১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:০৫ পিএম

জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের সাথে হেরে সেল্টিকের চ্যাম্পিয়নস লিগের যাত্রা থেমেছে আগেভাগেই। শেষ মুহূর্তে আলফোনসো ডেভিসের গোলে হৃদয় ভেঙেছে স্কটিশ ক্লাবটির। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন। তবে ম্যাচ ছাপিয়ে সেল্টিক সমর্থকরা আলোচনায় জায়নবাদকে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলে।
মঙ্গলবার রাতের ম্যাচটা ছিল বায়ার্নের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে। যেখানে সেল্টিক সমর্থকদের পরিমাণটা কমই ছিল। তবে সংখ্যায় কম হলেও দলের পতাকা হাতে তারা যেমন মাঠ মাতিয়েছেন, তেমনি হাজির হয়েছিল জায়নবাদকে নিষেধাজ্ঞার প্ল্যাকার্ড নিয়ে। ছোট এক টিফোতে তারা লিখে নিয়ে এসেছে, “শো রেড কার্ড টু জায়ানিজম’ যার বাংলা করলে দাঁড়ায় জায়নবাদকে লাল কার্ড দেখাও। উল্লেখ্য, জায়নবাদ ইহুদিদের একটি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
আরও পড়ুন
| ‘অ্যাবসলুট সিনেমার’ শেষ পর্বে জয় হবে কার? |
|
ছোটো প্ল্যাকার্ড হলেও ক্যামেরার লেন্স বারবারই খুঁজে নিয়েছিল। প্রথম লেগে নিজেদের ঘরের মাঠেও তারা হাজির হয়েছিল একই ধরণের প্ল্যাকার্ড নিয়ে। যেখানে তারা ইসরাইলকে লাল কার্ড দেখানোর দাবি তুলেছিল। যদিও এমন দাবি সেটাই প্রথমই নয়। সেই ২০১৬ সাল থেকেই সেল্টিক ভক্তরা সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের পক্ষে আর ইজরাইলের বিপক্ষে। যা নিয়ে ক্রমাগতই তাদের ইউয়েফার রোষানলে পড়তে হচ্ছিল। তবুও দমে না গিয়ে তারা নিয়মিই ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াচ্ছে।
এমনকি সপ্তাহ খানেক আগে সেল্টিক ফ্যান ক্লাব নর্থ কার্ভ একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে এ নিয়ে। যেখানে তারা উল্লেখ করেছে, ইসরায়েল কমপক্ষে ৩৮২ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলারকে হত্যা করেছে। এছাড়া অনেক সুযোগ-সুবিধা ধ্বংস করেছে এবং সমগ্র ফিলিস্তিনে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সাথে তারা ফিফা এবং ইউয়েফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যে, তারা যেন ইসরায়েলকে সব প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করে দেয়।
No posts available.
২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ এম

১০০ কোটি ডলারের সুনিপুণ কারুকার্যে গড়া এক ফুটবলীয় সাম্রাজ্য আজ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। ঠিক যেমনটা ১১৪ বছর আগে ১৯১২ সালের হিসেবে প্রায় ৭৫ লক্ষ ডলার ব্যয়ে নির্মিত সেই 'টাইটানিক' জন্ম দিয়েছিল এক অতলস্পর্শী ট্র্যাজেডির, যা দম্ভ আর প্রাচুর্যের সব সমীকরণকে এক নিমিষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। বিশাল অংকের মুদ্রায় বিলাসিতার চূড়ান্ত শিখর যেমন এক বিন্দু নিরাপত্তা কিনতে পারেনি। তেমনি কাড়াকাড়ি অর্থ ঢেলেও গভীর সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না চেলসিরও।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল ব্রাইটনের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরেছে চেলসি। লিগে এ নিয়ে ক্লাবটি টানা পাঁচটি ম্যাচ হারল একটি গোলও না করে, যা আবার ফিরিয়ে আনল টাইটানিকের স্মৃতি। ১১৪ বছর আগে, ১৯১২ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম 'ব্লুজ'রা লিগে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলো, যে বছর ঘটেছিল টাইটাইনিক ট্রেজেড্রিও।
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি চেলসির শেষ আট ম্যাচের মধ্যে সপ্তম হার। এক বছরেরও কম সময় আগে যারা ক্লাব বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, একই ক্লাবই শেষ নয়টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়সহ তাদের পুরো মৌসুমই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। আগামী রোববার লিডসের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনালে খেলবে চেলসি। এই একটি শিরোপা জেতার আশা ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই ‘ব্লুজদের’।
আরও পড়ুন
| বিষাদময় এক অধ্যায় রচনা হামজার লেস্টারের |
|
ব্রাইটনের মাঠে এই হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা নিশ্চিত করা থেকেও অনেকটা ছিটকে গেল চেলসি। ৩৪ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগে সপ্তম স্থানে রয়েছে লিয়াম রোসেনিওরের দল। এক ম্যাচ বেশি খেলে পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে সাত পয়েন্টে পিছিয়ে আছে। এবার প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ পাঁচটি দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে। মৌসুমের মাত্র চারটি রাউন্ড বাকি থাকায় চেলসিকে বাকি সবক’টি ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্যদের পয়েন্ট হারানোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
বিপরীতে অ্যামেক্স স্টেডিয়ামে ফের্দি কাদিওলু, জ্যাক হিনশেলউড এবং ড্যানি ওয়েলবেকের গোলে জয় পাওয়া ব্রাইটন চেলসিকে টপকে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে। আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় ফুটবলের লড়াইয়ে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত হলো।
ব্রাইটনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র ছয়টি শট নেওয়া চেলসি লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে সমর্থকদের রোষাণলে পড়ে চেলসি। ম্যাচ শেষে হতাশ চেলসি কোচ রোসেনিওর স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এটাই (পারফরম্যান্স) নিকৃষ্ট। এটি খেলার প্রতিটি দিক থেকে অগ্রহণযোগ্য ছিল, আমাদের এমন মানসিকতা অগ্রহণযোগ্য।’
রোসেনিওর আরও বলেন, ‘আমি বারবার এখানে আসি এবং খেলোয়াড়দের রক্ষা করি। আজকের রাতের ওই পারফরম্যান্সটি ক্ষমার অযোগ্য। আমরা যেভাবে গোলগুলো খেয়েছি, যতগুলো ডুয়েল হেরেছি এবং দলে তীব্রতার যে অভাব ছিল—সবকিছুতে এখনই আমূল পরিবর্তন আসা দরকার।’
রোসেয়ারের মতে, ‘পেশাদারিত্বের অভাব ছিল। এটি একটি সত্যিই কঠিন রাত। শুধু এই মহৎ ফুটবল ক্লাবেই নয়, বরং আমার পুরো ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে কঠিন রাত। আজ আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার কিছু জিনিস আমি আর কখনও দেখতে চাই না।’
চোটের কারণে আক্রমণভাগের তিন তারকা কোল পামার, এস্তেভাও এবং জোয়াও পেদ্রোকে ছাড়াই খেলতে নামে চেলসি। তবে শুরুর একাদশে অধিকাংশ খেলোয়াড়দের নিবেদনের অভাব দেখছেন রোসেনিওর, ‘আমাদের নিজেদের আয়নায় দেখা উচিত; আমার নিজেকে আয়নায় দেখা উচিত। কিন্তু যা দেখছি তা আমি বারবার এখানে এসে সমর্থন করতে পারি না। একাদশের হয়তো তিন-চারজন বাদে বাকি সবার মধ্যে সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি, জেদ এবং সংকল্পের অভাব ছিল।’

২০১৬ সালের মে মাসে কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি জয় ছিল ক্লাবটির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দিন। আর গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ড্র-টি হয়ে থাকবে তাদের অন্ধকারতম দিনগুলোর একটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছর আর এফএ কাপ জয়ের মাত্র ৫ বছরের মাথায় চূড়ান্ত পতন। ক্লাবের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম টানা দুইবার অবনমনের তেতো স্বাদ পাওয়া। লেস্টার সিটির চরম দুর্যোগের এক বিষাদময় অধ্যায়ই যেন রচিত হলো।
চ্যাম্পিয়নশিপে গতকাল হাল সিটির বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লিগ ওয়ানে (তৃতীয় বিভাগ) নেমে গেল হামজা চৌধুরীর লেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের ঠিক ১০ বছরের মাথায় দলটির এমন বিদায়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা ক্লাবের মালিকপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং খেলোয়াড়দের মাঠ থেকে দুয়োধ্বনি দিয়ে বিদায় জানিয়েছেন।
গত মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপে নামা লেস্টার ফুটবল ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম দল হিসেবে টানা দুইবার অবনমিত হয়ে সরাসরি তৃতীয় স্তরে পৌঁছাল।
লেস্টারের অবনমন হওয়া একরকম নিশ্চিতই ছিল। অবনমন ঠেকাতে হাতে থাকা তিন ম্যাচ জয়ের সঙ্গে অন্য দলের ফলের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতো তাদের। তবে কাল পয়েন্ট টেবিলে ৭ নম্বরে থাকা হাল সিটির বিপক্ষে ড্রয়ের পর আর কোনো সমীকরণই থাকল না।
ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর জর্ডান জেমস ও লুক টমাসের দ্রুত দুই গোলে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েছিল গ্যারি রোয়েটের দল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্থের মাঝামাঝি সময়ে সফরকারী দলের অলি ম্যাকবার্নির গোল সেই স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেয়। হাতে মাত্র দুই ম্যাচ বাকি থাকতে অবনমন অঞ্চল থেকে তারা এখন ৭ পয়েন্ট দূরে, যা আর ঘোচানো সম্ভব নয়।
লেস্টারের জন্য পুরো ২০২৫-২৬ মৌসুম ছিল এককথায় ভয়াবহ। লিগে ৪৪ ম্যাচে মাত্র ১১টিতে জয়ের দেখা পেয়েছে হামজা চৌধুরিরা। মৌসুমজুড়ে দলের ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন লেস্টারের কোচ গ্যারি রোয়েট, ‘তিন-চার ম্যাচে কেউ অবনমন হয়ে যায় না, এটা পুরো মৌসুমের ফল। ক্লাবকে মেনে নিতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ক্লাবের যাত্রার ভয়াবহ অংশ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয় যখন এই ক্লাব প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল। সেই বিশাল অর্জনের বিপরীতে আজকের এই ব্যর্থতা সমানভাবে হতাশাজনক।’
লেস্টারের সমর্থকদের মেজাজ ছিল তুঙ্গে। তারা ম্যাচ শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের দুয়োধ্বনি দেয় এবং ম্যাচ শেষে ‘তোমরা এই জার্সি পরার যোগ্য নও’ বলে চিৎকার করতে থাকে।
২০১৬-এর সেই রূপকথার পর ২০২১ সালে এফএ কাপ জয় এবং ইউরোপিয়ান কনফারেন্স লিগের সেমিফাইনালে খেলার মতো বড় সব অর্জন এখন ক্লাবটির জন্য কেবলই দূর অতীত। ২০২২-২৩ সালে অবনমন হওয়ার পর তারা পরের মৌসুমেই আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ মৌসুমটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। কোচ স্টিভ কুপার বরখাস্ত হওয়ার পর রুড ফন নিস্টেলরয় দায়িত্ব নিলেও দলকে বাঁচাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত অবনমনের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া আটকাতে পারেনি ক্লাবটি।

চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায়ের পর সমালোচনার সব তীর ছিল যেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দিকেই। বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে গোল করার কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় সমর্থকদের ক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। লা লিগায় দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের তীব্র দুয়োধ্বনির মুখে পড়েন ভিনি। তবে তাঁর দুর্দান্ত এক গোলে মুহূর্তেই পাল্টে যায় চিত্র। দুয়োধ্বনির পরিবর্তে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু মুখরিত হয়ে ওঠে করতালিতে।
লা লিগায় গতকাল রাতে আলাভেসের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয় পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ঘরের মাঠ বার্নাব্যুতে প্রথামার্ধে কিলিয়ান এমবাপের গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুন করেন ভিনিসিয়ুস। শেষ দিকে নির্ধাররিত সময়ের পর যোগ করা সময়ের তিন মিনিটে একটি গোল শোধ করে সফরকারীরা।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা চার ম্যাচ পর স্বস্তির জয় পেল রিয়াল। এই জয়ে লিগে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধানও কিছুটা কমিয়ে আনল তারা। ৩২ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট ৭৩। লস ব্লাঙ্কোসরা বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে। রিয়ালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলা বার্সা আজ ঘরের মাঠে সেল্টা ভিগোর মুখোমুখি হবে।
রিয়ালের জন্য ম্যাচের শুরুটা বেশ ধীরগতির ছিল। শুরুর দিকে আলাভেস গোল করার কয়েকটা সুযোগ পাওয়ায় বার্নাব্যুর দর্শকরা বেশ ক্ষেপে যায়। দলের পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে গ্যালারির একাংশের দর্শকরা দুয়োধ্বনি দিতে থাকে। এমনকি ম্যাচ জেতার পরও এবং একদম শেষ মুহূর্তে আলাভেস গোল দেওয়ায় আবার দুয়োধ্বনি দিতে থাকে রিয়ালের সমর্থকরা।
৩০ মিনিটে এমবাপ্পে প্রথম গোল করে ডেডলক ভাঙেন। তার নেওয়া শটটি আলাভেসের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলকিপার আন্তোনিও সিভেরা-কে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২৪ গোল) ফরাসি ফরোয়ার্ড গত ফেব্রুয়ারির পর লিগে প্রথম গোল পেলেন।
এরপর ৫০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক দূরপাল্লার শটে লক্ষ্যভেদ করে ব্যবধান ২-০ করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে গত ছয় ম্যাচ ধরে গোলহীন ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রিয়ালে ফিরছেন মরিনিয়ো, দাবি সংবাদমাধ্যমের |
|
অবনমন অঞ্চলের ঠিক উপরে থাকা আলাভেস ম্যাচের একদম শেষ দিকে টনি মার্টিনেজের গোলে ব্যবধান কমায়। স্বস্তির জয় পাওয়া ম্যাচে রিয়ালের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে আসে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে। তবে রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়েছে, তার এই চোট খুব একটা গুরুতর নয়।
ম্যাচ শেষে দুয়োধ্বনির শিকার হওয় ভিনির পাশে দাড়ান রিয়াল মাদ্রিদ কোচ আলভারো আরবেলোয়া। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নেওয়ায় বার্নাব্যুর সমর্থকরা বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তারা এমবাপ্পে এবং ভিনিসিউস—উভয়কেই লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেন। এমনকি মিউনিখে লাল কার্ড পাওয়া বদলি খেলোয়াড় এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার ওপরও চড়াও হয় ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির সমর্থকরা।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ আরবেলোয়া বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস কঠিন পরিস্থিতিতে সবসময় নিজের সেরাটা উজাড় করে দেয়। সে দলকে নিজের কাঁধে টেনে নিয়েছে। তার নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। সে লুকিয়ে থাকে না, বরং সাহসের সঙ্গে লড়ে। সে রিয়ালের পাঁড় ভক্ত, এই ক্লাবের জার্সি আর লোগোকে সে মনেপ্রাণে ধারণ করে।’
আরবেলোয়া আরও যোগ করেন, ‘এখানকার দর্শকরা অনেক বেশি প্রত্যাশা করে, তারা খেলোয়াড়দের সেরাটা চায়। ভিনি আজ দুয়োধ্বনিকে করতালিতে বদলে দিয়েছে—যা সে আগেও করেছে। দিনশেষে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার মুখে থাকা কামাভিঙ্গার প্রতিও সমর্থন জানান আরবেলোয়া, ‘অল্প বয়স হলেও তার ব্যক্তিত্ব আর অভিজ্ঞতা অনেক। সে অনেকটা ভিনির মতোই, খুব অল্প বয়সে রিয়ালে এসেছে এবং অনেক বড় বড় ট্রফি জিতেছে। কোচ, ক্লাব এবং আমি নিশ্চিত সমর্থকদেরও তার ওপর পূর্ণ আস্থা আছে।’

কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগে একই প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হেরে অনেকটাই চুপসে আছে বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের দলের হাতে এখন অবশিষ্ট কেবল লা লিগা। বিরাট কোনো অঘটন না ঘটে, লা লিগা কাতালান শোকেসেই উঠছে। কারণ, দ্বিতীয় স্থানের দল রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে বার্সেলোনা।
লা লিগায় সাত রাউন্ড বাকি থাকলেও, এখনই শিরোপা ঘরে তুলতে চান বার্সা কোচ। বুধবার লা লিগায় সেলতা ভিগোর মুখোমুখির আগে ফ্লিক বলেন,
‘আমরা লা লিগায় মনোযোগী। আমরা এখানে কিছুটা ভালো অবস্থানে আছি। তবে এখনও লড়াই শেষ হয়নি। এটা সহজ হবে না। আমরা নিজেদের সেরা খেলা খেলতে চাই। আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিতে হবে। দলকে নিয়ে সবাই গর্বিত, কারণ ছেলেরা তাদের সবটা দিচ্ছে।”
দুটি বড় প্রতিযোগিতায় হারা বার্সেলোনার কাছে লা লিগাটাই একমাত্র সম্বল, যেখানে তাদের জয়ের সম্ভবনা প্রবল। ফ্লিক বলেন,
“কেবল লা লিগাতেই টিকে আছি আমরা। মাথা পরিষ্কার করার জন্য কয়েকদিন ছুটি পেয়েছি। আবহ দুর্দান্ত। এটাই মাঠে নিয়ে যেতে হবে এবং নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করতে হবে।”
৩১ ম্যাচে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রিয়াল।

প্রিমিয়ার লিগের অন্তিম মুহূর্ত জমে উঠেছে বেশ। বিশেষ করে, শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে আর্সেনালের ২-১ গোলের হারে লিগ হয়ে উঠেছে আরও রোমাঞ্চকর। শীর্ষে থাকা গানারদের পয়েন্ট ৭০। দ্বিতীয়স্থানে থাকা সিটিজেনদের ৬৭। মিকেল আরতেতার দলের চেয়ে একটি ম্যাচ কম খেলেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। তাতেই নতুন জীবন পেয়েছে সিটিজেনরা।
লিগে পেপ গার্দিওলার দল আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বার্নলির মাঠে আতিথ্য নেবে। রেলিগেশনের শঙ্কায় থাকা দলটির বিপক্ষে জয় তোলা যে সহজ হবে উড়তে থাকা সিটির, সেটা সহজেই অনুমেয়। পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে আর্সেনালের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলবে ম্যানসিটি। দু’দলের ম্যাচ এবং পয়েন্ট হবে সমানে সমান।
টার্ফ মুরে বাংলাদেশ সময় রাত একটার ম্যাচটির আগে গার্দিওলা আর্সেনালের বিপক্ষে শিরোপার লড়াই নিয়ে কথা বলেন। সিটিজেন কোচ বলেন,
‘দুই দলই (সিটি ও আর্সেনাল) জানে অতীতে কী ঘটেছে। উভয় পক্ষই জানে যে, এখন আর কোনো পয়েন্ট হারানো যাবে না। তা পুনরুদ্ধার করা খুব কঠিন। আমাদের খেলার সূচিও খুব ঠাসা, বিশেষ করে পরবর্তী প্রতিপক্ষ এভারটন—যাদের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই অনেক কঠিন।’
গার্দিওলার যোগ করেন,
‘লিগে যে দল পেছনে থেকে ধাওয়া করে, তাদের জন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে কাজটা বেশি কঠিন। আর্সেনালকে হারানোর পর এখন আমাদের বার্নলির মাঠে গিয়ে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।’
আর্সেনালের বিপক্ষে জয়ের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গার্দিওলা বলেন,
‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তাদের বলেছি, আমাদের ফোকাস বা মনোযোগ নষ্ট করা যাবে না। আর্সেনাল এখনো লিগের শীর্ষে আছে এবং বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী তারাই চ্যাম্পিয়ন হতে যাচ্ছে।’