১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। মস্তিষ্কের রক্ত জমাট বাঁধায় অস্ত্রোপচারের পর বাড়িতে থাকাকালীন মৃত্যু হয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ডের।
আর্জেন্টিনার সরকারি কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত সাত সদস্যের দলটি যদি একটুও পেশাদারত্ব দেখাত, তবে বেঁচে থাকতেন এই ফুটবল কিংবদন্তি। দেশটির আদালতে আবারও শুরু হয়েছে ফুটবল কিংবদন্তিরর মৃত্যুর বিচার। সরকারপক্ষের আইনজীবীরা এবার সরাসরি বলেছেন, ম্যারাডোনার চিকিৎসক দল তাঁকে বাঁচানোর সুযোগ পেয়েও কাজে লাগায়নি।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা মেডিকেল টিম আগে থেকেই জানত, কিন্তু তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তারা নেয়নি।
নতুন বিচার প্রক্রিয়া শুরু: তিনজন নতুন বিচারপতির প্যানেলে ম্যারাডোনা মৃত্যু পরবর্তী বিচারকার্য পরিচালিত হচ্ছে। এখানে প্রায় ১০০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং এই প্রক্রিয়া জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
অভিযুক্ত সাতজন হলেন—নিউরোলজিস্ট লিওপোল্ডো লুকে, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অগাস্টিনা কোসাচভ, মনোবিজ্ঞানী কার্লোস দিয়াজ, চিকিৎসক ন্যান্সি এডিথ ফোরলিনি, নার্স রিকার্ডো আলমিরন ও মারিয়ানো আরিয়েল পেরোনি এবং চিকিৎসক পেড্রো পাবলো দি স্পাগনা। তারা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
পূর্ববর্তী বিচারের স্থগিতাদেশ: ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এই মামলার মূল বিচার শুরু হয়েছিল এবং তা প্রায় তিন মাস চলে। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে বিচারক জুলিয়েটা মাকিনতাচ আদালতের ভেতরে একটি ডকুমেন্টারির জন্য অননুমোদিতভাবে চিত্রগ্রহণের অনুমতি দেওয়ায় সেই বিচার বাতিল করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের ৮ থেকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
No posts available.
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

সান্তোসের ঘরের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর নিজের ভবিষ্যৎ এবং মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দেওয়ার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন ব্রাজিলিয়ান মহাতারকা নেইমার। কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব দেপোর্তিভো রেকলেটার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর নিজ সমর্থকদের দুয়োধ্বনির মুখে পড়তে হয় নেইমার ও তাঁর দলকে। ম্যাচের পর সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া ও নিজের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেন সান্তোসের ‘রাজপুত্র’।
কদিন আগে নেইমারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এমএলএস-এর ক্লাবগুলো মুখিয়ে আছে—এমন খবরে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে এফসি সিনসিনাটি নেইমারকে দলে ভেড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী। শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর নেইমারের যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর বিষয়ে তাঁর বাবা ইতিমধ্যে এমএলএস প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতিও নাকি নিচ্ছেন।
রেকলেটার বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর ‘মিক্সড জোনে’ নেইমারকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—আগামী ট্রান্সফার উইন্ডোতেই কি তিনি সান্তোস ছাড়ছেন? জবাবে নেইমার বলেন,
‘আমি জানি না। সত্যি বলতে, আমি এখনও কিছুই জানি না। সান্তোসের সঙ্গে বছরের শেষ পর্যন্ত আমার চুক্তি আছে এবং আমি সেটি পূর্ণ করার ইচ্ছা রাখি।’
মাঠে সমর্থকদের ক্ষোভ আর মাঠের বাইরে দলবদলের গুঞ্জন—সব মিলিয়ে নেইমারের সান্তোস অধ্যায় এখন দোদূল্যমান। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরেছিলেন নেইমার। দ্বিতীয় দফায় এই ক্লাবের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ ম্যাচে ১৫টি গোল এবং ৭টি অ্যাসিস্ট করে বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক তারকা। আগামী ডিসেম্বরেই সান্তোসের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।
চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবগুলোর প্রবল আগ্রহের মাঝে নেইমারের বর্তমান মূল লক্ষ্য হলো নিজের ফিটনেস ধরে রাখা। বিশেষ করে এই আসন্ন বিশ্বকাপে মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি। উত্তর আমেরিকায় ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ অভিযানে নিজেকে উজাড় করে দিতে সম্প্রতি হাঁটুতে একটি ফলো-আপ অস্ত্রোপচারও করিয়েছেন এই প্লে-মেকার। তবে জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করার আগে, সান্তোসকে পাড়ি দিতে হবে বেশ কিছু কঠিন ম্যাচ। যার শুরুটা হচ্ছে ঘরের মাঠে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ এক লড়াই দিয়ে।
নেইমারের জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন ব্রাজিল দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লে’কিপ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘নেইমারের আবার ১০০ শতাংশ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। বিশ্বকাপে সে অংশ নিতে পারবে কি না, তা প্রমাণ করার জন্য এখনও হাতে দুই মাস সময় আছে।’

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের আসর ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের পর চুপ থাকছে না ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। ইউয়েফার কাছে দ্বিতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানিয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি।
বার্সেলোনার অভিযোগ মূলত রেফারিং নিয়ে। তাদের দাবি, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালে রেফারিংয়ে বড় ধরনের ভুল হয়েছে।
দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় বার্সা। এই ফল মেনে নিতে নারাজ কাতালান ক্লাবটি। তাদের দাবি, দুই লেগজুড়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে ‘খেলার নিয়মকানুন’ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। ভিএআরও যথাযথভাবে এসব পর্যবেক্ষণ করেনি।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বার্সার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কোয়ার্টার-ফাইনালের দুই লেগে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি ম্যাচের গতিপথ এবং শেষ ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। ফলে ক্লাবটি ক্রীড়াগত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
এর আগে প্রথম লেগের পরও অভিযোগ করেছিল বার্সা/ যেখানে তাদের দাবি ছিল, ডিফেন্ডার মার্ক পুবিলের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি ও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো উচিত ছিল। তবে সেই অভিযোগকে অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দেয় ইউয়েফা।
দ্বিতীয় অভিযোগে নির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ না করলেও, ক্লাব সভাপতি হোয়ান লাপোর্তা ম্যাচ শেষে একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মতে-
* দুই লেগে পাউ কুবারসি ও এরিক গার্সিয়ার লাল কার্ড অযৌক্তিক ছিল
* দানি ওলমোর ওপর করা ফাউলে পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল
* ফেররান তোরেসের অফসাইড গোল বাতিল করা ঠিক হয়নি
* আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর বুটে ফেরমিন লোপেস আহত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
লাপোর্তা সরাসরি বলেন,
‘রেফারিং ছিল লজ্জাজনক। প্রথম লেগের পর অভিযোগ করেছি, সেটিকে অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। কিন্তু যা দ্বিতীয় লেগে হয়েছে, সেটাই আসলে অগ্রহণযোগ্য।’
বার্সা জানিয়েছে, তারা শুধু ব্যাখ্যা চাইছে না- রেফারিং ব্যবস্থার উন্নয়নে ইউয়েফার সঙ্গে কাজ করতেও প্রস্তুত। যাতে ভবিষ্যতে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা যায়।

রিয়াল মাদ্রিদের জন্য সময়টা এখন চরম অস্থিরতার। টানা দ্বিতীয় মৌসুম কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই শেষ করার পথে থাকা ক্লাবের ভেতরে এখন পরিবর্তনের জোর হাওয়া বইছে। আরও একটি ব্যর্থ মৌসুমের পর বড় পরিবর্তনের পথে লস ব্লাঙ্কোসরা। গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বিদায় নিতে পারেন একঝাঁক তারকা!
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘ওন্ডা সেরো’-র বরাত দিয়ে ‘মাদ্রিদ এক্সট্রা’ জানিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের নীতিনির্ধারকরা স্কোয়াডে বড় ধরনের রদবদলের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ক্লাবটির বেশ কয়েকজন বড় নাম এবার ক্লাব ছাড়তে পারেন বলে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
২০২৫-২৬ মৌসুমটি রিয়ালের জন্য ছিল রীতিমতো বিভীষিকা। শুরুতে জাভি আলোনসোর হাত ধরে যাত্রা শুরু হলেও মাঝপথে দায়িত্ব নেন আলভারো আরবেলোয়া। কিন্তু কোচ বদলালেও ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। গত আসরের মতো এবারও ট্রফিহীন থাকতে হচ্ছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বিশেষ করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে আলোচনা আরও গতি পেয়েছে।
কারা আছেন বিদায়ের তালিকায়? রক্ষণ থেকে আক্রমণ - সবখানেই পরিবর্তনের হাওয়া: রিয়াল মাদ্রিদ কি এক নতুন বিপ্লবের পথে? বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে নিয়ে। বায়ার্নের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে মাত্র ২৫ মিনিটের মাথায় লাল কার্ড দেখে তাঁর মাঠ ছাড়াটা ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশ ক্ষুব্ধ করেছে। বড় ম্যাচে তাঁর এমন খামখেয়ালি আচরণ এবং পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতার অভাব তাঁর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
রিয়াল মাদ্রিদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছেন রক্ষণভাগের অভিজ্ঞ তারকারা। বিশেষ করে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় ক্লাব অধিনায়ক ও প্রবীণ ডিফেন্ডার দানি কারভাহালের সাথে রিয়ালের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতি ঘটার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রিয়ালে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং দলের প্রতি অবদান থাকলেও বয়স এবং বর্তমান ছন্দের কারণে তাঁকে বিদায় জানানোর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে ভাবছে রিয়াল।
রক্ষণভাগ নিয়ে রিয়ালের পরিকল্পনা বেশ ব্যাপক। লেফট-ব্যাক পজিশনে বর্তমানে আলভারো কারেরাস, ফ্রান গার্সিয়া এবং ফেরল্যান্ড মেন্ডি - এই তিন জন বিকল্প রয়েছেন। স্কোয়াডকে আরও গতিশীল ও ভারমুক্ত করতে এই তিন জনের মধ্য থেকে অন্তত একজনকে ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
সেন্টার-ব্যাক পজিশনেও কাটছাঁট চলছে। আন্তোনিও রুডিগার এবং ডেভিড আলাবা - উভয়েরই চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চললেও রুডিগারকে রেখে দেওয়ার ব্যাপারে কিছুটা আশাবাদী ক্লাব। তবে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ডেভিড আলাবার বিদায় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।
রিয়ালের আক্রমণভাগেও পরিস্থিতি বেশ জটিল। লিওঁ থেকে লোনের মেয়াদ শেষে এন্দ্রিক ফিরলে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই আরও তীব্র হবে। ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো এবং গনজালো গার্সিয়ার মতো তরুণ প্রতিভারা নজরে থাকলেও আপাতত তাদের ভবিষ্যৎ সান্তিয়াগো বার্নাব্যু-র বাইরেই দেখা যাচ্ছে। এন্দ্রিকের মতো একই মডেলে মাস্তানতুয়ানোকে অন্য কোনো ক্লাবে লোনে পাঠানোর কথা ভাবছে রিয়াল। অন্যদিকে, গনজালো গার্সিয়াকে স্থায়ীভাবে বিক্রি করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তাঁর স্বত্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ রিয়াল নিজেদের কাছেই রাখবে।
সব মিলিয়ে ইঙ্গিত পরিষ্কার - আগামী মৌসুমে এক শক্তিশালী ও নতুন রিয়াল মাদ্রিদ গড়ার লক্ষ্যে আমূল সংস্কারের পথে হাঁটছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।

স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ‘কোর্নেয়া’ কিনে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বার্সেলোনায় অবস্থিত কাতালান ক্লাবটি ফুটবলার তৈরির আতুড়ঘর। খেলোয়াড় তৈরির উন্নত একাডেমির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। জর্দি আলবা এবং জেরার্ড মার্তিনের মতো তারকাদের পাশাপাশি আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াও এই একাডেমিরই ফসল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো ক্লাবের ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রকল্পটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় শিকড়ের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রাখা হবে।’
বার্সেলোনার সাবেক তারকা জর্দি আলবা ২০১২ সালে ন্যু-ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কোর্নেয়া একাডেমিতে ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। ইলিয়ে সানচেজও এই একাডেমি থেকে উঠে এসে বার্সেলোনার ‘বি’ দলে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি এমএলএস-এর ক্লাব অস্টিন এফসিতে খেলছেন।
ইউরোপীয় কোনো ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় এটিই মেসির প্রথম পদার্পণ হলেও, ক্লাব মালিকানায় এটি তাঁর প্রথম বিনিয়োগ নয়। তিনি উরুগুয়ের পেশাদার দল দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন ইন্টার মায়ামি ও বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ।
কোর্নেয়াতে মেসির এই বিনিয়োগ মূলত যুব ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরই অংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ চেজ স্টেডিয়ামে
অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অংশগ্রহণে প্রথম ‘মেসি কাপ’ আয়োজন করেছিলেন তিনি।

২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে। মিকেল আরতেতা এবং দিয়েগো সিমিওনে—উভয়ই আর্সেনাল ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলার জন্য নিজেদের সেরা কৌশল উজাড় করে দেবেন।
সেমিফাইনালের এই ডামাডোলের মাঝেই অপটার সুপারকম্পিউটার চালিয়েছে বিশেষ এক গাণিতিক বিশ্লেষণ। যেখানে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট এবং শিরোপাজয়ীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সুপারকম্পিউটারের এই ‘প্রিডিকশন’ অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। গানারদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ শতাংশ।
আর্সেনালকে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪.৬১ শতাংশ। যা আর্সেনালের একদম কাছাকাছি।
পিএসজি তালিকার তৃতীয় স্থানে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৯.৩৫ শতাংশ। আর সিমিওনের শিষ্যরা এবারও ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই লড়াই শুরু করবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯.২৯ শতাংশ।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালের দ্বৈরথগুলোতেও নির্দিষ্ট দলকে এগিয়ে রেখেছে গাণিতিক এই মডেল। আগামী ২৮ এপ্রিল হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। যেখানে বায়ার্নের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬১.২৮ শতাংশ বলা হয়েছে। পরের দিন অর্থাৎ বুধবারের লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আর্সেনাল। পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে গানারদের জয়ের সম্ভাবনা বিশাল—প্রায় ৭৩.৪০ শতাংশ।
সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাসে আর্সেনাল এবং বায়ার্ন মিউনিখকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হলেও, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। বিশেষ করে আতলেতিকোর মতো রক্ষণাত্মক কৌশলে পারদর্শী দল কিংবা পিএসজির বিধ্বংসী আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে সব গাণিতিক হিসাব।