২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৪:২৪ পিএম

প্রায় পাঁচমাস আগে ফিফার ‘শান্তি পুরস্কার’ জেতেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকেই এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব মানবাধিকার কর্মী ও ফুটবল সংশ্লিষ্টরা। পাল্টা জবাবে আজ হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে বেশি যোগ্য আর কেউ নেই এই পুরস্কারের জন্য।
গত বছরের ডিসেম্বরে ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্য প্রচারের স্বীকৃতিস্বরূপ ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এর পরপরই মানবাধিকার গোষ্ঠী ও আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন।
চলতি সপ্তাহে অস্ট্রেলীয় ফুটবলার জ্যাকসন আরভিন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ায় কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে ফিফা তাদের নিজস্ব মানবাধিকার সনদকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করেছে। সোমবার নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ফিফাকে এই শান্তি পুরস্কার প্রথা পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে সংস্থাটি রাজনৈতিক বিতর্কে না জড়ায়।
আরও পড়ুন
| আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাস লেখার শপথ আর্সেনাল ও আতলেতিকোর |
|
ক্রমাগত সমালোচনার জবাবে হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের ‘শক্তির মাধ্যমে শান্তি’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে এক বছরেরও কম সময়ে আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। ট্রাম্প নিজেও একাধিকবার দাবি করেছেন, তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বিবৃতিতে বলেন, ‘ফিফার প্রথম শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চেয়ে যোগ্য ব্যক্তি বিশ্বে আর কেউ নেই। যারা এর ভিন্ন কিছু ভাবছেন, তারা স্পষ্টতই 'ট্রাম্প ডেরাঞ্জমেন্ট সিনড্রোম'-এ ভুগছেন।‘
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের একটি যুক্তরাষ্ট্র। ড্র হওয়ার মাত্র এক মাস পর দেশটি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ বিমান হামলা শুরু করে।
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ এম

চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে পার্ক দে প্রাঁসে যখন গোলের উৎসব চলছিল তখন গ্যালারিতে বসে থাকা একজনের জন্য বেশ যন্ত্রনার। তিনি ভিনসেন্ট কোম্পানি। ডাগআউটে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বায়ার্ন মিউনিখের এই কোচকে মঙ্গলবার রাতে গ্যালারির মিডিয়া বক্সে বসে হজম করতে হয়েছে ৫-৪ গোলের হার। ম্যাচ শেষে কোম্পানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ডাগআউট থেকে দূরে থাকার এই অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে মোটেও ‘মজাদার’ ছিল না।
তিনটি হলুদ কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ডাগআউটে দাঁড়াতে পারেননি কোম্পানি। কানের ইয়ারপিস লাগিয়ে সহকারী অ্যারন ড্যাঙ্কসকে নির্দেশনা দিলেও নিজেকে বড্ড অসহায় মনে হয়েছে তাঁর। ম্যাচ শেষে প্রাইম ভিডিওকে কোম্পানি বলেন, ‘গ্যালারিতে বসে থাকা মোটেও আনন্দের কিছু নয়। আমার জীবনে এমনটা আর কখনো না ঘটলে আমি খুশি হব। ৮০ মিটার দূর থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।‘
আরও পড়ুন
| ‘ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ’, বায়ার্নকে হারিয়ে উচ্ছ্বসিত এনরিকে |
|
পিএসজি কোচ লুইস এনরিকে এই ম্যাচকে তাঁর কোচিং জীবনের সেরা ম্যাচ বলে মন্তব্য করেছেন। অতীতে এনরিকে কৌশলগত আলোচনার জন্য মাঝেমধ্যে স্বেচ্ছায় গ্যালারিতে বসতেন, কিন্তু কোম্পানি সেই ধারণার সাথে একমত নন। বেলজিয়ান এই কোচ বলেন, ‘আমি জানি না কেন তিনি এমনটা করেন। আমি নিজে কখনোই তা করব না।‘
ম্যাচের শুরুটা ভালো হওয়ায় গ্যালারিতে কোম্পানির মুখে হাসি দেখা গেলেও পিএসজি যখন ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, তখন বেশ বিবর্ণ দেখা যায় তাকে। তবে ৩ গোলে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে তাঁর দল লড়াইয়ে ফিরে ৪-৫ ব্যবধান করেছে তাতে খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করতে ভুল করেননি বেলজিয়ান এই কোচ।
নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোম্পানি আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে পুনরায় ডাগআউটে ফিরবেন। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ের চেয়েও আরও উত্তাল পরিবেশ তিনি মিউনিখে আশা করছেন। সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কোম্পানি বলেন, ‘মাদ্রিদ ম্যাচে যে উন্মাদনা ছিল, আমার তার চেয়েও বেশি কিছু চাই। মিউনিখে গ্যালারি যেন শান্ত না থাকে।‘
আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায়।

বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ৯ গোলের অবিশ্বাস্য লড়াই শেষে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে যেন ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। রেকর্ড ৫-৪ ব্যবধানের জয়কে কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ হিসেবে অভিহিত করেছেন স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড।
বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি-নেইমার জুনিয়র-লুইস সুয়ারেজদের নিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বাদ পাওয়া এনরিকে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচের তীব্রতায় অভিভূত। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি আমার জীবনে এত তীব্র গতির ম্যাচ আর দেখিনি। আমি তো এক কিলোমিটারও দৌড়াইনি, তবুও আমি ভীষণ পরিশ্রান্ত। জানি না খেলোয়াড়দের মনের অবস্থা এখন কী!’
আরও পড়ুন
| গ্রিজম্যানের রাজকীয় বিদায়ের লক্ষ্যেই লড়বে আতলেতিকো |
|
৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৪ গোল হজম করা নিয়ে সাধারণত কোচরা চিন্তিত থাকেন, কিন্তু এনরিকে সেসব নিয়ে ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘আজকে দলের কোনো খুঁত বা ভুল ধরার সময় নয়। আজ কেবল সবাইকে অভিনন্দন জানানোর দিন। আমরা যেমন জেতার দাবিদার ছিলাম, তেমনি ড্র করা কিংবা হারার সম্ভাবনাও ছিল। কোনো সন্দেহ নেই, এটিই আমার দেখা সেরা ম্যাচ।‘
আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগে বায়ার্নের মাঠে খেলতে হবে পিএসজিকে। প্রথম লেগ শেষে এগিয়ে থাকলেও কাজটা যে সহজ হবে না তা বেশ ভালো করেই জানেন এনরিকে। তাইতো ম্যাচ শেষে ছক কষা শুরু করে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ ‘স্টাফদের জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আমাদের জেতার জন্য কয়টি গোল করতে হবে বলে মনে করো?' তারা বলেছে, 'ন্যূনতম তিনটি।' বায়ার্ন মিউনিখ তাদের নিজেদের মাঠে আরও বেশি শক্তিশালী, তবে আমরা একই মানসিকতা নিয়ে খেলার চেষ্টা করব।‘
মঙ্গলবার রাতের এই ৫-৪ গোলের জয় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েছে। ফিরতি লেগেও যে রোমাঞ্চ ছড়াবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক গোলের ব্যবধান নিয়ে এগিয়ে থাকা প্যারিসিয়ানদের চোখ এখন সেই ম্যাচ জিতে টানা দ্বিতীয় বারের মতো ইউরোপ সেরার ট্রফি উচিয়ে ধরার আরও কাছে যাওয়া।

পার্ক দে প্রাঁসে গোল উৎসব হবে সেটা সহজ অনুমেয় ছিল। পরিসংখ্যান বলছিল, চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের আগে মৌসুমে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ ৩৮টি করে গোল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে। এবার তারা একে অন্যের বিপক্ষে গোল করেছে ৯টি। যার পাঁচটি পিএসজির, চারটি বায়ার্নের।
প্যারিসে গোল উৎসবের রাতে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্নের বিপক্ষে ৫-৪ ব্যবধানে জিতে ফিরতি লেগের জন্য প্রস্তুতিটা ভালোভাবেই সারল লুইস এনরিকের দল। তাছাড়া টানা পাঁচ ম্যাচ হারের পর বাভারিয়ানদের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল ফরাসি ক্লাবটি।
মঙ্গলবারের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বিরতির আগেই ৫টা গোল হয়। যার দুটি গেল পিএসজির জালে, তিনটা হজম করল বাভারিয়ানরা। বিরতির পর তাই দুই পাশের জালে ঢুকল আরও দুটি করে গোল। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে গোলপ্রসবা সেমিফাইনালের রেকর্ড গড়া ম্যাচে পিএসজি জিতল ৫-৪ গোলে।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাঁপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের ম্যাচের ৫৫ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় পিএসজি। মাঝমাঠ থেকে ভিতিনিয়ার বাড়ানো লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন আশরাফ হাকিমি। বক্সে তার পাঠানো বিপজ্জনক নিচু ক্রসটি উসমান দেম্বেলে বুদ্ধিদীপ্তভাবে ছেড়ে দিলে বল পান খিচা কাভারাস্কাইয়া। কোনো ভুল না করে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড।
পরের মিনিটে ব্যবধান ৫-২ করে ফেলে লুইস এনরিকের শিষ্যরা। বাঁ প্রান্ত থেকে দুয়ের বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন উসমান ডেম্বেলে। উপামেকানোর পায়ের ফাঁক দিয়ে নেওয়া তার নিখুঁত নিচু শটটি বাম দিকের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। বায়ার্নের কিংবদন্তি গোলরক্ষক নয়্যার কেবল চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। পিএসজির গোল উৎসব এখন পূর্ণতা পেল।
৬৪তম মিনিটে সেটপিস থেকে ব্যবধান কমাতে সাহায্যে করেন উপকোমানো। জশুয়া কিমিখের বুলেট গতির শট কেবল মাথা ছুঁইয়ে লক্ষ্যবেদ করেন ফরাসি সেন্টারব্যাক। পরের মিনিটে আরও একটি গোল করেন লুইস দিয়াজ। নিজেদের অর্ধ থেকে কেইনের লং রেঞ্জের শট নিয়ন্ত্রনে নিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। পরবর্তীতে ডান পায়ের কৌশলী শটে আদায় করেন গোল। সে সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা চার ম্যাচে জালের দেখা পেয়ে পেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫-৪ শেষ হয় ম্যাচ।
ফার্স্ট রেগে পিএসজি এগিয়ে থাকলেও অতিথি বায়ার্ন মাঠের দখলে এগিয়ে ছিঝল। প্রায় ৫৭ শতাংশ বল তাদের দখলে ছিল। ১২টি শট নিয়ে ৫টি লক্ষ্যে রাখে স্বাগতিকরা। ১০টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখে বায়ার্ন।

পার্ক দে প্রাঁসে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগের প্রথম গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পা থেকে। ম্যাচের প্রথমার্ধে ৫১ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে উসমান দেম্বেলের গোলে লিড নেয় পিএসজি।
এদিন ম্যাচের ১৬তম মিনিটে আলফোনসো ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে বায়ার্ন মিউনিখ। মাইকেল ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উইলিয়ান পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে গেলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে বাভারিয়ানদের লিড এনে দেন কেইন।
পেনাল্টি নেওয়ার সময় দৌড়ে এসে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট জাল কাঁপায়। গোলরক্ষক সাফোনভের কিছু করার ছিল না।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন আজ ৫৪ নম্বর গোলটি করেছেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন রবার্ট লেভানডভস্কির সমান্তরালে তিনি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন, আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন হ্যারি কেইন।

জমেও যেন জমছিল না। গুমোট এক আবহাওয়া আর একরাশ বিরক্তি ভর করেছিল পার্ক দে প্রাঁসে। প্রায় ৪৮ হাজার দর্শকের কম্পন তোলা মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত গোল ছিল যেন হাওয়াই মিঠাই। প্রথম ১০ মিনিট আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ ছাড়া কেটে যাওয়া পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচের প্রথমার্ধে গোল হয়েছে মোট পাঁচটি। যার তিনটি পিএসজির আর দুটি বায়ার্নের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন লিগের সেমিফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে যেন আগুন নিয়ে খেলেছে বায়ার্ন-পিএসজি। ম্যাচে ৪৯ শতাংশ বল দখলে ছিল পিএসজির, ৫১ শতাংশ বায়ার্নের। ৯টি শট নিয়ে তিনটি লক্ষ্যে রাখে ফরাসি জায়ান্টরা। সমান সংখ্যক বল লক্ষ্যে রাখে অতিথিরাও। দুটি করে বড় সুযোগ তৈরি করে দুদল। ক্লিয়ারেন্সে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন দু’দলের গোলকিপার। ১১টি ক্লিয়ারেন্স ছিল সাফনভের, ছয়টি নয়্যারের।
কিক অফ থেকে ম্যাচের দশম মিনিট পর্যন্ত অনেকটা নিষ্প্রভ ছিল ম্যাচ। এরপর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। ১৬তম মিনিটে ডেভিসের দুর্দান্ত হেডে ক্লিয়ারেন্স থেকে বল পেয়ে বায়ার্ন মিউনিখ দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে। ওলিসের বাড়ানো বলে লুইস দিয়াজ শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক তখনই পাচোর চ্যালেঞ্জে তিনি পড়ে যান এবং রেফারির বাঁশি সঙ্গে সঙ্গে।
সেখান থেকে পেনাল্টি আদায় করেন হ্যারি কেইন। প্রথমে দৌড়ে এসে কিছু থামেন ইংলিশ স্ট্রাইকার। এরপর তার ডান পায়ের নিচু শট কাপান জাল। কিছু করার উপায়ও ছিল না সাফনভের।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেইন তার ৫৪ নম্বর গোলটি পূর্ণ করেন দলকে লিড এনে দেওয়ার সময়। লিগে বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড় হিসেবে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচে গোল করার রেকর্ডে এখন তিনি রবার্ট লেভানডভস্কির কাতারে। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে লেভানডভস্কি টানা ৫ ম্যাচে গোল করেছিলেন। আজ কেইনও সেই মাইলফলক ছুঁলেন। একইসঙ্গে লিগের নকআউট পর্বে নিজের খেলা শেষ ৫টি ম্যাচেই গোল করার কৃতিত্ব দেখালেন কেইন।
ঠিক এক মিনিট পরই বড় ঝুঁকি এড়ান সাফনভ। কেইনের ক্রস কাজে লাগিয়ে বক্সে থাকা মাইকেল ওলিসে গোলবারে শট নেন। কিন্তু রাশিয়ান গোলকিপার তার সেই শট রুখে দেন।
২২তম মিনেট উসমান দেম্বেলে যে সহজ সুযোগ মিস করলেন, এর জন্য বহুদিন তাকে হতাশায় পুড়তেও হতে পারে। ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে কেবল তিনি পান বায়ার্ন গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যারকে। অথচ বারের বাইর দিয়ে শট নিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
সমতায় ফিরতি বেশি সময় নেননি খিচা কাভারাস্কাইয়া। বাঁ-পাশ থেকে একাই আক্রমণে ওঠেন জর্জিয়ান উইঙ্গার। ড্রিবলিং করে ডুকে পড়েন ডি বক্সে। এরপর স্তানিসিচকে বডি ডসে ঘায়েল করে বাঁকানো শটে কাঁপান জাল।
নিজেদের মাঠে ৩২তম মিনিটে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ফরাসি জায়ান্টরা। বাঁ-পাশের কর্নার থেকে দেম্বেলের হাওয়ায় ভাসানো শট দারুণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে বলের দিশা বদলে দেন জোয়াও নেভেস। যা সরাসরি জালে আশ্রয় নেয়। লিগে এটি তাঁর দ্বিতীয় গোল।
পিএসজিকে বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে দিল না বাভারিয়ানরা। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে স্কোরলাইন ২-২ করে ম্যাচে ফিরে অতিথিরা। আলেকজান্ডার পাভলোভিচের ছোট পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের প্রান্ত পর্যন্ত এগিয়ে যান মাইকেল ওলিসে। এরপর চমৎকার এক বাঁকানো শটে বল জালে পাঠিয়ে সাফোনভকে হতাশ করেন তিনি। বায়ার্নের দারুণ এক আক্রমণে ম্যাচে ফিরে সমতা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সময়ের দেম্বেলের কর্নার থেকে নেওয়া লো-ক্রস ব্লক করতে যান আলফোনসো ডেভিস। কিন্তু বলটি তার হাতে লাগে। এরপর পেনাল্টির জোরালো আবেদন করে পিএসজি। মুহূর্তে ভিএআরের সাহায্য নেন রেফারি। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের পক্ষে যায় সিদ্ধান্ত। সেখান থেকে গোল আদায় করেন দেম্বেলে। সবমিলিয়ে ৩-২ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।