১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৫ পিএম

ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অনুপস্থিতি এখন আর কেবল মাঠের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পৌঁছে গেছে দেশটির প্রেসিডেন্টের দরবারে। নেইমারকে দলে রাখা হবে কি না—এই বিষয়ে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরামর্শ চেয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চোট আর ফিটনেসজনিত সমস্যায় নেইমার জাতীয় দলের বাইরে আছেন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে তার জায়গা না পাওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর এ নিয়েই পুরো দেশজুড়ে এখন বিতর্কের ঝড় বইছে।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ফুটবলের প্রতি তাদের অগাধ ভালোবাসার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। দেশটির জাতীয় দলে সবসময়ই পেলে, রোমারিও কিংবা রোনালদোর মতো কিংবদন্তি তারকাদের জয়জয়কার দেখা গেছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নেইমার ছিলেন ব্রাজিল ফুটবলের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয়। কিন্তু হাঁটুর চোটের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই তাকে গত প্রায় তিন বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে রেখেছে।
মার্চের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে নেইমারকে রাখা হয়নি, আর তাতেই সমর্থকদের মনে ভয় ঢুকেছে যে—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে হয়তো আনচেলত্তি তাকে দলে নেবেন না। তবে সম্প্রতি সান্তোসের হয়ে নেইমারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স একটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—তিনি কি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য?
এই সব নাটকীয়তার মাঝেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা জানিয়েছেন, কোচ আনচেলত্তি সম্প্রতি তার কাছে নেইমারকে বিশ্বকাপে নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ চেয়েছিলেন। ‘ব্রাজিল ২৪৭’ ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার আনচেলত্তির সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনার কি মনে হয় নেইমারকে দলে ডাকা উচিত?”
প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেন, নেইমার যদি শারীরিকভাবে শতভাগ ফিট থাকেন এবং রোনালদো-মেসির মতো পেশাদারিত্ব দেখাতে পারেন, তবেই তার সুযোগ পাওয়া উচিত; শুধু ‘নামের ভারে’ দলে যাওয়া এখন আর সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট লুলা আনচেলত্তিকে দেওয়া নিজের উত্তরের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘আমি বলেছি: ‘দেখুন আনচেলত্তি, সে (নেইমার) যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকে, তবে ফুটবল খেলার সামর্থ্য তার আছে। আমি যেটা জানতে চাই তা হলো—সে কি আসলে মনেপ্রাণে এটা চায়?’
লুলা আরও যোগ করেন, ‘যদি সে সত্যিই ফিরতে চায়, তবে তাকে শতভাগ পেশাদার হতে হবে। সে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কিংবা মেসির দিকে তাকাতে পারে—তারা যেভাবে নিজেদের ধরে রেখেছে, সেও ঠিক সেভাবে জাতীয় দলে খেলে যেতে পারে, কারণ তার বয়স এখনও খুব বেশি হয়ে যায়নি।’
প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেইমারকে কেবল তার ‘নামের ভারে’ বা পুরোনো খ্যাতির ভিত্তিতে দলে নেওয়া উচিত নয়; বরং সে দলের জন্য বর্তমানে কী দিতে পারবে, সেটাই হওয়া উচিত একমাত্র মাপকাঠি।
জাতীয় দলে ফেরার মিশনে নামা নেইমার সান্তোসের হয়ে আজ মাঠে নেমেছিলেন। কোপা সুদামেরিকানায় প্যারাগুয়ের ক্লাব রেকোলেতার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল করেন সাম্বা তারকা। আগামী ১৮ মে ব্রাজিল তাদের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে। স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে হলে নিয়মিত ম্যাচ খেলার সঙ্গে ছন্দেও থাকতে হবে নেইমারকে।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম

স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ‘কোর্নেয়া’ কিনে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বার্সেলোনায় অবস্থিত কাতালান ক্লাবটি ফুটবলার তৈরির আতুড়ঘর। খেলোয়াড় তৈরির উন্নত একাডেমির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। জর্দি আলবা এবং জেরার্ড মার্তিনের মতো তারকাদের পাশাপাশি আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াও এই একাডেমিরই ফসল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো ক্লাবের ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রকল্পটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় শিকড়ের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রাখা হবে।’
বার্সেলোনার সাবেক তারকা জর্দি আলবা ২০১২ সালে ন্যু-ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কোর্নেয়া একাডেমিতে ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। ইলিয়ে সানচেজও এই একাডেমি থেকে উঠে এসে বার্সেলোনার ‘বি’ দলে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি এমএলএস-এর ক্লাব অস্টিন এফসিতে খেলছেন।
ইউরোপীয় কোনো ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় এটিই মেসির প্রথম পদার্পণ হলেও, ক্লাব মালিকানায় এটি তাঁর প্রথম বিনিয়োগ নয়। তিনি উরুগুয়ের পেশাদার দল দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন ইন্টার মায়ামি ও বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ।
কোর্নেয়াতে মেসির এই বিনিয়োগ মূলত যুব ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরই অংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ চেজ স্টেডিয়ামে
অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অংশগ্রহণে প্রথম ‘মেসি কাপ’ আয়োজন করেছিলেন তিনি।

২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে। মিকেল আরতেতা এবং দিয়েগো সিমিওনে—উভয়ই আর্সেনাল ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলার জন্য নিজেদের সেরা কৌশল উজাড় করে দেবেন।
সেমিফাইনালের এই ডামাডোলের মাঝেই অপটার সুপারকম্পিউটার চালিয়েছে বিশেষ এক গাণিতিক বিশ্লেষণ। যেখানে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট এবং শিরোপাজয়ীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সুপারকম্পিউটারের এই ‘প্রিডিকশন’ অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। গানারদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ শতাংশ।
আর্সেনালকে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪.৬১ শতাংশ। যা আর্সেনালের একদম কাছাকাছি।
পিএসজি তালিকার তৃতীয় স্থানে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৯.৩৫ শতাংশ। আর সিমিওনের শিষ্যরা এবারও ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই লড়াই শুরু করবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯.২৯ শতাংশ।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালের দ্বৈরথগুলোতেও নির্দিষ্ট দলকে এগিয়ে রেখেছে গাণিতিক এই মডেল। আগামী ২৮ এপ্রিল হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। যেখানে বায়ার্নের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬১.২৮ শতাংশ বলা হয়েছে। পরের দিন অর্থাৎ বুধবারের লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আর্সেনাল। পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে গানারদের জয়ের সম্ভাবনা বিশাল—প্রায় ৭৩.৪০ শতাংশ।
সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাসে আর্সেনাল এবং বায়ার্ন মিউনিখকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হলেও, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। বিশেষ করে আতলেতিকোর মতো রক্ষণাত্মক কৌশলে পারদর্শী দল কিংবা পিএসজির বিধ্বংসী আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে সব গাণিতিক হিসাব।

এশিয়ান কাপের দুটি আসরে খেলে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে চোখ করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এবারের সাফ গড়াবে ভারতের গোয়ায়। এই টুর্নামেন্টের জন্য ক্যাম্প এবং প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে। সাফের আগে চট্টগ্রাম এরপর থাইল্যান্ডে মিলিয়ে এক মাসের ক্যাম্প করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন হবে মেয়েদের সাফ। এবার থাকছে না পাকিস্তান। ৬ দল নিয়েই হবে প্রতিযোগিতা। এই আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। পরপর দুটি সাফ জেতায় এবার মনিকা, মারিয়াদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখন বাকি এক মাসের চেয়ে একটু বেশি সময়। বাংলাদেশ দল নিয়ে চার সপ্তাহের একটি অনুশীলন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে শোনা যায়।
আজ গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। সাফের আগে মেয়েদের ক্যাম্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যান্ড কিংবা চীনে ক্যাম্প করব। আপনারা জানেন ফিফা উইন্ডোর বাইরে দলগুলোর সঙ্গে খেলা আয়োজন করা সম্ভব না। তাই ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে যদি স্থানীয় লিগের কোনো দলের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি সেটার আয়োজন করব। এ নিয়ে কথা হচ্ছে।’ দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান বলে জানান তিনি। তবে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের পছন্দ থাইল্যান্ড।
দেশের বাইরে ক্যাম্প করার আগে চট্টগ্রামে ১০ দিনের একটি ক্যাম্প করার কথাও রয়েছে বলে জানান ফাহাদ করিম। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে ঢাকায় দুই দিন অনুশীলন করে দল যাওয়ার কথা দেশের বাইরে। থাইল্যান্ড কিংবা চীন, যেখানেই হোক সেখান থেকেই ক্যাম্প শেষ করে মেয়েরা সরাসরি পৌঁছাবে ভারতে। ২৫ মে টুর্নামেন্ট শুরু। বাংলাদেশ দল যাবে ২১-২২ মে।
এর আগে মার্চে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলে আসে এশিয়ান কাপ। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে মাঠ ছাড়েন ঋতুপর্ণা চাকমারা। এ মাসে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বসে থাইল্যান্ডে। সেখানেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি আফঈদা খন্দকাররা, বিদায় হয়েছে তাই গ্রুপ স্টেজ থেকে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করে এশিয়ান কাপে। দুটি প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও কোচ পিটার বাটলারের ওপর আস্থা রাখছে বাফুফে।

জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ চেয়ে গত ৯ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ২৫০টিরও বেশি। এটিকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। আজ সাংবাদিকদের এমনটা বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে এরই মধ্যে নামকরা অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এবার ফুটবল বিশ্বকাপে নাম লেখানো এল সালভাদরের এক সময়ের হেড কোচ ডেভিড ডোনিগার আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। এই তালিকায় আছেন লেবাননের সাবেক হেড কোচ মিওদ্রাগ রাদুলোভিচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো লেবাননের ডাগআউটে ছিলেন মন্টেনিগ্রোর এই কোচ। এছাড়াও ৬টি দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো জার্মান কোচ অ্যান্টইন হে’র মতো হাইপ্রোফাইল কোচও আবেদন করেছেন বাফুফেতে।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে এত আবেদন দেখে কিছুটা অবাক সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও। বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমি খোঁজ নিয়েছি যে কয়টা আবেদন পড়েছে এবং আপনারা জেনে খুশি হবেন এটা অবিশ্বাস্য; ২৫০ এর অধিক আবেদন পড়েছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক বড় অর্জন; যে আমাদের জাতীয় দলের জন্য এত লোক আবেদন করেছে। আমাদের জন্য এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।’
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় দুই কোচ- আবাহনীর বর্তমান কোচ মারুফুল হক এবং জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। বাংলাদেশ কেমন কোচ চায়, ফুটবল পাড়ার এটা এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। ক’দিন আগে বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ এশিয়ান অঞ্চলের কোচ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখবেন। ফাহাদ করিম বলেন, ‘২৫০ থেকে খুব সম্ভবত ৫০ জনের একটা পুল করা হবে। তারপর অবশ্যই আমাদের সভাপতি নিজে সাক্ষাৎ নেবেন। কারণ এই পর্যায়ে সাক্ষাৎকার তিনি নিজে নেন।’

লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় প্রাইভেট কারে থাকা অবস্থায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আর্সেনালের সাবেক গোলরক্ষক অ্যালেক্স ম্যানিঙ্গার। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আর্সেনালের জার্সিতে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২—এই ছয় বছরে ৬৪ বার গোল পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন এলেক্স। তিনি গানারদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও এএফ কাপ জিতেছেন। আর অস্ট্রিয়ার জার্সিতে ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৮ ইউরোতে অস্ট্রিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ম্যানিঙ্গার।
ম্যানিঙ্গার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেটার স্কোটেল। তিনি বলেছেন, ‘ম্যানিঙ্গার পেশাদারিত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং নির্ভরযোগ্যতা তাঁকে তাঁর ক্লাব দলগুলো এবং জাতীয় দলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল। তাঁর অর্জনগুলো সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ম্যানিঙ্গার তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন নিজের শহরের ক্লাব সালজবার্গের হয়ে এবং পরবর্তীতে ইউরোপের ১৪টি ভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জুভেন্টাস ও উদিনেস।
২০১৬ সালে ৩৯ বছর বয়সে তিনি লিভারপুলের সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করেন, তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। আর্সেনালে থাকাকালীন ম্যানিঙ্গার মূলত ডেভিড সিম্যানের বিকল্প হিসেবেই বেশি খেলেছেন। তবে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের এই গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়লে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত
হন।
সেই মৌসুমে ম্যানিঙ্গার এফএ কাপের ষষ্ঠ রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামকে পেনাল্টিতে হারাতে আর্সেনালকে সাহায্য করেছিলেন এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এক স্মরণীয় জয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন।