
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তখন চলছে ইনজুরি টাইমের খেলা। হুট করে নামল বৃষ্টি। গ্যালারির সব দর্শক তখন ঠায় দাঁড়িয়ে। এর মাঝেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজালেন রেফারি। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বৃষ্টির সঙ্গে যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল হাজারো দর্শকের আনন্দাশ্রু।
আর তা হবেই না কেন! দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার পর যে আবার ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল নিশ্চিত করতে পেরেছে আর্সেনাল। ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর আবার চলতি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপার লড়াইয়ে নামবে মিকেল আরতেতার শিষ্যরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে এমিরেটস স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে আর্সেনাল। সেমি-ফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে উত্তর লন্ডনের ক্লাবটি।
প্রথমার্ধের বিরতির বাঁশি বাজার মিনিটখানেক আগে স্বাগতিকদের দর্শকদের আনন্দে ভাসানো গোলটি করেন ২৪ বছর বয়সী সাকা। সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকে জয়সূচক।
মাঠের খেলায় এমনিতে প্রায় সমান-সমানই ছিল দুই দল। প্রায় ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ১৩টি শট করে আর্সেনাল। বিপরীতে ৯টি শটের মধ্যে ২টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে আতলেতিকো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে খেলতে থাকে আর্সেনাল। দুই পাশ দিয়ে তারা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে বেশ কয়েকবার। কিন্তু কখনও সে অর্থে জোরাল আক্রমণ করতে পারছিল না তারা।
বারবার কাছাকাছি গিয়ে খেই হারাচ্ছিলেন বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস, এবেরেচি এজেরা। একই দশা ছিল আতলেতিকোর হুলিয়ান আলভারেজ, আন্তোনিও গ্রিজম্যানদেরও। প্রথমার্ধের পুরোটা সময়ে বলার মতো তেমন কোনো আক্রমণই করতে পারেনি আতলেতিকো।
মনে হচ্ছিল, গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাবে দুই দল। তবে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে চমৎকার আক্রমণের পর বাম পাশ থেকে ডান পায়ের জোরাল শট নেন লেয়ান্দ্রো ট্রসার্ড। প্রথম দফায় সেটি ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান অবলাক।
তবে ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে যান সাকা। বাম পায়ের আলতো টোকায় বাকি কাজ সহজেই সারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। আতলেতিকোর ফুটবলাররা অফসাইডের মৃদু আবেদন করলেও তা ধোপে টেকেনি। স্বাগতিক দর্শকদের নিয়ে উল্লাসে মাতে আর্সেনাল।
দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলক গোছানো ফুটবল খেলে আতলেতিকো। প্রথম মিনিটেই হেডে গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেন আদেমালো লুকমান। পরে ৫৬ মিনিটে ডি-বক্সের ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন গ্রিজমান। যা ঠেকিয়ে দেন আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
সেটিই ছিল ম্যাচে আতলেতিকোর প্রথম অন টার্গেট শট।
মিনিট দশেক পর বড় সুযোগ পায় আর্সেনাল। আচমকা পাল্টা আক্রমণে বাম পাশ দিয়ে বল পেয়ে যান বদলি হিসেবে নামা পিয়েরো হিকাপি। ডি-বক্সের মধ্যে ক্রস দেন তিনি। তবে পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে ভিক্টর গিয়োকেরেসের শট চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
গোলের খোঁজে মরিয়া ডিয়েগো সিমিওনে ৬৬ মিনিটের সময় দুই ফরোয়ার্ড গ্রিজমান ও আলভারেজকে একসঙ্গে তুলে নেন। তাদের বদলি হিসেবে নামেন থিয়াগো আলমাদা ও অ্যালেক্স বায়েনা। তবে বদলি দুজনের কেউই তেমন ছাপ রাখতে পারেননি।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে আলেসান্দ্রো সরলথের পাস থেকে বাম পায়ের শট নেন মার্কোস লরেন্তে। ডান কোনা থেকে সেটি ফিরিয়ে দেন ডেভিড রায়া। পরের মিনিটে অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায় আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবার হেডার।
৮৯ মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দূরপাল্লার শটের চেষ্টা করেন অ্যালেক্স বায়েনা। বারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায় বল। এরপর ইনজুরি টাইমে আর্সেনালের সময়ক্ষেপণের চেষ্টায় কিছুটা উত্তেজনা ছড়ায় মাঠে। তবে সেটি ম্যাচের ফলে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
চ্যাম্পিয়নস লিগের অন্য সেমি-ফাইনালে দ্বিতীয় লেগে বুধবার রাতে লড়বে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। পরে ফাইনাল ম্যাচে শিরোপার লড়াইটি হবে আগামী ৩০ মে।
No posts available.
৭ মে ২০২৬, ২:০৮ পিএম
৭ মে ২০২৬, ১০:১৯ এম

‘শেষ হইয়াও হইলো না শেষ’।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের যাত্রার সমাপ্তি ঘটলেও রেফারির দুটি সিদ্ধান্ত
নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। অনেকের মতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত সেখানেই। সমর্থক থেকে
শুরু করে অনেক ফুটবলবোদ্ধারাও নিজেদের যুক্তি তুলে ধরছেন। আবার কেউ বলছেন নিয়মের কথা।
ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় প্রথম লেগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৫-৪ ব্যবধানে জেতার পর, মিউনিখে বুধবার ফিরতি লেগ ১-১
ড্র হওয়ায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। আগামী ৩০ মে বুদাপেস্টে
শিরোপার লড়াইয়ে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে এই প্রতিযোগিতার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরুতেই অর্থাৎ
৩ মিনিটের মাথায় পিএসজিকে এগিয়ে দেন উসমানে দেম্বেলে। ম্যাচ জুড়ে ভিনসেন্ট কোম্পানির
বায়ার্ন গোল শোধের চেষ্টা করে বারবার হতাশ হয়েছে। একদম শেষ মুহূর্তে (যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে) হ্যারি কেইন গোল করে সমতা ফেরালেও তা কেবল সান্ত্বনাই হয়ে থেকেছে বাভারিয়ানদের জন্য। রেফারির
শেষ বাঁশি বাজার আগে বায়ার্ন শিবিরে ক্ষণিকের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়েই
মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার
১-১ স্কোরলাইন ম্যাচের পুরো চিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পারছে না, কারণ ম্যাচটি আবারও বিতর্কে
ঠাসা ছিল। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে লাল কার্ডের হাত থেকে বেঁচে যান নুনো মেন্দেস।
কনরাড লাইমারের একটি ‘ফ্লিক’ করা বল রুখতে গিয়ে মেন্দেসের প্রসারিত ডান হাতে লাগে,
যা দেখতে বেশ ইচ্ছাকৃতই মনে হচ্ছিল। কিন্তু পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরো উল্টো লাইমারের
বিপক্ষে হ্যান্ডবলের বাঁশি বাজান। এই ঘটনায় ডাগআউটে ভিনসেন্ট কোম্পানি এবং বায়ার্ন
বেঞ্চকে পুরোপুরি হতভম্ব দেখায়।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না
কাটতেই আবারও বিতর্ক। নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে মার্কিনিউস বল ক্লিয়ার করতে গেলে সেটি
তাঁর সতীর্থ জোয়াও নেভেসের প্রসারিত হাতে লাগে। কিন্তু এবারও পেনাল্টির জোরালো আবেদন
নাকচ করে দেন রেফারি।
রেফারির বিতর্কিত দুই সিদ্ধান্ত
নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক রেফারি ম্যানুয়েল গ্রেফে। বড় ম্যাচগুলোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
নিয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত বিশ্লেষণ দেন তিনি। নেভেসের সেই হ্যান্ডবলে বায়ার্নের এখানে নিশ্চিত পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন এই সাবেক রেফারি।
বায়ার্নের বিপক্ষে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না আসায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে ম্যানুয়েল গ্রেফে বলেন,
‘দুঃখিত, কিন্তু এসব এখন স্রেফ তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। বলের গতিপথে হাত চলে এসেছে এবং এবার তো কাঁধ বরাবর হাত পুরোপুরি প্রসারিত ছিল—তাও আবার বল শট নেওয়ার পর! এটি ১০০ ভাগ পেনাল্টি ছিল। আর প্রথম লেগের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলে এটি না দেওয়াটা স্রেফ পাগলামি!’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘এই ধরণের হ্যান্ডবল সবসময়ই পেনাল্টি হওয়া উচিত। নিয়মগুলো শুধু রেফারি বা কর্মকর্তাদের জন্য তৈরি হয়নি, এগুলো ফুটবলের জন্য। ফুটবলার এবং খোদ ফুটবলই এখানে পেনাল্টি দাবি করে, আর সেটাই যৌক্তিক! এখানে ফুটবলীয় ব্যাকরণের নিয়মগুলো তো সাদা-কালো অক্ষরে স্পষ্ট লেখা আছে। ইউয়েফা বা ফিফার বিশেষ ব্যাখ্যাগুলো তো এর পরের বিষয়। তারা 'ন্যাচারাল পজিশন' বা স্বাভাবিক অবস্থানের কথা বলে, কিন্তু কেউ তো আর ইচ্ছাকৃতভাবে বলের গতিপথে হাত বাড়িয়ে দেবে না!’
ইউরোতে মার্ক কুকুরেয়ার সেই বিতর্কিত হ্যান্ডবলের প্রসঙ্গ টেনে গ্রেফে বলেন,
‘কুকুরেয়ার সেই ঘটনার সময়ও আমিই একমাত্র বিশেষজ্ঞ বা সাবেক ডিএফবি রেফারি ছিলাম যে বলেছিলাম ওটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ (পেনাল্টি)। কয়েক মাস পর ইউয়েফাও তা স্বীকার করে নিয়েছিল। এখানেও তেমনটাই হবে। যদি তা না হয়, তবে ফিফা এবং ইউয়েফার রেফারি ও কর্মকর্তাদেরই বদলে ফেলা উচিত। কারণ আজকের ম্যাচে যা হয়েছে, স্বচ্ছ নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুযায়ী তা সবসময়ই পেনাল্টি হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।’
অবশ্য আইন বলছে বায়ার্ন-পিএসজি
ম্যাচের পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পেদ্রো সিলভা পিনহেইরোর সিদ্ধান্ত ভুল কিছুই ছিল না।
ফুটবলের নিয়ম অনুযায়ী, বক্সের ভেতর হ্যান্ডবল মানেই পেনাল্টি—এই ধারণা সবসময় সঠিক নয়।
বিশেষ করে যখন বলটি নিজের দলের কোনো সতীর্থের কাছ থেকে আসে, তখন রেফারিরা সাধারণত পেনাল্টির
বাঁশি বাজাতে চান না। এর পেছনে রয়েছে ফুটবলের যৌক্তিক এবং কৌশলগত ব্যাখ্যা।
সাধারণত হ্যান্ডবলের শাস্তি
দেওয়া হয় তখন, যখন কোনো রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হাতের অবৈধ ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নেন
এবং প্রতিপক্ষের নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। কিন্তু বল যখন সতীর্থের শরীর থেকে বা ক্লিয়ার
করার চেষ্টাকালে হাতে লাগে, তখন রক্ষণভাগ বাড়তি কোনো সুবিধা পায় না। উল্টো অনেক সময়
সতীর্থের শটটি হাতে লাগার ফলে বল ক্লিয়ার না হয়ে গোলবক্সের বিপজ্জনক জায়গায় থেকে যায়,
যা রক্ষণভাগের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। যেহেতু এখানে খেলোয়াড় কোনো ‘অন্যায্য সুবিধা’
নিচ্ছেন না, তাই এমন পরিস্থিতিতে পেনাল্টি দেওয়াটা ফুটবলের স্পিরিটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ
নয়।

কুল-বিএসজেএ
মিডিয়া কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন দীপ্ত টেলিভিশন। বৃহস্পতিবার বাফুফে
ভবন সংলগ্ন আর্টিফিশিয়াল টার্ফে অনুষ্ঠিত ফাইনালে দৈনিক কালবেলাকে টাইব্রেকারে ৩-১
ব্যবধানে হারায় দীপ্ত টেলিভিশন।
ফাইনাল
ম্যাচ উপভোগ করে পুরস্কার বিতরণ করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস
সালাম, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের হেড অব মার্কেটিং ড. জেসমিন জামান, বাংলাদেশ স্পোর্টস
জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু, সাধারণ সম্পাদক এস
এম সুমন এবং টুর্নামেন্ট কমিটির আহ্বায়ক ও সহ সভাপতি রায়হান আল মুঘনি।
চ্যাম্পিয়ন
দীপ্ত টেলিভিশনকে আকর্ষণীয় ট্রফি, ২০ হাজার টাকার প্রাইজমানি ও প্রত্যেক খেলোয়াড়কে
মেডেল পুরস্কার দেওয়া হয়। রানার্স-আপ দৈনিক কালবেলাকে আকর্ষণীয় ট্রফি, ১০ হাজার টাকার
প্রাইজমানি ও প্রত্যেক খেলোয়াড়কে মেডেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
টাইব্রেকারে
দারুণ নৈপুণ্যে দেখিয়ে প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল নির্বাচিত হন দীপ্ত টেলিভিশনের অধিনায়ক
মির্জা সাকিব। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন তিনি। পুরস্কার
হিসেবে পেয়েছেন গোল্ডেন বুট।
এর
আগে দীপ্ত টেলিভিশন সেমি-ফাইনালে চ্যানেল আইকে এবং দৈনিক কালবেলা দ্য ডেইলি স্টারকে
হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। দুইটি সেমি-ফাইনালেরই নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে।

ইউয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার দাবিতে উত্তাল আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অঙ্গন। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ফুটবলার, কোচ এবং সাংস্কৃতিক জগতের তারকারা একজোট এই ম্যাচ বর্জনের দাবি জানিয়েছেন। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ নামক প্রচারণা গোষ্ঠীর ব্যানারে খোলা চিঠিতে এই দাবি জানিয়েছেন তারা।
‘স্টপ দ্য গেম’ শিরোনামের এই চিঠিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ফুটবল দল পরিচালনা করে ফিফা ও ইউয়েফার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা, সাবেক পুরুষ দলের কোচ ব্রায়ান কার এবং দুইবার বর্ষসেরা নারী ফুটবলারের খেতাবজয়ী লুইজ কুইন। অন্যান্য স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন জনপ্রিয় আইরিশ ব্যান্ড ফনটেইনস ডি.সি., হিপ-হপ গ্রুপ নি-ক্যাপ, গায়ক-গীতিকার ক্রিস্টি মুর এবং অস্কার-মনোনীত অভিনেতা স্টিফেন রিয়া।
চিঠিতে আয়ারল্যান্ডের পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠনের (পিএফএআই) চেয়ারম্যান রবার্তো লোপেসের একটি বক্তব্য রয়েছে। ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী লোপেস, আগামী জুনে কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপে খেলবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনের মানবিক বিপর্যয়কে উপেক্ষা করতে পারি না। জীবনের মূল্য যেকোনো খেলার চেয়ে অনেক বেশি। আয়ারল্যান্ডের সামনে এখন সুযোগ আছে অন্যদের পথ দেখানোর।‘
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ইউয়েফা নেশনস লিগ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর ডাবলিনের আভিভা স্টেডিয়ামে ইসরায়েলকে আতিথ্য দেওয়ার কথা রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের হোম ম্যাচ হিসেবে নির্ধারিত খেলাটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপ বলছে, আয়ারল্যান্ডের ৭৬ শতাংশ ফুটবল সমর্থক ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচ খেলার বিরোধী। এছাড়া গত বছরের নভেম্বরে এফএআই-এর ৯৩ শতাংশ সদস্য ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ভোট দিয়েছিলেন।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন অবশ্য ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইরিশ টাইমসকে তিনি বলেন, ‘আমরা গাজায় ইসরায়েলি সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছি। আবার হামাসের ভয়াবহ হামলারও আমরা নিন্দা জানিয়েছি। খেলাধুলা যখন রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করে, তখন তা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।‘
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএআই) প্রধান নির্বাহী ডেভিড কুড়েল সতর্ক করেছেন, ম্যাচ বয়কট করলে আয়ারল্যান্ড ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

মৌসুমের শেষভাগে এসে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে মাঠের বাইরের বিতর্কেই বেশি খবরের শিরোনামে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার খবর, অনুশীলনের সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দুই মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং অরেলিয়ান চুয়ামেনি।
ঘটনার শুরু ভ্যালদেবেবাসে ক্লাবটির অনুশীলন সেশনে। সাধারণ একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়ান ভালভার্দে ও চুয়ামেনি। অনুশীলনের সময় পরিস্থিতির এতটাই অবনতি ঘটে যে তারা একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। বিষয়টি লকার রুম পর্যন্ত গড়ায়। সতীর্থরা তাদের সরিয়ে নিলেও দলের ভেতরের বিষাক্ত পরিবেশ এখন ওপেন সিক্রেট।
সম্প্রতি অনুশীলনের সময় আন্তোনিও রুডিগার ও আলভারো কারেরাসসের হাতাহাতির খবর চাউর হয়। গুঞ্জন উঠেছিল, রুডিগার কারেরাসকে থাপ্পড় মেরেছেন। জার্মানির এই তারকার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও মঙ্গলবার কারেরাস স্বীকার করেছেন, এক সতীর্থের সঙ্গে ঝামেলার ঘটনা ঘটেছিল।
দলের অস্থিরতায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে কিলিয়ান এমবাপের আচরণ। বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এমবাপে বর্তমানে অসন্তুষ্ট এবং খিটখিটে মেজাজে আছেন। জাবি আলোনসোকে বরখাস্ত করার ঘটনায় তিনি এখনও ক্ষুব্ধ।
এমবাপের আচরণে নাকি তাঁর সতীর্থরা খুশি নন। এই সপ্তাহের শুরুতে তাঁর নেওয়া বিরতি নিয়ে দলের ভেতর অসন্তোষ রয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, অনেক খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে কথা বলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।
দলের এই অস্থিরতার মধ্যেই রোববার এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামবে রিয়াল। এই ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট পেলেই লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করবে কাতালানরা।
.jpeg)
২০২৫ সালের এপ্রিলের পর থেকে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকা কোনো ম্যাচে হারেনি প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি)। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফিরতি লেগেও সেই ধারার কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৫ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফরাসি জায়ান্টরা। এর মাধ্যমে বিরতিতে এগিয়ে থাকা ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটিকে ৩৮ ম্যাচে উন্নীত করল লুইস এনরিকের দল।
লিগের প্রথম সেমিফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্সেনাল। এই জয়ে ২০ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে উঠেছে মিকেল আরতেতার দল। ফলে আগামী ৩০ মে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস স্টেডিয়ামে পিএসজির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গানারররা।
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে এদিন পিএসজি ও বায়ার্নের দুই গোলকিপার সেভ করেছেন মোট ৯টি নিশ্চিত থাকা গোল। দুই গোলকিপার একটি করে গোল কনসিভ করেছে ঠিকই, তবে ম্যাচজুড়ে আক্রমণের পসরা বিপরীতে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তারা। ম্যাচে ১৮টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখে বাভারিয়ানরা। ১৫টি শটের ৭টি লক্ষ্যে রাখে পিএসজি। ম্যানুয়েল নয়্যার ও সাফোনভ বীরত্ব দেখালেও ফার্স্ট লেগের ফলে ফাইনালে পৌঁছেছে পিএসজি।
বাংলাদশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের তৃতীয় মিনিট পিএসজিকে লিড উপহার দেন উসমান দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের আক্রমণ পরাস্ত করে পাল্টা আক্রমণ গড়ে তোলে প্যারিস সেন্ট জার্মেই। ফাবিয়ান রুইজ ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার মধ্যে ওয়ান-টু পাসের পর বল চলে যায় কাভারাস্কেইয়ার পায়ে। জর্জিয়া লেফট-ব্যাক বাঁ প্রান্ত দিয়ে বাইলাইন পর্যন্ত পৌঁছান এবং ডি-বক্সে নিচু ক্রস করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই দৌড়ে এসে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের পর থেকে কাভারাস্কেইয়া সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলে সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড়দের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন। ১৩টি গোল এবং আটটি অ্যাসিস্টসহ মোট ২১টি গোলে অবদান রেখেছেন তিনি। যা হ্যারি কেইনের সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। আর চ্যাম্পিয়ন লিগে অষ্টম গোলের দেখা পেলেন দেম্বেলে।
২৭তম মিনিটে ওলিসের বাম পায়ের দৃষ্টিনন্দন শট বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। মিডফিল্ড থেকে কেইনের ক্রস রিসিভ করেন ওলিসে। তারপর ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে থাকা নুনেসকে ড্রিবলিং করে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন বায়ার্ন উইঙ্গার। এরপর নেন বুলেট গতির শট। তার কার্ল শট ব্রেক করে চলে যায় বারের ওপর দিয়ে।
তার ঠিক দুই মিনিট পর হ্যান্ডবল বিতর্ক তৈরি হয়। লাইমারের ফ্লিক থেকে আসা বলটি পিএসজির লেফট-ব্যাক মেন্দেসের হাতে স্পষ্টভাবে আঘাত করে। তবে রেফারি তাকে পেনাল্টি দেওয়া কিংবা দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর পরিবর্তে উল্টো লাইমারের বিরুদ্ধেই ফাউলের বাঁশি বাজিয়ে ফ্রি-কিক দিয়েছেন! এতে ক্ষিপ্ত হতে দেখা যায় ভিনসেন্ট কোম্পানিকে।
হ্যান্ডবল বিতর্কের রেষ না কাটতেই ৩১তম মিনিটে একটি ঘটনা ঘটে। লুইস দিয়াস মার্কিনিয়োস থেকে বল বাগিয়ে ডি-বক্সে পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে বলটি ডিফ্লেক্টেড হয়। এরপর পাভলোভিচ জাইরে-এমেরিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন। স্তানিসিচের পাঠানো ক্রসটি গোলমুখে অগোছালোভাবে ক্লিয়ার করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। কিন্তু এরপর ভিতিনিয়ার ক্লিয়ারেন্সটি জোয়াও নেভেসের হাতে লাগে বলে মনে হয়। এই ঘটনায় বায়ার্নের খেলোয়াড় ও কোচ পেনাল্টির দাবিতে চিৎকার করতে থাকেন।
৪২তম মিনিটে ডান প্রান্তে ফাঁকা জায়গায় অবস্থান বানিয়ে নেন মুসিয়ালা এবং ভিতিনিয়াকে পরাস্ত করে ডি-বক্সের মাঝখানে একটি নিচু কাটব্যাক করেন। কিন্তু সাফোনভ মাটিতে ঝাঁপিয়ে বল পাঞ্চ করেন এবং ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত করেন রুইজ।
বিরতির পর খেলা শুরু না হতেই হ্যারি কেইনের বুটের আঘাতে পাচো মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতেই লুটিয়ে পড়েন পিএসজি সেন্টার-ব্যাক। কিছুক্ষণ সময়ক্ষেপন করে তাঁকে মাঠেই চিকিৎসা দিতে হয়।
৬২তম মিনেট সাফোনভ পিএসজিকে বড় বিপদ থেকে বাঁচান। ডি-বক্সের ভেতর দারুণভাবে ঘুরে বলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন পাভলোভিচ। এরপর কিমিখের কাছ থেকে বলটি ফেরত নিয়ে তিনি আড়াআড়ি পাস দেন। ২২ গজ দূর থেকে প্রথম সুযোগেই শট নেন স্তানিসিচ। কিন্তু বায়ার্ন রাইট-ব্যাকের নেওয়া সেই নিচু ও সাইড-ফুটেড শটটি সরাসরি গিয়ে জমা হয় গোলরক্ষক সাফোনভের হাতে।
ম্যাচের সময় যত পুরোনো হতে থাকে ততই গোলনেশায় বুঁদ হয়ে পড়ে বায়ার্ন। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে কোম্পানির শিষ্যরা। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয় অল্প সময়ের ব্যবধানে। বিশেষ করে ৬৭-৬৯ মিনিটের মধ্যে গোলের উদ্দেশ্যে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সাফোনভ।
বিশেষ করে ৬৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই মুসিলার সাথে ওয়ান-টু পাস খেলে পিএসজির ডান দিকের ডিফেন্সের পেছনে ঢুকে পড়েন ডেভিস। এরপর কানাডিয়ান এই খেলোয়াড় মাঝমাঠের দিকে বল কাটব্যাক করেন লুইস দিয়াসের উদ্দেশ্যে। দিয়াসের প্রথম টাচ এবং শটটি একদম লক্ষ্যে ছিল, কিন্তু পিএসজি গোলকিপার অসাধারণ এক সেভ করে দলকে রক্ষা করেন!
৯১তম মিনেট আরও একবার কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে বল বিপদমুক্ত করেন গোলরক্ষক সাফোনভ। এরপর কাভারাস্কেইয়া মাঝমাঠে বলের দখল নেন এবং উপামেকানোর পাসটি আটকে মেন্দেসকে বাড়ান। কিন্তু মেন্দেসের দূরপাল্লার শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ পায়ের জাদু দেখান হ্যারি কেইন। আসরের সর্বোচ্চ এই স্কোরার যেন সব ধরণের নাটকীয়তা জমিয়ে দেন। তবে ফার্স্ট লেগের ফলে শেষটা সুন্দর হয়নি জার্মানি জায়ান্টদের।