২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৪১ পিএম

নতুন কোনো দেশে যাওয়ার পর সাধারণত প্রথম চ্যালেঞ্জ থাকে সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার। প্রথম প্রচেষ্টায় সফল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির গরমকে জয় করে এবার মাঠের প্রস্তুতিতেও ‘ভালো’ খুঁজে পেয়েছেন আফঈদা খন্দকাররা। এশিয়ান কাপের লড়াইয়ে নামার আগে তাই মেয়েদের কণ্ঠে ভালোর জয়গানই বেশি।
আগামীকাল পর্দা উঠবে নারী এশিয়ান কাপের ২১তম আসরের। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ অবশ্য মঙ্গলবার, ৩ মার্চ। প্রতিযোগিতার ৯বারের চ্যাম্পিয়ন চীনকে মোকাবিলার আগে সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ অনুশীলন শেষে কথা বলেছেন দলটির ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতি। প্রথমবারের মতো নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ, যা রোমাঞ্চিত করছে তাঁকে।
প্রীতি বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টে আলো কেড়ে জায়গা করে নেন সিনিয়র জাতীয় দলে। সিনিয়র দলে ইতোমধ্যে অভিষেক হয়ে গেছে তাঁর। এশিয়ান কাপে সুযোগ পেলে দারুণ কিছু করতে চান তিনি,
‘যদি আমি খেলার সুযোগ পাই তবে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আর এই প্রথম বাংলাদেশ এত একটা বড় মঞ্চে আসছে তো এটা ভালো লাগছে।’
টুর্নামেন্টে যাওয়ার পর আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ দলে ফিজিও না থাকা। অস্ট্রেলিয়াতে একজন ফিজিওকে দায়িত্ব দিয়েছে বাফুফে। আগে অবশ্য ছিল নারী ফিজিও, এবার পুরুষ ফিজিও নিয়োগ দিয়েছে ফেডারেশন। হঠাৎ নতুন ফিজিওর সঙ্গে মানিয়ে নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না জানতে চাইলে প্রীতি জানান তাদের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না,
‘না না, মানিয়ে নেওয়ার মতো কষ্টের কিছু নেই। এখানে হচ্ছে আমাদের ফিজিও তো রেডি ছিল, ওনার সার্জারি হয়েছে, সেজন্যই আসতে পারেনি। এখানকার ফিজিও ভালো। সবাই মানিয়ে নিতে পারছি।’
সিডনিতে চারদিন অনুশীলনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় একটি ক্লাবের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি ভালো হচ্ছে জানান প্রীতি,
‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো প্রস্তুতি হচ্ছে। এখানে আসার পর আমরা একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচও খেলছি। তো ওখানে যা ভুল-ত্রুটি হয়েছে কোচ আমাদের সেটা দুইটা ট্রেনিং সেশন করিয়েছে, ওখানে সেটা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
এশিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে ৩ মার্চ বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের। সিডনিতেই ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়া এবং ৯ মার্চ পার্থে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবেন আফঈদা-মনিকারা।
No posts available.
৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ এম
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

বয়স ৪১ হলেও ধার কমেনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এক মাস পর মাঠে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
শুক্রবার রাতে সৌদি প্রো লিগে আল নাজমার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আল নাসরকে ৫-২ ব্যবধানের বিশাল জয় উপহার দিয়েছেন রোনালদো।
এই জয়ের ফলে আল হিলালের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল নাসর।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আর্থিক পুুরস্কার ঘোষণা |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল ফায়হার বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন রোনালদো। এরপর চিকিৎসার জন্য স্পেনে গিয়ে তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে সৌদিতে ফেরেন তিনি।
ঘরের মাঠ আল আউয়াল পার্কে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন রোনালদো। এরপর ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন।
এই জোড়া গোলের পর রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ তে। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পথে এখন মাত্র ৩৩ গোল দূরে আছেন তিনি।
সৌদি প্রো লিগে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও রোনালদো বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। বর্তমানে ইভান টোনির চেয়ে মাত্র ২ গোল পিছিয়ে থেকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে কড়া বার্তা হান্সি ফ্লিকের |
|
রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের রাতে উজ্জ্বল ছিলেন চোট কাটিয়ে ফেরা সাদিও মানেও। ম্যাচের দুই অর্ধে ইনজুরি টাইমে গোল করে তিনিও জোড়া পূর্ণ করেন। আল নাসরের হয়ে অন্য গোলটি করেন আব্দুল্লাহ আল হামদান।
এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচে আল নাসরের সংগ্রহ এখন ৭০ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আল হিলাল। আজ আল তাওয়ানের বিপক্ষে জিতে ব্যবধান কমানোর সুযোগ রয়েছে হিলালের সামনে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের তরুণরা।
ম্যাচ শেষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী দলের লড়াকু মানসিকতার কথাই তুলে ধরেন,
'আমি চার বছর ধরে এটা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দিয়েছে। আমি একজনকে মিস করছি, আমার বন্ধু আশিক। ও থাকলে ভালো হতো। আমি এই ট্রফি তাঁকে উৎসর্গ করতে চাই।'
দেশের বাইরে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে গ্যালারিতে বাংলাদেশী সমর্থকদের ৯০ মিনিটের উল্লাসে খেলোয়াড়দের কাছে মনে হয়নি তারা দেশ থেকে অনেক দূরে আছেন। তাই সমর্থকদের প্রশংসা করে মিঠু বলেন,
'ফ্যানরা আমাদের অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। তাদের সাপোর্টের কারণে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। নেক্সট টাইম আমরা আরও ফ্যান চাইবো এবং আরও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।'
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ফাইনাল গড়ায় পেনাল্টি শু্যটে। যেখানে ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মাহিন। খেলা শেষের প্রতিক্রিয়ায় মোহামেডান গোলকিপার বলেন,
'অসাধারণ। আমার কাছে মনে হয়েছে ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করতে পেরেছি।'
অনূর্ধ্ব-২০ এর সদস্য মোর্শেদ বলেন,
'এক্সাইটেড ছিলাম, খুবই এক্সাইটেড। কি বলব! কিছু বলার ভাষা নেই। দেশবাসীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে।'
আবদুল রিয়াদ ফাহিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
'স্বপ্নের ফাইনাল, আলহামদুলিল্লাহ। সবার আগে আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আজকের জয় আমরা দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।'

মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই সঙ্গে তাদেরকে আর্থিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারে বসে প্রতিমন্ত্রী ফাইনাল খেলা দেখেছেন বলে জানা যায়।
শুক্রবার ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
পুরুষদের বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশের জেতা দুটি শিরোপাই এসেছে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে। অনূর্ধ্ব-১৮-তে দুইবার এবং অনূর্ধ্ব-১৯-এ একবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই হতাশা এবার মালদ্বীপে কিছুটা হলেও কাটল মোর্শেদ, সুলিভান ব্রাদার্স ও নাজমুল ফয়সালদের হাত ধরে।

দুই দলের আক্রমণাত্মক শুরুর পরও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের একটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
চতুর্থ মিনিটে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে রোহেন সিংয়ের ক্রসে বক্সে মাথা ছোঁয়ান আরবাশ। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর রোনানের শট সহজেই তালুবন্দি করেন ভারতীয় গোলকিপার সুরাজ সিং। প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশ গোলকিপার মাহিনের পরীক্ষা নেয় ভারত।
১৩ মিনিটে রোনারের দারুণ ফ্রি কিক থেকে বক্সে হেড নেন মিঠু। তবে অল্পের জন্য বল খুঁজে পায়নি জালের দেখা। অল্পের জন্য গোল না পেয়ে হতাশায় মুখ ঢাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মানিকের পাসে গোলমুখের সামনে রোনানের দারুণ প্রচেষ্টা আটকে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।
৩২ মিনিটে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলকিপার মাহিন পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন, তবে বলের নাগাল পাননি। এ সময় বক্সের আশেপাশেই বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত, তখনও ফাঁকা পোস্ট; ডিফেন্ডারদের কল্যাণে এ যাত্রায় অরক্ষিত থাকে বাংলাদেশের পোস্ট। দুই মিনিট পর সেই একইভাবে উপরে উঠে এসে বাংলাদেশকে বিপদে প্রায় ফেলছিলেন মাহিন। এবারও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ছিলেন সজাগ।
৩৬ মিনিটে আবারও গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। কর্নার কিকের পর গোলমুখের সামনে জটলা তৈরি হয়। একাধিক প্রচেষ্টার পর গোলে হেড নেন ভারতের জর্ডিক আবরানচেস। তবে অনায়াসেই বল গ্লাভসবন্দি করেন মাহিন।
যোগ করা সময়ে মোর্শেদের ফ্রি কিক ভারতীয় রক্ষণের দৃঢ়তায় ফিরে আসে। বক্সের একদম সামনে থেকে ফিরতি বলে অনেকটা ওভারহেড কিকের মতো শট নেন রোনান। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। এ সময় টানা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও গোল আদায় করতে পারেননি রোনান, মোর্শেদরা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৫১ মিনিটে ভারত টানা আক্রমণ চালিয়ে বলের পজিশন নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৫৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ আসে রোনানের সামনে। বক্সের সামনে থেকে মানিকের উড়িয়ে মারা বল বুক দিয়ে মাটিতে নামাতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ হারান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর থ্রো থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ভারত।
৬৬ মিনিটে নাজমুল ফয়সালকে তুলে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৮২ মিনিটে আরবাশের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের উপরের জাল কাঁপায়। পরের মিনিটে ৮ এর নিচু ক্রসে গোলমুখের সামনে বলে টোকা দেন রিসি যাদব। তবে বল চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। তবে বক্সে ঢুকলে ডেকলানকে কর্নার করে দেন ভারতের ডিফেন্ডার বুনসং সিং। এরপর সেট পিসে অসফল হয় বাংলাদেশ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুলিভান ব্রাদার্সের জোড়া ক্যামিওতে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডেকলান ডানপ্রান্ত দিয়ে গতিময় দৌড়ে বক্সের দারুণ এক পাস দেন রোনানকে। তবে এই ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার আগে ভারতের গোলকিপার সুরাজ সিং আটকে দেন।
একটু পরই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিট শেষে ফাইনাল নিস্পত্তি হওয়ার কথা ছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। যেখানে আগে শট পায় ভারত।
প্রথম পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাহিন। ভারতের রিষি সিংয়ের নেওয়া নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার। এরপর বা-পায়ের নিচু শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মোর্শেদ।
নিজেদের দ্বিতীয় শটে মোহাম্মদ আরবাশ গতিময় শটে পরাস্ত করেন মাহিনকে। ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান চন্দন রায়।
তৃতীয় শটে স্যামসন সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের হাতে তখনও এক বাকি ছিল। আবদুল রিয়াদ ফাহিমের সফল স্পটকিকে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ।
ভিশাল যাদব চতুর্থ শটে আবার সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাাকশাম টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই দলের চার শট নেওয়ার পর ৩-৩ সমতা বিরাজ করে। এরপর শেষ শট নিতে এসে একইভাবে মিস করেন ভারতের ওমাং দোদুম। ফাইনাল কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনান। চাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরল ক্লাব ফুটবলের রমরমা উৎসব। লা লিগায় শুরু হচ্ছে আজ। স্প্যানিশ লিগটিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে আগামীকাল। মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে লিগের নয়টি ‘ফাইনালের’ একটি বলছেন লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মৌসুমের শেষ অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক একটি ম্যাচেই বদলে যেতে পারে সমীকরণ। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৯ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৪ হারে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৯। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
লিগে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল ধরে এগোতে চান রিয়াল কোচ আরবলোয়া,
‘আমরা যারা এখানে থেকে কাজ করেছি, আমরা কঠোর এবং কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকালের ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন। প্রতিপক্ষও যেমন পয়েন্টের জন্য লড়ছে, আমরাও তেমনি। বিরতির পর মাঠে খেলতে সহজ হবে না। লা লিগায় আমাদের সামনে নয়টি ফাইনাল বাকি, এবং আগামীকাল প্রথম ফাইনাল।’
কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন আরবেলোয়া,
‘খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ভালোভাবে ফিরেছে। সৌভাগ্যক্রমে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছে, যা জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রার প্রথম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে—মিনিট পেয়েছে এবং উচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে।’
চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য দুটি শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ধরে ধরে সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে চান আরবেলোয়া। ঘরের মাঠে কাল অবনমন অঞ্চলে থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না বলছেন তিনি,
‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি যেখানে আমরা চেয়েছিলাম—লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয়ের জন্য লড়াই করতে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আগামীকালের ম্যাচ জেতা, আর মায়োর্কা ম্যাচ শেষ হলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেব। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য খেলছি। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, এবং তাই আগামীকাল মাঠে নামার সময় আমাদের পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে—কারণ এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রায়ই বড় দলগুলোকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা বেগ পেতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে শিষ্যরা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন রিয়ালের কোচ,
‘বিরতির পর আবার ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না, তবে আমি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তাদের ইচ্ছা, মনোভাব, মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসে ভরসা করি। আমি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা দেখছি। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়াই করতে, জানি যে এটি সহজ হবে না।’