
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ যখন ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়েছিলেন, ডাচ এই কোচের একটি মন্তব্য বেশ সাড়া জাগায়। ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুলকে নিয়ে তিনি বলেছিলেন,‘ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল—দু’দলই আমার প্রশংসার যোগ্য, তাদের ফুটবল সত্যিই চমৎকার। তবে ফুটবলে কোনো যুগই চিরস্থায়ী নয়।’ টেন হাগের সেই কথা কী এখন মনে পড়ছে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া সিটি কোচ পেপ গার্দিওলার? সোনালী যুগ কী ফুরিয়ে এসেছে তাঁর? আর সে কারণেই কী শিরোপার প্রতিদ্বন্দ্বীর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিচ্ছেন তিনি?
অবশ্য প্রসঙ্গ টেন হাগের সাবেক ক্লাব ম্যান ইউনাইটেডকে নিয়ে নয়, উড়ন্ত ছন্দে থাকা আর্সেনালে মুগ্ধ গার্দিওলা। ২০২৫-২৬ মৌসুমে অদম্য গানারদের থামায় সেই সাধ্য কার? মিকেল আরতেতার দলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে ক্লাবটিকে রীতিমতো ‘এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা দল’ আখ্যা দিলেন সিটি কোচ।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি ও অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে সাত পয়েন্ট এগিয়ে আর্সেনাল। শুধু তাই নয়, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগেও তাদের হারাতে পারেনি কোনো দলই। লিগ পর্বে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনাল এক ম্যাচ বাকি থাকতেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। ঘরোয়া কাপগুলোতেও দারুণ ছন্দে রয়েছে তারা। কারাবাও কাপের প্রথম লেগে চেলসির বিপক্ষে ৩–২ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বুকালোয়া সাকা-ডেকলান রাইসের দল।
রক্ষণভাগ, মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই দাপট আর্সেনালের। তাইতো ক্লাবটিকে সেরা বলতে কোনো দ্বিধা নেই গার্দিওলার। লিগে উলভারহ্যাম্পটনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলার বলেন, ‘এই মুহূর্তে তারা (আর্সেনাল) বিশ্বের সেরা দল। চ্যাম্পিয়নস লিগ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ আর [ইএফএল] কাপ—সব জায়গাতেই সেটা দেখা যাচ্ছে।’ তারপর খানিকটা রসিকতা করে সিটিজেনদের কোচ বলেন, ‘আশা করি, আমরা তাদের কাছাকাছি থাকতে পারব এবং তারা যদি আমাদের একটা সুযোগ দেয়, সেটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারব।’
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ জয়হীন ম্যান সিটি। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নামে-ভারে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকা নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ৩-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হার হজম করতে হয়েছে তাদের।
দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণ জানা আছে বললেন গার্দিওলা, ‘আমি জানি আমরা এখন কেন লড়াই করছি। শতভাগ নিশ্চিতভাবে জানি, দলের সঙ্গে কী হয়েছে। একটু সময় দিতে হবে। আর্সেনালের জন্য এটা স্বাভাবিক হতে পারে, কিন্তু আমাদের জন্য এটা দুর্যোগ। আমাদের মানদণ্ড এতটাই উঁচু যে সামান্য অসংগতি বা প্রত্যাশিত ফল না পেলেই সেটা বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কেন আমরা ধারাবাহিক হতে পারছি না বা কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছি না, সেটার কারণ আমি জানি।’
প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্লিং হলান্ড। তবে গত কয়েক ম্যাচে ছন্দে নেই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডও। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল করেছেন হলান্ড। মাঝ সপ্তাহে ইউরোপিয়ান ম্যাচে হারের পর ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন তিনি।
তবে ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, হলান্ডের ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই, ‘আর্লিংয়ের ক্ষমা চাওয়ার কিছুই নেই। সে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সেটাই করছে। দল যদি না জেতে, সেটা কোনো একজন খেলোয়াড়ের দায় নয়—সবাই মিলে এর দায়িত্ব নিতে হয়। ক্ষমা চাইবে তখনই, যদি তুমি নিজের সবটুকু না দাও। এখানে সেটা হয়নি, তাই ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন নেই।’
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৪ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আলভারো আরবেলোয়া। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ তার দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই ম্যাচে এগিয়ে থাকার ওপর নির্ভর করছে চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের ভবিষ্যত।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কথা বলেছেন আরবেলোয়া। তিনি জানিয়েছেন, বায়ার্নের মতো দলকে হারাতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের সম্মিলিতভাবে ‘বিশ্বসেরা দল’ হয়ে খেলতে হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ হাপিত্যেশের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। লা লিগা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের। স্বপ্ন টিকে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগে।
আরবেলোয়া বলেন, “ফুটবলে জিততে হলে প্রতিটি ধাপে অনেক কিছু ঠিক করতে হয়। বড় দল হতে হলে শৃঙ্খলা ও দলগত মানসিকতা দরকার—এটাই আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলে সেরা খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাদেরকেই বিশ্বসেরা দল হতে হবে। ব্যক্তিগত প্রতিভা দলকে কাজে লাগাতে হবে।”
চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। বুন্দেসলিগাতেও একপ্রকার টাইটেল নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা। বায়ার্নকে তিনি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন, “তারা দারুণ মৌসুম কাটাচ্ছে। আমরা জানি, তারা আমাদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে।”
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে রিয়াল তাদের চারটি ম্যাচই জিতেছে। আরবেলোয়া চাইলে ইতিহাসও গড়তে পারেন—প্রথম পাঁচ নকআউট ম্যাচ জেতা কোচদের তালিকায় নাম লেখাতে।
তবে প্রথম লেগে ফেভারিট নয় রিয়াল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনায় বায়ার্ন এগিয়ে। এর মধ্যে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে হারও এসেছে রিয়ালের। মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। তবে এই ম্যাচকে ভিন্নভাবে দেখছেন কোচ।
তিনি বলেন, “এগুলো আলাদা ম্যাচ, আলাদা প্রেক্ষাপট। খেলোয়াড়রা জানে সামনে কী আছে। তাদের আলাদা করে সতর্ক করার দরকার নেই।”

ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি জানিয়েছেন, অনুরোধ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু ফিফা এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।
সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ। ২২ জুন একই শহরে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের চলমান যুদ্ধের কারণে ম্যাচগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা। ফলে দানিয়ামালি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।’ তবে তিনি জানান ‘সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলেই’ কেবল সরকার বিশ্বকাপে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা সেখানেই হবে। ফিফার কাছে প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই। প্ল্যান ‘এ’–ই একমাত্র সমাধান বলে জানান তিনি।

আগামী ১ থেকে ৮ অক্টোবর চীনের জাংজুতে হবে ঐতিহ্যবাহী ‘হুরাই কাপ’ অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। যেখানে বিশ্বের নামকরা ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি।
ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওলিংগার স্পোর্টস চীনের একটি স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে। এবার অংশ নেবে মোট ১৬টি দল। এর মধ্যে ৮টি চীনের ক্লাব এবং বাকি ৮টি বিভিন্ন দেশের।
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামকরা ক্লাবের একাডেমি নিয়মিত অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোভেন, সার্বিয়ার ক্লাব, আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো একাডেমিগুলো হুরে কাপে খেলেছে।
সাও পাওলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিভার প্লেট। এশিয়া থেকে সাধারণত সীমিত সংখ্যক দল সুযোগ পায়। এর আগে জাপানের একটি দল অংশ নিয়েছিল। এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে একমাত্র হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের থেকেই প্রথম কোনো একাডেমি হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমির তরুণরা খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
বসুন্ধরা কিংসের এমন অর্জনের মূলে রয়েছে তাদের সুসংগঠিত একাডেমি ব্যবস্থা। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান এই আমন্ত্রণকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। সোমবার বলেন, ‘পৃথিবীর নামী সব ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়মিত হুরাই কাপে অংশ নেয়, যা টুর্নামেন্টটির মান প্রমাণ করে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং টুর্নামেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই।'
'আমরা দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করছি। গত বছর থেকেই তৃণমূল থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের যাচাই করছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ছেলেরা কতটা উন্নতি করছে তা দেখা, এবং আনন্দের কথা হলো আমরা বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎ তারকাকে খুঁজে পেয়েছি। এই টুর্নামেন্ট আমাদের একাডেমি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।’ যোগ করেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির সভাপতি।
দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আবু জোবায়ের নিপু এই সফরকে দেখছেন তরুণদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে, ‘ম্যানেজমেন্ট আমাকে সেরা একটি দল গড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডর্টমুন্ড, পিএসভি কিংবা সাও পাওলোর মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চাট্টিখানি কথা নয়, এটা আমাদের কিশোরদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আগস্ট থেকেই আমরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্প শুরু করব। এই আসর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাদের ছেলেদের আগামীর বড় তারকা হওয়ার পথে অবিশ্বাস্য সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে দেশে ফুটবলার সংকট দূর করতে বসুন্ধরা কিংস যে মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রশংসিত। দেশের ফুটবল ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংসই প্রথম এমন পূর্ণাঙ্গ একাডেমি চালু করেছে, যা ইউরোপীয় ধাঁচে পরিচালিত হয়। মূলত তাদের এই পেশাদারত্ব ও অবকাঠামো নজর কেড়েছে চীনা আয়োজকদের। ফলে এশিয়ায় স্বাগতিক চীন বাদে একমাত্র দল হিসেবে কিংসই এই আসরে সুযোগ পেয়েছে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার ও ফুটবল বিশ্লেষক আহমেদ শায়েক বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের যে কোনো অ্যাকাডেমির জন্য সম্মানের এবং শিক্ষণীয় একটি বিষয়। এখানে খেললে দেশের তরুণ ফুটবলাররা বহিবিশ্বের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। তারা বাড়তি একটি অনুপ্রেরণা পাবে এবং নিজেদের আরও উন্নত করার তাগিদ তাদের মধ্যে তৈরি হবে। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের নামকরা সব ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে খেলাটা আমি মনে করি দারুণ একটা সুযোগ। বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজমেন্টের সকলের প্রচেষ্টায় ক্লাব এমন পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এমন সুযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্তে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এবারই এই টুর্নামেন্টে প্রথম কোনও বাংলাদেশের ক্লাবের একাডেমি খেলতে যাচ্ছে। যা প্রমান করে দেশের বাইরে কিংসের একাডেমির সুনাম রয়েছে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির। শুরুতে ৭০ জন নিয়ে শুরু হলেও একাডেমির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ জনে। গত অক্টোবরে একাডেমির খেলোয়াড়দের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্ট। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কিংস একাডেমির কিশোরদের সামনে।

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী
এশিয়ান কাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি
হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা দুই প্রতিপক্ষের সামনেই অভিন্ন
সমীকরণ। দুই সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর
শেষ চেষ্টা থাকছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সামনে। এই ম্যাচ জয়ে রাঙানোর বিকল্প দেখছেন
না বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসাইন।
মঙ্গলবার ননথাবুরি স্টেডিয়ামে
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাঁচা-মরা ম্যাচের আগে অনূর্ধ্ব-২০
নারী দলের সহকারি কোচ জানিয়েছেন—জয়ের ব্যাপারে তার দল শতভাগ আশাবাদী।
আবুল হোসাইন বলেন,
‘আজ অনুশীলন করেছে মেয়েরা। আগামীকাল কিভাবে ম্যাচ খেলা হবে, সে প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। প্লেয়ারদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, তাদের সেরাটা দেওয়া প্রয়োজন।’
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী
ম্যাচে বাংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার ছাপ ফেলেছিল। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে
থেকে ম্যাচের অনেকটা সময় আধিপত্য ধরে রাখে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার
মানতে হয় অর্পিতা বিশ্বাসদের। পরের ম্যাচে অর্থাৎ গত ২ মার্চ সিডনিতে দারুণ লড়েও ২-০
গোলে হেরেছিল চীনের কাছে।
টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পরও সামনের দিকে তাকিয়ে ফরোয়ার্ড সুরভী আক্তার প্রীতি। এমনটাই বলছেন আবুল হোসাইন। তিনি বলেন,
‘আমরা কোচেরা সবসময় আত্মবিশ্বাসী। প্লেয়াররাও বুঝতে পেরেছে, তারাও আত্মবিশ্বাসী। আমরা দুইটা ম্যাচ হেরেছি। তবে তারা চেষ্টা করেছে সেরাটা দেওয়ার জন্য। আগামীকাল সেরাটা দিয়েই তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তারা কালকের ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে হারের
পর ব্যাংককের মাঠে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল চীন ম্যাচে ভুল কম করা। থাইল্যান্ড ম্যাচের
তুলনায় ভুল তুলনামূলক কমই হয়েছে। তবে নিজেদের আরও নিঁখুত করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলে
জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড প্রীতি।
সুরভী বলেন,
‘গতকাল আমরা বিশ্রামে ছিলাম। চায়নার ম্যাচে যেসব ভুল ত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের তা ধরিয়ে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ দলের সবাই সুস্থ রয়েছে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব আমরা।’

গত কয়েক বছর ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদী ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসা ফুটবলারের নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দর্শকদের নোংরা আক্রমণের শিকার হয়েও দমে যাননি রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। মাঠেই প্রতিবাদ করার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এবার নিজের ক্লাবের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালকে বর্ণবাদী আক্রমণকারীদের এক হাতে নিলেন ভিনি।
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে স্পেনের দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে নড়েচড়ে বসে স্পেন সহ পুরো ফুটবলবিশ্ব। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন এবং ফুটবল নিয়ন্তক সংস্থা ফিফাও এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ইয়ামাল। কদির পর আবার আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকরা স্প্যানিশ উইঙ্গারকে উদ্দেশ্য করে কুৎসিত মন্তব্য করেন এক দর্শক।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইয়ামাল কর্নার নেওয়ার সময় আতলেতিকোর গ্যালারি থেকে এক দর্শক ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করছেন।এক ভক্তকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি দেখতে কুৎসিত, মোটেও ভদ্রলোক না… মরক্কোয় ফিরে যাও,। ওখানেই চলে যাও।’
স্পেনের ফুটবলে বর্ণবাদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ভিনিসিয়ুস ক্রমাগত এমন ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানান। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বর্ণবাদ ভিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ফুটবল এবং সমাজে বর্ণবাদের সমস্যা এখনও সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি, এবং সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এটি উদ্বেগজনকভাবে পুনরায় ঘটছে।
ভিনিসিয়ুস আশা করেন অন্যান্য খেলোয়াড়রাও—যেমন লামিনে ইয়ামাল—এই লড়াই চালিয়ে যাবেন, এবং এই দায়িত্ব কেবল এক খেলোয়াড়ের কাঁধে নয়, ‘এটা একটি জটিল বিষয়। এটি প্রতিনিয়ত ঘটে। আমরা সম্প্রতি দেখেছি লামিনে ইয়ামালও এর শিকার হয়েছেন। সে সাহস করে এগিয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
বর্ণবাদীদের নির্দিষ্ট কোনো দেশ নেয়, বরং সবদেশে সব বর্ণবাদীদেরই সবাই মিলে রুখে দেওয়ার কথা বলেন ভিনি, ‘আমাদের একত্রিত হতে হবে, আর যাঁদের বলা সামর্থ্য আছে, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। আমি স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল বা ব্রাজিলকে বর্ণবাদী দেশ বলছি না, তবে এই দেশে বর্ণবাদী মানুষ আছেন। আমাদের সবাইকে মিলে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’