৬ মে ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পরে একশ ম্যাচে ৮৫ গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। তা সত্ত্বেও লস ব্লাঙ্কোসদের টানা দ্বিতীয় মৌসুমে লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা হাতছাড়া হয়েছে। ৩৬টি লিগ শিরোপা এবং ১৫টি ইউরোপিয়ান কাপ জেতা একটি জায়ান্ট ক্লাবের সমর্থকদের মাঝে তাই বিদ্রোহী সুর। তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না বিষয়টি। এরজন্য অবশ্য দলের সিনিয়রদের দায়ী করছেন কেউ কেউ।
সমর্থকদের বাড়তে থাকা ক্ষোভ এবং ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার গুঞ্জনের মাঝেই বান্ধবীকে নিয়ে সুখকর সময় কাটাচ্ছেন এমবাপে। এ ঘটনা নিয়েই ভক্ত সমথর্কদের ক্ষোভ বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।
এমবাপে বর্তমানে হ্যামস্ট্রিং চোটে। এপ্রিলের শেষ দিকে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়েন তিনি। ফলে রবিবারের এল ক্লাসিকোতে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। লা লিগায় শীর্ষস্থানে থাকা বার্সেলোনা থেকে ১১ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ম্যাচটি অনেকটা ডু অর ডাই। এই ম্যাচে জিতলেই কাতালানদের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই টানা দ্বিতীয় শিরোপা জেতা থেকে আটকাতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের এই ম্যাচটি জিততেই হবে।
সাধারণত এটিই মূল আলোচনার বিষয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর বদলে মাঠের বাইরের ঘটনা বেশি আলোচনা হচ্ছে। ফ্রান্স ফরোয়ার্ডকে গত সপ্তাহে ছুটি দেওয়া হয়েছিল সুস্থতার জন্য, নিজেকে রিদমে ফিরে পাওয়ার জন্য। অথচ তিনি এই সময়ে সার্দিনিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সময়টা ঠিক না হওয়ায় রিয়ালের সমর্থকরা এই সফরটিকে ভালোভাবে নেননি। এমবাপের ইয়টে কাটানো ছবিগুলো এমন সময় সামনে আসে, যখন রিয়াল এস্পানিওলের বিপক্ষে খেলছিল।
যদিও হেড কোচ আলভারো আরবেলোয়া তাঁর শিষ্যের পক্ষেই কথা বলেছেন। তার মতে—অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের মতো এমবাপেও তার অবসর সময়ে যা খুশি করতে পারেন।
তবে সমর্থকরা বিষয়টি বেশ জটিল করে তুলেছেন। তারা ফ্রান্স তারকাকে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার দাবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'এমবাপে আউট' হ্যাশট্যাগে একটি অনলাইন পিটিশন চালু করেন।
পিটিশনটিতে ২ লাখ স্বাক্ষরের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ এতে স্বাক্ষর করেন।
এমন পরিস্থিতিতে তারকা ফুটবলারদের ওপর চাপ অনেক বেড়েছে। আর এমবাপে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও এখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে। তাঁর দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমে উত্তেজনা ও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমে থাকার কথাও বলা হচ্ছে।
স্পেনের সংবাদমাধ্যমগুলো কেবল এমবাপের মাঠের পারফরম্যান্সই নয়, মাঠের বাইরের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সার্দিনিয়ার সফরটিকে তারা কোনো অপরাধের চেয়ে সময়ের ভুল ব্যবহার হিসেবেই বেশি তুলে ধরেছে।
মতের ভিন্নতা থাকলেও সার্বিকভাবে স্প্যানিশ গণমাধ্যমের সুর এখনও সমালোচনামূলক। কেউ কেউ এমবাপের পরিসংখ্যান ও ম্যাচ জেতানোর যোগ্যতার পক্ষে কথা বললেও, অন্য অনেকে কঠিন মৌসুমে তাঁর নেতৃত্ব ও সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষকদের মতে, হতাশাজনক এই মৌসুমের পর দলের আত্মবিশ্বাস ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে সঠিক কোচের নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
তাদের বক্তব্যের মূল বার্তাটি স্পষ্ট: ক্লাব এবং এর সমর্থকদের জন্য আরেকটি শিরোপাহীন মৌসুম মেনে নেওয়া অসম্ভব।
No posts available.

বার্সেলোনার শিরোপা উদযাপনের সময় আবেগপ্রবণ হান্সি ফ্লিক চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না। এল ক্লাসিকোর ঘন্টাখানেক আগেই বাবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার খবর শুনেছিলেন। ব্যক্তিগত এই বড় ট্র্যাজেডি সত্ত্বেও জার্মান এই কোচ টাচলাইনে দাঁড়িয়ে দলকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েই বাবার স্মৃতির প্রতি এই শিরোপা উৎসর্গ করেন ফ্লিক।
ক্যাম্প ন্যূতে এল ক্লাসিকো শুরুর আগে ফ্লিকের বাবার স্মরণে স্টেডিয়ামে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়; সে সময় কোচিং স্টাফদের ফ্লিককে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।
জয়ের পরপরই শুরু হওয়া শিরোপা উদযাপনের সময় আবেগাপ্লুত ফ্লিক বলেন, ‘এটি একটি কঠিন ম্যাচ ছিল এবং এই দিনটির কথা আমি কখনোই ভুলব না।’ এসময় ফ্লিক তার শিষ্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘আমি পুরো স্কোয়াড এবং যারা আমাদের সমর্থন করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, এমন একটি দারুণ দল পেয়ে আমি খুবই গর্বিত। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের আগে মলিনাকে নিয়ে দুঃসংবাদ |
|
এমনিতে মাপা কথা বলা মানুষ হিসেবে পরিচিত ফ্লিক তার বিজয় পরবর্তী বক্তব্যটি বেশ সংক্ষিপ্ত ও সাবলীল রাখেন। বার্সা কোচ আবারও সব কৃতিত্ব খেলোয়াড়দের দেন এবং সমর্থকদের জানান ধন্যবাদ, ‘প্রতিটি ম্যাচে লড়াই করার এই দৃঢ় সংকল্পের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। আমি সত্যিই এটার প্রশংসা করি। আমার দলটি চমৎকার এবং আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত। সমর্থকদের সাথে এই আবহে, একটি এল ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে এখানে থাকাটা রোমাঞ্চকর। এখন আমার মনে হয় আমাদের উদযাপন করা উচিত।’
জয়ের পর উদযাপনের সময় বার্সা খেলোয়াড়রা ফ্লিককে শূন্যে ছুড়ে দিয়ে তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানান। ফ্লিক প্রকাশ করেছেন যে, যখন তার মা তাকে বাবার মৃত্যুর খবরটি জানান, তখন তিনি দ্বিধায় ছিলেন যে খেলোয়াড়দের এটি বলবেন কি না, ‘আজ সকালে মা আমাকে ফোন করে বললেন যে বাবা আর নেই। আমি ভেবেছিলাম খবরটি লুকিয়ে রাখব নাকি আমার দলকে জানাব। আমার কাছে এই দল একটি পরিবারের মতো।’
ফ্লিক আরও বলেন, ‘তারা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য, এই মুহূর্তটি আমি কখনোই ভুলব না। এই ক্লাবের হয়ে কাজ করা এবং বার্সেলোনায় থাকাটা আমি সত্যিই উপভোগ করি; এখানকার মানুষ আমার প্রতি অনেক সদয়।’
.jpeg)
একশ বছর পুরোনো একটি ঘটনা। ১৯৩১-৩২ মৌসুমের বার্সেলোনার মাঠে ২-২ গোলে ড্র করে লা লিগায় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আজ কাতালান ক্লাবের সামনে ছিল ঘরের মাঠের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সে যাত্রায় শতভাগ পাস হান্সি ফ্লিকের দল। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে একশ বছরের ইতিহাস সামনে আনলো কাতালান ক্লাব।
রবিবার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমে শতভাগ জয়ের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়ালকে হারিয়ে তিন ম্যাচ হাতে রেখে ২৯তম লা লিগা ট্রফি জিতে নিয়েছে বার্সেলোনা। স্বাগতিকদের হয়ে গোল দুটি করেন মার্কাস রাশফোর্ড ও ফেরান তোরেস।
লা লিগায় আজকের এল ক্লাসিকো স্রেফ একটি ম্যাচই ছিল না বরং ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপার ফয়সালা দেখার অপেক্ষায় ছিল বার্সেলোনা ভক্তরা। ড্র কিংবা হার-ই বার্সার মাথায় তুলে দিতো স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুট। আর রিয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দিতে পারে টানা দ্বিতীয় শিরোপাহীন মৌসুমের অন্ধকারে। সে যাত্রায় ক্যাম্প ন্যুতে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে শত চেষ্টা করেও আর শোধ কিংবা ম্যাচে ফেরা হয়নি রিয়ালের।
ম্যাচটি একদিকে শিরোপার ফয়সালা অন্যদিকে কোচ হান্সি ফ্লিককে জয় উপহার দেওয়ার রাত ছিল রাফিনিয়াদের। রবিবার ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে পৃথিবীর যাত্রা শেষ করেন জার্মান কোচের পিতা। পিতৃ শোকের মাঝেই দায়িত্ববোধ থেকে ডাগ আউটে দাঁড়ান ফ্লিক। তার পিতার স্মরণে ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্প ন্যু রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই প্রথম সেকেন্ড থেকেই হয়ে উঠে বারুদঠাসা। গ্যালারির আকাশভেদী গর্জন আর মাঠের গতির লড়াই দেখা যায় শুরু থেকেই। তবে ম্যাচ ঘড়ির মাত্র নবম মিনিটে সেটপিস থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন রাশফোর্ড। ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিডে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের শুরুটায় প্রথম সুযোগটা পায় বার্সেলোনা। নবম মিনিটে ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক পায় কাতালানরা। সেখান থেকে কার্লিং শটে গোল আদায় করেন রাশফোর্ড। তার গোলটি কেবল স্কোরবোর্ডেই বদল আনেনি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও শুরুতেই এনে দিয়েছে কাতালানদের হাতে। সেটপিসের সেই পরিকল্পনা আর রাশফোর্ডের চতুরতা—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো এক শুরু পায় স্বাগতিকরা।
প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে আরও একটি বিধ্বংসী আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বাঁ-দিক থেকে ফারমিন লোপেজ পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর চমৎকার একটি বল বাড়ান দানি ওলমোর উদ্দেশ্যে। রুডিগারের ঠিক সামনে থেকেই ওলমো এক নিপুণ ব্যাকহিলে বলটি বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। সেই পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। লা লিগায় এটি তার ১৭তম গোল।
২২তম মিনিট একটি গোল শোধের সুযোগ হাতছাড়া করেন গার্সিয়া। তার সামনে কেবল ছিলেন বার্সেলোনা গোলকিপার হুয়ান গার্সিয়া। ডান প্রান্ত থেকে ওঠা সেই আক্রমণ যেন নিজেই নসাৎ করে দেন রিযাল ফরোয়ার্ড। বারের বাইরে শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬২তম মিনিটে জুড বেলিংহামের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। এর আগে ৫৪তম বার্সেলোনার পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর এরিক গার্সিয়ার কনুইয়ের সাথে মুখে ধাক্কা লাগে ইংলিশ মিডফিল্ডারের। ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় রেফারি শুরুতে খেলা থামাতে চাননি। তবে ভিনিসিয়ুসের জোরালো অনুরোধে শেষ পর্যন্ত তিনি খেলা থামানোর সংকেত দেন। এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও খেলা শুরু করেন বেলিংহাম।
ম্যাচের ৮০তম মিনিটে দ্বিতীয়বারের মতো হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এবার ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ড ও ফারমিন লোপেজের সঙ্গে। সে ঘটনার জেরে রাফিনিয়াকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্নল্ড। পরবর্তীতে ব্রাজিল ফরোয়ার্ডও হাতাহাতিতে জড়ান। দুইজনকেই দেখানো হয় হলুদ কার্ড। প্রায় একমাস আট দিন পর মাঠে নেমে কার্ড দেখতে হলো রাফিনিয়াকে।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ফেরার মরিয়া চেষ্টা ছিল রিয়ালের প্রতিটি আক্রমণে। বেশ কয়েকবার গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেও বার্সার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সফল হতে পারেনি তারা। একের পর এক সুযোগ নষ্টের মিছিলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায় আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
ঘরের মাঠে আধিপত্য ধরে রেখে খেলেছে বার্সেলোনা। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেছে তারা। ১০টি শট নিয়ে ৭টি টার্গেটে রেখে তারা। বিপরীতে ৮টি শটের মাত্র এটি অনটার্গেটে ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। এই হারে আরও তিন ম্যাচ হাতে অবশিষ্ট থাকলেও এখানেই শিরোপা রেস শেষ বার্নাব্যুর ক্লাবের।
.jpeg)
লা লিগায় আজকের এল ক্লাসিকো স্রেফ একটি ম্যাচ নয়, বরং ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপার ফয়সালা হতে পারে এই ৯০ মিনিটে। ড্র কিংবা হার-ই বার্সেলোনার মাথায় তুলে দিতে পারে স্প্যানিশ ফুটবলের মুকুট। আর রিয়াল মাদ্রিদকে ঠেলে দিতে পারে টানা দ্বিতীয় শিরোপাহীন মৌসুমের অন্ধকারে। সে যাত্রায় ক্যাম্প ন্যুতে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতি গেল হান্সি ফ্লিকের দল।
রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ম্যাচে রেফারির বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ক্যাম্প ন্যু রূপ নেয় রণক্ষেত্রে। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই প্রথম সেকেন্ড থেকেই হয়ে উঠে বারুদঠাসা। গ্যালারির আকাশভেদী গর্জন আর মাঠের গতির লড়াই দেখা যায় শুরু থেকেই। তবে ম্যাচ ঘড়ির মাত্র নবম মিনিটে সেটপিস থেকে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মার্কাস রাশফোর্ড। ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করেন ফেরান তোরেস। এই দুই গোলের লিডে বিরতে স্বাগতিকরা।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের শুরুটায় প্রথম সুযোগটা পায় বার্সেলেনা। নবম মিনিটে ডি বক্সের খানিক বাইরে ফ্রি কিক পায় কাতালানরা। সেখান থেকে কার্লিং শটে গোল আদায় করেন রাশফোর্ড। তার গোলটি কেবল স্কোরবোর্ডেই বদল আনেনি, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও শুরুতেই এনে দিয়েছে কাতালানদের হাতে। সেটপিসের সেই পরিকল্পনা আর রাশফোর্ডের চতুরতা—সব মিলিয়ে স্বপ্নের মতো এক শুরু পায় স্বাগতিকরা।
প্রথম গোলের ১০ মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদের এলোমেলো রক্ষণের সুযোগ নিয়ে আরও একটি বিধ্বংসী আক্রমণে ওঠে স্বাগতিকরা। বাঁ-দিক থেকে ফারমিন লোপেজ পেনাল্টি এরিয়ার ভেতর চমৎকার একটি বল বাড়ান দানি ওলমোর উদ্দেশ্যে। রুডিগারের ঠিক সামনে থেকেই ওলমো এক নিপুণ ব্যাকহিলে বলটি বাড়িয়ে দেন তোরেসের দিকে। সেই পাস থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে দেন ফেরান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। লা লিগায় এটি তার ১৭তম গোল।
২২তম মিনিট একটি গোল শোধের সুযোগ হাতছাড়া করেন গার্সিয়া। তার সামনে কেবল ছিলেন বার্সেলোনা গোলকিপার হুয়ান গার্সিয়া। ডান প্রান্ত থেকে ওঠা সেই আক্রমণ যেন নিজেই নসাৎ করে দেন রিযাল ফরোয়ার্ড। বারের বাইরে শট নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
এদিন ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ম্যাচের দিন সকালে মৃত্যুবরণ করেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের বাবা। পিতৃবিয়োগের পরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডাগ আউটে দাঁড়িয়েছেন এই জার্মান কোচ।

লা লিগায় সেলতা ভিগোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে বড় এক ধাক্কা খেয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। শনিবার ঘরের মাঠে বদলি হিসেবে নামলেও ম্যাচ শেষে জানা যায়, পেশির চোটে পড়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা।
রবিবার আতলেতিকো মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তত তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে মলিনাকে।
২৮ বছর বয়সী মলিনা ইনজুরি নিয়ে চিন্তায় রয়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলও। ১১জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের প্রথম ম্যাচ ১৬ জুন। তবে তিন সপ্তাহের এই অনুপস্থিতির কারণে টুর্নামেন্টের আগে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়া নিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন মলিনা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে পর্যাপ্ত অনুশীলন ছাড়া তার ফেরাটা আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য কিছুটা উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
আতলেতিকো মাদ্রিদের হয়ে এই মৌসুমের বাকি ম্যাচগুলো মিস করার পাশাপাশি মলিনাকে এখন পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার দিকে। যাতে বিশ্বকাপের আগেই তিনি পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে পারেন।

লা লিগায় ভ্যালেন্সিার বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েন আতলেতিকো ক্লাব উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস। তার এই চোটের খবরে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্পেন জাতীয় ফুটবল দলে।
শনিবার সান মামেসে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে মাঠে লুটিয়ে পড়েন নিকো। বেশ অস্বস্তিতে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ ছাড়ার সংকেত দেন স্পেন উইঙ্গার এবং পরে অশ্রুসিক্ত চোখে মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তারই বড় ভাই ইনাকি উইলিয়ামস।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের আগে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য এই সময়টি বেশ উদ্বেগজনক। কারণ তার আক্রমণভাগের পরিকল্পনায় নিকো উইলিয়ামস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য।
পুবালজিয়া থেকে সেরে ওঠার পর নিকো মাত্রই ছন্দ ফিরে পাচ্ছিলেন। কিন্তু এই নতুন চোট তার বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে।
আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শারীরিক পরীক্ষার পর জানা যাবে চোট কতটা গুরুতর এবং ২১ বছর বয়সী এই তারকা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারবেন কি না।