২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফ্রান্সের ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন দিদিয়ের দেশম। সবাইকে চমকে দিয়ে দেশমের চূড়ান্ত এই স্কোয়াডে জায়গা পাননি বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্যারিসে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফএফ) সদর দফতরে দেশম স্কোয়াড ঘোষণা করেন। বাদ পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা।
সবচেয়ে বড় চমক ছিল কামাভিঙ্গার বাদ পড়া। স্কোয়াড ঘোষণার আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল যে ২৩ বছর বয়সী এই তারকা থাকছেন না, আর শেষ পর্যন্ত সেই গুঞ্জনই সত্যি হলো।
আবার ক্রিস্টাল প্যালেসের স্ট্রাইকার জিন ফিলিপ মাতেতা তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছেন। অন্যদিকে টটেনহ্যামে ধারে খেলতে গিয়ে বাজে মৌসুম কাটানো পিএসজি ফরোয়ার্ড কোলো মুয়ানি দল থেকে বাদ পড়েছেন।
স্কোয়াডে কিলিয়ান এমবাপে যথারীতি মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন। তবে তাঁর পাশাপাশি মাইকেল অলিসে, দেজিরে দুয়ে এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা রায়ান শেরকি এবার ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে নতুন ধার দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এন'গোলো কান্তে বর্তমানে তুরস্কের ক্লাবে খেললেও নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলার জন্য ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞতার বিচারে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের পরই ফ্রান্সের কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন দেশম। টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আগামী ১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২০১৮ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ 'আই'-তে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ ইরাক এবং নরওয়ে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সদস্যের ফরাসি স্কোয়াড:
গোলকিপার: মাইক মাইনান (এসি মিলান), রবিন রিসার (লেন্স), ব্রাইস সাম্বা (রেন)।
রক্ষণভাগ: লুকা দিনিয়ে (অ্যাস্টন ভিলা), মালো গুস্তো (চেলসি), লুকা হার্নান্দেজ (পিএসজি), থিও হার্নান্দেজ (আল-হিলাল), ইব্রাহিম কোনাতে (লিভারপুল), জুলেস কুন্দে (বার্সেলোনা), ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোয়া (ক্রিস্টাল প্যালেস), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ)।
মধ্যমাঠ: এন'গোলো কান্তে (ফেনারবাচে), মানু কোনে (এএস রোমা), আদ্রিয়েন রাবিয়ত (এসি মিলান), অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি (রিয়াল মাদ্রিদ), ওয়ারেন জাইরি এমেরি (পিএসজি)।
আক্রমণভাগ: মাগনেস আকলিউশ (মোনাকো), ব্র্যাডলি বারকোলা (পিএসজি), রায়ান শেরকি (ম্যানচেস্টার সিটি), উসমান দেম্বেলে (পিএসজি), দেজিরে দুয়ে (পিএসজি), ফিলিপ মাতেতা (ক্রিস্টাল প্যালেস), কিলিয়ান এমবাপে (রিয়াল মাদ্রিদ), মাইকেল অলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ), মার্কাস থুরাম (ইন্টার মিলান)।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৪:৪২ পিএম

মৌসুম শেষেই বার্সেলোনা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন রবার্ট লেভানডফস্কি। চুক্তি শেষ হওয়ায় কাতালান ক্লাবটিকে বিদায় জানাচ্ছেন ৩৭ বছর বয়সী এই পোলিশ ফরোয়ার্ড। ন্যূ ক্যাম্পের ক্লাবটির ইতিহাসে নিজের নামটা তিনি লিখিয়ে যাচ্ছেন একজন ‘কিংবদন্তি’ হিসেবেই।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বিদায়ের ঘোষণা দিয়ে লেভানডফস্কি লেখেন,
‘চ্যালেঞ্জ আর কঠোর পরিশ্রমে ঘেরা চমৎকার চারটি বছর কাটিয়ে এবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমার মনে হচ্ছে, ন্যু ক্যাম্পে আমার মিশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। চার মৌসুমে তিনটি লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আমি বিদায় নিচ্ছি।’
২০২২ সালে বায়ার্ন মিউনিখ থেকে বার্সার কঠিন এক সময়ে ক্লাবটিতে যোগ দেন লেভানডফস্কি। এরপর স্প্যানিশ ক্লাবের হয়ে ১৯১ ম্যাচে ১১৯টি গোল করেছেন তিনি। এই সময়ে বার্সাকে তিনটি লা লিগা এবং ২০২৫ সালের কোপা দেল রে জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছেন লেভা।
গত এক বছর বেশ কয়েকবার চোটের ধাক্কা খেতে হয়েছে এই লেভানডফস্কিকে। পোলিশ তারকা চোটের কারণে চলতি লা লিগায় মাত্র ১৫টি ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। গত সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ‘এল ক্লাসিকো’ জয়ের ম্যাচে শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমেছিলেন , যে জয়ে বার্সার লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়। তবে এর আগে ওসাসুনার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে তাঁর করা গোলটিই বার্সাকে শিরোপার একদম কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিল।
বিদায়ী বার্তায় কাতালান ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে লেভা আরও যোগ করেন,
‘বার্সা আজ তার নিজের জায়গায় (শীর্ষে) ফিরে এসেছে। প্রথম দিন থেকে ক্লাবের সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা কখনোই ভুলব না। কাতালুনিয়া সবসময়ই আমার হৃদয়ে বিশেষ স্থান জুড়ে থাকবে।’
লেভানডফস্কির বিদায়ের পর বার্সেলোনা ক্লাব কর্তৃপক্ষও তাদের অফিসিয়াল বিবৃতিতে এই স্ট্রাইকারকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে,
‘ধন্যবাদ রবার্ট লেভানডফস্কি, এই ক্লাবের জার্সিতে প্রতিটি গোল, প্রতিটি লড়াই এবং প্রতিটি জাদুকরী মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য। সে এখানে এসেছিল একজন তারকা হিসেবে, আর ক্লাব ছাড়ছে একজন জীবন্ত কিংবদন্তি হয়ে।’
আগামী রবিবার স্পটিফাই ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে বার্সেলোনার মাঠে লেভানডফস্কির শেষ ম্যাচ। এরপরের শনিবার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বার্সা তাদের এই মৌসুমের অভিযান শেষ করবে।
লেভানডফস্কির পরবর্তী ঠিকানা হতে পারে মার্কিন মুলুক। গত বছরের ডিসেম্বরে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব শিকাগো ফায়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পোলিশ এই গোলমেশিনকে লিগে আনার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ক্লাবটি।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান প্রধান কোচ আলভারো আরবেলোয়া জানিয়েছেন যে হোসে মরিনিয়ো যদি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং আগামী মৌসুমে ক্লাবের দায়িত্ব নেন, তবে তিনি খুশিই হবেন।
বার্নাব্যুতে নিজের প্রথম মেয়াদের ১৩ বছর পর ক্লাবের নতুন বস হওয়ার জন্য মরিনিয়ো এখন চূড়ান্ত আলোচনায় রয়েছেন। ৬৩ বছর বয়সী এই কোচ গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে পেতে আগ্রহী।
রোববার সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আরবেলোয়া বলেন,
‘একজন সাবেক মাদ্রিদ খেলোয়াড় এবং একজন মাদ্রিদিস্তা হিসেবে আমার কাছে হোসে মরিনিয়োই এক নম্বর। তিনি আমাদেরই একজন। তিনি যদি আগামী বছর ফিরে আসেন, তবে তাঁকে নিজের ঘরে ফিরে আসতে দেখে আমি খুব খুশি হব।’
জাভি আলোনসোর বিদায়ের পর গত জানুয়ারিতে রিয়ালের দায়িত্ব নেন আরবেলোয়া। কিন্তু ক্লাবটি এ সময় টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো কোনো বড় ট্রফি ছাড়াই শেষ করেছে।
এদিকে রিয়াল ওভিয়েদোর বিপক্ষে লস ব্লাঙ্কোসদের ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়ার পর কিলিয়ান এমবাপের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন আরবেলোয়া।
উরুর চোটের কারণে এমবাপে তাঁর দলের আগের দুটি ম্যাচ মিস করেছিলেন। যার মধ্যে গত সপ্তাহের এল ক্লাসিকোও ছিল। সেই ম্যাচটি জিতে বার্সেলোনা লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে। ওভিয়েদোর বিপক্ষে ম্যাচে যখন ফরাসি স্ট্রাইকার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন, তখন নিজের সমর্থকরাই তাঁকে উদ্দেশ্য করে দুয়ো ধ্বনি দেয়।
বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্লাবের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, এমনকি ‘এমবাপে আউট’ দাবির একটি অনলাইন পিটিশনে কোটি কোটি মানুষ স্বাক্ষর করেছে।
তবে শনিবার কোচ এই ঘটনাটিকে তেমন আমলে নেননি। আরবেলোয়া বলেন তাঁর সঙ্গে এমবাপের সম্পর্কও আগের মতোই আছে,
‘মাত্রই তাঁর (এমবাপে) সঙ্গে আমার দেখা হলো, আমি তাঁকে শান্ত থাকতে বলেছি। আমি বুঝি যে এই ধরনের বিষয়গুলো হেডলাইন তৈরি করে, তবে এটি আপনার ভাবনার চেয়েও অনেক বেশি স্বাভাবিক একটি ঘটনা। আমি নিজে একজন খেলোয়াড় ছিলাম। আমি জানি এই পরিস্থিতিতে তারা কেমন অনুভব করতে পারে। আমি বুঝতে পারছি যে বৃহস্পতিবার খেলতে না পেরে কিলিয়ান খুশি ছিল না, এবং আমি এটাই পছন্দ করি। সে যদি খেলতেই না চাইত, তবে আমি সেটা বুঝতাম না। তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আগের মতোই আছে।’

যেকোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারেরই পরম আরাধ্য স্বপ্ন থাকে ফুটবলের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপে খেলা। আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের ফুটবলারদের জন্য এই স্বপ্নের গভীরতা স্বাভাবিকভাবেই একটু অনেক বেশিই। ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ—এক চিরন্তন ও অবিচ্ছেদ্য আবেগের নাম। কিন্তু ফুটবল বিধাতা সবার ভাগ্যে সেই আনন্দ লিখে রাখেন না। বড় কোনো টুর্নামেন্টের ঠিক দ্বারপ্রান্তে এসে চোটের আঘাতে ছিটকে যাওয়ার নির্মম বাস্তবতাও রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগেও সেই একই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় দুঃশ্চিন্তা তারকা ফুটবলারদের চোট। আগামী সোমবার রিও ডি জেনিরোতে, ইতালিয়ান কোচ ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। আর সেলেসাওদের চূড়ান্ত দল ঘোষাণার আগে অভিজ্ঞ এই কোচের স্মৃতিতে ভেসে আসছে ১৯৮২ বিশ্বকাপে নিজের জীবনের এক চরম ট্র্যাজেডি। সেবার ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন আনচেলত্তি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইনজুরির কবলে পড়ে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেস্তে যায় তাঁর। আর সে বছরই ইতালি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ২১ বছর বয়সে রোমার হয়ে খেলার সময় প্রথম ইতালি জাতীয় দলে ডাক পান আনচেলত্তি। অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রুনো কন্তি, মার্কো তারদেল্লি, কায়েতানো শিরেয়া, জিয়ানকার্লো আন্তোনিওনি এবং ক্লাউডিও জেন্তিলের মতো কিংবদন্তিদের পাশাপাশি ইতালিয়ান মাঝমাঠের নিয়মিত মুখ হয়ে ওঠেন।
নিজের সেই ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির চার দশক পর, ইনজুরি আবারও আনচেলত্তিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। এlfর মিলিতাও, এস্তেভাও এবং রদ্রিগো—যাঁরা প্রত্যেকেই ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সম্ভাব্য খেলোয়াড় ছিলেন, তাঁরা সবাই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন।
ইনজুরির ভয়াবহতা জানার পরপরই এই ইতালিয়ান কোচ প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল-কে আনচেলত্তি বলেন,
‘চোট একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেরই অংশ। যখন আপনি এমন একটা নেতিবাচক ও কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাবেন, তখন আপনাকে সামনে তাকাতে হবে এবং পরবর্তী সুযোগের কথা ভাবতে হবে। আমি রদ্রিগো এবং মিলিতাওয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বলেছি যত দ্রুত সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠতে এবং সেলেসাওদের হয়ে পরবর্তী ম্যাচ ও আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে।’
১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ দিয়ে ইতালির জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আনচেলত্তির। ওই ম্যাচেই তিনি ‘আজ্জুরি’দের হয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম ও একমাত্র গোলটি করেন। তাঁর পারফরম্যান্স ছিল দারুণ নজরকাড়া। কিন্তু সে বছর আরও পাঁচটি ম্যাচ খেলার পরই ইনজুরিতে পড়েন এবং ১৯৮২ বিশ্বকাপ মিস করেন। বিশ্বজয়ী দলের অংশ হতে না পারলেও, সেই সময়টা নিয়ে মনে কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি তিনি।
ইতালির হয়ে ২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আনচেলোত্তি বলেন,
‘যখন আপনি চোটে পড়বেন, তখন অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাবেন। মানসিকভাবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করার এবং আরও পেশাদার হয়ে ওঠার এটাই সময়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছিল। তখন আমার বয়স ২১ বা ২২ বছর, আর চোটের কারণে আমাকে টানা দুই বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। ওই সময়টাতে আমি জীবনের অনেক বড় শিক্ষা পেয়েছিলাম।’
চোট কাটিয়ে ওঠার পর আনচেলত্তি তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। এর মধ্যে দুটি ছিল খেলোয়াড় হিসেবে (১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং অন্যটি ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ হিসেবে, যেখানে ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে পেনাল্টিতে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল ইতালি। শিরোপা না জিতলেও ফুটবল বিশ্বের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে তাঁর মনে জমিয়ে রাখা মধুর স্মৃতির কমতি নেই।
আনচেলত্তি আরও যোগ করেন,
‘যারা ফুটবল নিয়ে কাজ করে, তাদের জীবনে বিশ্বকাপ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই সময়টাকে পুরোপুরি উপভোগ করা উচিত। আমি ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে খেলেছি এবং ১৯৯৪ সালে সহকারী কোচ ছিলাম। এটা একটা দেশের জন্য যেমন বিশেষ মুহূর্ত, তেমনি এখানে চাপ সামলানোর একটা ব্যাপারও থাকে। আমাদের কাজ হলো সেই চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করা।’

উৎসবমুখর পরিবেশ ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ‘অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্টের’ দ্বিতীয় আসর। গতকাল ঢাকার একটি মাঠে জমকালো সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় দেশের করপোরেট জগতের বড় এই স্পোর্টিং ইভেন্ট। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) ব্যানারে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করে ‘নাটমেগ’।
এবারের টুর্নামেন্টে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি বহুজাতিক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সব মিলিয়ে ৫০টি ম্যাচের এই টুর্নামেন্ট করপোরেট অঙ্গনে টিমওয়ার্ক ও স্পোর্টসম্যানশিপের ব্যাপারটিও টের পাওয়া গেছে।
সবার নজর ছিল টুর্নামেন্টের মূল আকর্ষণ ‘কাপ ফাইনালের’ দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয় রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে দুই দলই চমৎকার রক্ষণাত্মক কৌশল প্রদর্শন করায় ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচের ভাগ্য। পেনাল্টি শুটআউটে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে ডিএইচএলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে রবি আজিয়াটা পিএলসি। ফাইনালে অনবদ্য অবদানের জন্য রবির শাকিব ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
দিনের শুরুতে ‘প্লেট ফাইনাল’ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল শেভরন বাংলাদেশ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচটি ট্রাইবেকারে গড়ায়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পক্ষে তূর্য এবং শেভরনের পক্ষে আশিক গোল করেন। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ‘সাডেন-ডেথ’ টাইব্রেকারে শেভরনকে হারিয়ে প্লেট শিরোপা জিতে নেয় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরা হন তূর্য।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফআইসিসিআইয়ের পরিচালক এম এইচ এম ফাইরোজ, নির্বাহী পরিচালক টিআইএম নূরুল কবির, রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের মার্কেটিং ডিরেক্টর মো. জুবায়ের উল ইসলামসহ অন্যান্য পার্টনার ও স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বক্তারা জানান, এই আয়োজন কেবল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট নয়, বরং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও পেশাদার সম্পর্ককে আরও জোরদার করার একটি দারুণ মাধ্যম।

ফুটবল ডিসিপ্লিন দিয়ে আজ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা শুরু হলো। অংশ নেয় ঢাকার ৮টি জেলার মোট ১৬টি দল। মোহাম্মদপুরের সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় নারায়ণগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ। ছেলে ও মেয়ে দুই বিভাগেই জয় তুলে নিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা। বালক বিভাগে কিশোরগঞ্জ ১-০ গোলে নারায়ণগঞ্জকে পরাজিত করে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে মেয়েদের ফুটবলে কিশোরগঞ্জ ৪-০ গোলে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পরাজিত করে শেষ চার নিশ্চিত করেছে।
শনিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজমুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মাহবুবুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র এবং ঢাকা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তাসহ অন্যরা।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানিয়েছেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করে তাদের জন্য উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান অতিথিরা। টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য সচিব সুমন কুমার মিত্র অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে জানান নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চল পর্যায়ে ৮ টি ইভেন্টে ৮ টি জেলার ১৩৬০ জন প্রতিযোগী, প্রশিক্ষক কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন। ফুটবলের পাশাপাশি বাকি ডিসিপ্লিনগুলো অনুষ্ঠিত হবে বিভিন্ন ভেন্যুতে।
আরও পড়ুন
| ক্যাস্ট্রোপের ইতিহাস, রেকর্ড বুকে নাম লেখানোর অপেক্ষায় সন |
|
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ স্লোগানকে ধারণ করে সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ২ মে থেকে হচ্ছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রতিযোগিতা। সিলেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।
জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শেষে বাছাইকৃতদের নিয়ে হচ্ছে দেশের ১০টি অঞ্চলের প্রতিযোগিতা। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ঢাকা জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে শনিবার থেকে শুরু হলো ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতা।
আগামী ২০ মে ২০২৬ তারিখ বিকাল ৪ টায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ঢাকা অঞ্চলের সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠিত হবে।