
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথ ‘এল ক্লাসিকো’র আগে সব আলোচনা হওয়ার কথা ছিল মাঠের কৌশল আর রণপরিকল্পনা নিয়ে। তবে রিয়াল মাদ্রিদের সময়টা চলছে এখন ‘কালবৈশাখী ঝড়’। মাঠের ফুটবলের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতা। লস ব্লাঙ্কোসদের ঘরে অনেক দিন ধরে চলা অসন্তোষ বিস্ফোরিত হয় অনুশীলনে ভালভার্দে ও চুয়ামেনির হাতাহাতির পর। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের বাইরের সেই উত্তাপ সরাসরি এসে লেগেছে কোচের সংবাদ সম্মেলনেও।
প্রিয় শিষ্যদের নিয়ে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে। চরম কঠিন এই সময়ে রিয়ালের খেলোয়াড়দের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন প্রকাশ করলেন আরবেলোয়া।
লা লিগার চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’তে আগামীকাল স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যু-তে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল। এই মহারণ ছাপিয়ে গত কয়েক দিনে ঠিক কী ঘটেছিল, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমার দুটি কথা বলার আছে। প্রথমত, ক্লাবের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা, ক্ষিপ্রতা এবং স্বচ্ছতার জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। দ্বিতীয়ত, খেলোয়াড়রা তাদের ভুল স্বীকার করেছে, অনুশোচনা প্রকাশ করেছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট।’
আরবলোয়া আরও যোগ করেন,
‘আমি যা করব না তা হলো—তাদের জনসমক্ষে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো, কারণ তারা এর যোগ্য নয়। বিশেষ করে গত চার মাস বা বিগত কয়েক বছরে তারা আমাকে যা দেখিয়েছে, তারপরে তো নয়ই। তারা প্রমাণ করেছে যে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড় হওয়ার অর্থ কী, এবং আমি সেটা ভুলে যাব না।’
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি হুয়ানিটোর উদাহরণ টেনে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি সবসময় একটি উদাহরণ দেই। আমার কাছে একজন খেলোয়াড় আছেন যিনি রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের প্রকৃত আদর্শ, আর তিনি হলেন হুয়ানিটো। এখন প্রশ্ন হলো, হুয়ানিটো কি কখনো ভুল করেননি?’
চলতি সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলনের সময় ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেঁলিয়ে চুয়ামেনির মধ্যে এক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভালভার্দে ১০ থেকে ১৪ দিনের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। এই দুই তারকাকে নিয়ে আরবেলোয়া বলেন,
‘ভালভার্দে এবং চুয়ামেনি আমাদের কাছ থেকে এটুকু প্রাপ্য যে—আমরা যেন এই ঘটনা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাই এবং এই ক্লাবের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিই। আমি তাদের নিয়ে গর্বিত। এই ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ তাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তা আমি হতে দেব না।’
রিয়াল কোচ কড়া ভাষায় আরও বলেন,
‘তারা পেশাদার নয় কিংবা তারা আমাকে অসম্মান করেছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঠিক যেমন এটিও একটি মিথ্যা যে, আমার সঙ্গে সমস্যার কারণে কেউ কেউ একাদশে সুযোগ পাচ্ছে না; যারা এসব ছড়ায়, তাদের উচিত রিয়াল মাদ্রিদের বাইরে গিয়ে নিজের চরকায় তেল দেওয়া।’
গুঞ্জন আছে রিয়াল মাদ্রিদের কোনো খেলোয়াড় ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁস করছেন। অজ্ঞাত এই ‘গুপ্তচরকে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে আরবেলোয়া বলেন, ‘ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আরবেলোয়া বলেন,
‘আমি আবারও বলছি, কারণ হয়তো আমি পরিষ্কার করে বলতে পারিনি: ড্রেসিংরুমের ভেতরকার খবর বাইরে ফাঁস করা রিয়াল মাদ্রিদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এটি এই লোগো বা ব্যাজের অবমাননা।’
ড্রেসিংরুমের অনাকাঙ্ক্ষিত এই সংঘাতকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষণীয় এক পাঠ হিসেবে উল্লেখ করে আরবেলোয়া সকলকে মাঠের ফুটবলে ফেরার তাগিদ দেন,
‘এটি মোটেও কোনো সুখকর পরিস্থিতি নয়। এটি সবার জন্য একটি উদাহরণ হিসেবে থাকা উচিত এবং ব্যস, এটুকুই। আমাদের এখন এই অধ্যায় পেছনে ফেলে সামনে তাকাতে হবে, এটি থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলে গেলে চলবে না যে আগামীকাল বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচ রয়েছে।’
No posts available.
৯ মে ২০২৬, ২:০১ পিএম

প্রথমবার ৪৮ দলের ফুটবল বিশ্বকাপ। মেগা এই ইভেন্টের আয়োজনে কোন খামতি রাখতে চায় না ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদা আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই বর্ণিল আয়োজনে বিশ্বখ্যাত তারকাদের পাশাপাশি থাকছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান ডিজে সঞ্জয়।
কানাডার টরন্টোতে আগামী ১২ জুন গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। এই ম্যাচের আগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ মাতাবেন লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডিজে সঞ্জয়। তাঁর সঙ্গে আরও পারফর্ম করবেন কানাডিয়ান তারকা অ্যালানিস মরিসেট, মাইকেল বুবলে এবং আলেসিয়া কারা। মূলত কানাডার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরতেই এই লাইনআপ সাজিয়েছে ফিফা।
বিশ্বকাপের মূল পর্দা উঠবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে। উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানে পারফর্ম করবেন মেক্সিকান পপ ব্যান্ড মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ ও বেলিন্ডা।
পরদিন ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচের আগে মঞ্চে দেখা যাবে বিশ্বখ্যাত পপ তারকা ক্যাটি পেরি এবং মার্কিন র্যাপার ফিউচারকে। এছাড়াও আরও অনেক বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর নাম পরবর্তীতে ঘোষণা করবে ফিফা।
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল সিউলে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তিন দেশের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে ফিফা তিনটি পৃথক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি অনুষ্ঠানই ম্যাচ শুরুর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আগামী সোমবার ফিফার কাছে ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে যাচ্ছে ব্রাজিল। এই তালিকায় নেইমার জুনিয়র এবং উদীয়মান তারকা এস্তেভাও উইলিয়ানের নাম থাকার খবর জানিয়েছে গ্লোবো স্পোর্টস।
ফিফার নিয়ম অনুসারে, ১১ তারিখের মধ্যে প্রতিটি দলকে ৩৫ থেকে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিতে হবে। ফিফা এই তালিকা যাচাইবাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করবে তবে প্রকাশ করবে না।
১ জুন কোচদের তাদের প্রাথমিক দল থেকে ছাঁটাই করে ২৩ থেকে ২৬ জনের চূড়ান্ত দল ফিফার কাছে জমা দিতে হবে। কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে এই চূড়ান্ত দলে পরিবর্তন আনা যাবে। তবে নতুন খেলোয়াড়কে অবশ্যই ১১ মে-র প্রাথমিক তালিকায় থাকতে হবে।
২ জুন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দেশের চূড়ান্ত ২৬ জনের অফিশিয়াল তালিকা একসাথে প্রকাশ করবে। তবে দেশগুলো চাইলে এই তারিখের আগেই নিজেদের মতো করে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করে দিতে পারে।
ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল আগামী ১৮ মে চূড়ান্ত করবেন আনচেলত্তি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নেইমার নিজেকে ফিট প্রমাণ করতে পারলে ১৮ মে-র ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন।
অন্যদিকে, চেলসির তরুণ তুর্কি এস্তেভাও বর্তমানে পালমেইরাসের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে হ্যামস্ট্রিং চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন। যদি তিনি সময়মতো সুস্থ না হন, তবে প্রাথমিক তালিকার এন্ড্রিক বা রাইয়ানদের মধ্য থেকে তাঁর বিকল্প বেছে নিতে হবে।
তবে দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা এডার মিলিতাও ও রদ্রিগোর অনুপস্থিতি। এই দুজন চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন। তাই তারা প্রাথমিক দলেও জায়গা পাচ্ছেন না। গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে হারানো আনচেলত্তির পরিকল্পনায় বড় এক ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। আর মাসখানেক বাদেই শুরু হবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্টের। মেগা এই ইভেন্টের অন্যতম আকর্ষণ বিশ্বকাপের থিম সং। নেচে গেয়ে বিশ্বের কোটি ফুটবল সমর্থক বুদ হয়ে থাকেন সেই সুরের মূর্ছনায়।
এবারের ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল থিম সং ‘দাই দাই’ এর টিজার প্রকাশ পেয়েছে গত বৃহস্পতিবার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা।
১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ওয়াকা ওয়াকা দিয়ে বিশ্ব মাতানো এই তারকার কণ্ঠে আবারও শোনা যাবে বিশ্বকাপের থিম সং। ‘দাই দাই’ এর টিজার অবমুক্ত হওয়ার পর থেকেই নেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।
আরও পড়ুন
| ভালভার্দে ও চুয়ামেনিকে ১৩ কোটি টাকা জরিমানা |
|
ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে চিত্রায়িত হয়েছে ‘দাই দাই’ এর মিউজিক ভিডিও। টিজারে শাকিরাকে একঝাঁক নৃত্যশিল্পীর সাথে দেখা গেছে, যাদের পোশাকে ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের পতাকার প্রতিচ্ছবি।
শাকিরা নিজে পরেছিলেন নিজ দেশ কলম্বিয়ার হলুদ ও নীল রঙের মিশেলে তৈরি পোশাক। নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে টিজারটি শেয়ার করে শাকিরা লিখেছেন, ‘মারাকানা স্টেডিয়াম থেকে আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান—দাই দাই।‘ ভিডিওতে শাকিরার হাতে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ ও দেখা গেছে।
এবারের থিম সং-এ শাকিরার সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়। টিজার প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এতে লাইক পড়ে ১৯ লাখের বেশি।
আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পুরো গানটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে পিটবুল, জেনিফার লোপেজ, উইল স্মিথ এবং জংকুকের মতো তারকারা বিশ্বকাপের থিম সং-এ কণ্ঠ দিলেও শাকিরার আবেদন ফুটবল ভক্তদের কাছে সবসময়ই একটু ভিন্ন।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার চেয়েও শক্তিশালী ৪ দেশের নাম জানালেন মেসি |
|
২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘হিপস ডোন্ট লাই’ গেয়ে মন জয় করেছিলেন শাকিরা। এরপর ২০১০ সালে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গানটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল থিম সং হিসেবে জায়গা করে নেয়। ২০২৬-এ উত্তর আমেরিকার মাটিতে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল সুরে ফিরছেন এই ল্যাটিন তারকা।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই মহাযজ্ঞের পর্দা উঠবে আগামী ১১ জুন। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইংলিশ ফুটবলের সাংবাদিকদের ভোটে ২০২৫-২৬ মৌসুমের সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। আর্সেনাল মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইসকে ২৮ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে ফুটবল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফডব্লিউএ) এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন তিনি। ২০১০ সালে ওয়েইন রুনির পর ইউনাইটেডের প্রথম কোনো খেলোয়াড় হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জিতলেন ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
এবারের ভোটাভুটিতে ফুটবল সাংবাদিকদের ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন ফার্নান্দেস। অল্পের জন্য হেরে যাওয়া ডেক্লান রাইস ছাড়াও সেরা তিনে ছিলেন ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। শীর্ষ তালিকায় আর্সেনালের বুকায়ো সাকা, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস এবং গোলকিপার ডেভিড রায়া থাকলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর কোনো খেলোয়াড় ভোট পাননি।
চলতি মৌসুমে রেড ডেভিলদের হয়ে অবিশ্বাস্য ছন্দে আছেন ব্রুনো। প্রিমিয়ার লিগে ৩৪ ম্যাচে ৮ গোল করার পাশাপাশি করেছেন ১৯ অ্যাসিস্ট। আর মাত্র একটি অ্যাসিস্ট করলেই থিয়েরি অঁরি ও কেভিন ডি ব্রুইনের গড়া এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ২০ অ্যাসিস্টের রেকর্ড স্পর্শ করবেন ব্রুনো।
রুবেন আমোরিম বরখাস্ত হওয়ার পর মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ইউনাইটেডের চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন ব্রুনো। বার্নলির বিপক্ষে চোট কাটিয়ে ফেরার পর শেষ ১৬ ম্যাচের ১৩টিতেই গোল অথবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন এই পর্তুগিজ তারকা।
১৯৪৮ সালে স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসের হাত ধরে শুরু হওয়া এই পুরস্কারের ইতিহাসে দশম ইউনাইটেড খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখালেন ব্রুনো। ববি চার্লটন, এরিক ক্যান্টোনা, রয় কিন এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের পাশে এখন তাঁর নামও উচ্চারিত হবে।
এদিকে নারীদের ফুটবলে একচেটিয়া জয় পেয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির বানি শ। ডব্লিউএসএল শিরোপা জেতার পথে চলতি মৌসুমে ১৯ গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো এই সম্মাননা জিতলেন জ্যামাইকান এই ফরোয়ার্ড। এর আগে ২০২৩ সালেও তিনি বর্ষসেরা হয়েছিলেন।

অনুশীলনে মারামারির ঘটনায় ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়ান চুয়ামেনিকে ৫ লক্ষ ইউরো (প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা) করে জরিমানা করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ঘটনায় উরুগুয়েন মিডফিল্ডার ভালভার্দে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিয়ালের দুই ফুটবলারের জরিমানার বিষয়টি জানিয়েছে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রিয়াল জানিয়েছিল,
‘অনুশীলন চলাকালীন ঘটা অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভালভার্দে এবং চুয়ামেনির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্লাবের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়া মাত্রই দুই খেলোয়াড়ের বিষয়ে নেওয়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।’
হাসপাতাল থেকে ফিরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের দায় স্বীকার করেছেন ভালভার্দে। প্রতিযোগিতার ক্লান্তি এবং দলের নাজুক পরিস্থিতির হতাশা থেকে এই ঝামেলার সূত্রপাত বলে জানান তিনি।
সতীর্থের হাতে সরাসরি আঘাত পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ভালভার্দে বলেন,
‘তর্কের এক পর্যায়ে আমি দুর্ঘটনাক্রমে একটি টেবিলে আঘাত পাই, যার ফলে কপাল কেটে যায়। চুয়ামেনি আমাকে আঘাত করেনি, আর আমিও তাকে আঘাত করিনি।’
শুধুই ফেদেরিকো ভালভার্দে ও অরেলিয়ান চুয়ামেনিই নন। পুরো রিয়াল যেন গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মার্কা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, দলের প্রায় ছয় খেলোয়াড় কথা বলেন না কোচ আলভারো আরবেলোয়ার সঙ্গে। এমনকী তারা তাকে আপত্তিকর নামে ডাকছেন বলেও জানা গেছে।
খবর অনুযায়ী, ম্যাচের সময় ডাগআউটে থাকা কিছু খেলোয়াড় আরবেলোয়াকে 'কোন' বলে ডাকছেন, যা স্প্যানিশ ফুটবলে একটি অপমানজনক শব্দ। কোন শব্দের বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ট্রাফিক খুঁটি। অর্থাৎ কিছু খেলোয়াড় আরবেলোয়াকে কোচের বদলে ট্রাফিক খুঁটি হিসেবেই ডাকছেন।