
প্রতিপক্ষ যখন দেখা পেল দ্বিতীয় গোলের, ওই সময়ে বার্সেলোনার গোলের লক্ষ্যে শট ছিল ২০টি, তবে গোল মোটে একটি! পরিসংখ্যানই বলে দেয়, বার্সেলোনাকে আরও একবার ভুগতে হয়েছে আক্রমণেভাগ নিয়ে। লামিন ইয়ামালের ফেরার ম্যাচেও তাই ছন্দহীন ফুটবলই খেলল কাতালান ক্লাবটি। আর তাতে সাম্প্রতিক সময়ে ছন্দপতন হওয়া বার্সেলোনার বিপক্ষে উজ্জীবিত এক জয় পেয়ে গেল লাস পালমাস।
লা লিগায় শনিবারের ম্যাচে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা হেরে গেছে ২-১ গোলে। সান্দ্রোর গোলে পালমাস লিড নেওয়ার পর সমতা টেনেছিলেন রাফিনিয়া। তবে ফাবিয়া সিলভার গোল নিশ্চিত করে পালমাসের জয়।
শেষ তিন ম্যাচে লা লিগায় এই নিয়ে পাঁচ গোল হজম করেছে বার্সেলোনা। পরাজয় দুটি, অন্যটি ড্র।
এই হারের পরও সবার ওপরেই আছে বার্সেলোনা। ১৫ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৩৪। দুই ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদ ৩০ পয়েন্টে আছে দুইয়ে। আর পালমাসের অবস্থান ১৪তম, তাদের পয়েন্ট ১৫।
ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম আক্রমণ শানান ফেরমিন লোপেজ। তবে গোলরক্ষকের কঠিন পরীক্ষা নিতে ব্যর্থ হন তিনি। ২২তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন ফেরমিন, তবে পোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায় বল। ঢিমেতালে এগিয়ে যাওয়া ম্যাচে পালমাস প্রথমার্ধে ব্যস্ত ছিল রক্ষণ সামলাতেই বেশি।
৪২তম মিনিটে ডান দিক থেকে বক্সে বল পেয়েছিলেন জুলস কুন্দে। তবে ফরোয়ার্ডদের হতাশার দিনে ফরাসি ডিফেন্ডারও শট উঁচিয়ে মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে।
বিরতির পর গতি আসে ম্যাচে। বলার মত প্রথম আক্রমণে ৪৯তম মিনিটে প্রতিপক্ষকে চমকে দেয় পালমাস। বক্সের ডান দিক থেকে বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস থেকে নিখুঁত শটে থিকানা খুঁজে নেন সান্দ্রো। গোল শোধে মরিয়া বার্সেলোনা বেশি সময় নেয়নি সমতা আনতে। আর সেটা আসে এই মৌসুমে দারুণ ছন্দে থাকা রাফিনিয়ার কল্যাণেই।
বক্সের বাইরে থেকে জায়গা বানিয়ে বাঁ পায়ের দূরপাল্লার শটে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠান জালে। এমন একটা গোলের পর প্রাণবন্ত বদলে ৬৯তম মিনিটে ফের গোল হজম করে বসে হান্সি ফ্লিকের দল। মিনিটে দুয়েক বাদে আবারও বক্সের বেশ বাইরে থেকে গোলের প্রচেষ্টা চালান রাফিনিয়া, তবে এবার আর সেটা কাজে দেয়নি।
ইনজুরি টাইমে ক্ষণে ক্ষণে আক্রমণে পালমাসকে তটস্থ রাখে বার্সেলোনা। তবে ভাগ্য এদিন তাদের সহায় ছিল না একেবারেই। প্রথমে ইয়ামালের বক্সের ভেতর থেকে শট গোলরক্ষক আটকে দেওয়ার পর রবার্ট লেভানডভস্কির হেড অল্পের জন্য চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে লেভানডভস্কির ছয় গজের ভেতর থেকে নেওয়া শট বাধাপ্রাপ্ত হয় পালমাস ডিফেন্ডার দ্বারা। নিশ্চিত হয়ে যায় বার্সেলোনার পরাজয়।
ম্যাচে গোলের জন্য বার্সেলোনা মোট শট নেয় ২৭টি, আর লক্ষ্যে রাখে মাত্র ৮টি। বিপরীতে ৫ শটের তিনটি লক্ষ্যে রাখা পালমাস দুইবার পায় জালের দেখা। পজেশনের ক্ষেত্রেও দুই দলের ছিল বড় তফাৎ। ৭০ শতাংশ পজেশন ছিল ফ্লিকের দলের। তবে দিন শেষে এসবের কিছুই আসেনি কাজে।
No posts available.
৯ মার্চ ২০২৬, ৩:৫২ পিএম
৯ মার্চ ২০২৬, ২:২৫ পিএম

ফুটবল মাঠ রূপ নিয়েছিল রীতিমতো রণক্ষেত্রে। ভয়াবহ সংঘর্ষ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মী সামরিক পুলিশকেও। শেষ পর্যন্ত ভিডিও দেখে দুই দলের মোট ২৩ জন ফুটবলারকে দেখানো হয় লাল কার্ড।
নজীরবিহীন এমন ঘটনা দেখা গেল ব্রাজিলের ক্যাম্পেনাতো মিনেইরোর ফাইনালে। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ক্রইজেরো ও অ্যাটলেটিকো মিনেইরোর ম্যাচ শেষেই শুরু হয় উত্তেজনা। ক্রুজেইরো ১–০ ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাটলেটিকো মিনেইরোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এর মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের শিরোপা জিতল দলটি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ভয়াবহ মারামারিতে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন অ্যাটলেটিকোর গোলরক্ষক এভার্সন লুজ বল ধরতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া ক্রুজেইরোর মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ানকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং তার বুকের ওপর হাঁটু দিয়ে চাপ দেন।
এরপরই ক্রিস্টিয়ানের সতীর্থরা এগিয়ে এসে এভারসনের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে গোলপোস্টের দিকে ঠেলে দেন। মুহূর্তেই আরও খেলোয়াড় সেখানে জড়ো হলে বড় ধরনের হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তাকর্মীরা দুই দলকে আলাদা করার চেষ্টা করেন।
ম্যাচ চলাকালে রেফারি ম্যাথুউস ডেলগাডো কানদানো কাউকে লাল কার্ড দেখাননি। তবে ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে মাঠে কার্ড দেখানো সম্ভব না হওয়ায় পরে ভিডিও দেখে ২৩ জনকে বহিষ্কার করা হয়।
ক্রুজেইরোর গোলদাতা কাইও জর্জেসহ ১২ জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেন। অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোর ১১ জন খেলোয়াড় বহিষ্কৃত হন, যাদের মধ্যে সাবেক অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও নটিংহাম ফরেস্টের ডিফেন্ডার রেনান লোদি এবং হাল্কও আছেন।
বিরল এই ঘটনার পর হাল্ক বলেন,
‘এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা এমন নজির স্থাপন করতে পারি না, কারণ এর প্রভাব সারা বিশ্বে পড়ে। আমাদের নিজেদের ভাবমূর্তি এবং ক্লাবের মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব আছে।’

গ্রুপ পর্বের শেষ খেলা। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী উজবেকিস্তান। কিন্তু উজবেকিস্তানের কাঝাকাছি মানের দল মিয়ানমারকে হারিয়েই তো গত বছর এই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এবার উজবেকিস্তান বধ কেন নয়! এমন একটা আশা লাল সবুজ সমর্থকদের মধ্যে ছিল; কিন্তু কোনো আশাই, কোনো স্বপ্নই বাস্তবে আর ধরা দেয়নি। উজবেকিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানেই হেরে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিল পিটার বাটলারের দল।
পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে উজবেকিস্তান। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল হজম করে বাংলাদেশ। দারুণ এই জয়ে শেষ আটে উজবেকিস্তান। ফিলিপাইন এবং উজবেকিস্তানের সমান তিন পয়েন্ট। দুই দলের গোল গড় সমান (-২)। তবে প্রতিপক্ষের জালে বেশিবার গোল দেওয়ার সুবাদে এগিয়ে গেল উজবেকিস্তান।
এখনই ফিলিপাইনারে স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়নি।আগামীকাল জাপানের কাছে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় জাপানের কাছে তিন গোলের বেশি ব্যবধানে হারলে কপাল পুড়বে ভিয়েতনামের। ভাগ্য খুলবে ফিলিপাইনের।
এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবার খেলে বাংলাদেশ তিনটি ম্যাচেই হেরেছে। প্রথম ম্যাচে চীনের সঙ্গে ২-০ গোলে, পরের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় তিন ম্যাচে মোট ১১ গোল হজম করল বাংলাদেশ। তবে বিপরীতে একটি গোলও দিতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।
শুরু থেকে বল পজেশন ধরে রাখে বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল পজেশন ধরে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠবে বাংলাদেশ। তাতে সফলও ছিল বাংলাদেশ। বল পজেশন বেশিই ছিল বাংলাদেশের কাছে। তবে কার্যকরী আক্রমণ শানাতে না পারায় প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা যায়নি। উল্টো ১০ মিনিটে গোল হজম করে চাপে পড়ে বাংলাদেশই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলির পর আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে উজবেকিস্তান। বাংলাদেশের রক্ষণ তছনছ করে একের পর এক কাঁপায় বাংলাদেশের জাল।
ষষ্ঠ মিনিটে আফঈদার বাধা টপকে বক্সে ঢুকে গোলে আড়াআড়ি শট নেন উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। তবে শট ছিল গোলকিপার শরীর বরাবর। কোনো অসুবিধা হয়নি মিলির জন্য। পরের মিনিটে উপরে উঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মিলি। বক্সের একদম সামনে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় উজবেকিস্তান।
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা মিলি। ১০ মিনিটে সেই খাবিবুল্লায়েভই লিড এনে দেন উজবেকিস্তানকে। ডান দিকে ঝাপিয়ে পড়লেও মিলির হাতের নিচে দিয়ে বল গড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ম্যাচে এসে এত দ্রুত সময়ে গোল হজম করল বাংলাদেশ।
২৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে পড়েন খাবিবুল্লায়েভা। নিশ্চিত গোলের মুখে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ ট্যাকলে এবার বাঁচিয়ে দেন মারিয়া মান্দা। ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার সেই সিগনেচার শট। বা-প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠে বক্সের বাইরে থেকে গোল দূরপাল্লার শট নেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। তবে উজবেক গোলকিপার মাফতুনা জোনিমকুলোভা লাফিয়ে বা হাতের ছোয়ায় ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে একটা বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করে তহুরা, তবে সফল হননি।
৪২ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বক্সে বল পেয়ে যান তহুরা। তবে গোলকিপার উপরে উঠে আসায় এবং কয়েকজন ডিফেন্ডাররের বাধার মুখে কোহাতির কাছে ব্যাকপাস দেন তহুরা। কিন্তু ফাঁকা গোলের সুযোগ নিতে পারেননি কোহাতি। দুর্বল শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা।
বিরতির পর প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ বাড়ায় বাংলাদেশ। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি করে। তবে ৫২ মিনিটে গোলের সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন প্রথম খাবিবুল্লায়েভা। গোলমুখের সামনে পাওয়া ক্রসে তার টোকা বেরিয়ে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৬২ মিনিটে উজবেকিস্তানের এক সংঘবদ্ধ আক্রমণে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের তিন ফুটবলার সমান্তরালে বক্সে ঢুকে পরেন। সতীর্থের ক্রস থেকে বদলি ফুটবলার নজিনোভা ঠান্ডা মাথার প্লেসিং শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
গোল হজমের পরই তিন পরিবর্তন আনেন কোচ, মাঠে নামেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি, শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং হালিমা আক্তার। তবে ৬৬ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন দিলদোরা নোজিমোভা। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল করলেন উজবেক ফরোয়ার্ড। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ায় বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে যায় এই গোল হজমের পর।
৮২ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে প্রীতির দূরপাল্লার জোরালো শট বা দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলকিপার। পরের মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শট যায় পোস্টের উপর দিয়ে। ৮৮ মিনিটে দারুণ গোলে ব্যবধান ৪-০ করেন নিলুফার কুদরাতোভা। এই গোলেই এশিয়ান কাপের পরের রাউন্ডের দরজা খুলে যায় উজবেকিস্তানের সামনে।

এএফসি এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করছে বাংলাদেশ। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে পিটার বাটলারের দল। পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে লড়ছে বাংলাদেশ।
এদিন ষষ্ঠ মিনিটে আফঈদা খন্দকারের বাধা টপকে বক্সে ঢুকে গোলে আড়াআড়ি শট নেন উজবেকিস্তানের ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। তবে শট ছিল বাংলাদেশ গোলকিপার শরীর বরাবর। কোনো অসুবিধা হয়নি মিলির জন্য। পরের মিনিটে উপরে উঠে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন মিলি। বক্সের একদম সামনে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি কিক পায় উজবেকিস্তান। তা থেকে কোনো বিপদ অবশ্য ঘটেনি।
আরও পড়ুন
| প্রথমবারের মতো একাদশে আনিকা |
|
ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে যান আগের দুই ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করা মিলি। ১০ মিনিটে সেই খাবিবুল্লায়েভই লিড এনে দেন উজবেকিস্তানকে। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও মিলির হাতের নিচে দিয়ে বল গড়িয়ে যায় জালে। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। টুর্নামেন্টে তৃতীয় ম্যাচে এসে এত দ্রুত সময়ে গোল হজম করল বাংলাদেশ।
২৩ মিনিটে আবারও পেনাল্টি এরিয়ায় ঢুকে পড়েন খাবিবুল্লায়েভা। নিশ্চিত গোলের মুখে থাকা বাংলাদেশকে দারুণ ট্যাকলে এবার বাঁচিয়ে দেন মারিয়া মান্দা। ৩১ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার সেই সিগনেচার শট। বা-প্রান্ত দিয়ে উপরে উঠে বক্সের বাইরে থেকে গোলে দূরপাল্লার শট নেন বাংলাদেশের এই উইঙ্গার। তবে উজবেক গোলকিপার মাফতুনা জোনিমকুলোভা লাফিয়ে বা হাতের ছোয়ায় ফিরিয়ে দেন। ফিরতি বলে একটা বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করেন তহুরা, তবে সফল হননি।
৪২ মিনিটে দারুণ সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। বক্সে বল পেয়ে যান তহুরা। উজবেক গোলকিপার উপরে উঠে আসায় এবং কয়েকজন ডিফেন্ডাররের বাধার মুখে কোহাতির কাছে ব্যাক পাস দেন তহুরা। ফাঁকা গোলের সুযোগ নিতে পারেননি কোহাতি। দুর্বল শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল সবুজের মেয়েরা।

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ফুটবলেও। পরিস্থিতিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফ ম্যাচ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
চলতি মাসের ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনতেরেতে বিশ্বকাপের আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ইরাকের। এই ম্যাচের বিজয়ী দল জায়গা পাবে বিশ্বকাপে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি আয়োজন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইরাক। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, চলমান সংঘাতের কারণে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন
| ফিরতে চেয়েছিলেন মেসি, বার্সা নিয়েছে তোরেসকে |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলার পর থেকেই ইরাকের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ আশপাশের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে ইরাক দলের দায়িত্ব নেওয়া আর্নল্ড বলেছেন, দেশের বাইরে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করতে হলে ইরাকের শক্তি কমে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই কোচ বলেন, ‘সেটি আমাদের সেরা দল হবে না। অথচ দেশের সবচেয়ে বড় ম্যাচের জন্য আমাদের সেরা দলটিই দরকার।’
আর্নল্ড বলেন, ‘ইরাকের মানুষ ফুটবল নিয়ে ভীষণ আবেগী। প্রায় ৪০ বছর বিশ্বকাপে না খেলতে পারাই সম্ভবত আমাকে এই দায়িত্ব নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।’
১৯৮৬ সালের পর আর কখনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইরাক। তাই প্লে–অফ ম্যাচটিকে দেশটির ফুটবলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন আর্নল্ড। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আমরা বিকল্প কোনো উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
গত নভেম্বরে এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের পঞ্চম রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩–২ গোলে হারিয়ে আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফে জায়গা করে নেয় ইরাক।
২৬ মার্চ প্লে–অফের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বলিভিয়া ও সুরিনাম। সেই ম্যাচের বিজয়ী দলই ৩১ মার্চ ইরাকের প্রতিপক্ষ হবে। আর্নল্ডের মতে, ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়া হলে ইরাক দল প্রস্তুতির জন্য আরও সময় পাবে। বললেন, ‘ফিফা যদি ম্যাচটি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাব।’
ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আদনান দিরজাল এ নিয়ে নিরন্তর কাজ করছেন বলেও জানান আর্নল্ড। তাঁর আশা, দ্রুত সিদ্ধান্ত হলে ইরাকের মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ।

এএফসি উইমেন'স এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে শুরুর একাদশে এসেছে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন। প্রথমবারের মতো একাদশে সুইডেনপ্রবাসী আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী।
এর আগে প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে অভিষেকের অপেক্ষায় ছিলেন আনিকা। দ্বিতীয় ম্যাচে কোচ পিটার বাটলার তাঁকে মাঠে নামান ৮৫ মিনিটের মাথায়। তবে যতক্ষণ মাঠে ছিলেন তাতেই নজর কেড়েছেন এই মিডফিল্ডার।
উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারা ম্যাচ শেষে আনিকা জানান গেম টাইম বেশি পেলে নিজেকে প্রমাণ করবেন এবং দলের জন্য অবদান রাখবেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আজ শুরু থেকেই কোচ তাঁকে মাঠে নামালেন। এবার কোচের আস্থার প্রতিদান দেওয়ার পালা।
আজ একাদশে তিন পরিবর্তন এনেছেন বাটলার। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে না থাকা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, উমেহ্লা মারমা ও শিউলি আজিম ফিরেছেন। বাদ পড়েছেন আইরিন খাতুন, নবিরন খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলছে বাংলাদেশ।
'বি' গ্রুপ থেকে এর আগে দুই খেলায় দুটিতেই হেরেছে বাংলাদেশ এবং উজবেকিস্তান। আজ যে দল জিতবে তাদের সামনে সুযোগ থাকবে সেরা দুই তৃতীয় স্থান হওয়া দল হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। গ্রুপ থেকে উত্তর কোরিয়া ও চায়না আগেই শেষ আট নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে তারাও একে অপরকে মোকাবিলা করবে।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলাটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায়। পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়াম থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একাদশ : শিউলি আজিম, শামসুন্নাহার সিনিয়র, আফঈদা খন্দকার, কোহাতি কিসকু, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দা, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, তহুরা খাতুন, উমেহ্লা মারমা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মিলি আক্তার।