
রিয়াল মাদ্রিদের রেফারিং বিতর্ক আর হাভিয়ের তেবাসের তির্যক মন্তব্য - দুটি বিষয় এই মৌসুমে একসাথে উচ্চারিত হচ্ছে বারবারই। সবশেষ বেশ কিছু রেফারিং নিয়ে মাদ্রিদের ক্লাবটির অভিযোগ জানিয়ে লিখেছে চিঠি, যা দেখে বেজায় চটেছেন হাভিয়ের তেবাস। তবে কার্লো আনচেলত্তির আহ্বান, অযথা মাথা যেন গরম না করেন লা লিগা সভাপতি।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অনেকবারই প্রকাশ্যে লা লিগার রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে রিয়াল। সবশেষ গত শনিবার এস্পানিওলের কাছে ১-০ গোলে হারের পর স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে একটি চিঠি দেয় রিয়াল। তাতে স্পেনের রেফারিংকে ‘কারচুপি’ এবং ‘সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ তেবাস সরাসরি আক্রমণ করে বসেন।
“রিয়াল মাদ্রিদ শুধু রেফারিদেরই নয়, লা লিগারও ক্ষতি করতে চায়। তারা ভিকটিম সাজার একটা গল্প তৈরি করেছে। আমি মনে করি তাদের সেই চিঠিটি এর ষোলকলা পূর্ণ করেছে। তারা চায় সবাই যেন তাদের সামনে মাথা নত করে থাকে। তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।”
স্বাভাবিকভাবেই মাদ্রিদ ডার্বির আগে আনচেলত্তির সংবাদ সম্মেলনে চলে আসে প্রসঙ্গটি। চুপচাপ স্বভাবের ইতালিয়ান কোচ এদিন বিরক্তি প্রকাশ করছেন তেবাসকে নিয়ে।
“আমি বলব তেবাস নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন, কারণ আমাদের এখানে কারোর মাথা খারাপ হয়নি। আমরা কেবল এমন একটি ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য একটি ব্যাখ্যা চেয়েছি, যা নিয়ে আমার জানামতে কেউই খুশি নয়।”
লা লিগায় রিয়াল এখন আছে সবার ওপরে। ২২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪৯। আর আতলেতিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪৮। ডার্বিকে সামনে রেখে রিয়ালের রেফারিং নিয়ে অভিযোগকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনেও।
No posts available.
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২১ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৭:১০ পিএম

টানা তিনবার হারের পর ক্রিস্টল প্যালেস ‘জুজু’ থেকে মুক্তি মিলেছে লিভারপুলের। টানা তৃতীয় জয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানেও উঠে এসেছে অল রেডরা। তবে এই জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে দলের প্রাণভোমরা মোহাম্মদ সালাহর চোটে। এই মৌসুমে যে ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে তিন তিনবার হারতে হয়েছিল, সেই 'অভিশাপ’ কাটলেও হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে সালাহকে হারানোটা আর্নে স্লটের দলের জন্য বড় ধাক্কা।
প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টল প্যালেসের বিপক্ষে আজ লিভারপুলের ৩-১ গোলের জয়ে বল জালে পাঠিয়েছেন আলেক্সান্দ্রো ইসাক, আন্ড্রু রবার্টসন ও ফ্লোরিয়ান ভিৎস। এই জয়ে ৩৪ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এলো লিভারপুল। সমান ম্যাচ খেলে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে পাঁচে আজ ফুলহামের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া অ্যাস্টন ভিলা। ৩৩ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পয়েন্টও সমান ৫৮।
প্যালেসের বিপক্ষে আগের চারবারের দেখায় একটিও জয় ছিল না লিভারপুলের। গত সেপ্টেম্বরে লিগের প্রথম দেখায় ২-১ গোলে এবং পরের মাসে লিগ কাপে ৩-০ ব্যবধানে। এই দুই ম্যাচের আগে, গত অগাস্টে কমিউনিটি শিল্ড কাপেও প্যালেসের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে হেরেছিল স্লটের দল। শেষ পর্যন্ত ক্রিস্টল প্যালেস নামক ‘গেরো’ ভেঙেছে লিভারপুল।
ঘরের মাঠ অ্যান ফিল্ডে ম্যাচের শুরুতে সালাহকে বক্সে ফাউল করেন ক্রিস্টল প্যালেসের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ব্রেনান জনসন। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও ভিএআর তা বাতিল করে দেয়। ৩৫ মিনিটে ইসাকের গোলে লিড নেয় স্বাগতিকরা। এরপর লিভারপুল তাদের চিরচেনা দাপুটে কাউন্টার অ্যাটাকের ঝলক দেখায়। অ্যান্ডি রবার্টসনের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।
এরপরই নামে বিষাদের ছায়া। হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন সালাহ। প্যালেস ডি-বক্সের ঠিক বাইরে খুব সাধারণ এক চ্যালেঞ্জের মুখে সালাহ যখন তাঁর বাঁ পায়ের পেছনের অংশ (হ্যামস্ট্রিং) চেপে ধরে মাঠে শুয়ে পড়লেন, তখনই অ্যান ফিল্ডের উৎসবের আমেজ বিষাদে রূপ নেয়। রেফারি অবশ্য ফাউলের হালকা আবেদন নাকচ করে দেন, কিন্তু সালাহ তখনই ডাগ-আউটের দিকে ইশারায় বদলি নামানোর সংকেত দেন।
মেডিকেল টিম দ্রুত মাঠে ছুটে আসে। প্রাথমিক পরীক্ষার পর সালাহ যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, পুরো অ্যানফিল্ড দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাঁকে সম্মান জানায়। ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জেরেমি ফ্রিম্পং। মৌসুমের আর মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি থাকতে এই চোট নতুন এক শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাব ছাড়ার কথা রয়েছে সালাহর, তাই সমর্থকদের ভয়—লিভারপুলের জার্সিতে এটাই হয়তো প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচ হয়ে থাকল।
এরপরই ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। লিভারপুল গোলরক্ষক ফ্রেডি উডম্যান চোট পেয়ে পড়ে থাকলেও খেলা চালিয়ে যায় প্যালেস। দানিয়েল মুনোজের বিতর্কিত চিপে একটি গোল শোধ করে সফরকারীরা। ম্যাচের শেষ দিকে লিভারপুল সমর্থকদের বেশ খানিকটা স্নায়ুচাপের মুহূর্ত পার করতে হয়েছে। তবে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে ভিৎসের এক দুর্দান্ত গোল সব শঙ্কার অবসান ঘটায়।

লিগের শেষ এল ক্লাসিকো হতে পারত বেশ রোমাঞ্চকর। তবে বার্সেলোনার যেন একটু বেশিই তাড়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের মুখোমুখি হওয়ার আগেই যেন লা লিগা জেতার মিশনে আছে কাতালান ক্লাবটি। আগের দিন রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট হারানোর পর আজ পুরো তিন পয়েন্ট পাওয়া বার্সার লিগ জয়টা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
লা লিগায় আজ গেতাফের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। প্রথামার্ধের শেষ দিকে ফেরমিন লোপেজের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুন করা গোলটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড।
এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট দাড়াল ৮৫। পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১ পয়েন্ট এগিয়ে গেল হান্সি ফ্লিকের দল। আগামী ৩ মে’তে ওসাসুনা বিপক্ষে জয়ের পর এল ক্লাসিকোতে ড্র করলেই টানা দ্বিতীয়বার লা লিগা চ্যাম্পিয়ন হবে বার্সা।
গেহাফের মাঠে জয় পাওয়াটা বার্সার জন্য কখনোই সহজ ছিল না। ২০১৯ সালের পর এই প্রতিপক্ষের ডেরা থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি নূ ক্যাম্পের ক্লাবটি। ২০২৫-২৬ মৌসুমেও গেতাফের রক্ষণ ছিল ইস্পাত কঠিন। এই মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের পর লিগে সবচেয়ে কম (৩৪) গোল হজম করেছে তারা।
আজও প্রথামার্ধে আক্রমণেভাগের দুই কান্ডারি লামিনে ইয়ামাল-রাফিনিয়া বিহীন বার্সাকে বেশ ভুগিয়েছে গেতাফে। স্বাগতিকদের টানা প্রেসিংয়ের কারণে বার্সার স্বাভাবিক পাসিং গেম বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গেতাফের রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হচ্ছিল ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার একটি দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্লিকের দল। জুলস কুন্দের পাস থেকে পাওয়া বল রুনি বার্দঘি পোস্টের বাইরে মারেন।
গোলশূন্য থেকেই বিরতিতে যাওয়ার পথে ছিল দুই দল। কিন্তু প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে ডেডলক ভাঙে সফরকারী বার্সা। পেদ্রির চমৎকার এক জাদুকরী পাস থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন ফেরমিন লোপেজ। এটিই ছিল পুরো প্রথমার্ধে বার্সার নেওয়া লক্ষ্যে প্রথম শট।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সেলোনা । ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা। ব্যবধান দ্বিগুণ হয় এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে। ৭৪ মিনিটে রবার্ট লেভানডফস্কির রক্ষণচেরা পাস থেকে বল পেয়ে বদলি হিসেবে নামা র্যাশফোর্ড চমৎকার গোলে জয় নিশ্চিত করেন। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে কাসাদোর সামনে সুযোগ এসেছিল ব্যবধান ৩-০ করার। কিন্তু গোলপোস্টের খুব কাছ থেকেও এই মিডফিল্ডার বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন।

এইতো আর কদিন পরই হয়তো ছেলের সঙ্গে খেলতে দেখা যেতে পারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে। ৪১ বছর বয়সেও ‘সিআর সেভেন’ যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন, তাতে সেই অসম্ভব স্বপ্নই এখন বাস্তব হওয়ার পথে। যে বয়সে অধিকাংশ খেলোয়াড় বুট তুলে রেখে অবসরের দিন গুনেন, রোনালদো তখনো মাঠ কাঁপাচ্ছেন সমান তালে। আল নাসরের পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের এই চিরযৌবনের চাবিকাঠি কোনো রকেট সায়েন্স নয়; কঠোর শৃঙ্খলা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই রোনালদোকে এখনও ২০ বছরের তরুণের ক্ষিপ্রতা দিচ্ছে।
২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রোনালদোর ব্যক্তিগত শেফ হিসেবে কাজ করা জর্জিও বারোন সম্প্রতি রোনালদোর খাদ্যাভ্যাসের কিছু চমকপ্রদ তথ্য ফাঁস করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম শোবিজ চিট শিট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোনালদোর ডায়েটের অন্যতম প্রধান নিয়ম হলো দুধ পুরোপুরি বর্জন করা।
বারোনের মতে, মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা অন্য প্রাণীর দুধ খায়। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য প্রাণীরা জন্মের তিন মাস পর আর দুধ পান করে না। অথচ মানুষ ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত দুধ খেয়ে যায়, যা আমার মতে একেবারেই অস্বাভাবিক।’ দুধের বদলে রোনালদো চিনি ছাড়া কড়া লিকার কফি পান করেন। স্বাদে তেতো হলেও প্রয়োজনে তিনি এতে অ্যালমন্ড, ওটস বা চালের দুধ মিশিয়ে নেন, কিন্তু গরুর দুধ কখনোই নয়।
খাবার সাধারণ কিন্তু নিয়ম কঠোর
রোনালদোর খাবারের তালিকা ছিল এক কথায়—সাধারণ কিন্তু শতভাগ অর্গানিক। সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের ডায়েটে মূলত থাকে প্রচুর সবজি, মুরগির মাংস, অ্যাভোকাডো এবং লাল ফলমূল। ভাতের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ খুঁতখুঁতে; সাধারণ সাদা চালের বদলে তিনি ব্ল্যাক রাইস (কালো চাল) বা রেড রাইস (লাল চাল) বেছে নেন। কারণ এই চালে সাধারণ চালের তুলনায় শর্করা বা স্টার্চ অনেক কম থাকে। এমনকি ছুটির দিনেও তিনি কখনো জাঙ্ক ফুড বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার স্পর্শ করেন না।
চিনি মানেই বিষ
রোনালদোর কাছে ‘চিনি’ মানেই হলো শরীরের জন্য বিষ। তাই তাঁর কোনো খাবারে বা কফিতে চিনির কোনো অস্তিত্ব থাকে না। দিন শুরু করেন চিনি ছাড়া ডিম, অ্যাভোকাডো, হোল-গ্রেইন ব্রেড আর কফি দিয়ে। চর্বি বেশি থাকায় শুকরের মাংসও তিনি সচরাচর খান না; খেলেও বড়জোর সপ্তাহে একদিন।
রোনালদোর ডায়েটে ফাইবার এবং ভিটামিনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। শেফ বারোন জানান, ‘ফাইবার এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা প্রতিদিনের খাবারে থাকতেই হবে। আমি সবজি ছাড়া তাঁর জন্য কখনোই কোনো খাবার তৈরি করিনি। এছাড়া তিনি ভিটামিন ডি-এর মতো প্রয়োজনীয় ভিটামিন গ্রহণের ওপরও বিশেষ জোর দেন।’
খাবার এবং ব্যায়ামের ভারসাম্য নিয়ে বারোনের দর্শন খুব পরিষ্কার, ‘সাফল্যের ৬০ শতাংশ নির্ভর করে ডায়েটের ওপর আর ৪০ শতাংশ ব্যায়ামের ওপর। মানুষের শরীর অনেকটা গাড়ির ইঞ্জিনের মতো। আপনার কাছে বিশ্বের সেরা গাড়িটি থাকলেও তাতে যদি ভুল জ্বালানি ব্যবহার করেন, তবে সেটি কখনোই ঠিকঠাক চলবে না।’ স্পেন, আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বারোন জানান, সবার ক্ষেত্রেই সঠিক খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব একই।
অমানুষিক পরিশ্রম ও রিকভারি
রোনালদোর কঠোর আত্ম-নিয়ন্ত্রণ বিশ্বজুড়ে পরিচিত। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই ফরোয়ার্ড প্রায় চার ঘণ্টা ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। দলের সঙ্গে অনুশীলনের বাইরেও তিনি নিয়মিত পাইলেটস, সাঁতার, ওয়েট ট্রেনিং এবং হাই-ইনটেনসিটি স্প্রিন্ট করেন। মাংসপেশির ক্লান্তি দূর করতে রোনালদো নিয়মিত আইস বাথ ব্যবহার করেন।
ফলাফল যখন বিস্ময়কর
এই অমানুষিক পরিশ্রম আর কঠোর নিয়মের সুফল হাতেনাতেই পাচ্ছেন রোনালদো। যেখানে প্রিমিয়ার লিগের একজন সাধারণ ফুটবলারের শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ থাকে গড়ে ৮-১২ শতাংশ, সেখানে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর শরীরে ফ্যাটের পরিমাণ মাত্র ৭ শতাংশ!

‘হেক্সা’ মিশনে নামার আগে বুঝি চোটের কাছেই হার মানতে হবে ব্রাজিলকে! বিশ্বকাপের আগে একের পর এক চোটে রীতিমতো বিপর্যস্ত ‘সেলেসাও’ শিবির। প্রথমে রদ্রিগো, এরপর এস্তেভাও এবার অভিশপ্ত এই তালিকায় যোগ হলেন এদের মিলিতাও।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানিয়েছে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়া মিলিতাওকে হয়তো আবারও অস্ত্রোপচারের টেবিলে বসতে হতে পারে। আর তেমনটা হলে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান এই ডিফেন্ডার বিশ্বকাপ থেকে নিশ্চিতভাবেই ছিটকে যাবেন।
লা লিগায় দেপোর্তিভো আলাভেসের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করায় মাঠ ছাড়েন মিলিতাও। কদিন পর রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল টিম নিশ্চিত করে, তাঁর বাঁ পায়ের 'বাইসেপ ফেমোরিস' পেশিতে চোট লেগেছে। শুরুতে মিলিতাওয়ের চোট যতটা ভাবা হয়েছিল, পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর।
মিলিতাও এখন তাঁর ঘনিষ্ঠজন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নিচ্ছেন। এই চোট সারাতে অস্ত্রোপচারের কোনো বিকল্প নেই। পরিস্থিতিটা দাঁড়িয়েছে এমন—মিলিতাও যদি অস্ত্রোপচার না করান, তবে হয়তো পাঁচ সপ্তাহ পরই মাঠে ফিরতে পারবেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে আবারও একই চোটে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থেকে যাবে। আর যদি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন, তবে ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডারকে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই চোট পুনরায় ফিরে আসার সম্ভাবনা একদম কমে যাবে।
মিলিতাওয়ের জন্য ২০২৫-২৬ মৌসুম ছিল চরম হতাশাজনক। পুরো মৌসুম জুড়েই চোটের সঙ্গে লড়তে হয়েছে মিলিতাওকে। গত ডিসেম্বরে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে ম্যাচে তিনি প্রথম হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান তিনি। মৌসুমের শুরুতে প্রথম চোট তেমন একটা প্রভাব না রাখলেও, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় চোটটি ছিল বেশ গুরুতর। টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চার মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাকে।
দীর্ঘ বিরতির মৌসুমের শেষ অংশে ফিরেছিলেন মিলিতাও এবং রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষও তাকে নিয়ে বেশ সতর্ক ছিল। তবে আবারও এই ডিফেন্ডারের স্প্যানিশ জায়ান্টদের সঙ্গে ব্রাজিলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এলো।

হুলিয়ান আলভারেজ বার্সেলোনায় বাড়ি খুঁজছেন—সম্প্রতি এমন খবরে তোলপাড় শুরু হয়েছিল ফুটবল অঙ্গনে। তবে এই খবরকে স্রেফ ‘বাজে কথা এবং ১০০০ শতাংশ মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার এজেন্ট ফার্নান্দো হিদালগো। লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার পক্ষ থেকে আলভারেজের প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহ থাকলেও, দলবদলের এই গুঞ্জনকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২৬ বছর বয়সী আলভারেজের ভাইয়েরা কাতালোনিয়ায় তাঁর জন্য স্থায়ী আবাস খুঁজছেন। আগামী গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বড় অঙ্কের বিনিময়ে তার বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।
এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় হিদালগো জানান, বার্সেলোনা সফরের বিষয়টি ছিল কেবল আতলেতিকোর হয়ে ম্যাচ খেলার জন্য। এছাড়া পরিবারের কেউ সেখানে কোনো ঘর খুঁজতে যাননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা মাদ্রিদের জীবনেই বর্তমানে পুরোপুরি মনোযোগী।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভোর সঙ্গে আলাপকালে হিদালগো বলেন, ‘এটি ১০০০ শতাংশ মিথ্যা। পরিবারের কেউ বার্সেলোনায় যায়নি। শেষবার যখন আতলেতিকোর ম্যাচ ছিল তখনই তারা সেখানে গিয়েছিল এবং পরদিনই মাদ্রিদে ফিরে এসেছে।’
এজেন্ট সরাসরি অস্বীকার করলেও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে হুলিয়ান আলভারেজের মন্তব্য বেশ রহস্যময়। দিয়েগো সিমিওনের অধীনে আতলেতিকোতে সুখে আছেন বলে জানালেও, দলবদলের সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। গত মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে দলবদলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘কে জানে, হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। আমি এখন প্রতিদিনের কাজ নিয়ে ভাবছি এবং এখানে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
বাড়ি খোঁজার খবরটি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও বার্সেলোনার আগ্রহ যে শেষ হয়ে যায়নি, তা বলাই বাহুল্য। রবার্তো লেভানডফস্কির দীর্ঘমেয়াদী উত্তরসূরি হিসেবে কাতালান ক্লাবটির পছন্দের তালিকায় আলভারেজ এখনও সবার উপরে। জুনের দলবদলে বার্সেলোনা যদি তাদের আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারে, তবে আতলেতিকোর এই তারকাকে পেতে তারা বড় প্রস্তাব দিতে পারে। আপাতত মাদ্রিদে মনোযোগী হলেও গ্রীষ্মকালীন দলবদলের মৌসুমে আলভারেজের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।