
স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম কেলেঙ্কারি ‘নেগ্রেইরা কেস’। বার্সেলোনার বিরুদ্ধে রেফারিকে অর্থ প্রদান করে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করার এই মামলার তদন্ত চলছে এখনো। মামলাটিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলির মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাতালান ক্লাবটি। এবার রেফারিকে টাকা দেওয়ার কেলেঙ্কারির এই মামলায় লা লিগার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার তেভাসকে পাশে পেল বার্সা। বার্সেলোনা কখনোই কোনো ম্যাচ প্রভাবিত করার জন্য রেফারিদের অর্থ প্রদান করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
নেগ্রেইরা মামলাটি বর্তমানে আদালতে তদন্তাধীন। ২০০১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বার্সেলোনা রেফারিদের টেকনিক্যাল কমিটির (সিটিএ) সাবেক উপ-সভাপতি জোসে মারিয়া এনরিকেজ নেগ্রেইরা-কে অর্থ প্রদান করেছিল। স্প্যানিশ ক্লাবটি দাবি করে আসছে, এই অর্থ ছিল রেফারিদের সম্পর্কিত টেকনিক্যাল রিপোর্ট এবং খেলোয়াড়দের স্কাউটিং রিপোর্টের জন্য। ম্যাচের ফল পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়ে অর্থ প্রদানের কোনো প্রমাণ নেই দাবি তাদের।
এবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেভাস বলেন,
‘আমরা আইনশৃঙ্খলা দ্বারা শাসিত একটি দেশে বাস করি, নিয়ম নিয়মই। আমরা রিয়াল মাদ্রিদের কাছে নয়, প্রথমেই পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিসে গিয়েছিলাম, আমরা সবসময় আইন অনুযায়ী কাজ করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘তারপর আছে ক্রীড়া আইন সংক্রান্ত বিষয়, যা আমি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখিনি, যেখানে বলা হয় তিন বছরের মামলার সময়সীমা আছে। আমি চাইব এই ধরনের অপরাধের জন্য অনেক দীর্ঘ সময়সীমা থাকা উচিত।’
সাক্ষাৎকারে লা লিগার প্রেসিডেন্ট পুনরায় উল্লেখ করেন যে, ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কখনোই ম্যাচ প্রভাবিত করার জন্য রেফারিদের অর্থ প্রদান করেনি। বার্সেলোনাকে রেফারিকে টাকা দেওয়ার অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিয়ে তিনি বলেন,
‘কিন্তু এটাও স্পষ্ট যে বার্সেলোনা রেফারিদের অর্থ প্রদান করেনি, যেমনটা সরল দৃষ্টিতেই বোঝা যায়।’
বার্সেলোনা নেগ্রেইরাকে ‘কিছু না কিছু’ অর্থ প্রদান করেছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তখন তেবাস বলেন,
‘এটি আপনি আমাকে বলছেন, কারণ আমরা মামলার সাথে জড়িত এবং আমরা বলেছি এই ধরনের আচরণকে স্পোর্টিং শাস্তির আওতায় আনা উচিত। কিন্তু ফৌজদারি দায়িত্ব আলাদা ব্যাপার। আর যেটা বলা হচ্ছে যে রেফারিদের ঘুষ দেওয়া হচ্ছিল, এবং পাম্প্লোনায় যদি ভিনিসিয়াসকে পেনাল্টি না দেওয়া হতো, তা নেগ্রেইরার দোষ—যেমনটা ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ বলেছেন সদস্যদের সভায়, যদি আমি ভুল না করি… আমি এতে একেবারেই অসম্মতি জানাই, কারণ এটা সত্য নয়।’
No posts available.
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৭ পিএম
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুত ওজিলদের বহনকারী গাড়ির বহর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া কুতুপালং এলাকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ওজিলদের বহরে থাকা একটি গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়া মোটরচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং চালক আহত হন। আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
উখিয়ার শাহপুরী হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন,
‘রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফেরার পথে মেসুত ওজিল ও নেকমেতিন বিলাল এরদোয়ানের গাড়ির বহরটি ভিআইপি প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎ একটি মোটরচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান ওজিল। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান এবং জেলা পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান। পরে তাঁরা কক্সবাজারে অবস্থিত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
বালুখালী আশ্রয়শিবিরের রোহিঙ্গা নেতা কামাল আহমদ জানান, ওজিলের সঙ্গে আজ তাঁরা ইফতার করেছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের পছন্দের ইফতারির মধ্যে ছিল ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, বেগুনি ও লেবুর শরবত।

ব্রাজিলের নারী ফুটবল তারকা ও সৌদি ক্লাব আল-নাসরের অধিনায়ক ক্যাথলিন সৌজা সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ক্লাবের পক্ষ থেকে আজ এক টুইট বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্লাব আল-নাসর তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছে,
“আমরা আমাদের খেলোয়াড় ক্যাথলিন সৌজার জীবনের বিশেষ মুহূর্তটি সকলের সঙ্গে ভাগ করছি। আমরা প্রার্থনা করি—ঈশ্বর তাঁকে স্থির বিশ্বাস দিন এবং হৃদয় শান্তি ও স্নিগ্ধতায় পূর্ণ করুন।”
ভিডিওটিতে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক এই ফুটবলার আবেগের এক গভীর মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেছিলেন,
“আমি শুধু সঠিক পথ খুঁজছিলাম এবং নিজের একটি উন্নত সংস্করণ গ্রহণ করতে চেয়েছিলাম।”
ক্যাথলিন একজন সেন্টার ব্যাক, যিনি সৌদি নারী প্রিমিয়ার লিগের আল-নাসর ক্লাবের অধিনায়ক এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের সদস্য। তিনি বেইক্সাদা সান্তিস্টায় বড় হয়েছেন। ছোটবেলায় ফুতসালে শুরু করেন, পরে মার্কিন কলেজ সিস্টেমে সুযোগ পান—মোনরো কলেজ, লুইসভিল কার্ডিনালস ও ইউসিএফ নাইটসের সঙ্গে খেলেছেন।
পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন এফসি জিরঁডিনস দ্য বোর্দো-তে, পরে খেলেছেন ইন্টার মিলান এবং রিয়াল মাদ্রিদ-এ। ২০২৪ সালে যোগ দেন আল-নাসর ক্লাবে এবং বর্তমানে সেই ক্লাবের হয়ে খেলছেন।
ব্রাজিল সিনিয়র দলের হয়ে তাঁর অভিষেক ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপে নিয়মিত স্টার্টার হন। বিশেষ করে রাউন্ড অফ ১৬-এ ফ্রান্সের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে—সেই ম্যাচে তিনি ছিলেন মাঠের সবচেয়ে কম বয়সী ব্রাজিলিয়ান।

চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে হওয়া বর্ণবাদী ঘটনার সব প্রমাণ ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউয়েফার কাছে পাঠাল রিয়াল মাদ্রিদ। পর্তুগিজ ক্লাবটির ফুটবল জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে বর্ণবাদের এই অভিযোগ তদন্ত করছে ইউয়েফা।
রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে আজ জানিয়েছে,
‘রিয়াল মাদ্রিদ আজই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা-কে চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৭ ফেব্রুয়ারি লিসবনে বেনফিকার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটনার সম্পর্কিত সমস্ত প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আমাদের ক্লাব ইউরোপীয় সংস্থার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে, যেহেতু ম্যাচে বর্ণবাদের যে অগ্রহণযোগ্য ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্ত চালানো হচ্ছে।’
স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাব আরও লিখেছে,
‘ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আমাদের খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বের ফুটবল সম্প্রদায়ের সমস্ত জায়গা থেকে যে সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ রিয়াল মাদ্রিদ ভবিষ্যতেও সব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে মিলিতভাবে কাজ করবে, যেন খেলাধুলা এবং সমাজে বর্ণবাদ, সহিংসতা ও ঘৃণা নির্মূল করা যায়।’
বর্ণবাদের এই ঘটনায় নিয়ে মুখ খুলেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এক বিবৃতিতে ফিফা সভাপতি জানান, এই ঘটনায় তিনি ‘স্তম্ভিত ও মর্মাহত’। এক বিবৃতিতে ফিফা প্রেসিডেন্ট বলেন,
‘উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর যে বর্ণবাদী আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে, তা দেখে আমি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। আমাদের খেলাধুলা কিংবা সমাজে বর্ণবাদের কোনো স্থান নেই। সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে অফে বেনফিকার বিপক্ষে একমাত্র গোলটি আসে ভিনির নৈপুণ্যে। গোল করার পর ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের উদযাপনের পরই বর্ণবাদের ঘটনা ঘটে। বর্ণবাদের ঘটনার নিয়ম অনুযায়ী ক্রস চিহ্ন দেখিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ রাখেন রেফারি। তবে পুরো ম্যাচ শেষ করেন ভিনি।
ম্যাচের পর ভিনিসিউস তার ইনস্টাগ্রামে লেখেন,
‘বর্ণবাদীরা মূলত কাপুরুষ। তারা কতটা দুর্বল তা দেখানোর জন্য তাদের শার্ট মুখে দেবে। কিন্তু তারা এমন লোকদের সুরক্ষা পেয়েছে যারা মূলত শাস্তি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা উচিত। আজ যা ঘটেছে তা আমার বা আমার পরিবারের জীবনে নতুন কিছু নয়। আমি গোল উদযাপনের জন্য হলুদ কার্ড পেয়েছি। এখনো বুঝতে পারছি না কেন। অন্যদিকে, শুধুই ভুলভাবে প্রয়োগ করা একটি প্রটোকল, যা কোনো কাজে আসে নি।’
অবশ্য বর্ণবাদের পুরো ঘটনাকে ‘মিথ্যা’ বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। আর্জেন্টাইন উইঙ্গারের বলছেন ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর নয় বরং ভাই’ বলেছিলেন তিনি।

এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলতে রাতে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এই প্রতিযোগিতায় খেলবেন লাল সবুজের মেয়েরা। যেখানে দারুণ কিছু করতে তাদেরকে পরীক্ষা দিতে হবে উত্তর কোরিয়া, চীন ও উজবেকিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে। যেখানে এই প্রতিযোগিতায় ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীন; উত্তর কোরিয়াও শিরোপা জিতেছে তিনবার। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪৯ নম্বরে থাকা উজবেবিকাস্তানও বাংলাদেশের (১১২) সামনে বড় বাধা। তবু আশাবাদী বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক জানালেন, ভালো কিছুর স্বপ্নই দেখছেন তারা। যদিও ভালো কিছু করার আগে সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি তারা কতটুকু নিতে পেরেছেন মোট দাগে সেই প্রশ্ন থাকছেই।
গত বছরের জুলাইয়ে মিয়ানমারে এশিয়ান কাপে নাম লেখায় বাংলাদেশ। এরপর ৭ মাসের বেশি সময় কেটে গেছে। বাংলাদেশ দল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে স্রেফ চারটি। যার মধ্যে থাইল্যান্ডে হওয়া দুই ম্যাচের একটিকে হিসেবে রাখছেন না অনেকে। স্বয়ং থাইল্যান্ডও সেই ম্যাচ নিয়ে সে সময় কোনো প্রচারণা করেনি। ফিফা প্রীতি ম্যাচ হিসেবে তারা প্রচারণা চালায় দ্বিতীয় ম্যাচটি নিয়ে।
অক্টোবরের থাইল্যান্ডে ২৪ আর ২৭ তারিখের দুটি ম্যাচেই হারে বাংলাদেশ। পরের মাসে ঘরের মাঠে আজারবাইজান ও মালয়েশিয়াকে নিয়ে তিন জাতি টুর্নামেন্ট খেলে বাংলাদেশ। দুটি ম্যাচেই হারেন আফঈদারা। এরপর আর ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ পায়নি পিটার বাটলারের দল।
এশিয়ান কাপ সামনে রেখে কখনও মালয়েশিয়ায়, কখনও থাইল্যান্ড, জাপানে ক্যাম্প ও প্রস্তুতি নেওয়ার কথা শুনিয়েছিল বাফুফে। কিন্তু কোনো আয়োজনই শেষ পর্যন্ত দেখেনি আলোর মুখ। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে সেখানেই শুরু হবে ক্যাম্প। ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করবে তারা।
প্রস্তুতির কমতির প্রশ্নে অকপট স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বাফুফের নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ। চেষ্টার ত্রুটি রাখেননি বলেও দাবি তার,
‘আমি হতাশ বলব না, তবে আরও বেশি, আরও ভালো ট্রেনিং হলে দল আরও শক্তিশালী হতে পারত। ওই লেভেল থেকে যদি মেয়েদের বাইরে রেখে ট্রেনিং করাতে পারতাম, আরও কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলাতে পারতাম, তাহলে আমার তৃপ্তিটা আরও বেশি থাকত। এখন ওই তৃপ্তিটা অবশ্যই নেই। এ জায়গাতে ঘাটতি থেকে গেল।’
ঘাটতি নিয়ে এখন আর হতাশ হতে চান না আফঈদা। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগে সবার খেলার মধ্যে থাকাটা ইতিবাচক হিসেবে নিচ্ছেন নারী সাফ জয়ী অধিনায়ক। গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তানকে ঘিরেই যে মূল পরিকল্পনা, সেটাও বুঝিয়ে দিলেন তিনি,
‘আপনারা জানেন যে, আমরা কয়েকদিন আগে নারী লিগ শেষ করেছি। তারপরে যে কয়দিন সময় পেয়েছি, আমরা কোচের কাছে প্র্যাকটিস করেছি। কোচ আমাদেরকে দেখাচ্ছেন আমরা কীভাবে খেলব। যেহেতু আমাদের প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী— চীন, উত্তর কোরিয়া, উজবেকিস্তান ওরা অনেক শক্তিশালী দল। তো আমরা প্রস্তুতিতে ওভাবেই কাজ করতেছি। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু করব।’
সূচি অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। এরপর ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়বেন মনিকা-মারিয়ারা। আফঈদা বলেন,
‘আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা ভালোভাবে ফিরে আসতে পারি এবং আমাদের সেরা খেলাটা আমরা খেলতে পারি। আমরা অবশ্যই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের প্রথম দুটি ম্যাচ খুব শক্তিশালী দলের সাথে, তবে আমরা উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ভালো কিছু করার আশা রাখছি।’
বাটলারের ঘোষিত ২৬ জনের দলে তিন নতুন মুখ- সুইডেন প্রবাসী মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, আলপি আক্তার ও সৌরভী আক্তার আফরিন। সুইডেন থেকে আসা আনিকা ইতোমধ্যে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দলে অবদান রাখতে পারবে বলেই বিশ্বাস আফঈদার,
‘এশিয়ান পর্যায়ের লিগে সে খেলেছে। তাই আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ওর কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর এশিয়া কাপের চাপ আমরা ওভাবে নিচ্ছি না। আমরা সব সময় যেভাবে খেলি, মাঠের ভেতর সেভাবেই স্বাভাবিক খেলা খেলার চেষ্টা করব।’

আগামী ১-২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হতে যাচ্ছে নারী এশিয়ান কাপ ফুটবল। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল প্রথমবারের মতো এশিয়ার এই সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করতে যাচ্ছে। গৌরবময় মুহূর্তে বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দলের সকল খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।
বাংলাদেশ দল আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবে। সিডনিতে এক সপ্তাহের মতো ক্যাম্প করবেন আফঈদা খন্দকাররা। দলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আমিনুল বলেছেন, ‘আমাদের মেয়েরা বারবার প্রমাণ করেছে যে, অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে যে কোনো বাধা জয় করা সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে আজ তারা এশিয়ার সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এটি কেবল নারী ফুটবলের উন্নয়নই নয়, বরং ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আমাদের নারীশক্তির অগ্রযাত্রার এক অনন্য প্রতিফলন।’
প্রতিযোগিতায় কঠিন দলের গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে সাবেক ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। শক্তিশালী উজবেকিস্তানের সঙ্গে গ্রুপে আছে আরেক সাবেক চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া।
নারী দলের প্রতি নিজের আশার কথা জানিয়েছে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক এবং জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আমিনুল বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, অস্ট্রেলিয়ার মাঠেও আপনারা লাল-সবুজের পতাকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখবেন। জয়-পরাজয় ছাপিয়ে আপনাদের লড়াকু মানসিকতা সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের আত্মপরিচয় তুলে ধরবে। আপনারা খেলবেন হৃদয়ের গভীর থেকে, সেরা নৈপুণ্য দিয়ে, আমাদের দেশের জন্য। আপনাদের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। আমি নারী ফুটবল দলের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি।‘
সূচি অনুযায়ী আগামী ৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। এরপর ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লড়বেন মনিকা-মারিয়ারা।