৭ মে ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফিশূন্য মৌসুম পার করা বার্নাব্যুর ক্লাবে সম্প্রতি বেশ কিছু ঘটনা রটেছে। স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ছয়জন ফুটবলার কথা বলেন না কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে। এমনকী দুই সতীর্থে হাতাহাতি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটিয়েছে।
‘মার্কা’র প্রতিবেদনে অভ্যন্তরণীর ঝগড়া ঝাটির কথা বলা হয়েও ছয় ফুটবলারের নাম জানানো হয়নি। আর বার্সেলোনা ভিত্তিক জনপ্রিয় ক্রীড়া সংবাদপত্র মুন্দো দেপোর্তিভো রিয়ালের ড্রেসিংরুমের এই অস্থিরতাকে একটি ‘বারুদের স্তূপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে এবং জুড বেলিংহামের মতো তারকাদের নিয়ে দলে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে।
মার্কা ও এএস জানিয়েছে, দানি সেবায়োস এবং আরবেলোয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। ফলে এই মিডফিল্ডার কোচের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছৈন। রাইট-ব্যাক দানি কারভাহালও তার ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বর্তমানে ইনজুরিতে এবং চলতি গ্রীষ্মে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। যা নবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ভালভার্দে ও চুয়ামেনির ঝগড়া নিয়ে মার্কার তথ্যমতে, সম্প্রতি অনুশীলনের সময় ফেদে ভালভার্দে এবং অহেলিয়াঁ চুয়ামেনি বিবাদে লিপ্ত হন। তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। এই বিবাদ ড্রেসিংরুম পর্যন্ত গড়ায় এবং সেখানে পরিস্থিতি প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছায়।
পরবর্তী এক প্রতিবেদনে মার্কা জানায়, ভালভার্দেকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। ক্লাবের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এই ঘটনাকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ বলে অভিহিত করেছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে ক্লাবের চেয়ারম্যান হোসে অ্যাঞ্জেল সানচেজ জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। মার্কার দাবি অনুযায়ী, অনুশীলনের আগে ভালভার্দে চুয়ামেনির সাথে হাত মেলাতে অস্বীকার করলে ঘটনার সূত্রপাত হয়।
এমবাপেকে নিয়ে বিতর্ক নিয়ে দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, এমবাপে কোচিং স্টাফের এক সদস্যের সাথে বিবাদে জড়িয়ে তাকে অপমান করেছেন। ল’ইকুইপ দাবি করেছে যে, ২৭ বছর বয়সী এই তারকার আচরণ এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধার কারণে দলের অনেক খেলোয়াড়ই বিরক্ত।
চলতি মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা না পাওয়ার শঙ্কায় থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে আরবেলোয়ার বিদায় প্রায় নিশ্চিত। জানুয়ারিতে জাভি আলোনসোর স্থলাভিষিক্ত হওয়া এই কোচের পরিবর্তে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ আবারও হোসে মরিনহোকে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। অন্যদিকে, টনি ক্রুসকে প্রশাসনিক কোনো ভূমিকায় ক্লাবে ফেরার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।
No posts available.
৭ মে ২০২৬, ৬:২৩ পিএম

জীবন নাটকের চেয়েও নাটকীয়। কখন কোথায় কী ঘটে, কী হয়, বলা মুশকিল। ফুটবলে শুরুতে লিড নেওয়া দলটিও কখনও কখনও রেফারির শেষ বাঁশির আগে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ে। জীবনটাও কখনও হয়ে ওঠে ফুটবলের মতোই— অনিশ্চিত।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সেন্টার-ব্যাক নিকলাস সুলের কথাই বলা যায়। বয়স কতইবা হয়েছে—৩০। এ বয়সে যেখানে অনেকের ক্যারিয়ারে দারুণ সময় পার করে, সেখানে সুলে নিয়েছেন অবসরের মতো এক কঠিন সিদ্ধান্ত। জার্মানির এই সেন্টার-ব্যাক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখানেই ইতি ঘটাতে চান তিনি। শিগগিরই বুটজোড়া তুলে ধরে রাখতে চান আলমারিতে।
২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে সুলের। তার আগেই ‘স্পিলমাখার’ পডকাস্টে সুলে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি ঘোষণা করতে চাই যে, এই গ্রীষ্মে আমি আমার ক্যারিয়ারের ইতি টানছি।’
সাবেক এই জার্মান ফুটবলার বেশ কিছুদিন ধরেই ক্যারিয়ার শেষ করার কথা ভাবছিলেন। গত মাসে টিএসজি হফেনহেইমের বিপক্ষে হাঁটুতে পাওয়া চোটই তার এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করে দিয়েছে।
সুলে বলেন,
‘হফেনহেইমের ড্রেসিংরুমে আমাদের টিম ডাক্তার যখন ড্রয়ার টেস্ট (ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট টিয়ার শনাক্ত করার পরীক্ষা) করছিলেন এবং ফিজিওর দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ছিলেন—তখন আমি শাওয়ার নিতে চলে যাই এবং ১০ মিনিট ধরে কাঁদি। সেই মুহূর্তে আমি ভেবেছিলাম, সত্যিই লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন,
‘পরের দিন যখন এমআরআই করতে যাই এবং ভালো খবরটি (লিগামেন্ট ছিঁড়েনি) পাই, তখন আমার কাছে এক হাজার শতাংশ পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এটাই শেষ। আমি নিজের স্বাধীনতা, ছুটিতে যাওয়া বা সন্তানদের সাথে সময় কাটানোর মতো সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখছিলাম। সেখানে ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার মানসিক চাপের কথা আমি ভাবতেও পারছি না।’
৩০ বছর বয়সি সুলে ২০২২ সালে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন এবং ‘ব্ল্যাক অ্যান্ড ইয়েলো’দের হয়ে ১০৯টি ম্যাচ খেলেন। জার্মানির হয়ে ৪৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ডিফেন্ডার হফেনহেইম, বায়ার্ন মিউনিখ এবং বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে বুন্দেসলিগায় মোট ২৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন।

দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর সুবাদে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবল ক্লাবে পরিণত হওয়ার পথে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগ এবং ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ—উভয় শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকা এমিরেটসের এই ক্লাবটি আর্থিক আয়ের দিক থেকে লিভারপুল এবং ম্যানচেস্টার সিটিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আভাস দিয়েছে স্কাই স্পোর্টস।
মিকেল আরতেতার অধীনে ইতিহাসের অন্যতম সেরা সময় পার করছে আর্সেনাল। প্রিমিয়ার লিগে মাত্র তিন ম্যাচ বাকি থাকতেই গানাররা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয়স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে তারা ৫ পয়েন্ট এগিয়ে। পাশাপাশি ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে গানাররা।
ইউরোপীয় মঞ্চে আর্সেনালের এই যাত্রা ক্লাবটির জন্য বিশেষভাবে লাভজনক হয়েছে। লিগের সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে হারিয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাব। ৩০ মে বুদাপেস্টে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির মুখোমুখি হবে তারা। এই সাফল্য কেবল ইউরোপে ক্লাবের মর্যাদাই বাড়ায়নি, বরং রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি এবং বাণিজ্যিক প্রচারও নিশ্চিত করেছে।
স্কাই স্পোর্টসের তথ্যমতে, আর্সেনাল ইতোমধ্যেই চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল থেকে প্রায় ১২২ মিলিয়ন পাউন্ড প্রাইজমানি নিশ্চিত করেছে। আর পিএসজিকে হারিয়ে শিরোপা জিতলে এই অংক আরও বাড়বে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত 'ডেলোয়েট ফুটবল মানি লিগ' র্যাঙ্কিংয়ে লিভারপুল শীর্ষে থাকলেও আর্সেনালের বর্তমান ফর্ম এবং বাণিজ্যিক আয় আগামী বছরের হিসেবে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে।
গত দুই মৌসুমে আর্সেনালের ভেতরকার পরিবেশ নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। এমিরেটস স্টেডিয়ামের প্রতিটি ম্যাচের টিকিট এখন নিয়মিতভাবে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বেড়েছে বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং ম্যাচ-ডে রাজস্ব। ইউরোপের অভিজাত প্রতিযোগিতায় ফেরায় টেলিভিশন সম্প্রচার থেকেও আয় কয়েকগুণ বেড়েছে। ক্লাবের সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, তাদের আয় ছিল ৬৯১ মিলিয়ন পাউন্ড, যা এবার আরও বড় রেকর্ড গড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই আর্থিক উন্নতি আসন্ন গ্রীষ্মকালীন দলবদল বাজারেও আর্সেনালকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। স্কাই স্পোর্টস জানিয়েছে, নতুন বড় তারকা সাইনিং এবং কিছু খেলোয়াড় বিক্রির পরিকল্পনার মাঝেও ক্লাবটির আর্থিক ভিত এখন অত্যন্ত মজবুত। যদি তারা এ মাসে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারে, তবে উত্তর লন্ডনের ইসলিংটনে বড় ধরনের 'ট্রফি প্যারেড'-এর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

ফুটবল গুরুমুখী বিদ্যা। ট্যাকটিক্যাল দর্শন, মেন্টরশিপ, শৃঙ্খলা ও সংস্কার—এসবই গুরুর কাছে হাতে কলমে শিক্ষা নেন শিষ্যরা। গুরু-শিষ্যের মেলবন্ধন যতটা মজবুত, ততটা ভবিষ্যত উজ্জ্বল একজন শিষ্যের।
আধুনিক যুগেও ফুটবলে গুরু-শিষ্যের বিষয়টি একটি বেশিই প্রাধান্য দেওয়া হয়। কলি থেকে ফুল হয়ে ফুটতে একজন মেধাবীকে সাহায্য করেন একজন সঠিক মালি। সেই মালি তার কোচ। বর্তমান সময়ে ফুটবলের মালিদের মধ্যে অন্যতম লুইস এনরিকে। বার্সেলোনায় সফল ক্যারিয়ার কাটানো স্প্যানিশ গুরু এখন পিএসজির ম্যানেজার।
একটি উড়তি ক্লাবকে শিকড় থেকে শিখরে পৌঁছাতে যত যা প্রয়োজন তার সবই পিএসজির জন্য করেছেন এনরিকে। ২০২৩ সালে ফরাসি ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার প্রথম মৌসুমে প্রায় প্রতি রাতেই ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ঘুমাতেন বলে দাবি করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম।
২০২৩ সালে পিএসজির দায়িত্ব নেন এনরিকে। লিওনেল মেসি, নেইমার এবং কিলিয়ান এমবাপে ক্লাব ছাড়ার পর তিনি তথাকথিত ‘গ্যালাকটিকো’ মডেল থেকে সরে এসে তরুণ প্রতিভায় এক শক্তিশালী দল গড়ে তুলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষভাগে পিএসজিতে কাটানো বেকহ্যাম সিবিএস-এর ‘বেকহ্যাম অ্যান্ড ফ্রেন্ডস লাইভ’-এ এনরিকের এই একাগ্রতা নিয়ে কথা বলেন।
বেকহ্যাম বলেন,
‘লুইস এনরিকে গত কয়েক বছরে দলটিকে এভাবেই গড়ে তুলেছেন এবং এই দলটির মধ্যে দারুণ এক ঐক্য তৈরি করেছেন। আমি পিএসজি সভাপতি নাসের আল-খেলাইফির সাথে কথা বলেছি এবং তিনি আমাকে জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছর এনরিকে প্রায় প্রতি রাতেই ক্লাবের নতুন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিতে ঘুমাতেন। দলটিকে তিনি কেমন দেখতে চান, তাদের খেলার ধরন কেমন হবে, কাকে দলে চাই—এসব কিছুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতেই তিনি সেখানে রাত কাটাতেন।’
নাসের আল-খেলাইফির উদ্ধৃতি দিয়ে বেকহ্যাম আরও বলেন,
‘সভাপতি জানিয়েছেন যে তিনি আগে কখনো এমন কিছু দেখেননি। এনরিকের কাজের ধরন এবং দলের কাছ থেকে তার প্রত্যাশা অনেক। তিনি চান দলের সবাই একই সমতলে থাকুক এবং সবার লক্ষ্য যেন এক হয়। তিনি এমন খেলোয়াড় চান যারা মাঠের লড়াইয়ে থামবে না এবং অবিরাম দৌড়াবে। বর্তমানে তিনি ঠিক এমন একটি দলই গড়ে তুলেছেন।’
আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের মুখোমুখি হবে পিএসজি। একইসাথে তারা নিজেদের লিগ আঁতে শিরোপা ধরে রাখার পথেই রয়েছে।

অতীত ইতিহাস কিংবা শক্তিমত্তা বিবেচনায় ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ জিততে হয়তো মিরাকল বা অলৌকিক কিছুর প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের। আর সেই মিরাকল যদি সত্যিই ঘটে যায়, তবে কেমন হবে দৃশ্যটা? ঠিক এমন এক কাল্পনিক জয় নিয়েই বিশ্বকাপ প্রচারণার নতুন বিজ্ঞাপন নির্মাণ করেছে ফক্স স্পোর্টস। যেখানে বিশ্বকাপের ফাইনালে যোগ করা সময়ের গোলে ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে ভাসে আসন্ন ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ স্বাগতিকরা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র মাসখানেক বাকি। এরই মধ্যে ‘মিরাকল’ শিরোনামের এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করে উত্তাপ ছড়িয়েছে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানটি। মূলত বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করেছে ফক্স স্পোর্টস মার্কেটিং ও স্পেশাল ইউএস। ফক্স স্পোর্টস তাদের অফিসিয়াল সাইটে লিখেছে,
‘২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ইংরেজি সম্প্রচার সত্ত্বাধিকারী ফক্স স্পোর্টস আজ থেকে তাদের মেগা ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বের বৃহত্তম এই ক্রীড়া উৎসবকে ঘিরে পুরো আমেরিকাকে ‘বড় স্বপ্ন’ দেখার আমন্ত্রণ।’
বিজ্ঞাপনে যা আছে
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল। ম্যাচ গড়িয়েছে ৯৭ মিনিটে। পুরো দেশ তখন নিস্তব্ধ, সবার চোখ টিভি পর্দায়। টানটান উত্তেজনার মাঝে ক্রিস্তিয়ান পুলিসিক যখন কর্নার কিকটি নিলেন, মনে হলো পুরো আমেরিকা এক মুহূর্তের জন্য দম বন্ধ করে দাঁড়িয়ে আছে। তারপরই সেই কাঙ্ক্ষিত গোল! বিশ্বকাপের আরাধ্য ট্রফি জেতার সেই গোলের সঙ্গে সঙ্গেই যেন বিষ্ফোরণ ঘটে পুরো দেশে।
স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে। ড্রয়িং রুম, বার কিংবা বড় কোনো ওয়াচ পার্টি—সবখানে তখন ভক্তদের বাঁধভাঙা উল্লাস। বিজ্ঞাপনী এই চিত্রনাট্য বুঝিয়ে দেয়, যখন অসম্ভব কোনো স্বপ্ন সত্যি হয়, তখন সেই মুহূর্তটি আর কেবল মাঠের এগারোজন খেলোয়াড়ের থাকে না; সেটি হয়ে ওঠে পুরো জাতির।
Fox Sports commercial for the 2026 World Cup 🔥pic.twitter.com/SSRWUmjj8k
— Total Football (@TotalFootball) May 5, 2026
হঠাৎ বদলে যায় দৃশ্যপট। স্বপ্ন থেকে বর্তমানে ফিরে আসা দুই বন্ধুকে দেখা যায় একটি বারে বসে তর্ক করতে। একজন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কী! তুই সত্যিই ভাবিস যে আমেরিকা বিশ্বকাপ জিতবে?’ বন্ধুটি তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দেয়, ‘জিততেই পারে!’ ঠিক তখনই হকি কিংবদন্তি এরুজিওনি সেই মোক্ষম প্রশ্নটি করেন যা প্রতিটি মার্কিন ফুটবল ভক্তের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে—
‘তুমি কি মিরাকলে (অলৌকিক কিছু) বিশ্বাস করো না?’
প্রচারণার প্রথম বিজ্ঞাপন ‘মিরাকল’-এ দেখা যায় একঝাঁক তারকাকেও। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ফুটবলারদের পাশাপাশি এখানে হাজির হয়েছেন এনএফএল কিংবদন্তি ও ফক্স স্পোর্টসের বিশ্লেষক টম ব্র্যাডি, নতুন বিশ্লেষক হিসেবে যোগ দেওয়া ফুটবল তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এবং সাবেক মার্কিন কোচ ব্রুস অ্যারেনা। আইকনিক এলভিস প্রিসলির ‘দ্য ইম্পসিবল ড্রিম’ গানের তালে পুরো ভিডিওটি সাজানো হয়েছে।
ফক্স স্পোর্টসের মার্কেটিং প্রেসিডেন্ট রবার্ট গটলিব এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন,
‘২০২৬ বিশ্বকাপ এমন এক আসর হতে যাচ্ছে যা এই দেশ আগে কখনো দেখেনি। দল বাড়ছে, ম্যাচ বাড়ছে এবং সবচেয়ে বড় কথা—আমাদের নিজেদের আঙিনায় এই আসর বসছে এমন এক সময়ে যখন আমেরিকা তার ২৫০তম জন্মদিন পালন করবে।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘আমেরিকান স্পিরিট আর এই উৎসবের মুহূর্তকে তুলে ধরার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়—সেই স্বপ্নের চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। আমাদের এই প্রচারণা ভক্তদের সেই শিহরণ অনুভব করার আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।’
বিজ্ঞাপনের একদম শেষে দেখা যায় ১৯৮০ সালের অলিম্পিক হকিতে ‘মিরাকল অন আইস’-এর মহানায়ক মাইক এরুজিওনিকে। মিরাকল বা অলৌকিক জয় নিয়ে তার যে বিশেষ কিছু বলার আছে, সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না!
বিশ্বকাপের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাফল্য বলতে গেলে সেই ১৯৩০ সালের প্রথম আসর। যেখানে তারা সেমিফাইনালে খেলে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল। তবে আধুনিক ফুটবল বিশ্বে তাদের সবচেয়ে আলোচিত অর্জন ছিল ২০০২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল; যেখানে জার্মানির কাছে হেরে তাদের স্বপ্নযাত্রা থেমে যায়।
এরপর ২০১৪ বা ২০২২—সাম্প্রতিক আসরগুলোতে তারা নক-আউট পর্বে উঠলেও শেষ ষোলোর বাধা পেরোতে পারেনি। তাই দীর্ঘ ৯৬ বছরের ইতিহাস পেছনে ফেলে ২০২৬-এ নিজেদের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া মার্কিনদের কাছে স্রেফ একটি শিরোপা জয় নয়, বরং এক অবিশ্বাস্য রূপকথাই হবে।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ অন্তিম মুহূর্তে। কার শোকেসে জায়গা করে নেবে ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপা, জানা যাবে ৩০ মে। সবার নজর এখন বুদাপেস্টের পুসকাস স্টেডিয়ামের দিকেই। ম্যাচটি শুধুই দুই দলের লড়াই নয় বরং দুটি ক্লাবের ঐতিহ্য রক্ষা এবং স্প্যানিশ দুই কোচের মনস্তাত্ত্বিক শক্তি পরীক্ষার মঞ্চ।
চ্যাম্পিয়নস লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। টানা দ্বিতীয়বার শিরোপার লড়াইয়ে ফরাসি জায়ান্টরা। তারমধ্যে এটি ম্যানেজার লুইস এনরিকের জন্য তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতে নেওয়ার উপলক্ষ্য। পাশাপাশি পিএসজির হয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে অনন্য উচ্চতায় ওঠার সিঁড়িও বলা চলে।
চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে একমাত্র জিনেদিন জিদান ছাড়া কোনো কোচই শিরোপা ধরে রাখতে পারেননি। এবার জিতলে জিদানের পাশে বসবেন এনরিকে। আর এই কীর্তি এনরিকেকে ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল কোচদের তালিকায়ও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
অন্যদিকে আর্সেনালকে তাদের ইতিহাসে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে মিকেল আরতেতাকে। গানাররা এখন পর্যন্ত ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় ক্লাব প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিততে পারেনি। এবার সে সুযোগ সামনে।
ইউরোপ সেরা লিগের দুই মৌসুমে চতুর্থবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্সেনাল ও পিএসজি। গত আসরের লিগ পর্বে গানাররা পিএসজিকে হারালেও নকআউট পর্বে তারা ফরাসি দলটির কাছে হোম এবং অ্যাওয়ে দুই ম্যাচেই হেরেছিল। বুদাপেস্টে আর্সেনালের সামনে সুযোগ থাকছে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার।
ফাইনালের আগে মিকেল আরতেতা ও তার দলের প্রশংসা করে লুইস এনরিকে,
‘আমি মিকেলিতো আরতেতাকে অনেক পছন্দ করি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন সতীর্থ ছিলাম। আর্সেনালে ও দারুণ কাজ করছে। ফাইনালটি অনেক কঠিন এবং লড়াইপূর্ণ হবে, তবে আমরা আমাদের ফুটবল শৈলীর ওপর বিশ্বাস রাখি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘আর্সেনাল এই মৌসুমের অন্যতম সেরা দল। পুরো মৌসুমজুড়ে তারা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। তারা প্রিমিয়ার লিগ জয়ের দৌড়ে আছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও উঠেছে—এটি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে আমার দলের ওপরও আমার পূর্ণ আস্থা আছে এবং তাদের মূল্যায়ন করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।’