
সান্তিয়াগো— ভ্রমণ আর গুপ্তধনের সন্ধান ছিল যার একমাত্র নেশা। বিশ্ব দেখার ইচ্ছে নিয়ে দক্ষিণ স্পেনের আন্দালুসিয়ার ছোট্ট গ্রাম থেকে মেষপাল সমেত বেরিয়ে পড়েছিলেন। নতুন দেশ আর সুন্দর ভবিষ্যতের আশায়, বাবার আশীর্বাদপুষ্ট ১৮ বছর বয়সি সান্তিয়াগো ছুটেছিলেন মিশরের পথে, স্বপ্নের খোঁজে।
পথে ঘটেছিল অনেক কিছু। সলোমনের রাজার সাক্ষাৎ, মরক্কোর বাজারে টাকা খোয়ানো, ক্রিস্টাল ব্যবসা, কারাভানের সঙ্গে মরুভূমি মাড়ানো, দাঙ্গায় জড়িয়ে পড়া, আলকেমিস্টের সাক্ষাৎ, ফাতিমার প্রেমে হাবুডুবু— সবশেষে গন্তব্যে গিয়ে বুঝেছিলেন, আসল গুপ্তধন তাঁর দেশেই, বাড়ির পাশের ভাঙা গির্জায়।
ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহোর অমর সৃষ্টি ‘দ্য আলকেমিস্ট’-এর সান্তিয়াগো অবশেষে স্বপ্ন ও সুখ খুঁজে পান। শত ঝঞ্জা পেরিয়ে উপলব্ধি করেন জীবনের প্রকৃত অর্থ। সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই কবিতায় যেমন বলা হয়েছিল—‘আঠারো বছর বয়স কী দুঃসহ, স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার।’ ঠিক সেই স্পর্ধা ও সাহসই দেখিয়েছিলেন সান্তিয়াগো।
তেমনই আঠারো বছর বয়সে লামিন ইয়ামালও এগিয়ে চলেছেন বাষ্পের বেগে। আঠারোর ঘরে পা দেওয়া এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড এখন পার করছেন নানা ঝড় ঝাপটা। কখনও ভুল করছেন, কখনও বিপাকে পড়ছেন; কানে আসছে সমালোচনার ধ্বনি। গোল না পাওয়া, অফ ফর্মে থাকা, বাইরের জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া, প্রেমে মশগুল থাকা— সব মিলিয়ে এক ভিন্নরকম সময় পার করছেন বার্সেলোনার তরুণ উইঙ্গার। অথচ ২০২৪-২৫ মৌসুমে গোল-অ্যাসিস্টে দারুণ এক প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন। ব্যালন ডি’অর তালিকায়ও ছিলেন ওপরের সারিতে।
নতুন মৌসুমে পা দেওয়া ইয়ামালকে গিলে খাচ্ছে ব্যর্থতা। লা লিগায় এখন পর্যন্ত পেয়েছেন ৬ ম্যাচে দুটি গোল, চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে একটি। প্রত্যাশার চেয়ে যা কিছুটা কমই বটে। তবে এই সময়ে ইনজুরির সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে, লিগে বার্সেলোনার ১০ ম্যাচের চারটিই খেলতে পারেননি। ফিফা উইন্ডোতে খেলতে গিয়ে চোট, শারীরিক সমস্যা আর কম গেম টাইম। অস্বস্তিকর অধ্যায়ে বার্সার এই লেফট উইঙ্গার।
লামিন নতুন করে সমালোচিত হচ্ছেন মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোর পর। রাফিনিয়া ও রবার্ট লেভানডফস্কির অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ও সমর্থকরা তাকিয়ে ছিলেন ইয়ামালের দিকে। কিন্তু রোববার রাতে ভুলে যাওয়ার মতো একটি ম্যাচ খেলেছেন এই স্প্যানিয়ারর্ড। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দর্শকদের দুয়োতে অতিষ্ঠ ছিলেন তিনি। রিয়ালের লেফটব্যাক আলভারো কারেরাস যেন তাঁকে একরকম পকেটেই ঢুকিয়ে রেখেছিলেন। শট নেওয়ার সুযোগ পাননি, ড্রিবলেও সুবিধা করতে পারেননি। পুরো ম্যাচে দুটি শট ও দুটি সুযোগ তৈরি করেছেন, আটবার ড্রিবলের চেষ্টায় সফল হয়েছেন মাত্র চারবার।
মাঠের বাইরের ঘটনাতেও ছিলেন ইয়ামাল। তর্কে জড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও দানি কারভাহালের সঙ্গে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, রিয়ালের রাইট-ব্যাক কারভাহাল তাঁকে বলেন, ‘তুমি অনেক কথা বলো, এখন বলো দেখি!’ ইয়ামাল তখন কারভাহালের দিকে এগিয়ে গেলে তাঁকে থামিয়ে দেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা। ভিনিসিয়ুস নাকি মজা করে বলেন,
‘ব্যাক পাস ছাড়া আর কিছুই তো করলে না! শুধু ডিফেন্ডারদের কাছেই বল দিলে!’
মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে ইয়ামালের আচরণে ক্ষুব্ধ ছিল বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। প্রশ্ন উঠছে— এমন ঘটনার পর ইয়ামাল কি থমকে যাবেন?
মাত্র সাত বছর বয়সে লা মাসিয়ায় যোগ দেওয়া। ১৫ বছর ৯ মাস বয়সে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে অভিষেক। ১৬ বছর বয়সে গোল-অ্যাসিস্টে রেকর্ড, ১৬ বছর ৫৭ দিনে জাতীয় দলে অভিষেক, স্পেনের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা— সবই যেন এক অবিশ্বাস্য উত্থান। কিন্তু এখানেই কি শেষ?
সান্তিয়াগোর মতো ১৮ বছর বয়সি ইয়ামাল ভীরু বা কাপুরুষ নন। প্রয়োজন কেবল নিয়ন্ত্রিত জীবনধারা— বাবা-মায়ের দিক নির্দেশনা, প্রেমিকা নিকোর সহযোগিতা, আর কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের সঠিক দিকনির্দেশ। তবেই সান্তিয়াগোর মতো এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়ানো ইয়ামাল খুঁজে পাবেন আসল গুপ্তধন এবং নিজের হারানো পারফরম্যান্স।
পাওলো কোয়েলহো যেমন নিজেদের মাকতুব বইয়ে লিখেছেন, ‘বর্তমানকে উপভোগ করার সর্বোত্তম উপায় হলো অতীত ভুলে যাওয়া।’ নিজেকে জানার, বোঝার মধ্য দিয়েই ইয়ামাল পৌঁছাতে পারেন নিজের প্রকৃত গন্তব্যে। তার সঙ্গে ‘চুপ থাকা’ও হতে পারে তাঁর জন্য সবচেয়ে কার্যকর নিয়ামক। ইয়ামালের উচিত, কোথায় থামতে হবে, সেটাও ভালোভাবে জানা। কারণ, সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাঁর কথার আগুনের আঁচ লেগেছে ৭৮ হাজার দর্শকদেরও।
সাবেক বার্সা মিডফিল্ডার রাফিনিয়া বলেছেন,
‘বয়সের কারণেই এমন আচরণ ইয়ামালের। তাঁর কথাই রিয়ালকে বাড়তি প্রেরণা দিয়েছে।’
আর রিয়ালের সাবেক তারকা গুতির মন্তব্য—
‘রিয়াল আর বার্সার ইতিহাস এখনো পুরোপুরি বোঝার বয়স হয়নি ইয়ামালের। ওর মুখে এমন কথা শুনলে আমারও ভালো লাগত না।’
No posts available.

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েল গ্রাভিনা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালি জায়গা করতে না পারায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যায় ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো মূল পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন গ্রাভিনা।
আজ্জুরিদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইতালি দল বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবল ইতালিয়া।
ফুটবল সংবাদ পরিবেশক ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইতালির হেড কোচ জেনেরো গাত্তুসো ও ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফন পদত্যাগ করতে পারেন।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিরি আ প্রেসিডেন্ট ইজিও সিমোনেল্লি, সিরি বি প্রেসিডেন্ট পাওলো বেডেন, সিরি সি প্রেসিডেন্ট মাতেও মারানি, অ্যামেচার লিগ প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো আবিতি, খেলোয়াড় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট উমবার্তো ক্যালকানো, অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট রেনজো অলিভিয়েরি।

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের শুরুটা ভালো হয়েও হলো না; থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও দিনশেষে পরাজিতের কাতারে বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে রাখার মতো একটা দিনই ছিল মোসাম্মৎ সাগরিকার জন্য। বুধবার শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জেতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ফরোয়ার্ড গোলের কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। আজ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেনও জানালেন দলের প্রত্যেককে সমান চোখে দেখা হয়। তিনি জানান, গতকাল সাগরিকা গোল করেছে, পরের দিন অন্য কেউ করবে। এভাবেই তারা মেয়েদেরকে উজ্জীবিত রাখেন।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শনিবার, চীনের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে করা ভুল নিয়ে আজ কাজ করেছে কোচিং স্টাফ। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় আবুল হোসেন বলেন,
‘গতকাল আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছি। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। সামান্য ভুলের কারণে আমরা জিততে পারিনি। কারণ এমন ভুল তো আর সচরাচর হয় না। কিন্তু হয়ে গেছে। আজ সেই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। পরের ম্যাচ চীনের বিপক্ষে। তাদের সঙ্গে যেন একই ভুল না হয় তা নিয়ে কাজ করছি। মেয়েদের বলেছি যা হয়েছে সেটা এখন অতীত। এ নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হবে না।’
সাগরিকাকে নিয়ে আলাদা করে প্রশংসা ঝরেছে সহকারী কোচের কণ্ঠে। বলেছেন,
‘সাগরিকা অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সে বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে জাতীয় দলেও সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরে।’ তবে আবুল হোসেন সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে তারা সবাইকে সমান চোখে দেখেন, ‘আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করি। কে কখন জ্বলে উঠবে তা বলা যায় না, সেভাবেই আমরা মেয়েদের মোটিভেট করি। সবাইকে সমান নজরে দেখি।’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরুর অপেক্ষায়। যেখানে অনেকে অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারকে গ্যালারিতে বসেই দেখতে হবে খেলা।
আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে বুধবার সকালে সবশেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক। আগের রাতে ইউরোপয়ীয় প্লে অফ থেকে জায়গা নিশ্চত করে সুইডেন, তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
কোয়ালিফায়ার ফাইনালে হেরে বাড়ির টিকিট কাটতে হয়েছে জিয়ানলুইজি দোনারুমা, রবার্ট লেভানডফস্কি, কালাফিওরির মতো তারকাদের।
ইতালির চার তারার অসহায়ত্ব: বাছাইপর্বে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির পালে। বসনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হচ্ছে না আজ্জুরিদের। বিশ্বকাপে দেখা যাবে না দলটির চার তারকা দোনারুমা, রিকার্দো কালাফিওরি, সান্দ্রো টোনালি ও নিকোলো বারেল্লাকে।
পোলান্ডের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ল রবার্ট লেভানডফস্কির: ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে শেষ মূহুর্তে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড। এর মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি লেভানফস্কির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।
হাঙ্গেরির বিদায়ে স্বপ্ন ভাঙল সোবোসলাইয়েরও: বিশ্বকাপের বাছাইয়ে হাঙ্গেরির বিদায় ছিল ট্র্যাজিক। রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত তাদের। কিন্তু ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এ এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ট্রয় প্যারটের হ্যাটট্রিকে স্বপ্ন ভাঙে হাঙ্গেরির। লিভারপুলের হয়ে দূরপাল্লার শট আর নিখুঁত পাসের জন্য পরিচিত সোবোসলাইকে মিস করবেন ভক্তরা।
কঙ্গোতে বাঁধা ব্রায়ান এমবেউমোর উচ্চাশা: ব্রেন্টফোর্ড থেকে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া এমবেউমো গত মৌসুমে ২০ গোল করে নজর কাড়েন। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর কাছে ৯১ মিনিটের গোলে ক্যামেরুন হেরে যাওয়ায় এই উইঙ্গারকেও গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপ দেখতে হবে।
কাভারাস্কেইয়ার ড্রিবলিং মিস করবে বিশ্ব: ইউরো ২০২৪-এ নজরকাড়া জর্জিয়া এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি। ফেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কাভারস্কেইয়ারের জাদুকরী ড্রিবলিং দেখার সুযোগ এবার হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
অপেক্ষা বাড়ল হইলুন্দের: চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে ডেনমার্ক। যেখানে হইলুন্দ পেনাল্টি মিস করে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে দলে জায়গা পাননি তিনি, এবার দলের ব্যর্থতায় তাঁর অপেক্ষা আরও বাড়ল।