১ মে ২০২৬, ২:৫২ পিএম

ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ৭৬তম ফিফা কংগ্রেসে উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখা গেল। সভায় উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিব্রিল রাজউব, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি বাসিম শেখ সুলাইমান। এসময় ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতির পাশে দাঁড়াতে ও হাত মেলাতে অস্বীকৃতি জানান ফিলিস্তিনের ফুটবল প্রধান।
গত বৃহস্পতিবারের এই অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো উভয়কে মঞ্চে ডাকেন। কিন্তু রাজউব দখলদার ইসরায়েলের নাগরিক সুলাইমানের কাছাকাছি আসতে রাজি হননি। ইনফান্তিনো রাজউবের হাত ধরে তাকে সুলাইমানের দিকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানালেও তাতে কোনো কাজ হয়নি।
আরও পড়ুন
| একই পেনাল্টি তিনবার মিস করলেন ভিনিসিউস |
|
রাজউব কেন করমর্দন করতে অস্বীকৃতি জানালেন—রয়টার্সের এমন প্রশ্নের জবাবে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা তাদের ফ্যাসিবাদ এবং গণহত্যা ধামাচাপা দিতে যাকে নিয়ে এসেছে, আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে পারি না! আমরা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’
এরপর ইনফান্তিনো মঞ্চ থেকে বলেন, ‘সভাপতি রাজউব, সহ-সভাপতি সুলাইমান—আমরা একসঙ্গে কাজ করব। শিশুদের মনে আশার আলো জাগাতে চলুন আমরা একযোগে কাজ করি। এগুলো খুবই জটিল বিষয়।’
কংগ্রেস শেষে রয়টার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) সহ-সভাপতি সুসান শালাবি বলেন, রাজউব এবং সুলাইমানের মধ্যে করমর্দন করানোর যে চেষ্টা জিয়ানি ইনফান্তিনো করেছেন, তাতে ফিলিস্তিন ফুটবল প্রধানের বক্তব্যের প্রতি বিন্দুমাত্র সম্মান দেখানো হয়নি। রাজউব তার বক্তব্যে আবারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন যেন ইসরায়েলি ক্লাবগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিগুলোতে (সেটেলমেন্ট) তাদের দল পরিচালনা না করে।
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে ফুটবল ক্লাব পরিচালনা করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় গত সপ্তাহে ফিফার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে 'কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস' (সিএএস)-এ আপিল করেছে ফিলিস্তিন।
পিএফএ দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তি দিয়ে আসছে যে, পশ্চিম তীরের মতো দখলকৃত এলাকায়—যা ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চায়—সেখানকার কোনো ক্লাব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) অধীনে লিগ খেলতে পারে না।
আরও পড়ুন
| মালিক হয়েই কর্নেয়া ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা মেসির |
|
সুসান শালাবি আরও বলেন, ‘সবকিছু বলার পর এমন এক পরিস্থিতিতে হাত মেলাতে বাধ্য করা—জেনারেলের (রাজউব) পুরো বক্তব্যের উদ্দেশ্যকেই নস্যাৎ করে দেয়। তিনি ১৫ মিনিট ধরে সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে নিয়মকানুন কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে কোনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের অধিকার নির্লজ্জভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ আমরা কি না দিনশেষে সবকিছুকে কার্পেটের নিচে চেপে রাখব? এটা ছিল পুরোপুরি হাস্যকর।’
সুসান আরও যোগ করেন, ‘আমি হাত মেলাতে অস্বীকার করেছি। খেলা তো খেলাই... আমি সেটাকে সম্মান করি। কিন্তু অন্য পক্ষ যদি বিবির (ইসরায়েল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) মতো একজন অপরাধীর প্রতিনিধিত্ব করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন বিবি একজন ‘মাদার তেরেসা’, তবে আমি কীভাবে এমন মানুষের সঙ্গে হাত মেলাব বা ছবি তুলব?’
No posts available.
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৮ পিএম

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপে খেলার ঘোষণা দিয়েছেন গুইলার্মো ওচোয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে যাবেন এই কিংবদন্তি গোলকিপার। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা বৃহস্পতিবার জানান, বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের পাশাপাশি সব ধরনের ফুটবল থেকেও বিদায় নিতে পারেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে ডাক পেলে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করবেন ওচোয়া। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ দলে থেকে তিনি নাম লেখাবেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো মহাতারকাদের পাশে।
মেক্সিকোর হয়ে এর আগে আন্তোনিও কারভাহাল, রাফায়েল মার্কেজ ও আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে নামলে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার নজির গড়বেন ওচোয়া।
আরও পড়ুন
| সমর্থকদের কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত বদল, অভিযোগ রাইসের |
|
বর্তমানে সাইপ্রাসের ক্লাব এএল লিমানসোল এফসিতে খেলেন ওচোয়া। মেক্সিকান টেলিভিশন চ্যানেল টিইউডিএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ বিশ্বকাপের পর অবসরে যাব। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময়ই কঠিন। তবে আমি দীর্ঘ সময় ফুটবল উপভোগ করেছি বলে আমার জন্য এটি খুব বেশি কষ্টের হবে না। একটা সময় শরীর ও মন বলে দেয় আপনি নিজের সেরাটা দিয়ে ফেলেছেন। আমি খুব শান্ত মনেই বিদায় নিতে চাই।‘
মেক্সিকো কোচ হাভিয়ের আগুইরে সম্প্রতি যে প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছেন, সেখানে মেক্সিকান লিগের দুই গোলকিপারকে রাখা হয়েছে। তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে ওচোয়ার জন্য জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত তিন বিশ্বকাপে গোলবারের নিচে মেক্সিকোর প্রথম পছন্দের থাকলেও এবার রাউল রাঙ্গেলের ব্যাকআপ হিসেবে দেখা যেতে পারে ওচোয়াকে। সবশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেক্সিকোর জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন এই গোলকিপার।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পাশাপাশি ২০২৬ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। ঘরের মাঠের এই টুর্নামেন্ট দিয়েই নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন ওচোয়া।

কানাডায় ফিফার বার্ষিক কংগ্রেসে ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র অনুপস্থিত দেশ ছিল ইরান। এই অনুষ্ঠানে না থাকলেও ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে চলতি বছরের জুনে শুরু হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। এই মহাযজ্ঞে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই সংশয় আরও বাড়ে। তবে বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে হওয়া কংগ্রেসে ইনফান্তিনো পুনরায় স্পষ্ট করেছেন, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অবশ্যই ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলবে। কারণ ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আমাদের লক্ষ্যই হলো বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথা।‘
আরও পড়ুন
| সমর্থকদের কারণে রেফারির সিদ্ধান্ত বদল, অভিযোগ রাইসের |
|
ইরানি ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান মেহেদি তাজসহ একটি প্রতিনিধি দলের এই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে সীমান্ত থেকেই ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সদস্যদের ওপর দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কানাডা আইআরজিসি-কে কয়েক বছর আগেই সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির কারণেই হয়তো এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা জটিলতার কারণে ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তাতে সায় দেয়নি। ফিফা সভাপতি শুরু থেকেই বলে আসছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান তাদের খেলাগুলো খেলবে।
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ 'জি'-তে রয়েছে ইরান। ১৫ ও ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে তাদের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম। এরপর ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডিক্লান রাইস। আর্সেনাল মিডফিল্ডারের মতে, আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে একটি ‘স্পষ্ট’ পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল তাদের। তার দাবি, রেফারিকে সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে উসকে দিয়েছিল স্বাগতিকর দলের সমর্থকরা।
এস্তাদিও মেত্রোপলিতানোতে বুধবার রাতের ম্যাচ ১-১ গোলে ড্রয়ের পর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হতে দেখা রাইসকে। ডি-বক্সে এভারেচি ইজে ফাউলের শিকার হওয়ার পর শুরুতে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা বাতিল করেন ডাচ রেফারি ড্যানি মাকেলি। তাকে ১৩ বার রিপ্লে দেখতে দেখা যায়।
এই বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে রাইস বলেন,
‘এটি একটি স্পষ্ট পেনাল্টি। আর আমি জানি না কেন এটি দেওয়া হলো না। আমার মনে হয় সমর্থকরা সিদ্ধান্তটি প্রভাবিত করেছে এবং রেফারির মন পরিবর্তন করেছে।’
মেত্রোপলিতানোতে দুটি ভিএআর সিদ্ধান্ত আর্সেনালের বিপক্ষে যায়। স্ট্যান স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাইস বলেন,
‘প্রথম দেখায় আমার মনে হয়েছিল, এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ হতো, তবে তা দেওয়া হতো না কারণ বলটি মাটির খুব কাছাকাছি ছিল এবং বলটি লক্ষ্যের দিকেও যাচ্ছিল না।’
রাইস যোগ করেন,
‘চ্যাম্পিয়নস লিগে রেফারিরা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন এবং বাঁশি বাজান। আমার মনে হয় ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তারা বেশি শাস্তি দেয়। তবে কিছু যায় আসে না। আমরা আগামী সপ্তাহে মনোযোগ দিচ্ছি এবং তাদের হারাতে চাই।’

শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের বয়স বাড়ার আগেই দোরিয়েলতন গোমেজের আত্মবিশ্বাসী শটে গোল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ২-১ গোলের এ জয়ে শীর্ষস্থান আরও সুসংহত হলো সাবেক চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের। দিনের আরেক ম্যাচে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও আরামবাগ পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। ২-২ গোলের ব্যবধানে শেষ হয়েছে ম্যাচটি।
বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে তিনটায় কুমিল্লার ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ এ ম্যাচের আগে বসুন্ধরা কিংসের পয়েন্ট ছিল ১৪ ম্যাচে ৩১। আজ পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনীর চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিয়ে গেল দোরিয়েলতনরা।
এদিন ম্যাচঘড়ির ২৭তম মিনিটে ভাঙে ডেডলক। এর জন্য বিশ্বনাথ ঘোষই অনেকটা দায়ী। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বল বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন কিংস ডিফেন্ডার। বলটি তারই এক সতীর্থের গায়ে লেগে ফেরত আসে। এরপর নানাভাবে চেষ্টা করেন নিজের গড়া ফাঁদ থেকে মুক্ত হতে। পারেননি। উল্টো সাইফুল হোসেন হালকা টোকায় পাস দেন মুজাফফরভকে। সেখান থেকে মৌসুমের ষষ্ঠ গোল আদায় করেন উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধে নিজেদের আরও গুছিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালায় বসুন্ধরা কিংস। সমতা কিংবা লিড আদায় করাটা দুরূহ হয়ে যাচ্ছিল তাদের জন্য। তবে যোগ করা সময়ে মোহামেডানের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন রাকিব। প্রায় তিনজনকে ড্রিবলিং করে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর দেন দৃষ্টিনন্দন ক্রস। আর ফাহিম নিজের বাঁ-পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান। তাতেই হাসিমুখে বিরতিতে যায় কিংস।
বিরতির পর লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ মিস করে মোহামেডান। আরিফের দ্রুতগতির ক্রসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পারেননি সৌরভ দেওয়ান। তাতে পোস্ট অরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং ৬৮তম মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরা কিংস।
৬৮তম মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণে ওঠেন ফাহিম। ঢুকে পড়েন বক্সে। চাইলে নিজেই নিতে পারতেন গোলের উদ্দেশ্যে শট। তা না করে ক্রস দেন বারের সামনে। রেসে থাকা দোরিয়েলতন ছুঁয়ালেন পা। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে ঢুকে লিগে আরও একবার ম্যাজিক দেখালেন ব্রাজিলিয়ান অ্যাটাকার। শেষ পর্যন্ত ২-১ স্কোরলাইন অক্ষুণ্ণ থাকে।
ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখে খেলে বসুন্ধরা কিংস। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল দখলে ছিল তাদের। ৪৩ শতাংশ ছিল মোহামেডানের।

তরুণ তারকা ফুটবলারদের দলে ভেড়াতে টাকার পাহাড় নিয়ে সবসময়ই প্রস্তুত সৌদি আরবের ক্লাবগুলো। দলবদলের বাজারে ঝড় তুলে ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্যে ভাগ বসানোই যেন তাদের প্রধান লক্ষ্য। মোটা অংকের বেতন আর রাজকীয় সুযোগ-সুবিধার প্রলোভনে একের পর এক বিশ্বখ্যাত তারকাকে মরুভূমিতে উড়িয়ে নিচ্ছে আল-নাসর বা আল-হিলালের মতো ক্লাবগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তাদের রাডারে আবারও ধরা পড়েছেন বার্সেলোনার প্রাণভোমরা রাফিনিয়া।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবারও সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাবের নজরে পড়েছেন রাফিনিয়া। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরপরই নাকি রাফিনিয়াকে দলে ভেড়াতে একটি বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
গত বছরও সৌদি আরবের একটি দল রাফিনিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করেছিল। বার্সেলোনাকে প্রায় ৯ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল এবং খেলোয়াড়কেও বিপুল পরিমাণ অর্থে ভাসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত রাফিনিয়া কাতালান জায়ান্ট ক্লাবটিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত বছরের মে’তে ২০২৮ সাল পর্যন্ত বার্সার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছিলেন রাফিনিয়া। আল-নাসর কোচ জর্জ জেসুসও তখন তাঁকে বার্সেলোনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। গত কয়েক দিনে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি ক্লাব ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গারের প্রতি তাদের আগ্রহ নতুন করে প্রকাশ করেছে। তারা রাফিনিয়ার জন্য বিডিং বা নিলামে নামতেও প্রস্তুত। অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়নি কোনো ক্লাব।
সৌদির বড় ক্লাবগুলো এই বছর তাদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হারাতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের লিগটির কিছু ক্লাবের বেশ কয়েকজন তারকার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি সামলে তারা লিগের উন্নয়ন এবং স্কোয়াড শক্তিশালী করতে শীর্ষস্থানীয় তারকাদের টেনে আনার ব্যাপারে এখনো অনড়। রাফিনিয়ার জন্য ঠিক কত বড় অংকের প্রস্তাব দেয় সৌদি ক্লাব সেটাই দেখার এখন।
এখন পর্যন্ত রাফিনিয়া নিজেকে বার্সার প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ হিসেবেই প্রমাণ করেছেন। ক্লাবেরও তাঁকে বিক্রি করার কোনো ইচ্ছা নেই। চলতি মৌসুমে একের পর এক চোটের মধ্যে দারুণ ছন্দে আছেন ২৯ বছর বয়সী তারকা। হান্সি ফ্লিকের দলের মধ্যমণি ২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে ১৯ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৭টি গোল।