
ছয় বছর আগে ছেড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ। দুই ক্লাব বদলে এখন আছেন আল নাসরে। তবে স্প্যানিশ ক্লাবটির প্রতি বরাবরই আলাদা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে তার কণ্ঠে। এখানেই যে কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়। ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে জিতেছেন বেশ কিছু বড় খেতাব। স্পেন ও ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাব রিয়ালকে অনেকেই মানেন সেরাদের সেরা হিসেবে। এবার বড় স্বীকৃতি দিলেন রোনালদোও। তার চোখে মাদ্রিদের ক্লাবটিই ইতিহাসের সেরা ক্লাব।
২০০৯ সালে সেই সময়ের রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আরেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়ালে নাম লেখান রোনালদো। নয় বছরের অধ্যায়ে হয়েছেন ক্লাবটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলস্কোরার। হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সহ মোট চারবার জিতেছেন এই শিরোপা। সাথে রয়েছে লা লিগা সহ আরও বেশ কিছু শিরোপা। রোনালদো ক্লাব ছাড়ার পর এখন পর্যন্ত দুই বার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা রিয়াল সব মিলিয়ে এই শিরোপা জিতেছেন রেকর্ড ১৫ বার।
আরও পড়ুন: ৯০০ গোল হিমালয়ে রোনালদো
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সাবেক ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দের সাথে এক আলাপচারিতায় রোনালদো তুলে ধরেন রিয়ালের সফলতার রহস্য। “আমি রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসি। রিয়াল মাদ্রিদ ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ক্লাব। লোকেরা বলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ভাগ্যবান, তবে এটা ভাগ্যের ব্যাপার নয়। এটা তাদের মানসিকতার ব্যাপার। তারা এসব বড় মুহুর্তগুলির জন্যই প্রস্তুত থাকে।”
রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এত সাফল্যের পেছনে বারবার খাঁদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য শক্তি। যার সবচেয়ে বেশি নজির দেখা যায় ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। অসংখ্য হারা ম্যাচ রিয়াল এখানে জিতেছে শেষ মুহূর্তের ঝলক দেখিয়ে। প্রতিপক্ষের জন্য তাই রিয়ালের মাঠ থেকে বিজয়ীর বেশে ফেরাটা হয়ে দাঁড়ায় প্রায় অসম্ভব কাজ।

নিজে সেখানে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে রোনালদো মনে করেন, এই স্টেডিয়ামেরই আলাদা একটা আবহ আছে, যা গড়ে দেয় পার্থক্য। “সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অন্যরকম একটা আবহ থাকে। বার্নাব্যুতে আলাদা একটা শক্তি আছে। অন্য যেকোনো স্টেডিয়াম থেকে এটা একেবারেই ভিন্ন। এখানে যখন একটি দল ৮৫ বা ৯০ মিনিটে একটা গোল করে, তখনও তাদের ওপরই চাপ থাকে।”
রিয়ালের আক্রমণে এখন আছেন রোনালদোকে আদর্শ মেনে বেড়ে ওঠা কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুজনই আছেন এবারের ব্যালন ডি’অর জেতার লড়াইয়ে। রোনালদো তাদের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য বলেছেন আরও কিছু নামও। “কিলিয়ান এমবাপে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্যালন ডি'অর জিততে পারে, সম্ভবত (আর্লিং) হলান্ড, জুড বেলিংহাম, ভিনিসিয়ুস আর লামিন ইয়ামালও।”
No posts available.

পক্ষান্তরে ভুলটা নিকোলাস ভাসিলজেরই। বল রিসিভের পর তার দূর্বল ক্লিয়ারেন্স পৌঁছে যায় নিকোলো বারেল্লার কাছে। দ্রুতই তা মইজে কিনেকে পাস দেন তিনি। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ভুল করেননি ফিওরেন্তিনা ফরোয়ার্ড। দারুণ এক শটে বসনিয়ার জালে বল জড়ান তিনি। তাতেই বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচঘড়ির ১৫ মিনিটে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার
বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বিশ্বকাপ প্লে অফ বাছাইয়ের ফাইনালের প্রথমার্ধে
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি।
প্রথমার্ধে বল পজিশনে খানিক পিছিয়ে থাকলেও একের পর এক আক্রমণ শানায় বিশ্বকাপে একবার খেলতে পারা বসনিয়া। তাদের ১৩টি শটের মধ্যেই ৪টি ছিল গোলমুখে। আর গাত্তুসোর শিষ্যরা সেখানে অনেকটা পিছিয়ে। বসনিয়ামুখে মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছে অতিথিরা। চারটি গোল সেভ করেছেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা।
প্রথম গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বসনিয়া। প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। তবে বার বারই তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন দোনারুম্মা। ম্যাচ ঘড়ির ২০তম মিনিটে ইতালির গোলকিপার দারুণ একটি সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বসনিয়ার কর্নার শট সরাসরি চয়ে যায় ইভান বেসিচের কাছে। বল রিসিভের সঙ্গে সঙ্গেই বুলেট গতির শট নেন এই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। তার সে শট রুখে দেন ম্যানচেস্টার সিটি গোলকিপার।
ঠিক তার তিন ৭মিনিট পরই আবারও আক্রমণে ওঠে বসনিয়া। তবে নিকোলো কাটিকের দুর্বল হেডার গ্লাভস বন্দী করতে খুব একটা হ্যাপা পোহাতে হয়নি দোনারুম্মা।
৩৮ মিনিটে ফেরার আরও একটি সুযোগ পায় বসিনিয়া। ডানপ্রান্ত ধরে আক্রমণে ওঠেন বজরকতারেভিচ। এরপর আকর্ষণীয় ক্রস পাঠান বক্সে। এরমেদিন দেমিরোভিচ সেটি হেডারে চেষ্টা করেন, কিন্তু বল পোস্টের বাইরে চলে যায়।
৪১ মিনিটে অঘটনের শিকার
হয় ইতালি। মেমিচকে ফাউল করার কারণে লাল কার্ড দেখেন আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। দ্বিতীয়ার্ধ
১০ জন নিয়েই খেলতে হবে ইতালিকে।

জীবন বড়ই অদ্ভুতুড়ে! কখনও শেষ বিকেলে নীড়ে ফেরা সাদা বকের দল। আজ শিশু, কাল যুবক, পরশু বয়োবৃদ্ধ। এরপর…, চির অচিনের সঙ্গে মিশে যাওয়া। যাপিত জীবনের নানা রঙ। ফুটবলেও তাই। এখানে কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন ফুটবলাররা, ঝরেও পড়েন কোনো এক ভোরে। কালের পরিক্রমায় নিজ দেশের জার্সি, বুট আলমারিতে তুলে রাখতে হয় তাদের। যে মাঠে দিব্যি চষে বেড়াতেন, সেটাও হয়ে পড়ে অতীত।
লিওনেল মেসির বেলাও কী সেটা ঘটতে যাচ্ছে না? নির্মম অথচ একটি চরম সত্যের সামনে দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন মহামানব। বুধবার বুয়েনস আইরেসে বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রীতি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ! আর তা যদি হয়ে থাকে এবং বিশ্বকাপের ২২তম আসর থেকে যদি ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড অবসর নেন তবে এটাই হবে দেশের মাটিতে মেসির সবশেষ ম্যাচ।
যদিও টিএনটি স্পোর্টসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনা বর্তমানে হন্ডুরাস এবং সার্বিয়ার সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজনের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে পারে ৬ জুন, আর আলবিসেলেস্তারা ইউরোপের দল সার্বিয়ার মুখোমুখি হতে পারে ৯ জুল অ্যালাবামায়। যার একটি আর্জেন্টিনার মাটিতে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তা হলে ঘরের মাটিতে সবশেষ ম্যাচ খেলার জন্য অপেক্ষা বাড়বে মেসির।
দেশের জার্সিতে ১৮৮ ম্যাচে ১১৫ গোল করা মেসি সবশেষ মৌরাতানিয়ার বিপক্ষে ৪৫ মিনিট মাঠে ছিলেন। তবে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তাকে পূর্ণশক্তির দলের নেতৃত্ব দিতে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি।
৩৮ বছর বয়সী মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দেননি, তবে বাছাইপর্বে তিনি পুরোপুরি অংশ নিয়েছেন। স্কালোনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই সুপারস্টার সম্ভবত তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলবেন।
স্কালোনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে যেন বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পার, যা সম্ভবত তার শেষ বিশ্বকাপ হবে। আমরা চাই সে এই অভিজ্ঞতাটি উপভোগ করুক, কারণ পরে এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ খুব মিস করে খেলোয়াড়রা।”
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনা তাদের পরিচিত মূল খেলোয়াড়দের নিয়েই মাঠে নামবে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা দলটি এবারের বিশ্বকাপেও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিবেচিত।
স্কালোনি বলেন, “আমাদের পরিচিত বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই খেলবে। এটি হবে চূড়ান্ত পরীক্ষা। পরে আমরা কিছু পরিবর্তন করে তরুণদেরও দেখব।”
ইতোমধ্যে তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকেই চূড়ান্ত ২৬ সদস্যের দল মে মাসের শেষে ঘোষণা করা হবে। আর এ তালিকায় নিশ্চিতভাবে রয়েছে আর্জেন্টিনাকে সবশেষ বিশ্বকাপ জেতানো নায়কের নাম।

ফিফা বিশ্বকাপের কাউন্ট ডাউন চলছে। ৭১ দিন পর শুরু হবে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিসর ৪৮ দলের অংশগ্রহণ দেখা যাবে ২২তম আসরে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ছাড়াও এবার প্রথমবারের বিশ্বমঞ্চে অংশ নেবে কুরাসাওয়ের মতো নতুন কয়েকটি দেশ।
বিশ্বকাপের দরজায় কড়া নাড়ার মুহূর্তে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে। ফিফা প্রীতি ম্যাচে একে অন্যের বিপক্ষে খেলছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বুধবার বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠে আফ্রিকান দেশ জাম্বিয়াকে আতিথ্য দেবে। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে লড়বে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।
আলবার্তো হোসে আর্মান্দো স্টেডিয়ামে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর পাঁচটা ১৫ মিনিটে শুরু আর্জেন্টিনা ও জাম্বিয়ার লড়াই। আর ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে ব্রাজিল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটি ঠিক তার ৪৫ মিনিট পর অনুষ্ঠিত হবে।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বিশ্বকাপের মূল আসরের আগে আর্জেন্টিনার ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ। যদিও বেশ কিছু গণমাধ্যম বলছে, বিশ্বকাপের আগে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচে নামতে পারে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, স্কালোনি এই ম্যাচে তাঁর স্কোয়াডের গভীরতা পরীক্ষার লক্ষ্যে এমন অনেক খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারেন যারা গত ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আর্জেন্টিনার রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মিত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। গোলপোস্টের নিচে জায়তা পেতে পারেন মার্সেইর গোলকিপার জেরোনিমো রুল্লি। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দির সঙ্গে তাগলিয়াফিকো, অগাস্টিন গিয়াই ও লুকাস মার্তিনেসের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মধ্যমাঠে লেয়ান্দ্রো পারেদেস ও গুলিয়ানো সিমিওনেদের ওপর ভরসা রাখতে পারেন কোচ। আক্রমণভাগে অধিনায়ক লিওনেল মেসি শুরু থেকে খেলবেন কি না তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা থাকলেও, হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন ফ্লাকো লোপেজ। এছাড়া বদলি হিসেবে মাঠে নামার অপেক্ষায় আছেন উদীয়মান তারকা ভ্যালেন্টিন বার্কো ও জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি।
নিজেদের সবশেষ প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারের পর মানসিকভাবে কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে ৭ জুন মিসরের বিপক্ষে তাদের আরেকটি ম্যাচ থাকলেও, চূড়ান্ত দল গঠনের ক্ষেত্রে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচটিকেই মূল মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন আনচেলোত্তি। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে অনুষ্ঠেয় এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ভাবছে না ব্রাজিল শিবির।

শোকগাঁথা নাকি সুখগাঁথা? দুঃখের অথৈ সাগরে ভাসা কিংবা অভিশাপ থেকে মুক্তির মঞ্চ প্রস্তুত । টানা দু’বার বিশ্বকাপ খেলতে না পারার তীব্র যন্ত্রণার অবসান কিংবা টানা তিনবার বিশ্বকাপের দর্শক বনে যাওয়ার দুঃস্বপ্ন থেকে এক ম্যাচের দূরত্ব্য। আজ সেই এক ম্যাচে লেখা হতে পারে পুরো ভিন্ন দু’টি গল্প।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বিলিনো পোলজেতে ইতালির সামনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। যে ম্যাচে ২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই ট্রেজেডির পুনরাবৃত্তি হতে পারে যে ম্যাচে। যে ম্যাচের মাহাত্ম ব্যাখা দিতে ‘মহাগুরুত্বপূর্ণ’ শব্দও অপ্রতুলই মনে হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই ম্যাচে জান-প্রাণ উজাড় করেই খেলবে দুই দল।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির যে জীবন দিতেও প্রস্তুত, সেটা জানা কথাই। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের পরিবেশ ইতিবাচক বলছেন ইতালির কোচ জেনেরো গাত্তুসো। তবে সতর্ক করেছেন, রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিবাদ করা যাবে না, ‘আমাদের প্রতিপক্ষ অনেক ফাউল করে।’
বসনিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে গাজেত্তা ডেলো স্পোর্টের সঙ্গে ‘ঐতিহাসিক’ ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন গাত্তুতো। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের টিকিট পেতে শিষ্যরা মাঠে ঠিক কী করবে? গাত্তুসোর জবাব, ‘ছেলেরা প্রথমে চায় বিশ্বকাপে যেতে। যদি ফল না আসে, তারা নীরবে কষ্ট ভোগ করবে, মনে হয় যেন তাদের কাঁধ শক্ত, কিন্তু তা সত্য নয়। আমি নিশ্চিত, তারা যা করা সম্ভব সব করবে। অনেকেই এই স্বপ্ন পূরণের জন্য জীবন উজাড় দিতে প্রস্তুত।’
প্রতিপক্ষ নিয়ে ইতালির কোচ বলেন, ‘বসনিয়া একটি শক্তিশালী দল। তাদের শক্তি এবং দুর্বলতা দু’টোই আছে, কিন্তু তারা চতুর। আমাদের পুরো নজর দিতে হবে নিজেদের খেলায়। প্রথম ১০-১৫ মিনিটে আমাদের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিটি আঘাতের জবাব দিতে হবে।’
গাত্তুসো আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দৃঢ থাকতে হবে, সহ্য করতে হবে। আমাদের প্রতিপক্ষ অনেক ফাউল করে, গড়ের তুলনায় প্রতি ম্যাচে প্রায় দশটি বেশি, এবং আমাদের সচেতন থাকতে হবে যাতে আমরা প্রতিক্রিয়া না দেখাই। কারণ রেফারির অভিজ্ঞতা খুব বেশি; তিনি প্রতিবাদে হাত উঁচু করা পছন্দ করেন না। তাই আমাদের সাবধান হতে হবে, কারণ ম্যাচের এই দিকও গুরুত্বপূর্ণ।’
আজ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা-ইতালি ম্যাচের বিজয়ী বিশ্বকাপে গ্রুপ বি-তে খেলবে, যেখানে থাকবে কাতার, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডা।

২০২৫-২৬ মৌসুমে তৃতীয়বারের মতো কোচ নিয়োগ দিল উত্তর লন্ডনের ক্লাব টটেনহাম হটস্পার। ইগর তুদোর বরখাস্তের পর অলিম্পিক মার্শেইর সাবেক কোচ রবার্তো দে জার্বিকে নিয়োগ দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার দে জার্বিকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে টটেনহাম। প্রিমিয়ার লিগে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে স্পার্সদের ডাগআউটে দেখা যাবে ৪৭ বর্ষী এই ইতালিয়ান কোচকে।
প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের ১৭তম স্থানে থাকা টটেনহাম রেলিগেশন জোন থেকে মাত্র এক পয়েন্ট দূরে। গত ২৮ ডিসেম্বরের পর লিগে কোনো জয়ের মুখ না দেখা ক্লাবটি এখন লিগে টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ে। আর এমন সময়ে দায়িত্ব পেলেন দে জার্বি। দল অবনমিত হলেও চুক্তিতে কোনো ‘ব্রেক ক্লজ’ নেই জার্বির।
টটেনহামে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দে জার্বি বলেন, “ঐতিহ্যবাহী একটি ক্লাবে যোগ দিতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব টটেনহাম। ক্লাব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার—তারা এমন একটি দল গড়তে চায় যারা বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে এবং এমন ফুটবল খেলবে, যা সমর্থকদের রোমাঞ্চিত ও অনুপ্রাণিত করবে। আমি এখানে এসেছি তার কারণ আমি তাদের লক্ষ্যকে বিশ্বাস করি।”
সাত ম্যাচ দায়িত্ব পালনের পর ইগর তুদোর চাকরি হারানোর পর দে জার্বিকে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির প্রস্তাব দেয় টটেনহাম। গত ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক মার্শেই ছাড়ার পর তিনি এক কথায় বেকার ছিলেন। তাই টটেনহামের অফারের পর চুপ থাকতে পারেননি। অবশ্য মৌসুম শেষে দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন দে জার্বি। কিন্তু টটেনহামের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী সপ্তাহ থেকে কাজ শুরু করতে রাজি হয়েছেন তিনি।