৬ মে ২০২৬, ৮:৩২ পিএম

মৌসুম শেষেই রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট ছাড়ছেন আলভারো আরবেলোয়া—এটি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। মাঠের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমে শৃঙ্খলা ফেরাতে এখন একজন অভিজ্ঞ ও পোড়খাওয়া মাস্টারমাইন্ড খুঁজছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। রিয়ালের সম্ভাব্য কোচের তালিকায় অনেক নাম থাকলেও ফুটবল পাড়ায় গুঞ্জন— আবারও রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে হোসে মরিনিয়োর।
অবশ্য কদিন আগে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হওয়ার প্রসঙ্গ একেবারেই উড়িয়ে দেন মরিনিয়ো। বেনফিকার কোচের মতে তাঁর সঙ্গে নাকি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাবটির কোনো কথাই হয়নি। কিন্তু স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’ এর প্রতিবেদন, রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ নাকি সম্প্রতি মরিনিয়োর সঙ্গে একটি ভিডিও বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে মরিনিয়োর এজেন্ট হোর্হে মেন্ডেসও উপস্থিত ছিলেন।
এএস-এর প্রতিবেদন জানিয়েছেন, কোচিংয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মরিনিয়ো বেশ কিছু স্পষ্ট ও চূড়ান্ত শর্ত দিয়েছেন। মূলত ক্লাব প্রশাসনের পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করতেই তাঁর এই কঠোর অবস্থান। যেখানে কেবল মাঠের কৌশলই নয়, বরং ক্লাবের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দলবদলের ক্ষেত্রেও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দাবি করেছেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড। রিয়ালের ড্রেসিংরুমে নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই মরিনিয়ো শুরু থেকে এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছেন। মরিনিয়োর দেওয়া ১০টি শর্তে বিশেষ শর্তে কী বলা আছে দেখে নেওয়া যাক।
১. চুক্তির মেয়াদ: মরিনিয়ো ঠিক দুই বছরের চুক্তিতে সই করতে চান—এর কমও নয়, বেশিও নয়। শুরুতেই এক মৌসুমের স্বল্পমেয়াদী চুক্তি বা খুব লম্বা সময়ের কোনো প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে রাজি নন। কোচ চান এই দুই বছর ক্লাব এবং তাঁর নিজের মধ্যে একটি ‘পারস্পরিক মূল্যায়নের’ সুযোগ হোক, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পথ খোলা থাকবে।
২. সংবামাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ: আগেরবার রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন মিডিয়া সামলাতে গিয়ে যে ভুলগুলো হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি চান না মরিনহো। তাঁর শর্ত হলো—তিনি সংবাদমাধ্যমে কেবল ‘ফার্স্ট টিম’ বা মূল দলের ফুটবলীয় বিষয় নিয়েই কথা বলবেন। ক্লাবের অন্যান্য প্রজেক্ট বা প্রশাসনিক বিষয়ে তাকে জড়ানো যাবে না; সেসব বিষয় সামলানোর জন্য ক্লাবের আলাদা একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র থাকতে হবে।
৩. দল নির্বাচনে পূর্ণ স্বাধীনতা: পর্তুগিজ এই কোচ এই শর্তটিকে ‘নন-নেগোশিয়েবল রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তাঁর টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ তিনি বরদাস্ত করবেন না। রক্ষণভাগে অবদান রাখতে অনিচ্ছুক কিংবা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দিতে ব্যর্থ হওয়া খেলোয়াড়কে তিনি দলে রাখবেন না, তার নাম যতই বড় হোক না কেন। এই বিষয়ে তিনি ভবিষ্যতে কোনো চাপ বা আপস করতে রাজি নন।
৪. টেকনিক্যাল স্টাফ: মরিনিয়ো তাঁর বর্তমান পুরো কোচিং প্যানেল নিয়েই মাদ্রিদে আসতে চান। এই তালিকায় থাকছেন প্রথম সহকারী হিসেবে জোয়াও ত্রালাও, এছাড়া রিকার্ডো ফরমোসিনহো, পেড্রো মাচাদো, রিকার্ডো রোচা, ভিডিও অ্যানালিস্ট হিসেবে রুবেন সুয়ারেজ, ফিটনেস ট্রেইনার আন্তোনিও দিয়াজ এবং গোলকিপিং কোচ নুনো সান্তোস। আলোচনার সময় ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সাবেক রিয়াল তারকা আলভারো আরবেলোয়াকে এই স্টাফে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিলে মরিনহো তাতে কোনো আপত্তি জানাননি।
৫. আন্তোনিও পিন্টাসের বিদায়: ফিটনেস কোচ আন্তোনিও পিন্টাসকে ক্লাব থেকে বিদায় করার বিষয়ে মরিনিয়ো অনড়। গত কয়েক বছরে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বারবার ইনজুরি বা শারীরিক সমস্যার বিষয়টি তাঁর কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া কেবল তার নিজের বিশ্বস্ত স্টাফদের নিয়েই কাজ করতে চান।
৬. চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রোটোকল: খেলোয়াড়দের চোট নির্ণয়ে আগের ভুলগুলো এড়াতে মরিনিয়ো একটি স্পষ্ট প্রোটোকল তৈরির দাবি জানিয়েছেন। কোনো খেলোয়াড় যদি চায় বা পরিস্থিতির প্রয়োজনে যেন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের ‘সেকেন্ড অপিনিয়ন’ বা দ্বিতীয়বার স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ থাকে। এছাড়া মেডিকেল টিমের সঙ্গে কোচের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
৭. খেলোয়াড় ছাঁটাইয়ের তালিকা: মরিনিয়ো মনে করেন, বর্তমান স্কোয়াড থেকে অন্তত ৭ জন খেলোয়াড়কে এই গ্রীষ্মেই বিদায় করে দেওয়া উচিত। তাঁর মতে, তারা দলের বর্তমান মান বা তার টেকনিক্যাল প্রজেক্টের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলা ডেভিড আলাবা, দানি কারভাহাল এবং ফ্রান গঞ্জালেসের মতো খেলোয়াড়রা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত নন।
৮. প্রশাসনিক যোগাযোগ কাঠামো: মরিনিয়োর দাবি হলো—প্রশাসনিক যেকোনো প্রয়োজনে তিনি কেবল ক্লাব সভাপতির সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ করবেন। সাধারণ ব্যবস্থাপক বা প্রশাসনের অন্য কোনো কর্মকর্তার কাছে তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। অতীতে এ ধরনের একাধিক স্তরের যোগাযোগের ফলে যে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এই শর্ত।
৯. প্রাক-মৌসুম সফর বাতিল: দল গোছানোর সময় বিশেষ করে আমেরিকা বা এশিয়ায় বাণিজ্যিক সফরগুলো করতে আপত্তি জানিয়েছেন মরিনিয়ো। এই দীর্ঘ ভ্রমণগুলো খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন তিনি। বরং মনিরিয়ো নিজের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রস্তুতি নিতে বেশি আগ্রহী।
১০. শর্তগুলো নিয়ে কোনো আপস নয়: মরিনহো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সবকটি শর্ত একটি ‘প্যাকেজ’ হিসেবে গণ্য করতে হবে। এখানে কোনো একটি শর্ত পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো একটি শর্ত পূরণ না হলে তিনি রিয়ালের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করবেন।
No posts available.

রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার লা লিগার শিরোপা নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। উৎসবের আবহের মাঝে আলোচনায় গাভি ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সেই উত্তপ্ত লড়াই। ম্যাচ চলাকালীন বেশ কয়েকবার তর্কে জড়িয়ে পড়েন এই দুই তারকা, যা এক পর্যায়ে চরমে পৌঁছায়।
বার্সেলোনার শিরোপা জয়ের আনন্দে যখন গ্যালারি মাতোয়ারা, তখন মাঠের ভেতরে রিয়ালের প্রাণভোমরা ভিনিসয়ুসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায় গাভিকে। ম্যাচ শেষে গাভি বলেন, ‘ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে যা হয়েছে তা পুরোপুরি ফুটবলীয় বিষয়। মাঠে যা ঘটে, তা মাঠেই থাকা উচিত। সে কিছুটা মাথাগরম খেলোয়াড়, ঠিক আমার মতোই।’
মাঠে তর্কে জড়ালেও ভিনিসিয়ুসের ক্লাস নিয়ে কোনো সংসশয় নেই গাভির। প্রশংসা করে এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত একজন ফুটবলার। আমি শুধু তাকে তার মুখ বন্ধ রাখতে বলেছিলাম, এর বেশি কিছু নয়। মাঠের লড়াই আর মাঠের বাইরের জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। পিচে আমি আমার দলের রঙ রক্ষায় জীবন বাজি রাখি। মাঠের বাইরে আমি একদমই অন্যরকম একজন মানুষ, যদিও সেটি দেখে সবসময় বোঝা যায় না।’
আরও পড়ুন
| 'আনলাইকলি ড্রিবল ডন' সার্জিও রামোস |
|
গাভি যখন কথার লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ভিনিসিয়ুস তখন মাঠের ভেতরেই বার্সেলোনা সমর্থকদের দিকে ইঙ্গিত করে রিয়াল মাদ্রিদের বেশি সংখ্যক ইউরোপীয় শিরোপা জয়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। হারের হতাশায় তখন বারবার মেজাজ হারাচ্ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
গাভির জন্য এই শিরোপা জয়টি ছিল অন্যরকম আবেগের। গত দুই বছর ধরে চোটে পড়ে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। হাঁটুর গুরুতর সমস্যা কাটিয়ে আবার বার্সেলোনার মূল একাদশে জায়গা করে নেওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না।
নিজের মানসিক শক্তি নিয়ে গাভি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত গত দুই বছরে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই ধরনের বড় ইনজুরি থেকে ফিরতে মানসিক দৃঢ়তা খুব জরুরি। আমি আজ এই পর্যায়ে এসেছি শুধুমাত্র আমার মানসিক শক্তির কারণে। দীর্ঘ বিরতির পর এই গতিতে ফুটবল খেলা কঠিন, তবে আমি তা পেরেছি এবং আমি নিজেকে নিয়ে গর্বিত।’
হ্যান্সি ফ্লিক বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গাভিকে মাঝমাঠের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। জার্মান এই কোচের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গাভি বলেন, ‘কোচ আমার ওপর অগাধ বিশ্বাস রেখেছেন। তিনি আমার প্রতিভা এবং মানসিকতা সম্পর্কে জানেন। ইনজুরি থেকে ফেরার পর আমাকে যে সুযোগ তিনি দিয়েছেন, তার জন্য আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকব।’
লিগ শিরোপা জয়ের পর এখন গাভির লক্ষ্য জাতীয় দল। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সব সময়ই গাভির ওপর আস্থা রেখেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে গাভি এখন পুরোপুরি প্রস্তুত, ‘জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোটে পড়েছিলাম। কোচ আমাকে সব সময় সমর্থন দিয়েছেন। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী এবং বিশ্বকাপের জন্য পুরোপুরি তৈরি।’

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩১ দিন বাকি। বিশ্বকাপে জ্বরে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। ঠিক এই সময়ে ফিফা তাদের স্মৃতিভাণ্ডার থেকে তুলে আনল এমন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান, যা ফুটবলপ্রেমীদের নতুন করে তর্কে মেতে ওঠার রসদ জুগিয়েছে। আজকের গল্পের নায়ক কোনো প্রথাগত ড্রিবলিং জাদুকর নন, বরং স্পেনের রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী- সার্জিও রামোস।
গল্পটা ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের। জোহানেসবার্গে সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পথে স্পেন যেন এক অভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছিল। রামোস তখন খেলতেন রাইট-ব্যাক হিসেবে। রক্ষণে তিনি কতটা ভয়ংকর ছিলেন, তার প্রমাণ মেলে এক অনন্য রেকর্ডে—পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন গোল হজম করেছিল মাত্র দুটি। এর আগে ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স, ২০০৬ বিশ্বকাপে ইতালি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে মাত্র দুই গোল হজমের যে রেকর্ড গড়েছিল, রামোসরা তাতে ভাগ বসিয়েছিলেন।
কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপে রামোস কেবল রক্ষণের দেয়াল হয়েই থাকেননি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক 'আনলাইকলি ড্রিবল ডন'। মাঠের পরিসংখ্যান বলছে, সেবার রামোস অবিশ্বাস্যভাবে ৩১টি ড্রিবল সম্পন্ন করেছিলেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, মেসি, ইনিয়েস্তা বা রোবেনের মতো জাদুকরদের ছাপিয়ে সেবার রামোসই ছিলেন তালিকার শীর্ষে!
সেই তালিকায় রামোসের পেছনে ছিলেন লুকাস পোডলস্কি (২৭), আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা (২৬)। এমনকি সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি এবং ডেভিড ভিয়া (উভয়েই ২৫) কিংবা ডাচ উইঙ্গার আরিয়েন রোবেনও (২৪) রামোসের সেই ড্রিবলিং ঝড়ের কাছে নতিস্বীকার করেছিলেন। রক্ষণ সামলে একজন ডিফেন্ডার কীভাবে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ তছনছ করে দিতে পারেন, রামোস ছিলেন তার উদাহরণ।
পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতে ড্রিবলিংয়ের ব্যাটন অবশ্য পুরোপুরে চলে গেছে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের কাছে। ২০১৪ সালে লিওনেল মেসি, ২০১৮ সালে ইডেন হ্যাজার্ড আর ২০২২ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপে ছিলেন ড্রিবলিংয়ের রাজা। কিন্তু একজন ডিফেন্ডার হয়েও রামোস যা করেছেন—একজন ডিফেন্ডার হিসেবে অসাধারণ কীর্তি।
২০২৬ বিশ্বকাপের এই ক্ষণগণনায় ফিফা আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, ফুটবল মানেই অনিশ্চয়তা। আর একজন কট্টর রক্ষনভাগের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলার।

বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপনের সময় আবেগপ্রবণ হান্সি ফ্লিক চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। এল ক্লাসিকোর ঘন্টাখানেক আগেই বাবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার খবর শুনেছিলেন। ব্যক্তিগত এই বড় ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও জার্মান এই কোচ টাচলাইনে দাঁড়িয়ে দলকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েই বাবার স্মৃতির প্রতি এই শিরোপা উৎসর্গ করেন ফ্লিক।
ক্যাম্প ন্যূতে এল ক্লাসিকো শুরুর আগে ফ্লিকের বাবার স্মরণে স্টেডিয়ামে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়; সে সময় কোচিং স্টাফদের ফ্লিককে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
জয়ের পরপরই শুরু হওয়া শিরোপা উদযাপনের সময় আবেগাপ্লুত ফ্লিক বলেন, ‘এটি একটি কঠিন ম্যাচ ছিল এবং এই দিনটির কথা আমি কখনোই ভুলব না।’ এসময় ফ্লিক তার শিষ্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আমি পুরো স্কোয়াড এবং যারা আমাদের সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এমন একটি দারুণ দল পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে মলিনাকে নিয়ে দুঃসংবাদ |
|
এমনিতে মাপা কথা বলা মানুষ হিসেবে পরিচিত ফ্লিক তার বিজয় পরবর্তী বক্তব্যটি বেশ সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল রাখেন। বার্সা কোচ আবারও সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের দেন এবং সমর্থকদের জানান ধন্যবাদ, ‘প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করার এই দৃঢ় সংকল্পের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমি সত্যিই এটার প্রশংসা করি। আমার দলটি চমৎকার এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত। সমর্থকদের সাথে এই আবহে, একটি এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে এখানে থাকাটা রোমাঞ্চকর। এখন আমার মনে হয় আমাদের উদযাপন করা উচিত।’
জয়ের পর উদযাপনের সময় বার্সা খেলোয়াড়রা ফ্লিককে শূন্যে ছুড়ে দিয়ে তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। ফ্লিক প্রকাশ করেছেন যে, যখন তার মা তাকে বাবার মৃত্যুর খবরটি জানান, তখন তিনি দ্বিধায় ছিলেন যে খেলোয়াড়দের এটি বলবেন কি না, ‘আজ সকালে মা আমাকে ফোন করে বললেন যে বাবা আর নেই। আমি ভেবেছিলাম খবরটি লুকিয়ে রাখব নাকি আমার দলকে জানাব। আমার কাছে এই দল একটি পরিবারের মতো।’
ফ্লিক আরও বলেন, ‘তারা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য, এই মুহূর্তটি আমি কখনোই ভুলব না। এই ক্লাবের হয়ে কাজ করা এবং বার্সেলোনায় থাকাটা আমি সত্যিই উপভোগ করি; এখানকার মানুষ আমার প্রতি অনেক সদয়।’
.jpeg)
একশ বছর পুরোনো একটি ঘটনা। ১৯৩১-৩২ মৌসুমের বার্সেলোনার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লা লিগায় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আজ কাতালান ক্লাবের সামনে ছিল ঘরের মাঠের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সে যাত্রায় শতভাগ পাস হান্সি ফ্লিকের দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে একশ বছরের ইতিহাস সামনে আনলো কাতালান ক্লাব।
রবিবার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমে শতভাগ জয়ের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে হারিয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখে ২৯তম লা লিগা ট্রফি জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা। স্বাগতিকদের হয়ে গোল দুটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেরান তোরেস।
লা লিগায় আজকের এল ক্লাসিকো স্রেফ একটি ম্যাচই ছিল না বরং ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপার ফয়সালা দেখার অপেক্ষায় ছিল বার্সেলোনা ভক্তরা। ড্র কিংবা হার-ই বার্সার মাথায় তুলে দিতো স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুট। আর রিয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দিতে পারে টানা দ্বিতীয় শিরোপাহীন মৌসুমের অন্ধকারে। সে যাত্রায় ক্যাম্প ন্যুতে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে শত চেষ্টা করেও আর শোধ কিংবা ম্যাচে ফেরা হয়নি রিয়ালের।
ম্যাচটি একদিকে শিরোপার ফয়সালা অন্যদিকে কোচ হান্সি ফ্লিককে জয় উপহার দেওয়ার রাত ছিল রাফিনিয়াদের। রবিবার ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে পৃথিবীর যাত্রা শেষ করেন জার্মান কোচের পিতা। পিতৃ শোকের মাঝেই দায়িত্ববোধ থেকে ডাগ আউটে দাঁড়ান ফ্লিক। তার পিতার স্মরণে ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্প ন্যু রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই প্রথম সেকেন্ড থেকেই হয়ে উঠে বারুদঠাসা। গ্যালারির আকাশভেদী গর্জন আর মাঠের গতির লড়াই দেখা যায় শুরু থেকেই। তবে ম্যাচ ঘড়ির মাত্র নবম মিনিটে সেটপিস থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রাশফোর্ড। ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিডে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের শুরুটায় প্রথম সুযোগটা পায় বার্সেলোনা। নবম মিনিটে ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক পায় কাতালানরা। সেখান থেকে কার্লিং শটে গোল আদায় করেন রাশফোর্ড। তার গোলটি কেবল স্কোরবোর্ডেই বদল আনেনি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও শুরুতেই এনে দিয়েছে কাতালানদের হাতে। সেটপিসের সেই পরিকল্পনা আর রাশফোর্ডের চতুরতা—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো এক শুরু পায় স্বাগতিকরা।
প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে আরও একটি বিধ্বংসী আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বাঁ-দিক থেকে ফারমিন লোপেজ পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর চমৎকার একটি বল বাড়ান দানি ওলমোর উদ্দেশ্যে। রুডিগারের ঠিক সামনে থেকেই ওলমো এক নিপুণ ব্যাকহিলে বলটি বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। সেই পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। লা লিগায় এটি তার ১৭তম গোল।
২২তম মিনিট একটি গোল শোধের সুযোগ হাতছাড়া করেন গার্সিয়া। তার সামনে কেবল ছিলেন বার্সেলোনা গোলকিপার হুয়ান গার্সিয়া। ডান প্রান্ত থেকে ওঠা সেই আক্রমণ যেন নিজেই নসাৎ করে দেন রিযাল ফরোয়ার্ড। বারের বাইরে শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬২তম মিনিটে জুড বেলিংহামের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এর আগে ৫৪তম বার্সেলোনার পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর এরিক গার্সিয়ার কনুইয়ের সাথে মুখে ধাক্কা লাগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের। ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় রেফারি শুরুতে খেলা থামাতে চাননি। তবে ভিনিসিয়ুসের জোরালো অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি খেলা থামানোর সংকেত দেন। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও খেলা শুরু করেন বেলিংহাম।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এবার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ও ফারমিন লোপেজের সঙ্গে। সে ঘটনার জেরে রাফিনিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্নল্ড। পরবর্তীতে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডও হাতাহাতিতে জড়ান। দুইজনকেই দেখানো হয় হলুদ কার্ড। প্রায় একমাস আট দিন পর মাঠে নেমে কার্ড দেখতে হলো রাফিনিয়াকে।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ফেরার মরিয়া চেষ্টা ছিল রিয়ালের প্রতিটি আক্রমণে। বেশ কয়েকবার গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেও বার্সার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি তারা। একের পর এক সুযোগ নষ্টের মিছিলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
ঘরের মাঠে আধিপত্য ধরে রেখে খেলেছে বার্সেলোনা। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছে তারা। ১০টি শট নিয়ে ৭টি টার্গেটে রেখে তারা। বিপরীতে ৮টি শটের মাত্র এটি অনটার্গেটে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। এই হারে আরও তিন ম্যাচ হাতে অবশিষ্ট থাকলেও এখানেই শিরোপা রেস শেষ বার্নাব্যুর ক্লাবের।
.jpeg)
লা লিগায় আজকের এল ক্লাসিকো স্রেফ একটি ম্যাচ নয়, বরং ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপার ফয়সালা হতে পারে এই ৯০ মিনিটে। ড্র কিংবা হার-ই বার্সেলোনার মাথায় তুলে দিতে পারে স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুট। আর রিয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দিতে পারে টানা দ্বিতীয় শিরোপাহীন মৌসুমের অন্ধকারে। সে যাত্রায় ক্যাম্প ন্যুতে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতি গেল হান্সি ফ্লিকের দল।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্প ন্যু রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই প্রথম সেকেন্ড থেকেই হয়ে উঠে বারুদঠাসা। গ্যালারির আকাশভেদী গর্জন আর মাঠের গতির লড়াই দেখা যায় শুরু থেকেই। তবে ম্যাচ ঘড়ির মাত্র নবম মিনিটে সেটপিস থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মার্কাস রাশফোর্ড। ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিডে বিরতে স্বাগতিকরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের শুরুটায় প্রথম সুযোগটা পায় বার্সেলেনা। নবম মিনিটে ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক পায় কাতালানরা। সেখান থেকে কার্লিং শটে গোল আদায় করেন রাশফোর্ড। তার গোলটি কেবল স্কোরবোর্ডেই বদল আনেনি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও শুরুতেই এনে দিয়েছে কাতালানদের হাতে। সেটপিসের সেই পরিকল্পনা আর রাশফোর্ডের চতুরতা—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো এক শুরু পায় স্বাগতিকরা।
প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে আরও একটি বিধ্বংসী আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বাঁ-দিক থেকে ফারমিন লোপেজ পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর চমৎকার একটি বল বাড়ান দানি ওলমোর উদ্দেশ্যে। রুডিগারের ঠিক সামনে থেকেই ওলমো এক নিপুণ ব্যাকহিলে বলটি বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। সেই পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। লা লিগায় এটি তার ১৭তম গোল।
২২তম মিনিট একটি গোল শোধের সুযোগ হাতছাড়া করেন গার্সিয়া। তার সামনে কেবল ছিলেন বার্সেলোনা গোলকিপার হুয়ান গার্সিয়া। ডান প্রান্ত থেকে ওঠা সেই আক্রমণ যেন নিজেই নসাৎ করে দেন রিযাল ফরোয়ার্ড। বারের বাইরে শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
এদিন ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ম্যাচের দিন সকালে মৃত্যুবরণ করেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের বাবা। পিতৃবিয়োগের পরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়িয়েছেন এই জার্মান কোচ।