
সিলেট টাইটান্সের ১৭৩/৫ -এর জবাবে ঢাকা ক্যাপিটালসের ১৬৭/৮। শেষ পাওয়ার প্লে'র ৩০ বলে সিলেটের ৭৪ রানের জবাবে ঢাকা ক্যাপিটালসের ৬২। সিলেটে এমন পয়সা উশুল হওয়া ম্যাচ দেখেছে দর্শক।
লড়াইটা হয়েছে শেষ পাওয়ার প্লে-তে, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ভার্সেস শামীম পাটোয়ারীর মধ্যে। ২৫ বলে ৫ চার, ৩ ছক্কায় আজমতউল্লাহ ওমরজাই-এর ফিফটির জবাবে শামীম পাটোয়ারী ৩২ বলে ৫ চার, ১ ছক্কায় করেছেন ফিফটি। তবে ৪৩ বলে ৯ চার, ৩ ছক্কায় ৮১ রানের হার না মানা ইনিংসের পরেও শেষ লড়াইয়ে হেরেছেন শামীম পাটোয়ারী। ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৬ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় রাজশাহীর সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে উঠে এলো সিলেট টাইটান্স (৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট)।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আইএল টি-টোয়েন্টি খেলে সিলেটে যোগ দিয়েই আফগান পেস অলরাউন্ডার করেছেন বাজিমাত। পেস বোলার হিসেবেই তাঁকে সবাই চেনেন। আন্তর্জাতিক টি-২০-তে ১টি ফিফটি থাকলেও ফ্রাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টিতে ছিল না তাঁর কোনো ফিফটি। সেই আজমতউল্লাহ ওমরজাই-ই বৃহস্পতিবার তুলেছেন ব্যাটে ঝড়!
২০২১ থেকে বিপিএলে নিয়মিত আজমতউল্লাহ ওমরজাই সিলেটের উইকেট সম্পর্কেও ভাল ধারণা আছে। দলের প্রয়োজনে শুধু বোলিংই নয়, ব্যাটিংও অবদান রাখতে পারেন, সেই আত্মবিশ্বাসও আছে এই আফগানের। অবিচ্ছন্ন ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে ব্রুকসকে সঙ্গে নিয়ে ২৫ বলে ৫১ রানের যে পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেখানে ৫০ রান-ই আজমউল্লাহ ওমরজাইয়ের!
ইনিংসের শেষ বলে তাসকিনকে বাউন্ডারি শটে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেছেন ওমরজাই। ১৯তম ওভারে পর পর ৪ বলে মেরেছেন ২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কা!
শুধু ব্যাটিংই নয়, ওমরজাইয়ের বোলিংও (৪-০-৪০-৩) গড়ে দিয়েছে ব্যবধান। দ্বিতীয় স্পেলে (২-০-২২-১) খরুচে বোলিং করলেও ১৭তম ওভারে সাইফউদ্দিনকে ফিরিয়ে দিয়ে ঢাকাকে চাপে ফেলে দিয়েছেন। পাকিস্তানি বাঁ হাতি পেসার মোহাম্মদ আমিরও (৪-০-৩০-২) এদিন সিলেটকে দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান।
১৭৪ রানের জবাব দিতে নেমে এক পর্যায়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের স্কোর যখন ৪৩/৫, তখন আশা ছেড়ে দেয়ারই কথা। সেখান থেকে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে সাব্বির রহমানকে নিয়ে ৩১ বলে ৪৬, অবিচ্ছিন্ন ৯ম উইকেট জুটিতে তাসকিনকে নিয়ে ২২ বলে৫১ রানে ম্যাচটা জমিয়ে তুলেছিলেন শামীম পাটোয়ারী।
শেষ ১৮ বলে ৪৯ রান যোগ করতে পেরেছে ঢাকা ক্যাপিটালস তার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের কারনেই। শেষ ওভারে ২৭ রানের দুরূহ চ্যালেঞ্জটা পর্যন্ত নিতে চেয়েছেন শামীম। মোহাম্মদ আমিরকে ওই ওভারে ৩ চার, ১ ছক্কা পর্যন্ত মেরেছেন। রিভার্স সুইপে বাঁ হাতি পেসার আমিরকে ছক্কা মারার দুঃসাহস পর্যন্ত পেয়েছেন শামীম পাটোয়ারী। তবে ম্লান হয়েছে তার ১৮৮.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৪৩ বলে ৮১ রানের হার না মানা ইনিংস।
২ দিনের বিরতি পেয়ে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচ হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত। পিচের উপর সবুজ ঘাসের স্তর বোলার-ব্যাটারদের করেছে উৎসাহিত। সিলেটের ১৪ চার, ৬ ছক্কার জবাবে ঢাকার ব্যাটাররা মেরেছে ১৪ চার, ৭ ছক্কা। তবে ব্যবধানটা তৈরি করেছে ডট বল। সিলেটের ইনিংসে ডট বলের সংখ্যা যেখানে ৩৭টি, সেখানে ঢাকার ব্যাটাররা করেছে ৪৯টি ডট। এই ১২টি বেশি ডট বলই গড়ে দিয়েছে ব্যবধান।
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপ। যা মাঠে গড়াবে ২০২৬ সালে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা এতটাই থাকে যে অন্য খেলা অনেকটা আড়ালেই থাকে। এই বছরে বাংলাদেশ ফুটবলে ব্যস্ত সূচিতে পার করবেন ঋতুপর্ণা চাকমারা। আবার জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীদের আন্তর্জাতিক সূচিতে ম্যাচ কম। ঘরের মাঠে তো নেই বললেই চলে।
বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যস্ততা। নারী ও পুরুষ দল একসঙ্গে থাইল্যান্ড যাবে সাফ ফুটসাল খেলতে। ওই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হবে আজ বিকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে। এবারের সাফ নারী ফুটসালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর পর নারী দল ফিরছে এই প্রতিযোগিতায়।
আগামী পহেলা মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে নারী এশিয়ান কাপের আসর। প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওই টুর্নামেন্টে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে হতে চলা নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে সুযোগ রয়েছে ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে খেলারও।
সিনিয়র দলের এশিয়ান কাপ খেলার পরের মাসেই এপ্রিলে থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ খেলবে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এশিয়ান কাপের এই প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশ প্রথমবার অংশ নিচ্ছে। যেখানে শীর্ষ চারের মধ্যে থাকতে পারলে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকবে লাল সবুজের মেয়েদের।
নারী সিনিয়র সাফে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বসেছিল সাফের আসর। আরেকটি আসর বসবে ২০২৬ সালে। এই টুর্নামেন্টের স্বাগতিক হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়।
আরও পড়ুন
| দুই দিন বিরতির পর নারী ফুটবল লিগে আজ তিন ম্যাচ |
|
২০২৬ সালে ঋতুপর্ণাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আসর এশিয়ান গেমস। এই গেমসে পুরুষ ফুটবল দল মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের। আর ২৩ বছর বয়সের বেশি তিনজন ফুটবলার খেলতে পারবেন মূল একাদশে। এই গেমসের নারী ফুটবলে অবশ্য সিনিয়র জাতীয় দলই খেলে থাকে। নিজেদের মেলে ধরতে এশিয়ান গেমস ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের জন্য একটি ভালো মঞ্চ।
২০২৬ সালে পুরুষ ফুটবলে ব্যস্ততা কিছুটা কম। চলমান এএফসি এশিয়ান কাপে আরও একটি করে ম্যাচ বাকি আছে দলগুলোর। আগামী ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে হামজা-জামালরা লড়বেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে।
এর আগে ১০ জুন হোম ম্যাচে জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেও হারে বাংলাদেশ। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটি জিতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষটা ভালো করতে চাইবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ওই ম্যাচের আগে হোমে কিংবা অ্যাওয়ে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলানোর চেষ্টায় রয়েছে বাফুফে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন শেষে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবলের তেমন নির্ধারিত সূচি নেই। বিশ্বকাপের আগে জুনে ফিফা উইন্ডো রয়েছে। বিশ্বকাপ জোয়ারে এই উইন্ডোতে অনেক দেশই খেলতে চায় না। নারী সাফের মতো পুরুষ সাফও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পুরুষ সাফ ফুটবল ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাফের পরিকল্পনা ছিল জুন উইন্ডোতে করার, কিন্তু সেই সময় বিশ্বকাপ ফুটবল থাকায় সেটা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে গিয়ে ঠেকেছে।
সিনিয়র দল ছাড়াও নারী এবং পুরুষ উভয় বয়সভিত্তিক দলের সাফ এবং এএফসির একাধিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও চলবে নানা টুর্নামেন্ট। এক যুগ পর কোটি টাকার সুপার কাপ আবার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এই বছরের শুরুতেই।
বছরের জুন-জুলাইয়ে হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ গেমস। ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে হবে এই আসর। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। ফলে অন্য ডিসিপ্লিনের মতো গেমসে অংশ নিতে পারে বাংলাদেশর পুরুষ ও নারী ফুটবল দল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে দেশ। যে কারণে স্থগিত ছিল এবারের নারী ফুটবল লিগের ম্যাচ। ২৯ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর দু’দিন মাঠে গড়ায়নি প্রতিযোগিতা। আজ থেকে আবার ফিরছে এক মাসের এই টুর্নামেন্ট। নতুন সূচি অনুযায়ী পিছিয়ে দেওয়া গত মঙ্গলবারের ম্যাচগুলো হবে আজ। লিগের সবগুলো ম্যাচ হচ্ছে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে।
দিনের প্রথম খেলায় বিকেল সাড়ে ৩টায় আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাবের প্রতিপক্ষ সদ্য পুস্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় জামালপুরের কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থার মুখোমুখি হবে সিরাজ স্মৃতি সংঘ। দিনের শেষ ম্যাচটি গড়াবে রাত ৮টায়। ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে মোকাবিলা করবে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। এই দলের হয়ে খেলছেন তহুরা খাতুন, দুই শামসুন্নাহার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দারা। এছাড়া দুজন নেপালি ফুটবলারও আছে ফরাশগঞ্জে।
দেড় বছর পর ফিফার অর্থায়নে হওয়া নারী লিগ মাঠে গড়ানোর প্রথম দিনেই সমালোচনায় জর্জরিত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তেমন প্রচারণা ছিল না। দলবদলের জন্যও খুব একটা সময় পায়নি অংশগ্রহণকারী দলগুলো। একটি অনুশীলন সেশন ভরসা নিয়ে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব। তারকাসমৃদ্ধ দল গড়া রাজশাহী স্টারসও পুরোদমে অনুশীলনে নামার সুযোগ পায়নি।
২০২০ সাল থেকে নারী লীগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে রংপুরের সদ্য পুস্করিনি যুব স্পোর্টিং ক্লাব। লিগে অভিষেক হওয়ার পাঁচ বছরেও ক্লাবটি তেমন সাফল্যের ছোঁয়া পায়নি। এবারও গড়পড়তা দল গড়েছে তারা। এই দল নিয়েই আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে পরীক্ষায় নামবে দলটি। আনসার দলেও নেই কোনো চমক। বয়সভিত্তিক ও জেলা দলের নারী ফুটবলারদের নিয়ে খেলবে তারা।
একই অবস্থায় কাচারিপাড়া ও সিরাজ স্মৃতি সংঘ দলের। এই দুই ম্যাচের বিপরীতে রাতের ম্যাচটি ঘিরেই সমর্থকদের খানিক উন্মাদনা থাকবে। এই ম্যাচে ফরাজগঞ্জের হয়ে খেলবেন জাতীয় দলের একাধিক তারকা।

ফুটবলে কোচিংয়ের জগতে তিনি পরিচিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ নামে। কোচিং ক্যারিয়ারে বহু সাফল্যের অধিকারী জোসে মরিনহো নিজেই ঘোষণা করেছিলেন এই নাম। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই কোচ কিন্তু শিষ্যদের কাছে পরিচিত বেশ কড়া ‘হেড মাস্টার’ হিসেবেও।
প্রায়ই বিতর্কিত কথা বলে আলোচনায় আসা এই পর্তুগিজ কোচ মরিনহো একবার নাকি বেশ শাসিয়ে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। মরিনহোর বকাঝকার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পর্তুগিজ মহাতারকা নাকি কেঁদেই দেন। রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন এমন ঘটনার বর্ণনাই দিলেন রোনালদোর সাবেক সতীর্থ লুকা মড্রিচ।
রিয়াল মাদ্রিদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে এসি মিলানে যোগ দেওয়া মড্রিচ ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিযারের স্মৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। একটা সময় উঠে আসে সাবেক সতীর্থ মরিনহোর প্রসঙ্গ।
মরিনহোর বকুনিতে রোনালদোর কান্নার ওই ঘটনা নিয়ে মড্রিচ বলেন, ‘আমি দেখেছি কিভাবে মরিনহো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে লকাররুমে কাঁদিয়ে ছাড়েন¬—এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঠে সবকিছু উজাড় করে দেন। কারণ একবার সে প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে ধাওয়া করতে ব্যর্থ হয়েছিল।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বছরে আরও যত ক্রীড়া উৎসব |
|
অবশ্য কড়া শিক্ষক হলেও মরিনহো যে দারুণ একজন কোচ সেটা মনে করিয়ে দিলেন মড্রিচ। পোর্তো ও ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই কোচের পরামর্শেই মড্রিচকে দলে ভেড়ায় রিয়াল। এরপর তো দীর্ঘ এক যুগ কাটিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার। মড্রিচ বলেন, ‘একজন কোচ এবং একজন মানুষ হিসেবে তিনি দারুণ। আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে দেখতে চাওয়া একজন ছিলেন তিনি।মরিনহো ছাড়া আমি কখনোও সেখানে পৌঁছাতাম না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমি তাকে মাত্র এক মৌসুম পেয়েছি।’
৪০ বছর বয়সী রোনালদো খেলছেন এখন আল নাসরে। পর্তুাগালের এই মহাতারকা মরিনহোর অধীনে মাদ্রিদে তিন বছর (২০১০–২০১৩) ছিলেন। মরিনহোর বকায় রোনালদোর কেঁদে দেওয়ার ঘটনা ২০১৫ সালে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর জীবনীতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগুর তার লেখা বইয়ে।
৬২ বছর বয়সী মরিনহো তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচের দায়িত্ব ছেড়ে গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। ক্যারিয়ারে এফসি পোর্তো, চেলসি, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এ.এস. রোমার হয়ে মোট ২৬টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। এছাড়া ১৭ মাস টটেনহ্যাম হটস্পারের কোচও ছিলেন।
কোচিং ক্যারিয়ারে প্রায়ই দলের অনেক ফুটবলারের সঙ্গে মরিনহোর রেষারেষির খবর শোন যেত। ঠোঁট কাটা স্বভাবের এই কোচ সবসময় যা বলার সরাসরি মুখের ওপরই বলে দিতেন। সাবেক গুরুর এই গুণের সঙ্গে এসি মিলানের বর্তমান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির মিল খুঁজে পান মড্রিচ, ‘মরিনহো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব সরাসরি কথা বলেন, তবে সততার সঙ্গে। তিনি সার্জিও রামোস কিংবা ক্লাবে নতুন যোগ দেওয়া খেলোয়াড়—উভয়ের সঙ্গেই একই ব্যবহার করতেন, যা বলার প্রয়োজন, তা সরাসরি বলতেন। আলেগ্রিওও একই রকম: তিনি কী ঠিক, কী ভুল তা মুখোমুখি বলে দেন। সততা হলো মূল ভিত্তি।’

মন খারাপ করা খবরে বছরের শুরু হলো ব্রাজিলের। রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস হৃদ্রোগজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার।
হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষার পর রবার্তো কার্লোসের পুরো শরীরের এমআরআই স্ক্যান করা হয়। যেখানে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়ে। তারপরই ৫২ বছর বয়সী এই সাবেক ডিফেন্ডারের জরুরি অস্ত্রোপচার করানো হয় এবং শরীরে একটি টিউব স্থাপন করা হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও-আস’এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ মিনিটে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও জটিলতার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বছরে আরও যত ক্রীড়া উৎসব |
|
অস্ত্রোপচারের পর রোবের্তো কার্লোসের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে সতর্কতামূলকভাবে তাঁকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নিজের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কার্লোস বলেছেন, ‘আমি এখন ভালো আছি।’
এর আগে জানা যায়, সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচি শেষে নিজ দেশ ব্রাজিলে ফেরার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরসহ টানা ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁর শরীরে সমস্যা ধরা পড়ে। শুরুতে পায়ে ছোট একটি রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানেই পরবর্তী পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা শনাক্ত হয়, যার ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক রবার্তো কার্লোস। শক্তিশালী বাঁ পায়ের জন্য পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই নিয়মিত সেট-পিসের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত টুর্নোয়া দে ফ্রান্সের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকটি আজও ফুটবল ইতিহাসের বিস্ময়কর গোল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন কার্লোস। সেই ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হয়। চার বছর পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে তিনি ফিরে আসেন আরও দৃঢ হয়ে। সেই আসরে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিল দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরে দুইয়ে থাকা কিংবদন্তি রবার্তো।

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফুটবল বিশ্বকাপের বছর ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব। তবে খেলাধূলা প্রেমীদের জন্য বছরজুড়েই থাকছে ক্রীড়া বিভিন্ন বিভাগের বৈশ্বিক মহারণ। বছরটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও। এছাড়া প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপ। শীতকালীন অলিম্পিক গেমস, প্যারা অলিম্পিক গেমস, রাগবি লিগ বিশ্বকাপসহ নানান আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করবে বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্রীড়াবিদরা।
ক্রীড়া বর্ষপঞ্জি ২০২৬
জানুয়ারি
২৬ ডিসেম্বর-২৩ জানুয়ারি: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)
৪-৯: অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, অ্যাশেজ, পঞ্চম টেস্ট
৮-১২: পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সফর, তিন টি-টোয়েন্টি
১১-৩১: নিউজিল্যান্ডের ভারত সফর, ৫ টি-টোয়েন্টি, দুই ওয়ানডে
১২ জানুয়ারি-১ ফেব্রুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
১৫ জানুয়ারি-৬ ফেব্রুয়ারি: অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
২২ জানুয়ারি-৩ ফেব্রুয়ারি: ইংল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে
ফেব্রুয়ারি
৬-২২: শীতকালীন অলিম্পিক
৭-৮ মার্চ: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ
৬–২২ ফেব্রুয়ারি: শীতকালীন অলিম্পিক গেমস
মার্চ
১-২১: নারী এশিয়ান কাপ (ফুটবল)
৬–১৫ : শীতকালীন প্যারালিম্পিক গেমস
১৫-২৫: দক্ষিণ আফ্রিকার নিউজিল্যান্ড সফর, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি
২০–২২ : বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ
২৬-৩১: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)
২৬-৩১ : বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইপর্ব প্লে-অফ
এপ্রিল
১০: ফেডারেশন কাপ ফাইনাল (ফুটবল)
১১ এপ্রিল–১৭ মে : নারী সিক্স নেশনস রাগবি
মে
১৬: এফএ কাপ ফাইনাল (ফুটবল)
২৪ মে-৭ জুন: ফ্রেঞ্চ ওপেন
৩০: উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল
২০ : ইউরোপা লিগ ফাইনাল
জুন
১১ জুন-১৯ জুলাই: ফিফা বিশ্বকাপ
১২ জুন-৫ জুলাই: নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
২৯ জুন-১২ জুলাই: উইম্বলডন
জুলাই
২৩ জুলাই-২ আগস্ট: কমনওয়েলথ গেমস
আগস্ট
৬-১৭: সিনসিনাতি ওপেন
১৪-৩০: ছেলেদের বিশ্বকাপ (হকি)
১৯ আগস্ট-৯ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর, তিনটি টেস্ট
২২: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-১৭ মৌসুম শুরু
৩১ আগস্ট-১৩ সেপ্টেম্বর: ইউএস ওপেন
সেপ্টেম্বর
১১-১৩ : ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপ
১৫-২৭: শ্রীলঙ্কার ইংল্যান্ড সফর, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি
১৯ সেপ্টেম্বর-৪ অক্টোবর: এশিয়ান গেমস
অক্টোবর
১১: ফর্মুলা ওয়ান, সিঙ্গাপুর গ্রাঁ প্রিঁ
১৫ অক্টোবর–১৫ নভেম্বর : রাগবি লিগ বিশ্বকাপ
৩১ অক্টোবর-১৩ নভেম্বর: যুব অলিম্পিক
নভেম্বর
১৩: ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (অ্যাথলেটিক্স)
৭-১৪ : ডব্লুটিএ ফাইনালস (টেনিস)
ডিসেম্বর
৩-২০: ইউরোপিয়ান নারী চ্যাম্পিয়নশিপ (হ্যান্ডবল)
৬: ফর্মুলা ওয়ান, আবুধাবী গ্রাঁ প্রিঁ