
শুধু ফুটবল কিংবা ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, লিওনেল মেসির জনপ্রিয়তা আছে এসবের বাইরেও। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নাম-ডাক নিয়ে নতুন করে কিছু বলারও নেই। ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করা আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইউরোপ জয় করে এখন মার্কিন মুল্লুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে কত ফুটবলার কত লোকের সঙ্গেই তো মিশতে হয়েছে মনের ভাব প্রকাশ করতে হয়েছে মেসিকে। আর এই ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ইন্টার মায়ামির মহাতারকা বেছে নিয়েছেন শুধু স্প্যানিশ ভাষাকেই। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ইংরেজি ব্যবহার করেন না বললেই চলে ৩৮ বছর বয়সী ফুটবলার। মেসির ক্যারিয়ারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মনে করা হয় যাকে, সেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এই ভাষায় বেশ পটু হলেও ভাষার এই মাধ্যম ব্যবহারে অনীহা আছে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের।
অনেকের কাছে মনে হতেই পারে, স্পেনের বার্সেলোনায় বড় হওয়া মেসি কী চাইলেই ইংরেজিটা শেখে নিতে পারতেন না? কেন বৈশ্বিক এই ভাষা আয়ত্ত করাকে জরুরি মনে হয়নি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরার?
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যালেন ‘লুজু টিভ’কে দেওয়া দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিয়ার সহ ব্যাক্তিগত জীবনের অনেক খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কথার ঝাঁপি খুলে বসেন মেসি। সেখানেই তিনি জানান, কেন স্প্যানিশ ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় কথা বলা এড়িয়ে চলেন।
আলোচনার শুরু হয় একটি প্রমোশনাল ভিডিও নিয়ে। বার্সেলোনায় খেলার সময় নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে চাইনিজ নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ওই ভিডিওটি করেছিলেন মেসি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়—নেইমার ও সুয়ারেজ চীনা ভাষায় কথা বললেও মেসি কথা বলেন স্প্যানিশে।
এই প্রসঙ্গে মেসি জানান, ক্লাবের সঙ্গে আগেই তার সমঝোতা ছিল—বিনয়ের কারণে তিনি ভাষা বদলাবেন না। পরে তিনি আরও বলেন, ইংরেজিতে কথা বলতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। মেসির ভাষায়, ‘কথা বলার সময় আমার অস্বস্তি লাগে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই সবকিছু স্প্যানিশেই করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে ইংরেজির ক্ষেত্রে, আমি মনে করি আমি বলতে পারি এবং অন্যরা তা বুঝতেও পারে।’
অবশ্য এটি আগ্রহের অভাব নয়—মেসি নিজেই জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরিসরে তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন। আসলে এই সিদ্ধান্ত ফুটবল মহাতারকার সরল ও বিচক্ষণ ব্যক্তিত্বেরই প্রতিফলন, যা ইউরোপ অধ্যায়ের পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইংরেজি ভাষার ওপর নির্ভরশীল দেশে খেললেও বদলায়নি।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪২ পিএম

বর্তমানে ইউরোপ তথা ফুটবলবিশ্বের অন্যতম সেরা দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণভাগের এই দুই মধ্যমণির পাশপাশি বার্সেলোনার তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালও এই সময়ের ফুটবলের ‘পোস্টার বয়’। তবে বার্সার স্প্যানিশ এই তারকার চেয়ে পুরো দ্বিগুন বেশি বেতন পান রিয়ালের দুই তারকা। ইউরোপে সর্বোচ্চ বেতন পাওয়া ফুটবলার এখন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস।
প্রতি বছরের মতোই ফরাসি সংবামাধ্যম লে’কিপ লিগ আঁ-এর পাশাপাশি ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলারদেরও তুলে ধরেছে। ফুটবলারদের পাশপাশি কোচদের বেতনও প্রকাশ করেছে তারা। দেখে নেওয়া যাক ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনটাতে কে সবচেয়ে বেশি বেতনের খেলোয়াড়।
লা লিগায়
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে বেতনের দিক থেকে সবার ওপরে আছেন এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের মাসিক আয় প্রায় ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। গত বছর ভিনির মাসে বেতন ছিল ২৫ লাখ ইউরো, এ বছরে এমবাপের সমান বেতন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। স্পেনে তাদের ঠিক পেছনেই আছেন ডেভিড আলাবা (১৮ লাখ ইউরো), রবার্ট লেভানডফস্কি (১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরো), জুড বেলিংহাম ও জন ওবলাক (১৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো)।
বর্তমানে ট্রান্সফার মার্কেটে সবচেয়ে বেশি দাম যার, সেই লামিনে ইয়ামালের বেতন এমবাপে ও ভিনি থেকে অর্ধেক কম বেতন পান। ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকার বেতন ১৩ লাখ ৩০ হাজার ইউরো।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ফুটবল লিগ হিসেবে পরিচিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া আর্লিং হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড গত বছরে প্রতি মাসে পেতেন ২৫ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। এখন মাসে তাঁর বেতন ২৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো। এরপরই আছেন মোহাম্মদ সালাহ। চলতি মৌসুম শেষেই লিভারপুল ছাড়তে যাওয়া মিশরীয় ফরোয়ার্ডের বেতন ২০ লাখ ইউরো। এছাড়া ক্যাসেমিরো ও ভার্জিল ফন ডাইক ১৭ লাখ ৫০ হাজার করে মাসে বেতন পান।
বুন্দেসলিগা
বেতন দেওয়ায় জার্মানিতে বায়ার্ন মিউনিখের আধিপত্য চোখে পড়ার মতোই। শীর্ষ পাঁচ বেতন পাওয়া ফুটবলারই ক্লাবটির। বুন্দেসলিগায় শীর্ষে আছেন বাভারিয়ানদের দুই তারকা হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালা। দু’জনের বেতনই ২১ লাখ ইউরো। এরপর আছেন ম্যানুয়েল নয়্যার—১৭.৫ লাখ ইউরো এবং জশুয়া কিমিচ ও দায়োত উপোমেকানো (১৬.৬ লাখ ইউরো)।
সিরি‘আ’
ইতালিতে শীর্ষে আছেন দুসান ভ্লাহোভিচ। জুভেন্টাসের সার্বিয়ান ফরোয়ার্ডের মাসিক বেতন প্রায় ১৮.৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন দুই আর্জেন্টাইন লাউতারো মার্তিনেজ (১৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো), পাউলো দিবালা (১০ লাখ ৮০ হাজার ইউরো)।
লিগ ‘আঁ’
ফ্রান্সে বরাবরের মতোই আলোচনার কেন্দ্রে পিএসজি। লিগ আঁ’র সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে তালিকার শীর্ষে আছেন ওসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অরজয়ী ফরাসি তারকার আয় প্রায় ১৫ লাখ ইউরো। তার পরেই আছেন পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কিনিওস (১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো) এবং মরক্কোর আশরাফ হাকিমি (১১ লাখ ইউরো)। গত মৌসুমের তুলনায় পিএসজির মোট বেতন খরচ সামান্য বেড়েছে।

ফুটবলের উত্তাপের মাঝেও কখনও কখনও মানবিক গল্প জায়গা করে নেয় শিরোনামে। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্সের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা ঠিক তেমনই—মাঠের লাল কার্ডের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মায়ের স্নেহভরা বারণ।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে উত্তেজনার এক মুহূর্তে লাল কার্ড দেখেছিলেন কক্স। মাঠের সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি তার ৮৬ বছর বয়সী মায়েরও। দূর দেশ থেকে ছেলেকে ফোন করে সোজাসাপ্টা বার্তা—‘বাবা, লাল কার্ড হজমের মতো দুষ্টুমি করো না।’
একটু হাসি, একটু ভালোবাসা—কিন্তু বার্তাটা ছিল গভীর, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। ফুটবলের রণক্ষেত্রেও মা যেন মনে করিয়ে দিলেন, যাই হোক না কেন শৃঙ্খলাই আসল শক্তি।
কক্সের দল এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। কাল মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় প্রতিবেশি ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। লাল-সবুজ দল নেপালকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আর ভুটানকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত।
২৮ মার্চ গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-ভারত। ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। এই ম্যাচের প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্ক করে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতীয় হেড কোচ মহেশ গাউলি। এসময় প্রতিবেশী দেশের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে তর্কে জড়ান কক্স। রেফারি দুজনকে লাল কার্ড দেখান।
লাল কার্ড হজমের পর নেপালের বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়াতে পারেননি বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ। টুর্নামেন্টে আরেকবার ভারতের মুখোমুখির আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো সে প্রসঙ্গ। এসময় মজা করে কক্স জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর তার মা তাকে ফোন করেন।
কক্স বলেন,
‘আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে আমাকে বলেছেন, এই বয়সে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো দুষ্টুমি করো না। জীবন মানেই তো ফুরফুরে থাকা।’
দ্বিতীয় শিরোপ জয়ের মিশনে ডাগআউটে শান্ত মেজাজে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কক্স। নিজেই যেন নিজের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা করলেন, যতটা সম্ভব চুপিসারে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন তিনি।
তিনি বলেন,
‘আমার মাথায় একটি মূল কৌশল রয়েছে যা আমার দলকে সাহায্য করবে বলে আমি মনে করি এবং এটি দলের জন্য ভালো হবে। কৌশলটি আমি এখনই আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমি ডাগআউটেই (বেঞ্চে) থাকব, মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হবো না। আপাতত এটাই আমার মূল কৌশল যে শান্ত থাকা, ভালো আচরণ করা এবং খেলোয়াড়দেরই তাদের পারফরম্যান্স দিয়ে কথা বলতে দেওয়া।’

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে যেতে ব্যর্থ হওয়ার পর পতদ্যাগ করেছেন ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রধান গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হারের দুই দিন পর সরে দাড়ালেন তিনি।
এফআইজিসি সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর আজ পদত্যাগের ঘোষণা দেন গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর কার্লো তেভেচ্চিও পদত্যাগ করলে ইতালির ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। আর গ্যাব্রিয়েল দায়িত্ব নেওয়ার পরন ২০২২ ও ২০২৬ বিশ্বকাপেই জায়গা করতে পারেনি ইতালি।
গ্রাভিনার সময়ে ইতালি ২০২০ ইউরো জিতেছিল। তবে ‘আজ্জুরিরা’ আরও একবার বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ফুটবল ফেডারেশন। গ্রাভিনা ইতালির সাবেক কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি এবং বর্তমান কোচ জেনেরো গাত্তুসোর নিয়োগ তদারকি করেছেন। পদত্যাগের আগে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পরও তিনি গাত্তুসোকে দলের সঙ্গে থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন।
এফআইজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন সভাপতি নির্বাচনের জন্য আগামী ২২ জুন ভোট হবে। প্রধান প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইতালিয়ান অলিম্পিক কমিটির সাবেক প্রধান এবং মিলান-কোর্টিনা শীতকালীন অলিম্পিক কমিটির সাবেক সভাপতি জিওভান্নি মালাগা।
ইতালির ফুটবলে এমন টালমাটাল সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফার সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন আজ ইতালিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যদি ইতালি তাদের ফুটবল অবকাঠামো আধুনিকায়ন না করে, তবে দেশটি ২০৩২ সালের ইউরোর সহ-আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারাতে পারে।
ইতালি ও তুরস্কের যৌথ আয়োজনে ২০৩২ ইউরো হওয়ার কথা। তবে আধুনিক স্টেডিয়ামের অভাবের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে ইতালি। দেশটির ফুটবল ফেডারেশনকে অক্টোবরের মধ্যেই ইউয়েফাকে ইউরো আয়োজনের জন্য পাঁচটি স্টেডিয়ামের নাম জমা দিতে হবে।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’