
ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসের মাথাব্যথার বড় কারণ এখন অবনমন ঠেকানো। সেরি’আতে ধুঁকতে থাকা ক্লাবটি আছে পয়েন্ট টেবিলের শেষের দিকে। এর মধ্যে দলের সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার আছেন চোটে। ঘরের ছেলেকে তেমন একটা মাঠেই পায়নি সান্তোস। নেইমারের সঙ্গে নাকি এখন চুক্তিও নবায়ন করতে খুব একটা আগ্রহী নয় ব্রাজিলের ক্লাবটি।
জানুয়ারিতে আল হিলাল থেকে সান্তোসে যোগ দেওয়ার সময় নেইমারের প্রত্যাবর্তনকে যেন এক রূপকথার গল্পে রাজপুত্রের ঘরে ফেরা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল। ব্যাপক উৎসহ আর উদযাপনের মধ্য দিয়েই দ্বিতীয় দফায় সান্তোসে ফিরেন নেইমার। স্বাভাবিকভাবেই সাবেক বার্সেলোনা তারকার কাছ থেকে ক্লাবটির আশাও ছিল আকাশছোঁয়া। তবে সে আশায় গুঁড়েবালি হয়, যখন একের পর এক চোট নেইমারকে ছিটকে দেয়।
ইএসপিএনের খবর অনুযায়ী, সান্তোসের পরিচালনা পর্ষদ এখনই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করতে আগ্রহী নয়। নেইমারের শারীরিক অবস্থা এবং তাঁর বিপুল বেতনের আর্থিক চাপ নিয়ে ক্লাবটির মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হবে নেইমারের বর্তমান চুক্তি। পূর্ণাঙ্গ অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আলোচনা স্থগিত থাকবে।
চোটের আঘাতে বিপর্যস্ত নেইমার এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র ২১ ম্যাচ খেলেছেন। ৬ গোলের সঙ্গে তিন গোলে সহায়তা করেছেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। সবশেষ গত ১৯ সেপ্টেম্বর ডান উরুর পেশিতে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে আছেন।
সান্তোস কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, আলোচনায় বিরতি দিলেও দুই পক্ষের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তাদের মতে, নেইমারকে আগে সম্পূর্ণ ফিট হতে হবে, তারপরই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ফেরা সম্ভব।
সবকিছু ঠিক থাকলে নভেম্বরে মাঠে ফিরতে পারেন নেইমার। মৌসুম শেষ হওয়ার আগে নিজের গুরুত্ব প্রমাণের শেষ সুযোগ পেতে পারেন তিনি।
অবশ্য সান্তোসের জন্য নেইমারের বেতন এখন এক বড় বোঝায় পরিণত হয়েছে। বছর শুরুর দিকে যখন সাম্বা তারকা দারুণ ছন্দে ছিলেন, তখন ক্লাবটি গর্বের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তি নবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিক চোট ও অনিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে এখন ক্লাবের অগ্রাধিকার বদলে গেছে।
নেইমারের মতো উচ্চ বেতনের খেলোয়াড় রাখা কতটা যৌক্তিক সেটা নিয়েও আলোচনা করছে সান্তোস। দক্ষিণ আমেরিকায় নেইমারের বেতন অন্যতম সর্বোচ্চ। যদিও নেইমারের ফেরাটা বাণিজ্যিক দিক থেকে ক্লাবকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। জার্সি বিক্রি বেড়েছে, দর্শক উপস্থিতির সঙ্গে ক্লাবটির বৈশ্বিক আকর্ষণও বেড়েছে।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না চেলসির। সবশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটি হেরেছে তারা, জয় স্রেফ একটি। এর মাঝে আর্থিক লোকসানের খবরও জানাল তারা। ইংলিশ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি লোকসানের রেকর্ড করেছে পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটি।
এক বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ মৌসুমে কর দেওয়ার আগে তাদের লোকসানের পরিমাণ ২৬ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার ২৯১ কোটি টাকার বেশি। ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে এক মৌসুমে এটিই সর্বোচ্চ লোকসানের রেকর্ড।
এর আগে ২০১১ সালে ১৯ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড লোকসানের ঘোষণা দিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এর বাইরে আরও দুই মৌসুমে ১৫ কোটি পাউন্ডের বেশি লোকসান করেছে চেলসি- ২০২৩ সালে ১৫ কোটি ৫৯ লাখ পাউন্ড ও ২০২১ সালে ১৫ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড।
আরও পড়ুন
| রোনান-মানিকদের নিয়ে গর্বিত কোচ কক্স |
|
অথচ ২০২৪-২৫ মৌসুমে ইউয়েফা কনফারেন্স লিগ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছে চেলসি। প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেছে ৪ নম্বরে থেকে যার সৌজন্যে ৪৯ কোটি ৯ লাখ পাউন্ড রাজস্ব আয় করেছে চেলসি। তবু লোকসানের অঙ্ক রেকর্ড গড়েছে তারা।
২০২২ সালে ব্লুকো চেলসির মালিকানা কিনে নেওয়ার পর ক্লাবে খেলোয়াড় আনা বাবদ ১০০ কোটির বেশি পাউন্ড খরচ হয়েছে। যা দিয়ে অনেক তরুণ ফুটবলারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হয়েছে।
এছাড়া চলতি মৌসুমের শুরুতে দল গঠনে খরচের অনুপাত ঠিক না রাখায় চেলসিকে ২ কোটি ৬৭ লাখ পাউন্ড জরিমানা করেছিল ইউয়েফা।

গ্রুপ পর্বে তুমুল লড়াইয়ের পর এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। নিজ নিজ সেমি-ফাইনাল ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট কেটেছে প্রতিবেশী দেশ দুইটি।
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ-ভারত।
একই মাঠে বুধবার বিকেলে নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। পরে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনাল ম্যাচে ভুটানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
আরও পড়ুন
| রোনান-মানিকদের নিয়ে গর্বিত কোচ কক্স |
|
ফাইনালের আগে গ্রুপেও মুখোমুখি হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে জেতেনি কেউ। ১-১ গোলে ড্র হয় ওই ম্যাচ।
এবার চতুর্থবারের মতো বয়সভিত্তিক সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই দল। এর আগে ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৮, ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ও ২০২৫ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।
এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের ক্যাটাগরিতে সাতবার হয়েছে বয়সসভিত্তিক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এর মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, দুইবার নেপাল। আর ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ের টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
প্রায় তিন বছর পর আবারও অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় শিরোপার খোঁজে ভারতকে হারাতে হবে তাদের।

মোহাম্মদ মানিকের একমাত্র গোলে নেপালকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের রাজধানী মালে’তে বুধবার প্রতিযোগিতার প্রথম সেমি-ফাইনালে গত আসরের রানার্সআপদের হারাল লাল-সবুজ দল।
কোচ মার্ক কক্সের অধীনে বয়সভিত্তিক ফুটবলে আরও একটি সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। একমাসের চুক্তিতে যোগ দেওয়া ব্রিটিশ কোচ তার শিষ্যদের সাফল্যে বেশি উচ্ছ্বসিত।
সেমিফাইনাল পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, নেপালের বিপক্ষে তার শিষ্যরা বেশ ভালোই পারফরম্যান্স করেছে। তবে হাপিত্যেশের বিষয়টি এড়িয়ে যাননি তিনি।
কক্স বলেন,
‘এটা সত্যিই কঠিন ম্যাচ ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা দারুণভাবে শুরু করেছিল। প্রথমার্ধেই আমরা ম্যাচ শেষ করে দিতে পারতাম। অনেক সুযোগ পেয়েছিলাম, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। সেট পিস থেকে একটি গোল করতে পেরেছি। কিন্তু ওপেন প্লেতে আরও অনেক সুযোগ ছিল, সেগুলো কাজে লাগেনি।’
প্রথমার্ধের ফল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেপাল বেশ চাপে রাখে বাংলাদেশকে। কোচ বলেন,
‘দ্বিতীয়ার্ধে নেপাল ভালো শুরু করে। প্রথম ১০-১৫ মিনিট তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা দারুণ মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে এবং জয় তুলে নিয়েছে। ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত।’
দায়িত্বপ্রাপ্তির পর থেকেই একটি বিষয় বেশ ভালোভাবেই মেনে চলেন কক্স। ব্রিটিশ কোচের প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য—খেলোয়াড়দের মাঠে স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। আর এতে শতভাগ সাফল্য পাচ্ছেন বলেন জানান তিনি।
কক্স বলেন,
‘ছেলেদের আমি তাদের মতো করেই খেলতে দিই। এটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। আমরা আগেও অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে শিরোপা জিতেছিলাম। ঢাকায় প্রস্তুতি শুরুর সময় থেকেই এটি আমাদের লক্ষ্য ছিল। এখন ছেলেদের বিশ্রাম নিতে হবে এবং ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
মালেতে আজ ম্যাচের পুরোসময় বাংলাদেশের সমর্থকরা সাহস জুগিয়েছেন রোনান সুলিভানদের। বিষয়টি বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন কক্স।
বাংলাদেশ কোচ বলেন,
‘প্রথম ম্যাচ থেকেই আমরা বাংলাদেশের স্থানীয় সমর্থকদের সমর্থন পাচ্ছি। তারা অনেক দিন ধরে এখানে কাজ করছেন। তাদের মাঠে এসে আমাদের সমর্থন করা সত্যিই দারুণ অনুভূতি দেয়। মনে হয় যেন নিজের মাঠেই খেলছি। তাদের জন্য আমরা গর্বিত।’

এএফসি অনূর্ধ্ব–২০ নারী ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানেই হেরেছে বাংলাদেশ।
পাথুম থানির থামাসাত স্টেডিয়ামে থাইল্যান্ডের বুকে ভালোই কাঁপন ধরিয়েছেন দেশের মেয়েরা। ২-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন ম্যাচটি হয়তো অর্পিতা বিশ্বাসদেরই হতে যাচ্ছে। তবে জোড়া পেনাল্টি হজম এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে ধুঁকেছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন সে কথা। তবে তার বিশ্বাস এই ম্যাচ থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা প্রথম ম্যাচ শুরু করেছি। আমরা ফার্স্ট আপে ভালো করার চেষ্টা করেছি এবং ভালো খেলেছি এবং লাস্ট ফিনিশিং ভালো করতে পারিনি। এটা আমাদের শেখার জায়গা। এখান থেকে শিখছি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ভালো করবো। ইনশাল্লাহ।’
৩৬ মিনিটে প্রথম গোল আদায়ের পর ৫০ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের হয়ে জোড়া গোল করেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। তবে পরপর দুটি পেনাল্টিতে আশা নিরাশায় পরিণত হয় বাংলাদেশের।
অর্পিতা বলেন,
‘আমরা ম্যাচটা লিড নিয়ে নিয়েছিলাম। পরে যখন একটা পেনাল্টি হলো, তখন আমাদের প্লেয়াররা একটু ভেঙে পড়ে। সেকেন্ডটাও পেনাল্টি হইছে। ওভারঅল আমরা গেম খেলে আমরা গোল করছি এবং অপোনেন্ট তারা দুইটা পেনাল্টিতে গোল করেছে। যেহেতু আমরা ফাস্ট ম্যাচ শুরু করেছি এখান থেকে আমরা যে ভুলগুলা করেছি নেক্সট ম্যাচগুলাতে আমরা সেই ভুলগুলা শোধরানোর চেষ্টা করব এবং চেষ্টা করব সেই ম্যাচগুললাতে ভালো করার।’
গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ শনিবার মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার ২০০৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চীনের। ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করেছে তারা।

তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ ফুটবল নতুন জীবন পেয়েছে। ধুকতে থাকা বাংলাদেশের ফুটবল আবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে হামজা চৌধুরীর আগমনেই। লাল-সবুজদের ফুটবলে সুদিন ফেরাতে স্বাক্ষাৎ দূত হয়েই যেন হাজির হন লেস্টার সিটির মিডফিল্ডার। একটা সময় খাঁ খাঁ করা গ্যালারিতে ফিরেছে প্রাণ। এখন দেশ কিংবা ঘরের বাইরে যেখানেই বাংলাদেশের খেলা হোক না কেন, একটি টিকিটের জন্য রীতিমতো হাহাকার শুরু হয়ে যায় সমর্থকদের মধ্যে। আর এই ‘ফুটবল পাগলদের’ বিশ্বের সেরা বলতে বিন্দু পরিমাণ দ্বিধাও করেননি হামজা।
বাংলাদেশের সঙ্গে হামজা চৌধুরীরর পথচলার বয়স বছরে রূপ নিয়েছে। গত বছরের ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিকই। জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের এই ম্যাচেই প্রথম বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চড়িয়েছিলেন হামজা। দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। পেছন ফিরে তাকালে ঠিক কী দেখেন লেস্টারের এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার?
এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর হামজার কাছে জানতে চাওয়া হয় বাংলাদেশের সঙ্গে এক বছরের যাত্রার অভিজ্ঞতা। অনেক কথার সঙ্গে হামজার মুখে ঝরে পড়ল বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের বন্দনা। সিঙ্গাপুরের ডেরাতেও বাংলাদেশের গগনবিদারী চিৎকার ঠিকেই চোখে পড়েছে হামজার।
দর্শক, টুর্নামেন্টের আবহ আর তাদের তৈরি করা শব্দ—সব মিলিয়ে বোঝাই কঠিন ছিল যে এটা অ্যাওয়ে ম্যাচ। এমন দর্শকের মাঝে, অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেও কেমন লাগে হামজার? ইএসপিএনের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে হামজা বলেন,
“দারুণ একটা অনুভূতি, সত্যি বলতে অসাধারণ। আমি একটু আগেই বলছিলাম, আমার মতে এরা বিশ্বের সেরা সমর্থক। এত দূর ভ্রমণ করে, নিজের কষ্টের টাকা খরচ করে এখানে এসে আমাদের খেলা দেখা—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।’
এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগেই বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল। মূলপর্বে যাওয়ার আশা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সমর্থকদের এমন সমর্থনের সঙ্গে কিছুর তুলনা খুঁজে পান না হামজা,
‘আমরা এখনো যোগ্যতা অর্জন করতে পারিনি, তবুও তাদের জন্য এটা যেন এক ধরনের উৎসব, যেভাবে তারা এত সংখ্যায় এসে সমর্থন দিচ্ছে—এর তুলনা হয় না। আমরা তাদের প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞ, আশা করি তারা এমনভাবেই আমাদের পাশে থাকবে।’