৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৪ পিএম

আগামী ১ থেকে ৮ অক্টোবর চীনের জাংজুতে হবে ঐতিহ্যবাহী ‘হুরাই কাপ’ অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। যেখানে বিশ্বের নামকরা ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি।
ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওলিংগার স্পোর্টস চীনের একটি স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে। এবার অংশ নেবে মোট ১৬টি দল। এর মধ্যে ৮টি চীনের ক্লাব এবং বাকি ৮টি বিভিন্ন দেশের।
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামকরা ক্লাবের একাডেমি নিয়মিত অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোভেন, সার্বিয়ার ক্লাব, আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো একাডেমিগুলো হুরে কাপে খেলেছে।
সাও পাওলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিভার প্লেট। এশিয়া থেকে সাধারণত সীমিত সংখ্যক দল সুযোগ পায়। এর আগে জাপানের একটি দল অংশ নিয়েছিল। এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে একমাত্র হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের থেকেই প্রথম কোনো একাডেমি হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমির তরুণরা খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
বসুন্ধরা কিংসের এমন অর্জনের মূলে রয়েছে তাদের সুসংগঠিত একাডেমি ব্যবস্থা। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান এই আমন্ত্রণকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। সোমবার বলেন, ‘পৃথিবীর নামী সব ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়মিত হুরাই কাপে অংশ নেয়, যা টুর্নামেন্টটির মান প্রমাণ করে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং টুর্নামেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই।'
'আমরা দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করছি। গত বছর থেকেই তৃণমূল থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের যাচাই করছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ছেলেরা কতটা উন্নতি করছে তা দেখা, এবং আনন্দের কথা হলো আমরা বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎ তারকাকে খুঁজে পেয়েছি। এই টুর্নামেন্ট আমাদের একাডেমি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।’ যোগ করেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির সভাপতি।
দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আবু জোবায়ের নিপু এই সফরকে দেখছেন তরুণদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে, ‘ম্যানেজমেন্ট আমাকে সেরা একটি দল গড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডর্টমুন্ড, পিএসভি কিংবা সাও পাওলোর মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চাট্টিখানি কথা নয়, এটা আমাদের কিশোরদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আগস্ট থেকেই আমরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্প শুরু করব। এই আসর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাদের ছেলেদের আগামীর বড় তারকা হওয়ার পথে অবিশ্বাস্য সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে দেশে ফুটবলার সংকট দূর করতে বসুন্ধরা কিংস যে মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রশংসিত। দেশের ফুটবল ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংসই প্রথম এমন পূর্ণাঙ্গ একাডেমি চালু করেছে, যা ইউরোপীয় ধাঁচে পরিচালিত হয়। মূলত তাদের এই পেশাদারত্ব ও অবকাঠামো নজর কেড়েছে চীনা আয়োজকদের। ফলে এশিয়ায় স্বাগতিক চীন বাদে একমাত্র দল হিসেবে কিংসই এই আসরে সুযোগ পেয়েছে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার ও ফুটবল বিশ্লেষক আহমেদ শায়েক বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের যে কোনো অ্যাকাডেমির জন্য সম্মানের এবং শিক্ষণীয় একটি বিষয়। এখানে খেললে দেশের তরুণ ফুটবলাররা বহিবিশ্বের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। তারা বাড়তি একটি অনুপ্রেরণা পাবে এবং নিজেদের আরও উন্নত করার তাগিদ তাদের মধ্যে তৈরি হবে। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের নামকরা সব ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে খেলাটা আমি মনে করি দারুণ একটা সুযোগ। বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজমেন্টের সকলের প্রচেষ্টায় ক্লাব এমন পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এমন সুযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্তে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এবারই এই টুর্নামেন্টে প্রথম কোনও বাংলাদেশের ক্লাবের একাডেমি খেলতে যাচ্ছে। যা প্রমান করে দেশের বাইরে কিংসের একাডেমির সুনাম রয়েছে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির। শুরুতে ৭০ জন নিয়ে শুরু হলেও একাডেমির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ জনে। গত অক্টোবরে একাডেমির খেলোয়াড়দের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্ট। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কিংস একাডেমির কিশোরদের সামনে।
No posts available.
৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১৪ পিএম

আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস (আফকন) ফাইনাল এখনও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। সেনেগাল কনফেডারেশন অফ আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) সিদ্ধান্তে মরক্কোকে শিরোপা দেওয়ার বিরুদ্ধে কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করেছে সেনেগাল।
চলমান বিতর্কের মাঝেই ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে মুখ খুলেছেন মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। ম্যাচ এবং নিজের উদ্ভট আচরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি,
“কঠিন একটা সময় ছিল তখন, মাঠে উত্তেজনা ছিল ব্যাপক। তোয়ালে নিয়ে আমি যে চিত্রটা ফুটিয়ে তুলেছি, সেটা মোটেও গর্বের বিষয় নয়। এটা ঠিক যে আমরা আমাদের প্রতিপক্ষকে সম্মান করেছি এবং টুর্নামেন্টের নিয়ম মেনে চলেছি।”
আফকনের ফাইনাল ম্যাচে গোলকিপারের তোয়ালে ছুঁড়ে ফেলে দেন হাকিমি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) রাইটব্যাকের সে দৃশ্যের নিন্দা করেন ফুটবল ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকলেও এবার স্পেনের স্পোর্টস ব্রডকাস্টিং চ্যালেন মুভিস্টারে কথা বলেন হাকিমি।
অনুশোচনায় ভুগলেও সেনেগালের আচরণের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন হাকিমি এবং মরক্কো শিরোপা পাওয়ার যৌগ্য বলে জানিয়েছেন তিনি,
“তারা (সিএএফ) বিচার করছে কি হওয়া দরকার। আশা করি ফুটবল ও আফ্রিকার ভালোর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করি আমরা জিতব, কারণ আমরা তা পাওয়ার যোগ্য এবং এমন সময় মাঠ ত্যাগ করা ঠিক নয়।”
হাকিমি আফকন ইস্যু ছাড়াও চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেছেন,
“লিভারপুলের বিপক্ষে আমরা সুযোগ তৈরি করলেও বড় ব্যবধানের সুবিধা পেতে পারিনি, তাই একটু হতাশা আছে। তবে পুরো দলের কাজ দেখে খুশি।”
চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের সম্ভাবনা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন হাকিমি,
“আমি আগেও বলেছি, এই দলের ওপর সন্দেহের দরকার নেই। আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। এটা বহুবার প্রমাণ করেছি। মানুষ যখন আমাদের বাদ দেয়, তখনই আমরা আরও বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠি। আমরা জানি, মৌসুমের কোথায় আছি এবং আশা করি এমনই খেলতে থাকব, যতদূর সম্ভব যেতে চাই।”

ক্যাম্প ন্যুয়ের রাত শুরু হয়েছিল বার্সেলোনার ঝড় দিয়ে, শেষটা আতলেতিকোর জয়োল্লাসে। কাতালানরা বল বুনেছে, আক্রমণ করেছে, সুযোগের পর সুযোগ তৈরি করেছে। বল পজিশনেও দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা। তবে গোল পোস্টের নিচে থাকা হুয়ান মুসো ছিলেন দুর্ভেদ্য দেয়াল। শত চেষ্টাতেও তাকে যায়নি টলানো। তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ২-০ গোলে পিছিয়ে শেষ করেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
ইতিহাস বলছে, ২০০৬ সালের পর প্রথমবার বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে এসে জিতল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ফিরতি লেগে মেট্রোপলিটানোতে লড়াই করতে হবে ইয়ামালদের। তাতে বার্সেলোনা পক্ষে জয় ছাড়াও আতলেতিকোর দুর্গে ঢুকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন
| অবসর ভেঙে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত সুয়ারেজ |
|
যা হয়ে গেছে, তা মেনে নিয়ে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে চান ফ্লিক,
‘আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। আর আগামী মঙ্গলবার আতলেতিকোর মাঠে ম্যাচটার দিকে মন দিতে হবে। আমাদের সেই মানের খেলোয়াড় আছে, যারা ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। আমাদের লড়াই করতে হবে।’
লামিন ইয়ামালও বলছেন একই কথা। আশাবাদী থেকে বার্সা সমর্থকদের উদ্দেশে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছেন তিনি। মঙ্গলবার মেট্রোপোলিটানোতে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের আগে সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে স্পেন ফরোয়ার্ড একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন,
‘‘খেলা এখনও শেষ হয়ে যায়নি বার্সেলোনা ফ্যানরা। আমরা দ্বিতীয় লেগে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব… যেমন সবসময়, একজোট থেকে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপে ওঠার আগে বোনাস চাওয়ার কথা অস্বীকার দোনারুম্মার |
|
বুধবার রাতে ইয়ামালকে বোতলবন্দী করে রাখার ছক এঁকেছিলেন সিমিওনে। তিন-তিনজন ডিফেন্ডার মিলে আগলে রেখেছিলেন স্পেন রাইট উইঙ্গারকে। তবু কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু মুসো দেয়াল ছিল দুর্ভেদ্য।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলেছিলেন লুইস সুয়ারেজ। তবে অবসর নেওয়ার পর উরুগুয়ে জাতীয় দলে ফেরার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড। দলের চাওয়া অনুযায়ী আসন্ন বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী সুয়ারেজ জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের ডাকে সাড়া না দেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব।
চলতি সপ্তাহে উরুগুয়ের প্রকাশনা 'ডায়ারিও ওভাসিওন'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৩৯ বছর বয়সী সুয়ারেজ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই, জাতীয় দল সব সময়ই এমন কিছু যা আপনি চান। আপনি আজ এটা নিয়ে ভাবছেন, আপনার মনে এটি ঘুরপাক খাচ্ছে; সামনেই বিশ্বকাপ, আর সেই মুহূর্তে যদি তারা আপনাকে প্রয়োজন মনে করে... তবে আপনি কী করবেন? আমি আমার দেশকে কখনোই 'না' বলতে পারব না, কখনোই আমার দেশকে “না” বলব না।’
সুয়ারেজ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে উরুগুয়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৪৩ ম্যাচে ৬৯ গোল করে তিনি দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে বিদায় নেন। ৩৯ বছর বয়সী বার্সেলোনার সাবেক এই ফরোয়ার্ড উরুগুয়ে নতুনদের সুযোগ করে দিতে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনো সময়ই ফিরতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
সুয়ারেজ বলেন, ‘আমি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলাম অন্য খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা করে দিতে। কারণ আমার মনে হয়েছিল এমন এক মুহূর্ত চলে এসেছে যখন আমি স্কোয়াডের জন্য আর কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছি না। কিন্তু তাদের যদি আমাকে প্রয়োজন হয়, আমি কখনোই জাতীয় দলকে 'না' বলব না। এটা অসম্ভব—যতদিন আমি খেলছি, যতদিন আমি সক্রিয় আছি (ততদিন দেশকে না বলা সম্ভব নয়)।’
অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সুয়ারেজের জন্য বেশ কঠিন ছিল। জাতীয় দলকে বিদায় দেওয়ার পর নাকি ধীরে ধীরে ফুটবলের প্রতি তাঁর আবেগেও ভাটা নামে, ‘লক্ষ্য এবং স্বপ্নের তাড়নায় ফুটবলের প্রতি যে আকাঙ্ক্ষা ও আবেগ কাজ করে, তা আপনি ধরে রাখেন; আর জাতীয় দলের অংশ হওয়া তো সবসময়ই একটি স্বপ্ন। স্পষ্টতই, আমি বিভিন্ন কারণে (অবসরের) সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলাম, কিন্তু দল ছাড়ার পর থেকে ফুটবলের সেই শিখা যেন কিছুটা ম্লান হয়ে গেছে।’
আপাতত সুয়ারেজ ইন্টার মায়ামির হয়ে সাফল্য পাওয়ার দিকেই মনোনিবেশ করছেন। গত শনিবার অস্টিন এফসি-র বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোল করেছেন। ২০২৬ মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) তাঁর প্রথম গোল ছিল এটি।
কদিন আগেই মায়ামির প্রধান কোচ হাভিয়ের মাশ্চেরানো সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড সুয়ারেজের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে লুইসকে চমৎকার দেখাচ্ছিল; সমতাসূচক গোলটি নিশ্চিত করতে সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমার বিশ্বাস, সে আরও দুটি সুযোগ পেয়েছিল—ওই গোলটি ছাড়াও বক্সের আশেপাশে আরও দু-একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’
গত ডিসেম্বরেই মায়মির সঙ্গে নতুন করে এক বছরের চুক্তি স্বাক্ষর করেন সুয়ারেজ। আগামী শনিবার নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ম্যাচে সুয়ারেজ এবং ইন্টার মায়ামি মাঠে নামবে।

ইতালির খেলোয়াড়রা নাকি বিশ্বকাপে উঠতে পারলে বোনাস দাবি করেছেন, এমন খবরকে ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন তাকে ‘কষ্ট দিয়েছে’ বলেও জানিয়েছেন এই গোলরক্ষক।
স্কাই স্পোর্টস ইতালিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে মুখ খোলেন দোনারুম্মা
“অধিনায়ক হিসেবে আমি কখনোই ইতালি জাতীয় দলের কাছে একটি ইউরোও দাবি করিনি। জাতীয় দল সব সময়ের মতোই বড় টুর্নামেন্টে ওঠার পর খেলোয়াড়দের একটি উপহার দেয়। এর বাইরে কিছু নয়।”
চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি পরপর তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছে। গত মাসে প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরে ছিটকে যায় আজ্জুরিরা।
ব্যর্থতার জেরে পদত্যাগ করেন ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। জাতীয় দলের ডেলিগেশন প্রধানের দায়িত্ব ছাড়েন সাবেক কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিনালুইজি বুফন। একই সঙ্গে কোচের পদ থেকেও সরে দাঁড়ান কিংবদন্তি জেনারো গাত্তুসো।
এর মাঝে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, বিশ্বকাপে উঠতে পারলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের কাছে অগ্রিম বোনাসের দাবি করেছেন ফুটবলাররা। সেই খবরের সত্যতা নেই বলেই জানিয়েছেন দোনারুম্মা।
একইসঙ্গে সামনের দিনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন তারকা গোলরক্ষক।
“নতুন করে শুরু করতে হবে, সামনে এগোতে হবে। আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। পরের বিশ্বকাপের জন্য চার বছর অপেক্ষা করতে হবে, তবে এর মধ্যে ইউরো ও নেশনস লিগের মতো বড় টুর্নামেন্ট আছে।”
“বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবার আগে মাঝের বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে ভালো করতে হবে। এখন থেকেই শক্তভাবে নতুন শুরু করতে হবে।”

আন্তর্জাতিক বিরতির পর গত মঙ্গলবার ফিরেছে ঘরোয়া ফুটবল। তবে সেদিন ছিল ফেডারেশন কাপের দুটি ম্যাচ। আগামীকাল থেকে মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) খেলা। কুমিল্লায় জমজমাট এক ম্যাচ দিয়েই ফিরছে লিগের খেলা। মুখোমুখি হচ্ছে ঢাকা আবাহনী ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচটি শুরু হবে বেলা সাড়ে ৩টায়। ফুটবল লিগের খেলা সরাসরি সম্প্রচার করছে চ্যানেল টি-স্পোর্টস। এই মৌসুমে লিগে এটি দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথম দেখায় দারুণ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচই উপভোগ করেন কুমিল্লার ফুটবল সমর্থকেরা। ৫ গোলের সেই ম্যাচটিতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছিল সাদা-কালোরা।
আরও পড়ুন
| ৭ ম্যাচে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক, থামছেই না বেনজেমা ঝড় |
|
ঢাকা ডার্বিতে লিগের প্রথম দেখায় আবাহনীকে হারিয়ে মোহামেডান এগিয়ে গেলেও লিগ টেবিলে পিছিয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ১১ রাউন্ড শেষে মোহামেডানের সংগ্রহ ম্যাচ সমান পয়েন্ট। টেবিলের ছয়ে থাকা আলফাজ আহমেদের দল লিগে জয় পেয়েছে স্রেফ দুটি ম্যাচে।
আবাহনী আছে এই তালিকার তিনে। সমান ম্যাচে ৫ জয় দুই হার ও ৪ ড্রয়ে আকাশি-নীলদের ঝুলিতে ১৯ পয়েন্ট। লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে ব্যবধান ৫ পয়েন্টের। শিরোপা রেসে এখনো টিকে আছে ধানমন্ডিপাড়ার ক্লাবটি। কাল আবাহনীকে হারাতে পারলে দুইয়ে থাকা ফর্টিস এফসিকে টপকে যাবে আবাহনী। একই সঙ্গে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে প্রতিশোধও নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ডার্বি কে জেতে সেটিই দেখার অপেক্ষা।
একই দিনে বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ম্যাচ রয়েছে আরও দুটি। মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ তপন স্টেডিয়ামে ফকিরেরপুলকে মোকাবিলা করবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে পিডব্লিউডির প্রতিপক্ষ রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। এই দুটি ম্যাচও মাঠে গড়াবে বিকাল সাড়ে ৩টায়।