২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৫০ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া প্রায় ৯০ জন খেলোয়াড়ের অধিকার ও সুরক্ষা খর্ব হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদের অধিকাংশই তুলনামূলক খর্বশক্তির দলগুলোর খেলোয়াড়। পরিস্থিতি এমন হতে পারে যে, এই দলগুলোর খেলোয়াড়দের সীমাহীন সংখ্যক কনটেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য করা হবে এমনকি লাইসেন্সিং চুক্তি নিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে না—সব ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট জাতীয় বোর্ডের হাতে।
এই উদ্বেগের বিষয়গুলো বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) অন্তত ছয়টি সদস্য দেশের কাছে পাঠানো একটি স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছে। অভিযোগ করা হয়েছে, ২০ দল নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে আইসিসি কিছু দলের কাছে অনুমোদনহীন ‘স্কোয়াড টার্মস’ পাঠিয়েছে। ক্রিকেটভিত্তিক সাইট ক্রিকবাজের হাতে আসা ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, আইসিসির পাঠানো ‘আইসিসি ভার্সন’ স্কোয়াড টার্মস এবং ডব্লিউসিএ অনুমোদিত শর্তাবলীর মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে। বৈশ্বিক ক্রিকেটার্স ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়াসহ একাধিক দল এই নথি পেয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ‘অনুমোদনহীন স্কোয়াড টার্মস ছড়িয়ে দেওয়া আইসিসি ও কিছু জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি প্রচেষ্টা বলেই মনে হচ্ছে, যার মাধ্যমে এই বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সবচেয়ে দুর্বল ও কম পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের শোষণ করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ অপেশাদার খেলোয়াড়। এসব শর্তের আওতায় খেলোয়াড়দের তথ্য, নাম, ছবি ও পরিচিতি তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রায় সীমাহীনভাবে ব্যবহার ও বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রাখা হয়েছে খেলোয়াড়দের সম্মতি ছাড়াই। একমাত্র প্রতিকার হিসেবে রাখা হয়েছে আইসিসির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া।’
এখানে ‘স্কোয়াড টার্মস’ বলতে বোঝানো হয়েছে এমন একটি আইনি চুক্তিকে, যেখানে প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টে একজন খেলোয়াড়ের জন্য প্রযোজ্য শর্তাবলি ও নিয়মকানুন নির্ধারিত থাকে। ডব্লিউসিএর আশঙ্কা, আইসিসির বর্তমান সংস্করণে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় থাকা সব ধরনের চেক অ্যান্ড ব্যালান্স (ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণ) বাদ দেওয়া হয়েছে—যে সুরক্ষা খেলোয়াড়রা ডব্লিউসিএ অনুমোদিত বৈধ স্কোয়াড টার্মসে স্বাক্ষর করলে পেতেন।
স্কটল্যান্ড যুক্ত হওয়ায় এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডব্লিউসিএ-সংশ্লিষ্ট দেশের সংখ্যা ১৪-তে পৌঁছেছে। তবে সংস্থাটির প্রধান দুশ্চিন্তা হলো, আইসিসির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গড়ে তোলা সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যেন কোনোভাবেই দুর্বল না হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা জয়ে দুর্বল ও কম পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় দলগুলোকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে এবং তাদের অন্য দলগুলোর তুলনায় ভিন্ন শর্তে খেলতে বলা হচ্ছে। স্কোয়াড টার্মসের দুই সংস্করণের মধ্যে অসামঞ্জস্য সামগ্রিক হলেও, কিছু নির্দিষ্ট বিষয় বেশ চোখে পড়ে। যেমন, আইসিসির চেঞ্জিং রুমে রেকর্ডিং কন্টেন্টের অ্যাক্সেস। ডব্লিউসিএ অনুমোদিত চুক্তিতে, এটি শুধুমাত্র জয়ী দলের জন্য এবং অধিনায়কের অনুমোদনের সময় অনুযায়ী সীমিত। আইসিসির সংস্করণে, ম্যাচের পর সব দলের চেঞ্জিং রুমে ‘যুক্তিসঙ্গত অ্যাক্সেস’ থাকবে, এবং অনুমতি পেতে শুধু টিম ম্যানেজারের সম্মতি যথেষ্ট।
একইভাবে, মাঠের বাইরের বা ‘বিহাইন্ড দ্য সিনস’ কনটেন্টের ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য রয়েছে। আইসিসির মডেলে, সম্ভাব্য ইভেন্ট ডকুমেন্টারির জন্য দলের সব কার্যক্রমের কনটেন্ট আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিপরীতে, ডব্লিউসিএর সংস্করণে যেকোনো ধরনের ডকুমেন্টারির জন্য খেলোয়াড়দের সম্মতি বাধ্যতামূলক এবং যেহেতু এটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত পণ্য, তাই এর বিনিময়ে অর্থ প্রদানের কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
দুই স্কোয়াড টার্মসের আরেকটি বড় পার্থক্য হলো খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা। ডব্লিউসিএ অনুমোদিত সংস্করণে খেলোয়াড় নিজেই তার তথ্যের মালিক এবং সেটি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই তার সম্মতি প্রয়োজন। কিন্তু আইসিসির সংস্করণে খেলোয়াড়ের সব তথ্য পূর্ণ মালিকানা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে, যারা জাতীয় বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে সেই তথ্য বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে।
এছাড়া আইসিসির সংস্করণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একবার কোনো খেলোয়াড় আইসিসির কোনো ইভেন্টে অংশ নিলে, সে চুক্তিতে সই করুক বা না করুক, তাকে স্কোয়াড টার্মসের সব শর্ত মেনে নিয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। বিপরীতে, ডব্লিউসিএর সংস্করণে প্রতিটি আইসিসি ইভেন্টের জন্য আলাদাভাবে চুক্তিতে সই করাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সবকিছু মিলিয়ে ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফ্যাটের ভাষায়, ‘ডব্লিউসিএর সংস্করণটি তুলনামূলকভাবে বেশি ভারসাম্যপূর্ণ, যেখানে খেলোয়াড়দের মতামতের গুরুত্ব বেশি এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাধীন।’
No posts available.
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১:৪৪ পিএম
২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৩ এম
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২২ পিএম
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম

মহানাটকীয় ও ঘটনাবহুল ফাইনাল জিতে আফ্রিকান কাপ অব নেশন্সের (আফকন) চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ১০ দিন পর এবার বড় শাস্তি পেলেন সেনেগালের কোচ পেপ থিয়াও। একইসঙ্গে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞার হিড়িক পড়েছে দুই দলেই।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল জানিয়েছে, মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে যেতে বলা আনস্পোর্টিং আচরণের কারণে পাঁচ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ১ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে থিয়াওকে।
শুধু থিয়াও একা নন, মাঝে ১৪ মিনিট বন্ধ থাকা ফাইনালে শাস্তি পেয়েছেন আরও অনেকে। ম্যাচে দল ও দর্শকদের আচরণের কারণে সেনেগালের ফুটবল ফেডারেশনকে ৬ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
| গোলকিপারের ‘মিরাকল’ গোল নিয়ে যা বললেন মরিনিও |
|
রেফারির সঙ্গে আনস্পোর্টিং আচরণের জন্য সেনেগালের দুই ফুটবলার ইলিমান নিদায়ে ও ইসমাইলিয়া সারকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ওই ম্যাচে সেনেগালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ফল নিজেদের পক্ষে আনার আবেদন করেছিল মরক্কো। তবে সেটি উড়িয়ে দিয়েছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল।
উল্টো ম্যাচজুড়ে বল বয়দের আচরণ, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির কাছে গিয়ে ফুটবলার ও স্টাফদের আচরণ ও দর্শকদের লেজার ব্যবহারের কারণে মরক্কোর ফুটবলার ফেডারেশনকে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
এর সঙ্গে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি ২ ম্যাচ ও ইসমাইল সাইবারি ৩ ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
রাবাতে গত ১৯ জানুয়ারি মহানাটকীয় ফাইনাল ম্যাচটিতে একটি গোল বাতিল হওয়া ও মরক্কোর একটি পেনাল্টি পাওয়াকে কেন্দ্র করে নিজের খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন সেনেগালের কোচ থিয়াও। এর ফলে প্রায় ১৪ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা।
পরে পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি ব্রাহিম দিয়াজ। অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের মধ্যে চতুর্থ মিনিটে গোল করে সেনেগালের দ্বিতীয় আফকন শিরোপা নিশ্চিত করেন পেপ গুইয়ে। ওই ম্যাচের ১০ দিন পর এলো নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানার আনুষ্ঠানিক খবর।

পাগলাটে ওই মুহূর্তে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ছিলেন বেনফিকার কোচ হোসে মরিনিওই। যোগ সময়ের একেবারে শেষ দিকে কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের নায়ক বেনফিকার গোলকিপার আনাতোলি ট্রাবিন। কোথা থেকে হাজির হয়ে হেডে বল জালে আছড়ে ফেলেই পুরো গ্যালারিকে নিয়ে মেতে উঠলেন বুনো উদযাপনে। পাগলাটে সেই মুহূর্তে কী চলছিল মরিনিওর মাথায়?
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বেনফিকার ৪-২ গোলের জয় অনেক কারণেই বিশেষ। পর্তুগিজ ক্লাবটির প্লে অফ নিশ্চিত করা এই জয় নিয়ে মরিনিও বলেন, ‘এটা সত্যি সত্যিই প্রাপ্য ছিল...রিয়াল মাদ্রিদকে হারানো বেনফিকার জন্য অবিশ্বাস্য সম্মানের বিষয়।’
রিয়ালের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ও যখন যথেষ্ট ছিল না, যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে গোলকিপাররের গোলে মিলে গেল সব সমীকরণ। বেনফিকার গোল ব্যবধান হয়ে গেল মাইনাস দুই। ঠিক এতটুকুই যথেষ্ট ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় ঠেকিয়ে প্লে অফেরে টিকিট কাটা।
তবে ম্যাচ চলাকালীন নাকি গোল ব্যবধান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ মরিনিও এমন মুহূর্তের কথা স্বীকার করে বলেন, ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তিনি এবং তার দল ভেবেছিলেন ৩-২ স্কোরলাইনই প্লে-অফ নিশ্চিত করবে, তবে পরে জানা গেল আরও একটি গোল প্রয়োজন। অভিজ্ঞ এই কোচের ভাষায়, ‘যখন আমি শেষ পরিবর্তনগুলো করলাম—তখন আমাকে বলা হয়েছিল স্কোরলাইন যথেষ্ট, তাই আমি ভাবলাম ম্যাচটাই এখানেই শেষ হয়ে যাক। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে জানানো হলো আমাদের আরও একটি গোল দরকার, কিন্তু আমি আর বদলি নামাতে পারিনি। ভাগ্যক্রমে আমাদের ফ্রি-কিকটা হয়েছিল, যাতে আমাদের দীর্ঘদেহী খেলোয়াড় (ট্রাবিন) মাঠে উপরে উঠে আসতে পারে।’
নাটকীয় হেডারের আগে একই ধরনের বিভ্রান্তির কথা স্বীকার করেন ইউক্রেনের গোলকিপার ট্রাবিনও, ‘আমি জানতাম না আমাদের কী দরকার। তারপর দেখলাম সবাই আমাকে উপরে যেতে বলছে। কোচও উপরে যেতে বলেছিলেন, তাই আমি বক্সে গেলাম… আর আমি জানি না… বলতে পারব না। পাগলাটে মুহূর্ত। আমি জানি না কী বলব। আমি গোল করার অভ্যস্ত নই। আমি ২৪ বছর বয়সি, আর এটা প্রথমবার। অবিশ্বাস্য।’
‘স্পেশাল ওয়ান’ মরিনিওর জন্য এই জয় কতটা বিশেষ তা বেশ ক’দিন আগে তাঁর একটি মন্তব্য শুনলেই স্পষ্ট হওয়া যাবে। গত সেপ্টেম্বরে বেনফিকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাবটির চতুর্থ ম্যাচ শেষে পয়েন্ট ছিল কেবল শূন্য। তখন পোড় খাওয়া এই কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কি এখনও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পরের পর্বে যাওয়া নিয়ে বিশ্বাসী কি না? এই প্রতিযোগিতায় তিনবার শিরোপা জয়ী মরিনিও তখন বলেন, ‘আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমরা টিকে আছি।’ শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচের শেষ মিনিটেই দলের টিকে থাকার কারীগর হলেন মরিনিও।
প্লে অফে আবারও রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হতে পারেন মরিনিও। শেষ ষোলো নিশ্চিতের ম্যাচে নিজের আরেক সাবেক ক্লাব ইন্টার মিলানও হতে পারে তাঁর প্রতিপক্ষ। আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের নিওনে হবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের ড্র।

পাগলাটে এক রাতের আভাস আগেই ছিল। অনিশ্চয়তা, রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তার মাত্রা ছাড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল আরেকটি মহাকাব্য। এক একটি গোলেই বদলে যাচ্ছিল পুরো দৃশ্যপট। পয়েন্ট থেকে গোল ব্যবধান, সমীকরণ মেলানোর দারুণ এই খেলায় শেষ পর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জায়ান্ট কোনো দলকে। আবার চমকে দিয়ে শেষ হাসি হাসার অসাধারণ গল্পও লিখেছে ছোটো কোনো দল।
মহানাটকীয় মহারণে ব্যর্থ রিয়াল, বেনফিকার বাজিমাত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রূপকথার এই রাতে প্রায় সবটুকু আলোই কেড়ে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ-বেনফিকার ম্যাচটি। একই সময়ে শুরু হওয়া ১৮ ম্যাচের ১৭টিই যখন শেষ, খেলা চলছিল শুধু রিয়াল-বেনফিকার। পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে থেকে নিজেদের সাবেক হোসে মরিনহোর ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে নামে লস ব্লাঙ্কোসরা। অথচ রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ ১৫বারের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের আবিষ্কার করে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে। বিপরীতে টিমটিম করে জ্বলতে থাকা বেনফিকার প্লে অফ খেলার সম্ভাবনা শেষ মুহূর্তের এক অবিস্বরণীয় গোলে বাস্তবে রূপ নেয়।
নিজেদের মাঠে রিয়ালের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের শেষ দিকেও ৩–২ গোলে এগিয়ে জোসে মরিনিওর বেনফিকা। কিন্তু বিদায় ঠেকাতে হলে দলটির দরকার ছিল আরেকটি গোল। অন্যদিকে রিয়ালেরও দরকার ছিল একটি গোল। ম্যাচ ড্র হলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে টপকে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলোতে জায়গা পাবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-কিলিয়ান এমবাপেরা।
অনিশ্চয়তার খেলা ফুটবল তো এমনই। যোগ করা সময়ের আট মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে পাওয়া বলে হেড করে গোল করে বেনফিকাকে নকআউট পর্বে তুলে দিলেন গোলকিপার আনাতলি ত্রুবিন। ৪–২ গোলে জিতে গোল ব্যবধানে মার্শেইকে বিদায় করে ২৪তম হয়ে নকআউট প্লে–অফে বেনফিকা। আর হেরে রিয়াল নবম হয়ে জায়গা পেল নকআউট প্লে–অফেই।
৬০ বছর পর মুখোমুখি হওয়া বেনফিকা-রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ৩০ মিনিটে প্রথম গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। মিনিট ছয়েক পরই ব্যবধান ১-১ করেন আন্দ্রেয়াস শেলদ্রোপ। তারপর বিরতির আগের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে লক্ষ্যভেদ করে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন গ্রিক ফরোয়ার্ড পাভলিদিস। রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে ৫৪ মিনিটে শেলদ্রোপের আরেক গোলে আরেক দফা লিড নেয় বেনফিকা। চার মিনিট পর জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ৩-২ করেন এমবাপে। এরপর তো শেষ মুহূর্তের সেই মহানাটকীয়তা।
পয়েন্ট টেবিলে ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা দলগুলো প্লে অফে নিজেদের প্রতিপক্ষ জানতে পারবে আগামীকাল। শেষ ষোলো নিশ্চিতের লড়াইয়ে আরভারো আরবেলোয়ার রিয়াল মাদ্রিদের সামনে আবারও পড়তে পারে মরিনহোর বেনফিকা অথবা নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমট।
সব সমীকরণ মিলিয়ে সেরা আটে বার্সেলোনা
শুধু জয়ই যথেষ্ট হতো না বার্সেলোনার জন্য। বড় ব্যবধানে জয়ের সঙ্গে অন্য দলগুলোর ফলও পাল্টে দিবে কাতালান ক্লাবটির সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার হিসেব-নিকেশ। হান্সি ফ্লিকের বার্সার জন্য রাতটি সৌভাগ্যেরই ছিল। ডেনমার্কের ক্লাব এফসি কোপেনহেগের বিপক্ষে তারা ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে তো জিতেছেই সঙ্গে স্প্যানিশ জায়ান্টদের সমীকরণ মেলাতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে অন্য দলগুলোর ফলও।
অবশ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে বেশ চাপে পড়ে যায় বার্সা। তবে চলতি মৌসুমে ঘুরে দাঁড়ানোকে অভ্যাসে পরিণত করা লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়ারা আরও একবার প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের জোয়ারে সফরকারীদের একরকম ভাসিয়ে দিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে বার্সা। বার্সার হয়ে গোল পেয়েছেন রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিনে ইয়ামাল, রাফিনিয়া ও মার্কাস র্যাশফোর্ড।
সেরা আটে সিটি, লিভারপুলের গোল উৎসব
শীর্ষ আটে থেকে লিগ পর্ব শেষ করতে তুর্কি ক্লাব গালাতাসারইয়ের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প ছিল না ম্যানচেস্টার সিটির। ঘরের মাঠ ইতিহাদে তিন পয়েন্ট ঠিকই আদায় করে নিয়েছে পেপ গার্দিওলার দল। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পর, প্রথমার্ধে ব্যবধানও বাড়িয়ে নিল ম্যানচেস্টার সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে একটু গা ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আর লড়াইয়ে ফিরতে পারল না গালাতাসারাই। আর্লিং হলান্ড দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর রায়ান চেরকির গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে সব শঙ্কা উড়িয়ে দেয় সিটিজেনরা।
নামে-ভারে, শক্তিমত্তায় প্রতিপক্ষ থেকে যোজন যোজন এগিয়ে থাকা লিভারপুলের বড় জয় ছিল প্রত্যাশিত। কারবাখ এফকের বিপক্ষে হেসেখেলেই জিতেছে অল রেডরা। অ্যানফিল্ডে আজারবাইজানের ক্লাবটির জালে হাফ-ডজন গোল দিয়ে ৬-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। জোড়া গোল করেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। একবার করে জালের দেখা পান মোহামেদ সালাহ, ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎস, হুগো একিটিকে ও ফেদেরিকো চিয়েসা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তৃতীয় জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোয় উঠল আর্নে স্লটের দল।
প্লে অফের গ্যাঁড়াকলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজি
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন পিএসজির জন্য হিসেব ছিল একেবারেই সরল। নিজেদের উঠান পার্ক দে প্রিন্সেসে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে জয় পেলেই চলত ফরাসি ক্লাবটির। একই সমীকরণ ছিল ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলেরও। তবে হিসেব মেলাতে পারেনি কোনো দলই। ১-১ গোলে ড্র করে পিএসজি-নিউক্যাসল দুই দলকেই প্লে অফের বাধা ডিঙিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করতে হবে।
ঘরের মাঠে শুরুতে উসমান দেম্বেলের পেনাল্টি মিসের একটু পরই এগিয়ে যায় পিএসজি। স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ভিতিনিয়া। প্রতিপক্ষের মাঠে খুব একটা গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না নিউক্যাসল। কিন্তু প্রথম সুযোগ পেয়েই লুফে নিতে ভুল করেনি সফরকারীরা। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে লক্ষ্যে নিজেদের প্রথম প্রচেষ্টায় সমতা টানে তারা, জালে বল পাঠান জো উইলক। বাকি সময়ে জয়সূচক গোল করার সুযোগ এসেছিল দু’দলেরই। তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় মলিন মুখেই মাঠ ছাড়তে হয় পিএসজি-নিউক্যাসলের।
‘জায়ান্ট কিলার’ বোডো/গ্লিমটের ইতিহাস
এইতো মাত্র আট দিন আগের কথা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের ইতিহাসে কোনো জয়ই ছিল না বোডো/গ্লিমটের। অথচ পরপর দুই ম্যাচে ইউরোপের দুই পরাশক্তিকে হারিয়ে নরওয়ের এই ক্লাবটি কি না এখন ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় প্লে অফ খেলবে!
ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-১ গোলে হারানোর পর বোডো/গ্লিমট এবার জয় পেয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে। ঘরের মাঠে দিয়াগো সিমিওনের দল শুরুতে এগিয়েও যায়। ১৫ মিনিটে গোল করে আতলেতিকোকে লিড এনে দেন আলেক্সান্ডার সরলথ। তারপর ফ্রেদরিক সিয়োভোল্ড ও ক্যাসপার হইয়ের গোলেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ২৩তম স্থান নিশ্চিত করে বোডো/গ্লিমট।
নরওয়ের মাছ ধরার শহর বোডো থেকে আসা এই দলটির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অভিষেকের গল্প কতটা অনবদ্য সেটা কোচের কণ্ঠে ঝরে পড়া আবেগ থেকেই স্পষ্ট। ম্যাচ শেষে বোডো/গ্লিম্ট কোচ কিয়েটিল নুটসেন বলেন, ‘অনুভূতিটা ভাষায় বোঝানো কঠিন, আমি ভীষণ গর্বিত। এর সঙ্গে আমি কোনো কিছুর তুলনা করতে চাই না। আমরা যেটা করি, সেটাই করেছি। সেটার জন্য আমাদের গর্বিত হওয়াই উচিত। অর্জন নিজেই নিজের পরিচয় বহন করে।’
সরাসরি শেষ ষোলোতে যারা (শীর্ষ ৮)
আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল, টটেনহাম, বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্তিং সিপি ও ম্যানচেস্টার সিটি।
নকআউট প্লে–অফে (৯ থেকে ২৪)
রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, পিএসজি, নিউক্যাসল, জুভেন্টাস, আতলেতিকো মাদ্রিদ, আতালান্তা, লেভারকুসেন, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, অলিম্পিয়াকোস, ক্লাব ব্রুগা, গালাতাসারাই, মোনাকো, কারাবাগ, বোডো/গ্লিমট ও বেনফিকা
বিদায় ঘণ্টা (২৫ থেকে ৩৬)
মার্শেই, পাফোস, ইউনিয়ন সেঁ–জিলোয়াস, পিএসভি আইন্দহফেন, বিলবাও, নাপোলি, কোপেনহেগেন, আয়াক্স, ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাতি।

আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে নারী এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। প্রতিযোগিতা সামনে রেখে সপ্তাহ খানেকের সাময়িক ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার সকালে ফিটনেস কোচ লর্ড ম্যাকরনের অধীনে অনুশীলনও করেছে দল। এরপর সন্ধ্যায় ঘোষণা করা হয়েছে ২৯ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড।
বাংলাদেশ স্কোয়াডে একমাত্র চমক সুইডেন প্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকি। বাংলাদেশ দলের বুধবারের অনুশীলন সেশনে ছিলেন সুইডেন এই ফুটবলার। বর্তমানে নারী দলের হেড কোচ পিটার বাটলার রয়েছে নেপালে। অনূর্ধ্ব-১৯ সাফের দল নিয়ে সেখানে গেছেন ব্রিটিশ কোচ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হবে বয়সভিত্তিক এই সাফের ফাইনাল। এরপর দেশে এসে তিনি ফাইনাল স্কোয়াড ঘোষণা করবেন।
এদিকে এবারও দলে সুযোগ পাননি সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকাররা। এমনকি তাদের ফিটনেস ট্রেনিং ক্যাম্পে ডেকেও পরখ করেননি হেড কোচ বাটলার।
২৯ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড:
শামসুন্নাহার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার (জুনিয়র), মিলে আক্তার, সিনহা জাহান শিখা, তনিমা বিশ্বাস, মোসাম্মৎ রুমা আক্তার, মোসাম্মৎ হলিমা আক্তার, মোসাম্মৎ সুলতানা, উম্মে কুলসুম, নবিরন খাতুন, মোসাম্মৎ ফেরদোসী আক্তার সোনালী, কোহাতি কিসকু, আইরিন খাতুন, মোসাম্মৎ সুরমা জান্নাত, মোসাম্মৎ সাগরিকা, উমেহ্লা মারমা, রূপনা চাকমা, স্বর্ণা রানী মণ্ডল, আফঈদা খন্দকার, শিউলি আজিম, স্বপ্না রানী, শাহেদা আক্তার রিপা, ঋতুপর্ণা চাকমা, নাদিয়া আক্তার জুতি, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকি, উন্নতি খাতুন।

এই বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে নারী এশিয়ান কাপের ২১তম আসর। প্রতিযোগিতা সামনে রেখে সপ্তাহ খানেকের সাময়িক ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ। আজ বুধবার সকালে ফিটনেস কোচ লর্ড ম্যাকরনের অধীনে অনুশীলনও করেছে দল। বাংলাদেশ দলের এ দিনের অনুশীলন সেশনে ছিলেন সুইডেন প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।
আনিকার বাংলাদেশি পাসপোর্ট রয়েছে। যে কারণে এএফসি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করাতে কোনো সমস্যায় পড়েনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। নিয়মানুযায়ী টুর্নামেন্টের এক মাস আগে প্রাথমিক নিবন্ধন করাতে হয়। ১০ দিনের ট্রায়ালে ফর্ম ও ফিটনেসে উত্তীর্ণ হলে আনিকা অস্ট্রেলিয়ায় আফঈদাদের সফরসঙ্গী হতে পারেন। বাংলাদেশ নারী দলে এর আগে প্রবাসী ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন কেবল সুমাইয়া মাতসুশিমা।
এশিয়া কাপের মাত্র মাস খানেক আগে আনিকাকে ট্রায়ালের সুযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের বৃটিশ হেড কোচ পিটার বাটলার। অথচ বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মাসুরা পারভীনের মতো পরীক্ষিত ফুটবলারদের ক্যাম্পে ডেকে পরখ করার প্রয়োজনই মনে করেননি তিনি।