক্লাবটি। তবে গতকাল রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ভরাডুবি বেশ বড় ধাক্কা দিয়েছে হান্সি ফ্লিকের ক্লাবকে। আর এমন অপ্রত্যাশিত হার নিয়ে শুরু হয়েছে কাঁটাছেঁড়াও। এরমধ্যে সবকিছু একপাশে রেখে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি বড় প্রশ্ন।
আতলেতিকোর মাঠে কোপা দেল রে’র ম্যাচে চোটের কারণে বার্সার আক্রমণভাগে অনুপস্থিত ছিলেন রাফিনিয়া। এ কারণেই কি তবে হেরেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা? অবশ্য শুধু একজন খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতির ওপর এমন হারের কারণ চাপিয়ে দেওয়া প্রথম দেখায় অতিসরল মনে হতে পারে। তবে পুরো মৌসুমের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি দেখলে বার্সার বারবার হোঁচট খাওয়ার পেছনে একটি স্পষ্ট ধারা চোখে পড়ে।
ছোট্ট একটি পরিসংখ্যান দেখা যাক, এই মৌসুমে বার্সেলোনার ছয়টি পরাজয়ের কোনোটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন না রাফিনিয়া। তাতে রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি যে বার্সার হোঁচটের কারণ, সেটা কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিনই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে চেলসির বিপক্ষে ০-৩ গোলে হারের ম্যাচে শেষ কয়েক মিনিটের জন্য মাঠে নামেন রাফিনিয়া। সদ্য চোট থেকে সেরে ওঠা ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার যখন বদলি হিসেবে নামেন, এরমধ্যেই ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল বার্সা। এ মৌসুমে বার্সার বাকি পাঁচটি পরাজয়ে তিনি একবারও খেলেননি।
রাফিনিয়া না থাকলে কী হয় বার্সার
চলতি মৌসুমে বার্সার ছয়টি হারের ম্যাচে রাফিনিয়ার শুরুর একাদশে অনুপস্থিতি স্পষ্ট করে দেয়—খেলার প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর এনে দেওয়া ইনটেনসিটি ও প্রেসিং দল কতটা মিস করে। বিশেষ করে বার্সার হাই-ডিফেন্সিভ কৌশলে এই ঘাটতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে।
ফ্লিক গতকালও এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রতিপক্ষ পেছন থেকে আক্রমণ গড়ার সময় দলের রক্ষণ লাইনের মধ্যে অতিরিক্ত ফাঁকা জায়গা এবং চাপের অভাব দেখা যায়। বার্সেলোনার হাই ডিফেন্সিভ লাইনের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডারদের ওপর, যারা প্রতিপক্ষকে সময় ও জায়গা কমিয়ে দেয় যাতে তারা লং পাস দিতে না পারে। সেই চাপ না থাকলে দল বিপজ্জনকভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে—মেট্রোপলিতানোতে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ।
এই ছয় ম্যাচের আরেকটি মিল হলো, প্রতিটি ম্যাচেই বার্সেলোনা অন্তত দুটি করে গোল হজম করেছে। পিএসজি (১-২), রিয়াল মাদ্রিদ (১-২) ও রিয়াল সোসিয়েদাদ (১-২) দু’বার করে বল জালে পাঠিয়েছে। আর সেভিয়া (১-৪), চেলসি ও আতলেতিকো মাদ্রিদের (০-৪) কাছে হারের ব্যবধার আরও বড়।
আতলেতিকোর বিপক্ষে ম্যাচে বার্সার প্রেসিং সিস্টেমে আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় পেদ্রি ছিলেন না। উইংয়ে হুমকি তৈরি করার জন্য মার্কার রাশফোর্ড-এর অনুপস্থিতিতে সেখানে খেলতে হয় দানি ওলমো-কে। ফলে কৌশলগত ভারসাম্যহীনতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাতে সব মিলিয়ে নিজেদের কৌশল বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়ে বার্সা। প্রতিপক্ষ যেন তাদের নিয়ে ছেলেখেলায় মেতে উঠেছিল।
পেশির চোটে পড়া রাফিনিয়া বার্সার পরের ম্যাচেও অনিশ্চিত। সোমবার লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে ম্যাচেও ২৯ বছর বয়সী উইঙ্গারের মাঠে না থাকা কী ভোগাবে বার্সাকে? নাকি রাফিনিয়া বিহীন দলের সমস্যাার কোনো সমাধান খুঁজে বের করবেন জার্মান কোচ ফ্লিক, সেটাই দেখার এখন।

কোপা দেল রের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে নিজেদের ইতিহাসের এক কালো রাত দেখল বার্সেলোনা। মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনীতে কাতালানদের ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ফলে ফাইনালের পথে এক পা নয়, কার্যত দুই পা-ই এগিয়ে রাখল দিয়েগো সিমিওনের দল।
১৯৫৩ সালের পর এই প্রথম কোনো অফিসিয়াল ম্যাচে প্রথমার্ধেই চার গোলে পিছিয়ে পড়ল বার্সেলোনা। সাত দশক আগে লা লিগায় তাদের বিপক্ষে এমন ঝড় তুলেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ইতিহাসের সেই দুঃস্বপ্ন যেন আবারও ফিরে এলো।
শুরুর বাঁশি থেকে শেষ পর্যন্ত ছন্নছাড়া ছিল বার্সেলোনা। আক্রমণে সমন্বয়হীনতা, মাঝমাঠে দূরত্ব, রক্ষণে অস্থিরতা—সব মিলিয়ে দলগত পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। ম্যাচ শেষে দায় এড়াননি কোচ হান্সি ফ্লিক।
ফ্লিক স্বীকার করেছেন, দল হিসেবে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ফুটবলারদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট, প্রেসিংয়ে ধার ছিল না। তবে এই হারকে তিনি শুধুই বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে ‘জেগে ওঠার ডাক’ বলেই মনে করছেন।
ফ্লিক বলেন, “আজ আমরা প্রথম মিনিট থেকেই ভালো খেলিনি। দলটি তরুণ, কিন্তু সেটা অজুহাত হতে পারে না। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কিছুটা ভালো করেছি। এই মানসিকতাই ধরে রাখতে হবে।”
চার গোলের ব্যবধান ঘোচানো সহজ নয়, সেটি জানেন ফ্লিকও। তবু আশার আলো খুঁজছেন দ্বিতীয় লেগে। কারণ পরের লড়াইটি হবে নিজেদের মাঠে।
বার্সা কোচ বলেন,
“আজকে প্রথম মিনিট থেকেই আমরা ভালো খেলিনি। দলটা এখনও অনেক তরুণ। তবে সেটা কোনো অজুহাত নয়। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেছি। এভাবে লড়াই চালিয়ে যাব। ৪৫ মিনিটের দুটি অর্ধ এখনও আমাদের সামনে আছে দুটি করে গোল করার জন্য।”
আগামী ৩ মার্চ দ্বিতীয় লেগ। হাতে সময় আছে ভুল শুধরে নেওয়ার। কিন্তু যদি ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তবে সেটা করতে হবে নিখুঁত দলগত ফুটবল দিয়ে—ইচ্ছাশক্তি নয়, কার্যকর বাস্তবতায়।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার রাতে হয়ে গেল ২০২৬-২৭ মৌসুমের ইউয়েফা নেশনস লিগের গ্রুপ পর্বের ড্র। ইউরোপীয় ফুটবলের এই প্রতিযোগিতার নতুন আসরে অংশ নিচ্ছে ৫৪টি দল। দলগুলোকে চারটি ভিন্ন লিগে-এ, বি, সি ও ডি-তে ভাগ করা হয়েছে।
লিগ ‘এ’ গ্রুপ এ১-কে এই আসরের 'গ্রুপ অব ডেথ' হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফুটবলের দুই পরাশক্তি এবং সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রান্স ও ইতালির সঙ্গে রয়েছে ডার্ক হর্স বেলজিয়াম ও তুরস্ক।
গত আসরে লিগ ‘এ’-তে উন্নীত হওয়া ইংল্যান্ড ও ওয়েলস দু’দলই এবার শীর্ষ পর্যায়ে খেলবে। ২০২৪ ইউরোয় স্পেনের কাছে রানার্স-আপ হওয়া ইংল্যান্ড এবার নেশনস লিগেও স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে।
‘লিগ এ’ গ্রুপ এ৩-তেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই গ্রুপে রয়েছে স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও চেক প্রজাতন্ত্র। গ্রুপ এ৪-তে লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালের সঙ্গে রয়েছে ওয়েলস, ডেনমার্ক, নরওয়ে।
লিগ ‘বি’-তে স্কটল্যান্ডের গ্রুপে রয়েছে সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও নর্থ মেসিডোনিয়া। একই লিগে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড খেলবে হাঙ্গেরি, ইউক্রেন ও জর্জিয়ার সঙ্গে। রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের গ্রুপে আছে ইসরায়েল, অস্ট্রিয়া ও কসোভো।
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে তারা। যদিও আগে উয়েফার কাছে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল।
নেশনস লিগের পঞ্চম আসর চলবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য দলের বিপক্ষে ঘরে ও বাইরে দুটি করে ম্যাচ খেলবে।
লিগ ‘এ’-এর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। অন্যদিকে লিগ ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়নরা উন্নীত হবে ওপরের লিগে। তলানিতে থাকা দলগুলো অবনমন হবে।
জিব্রাল্টার ও লাটভিয়া এবং লুক্সেমবার্গ ও মাল্টা মার্চ মাসে প্লে-অফ খেলবে। এই ম্যাচগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কোন দল লিগ ‘সি’-তে এবং কোন দল লিগ ‘ডি’-তে খেলবে।
উয়েফা নেশনস লিগ ২০২৬–২৭ ড্র
লিগ ‘এ’
গ্রুপ এ১:
ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়াম, তুরস্ক
গ্রুপ এ২:
জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, সার্বিয়া, গ্রিস
গ্রুপ এ৩:
স্পেন, ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র
গ্রুপ এ৪:
পর্তুগাল, ডেনমার্ক, নরওয়ে, ওয়েলস
লিগ ‘বি’
গ্রুপ বি১:
স্কটল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া
গ্রুপ বি২:
হাঙ্গেরি, ইউক্রেন, জর্জিয়া, উত্তর আয়ারল্যান্ড
গ্রুপ বি৩:
ইসরায়েল, অস্ট্রিয়া, আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র, কসোভো
গ্রুপ বি৪:
পোল্যান্ড, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, রোমানিয়া, সুইডেন
লিগ ‘সি’
গ্রুপ সি১:
আলবেনিয়া, ফিনল্যান্ড, বেলারুশ, সান মারিনো
গ্রুপ সি২:
মন্টেনেগ্রো, আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস, জিব্রাল্টার / লাটভিয়া*
গ্রুপ সি৩:
কাজাখস্তান, স্লোভাকিয়া, ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জ, মোলদোভা
গ্রুপ সি৪:
আইসল্যান্ড, বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, লুক্সেমবার্গ / মাল্টা*
লিগ ‘ডি’
গ্রুপ ডি১:
জিব্রাল্টার / লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ / মাল্টা, আন্দোরা
গ্রুপ ডি২:
লিথুয়ানিয়া, আজারবাইজান, লিচেনস্টাইন