
আসন্ন বিশ্বকাপে কী নেইমার খেলবেন? অমীমাংসিত এই প্রশ্ন বেশ পীড়া দিচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। সান্তোসের এই তারকা নিজেও জানিয়েছেন, সম্ভবত শেষবারের মতো তিনি বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে সেলেসাওদের হয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত, আর এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের এক কিংবদন্তি সোজাসাপ্টা মন্তব্য করে বলেছেন—নেইমার না থাকলে ব্রাজিল হয়ে যাবে ‘আর দশটা দলের মতোই সাধারণ একটি দল।’
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো রোমারিও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ব্যক্তিত্ব। দুইবার কোপা আমেরিকা ও একবার কনফেডারেশনস কাপজয়ী সাবেক বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়া ফরোয়ার্ডের বিশ্বাস, বর্তমান ব্রাজিল দলের কেন্দ্রবিন্দু এখনও নেইমারই। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়ার মতো উঠতি তারকা নয় বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন নেইমার, এমনটাই মনে করছেন রোমারিও।
ব্রাজিলের ম্যাগাজিন ‘ভেজা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বিশ্বকাপ মিস করলে তার প্রভাব কেমন পড়বে এ নিয়ে রোমারিও বলেন, ‘নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই বড় ধাক্কা হবে। ষষ্ঠ শিরোপা তখন আরও দূরে সরে যাবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি সে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং নিজের সবটুকু দিতে পারবে।’
আরও পড়ুন
| বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় রোনালদো, আল নাসর ছাড়ার ইঙ্গিত |
|
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা মেনে নিলেও রোমারিও জোর দিয়ে বললেন, শতভাগ ফিট না থাকলেও সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজি তারকা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম, ‘সে পুরোপুরি ফিট থাকবে কি না জানি না, কিন্তু নেইমার যদি ৭০ শতাংশ ফিটও থাকে, তাতেই যথেষ্ট—সে তখনও দলকে সাহায্য করতে পারে, পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
রোমারিও আরও যোগ করেন, ‘আর নেইমার ছাড়া জাতীয় দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর দশটা দলের মতোই হয়ে যায়।’
এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নেইমার বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনায় থাকবেন কেবল তখনই, যখন তিনি পুরোপুরি ফিট থাকবেন। অবশ্য ব্রাজিলের কোচের সঙ্গে এ জায়গায় একতম নন রোমারিও, কিংবদন্তি এই ফুটবলার মনে করেন শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমার ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর কেটে গেছে, নেইমারকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখার অপেক্ষা কেবলই বেড়েছে সমর্থকদের। এই সময়ে মাঠের ভেতরে-বাইরে সেলেসাও দলে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন—নেতৃত্বে বদল হয়েছে, আর আগের মতো আধিপত্যও অনেকটাই কমে গেছে।
নেইমারবিহীন সময়ে ব্রাজিল মোট ২৬টি ম্যাচ খেলেছে—প্রীতি ম্যাচ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব মিলিয়ে। এই সময়ের ফলাফল ছিল ১১টি জয়, ৮টি ড্র এবং ৭টি হার। পাশাপাশি কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিল শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে; আগের ফরম্যাট হলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির প্লে-অফ খেলতে হতো।
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৪৭ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭ এম

নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে গতকাল রাতে ইংলিশ লিগ কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে প্রতিযোগিতার একটি নিয়ম নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন] সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। এই নিয়মের পরিবর্তনও চেয়েছেন তিনি।
আর্সেনালের বিপক্ষে আগামী ২২ মার্চ ওয়েম্বলিতে লিগ কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ম্যান সিটি। এই ম্যাচে নতুন ডিফেন্ডার মার্ক গেইহিকে খেলাতে নিয়ম পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন গার্দিওলা।
লিগ কাপের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে যদি সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শুরু হওয়ার পর দলে নেওয়া হয়, তাহলে প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচে তাকে আর খেলানোর সুযোগ নেই।
নিউক্যাসলের বিপক্ষে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ জয়ের পর জানুয়ারিতে ক্রিস্টাল প্যালেস থেকে গেইহিকে দলে ভেড়ায় সিটি। ফলে এই ইংলিশ ডিফেন্ডার টুর্নামেন্টের বাকি অংশে খেলতে পারছেন না।
এই নিয়মকে ‘অযৌক্তিক’ বলছেন গার্দিওলা। সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগ শেষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক টাকা দিয়ে একজন খেলোয়াড় কিনেছি, কিন্তু সে কেন (গেইহি) ফাইনালে খেলতে পারবে না-এটা আমি বুঝতে পারছি না। আশা করি লিগ কাপ কর্তৃপক্ষ বিষয়টা বিবেচনা করবে।’
গার্দিওলা আরও বলেন, ‘আমরা তাঁর বেতন দিচ্ছি, সে আমাদের খেলোয়াড়। তাহলে সে কেন ফাইনাল খেলতে পারবে না? এটা তো যৌক্তিক না।’
জানুয়ারিতে সিটির আরেক সাইনিং অঁতোয়ান সেমেনিও সেমিফাইনালে খেলেছেন। মূলত প্রথম লেগের আগেই দলে যোগ দেওয়ায় সুযোগ পান তিনি। এই বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গার্দিওলা।
ম্যানচেস্টার সিটির পক্ষ থেকে লিগ কাপ কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন গার্দিওলা। তবে একই সাথে স্বীকার করেছেন টুর্নামেন্টের মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভবও।

সৌদি প্রো লিগে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর খেলা নিয়ে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। আল নাসরের ম্যানেজমেন্টে পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়ায় টানা দ্বিতীয় লিগ ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছেন রোনালদো।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) ভূমিকায় অসন্তোষ থেকেই এই অবস্থান নিয়েছেন পর্তুগিজ তারকা।
ইএসপিএনের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি পিআইএফের পক্ষ থেকে পরিবর্তনের নিশ্চয়তা না আসে, তাহলে চলতি মৌসুম শেষে জুনে আল নাসর ছাড়ার আবেদন জানাতে পারেন রোনালদো।
পিআইএফ মূলত সৌদি আরবের প্রধান চারটি ক্লাব- আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি নিয়ন্ত্রণ করে। রোনালদোর অভিযোগ- পিআইএফ আল নাসরের চেয়ে আল হিলালের মতো প্রতিদ্বন্দী ক্লাবগুলোকে বেশি আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে।
একই কারণে আল ইত্তিহাদ থেকে করিম বেনজেমার আল হিলালে সম্ভাব্য দলবদল ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন রোনালদো। তার মতে, এই ট্রান্সফার আল-হিলালের শিরোপা জয়ের পথ আরও সহজ করে দিত।
প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জেতা লিগ ম্যাচ বয়কট করেন রোনালদো। তবে তাতেও কোন লাভ হয়নি, ঐদিনই আল হিলালের সঙ্গে চুক্তি করেন বেনজেমা।
গতকাল নিজের অনুশীলনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন রোনালদো। তবে আল-নাসরের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে বুধবার প্রকাশিত অনুশীলনের ছবিতে তাকে দেখা যায়নি।
রোনালদোর অসন্তোষের আরেকটি কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আল নাসরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। গত মাসে বোর্ড মিটিংয়ের পর আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসে সেমেদোর ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন রোনালদো। একই সঙ্গে ক্লাবের খরচ কমানোয় শীর্ষ মানের খেলোয়াড় আনার পথও কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে আল হিলাল পেয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা। ক্লাবটির পৃষ্ঠপোষক সৌদি যুবরাজ আল ওয়ালিদ বিন তালাল আল সৌদ নিজ অর্থায়নে দল শক্তিশালী করেছেন। বেনজেমার পাশাপাশি চলতি ট্রান্সফার উইন্ডোর সব সাইনিংই তার অর্থায়নে হয়েছে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন।
রোনালদো নাকি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্লাব ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা দ্রুত পুনর্বহাল করা এবং সদ্য সমাপ্ত ট্রান্সফার উইন্ডোতে যে হস্তক্ষেপ হয়েছে, ভবিষ্যতে তা যেন আর না ঘটে- এই নিশ্চয়তার ওপরই তার মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।
২০২২ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এখনও বড় কোন শিরোপা জিততে পারেননি রোনালদো। গত গ্রীষ্মে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত আল নাসরের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেন রোনালদো। সেই চুক্তিতে তার রিলিজ ক্লজ ধরা আছে ৫ কোটি ইউরো।
আগামীকাল শুক্রবার আল ইত্তিহাদের মুখোমুখি হবে আল নাসর। সেই ম্যাচে রোনালদোর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

ইংলিশ লিগ কাপের (কারাবাও কাপ) সেমিফাইনালে প্রথম লেগে জয়ের পর দ্বিতীয় লেগেও সহজ জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে হারিয়ে প্রতিযোগিতায় ১০ বারের মতো ফাইনালে উঠল সিটিজেনরা।
বুধবার রাতে সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে ম্যানচেস্টার সিটির জয় ৩-১ ব্যবধানে। দুই লেগ মিলিয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৫-১ গোলের জয় পেপ গার্দিওলার দলের।
এ নিয়ে ২০২১ সালের পর আবারো এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে উঠলো ম্যান সিটি। আরেক সেমিফাইনালে চেলসিকে হারিয়ে আগেই ফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল।
বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ম্যান সিটি। সপ্তম মিনিটে ওমর মারমুশের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এই ম্যাচে যে কি না খেলেছেন আর্লিং হলান্ডের জায়গায়।
এরপর একের পর এক আক্রমণ শানায় ম্যান সিটি। তবে নিউক্যাসলও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। জো উইলক ও অ্যান্থনি গর্ডনের শট দারুণভাবে ঠেকান সিটি গোলকিপার জেমস ট্র্যাফোর্ড।
২৯ মিনিটে হেড থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন মারমুশ। তিনি মিনিট পর তিজানি রেইনডার্স গোল করলে বিরতির আগেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আকাশি-নীলরা।
দ্বিতীয়ার্ধে নিউক্যাসল কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৬২ মিনিটে অ্যান্থনি এলাঙ্গা দৃষ্টিনন্দন শটে একটি গোল শোধ দেন।
তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো বড় পরিবর্তন হয়নি। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কারাবাও কাপের ফাইনালে ওঠে ম্যানচেস্টার সিটি।
আগামী ২২ মার্চ লন্ডনের ঐতিহাসিক ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ফাইনালে আর্সেনালের মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটি।
ট্যাগঃ ফুটবল, ম্যানচেস্টার সিটি, কারাবাও কাপ, নিউক্যাসল ইউনাইটেড।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো কে? তাঁকে প্রথম দেখে কেন ভাষা হারিয়ে ফেলতে হবে? কেন কেউ কেঁদে ফেলে তাঁকে প্রথমবার দেখতে গিয়ে?
এইতো। একজন ফুটবলারই তো। তবে কিছু তো আছে। নামের সঙ্গে ৪০ পেরিয়ে লাখ খানেক মিনিট ফুটবল ঘাসে মাড়িয়ে দেখবেন ৯৬১ গোল। ২৬০ অ্যাসিস্ট আর ৩৬টা ট্রফি।
রোজকার যাপিত জীবনে অভিযোগের শেষ নেই। এটা নেই, ওটা পেলাম না কেন? ও আমার চেয়ে খারাপ? সে কিন্তু আমার চেয়ে ভালো। মানুষ এমনই, চিরায়ত অভ্যাসটা আরকি। চারপাশটা যখন এমন, এক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোই ভিন্ন। সেই ভিন্নটা দিয়েই হাজারটা মানুষের প্রেরণা। হাজারটা বলছি, মাফ করবেন। সংখ্যাটা কোটি।
প্রতি ১১১ মিনিটে একটা গোল রোনালদোর ক্যারিয়ারে, গড়ে প্রতি ৮৮ মিনিটে একটা করে গোলে অবদান। এই না হলো ক্রিস্তিয়ানো।
লোকে কতো নিন্দা ছড়ায়, না দেখতে পারা। ওসবে থোড়াই কেয়ার রোনালদোর। নিজের মতো বলে উঠেন, 'আমি যখন চাই, তখনই কথা বলি... আমি বুলেটপ্রুফ, লোহার পোশাক পরে আছি...' আসলেই কিন্তু। ওই যে মদ্যপ পিতার রাস্তা পরিস্কার করতে থাকা ছেলেটা যেদিন ফুটবল দুনিয়াটা পায়ের কাছে এনে রাখল সেদিন থেকে তার জন্য এসব আর এমন কী? হাজারটা নিন্দা, ধুর ছাই, ওসবে বয়েই গেছে রোনালদোর... একটাই সিউউউ সেলিব্রেশনেই তো সবাইকে চুপ করিয়ে দেওয়া।
প্রচণ্ড দারিদ্রটাকে দেখিয়েছেন বুড়ো আঙুল। জীবনে এতোই বদলে দিয়েছেন, যে ফোর সিজনস হোটেলে রোনালদো রিয়াদে এসে থেকেছেন তাঁর মাসিক খরচই নাকি ছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার মতো। যেখান থেকে পাখির চোখে দেখা যায় পুরো রিয়াদ শহর।
ম্যাকডোনাল্ডসের সেই কর্মচারীর নাম ছিল এডানা। তীব্র ক্ষুধা নিয়ে ছোট্ট রোনালদো জিজ্ঞেস করতেন, 'খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত কিছু বেঁচে আছে?' এডানা ওই ক্ষুধার্ত কিশোরকে খেতে দিতেন কিছু। শখানেক কোটি টাকার মালিক হওয়ার পরে এডানাকে খুঁজে বেরিয়েছেন এই রোনালদোই। শুধু পরিশ্রম? কৃতজ্ঞতা, শব্দটাও যেনো রোনালদোর অভিধানে অতি প্রিয়।
শুনেছি, পড়েছি পর্তুগালে নাকি একটা সময় হাহাকার ছিল। পর্তুগাল মৃতপ্রায়। পর্তুগালে যেন আর কিছু নেই। পর্তুগালে চাকরি নেই, জীবন নেই, মর্যাদা নেই। পর্তুগালের শুধু আস্ত একটা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ছিল, আছে। রোনালদো ফুটবল খেলার আগ পর্যন্ত গোটা দেশটার ছিল না কোনো মেজর ট্রফি৷ মোটে তিনটে ইউরো আর তিনটে বিশ্বকাপ খেলার স্মৃতি৷ রোনালদোর পরে পাঁচটা বিশ্বকাপ, পাঁচটা ইউরো খেলা। সঙ্গে তো দুটো মেজর ট্রফি জেতা আছেই।
জাতীয় দলের হয়ে রোনালদো করেছেন ১৪৩ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসেই দেশের হয়ে এরচেয়ে বেশি গোল নেই আর কারো। প্রায় প্রতি ১০০ মিনিটে একটা গোল অবদান।
ওই ফান ফ্যাক্ট বলার লোভ সামলাতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়ায় রোনালদোর যত ফ্যান আছে, সবাই নাকি একসঙ্গে হাত ধরে দাঁড়ালে দুবার পৃথিবী সমান দূরত্ব পার হবে৷ শুধু 'ফুটবলার' পরিচয়টাও অনেক আগে থেকেই সাবেক হয়েছে রোনালদোর নামের পাশ থেকে। এখন মহাতারকা বলতেও যে কাউকেই খুব একটা ভাবতে হবে না দুবার...এক বিলিয়ন সহজ করে বললে ১০০ কোটি মানুষ নাকি ফলো করে রোনালদোকে।
বয়শ শুধুই সংখ্যাই ছিল এই লোকটার কাছ। ত্রিশ পেরোনোর পরেই করেছেন প্রায় ৫০০ ছুঁইছুই গোল, ত্রিশের বেশি হ্যাটট্রিক৷ ইউরোপের অনেক নামী স্ট্রাইকারের পুরো ক্যারিয়ার এই লোকটা শুধু বয়স ত্রিশ পেরোনোর পরের ১০ বছরেই দেখে ফেলেছেন। তাঁর জন্য তো বয়স আক্ষরিক অর্থেই একটা সংখ্যা ছিল।
লক্ষ্যটা ১০০০ গোল করা, নিজেই জানিয়েছেন। চোট বাধা না দিলে হাজার স্পর্শ করেই থামতে চান। আর ৩৯ গোলেই স্পর্শ হবে তা। অবসর আসবে শ্রীঘ্রই। প্রস্তুত আছেন তাও তো নিজেই জানিয়ে রেখেছেন।
ইউরোপকে ছুটি দিয়ে আপাতত সৌদি আরবে। তবু এখনো রোনালদোর গোলের পর ক্লাস নাইনের সদ্য গোঁফ-দাড়ি ওঠা ছেলের মতো লাফিয়ে উঠে অনেকেই। অনেকটা জীবন শিখিয়ে গেছেন রোনালদো। যতবার মনে হবে, হবে না... হচ্ছে না... ততবার মনে হবে রোনালদোও পেরেছেন। 'হ্যাপি বার্থডে' ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো...। আপনি চিরকালীন... মাদেইরা থেকে অমরত্ব।

রোজারিওর সেই ছোট্ট মাঠ, লাল-কালো জার্সির ভাঁজে লুকিয়ে থাকা এক কিশোরের স্বপ্ন—সেখান থেকেই শুরু হয়েছিল লিওনেল মেসির গল্প। বয়স তখন তেরো, চোখে সীমাহীন আশা, পায়ে অদম্য জাদু। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা সেই ছেলেটাই একদিন হয়ে উঠলেন ফুটবলের ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র। বার্সেলোনার ব্লাউগ্রানা, প্যারিসের আলো, কাতারের মুকুট আর মায়ামির রোদ—সব পেরিয়ে মেসি আজ এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে, যেখানে সামনে তাকালে শেষের শুরু, আর পেছনে শৈশব।
আর ঠিক এখানেই নতুন করে জন্ম নিচ্ছে এক স্বপ্ন—ফেরার স্বপ্ন। নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ মেসিকে ফেরাতে কষছে ‘স্বপ্নের ছক’। নিছক কোনো ফুটবল ট্রান্সফারের গল্প নয়, এটা তো নিখাঁত আবেগের, শিকড়ের, ঘরে ফেরার গল্প। যে ক্লাব তাকে প্রথম চিনতে শিখেছিল, যে শহর তাকে মানুষ করেছিল—রোজারিও আজ আবার ডাকছে তার হারানো সন্তানকে।
২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিওনেল মেসিকে ক্লাবে ফেরাতে একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ। এই
‘ঘরের ফেরার’ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আর্জেন্টাইন ক্লাবটির সহ-সভাপতি হুয়ান ম্যানুয়েল মেদিন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল জড়িত।’
১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় পাড়ি জমানোর আগে নিউয়েলসের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছিলেন মেসি। ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা গত অক্টোবরে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছেন, যা ২০২৮ মৌসুমের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অনেকে ধরে নিয়েছিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার যুক্তরাষ্ট্রেই নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। তবে বাস্তবতা হয়তো তেমন নাও হতে পারে।
মেসিকে ফেরানোর পরিকল্পনা কিন্তু আজ-কালের মধ্যে করেনি নিউয়েলস। ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘমেয়াদি এক পরিকল্পনায় নিউয়েলস চায় এমন একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করতে, যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়গুলো একসঙ্গে যুক্ত থাকবে—যাতে মেসির প্রত্যাবর্তন শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্লাবের অবকাঠামো উন্নয়ন, একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন এবং এমন প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী একজন তারকার মর্যাদার সঙ্গে মানানসই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসির ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের সহ-সভাপতি মেদিনা আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিএন-কে বলেন,
‘২০২৭ সালের প্রথমার্ধে লিও নিউয়েলসের হয়ে খেলবে—এমন লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি।’
মেদিনা আরও বলেন,
‘এটি শুধু নিউয়েলসের কোনো প্রকল্প নয়। এটি রোজারিও শহর, প্রদেশ এবং পুরো আর্জেন্টাইন ফুটবলের প্রকল্প। অবকাঠামো ও প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া কর্মসূচির ক্ষেত্রে আমরা কী দিতে পারি, সেটির ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’
রোজারিও শহরেই জন্ম নেওয়া মেসি আগেও নিউয়েলসের হয়ে খেলার ইচ্ছাকে নিজের ‘স্বপ্ন’ বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৭ সালে মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন,
‘আমি বহুবার বলেছি, নিউয়েলসের হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন। তবে কী হবে জানি না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই অনিশ্চয়তার একটি কারণ। আমার পরিবার আছে, সন্তানরাই আমার অগ্রাধিকার। আমি চাই তারা নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে বড় হোক।’
নিউয়েলসের একাডেমিতে খেলার সময় মেসি ২৩৪টি গোল করেন। ক্লাবের মাঠ এস্তাদিও মার্সেলো এ. বিয়েলসা-তে তার নামে একটি স্ট্যান্ডও রয়েছে। চলতি মৌসুমে তিন ম্যাচ শেষে নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনের গ্রুপ ‘এ’-তে তলানিতে অবস্থান করছে।
নিউয়েলসের হয়ে খেলেছেন এমন উল্লেখযোগ্য সাবেক তারকাদের মধ্যে রয়েছেন বেনফিকার কিংবদন্তি অস্কার কার্দোজো, লিভারপুলের সাবেক মিডফিল্ডার ম্যাক্সি রদ্রিগেজ, এবং জুভেন্টাসের সাবেক স্ট্রাইকার দাভিদ ত্রেজেগে।