
ক্লাবের রক্ষণভাগ নড়বড়ে, যা ম্যানচেস্টার সিটির জন্য প্রছন্ন হুমকি। রক্ষণের নির্ভরযোগ্য দুই অভিজ্ঞ—রুবেন দিয়াস ও ইওস্কো গাভারদিওল চোটে আছেন। দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ম্যানসিটি।
ক্রিস্টাল প্যালেসের সেন্টারব্যাক মার্ক গেইহির সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে সিটি। চলতি মাসেই এই চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছে ইতিহাদের ক্লাব। যদিও লিভারপুলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল গেইহির। তাঁর সঙ্গে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিটি শেষ পর্যায়ে ছিল। মেডিকেলও সম্পন্ন হয়েছিল গেইহির। তবে নাটকীয়ভাবে ২০ মিলিয়ন পাউন্ডে সিটিতেই যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।
আজ বিবিসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইহির এজেন্টের সঙ্গে ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাবের আলোচনা চলছিল। তার মধ্যে লিভারপুলের সঙ্গে পাকাপাকি কথাও হয়েছিল। তবে সিটির সঙ্গে চূড়ান্ত ঐক্যমতে পৌঁছে ইংলিশ সেন্টারব্যাকের। ফলে লিভারপুলে এক পা দিয়ে রাখা গেইহি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হতে যাচ্ছে ম্যানসিটির।
গত সপ্তাহে বোর্নমাউথ থেকে সাড়ে ৬ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ম্যানসিটিতে যোগ দেন অ্যান্টনি সেমেনিও। ইতোমধ্যেই ক্লাবের হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এবার সিটি শিবিরে যোগ দিতে যাচ্ছেন গেইহি।
আজ ক্রিস্টাল প্যালেসের কোচ অলিভার গ্লাসনার নিশ্চিত করেছেন, গেইহির সঙ্গে ক্লাবের চুক্তি শেষ হওয়ার পর তিনি সিটিতে যোগ দেবেন। যদিও সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকে গেইহির প্রতি ক্লাবের আগ্রহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ নিয়ে কিছুই বলার নেই।
গ্লাসনার জানিয়েছেন, “আমার ধারণা, মার্ককে (গেইহি) নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “গেইহি শনিবার প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের সঙ্গে থাকছেন না।”
গেইহি ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে ১৮৮ ম্যাচ খেলেছেন। ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ২০২১ সালে। এর আগে ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার খেলেছেন চেলসিতে। এবার তাঁর গন্তব্য হতে যাচ্ছে প্রিমিয়ার লিগের আরেক জায়ান্ট ক্লাব।
No posts available.
১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম

বৃহস্পতিবার রাতে রেসিং স্যান্টান্ডারকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোপা দেল-রের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সেলোনা। ঘাম ঝরানো জয়ের ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে গোল করেন ফেরান তরেস ও লামিন ইয়ামাল।
সকল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে জয়ের ধারা ১১ ম্যাচে উন্নীত করলো বার্সেলোনা। ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের অধীনে ২০০৫-০৬ মৌসুমে ১৮টি ম্যাচ জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। তারপরও ১১ ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড নিয়ে খুব একটা উচ্ছ্বসিত নন বার্সা কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। দলের এই জয়ের ধারাকে ‘কিছুই নয়’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
ক্লাবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টানা জয়ের রেকর্ড (যৌথভাবে) নিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘আমি পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবছি না। আজ (বৃহস্পতিবার রাত) জিতেছি বলে আমি খুশি। এটি আমাদের জন্য এবং ভক্তদের জন্য দারুণ খবর। এই জয়ের অর্থ হল আমরা পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছে গেছি, এটাই আমার কাছে গুরুত্ব বহন করে।’
গত বছরের নভেম্বরে চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩-০ গোলের পরাজয়ের পর আর কখনও পয়েন্ট হারায়নি বার্সেলোনা। বর্তমানে লা লিগার শীর্ষে আছে তারা। ৪৫ পয়েন্ট পেয়ে দুইয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চার পয়েন্টের লিড ফ্লিকের দলের। স্প্যানিশ সুপার কাপ এরই মধ্যে নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গত সপ্তাহের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে।
তবে গতরাতে রেসিংয়ের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয় পেলেও কঠিন হয়েছে বার্সেলোনার জন্য। এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তারা দুবার বার্সেলোনার জাল কাঁপায়, যদিও অফসাইডের ফাঁদে পড়ে গোল পায়নি দলটি। এছাড়া বার্সেলোনার গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া এই ম্যাচে দুর্দান্ত কিছু সেভ করেছেন।
এরপর শেষ মুহূর্তে ইয়ামালের গোলে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। ম্যাচ নিয়ে কোচ ফ্লিক বলেন, ‘আমি আগে থেকেই জানতাম এটি কঠিন খেলা হবে। ক্লিন শিট রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অবশ্যই, আমাদের দ্বিতীয় গোলের ৩০ সেকেন্ড আগে তাদের ১-১ গোলে সমতায় ফেরার সুযোগ ছিল। জোয়ানকে ধন্যবাদ, এটি দুর্দান্ত সেভ ছিল। শেষ পর্যন্ত পরের রাউন্ডে উঠতে পেরে আমি খুশি।’

প্রতিশোধের মঞ্চ প্রস্তুত ছিল। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে শোক শক্তিতে রূপ দিতে পারেনি মিশর। ২০২১ সালে সেনেগালের বিপক্ষে হেরেছিলেন মোহাম্মদ সালাহরা। এবার নীল নদের দেশটি সাদিও মানেদের কাছে হারল প্রতিযোগীতার শেষ চারে। হৃদয়ের ক্ষত নিয়ে আপতত ক্লাবেই ফিরছেন সালাহ।
প্রিমিয়ার লিগে শনিবার বার্নলির বিপক্ষে ম্যাচ লিভারপুলের। এই ম্যাচে সালাহকে পাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। অন্তত আর্নে স্লটের মন্তব্যে সেটি স্পষ্ট। ম্যাচ পূববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, মিশর তারকা দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাঁর আগমনে খুশি তিনি। একই সঙ্গে সালাহ কেন তার দলে অপরিহার্য, সেটিরও ব্যাখ্যা দিলেন ডাচ ম্যানেজার।
স্লট বলেন, ‘আমি খুবই খুশি সে ফিরেছে (মো. সালাহ)। সালাহ ক্লাব এবং আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার দলে যদি ১৫ জন আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ও থাকত, তবুও সালাহকে ফিরে পেলে আমি খুশিই হতাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমাদের দলে তেমন পরিস্থিতি নেই। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তাঁকে দেখতে পেয়ে খুশি লাগছে।’
একপ্রকার হাপিতেশ্যে থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ সালাহ। ম্যাচের পর ম্যাচ সাইটবেঞ্চে বসা কিংবা গেইম টাইম পাচ্ছিলেন না লিভারপুলে। তবে দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে ঠিকই রিদমে ফেরেন এই উইঙ্গার।
সালাহর দল সেমিফাইনালে সেনেগালের কাছে হারলেও তিনি ৮ ম্যাচে ৪টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। নিশ্চয়ই তা তাঁকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। তবে এই মুর্হূতে তাঁর মন কিছুটা হলেও খারাপ।
আফকনের সেমিফাইনালে আগে সালাহ বলেছিলেন, ‘দেশের আর কেউ আমার চেয়ে বেশি এই শিরোপা (আফকন) জিততে চায় না। আমি ফুটবলে সবকিছু জিতেছি, এইটা ছাড়া এবং আমি অনেক দিন ধরে এই চাপ বহন করে আসছি।’

এক বছর পরই অ্যাস্টন ভিলা
ছাড়লেন ডাচ ফরোয়ার্ড ডনিয়েল মালেন। ২১.৬ মিলিয়ন পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ইতালিয়ান ক্লাব
রোমায় যোগ দিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
আতলেতিকো মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের
আগ্রহ থাকলেও মালেনকে দলে ভেড়াতে সক্ষম হয়েছে রোমা। গত বছরের ১৪ জানুয়ারি বরুশিয়া ডর্টমুন্ড
থেকে প্রায় ২১ মিলিয়ন পাউন্ডে মালেনকে দলে নেয় অ্যাস্টন ভিলা।
ভিলার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা
মিলিয়ে ৪৬ ম্যাচ খেলেছেন মালেন। এই সময়ে ১০ গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেছেন।
প্রিমিয়ার লিগের এই মৌসুমে
মালেন ২১ ম্যাচে করেছেন ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট। প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ারে ৩৫ ম্যাচে ৭
গোল করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
মালেনের বিদায়ে অ্যাস্টন
ভিলার আক্রমণভাগে এখন মূলত অলি ওয়াটকিনস ও এভান গেসাঁদই ভরসা। তবে গেসাঁদ এখনো প্রিমিয়ার
লিগে গোলের দেখা পাননি।
ফরোয়ার্ড সংকট কাটাতে ভিলা
বর্তমানে রোমার স্ট্রাইকার ট্যামি আব্রাহামের দিকে নজর দিচ্ছে। বর্তমানে ধারে বেসিকতাসে
খেলছেন তিনি।
চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোতে
ভিলা ১৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ব্রায়ান মাদজো ও অ্যালিসনকে দলে ভিড়িয়েছে। তাদের দুজনকেই
ভবিষ্যতের বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘিরে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বলেছে, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসা খেলোয়াড়, সমর্থক ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
মিরের প্রতিবেদন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত ভিসা স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটক, ক্রীড়াবিদ, তাঁদের পরিবার এবং সংবাদমাধ্যমেন কর্মীদের জন্য যে অ-অভিবাসী ভিসা দেওয়া হয়, তা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কল্যাণব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে এসব দেশের নাগরিকরা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এই তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, কলম্বিয়া, মরক্কো, ইরান, সেনেগাল, ঘানা, মিসর, আইভরি কোস্টসহ বেশ কিছু দেশ—যাদের অনেকেই এবারের ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে এসব দেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে তাঁরা বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে বাধার মুখে পড়তে পারেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা পর্যটক, খেলোয়াড় ও গণমাধ্যমকর্মীরা অ-অভিবাসী ভিসার আওতায় পড়েন।’
তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ব্যাপক এই নীতিগত পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাসে ভিসা প্রক্রিয়া ধীরগতির হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে অ-অভিবাসী ভিসার আবেদন যাচাই প্রক্রিয়াও কঠোর ও দীর্ঘ হতে পারে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাষ্ট্র শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে ‘অস্বাগত ও বৈরী পরিবেশ’ তৈরি করতে পারে।
এর আগে গত নভেম্বর মাসে ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যৌথভাবে ‘ফিফা পাস’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেন। এই ব্যবস্থার আওতায় বিশ্বকাপের টিকিটধারীরা দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেন, ‘টিকিট থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। নিরাপত্তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘ফিফা পাস’ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চলতি বছরের শুরুতেই প্রকাশ করা হবে।

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) ২০২৫ টুর্নামেন্টের পর্দা নামতে যাচ্ছে। ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে সেনেগাল ও মরক্কো। এই ম্যাচ দিয়ে নিশ্চিত হচ্ছে একটি বিষয়—এবারের আফকন শিরোপা উঠছে একজন আফ্রিকান কোচের হাতেই। ফাইনালে মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই ও সেনেগালের কোচ পাপে থিয়াওয়ের লড়াই আফ্রিকান কোচিংয়ের মান ও সক্ষমতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
রোববার, ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টকে সিংহাসনচ্যুত করে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে আফ্রিকা।
সেমিফাইনালে মরক্কো মুখোমুখি হয়েছিল নাইজেরিয়ার। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে স্বাগতিকেরা। এই জয়ে ৫০ বছর পর দ্বিতীয়বার আফকন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন আরও কাছে টেনে আনল অ্যাটলাস লায়ন্সরা।
আরও পড়ুন
| বাফুফেকে ফিফা সভাপতির সম্মাননা স্মারক ক্ষুদ্রাকৃতির ‘বিশ্বকাপ ট্রফি’ |
|
আরেক সেমিফাইনালে সেনেগাল হারায় সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিশরকে। সাবেক লিভারপুল তারকা সাদিও মানের দুর্দান্ত গোলে জয় নিশ্চিত করে লায়ন্স অব তেরাঙ্গা। এই হারে ভেঙে যায় মিশর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর প্রথম আফকন শিরোপা জয়ের স্বপ্ন।
সেনেগালও দ্বিতীয়বার আফকন জয়ের পথে রয়েছে। ২০২১ সালে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল দলটি।
এবারের আফকনে একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো সেমিফাইনালের চার দলের চারজন কোচই আফ্রিকান। মরক্কো, সেনেগাল, নাইজেরিয়া ও মিসর—সব দলই স্থানীয় কোচের নেতৃত্বে খেলেছে। বিষয়টি আফ্রিকান ফুটবলে ঘরোয়া কোচদের ওপর আস্থার বাড়তি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আফকনের ইতিহাসে শুরুতে বিদেশি কোচদের প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যপট বদলেছে। এবারের সংস্করণে অংশ নেওয়া ২৪ দলের মধ্যে ১৪ দলের কোচ ছিলেন আফ্রিকান। বাকি ১০ জন বিদেশি কোচের মধ্যে ৯ জন ইউরোপীয় এবং একজন দক্ষিণ আমেরিকান।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো—শেষ চারটি আফকন শিরোপাই জিতেছে নিজ দেশের কোচের অধীনে দলগুলো। ২০২৩ সালে আইভরি কোস্টকে চ্যাম্পিয়ন করেন এমারসে ফায়ে, ২০২১ সালে সেনেগালকে শিরোপা এনে দেন আলিউ সিসে, আর ২০১৯ সালে আলজেরিয়াকে চ্যাম্পিয়ন করেন জেমাল বেলমাদি।
আফকনের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৩৪ আসরের মধ্যে আফ্রিকান কোচরা ১৮ বার শিরোপা জিতেছেন, বিদেশি কোচরা জিতেছেন ১৬ বার। ২০২৫ আসর শেষে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৯-এ পৌঁছাবে—এটা নিশ্চিত।
এখন কেবল অপেক্ষা—মরক্কোর ওয়ালিদ রেগরাগুই নাকি সেনেগালের পাপে থিয়াও, কে হবেন আফ্রিকার নতুন রাজা।