ফুটবল

দল ঘোষণার আগে ব্রাজিল কোচকে তাড়া করছে ৪৪ বছর আগের দুঃস্বপ্ন

 
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
ঢাকা

১৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

news-details

যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারেরই পরম আরাধ্য স্বপ্ন থাকে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপে খেলা। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য এই স্বপ্নের গভীরতা স্বাভাবিকভাবেই একটু অনেক বেশিই। ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ—এক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য আবেগের নাম। কিন্তু ফুটবল বিধাতা সবার ভাগ্যে সেই আনন্দ লিখে রাখেন না। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ঠিক দ্বারপ্রান্তে এসে চোটের আঘাতে ছিটকে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। 


ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় দুঃশ্চিন্তা তারকা ফুটবলারদের চোট। আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে, ইতালিয়ান কোচ ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। আর সেলেসাওদের চূড়ান্ত দল ঘোষাণার আগে অভিজ্ঞ এই কোচের স্মৃতিতে ভেসে আসছে ১৯৮২ বিশ্বকাপে নিজের জীবনের এক চরম ট্র্যাজেডি। সেবার ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় তাঁর। আর সে বছরই ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।


১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে রোমার হয়ে খেলার সময় প্রথম ইতালি জাতীয় দলে ডাক পান আনচেলত্তি। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রুনো কন্তি, মার্কো তারদেল্লি, কায়েতানো শিরেয়া, জিয়ানকার্লো আন্তোনিওনি এবং ক্লাউডিও জেন্তিলের মতো কিংবদন্তিদের পাশাপাশি ইতালিয়ান মাঝমাঠের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন।


নিজের সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির চার দশক পর, ইনজুরি আবারও আনচেলত্তিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এlfর মিলিতাও, এস্তেভাও এবং রদ্রিগো—যাঁরা প্রত্যেকেই ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সম্ভাব্য খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁরা সবাই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।


ইনজুরির ভয়াবহতা জানার পরপরই এই ইতালিয়ান কোচ প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল-কে আনচেলত্তি বলেন,

‘চোট একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেরই অংশ। যখন আপনি এমন একটা নেতিবাচক ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন আপনাকে সামনে তাকাতে হবে এবং পরবর্তী সুযোগের কথা ভাবতে হবে। আমি রদ্রিগো এবং মিলিতাওয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে এবং সেলেসাওদের হয়ে পরবর্তী ম্যাচ ও আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে।’


১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে ইতালির জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আনচেলত্তির। ওই ম্যাচেই তিনি ‘আজ্জুরি’দের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র গোলটি করেন। তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ নজরকাড়া। কিন্তু সে বছর আরও পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়েন এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপ মিস করেন। বিশ্বজয়ী দলের অংশ হতে না পারলেও, সেই সময়টা নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি তিনি।


ইতালির হয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আনচেলোত্তি বলেন, 

‘যখন আপনি চোটে পড়বেন, তখন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবেন। মানসিকভাবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করার এবং আরও পেশাদার হয়ে ওঠার এটাই সময়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল। তখন আমার বয়স ২১ বা ২২ বছর, আর চোটের কারণে আমাকে টানা দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ওই সময়টাতে আমি জীবনের অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম।’


চোট কাটিয়ে ওঠার পর আনচেলত্তি তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে দুটি ছিল খেলোয়াড় হিসেবে (১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং অন্যটি ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ হিসেবে, যেখানে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল ইতালি। শিরোপা না জিতলেও ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে তাঁর মনে জমিয়ে রাখা মধুর স্মৃতির কমতি নেই।


আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, 

‘যারা ফুটবল নিয়ে কাজ করে, তাদের জীবনে বিশ্বকাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়টাকে পুরোপুরি উপভোগ করা উচিত। আমি ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে খেলেছি এবং ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ ছিলাম। এটা একটা দেশের জন্য যেমন বিশেষ মুহূর্ত, তেমনি এখানে চাপ সামলানোর একটা ব্যাপারও থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করা।’

No posts available.

bottom-logo