
এক মাসও হয়নি, ছিলেন একসাথে জাতীয় দলের ক্যাম্পে। এরপর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জিতেছেন নেশন্স লিগের শিরোপাও। অথচ নিয়তির নির্মম পরিহাসে দিয়াগো জতা পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুর খবর কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পর্তুগাল দলের দুই সাবেক সতীর্থ রুবেন নেভেস ও জোয়াও কানসেলো। তাদের ক্লাব আল হিলালের কোচ সিমোন ইনজাগি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন এই দুই ফুটবলার।
লিভারপুল ফরোয়ার্ড জতা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভা গত বৃহস্পতিবার স্পেনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মাত্র ২৮ বছর বয়সে তার এভাবে চলে যাওয়াটা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলকে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে। ক্লাব বিশ্বকাপে খেলতে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আল হিলালের সাথে থাকা নেভেস ও কানসেলো সেখানেই এই দুঃসংবাদটি পান। স্বাভাবিকভাবেই তাদের জন্য আবেগ ধরে রাখাটা কঠিনই হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন
| জতার মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েছেন নেভেস-কানসেলো |
|
কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এই ট্র্যাজেডি তাদের মানসিকভাবে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলেই সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন কোচ ইনজাগি।
“এটা আমাদের জন্য সবার জন্যই খুবই দুঃখের একটা দিন। সত্যি বলতে কি, এমন কিছু তো কখনোই হওয়ার কথা না। আমরা সবাই এই ট্র্যাজেডির ব্যাপারটা জেনেছি। রুবেন নেভেস ও জোয়াও কানসেলো দুজনেই জতার খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দিনটি আমাদের সবার জন্য খুব কঠিন ছিল। আমরা প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু দলের আবহ একেবারেই বদলে গেছে। এটা আসলেই হৃদয়বিদারক ঘটনা।”
জতার মৃত্যুর খবর প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন কানসেলো।
“আজ আমরা শুধু দুজন ফুটবলারের কথাই বলছি না। আজ তিনটি শিশু তাদের বাবাকে হারিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। একটি পরিবারের বাবা-মার দিন শুরু হয়েছে তাদের দুই ছেলেকে হারিয়ে। একজন স্ত্রী ঘুম থেকে জেগেছে, কিন্তু আর পাশে নেই তার স্বামী। আজ আমরা সবাই ঘুম থেকে উঠেছি শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে।”
গত বুধবার রাত থেকেই সংবাদমাধ্যমে আসছিল জতার দুর্ঘটনার খবরটি। দুর্ঘটনাটি ঘটে স্পেনের জামোরা প্রদেশের মহাসড়কে। জতা তার ভাই আন্দ্রেকে নিয়ে ল্যাম্বরগিনি চালাচ্ছিলেন। তবে আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে। এরপর খুব দ্রুতই তাদের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। নীরব সেই মহাসড়কে কারও সাহায্য ছাড়াই দুই ভাই আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন সেখানেই।
আরও পড়ুন
| ‘হৃদয়ের ডাক’ শুনে বার্সাকে হতাশ করে বিলবাওতেই থেকে গেলেন নিকো |
|
গত ২২ জুন জতা বিয়ে করেন শৈশবের প্রেমিকাকে। তাদের কোল জুড়ে রয়েছে তিনটে ফুটফুটে সন্তানও। এই গত সপ্তাহেই বিয়ের ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জতা পোস্ট করেছিলেন। জতার ভাই আন্দ্রেও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন। খেলতেন পর্তুগালের ২য় বিভাগের ক্লাব পেনাফিয়েলের হয়ে।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫১ পিএম

প্রীতি ম্যাচে নিজেদের মাঠে মিশরের মুখোমুখি হয়েছিল স্পেন। স্বাগতিক দর্শকদের থেকে পুরো সমর্থনই পাওয়ার কথা ‘লা রোজাদের’। তবে গতকাল গোলশূন্য ড্র হওয়া এই ম্যাচে দেখা গেল অপ্রত্যাশিত এক দৃশ্য। ম্যাচের প্রথমার্ধে গ্যালারি থেকে বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান আসতে থাকে, দর্শকদের কয়েক দফায় সতর্কও করা হয়।
বতর্মানে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা লামিনে ইয়ামালও একজন মুসলিম। দর্শকদের মুসলিম-বিদ্বেষী এমন আচারণে বেশ আঘাত পেয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তারকা ফুটবলার। সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ এক পোস্টে বার্সেলোনার উইঙ্গার লেখেন,
‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে আমরা “যে লাফ দেয় না সে মুসলিম” স্লোগানটি শুনেছি। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক এবং সহ্য করার মতো নয়।’
বার্সেলোনার এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে মিশরের জাতীয় সংগীত চলাকালীন সজোরে দুয়োধ্বনি দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। অনেক সমর্থক ‘যে লাফাবে না, সে মুসলিম‘ বলে স্লোগান দিচ্ছিল।
বিরতির সময় জায়ান্ট স্ক্রিনে একটি বিশেষ বার্তা প্রদর্শিত দেখা যায়। সেখানে সমর্থকদের উগ্রবাদী মন্তব্য ও বর্ণবাদী গান থেকে বিরত থাকার থাকার জন্য মাইকে বারবার নির্দেশ দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও একই সতর্কতা দেওয়া হলে দর্শকদের একটি অংশ উল্টো দুয়োধ্বনি দেয়।
ফুটবল উপভোগ করতে গিয়ে কোনো ধর্ম, বর্ণ, জাতির মধ্যে বিদ্বেষমূলক আচারণ কাম্য নয় সেটা মনে করিয়ে দেন ইয়ামাল,
‘আমি বুঝি সব সমর্থক এমন নয়, কিন্তু যারা এমন স্লোগান দেয় তাদের জন্য বলছি: ধর্মকে মাঠে মানুষকে উপহাস করার জন্য ব্যবহার করা আপনাকে অজ্ঞ এবং বর্ণবাদী বানায়। ফুটবল হলো উপভোগ করার এবং সমর্থন দেওয়ার খেলা, মানুষের পরিচয় বা বিশ্বাসের কারণে আঘাত করার নয়।’
শেষে ইয়ামাল লিখেন,
‘এই কথাগুলো বলে, যারা আমাদের সমর্থন করতে এসেছেন তাদের ধন্যবাদ। বিশ্বকাপে দেখা হবে।’
এই ঘটনায় দ্রুতই নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়ে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন লিখেছে,
'আরএফইএফ ফুটবলে বর্ণবাদের ঘোর বিরোধী ও স্টেডিয়ামের ভেতরে যেকোনো ধরণের অসদাচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সমর্থকদের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন,
‘আমি যেকোনো ধরণের ঘৃণা বা বর্ণবাদকে ঘৃণা করি- এটি পুরোপুরি অসহনীয়। আমি জানি না এ বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রোটোকল কী। তবে জায়ান্ট স্ক্রিনে সতর্কবার্তা দেখানো ও মাইকে ঘোষণা দেওয়াটা একদম সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
ইয়ামালের বার্সেলোনা ও স্প্যানিশ দুই সতীর্থ পেদ্রি ও জোয়ান গার্সিয়াও দশর্কদের এমন আচারণের নিন্দ জানান। ম্যাচ শেষে পেদ্রি বলেন, ‘এই স্লোগানগুলো আমাদের হতবাক করেছে। আমরা কোনো ধরনের বর্ণবাদী আচরণ সমর্থন করি না। এটি বন্ধ করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ আর বার্সার গোলকিপার গার্সিয়া বলেন,
‘যে কোনো বৈষম্যমূলক বার্তার আমরা সম্পূর্ণ বিরোধী। আমি স্লোগানগুলো শুনেছি এবং স্টেডিয়ামের ঘোষণাও শুনেছি।’

স্বপ্নের মতোই ছিল প্রথমার্ধ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটাও অনুকূলে ছিল বাংলাদেশের। ম্যাচের ৫০তম মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে অনূর্ধ্ব-২০ এএফসি এশিয়ান কাপে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া ম্যাচে ৫ গোলের চারটিই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। প্রথমার্ধে মোসাম্মৎ সাগরিকার গোলে বিরতিতে যায় পিটার বাটলারের দল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ মিনিটে তিনি আরও একটি গোল করে দলকে স্বস্তি দেন। তবে একের পর এক ভুলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে আফঈদা খন্দকারদের।
ম্যাচের ষোড়শ মিনিটে ফ্রি কিক আটকাতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিলি আক্তার। বল তার গ্লাভস গলে বেরিয়ে যাওয়ার পর দূরূহ কোণ থেকে কুরিসারা লিম্পাওয়ানিচের নেওয়া শট থাকেনি লক্ষে। এ যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ।
২৫তম মিনিটে স্বপ্নাকে তুলে পুজা দাসকে নামান কোচ বাটলার। একটু পরই থাইল্যান্ডের দূরপাল্লার একটি প্রচেষ্টা ফিস্ট করে ফেরান মিলি। আলগা বলে আরেকজনের চেষ্টা ব্লকড হয় রক্ষণে।
বাংলাদেশে সাফল্য আসে ম্যাচঘড়ির ৩৬তম মিনিটে। এসময় মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড। এই অর্ধে মাত্র একটি গোল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই উমেলা মার্মার ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল আদায় করেন সাগরিকা আক্তার। এরপরই ছন্দপতন শুরু হয় বাংলাদেশের।
৬৯তম মিনিটে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন সুরভী আক্তার। রেফারি সরাসরি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে থাইল্যান্ডের হয়ে একটি গোল শোধ করেন কুরিসারা।
৭৬তম মিনিটে সমতায় ফিরে স্বাগতিকরা। এবারের গোলটিও পেনাল্টি থেকে। ডি বক্সের ভেতর পিচায়াতিদাকে ফেলে দেন নবীরন খাতুন। স্পট কিক থেকে গোল করেন রিনায়াপাত।
সমতায় ফেরার তিন মিনিট পরই লিড আদায় করে থাইল্যান্ড। ৭৯ মিনিটে পিচায়াতিদার গোলে ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয় থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত এই ফলে ইতি ঘটে ম্যাচের।

২০২৬ বিশ্বকাপের ৪৮টি দল নিশ্চিত হয়েছে। প্লে-অফের রাউন্ড শেষে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও ইরাক বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে। বিপরীতে হৃদয় ভেঙেছে অনেক বড় দলেরও, যেখানে সবার আগে আসবে ‘হতভাগা’ ইতালির নাম। কেবল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সমর্থকই নয়, ‘আজ্জুরিদের’ ‘ট্রেবল’ ট্রেজেডি দেখে ‘ইশ’ বা ‘আহ’ বলতেই পারেন ফুটবল নিয়ে নুন্যতম জানাশোনা থাকা যেকেউ।
বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে দুঃস্বপ্নের হ্যাটট্রিক করে ইতালি। তাদের ছাড়া আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে হবে, সেই দুঃখে মন কাঁদছে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিরও। এই দেশের সঙ্গে যে নাড়ির সম্পর্কও আছে আলবিসেলেস্তা কোচের। তাই তো বিশ্বকাপে ইতালির অনুপস্থিতি বেশ পীড়া দিচ্ছে স্কালোনিকে।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাদ্যম ওলে’কে স্কালোনি বলেন, আমি কিছুটা ইতালীয় বংশের মানুষ… আমার দাদা-দাদি, প্রপিতামহ। ইতালির জন্য আমার মন খারাপ, কারণ আমি সেখানে খেলেছি, আর এটি এমন একটি দেশ যাদের আমি আর্জেন্টিনার ভাই মনে করি—যারা আমাদের প্রতি খুব স্নেহশীল। এছাড়া, এটি এমন একটি দেশ ও জাতীয় দল যা বিশ্ব ফুটবলে বিশাল প্রভাব রেখেছে এবং শক্তিশালীদের মধ্যে অন্যতম।’
ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ অংশে স্কালোনি ইতালির লিগ সিরি’আ’তে দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। এসএস লাজিও (২০০৭-২০০৮ ও ২০০৯-২০১৩, মাঝে ধারে ছিলেন) এবং আতালান্তা (২০১৩-২০১৫), যেখানে থেকে অবসরে যান আর্জেন্টিনার কোচ। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যে ম্যাচে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। সেই বছরই বিশ্বকাপ ইতালি চতুর্থ ও শেষবার চ্যাম্পিয়ন হয়।
স্কালোণি আরও বলেন, তাদের বিশ্বকাপে না থাকার বিষয়টি… আমাদের আর্জেন্টিনিদের কাছে মোটেই সহজ নয়। এটা খুব দুঃখজনক, বিশেষ করে যেভাবে হয়েছে—একটু কঠিন এবং অন্যায়ভাবে। ম্যাচের প্রথম দিকেই ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া, বাইরে খেলার চাপ সহ্য করতে হয়েছে।’
এর আড়ে রাশিয়া ২০১৮ বা কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল ইতালি। শেষবার তারা বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ২০১৪ সালে, কিন্তু সেবার গ্রুপপর্বই পেরোতে পারেনি তারা।
আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম অবস্থানে থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে নিজেদের জায়গা আগেভাগে নিশ্চিত করে গত বছরের ২৫ মার্চে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে তারা ‘জে’ গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া এবং জর্ডান।
লিওনেল মেসিরা প্রথম ম্যাচ খেলবে ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে। এরপর ২২ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার এবং ২৮ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলবে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের তখন ৩৬তম মিনিট। নিজেদের অর্ধ থেকে মোমিতা খাতুনের ক্রসের সূত্র ধরেই একাই আক্রমণে ওঠেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে তার সামনে ছিলেন কেবল আতিমা বুনপ্রাকানপাই। বুদ্ধিদৃপ্ত শটে থাইল্যান্ড গোলকিপারকে পরাস্ত করে লাল-সবুজ দলকে লিড এনে দেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড।
বুধবার ব্যাংককের থামমাসাত স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হওয়া সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে জেমস পিটার বাটলারের দল।।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠেছিল ম্যাচ। দুদল একাধিক সুযোগ পায়। তবে ৩৬তম মিনেট ডেডলক ভাঙে। বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার এক ডিফেন্ডারকে বল দেন। সে ক্রসে যায় মোমিতার পায়ে। সুযোগ বুঝে মোমিতা নেন লং পাস।
মোমিতার পাসের সূত্র ধরেই থাইল্যান্ডের চার ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে ছুটতে থাকেন সাগরিকা। একাই আক্রমণে ওঠেন তিনি। ডান-বাঁ-য়ে ছিল না কোনো সতীর্থ। তবে ব্লক তৈরিতে এগিয়ে আসেন স্বাগতিক গোলকিপার আতিমা। তাতে অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের। নিপুণ দক্ষতায় আদায় করেন গোল। তাতেই থাকাথামমাসাত স্টেডিয়ামে সংখ্যাগরিষ্টতায় এগিয়ে থাকা তাই সমর্থকরা খানিক সময়ের জন্য চুপ হয়ে যান।
প্রথমার্ধে বল পজিশনে ৪২ শতাংশ ছিল বাংলাদেশের দখলে। গোলের লক্ষ্যে শট ছিল দুটি। যার একটি কাজে লাগায় তারা।

স্বপ্নের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাতে ছিল ভয় ও শঙ্কার মিশ্রণ। পা হড়কালেই সবশেষ। তৈরি হতো ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে দেশে ফেরার উপলক্ষ। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেননি মোহাম্মদ মানিক। বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের বদৌলতে আরও একবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লাল সবুজ দল।
বুধবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে মানিকের একমাত্র গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। গত আসরে যাদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজ দল এবার তাদের সেমিফাইনালেই হারাল তারা।
ম্যাচের ১১ মিনিটেই বাংলাদেশকে উৎসব উপহার দেন মানিক। নিজে কর্নার কিক নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনায় কাজে লাগান মুর্শেদ আলী। তার বাড়ানো ক্রসে ডি-বক্সে জটলার ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন মানিক। তার এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ডাগআউট।
নেপালের বিপক্ষে গোল এবং জয় মানিক তার অসুস্থ মাকে উৎসর্গ করেছেন। ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘সর্বপ্রথম আ্ল্লাহ তা’লার কাছে অশেষ শুকরিয়া যে, আমরা ফাইনালে যেতে পেরেছি। ম্যচাটি ছিল আমার মায়ের জন্য। মা অসুস্থ। তাকে আমি এই ম্যাচ উপহার দিয়েছি।’
ফাইনালে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ অপর সেমিফাইনালের জয়ী দল। শিরোপার লড়াইয়ের আগে মানিক দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন,
‘আমরা যেন ট্রফি নিয়ে ফাইনাল জিততে পারি। ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’