২৯ নভেম্বর ২০২৪, ৩:১২ পিএম

ব্যালন ডি'অর বিজয়ীর নাম ঘোষণার পর কেটে গেছে বেশ কিছুটা সময়। তবে রিয়াল মাদ্রিদের মত খেতাবটি জেতা ম্যানচেস্টার সিটির রদ্রিও যেন গোটা বিষয়টি ঘিরে হওয়া ঘটনাগুলো ভুলতে পারছেন না। তার পুরুষ্কার জয়ের ইভেন্ট রিয়াল বয়কট করেছিল, যা মানতে পারছেন না স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। তার অকপট স্বীকারোক্তি, ক্লাব হিসেবে রিয়ালের এই সিদ্ধান্ত ভালো লাগেনি তার।
গত মৌসুমে সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও স্পেনের জার্সিতে ইউরো ২০২৪ জিতেছিলেন রদ্রি। তারই স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমবারের মত তার হাতে ওঠে ব্যালন ডি'অর। এই লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে, যাকে বিজয়ীর নাম ঘোষণার দিন পর্যন্ত ধরা হচ্ছিল ফেভারিট হিসেবে। ব্রাজিলিয়ান তারকার এই খেতাব না জেতার বিষয়টি সামনে আসার পর ক্লাব হিসেবে রিয়াল অনুষ্ঠানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়।
‘দ্য রেস্ট ইজ ফুটবল’ পডকাস্টে রদ্রি রিয়ালের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। “কী করতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত সাধারণত ব্যক্তি বা ক্লাবের সিদ্ধান্ত। তবে আমি এই সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে পারি না। কারণ, আমি সবসময় বলেছিলাম যে আমি এটা এরকম কাজ করতাম না।”
গত মৌসুমে নিজের সেরা মৌসুম কাটে ভিনিসিয়ুসের। রিয়ালের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে রাখেন বড় অবদান। ফলে কয়েক মাস আগে থেকেই নিশ্চিত ধরা হচ্ছিল তার ব্যালন ডি'অর জয়ের সম্ভাবনা। তবে শেষ পর্যন্ত বদলে যায় চিত্র। প্রায় একই রকম পরিস্থিতে গত বছ আর্লিং হলান্ডকে পেছনে ফেলে ব্যালন জিতেছিলেন লিওনেল মেসি। তবে সিটি ও নরওয়ে স্ট্রাইকার ঠিকই হাজির হন অনুষ্ঠানে।
রিয়ালের ব্যালন ডি'অর বয়কটে সেই ঘটনার তুলনা টেনেছেন রদ্রি। “আমার মনে আছে গত বছর আর্লিং এটি জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল। পুরো ক্লাবের সাথে তাকে সমর্থন যোগাতে আমি সেখানে থাকতে চেয়েছিলাম। যদিও শেষ পর্যন্ত লিও জিতেছিল, তবে আমরা ঠিকই সেখানে হাজির হয়ে তার জন্য হাততালি দিয়েছিলাম। কারণ, ব্যালন ডি'অর স্রেফ একজন খেলোয়াড়ের একটা স্বীকৃতি নয়, এটা গোটা একটা বছর সে কোন লেভেলে ছিল তারও বহিঃপ্রকাশ।”
No posts available.

শুরু থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে বোর্নমাউথের লড়াইটা হলো সমানে সমান। ঘরের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে অতিথিদের বোর্নমাউথ আটকে রাখলো ম্যাচের প্রথম এক ঘন্টা। ৬১ মিনিটে ডেডলফ ভাঙ্গার পর ম্যানচেস্টার এগিয়ে গেল দুইবার। কিন্তু তারপরও জয় নিয়ে ফেরা হলো না রেড ডেভিলদের।
শুক্রবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে এএফসি বোর্নমাউথ। ৬১ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দোজের পেনাল্টি গোলে লিড নেয় ম্যান ইউনাইটেড। ৬ মিনিট পর রায়ান ক্রিস্তির গোলে সমতায় ফেরে বোর্নমাউথ।
১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ৭১ মিনিটে ম্যান ইউনাইটেড এগিয়ে যায় জেমস হিলের আত্মঘাতী গোলে। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৯ মিনিট লিড ধরে রাখার পন ছিল ম্যান ইউনাইটেডের। তবে পিছিয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মাথায় বোর্নমাউথ ফের খেলায় ফেরে হ্যারি মাগুয়েরের এক ভুলে। নিজেদের বক্সে বোর্নমাউথ স্ট্রাইকার ইভানিলসনকে ফেলে দেন ইউনাইটেডের সেন্টার-ব্যাক। এতে রেড কার্ড দেখার সঙ্গে পেনাল্টিও হজম করতে হয় তাঁকে। সফল স্পটকিকে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান জুনিয়র রুপি। বাকি সময়ে চেস্টা করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
এই ড্রয়ে ৩১ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে মাইকেল ক্যারিকের দল। সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট পেয়ে দশে বোর্নমাউথ। সবার ওপরে থাকা আর্সেনালে ঝুলিতে ৭০ পয়েন্ট। গানারদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও পেপ গার্দিওলার দল আর্সেনালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে।

দুই বছর পর আবারও ইতালি জাতীয় দলে ডাক পেলেন ফরোয়ার্ড ফেদেরিকো কিয়েসা। ২০২৬ বিশ্বকাপ প্লে-অফকে সামনে রেখে শুক্রবার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ জেনারো গাত্তুসো। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ মিসের শঙ্কায় থাকা ইতালির জন্য এই প্রত্যাবর্তন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি প্লে-অফে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডের। বার্গামোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি জিততে পারলে পাঁচ দিন পর ওয়েলস বা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের। এই দুটি ম্যাচ জিততে না পারলে অন্তত ১৬ বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা যাবে না ইতালিকে।
সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন কিয়েসা ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। সেই আসরের শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ডের কাছে হারের ম্যাচেই জাতীয় দলে তাঁর শেষ উপস্থিতি। জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ৫১টি ম্যাচ খেলেছেন।
ক্লাব ফুটবলে ২০২৪ সালের আগস্টে জুভেন্তাস ছেড়ে লিভারপুলে যোগ দেন কিয়েসা। তবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত একাদশে জায়গা পাননি; চলতি মৌসুমে মাত্র একটি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। তবু পরিশ্রমী মনোভাব ও লড়াকু পারফরম্যান্সের কারণে সমর্থকদের কাছে দ্রুতই প্রিয় হয়ে উঠেছেন এই ২৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
এদিকে প্রথমবার জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন ক্যালিয়ারির ডিফেন্ডার মার্কো পালেস্ত্রা। প্রায় দুই বছর পর দলে ফিরেছেন আটালান্তার ডিফেন্ডার জর্জিও স্কালভিনি এবং রোমার মিডফিল্ডার নিকোলো পিসিল্লি।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের স্মৃতি ইতালির জন্য সুখকর নয়। ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে প্লে-অফে সুইডেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা। আর ২০২২ বিশ্বকাপের আগে একই ধাপ নর্থ মেসেডোনিয়ার কাছে পরাজয়ে আবারও স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরার লক্ষ্যেই দল গড়েছেন গাত্তুসো।
ইতালির স্কোয়াড
গোলরক্ষক: এলিয়া কাপ্রিলে, মার্কো কার্নেসেক্কি, জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা, আলেক্স মেরেত
রক্ষণভাগ: আলেসান্দ্রো বাস্তোনি, আলেসান্দ্রো বুয়োনজর্নো, রিকার্দো কালাফিওরি, আন্দ্রেয়া কাম্বিয়াসো, ফেদেরিকো দিমার্কো, ফেদেরিকো গাত্তি, জিয়ানলুকা মানচিনি, জর্জিও স্কালভিনি, লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলা প্রমুখ
মধ্যমাঠ: নিকোলো বারেলা, ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে, দাভিদে ফ্রাত্তেসি, মানুয়েল লোকাতেল্লি, নিকোলো পিসিল্লি, সান্দ্রো তোনালি
আক্রমণভাগ: ফেদেরিকো কিয়েসা, ময়েজ কিন, মাত্তেও পলিতানো, জিয়াকোমো রাসপাদোরি, মাতেও রেতেগুই, জিয়ানলুকা স্কামাক্কা।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সবার জন্য শান্তি ও আনন্দ কামনা করেন।
রোনালাদো লিখেছেন,
'সবাইকে ঈদ মোবারক। আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে দারুণ একটি দিন কাটাবেন। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।'
রোনালদোর এই শুভেচ্ছা বার্তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
এর আগে সম্প্রতি বাবা দিবসেও প্রয়াত বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছিলেন রোনালদো। তাঁর বাবা হোসে দিনিস আভেইরো ২০০৫ সালে লিভারের জটিলতায় মারা যান, তখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ছিলেন রোনালদো। সেই সময় তাঁর পাশে ছিলেন তৎকালীন কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে উরুগুয়ে ও জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। ৩৫ সদস্যের বিশাল দলে বেশ কিছু চমক রেখেছেন ইংলিশ কোচ টমাস টুখেল।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি টুখেল দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম ইংল্যান্ড দলে ডাক পেয়েছেন হ্যারি ম্যাগুইয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার।
ম্যাগুইয়ারের সঙ্গে জাতীয় দলে ফিরছেন তার ক্লাব সতীর্থ কোবি মাইনোও। দুজনেই ২০২৪ সালের পর আর ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়াননি।
দলে প্রথমবারের মত ডাক পেয়েছেন ২৫ বছর বয়সী এভারটনের মিডফিল্ডার জেমস গার্নার। এছাড়া দীর্ঘ পাঁচ বছর পর জাতীয় দলে ফিরেছেন লিডস ইউনাইটেড স্ট্রাইকার ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন।
হ্যারি কেনের নেতৃত্বে আক্রমণভাগে আছেন ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা, কোল পালমার এবং মার্কাস রাশফোর্ডের মতো তারকারা। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জ্যুড বেলিংহাম যথারীতি মাঝমাঠের দখল সামলাবেন।
২৭ মার্চ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। এর চার দিন পর ৩১ মার্চ একই ভেন্যুতে জাপানের বিপক্ষে লড়বে টুখেলের শিষ্যরা।
জুনের শুরুতে নিউ জিল্যান্ড ও কোস্টারিকার বিপক্ষে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইংল্যান্ড। ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বমঞ্চের লড়াই। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ঘানা (২৩ জুন) ও পানামা (২৭ জুন)।
ইংল্যান্ড দল:
গোলকিপার: জর্ডান পিকফোর্ড, ডিন হেন্ডারসন, অ্যারন র্যামসডেল, জেমস ট্র্যাফোর্ড, জেসন স্টিল।
ডিফেন্ডার: হ্যারি ম্যাগুইয়ার, জন স্টোন্স, মার্ক গুয়েহি, এজরি কনসা, লুইস হল, ড্যান বার্ন, টিনো লিভরামেন্টো, ফিকায়ো তোমোরি, জ্যারেল কুয়ানসাহ, নিকো ও'রিলি, জেদ স্পেন্স।
মিডফিল্ডার: জ্যুড বেলিংহাম, ডিক্লান রাইস, কোবি মাইনো, জেমস গার্নার, অ্যাডাম ওয়ারটন, মর্গান রজার্স, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, জর্ডান হেন্ডারসন।
ফরোয়ার্ড: হ্যারি কেন, ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা, কোল পালমার, মার্কাস রাশফোর্ড, অ্যান্থনি গর্ডন, জ্যারড বোয়েন, এবেরেচি এজে, ননি মাদুয়েকে, ডমিনিক সোলাঙ্কি, ডমিনিক কালভার্ট-লেউইন।

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে এসব সিদ্ধান্তে ইসরায়েল, ফিলিস্তিন ও ইরান—তিন পক্ষই সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।
ফিফা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি নাকচ করে দিয়েছে সংস্থাটি। ইরানের ম্যাচসূচি পরিবর্তনের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আয়োজনের ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ফিফা।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শাস্তি
ফিফার তদন্তে ইসরায়েল ফুটবলের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বৈষম্য, বর্ণবাদী আচরণ, আপত্তিকর ব্যবহার এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘনের' দায়ে এই জরিমানা করা হয়েছে।
বিশেষ করে ইসরায়েলের ক্লাব বেইতার জেরুজালেমের সমর্থকদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফিফা। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদী আচরণের প্রবণতা রয়েছে এবং এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
পশ্চিম তীরের বসতি এলাকায় ফুটবল অবকাঠামো থেকে ফিলিস্তিনিদের পদ্ধতিগতভাবে বাদ দেওয়া সম্পর্কেও সমালোচনা করা হয়েছে। জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বৈষম্য প্রতিরোধে সংস্কার, নজরদারি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করতে নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
ফিলিস্তিনের দাবি খারিজ
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন ফুটবল সংস্থা অভিযোগ করে আসছে, পশ্চিম তীরের বসতিতে থাকা ক্লাবগুলোকে ইসরায়েলি লিগে খেলতে দিয়ে ফিফার নীতিমালা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো ‘জটিল ও অমীমাংসিত’ বিষয়। তাই এই মুহূর্তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
ইরানের অনুরোধে ‘না’
মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার কারণে ইরান তাদের বিশ্বকাপের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে সেই অনুরোধও নাকচ করেছে ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, 'আমাদের একটি নির্ধারিত সূচি রয়েছে এবং আমরা চাই বিশ্বকাপ সেই সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হোক।'
সূচি অনুযায়ী ইরানের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই হওয়ার কথা—এর মধ্যে দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে।
ইরান সরকার ও ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা বিশ্বকাপ বয়কট করতে চান না, তবে চলমান সামরিক হামলার কারণে দলকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিফার অবস্থান
ফিফা স্বীকার করেছে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট সমাধান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে ফুটবলের মাধ্যমে শান্তি ও সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাবে সংস্থাটি।
ইনফান্তিনো বলেছেন, :ফিফা ভূরাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারে না। তবে ফুটবলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।'
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ফুটবলকেও প্রভাবিত করছে। তবু সবকিছু স্বাভাবিক রেখে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট আয়োজনের দিকেই জোর দিচ্ছে ফিফা।