২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১:৫৫ পিএম

হুয়েস্কার বিপক্ষে ডার্বি ম্যাচে লাল কার্ড দেখার পর প্রতিপক্ষ অধিনায়কের মুখে সজোরে ঘুষি মারেন রিয়াল সারাগোসার এই আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক। স্প্যানিশ ফুটবলে এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্প্যানিশ ফুটবলে এক দুর্ঘটনার ঘটালেন রিয়াল সারাগোসার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। গতকাল হুয়েস্কার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি ম্যাচে মেজাজ হারিয়ে প্রতিপক্ষ অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে সরাসরি ঘুষি মেরে বসেন এই আর্জেন্টাইন। এই ঘটনার পর আন্দ্রাদাকে এখন দীর্ঘমেয়াদী ও ঐতিহাসিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের এই ম্যাচটি অবনমন এড়ানোর লড়াইয়ের কারণে আগে থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। খেলার প্রথমার্ধে পেনাল্টি ঠেকিয়ে সারাগোসাকে লড়াইয়ে রেখেছিলেন বোকা জুনিয়র্সের সাবেক এই ফুটবলার। তবে ম্যাচের শেষ দিকে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। দলের ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকার মুহূর্তে হুয়েস্কার এক ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দেওয়ায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু নাটকীয়তা তখনো বাকি ছিল।
আরও পড়ুন
| ঘুষি মেরে লাল কার্ড পেলেন দুই দলের গোলকিপার |
|
মাঠ ছাড়ার আগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে আন্দ্রাদা তেড়ে যান হুয়েস্কা অধিনায়ক পুলিদোর দিকে, তাঁর মুখে সজোরে আঘাত করেন। এই ঘটনায় মাঠের ভেতর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। আন্দ্রাদার ঘুষিতে পুলিদোর মুখ ফুলে যায়, আঘাতটি বেশ গুরুতর ছিল বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।
এই ঘটনার পর চারদিকে বইছে সমালোচনার ঝড়। রিয়াল সারাগোসার অধিনায়ক ফ্রাঞ্চো সেরানো ক্লাবের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে বলেছেন, ‘সারাগোসা এই ধরনের আচরণ সমর্থন করে না। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা লজ্জিত।’ সারাগোসা কোচ ডেভিড নাভারোও এই ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে জনরোষের মুখে পড়ে মুখ খুলেছেন খোদ আন্দ্রাদা। নিজের কাজের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে তার জন্য আমি গভীরভাবে অনুতপ্ত। এটি ক্লাবের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমার এমনটা করা উচিত হয়নি।’ নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, এর আগে তিনি কখনোই এমন উগ্র আচরণ করেননি। স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর গুঞ্জন, সারাগোসা কর্তৃপক্ষ হয়তো এই মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলোতে আন্দ্রাদাকে আর মাঠে নামাবে না, এমনকি তার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও বাতিল হতে পারে। লিগ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্দ্রাদাকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা ও লম্বা সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। ফুটবল বিশ্বে একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের এমন আচরণকে কোনোভাবেই সহজভাবে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ।
No posts available.
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৮ পিএম

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগ সেগুন্ডা ডিভিশনে রোববারের ডার্বি ম্যাচ পরিণত হলো বিশৃঙ্খলার এক কদর্য প্রদর্শনীতে। রিয়াল জারাগোজা ও এসডি হুয়েসকার মধ্যকার লড়াই শেষ মুহূর্তে গিয়ে গড়ায় হাতাহাতিতে, যেখানে একাধিক লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ম্যাচ।
ম্যাচের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের আট মিনিটে আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারান জারাগোজার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা। খেলার পরিস্থিতি উপেক্ষা করে তিনি এগিয়ে গিয়ে হুয়েসকা অধিনায়ক হোর্হে পুলিদোর মুখে ঘুষি মেরে বসে।
সেই ঘটনা কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন হুয়েসকার গোলরক্ষক দানি জিমেনেজ পাল্টা ঘুষি মেরে বসেন আন্দ্রাদাকে।
পুরো ঘটনায় ভিএআর রিভিউয়ের পর আন্দ্রাদা ও জিমেনের পাশাপাশি জারাগোজার ডানি তাসেন্দেও লাল কার্ড দেখেন।
আরও পড়ুন
| প্রথমবার টেস্ট দলে তামিম-অমিত |
|
উত্তেজনায় ভরা ম্যাচটি এমনিতেই ছিল অবনমন লড়াইয়ের চাপের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত অস্কার সিয়েলভার একমাত্র গোলে জয় পায় হুয়েসকা। এই জয়ে তাদের পয়েন্ট দাঁড়ায় ৩৬ আর লিগ টেবিলে উঠে আসে ১৯তম স্থানে। অন্যদিকে ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়ে যায় জারাগোজা।
ম্যাচ শেষে হুয়েস্কা কোচ হোসে লুইস অলত্রা ঘটনার কোনো সাফাই দেননি। বরং হতাশা প্রকাশ করে করেন তিনি।
“এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ হারানোর মতো ঘটনা। পরিস্থিতি বোঝা যায়, কিন্তু এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা থামানোর উপায়ও খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
“এটা খুবই কদর্য দৃশ্য। আজকে আরাগোনীয় ফুটবলের উদযাপন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মানুষ এখন শুধু এই ঘটনাই মনে রাখবে।”
উত্তেজনার আগুনে পুড়ে যাওয়া এই ম্যাচ এখন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দিকেই নজর কাড়ছে- বিশেষ করে আন্দ্রাদার আচরণ বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে।

জাভি সিমন্সের মৌসুমটা যেন এক মুহূর্তেই থমকে গেল। হাঁটুর গুরুতর চোটে শুধু ক্লাব ফুটবলই নয়, সামনের বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেছেন নেদারল্যান্ডসের এই তরুণ মিডফিল্ডার।
শনিবার টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে ওলভসের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে ৬৩ মিনিটে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় সিমন্সকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডান হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে গেছে। যা দীর্ঘ সময়ের জন্য তাকে মাঠের বাইরে রাখবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে রোববার আবেগঘন বার্তায় ২৩ বছর বয়সী এই ডাচ তারকা নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
“জীবন কখনও কখনও নিষ্ঠুর হয়। আজ সেটাই অনুভব করছি। আমার মৌসুম হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেছে… এখনও বিষয়টা মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। সত্যি বলতে, আমি ভেঙে পড়েছি।”
আরও পড়ুন
| রাফিনিয়াকে বারবার মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার ব্যখ্যা দিলেন জাভি |
|
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার হতাশাও লুকাননি সিমন্স।
“দলের জন্য লড়াই করতে চেয়েছিলাম সবসময়। কিন্তু সেই সুযোগটাই এখন কেড়ে নেওয়া হয়েছে… সঙ্গে বিশ্বকাপও। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন, এই গ্রীষ্মে... শেষ হয়ে গেল।”
রোনাল্ড কোম্যানের দলে সিমন্স ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য। ২০২২ বিশ্বকাপে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। মার্চে প্রীতি ম্যাচেও ছিলেন একাদশে।
এই চোট টটেনহ্যামের জন্যও বড় ধাক্কা। এমনিতেই কঠিন মৌসুম কাটাচ্ছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি। প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে ১৮তম স্থানে আছে তারা, অবনমন অঞ্চল থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে।
মৌসুমের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিমন্সের অনুপস্থিতি টটেনহামের টিকে থাকার লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনায় অবিচ্ছেদ্য অংশ এখন রাফিনিয়া। ব্রাজিলিয়ান এই উইঙ্গারের অনুপস্থিতিতে বেশ ভুগতে দেখা যায় স্প্যানিশ জায়ান্টদের। নিয়মিত গোল-অ্যাসিস্ট করা ছাড়াও ফ্লিকের কৌশলের ফ্লিকের প্রেসিং ফুটবল এবং হাই-ইনটেনসিটি গেমপ্লেতে রাফিনিয়ার কার্যকর ভূমিকা তাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। চলতি মৌসুমে তাকে ছাড়া জয় পেতেও বেশ বেগ পেতে হয়েছে বার্সাকে। অথচ এই রাফিনিয়াই একটা সময় বেঞ্চে বসে চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন।
পেশাদার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন রাফিনিয়া। ২০২২ সালে লিডস ইউনাইটেড থেকে বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার পর কাতালান ক্লাবটিতে একেবারেই থিতু হতে পারছিলেন না। বার্সা সেই সময়ের কোচ জাভি হার্নান্দেজও ব্রাজিলিয়ান তারকা উইঙ্গারকে ঠিকঠাক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। একটা সময় নিয়মিত বেঞ্চে বসেই সময় কাটানো রাফিনিয়া ক্লাব ছাড়ার মতো সিদ্ধান্তও নাকি নিয়েছিলেন।
ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পরেই রাফিনিয়াকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া জাভির অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। বার্সার সাবেক এই কোচের এমন সিদ্ধান্ত বেশ সমালোচনার মুখেও পড়ে। তা রাফিনিয়ার ওপর কেন অনাস্থা ছিল জাভির? ফ্লিকের কোচিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাফিনিয়া কেন জাভির বার্সায় অবহেলিত ছিল? সম্প্রতি জাভিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন তিনি নিয়মিত ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে এভাবে বদলি হিসেবে তুলে নিতেন?
সম্প্রতি রোমারিও-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভি বলেন,
‘আমি সবসময়ই রাফাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছি এবং ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। কিন্তু একজন কোচকে ম্যাচের পরিস্থিতি এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বুঝতে হয়। যদি কোনো খেলোয়াড় মাঠে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারে, তবে অন্য কাউকে সুযোগ দিতেই হয়।’
জাভি আরও যোগ করেন,
‘আমাদের দলে এমন অনেক খেলোয়াড় ছিল যারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখত। অনুশীলনের সময় রাফিনিয়ার সঙ্গে হওয়া খুব চমৎকার একটি আলাপের কথা আমার মনে পড়ছে। ও তখন বেশ হতাশ ছিল, আর আমি ওকে বলেছিলাম, “রাফা, তুমি এখানে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছ। তাই চিন্তার কিছু নেই। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। তুমি হয়তো স্বাভাবিক হতে পারছ না, কিন্তু শান্ত থাকো।’
পরিবর্তনগুলো যে রাফিনিয়াকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছিল তা স্বীকার করে জাভি বলেন,
‘আমি বুঝি যে বারবার মাঠ থেকে তুলে নেওয়াটা ওকে সাহায্য করেনি, কিন্তু এখন ও স্বমহিমায় জ্বলে উঠেছে। আমরা আগে থেকেই ওর মধ্যে অসাধারণ প্রতিভা দেখেছিলাম। আমি ওর জন্য খুব খুশি, কারণ ও একজন ভালো মানুষ, একজন লড়াকু ফুটবলার, দায়িত্বশীল এবং একজন সত্যিকারের নেতা।’
কঠিন সেই সময় পার করে রাফিনিয়া এখন ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন। বিশেষ করে সবশেষ মৌসুমে এককথায় অতুলনীয় ছিলেন তিনি। অনেকের মতে ওই মৌসুমে ব্যালন ডি’অর জেতা উচিত ছিল ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারেরই। তাঁর জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করেই হান্সি ফ্লিকের দল জিতেছিল তিনটি শিরোপা।
ফ্লিকের অধীনে প্রথম মৌসেুমে ৫৭ ম্যাচে ৩৪ গোল ও ২২টি অ্যাসিস্ট করেন রাফিনিয়া। যেখানে জাভির কোচিংয়ে ৫০ ম্যাচে মাত্র ১০ গোল ও ১০ অ্যাসিস্ট করেন তিনি। শুধু গোল-অ্যাসিস্টই নয় ফ্লিকের বার্সায় কাউন্টার অ্যাটাকে তাঁর গতি এবং রক্ষণকে সাহায্য করার মানসিকতা দলের মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে এক দারুণ ভারসাম্য তৈরি করেছে। এখন কেবল একজন উইঙ্গার হিসেবেই নয়, বরং দলের সত্যিকারের নেতা হিসেবেও মাঠ মাতাচ্ছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

একের পর এক হারে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শেষ পর্যন্ত কোচের বিদায়—সবকিছু মিলিয়ে তপ্ত রোদে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টির খুব প্রয়োজন ছিল চেলসির। অবশেষে সংকটের কালো মেঘ সরিয়ে যেন একটুখানি সোনালি রোদের দেখা পেল ‘ব্লুজরা’। চরম এক অস্থির সময়ে ঘাম ঝরানো এক জয়ে এফএ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করল চেলসি।
ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে এফএ কাপের সেমি ফাইনালে আজ লিডস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটলো চেলসি। ক্লাবটির জয়ে নায়ক এনজো ফার্নান্দেস। আর্জেন্টাইন তারকা মিডফিল্ডারের একমাত্র গোলই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়।
আগামী ১৬ মে ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির মুখোমুখি হবে চেলসি। দ্বিতীয় স্তরের দল সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে পেপ গার্দিওলার দল। আটবারের এফএ কাপ জয়ী চেলসি এই নিয়ে ১৭ বারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল। ২০২২ সালে লিভারপুলের কাছে হারের পর এটাই তাদের প্রথম এফএ কাপ ফাইনাল।
ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলের হারের পর মাত্র চার দিন আগেই ছাঁটাই হন চেলসির কোচ লিয়াম রসেনিয়র। এরমধ্যে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চেলসি তাদের শেষ আট ম্যাচের সাতটিতেই হার দেখে—যার মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে তারা কোনো গোলই করতে পারেনি। তবে এফএ কোয়ার্টার ফাইনালে লিগ ওয়ানের দল পোর্ট ভেলকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস সঙ্গী করে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে চলে গেল চেলসি।
চলতি মৌসুমে চেলসির বিপক্ষে অপরাজিত ছিল লিডস ইউনাইটেড। অ্যালান্ড রোডে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ের পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফিরতি দেখায় ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। এফএ কাপের সেমিফাইনালেও তাদের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়েছে লিডস। ম্যাচে ৫৪ শতাংশ বল পজিশনে রাখা চেলসি মোট সাতটি শট নিয়ে দুইটি লক্ষ্যে রাখে। বিপরীতে ১০টি শট নেওয়া লিডস গোলমুখে শট রেখেছে তিনটি।
ম্যাচের শুরুটা লিডস বেশ উজ্জ্বলভাবে করে। ৪ মিনিটে আও তানাকার শট পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়, দুই মিনিট পরই লিডসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রেন্ডন অ্যারনসন চেলসির গোলকিপার রবার্ত সানচেজকে একা পেয়েও গোলবঞ্চিত হন। দুর্দান্ত এক সেভে তাকে ঠেকিয়ে দেন সানচেজ। বিপরীতে ধীরে ধীরে বলের দখল এবং মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে চেলসি।
প্রথামার্ধে কমবেশি গোলের সুযোগ এসেছিল এনজো ফার্নান্দেজ, পেদ্রো নেতো এবং আলেহান্দ্রো গারনাচোর। জোয়াও পেড্রোর শট পোস্টের একদম কোণায় লাগে। পেড্রোর সেই শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলটি পায় চেলসি। নেতোর নিখুঁত এক ক্রস ধরে কাছ থেকে হেডে বল জালে জড়ান ফার্নান্দেস।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতা সূচক গোলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালায় লিডস। চেলসির গোলকিপার সানচেজকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয় তাদের একের পর এক আক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে। এরমধ্যে চোট পেয়ে চেলসির গোলকিপার সানচেজ খানিকটা সময় চিকিৎসার নেন। তবে লিডস দাবি করে যে, চেলসিকে কৌশলগত বিরতি দেওয়ার জন্য স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক চোটের নাটক করছেন। এ নিয়ে টাচলাইনের ধারে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতিও শুরু হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে তানাকা এবং বদলি নামা লিডসের মিডফিল্ডার এন্টন স্ট্যাচ দুজনেই বল জালে জড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে দাঁতে দাঁত চেপে জাল অক্ষত রাখে চেলসির দৃঢ রক্ষণভাগ। ফলে ১৯৮৭ সালের পর এফএ কাপে লিডসের সেরা যাত্রা সেমিফাইনালেই শেষ হলো। অন্যদিকে গত কয়েক সপ্তাহের চরম হতাশায় নিমজ্জিত ব্লুজ সমর্থকদের মনে অবশেষে কিছুটা স্বস্তির সুবাতাস বইল।

দুঃসময় যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ইতালিয়ান ফুটবলের। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে যেতে না পারা দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে বড় ধরনের রেফারিং কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে। সিরি আ ও সিরি বি’র রেফারি নিয়োগকারী দলের প্রধান জিয়ানলুকা রোচ্চির বিরুদ্ধে ওঠা 'স্পোর্টিং ফ্রড' বা ক্রীড়া জালিয়াতির তদন্তের প্রেক্ষিতে নিজেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এজিআই-এর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ মৌসুমের খেলায় ‘ক্রীড়া জালিয়াতিতে সংশ্লিষ্টতার’ অভিযোগে সাবেক আন্তর্জাতিক রেফারি রোচ্চির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে তার একটি প্রাথমিক শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতালিয়ান রেফারি অ্যাসোসিয়েশন (এআইএ) একটি বিবৃতি দিয়ে রোচ্চির এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মিলান পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস এই তদন্ত শুরু করার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে, ইতালির শীর্ষ দুই বিভাগের ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সুপারভাইজার আন্দ্রেয়া গারভাসোনিও তদন্তের আওতায় আসায় নিজেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন।
সিরি ‘আ’ ও সিরি বি-এর রেফারি নির্বাচক রোকি এআইএ-এর বিবৃতিতে বলেছেন,
‘পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া এই বেদনাদায়ক ও কঠিন সিদ্ধান্তটির উদ্দেশ্য হলো বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত না করা। আমি নিশ্চিত যে, এই প্রক্রিয়া শেষে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসব।’
অভিযোগ উঠেছে যে, ইন্টার মিলানের একটি ম্যাচে রোচ্চি একজন নির্দিষ্ট রেফারিকে নিয়োগ দেওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন, কারণ ওই রেফারিকে ‘ইন্টার মিলান পছন্দ করত’। এছাড়া অন্য একটি ম্যাচে ইন্টারের একজন খেলোয়াড় প্রতিপক্ষকে কনুই দিয়ে আঘাত করার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি কেন হস্তক্ষেপ করেনি, সেই বিষয়টিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এজিআই-এর মতে, রোচ্চির বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ হলো—গত বছরের মার্চে উদিনেসে ও পার্মার মধ্যকার ম্যাচে (যেটিতে উদিনেসে ১-০ গোলে জেতে) একটি হ্যান্ডবল অপরাধের জন্য অন-ফিল্ড মনিটর চেক করতে তিনি একজন ভিএআর কর্মকর্তাকে চাপ দিয়েছিলেন।
দাবি করা হচ্ছে যে, রেফারি এবং ভিএআর কর্মকর্তা আগেই পেনাল্টি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। ইতালিতে 'স্পোর্টিং ফ্রড' বা ক্রীড়া জালিয়াতি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর জন্য সর্বোচ্চ ছয় বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।