৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম

গত ৪ জানুয়ারি শেষ হয় বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের শুরুর দিন তারিখ প্রকাশের পরও জাতীয় নির্বাচনের কারণে স্থগিত করা হয় ঘরোয়া ফুটবল। আজ শনিবার ছিল মধ্যবর্তী দলবদলের শেষ দিন। এ দিন বেশ কিছু চমক নিয়ে সামনে এসেছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। মোট ৯ বিদেশি ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে গোপীবাগের ক্লাবটি।
ইংল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশী সেন্টার ডিফেন্ডার ইকরামুল ক্যাসপার হককে দলে ভিড়িয়ে ‘ধামাকা’ সাইনিং সম্পন্ন করেছে ব্রাদার্স। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ক্যাসপার গত বছরের জুনে জাতীয় স্টেডিয়ামে ট্রায়ালের সময় প্রথম সবার নজর কাড়েন। তাঁর শারীরিক গঠন, এরিয়াল ডমিন্যান্স এবং রক্ষণভাগের দক্ষতা কোচদের মুগ্ধ করেছিল।
গত অক্টোবরে বাংলাদেশী পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ক্যাসপার ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি টুর্নামেন্টে প্রতিভার প্রমাণ দেন। এখন নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় তিনি বিএফএলে অভিষেকের অপেক্ষায়। তাঁর অন্তুর্ভূক্তি ব্রাদার্স ইউনিয়নের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ করে তুলবে এমনটাই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
ক্যাসপারের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ম্যানেজার আমের খান। ক্লাব সমর্থকদের জন্য এত বড় ধামাকা উপহার দিয়ে জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলার বলেন,
‘আমরা পাকিস্তান জাতীয় দলের ৫জন এবং গিনির তিন ফুটবলারের সঙ্গে সাইনিং করেছি। তবে ছেড়ে দিতে হয়েছে নেপালের ফুটবলারদের। ক্যাসপারের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন। এখন আনুষ্ঠানিক একটা ছাড়পত্র পেলেই হবে। তবে এটা এমন কোনো বিষয় না।’
ক্যাসপারের সঙ্গে সাইনিংয়ের পাশাপাশি ব্রাদার্স তাদের বিদেশি খেলোয়াড়দের তালিকাতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। ব্রাজিলিয়ান মার্কোস রুডওয়্যারে এবং আইভোরিয়ান দিদিয়ের ব্রসোকে দল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে সেনেগালের ডিফেন্ডার মোহামেদ বেকায়ে দিয়ারা দলে টিকে গেছেন। এছাড়া ক্লাবটি গিনি থেকে তিন নতুন খেলোয়াড় যুক্ত করেছে- ফরোয়ার্ড কারফালা কুয়াতে, মামুদু কোন্দে এবং ব্যারি ইব্রাহিমা।
এছাড়া ব্রাদার্স ইউনিয়ন দলে ভিড়িয়েছে পাঁচজন পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে। যারা হলেন শায়াক দোস্ত, গাজী, মুহাম্মদ উমর হায়াত, আব্দুল্লাহ শাহ এবং হায়ান খাত্তাক। এই পাঁচজনই পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের নিয়মিত সদস্য। তারা মূলত প্রথম পর্বের চারজন নেপালি খেলোয়াড়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন, যারা সময়সূচী সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। ফুটবল লিগের নিয়মানুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার ৫জন ফুটবলারকে ‘স্থানীয়’ কোটায় খেলাতে পারে।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিগের প্রথম পর্ব শেষে ৯ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে। তাদের ঝুলিতে আছে ২ জয়, ৩ ড্র এবং ৪ হার। ক্যাসপার হকের মতো নতুন তারকাদের অন্তর্ভুক্ত করে ক্লাবটি এখন বিএফএলের দ্বিতীয় পর্বে নিজেদের অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে মাঠে নামবে।
No posts available.
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। এমনিতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না লেস্টার সিটি। দলটির দুশ্চিন্তা বাড়ে ক'দিন আগে ইনজুরির কারণে হামজা চৌধুরীর ছিটকে পড়ায়। এবার তো আরও বড় ধাক্কা খেল ক্লাবটি। আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে লেস্টারের ছয় পয়েন্ট কাটা হয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত কার্যকরে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ১৭তম স্থান থেকে ২০তম স্থানে নেমে গেছে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা ২৪ দলের মধ্যে লেস্টারের অবস্থান যদিও অবনমন অঞ্চলে থাকা তিন দলের ওপরে। অবনমন অঞ্চলে সবার উপরে থাকা ওয়েস্ট ব্রুমের পয়েন্টও সমান ৩২। এবং এক ধাপ উপরে থাকা ব্ল্যাকবার্ন রোভার্সের পয়েন্টও ৩২। তবে গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় দুই ধাপ উপরে আছে হামজার ক্লাব।
২০২৩–২৪ মৌসুম পর্যন্ত তিন বছরের জন্য লাভ ও স্থায়িত্ববিষয়ক (পিএসআর) নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের মে মাসে লেস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার ক্লাবটিকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।
গত মৌসুমে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ থেকে অবনমন হয় লেস্টার সিটির। বর্তমানে স্থায়ী কোনো কোচ নেই তাদের। এ বছরের জানুয়ারিতে মার্তি সিফুয়েন্তেসকে বরখাস্ত করার পর ভারপ্রাপ্ত কোচ অ্যান্ডি কিংয়ের অধীনে চলছে লেস্টার।
এক বিবৃতিতে লেস্টার সিটি এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে এবং একে 'অসামঞ্জস্যপূর্ণ' বলেও মন্তব্য করেছে।
আগামী শনিবার রাতে লিগ ম্যাচে বার্মিংহাম সিটির বিপক্ষে মাঠে নামবে লেস্টার। ৩০ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৩তম অবস্থানে আছে বার্মিংহাম।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের মিউনিখ ক্লকের কাঁটা যখন থামে, তখন শুধু সময়ই নয়—থেমে যায় একটি ক্লাবের হৃদস্পন্দন। প্রতি বছরের মতো এবারও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে মিউনিখ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের। আধা ঘণ্টার এই নীরব স্মরণানুষ্ঠান শুরু হবে শুক্রবার স্থানীয় সময় বেলা ১২টা ৪৫ মিনিট।
১৯৫৮ সালে ইউরোপিয়ান কাপের ম্যাচ খেলে বেলগ্রেড থেকে ফেরার পথে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২৩ জন যাত্রী। যাদের মধ্যে ছিলেন ম্যান ইউনাইটেডের আটজন তরুণ ফুটবলার। তারা শুধুই খেলোয়াড় ছিলেন না—ছিলেন একটি স্বপ্নের প্রতীক, ‘বাসবি বেবস’ নামে পরিচিত এক উদীয়মান প্রজন্ম।
মিউনিখ ক্লকের নিচে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণ কেবল অতীতকে মনে করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আত্মপরিচয়ের অংশ। ক্লাবের কোচ ও সাবেক খেলোয়াড় মাইকেল ক্যারিক বলেন, মিউনিখের ইতিহাস এখানে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গেই অনুভব করা যায়।
তিনি বলেন, “আপনি যখন এখানে আসেন, তখন ইতিহাস আপনাকে ঘিরে ধরে। এখানে খেললে, কোচিং করালে বা কাজ করলে বুঝতে হয়—আমরা শুধু বর্তমানের মানুষ নই। আমাদের আগে যারা ছিলেন, তাদের মূল্যবোধ ও দায়িত্ব বহন করাই এই ক্লাবের সংস্কৃতি।”
ক্যারিকের মতে, মিউনিখ শুধু একটি ট্র্যাজেডি নয়—এটি ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। তিনি বলেন, “মিউনিখই সম্ভবত এই ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায়। দুর্ঘটনার পর ম্যান ইউনাইটেড যেভাবে আবার দাঁড়িয়েছিল, সেটাই আমাদের শেখায়—এই ক্লাব কখনও হার মানে না।”
আরও পড়ুন
| আর্সেনালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রসেনিয়রের |
|
ম্যান ইউনাইটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যালেক্স ফার্গুসনের কথাও স্মরণ করেন তিনি। ক্যারিক জানান, ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার সময়ই স্যার অ্যালেক্স তাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন—মিউনিখ শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, এটি বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “এই ইতিহাসের চারপাশে থাকলে আবেগ নিজে থেকেই চলে আসে। শনিবার স্টেডিয়ামের ভেতরেও আমরা সেটা অনুভব করব।”
বিমান দুর্ঘটনায় ইউনাইটেড হারায় তাদের খেলোয়াড় রবার্ট ব্রুনি, মার্ক জোনস, ডানকান এডওয়ার্ডস, টমি টেইলর, এডি কোলম্যান, লিয়াম হুইলান, ডেভিড প্রেগ এবং জিওফ বেন্টকে। দলের কোচ ম্যাট বাসবি সে দুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে সে ঘটনা মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল তাকে। ফলে ফুটবল থেকেও তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন।
মিউনিখের সেই দিনটি আজও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিটি প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেয়—ফুটবল কেবল গোল আর ট্রফির গল্প নয়। এটি স্মৃতি, শোক, সাহস আর পুনর্জন্মের গল্প। আর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের মিউনিখ ক্লকের নিচে দাঁড়িয়ে, প্রতি বছর সেই গল্পটাই নতুন করে বলা হয়—নীরবে, সম্মানের সঙ্গে।

চেলসি ম্যানেজার লিয়াম রসেনিয়র নিজের সাফল্যের পথ ধরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আর্সেনালের কাছে দুইবারের পরাজয় তাকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে। সাবেক স্ট্রাসবুর্গ ম্যানেজারের অধীনে চেলসির ৮টি ম্যাচের মধ্যে দুইটি ছিল কারাবাও কাপ সেমিফাইনালের লেগ। উভয় লেগে হেরেছে দ্য ব্লুজরা। মঙ্গলবার রাতে এমিরেটস স্টেডিয়ামে কাই হাভার্টজের ৯৭ মিনিটের গোল স্বপ্নভঙ্গ করেছে চেলসির।
ম্যাচের পর রসেনিয়র বলেন, “আমি দেখতে পাচ্ছি আমাদের প্রথম লেগ থেকে দ্বিতীয় লেগে পরিষ্কার উন্নতি হয়েছে। হ্যাঁ, হারতে কষ্ট হয়—আপনি চাইতেন আমরা পরবর্তী ধাপ পার হই। আমাদের শুধু আরও উন্নতি করতে হবে—যা আমি স্পষ্টভাবে দেখছি।”
শনিবার প্রিমিয়ার লিগে ওলভসের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চেলসি। রসেনিয়র কারাবাও কাপ ও আর্সেনালের ম্যাচের একটি ঘটনা নিয়েও কথা বলেন।
আরও পড়ুন
| ফাইনালে ভারত বলেই বেশি আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ অধিনায়ক |
|
তিনি জানান, ওয়ার্ম-আপ চলাকালীন আর্সেনালের কিছু খেলোয়াড় চেলসির সাইডে ঢুকেছিল, যা তিনি অনুচিত মনে করেছিলেন। ঘটনার সময় রসেনিয়র তার কোচিং স্টাফের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রথমে মনে করা হয়েছিল তিনি খেলোয়াড়দের জন্য রেগে ছিলেন, তবে পরে রসেনিয়র নিশ্চিত করেন, খেলোয়াড়দের নয়, তার কোচিং স্টাফের ওপরই হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
রসেনিয়র বলেন, “আমি সবসময় শ্রদ্ধাশীল। ওয়ার্ম-আপ চলাকালীন আপনারা আপনার সাইডে থাকবেন, অন্য দল তাদের সাইডে। আমি কখনও আমার দল বা কোচদের বলিনি বিপক্ষের সাইডে ঢুকতে। সেই মুহূর্তে মনে করিনি তারা যেখানে ছিল, তা ঠিক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “তারা আমাদের খেলোয়াড় ও স্টাফের ওয়ার্ম-আপে বাধা দিচ্ছিল। তাই আমি (হয়তো ভদ্রভাবে নয়) বলেছিলাম যেন তারা নিজেদের সাইডেই থাকে। আমি মনের খেলা খেলতে আসিনি। এটা শুধু আমার মনে যা ঠিক এবং শ্রদ্ধাশীল। আশা করি তারা তা মেনে চলবে, এবং অন্য দলগুলোরও একইভাবে চলা উচিত।”

লিগ পর্বের তিন ম্যাচে শতভাগ জয়। ৯ পয়েন্ট পেয়ে অপরাজিত হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। ভুটান ও নেপালকে হারানোর আগে বাংলাদেশের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় ভারত। ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী দেশটি।
নেপালে আগামী শনিবার সাফের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এই প্রতিযোগিতার সর্বশেষ ফাইনালেও খেলেছিল দুই দল। ২০২৪ সালে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস সেই ফাইনাল গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে যুগ্মভাবে চ্যাম্পিয়ন হয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশ।
আরেকটি ফাইনালে মাঠে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ চায় শিরোপাটা নিজেদের করে নিতে। আজ বাফুফের (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) পাঠানো ভিডিও বার্তায় সেই কথাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস। বলেছেন, 'আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি; তাদেরকে (ভারত) হারাতে পারবো এবং চ্যাম্পিয়ন ট্রফি বাংলাদেশে নিয়ে ফিরবো ইনশা আল্লাহ। আমরা মরণপণ চেষ্টা করবো যেন ট্রফিটা বাংলাদেশে নিয়ে যেতে পারি।'
প্রতিযোগিতায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আলপি আক্তার ও অর্পিতার গোলে ভারতকে হারায় পিটার বাটলারের দল। ওই ম্যাচে হারানোর পর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফাইনাল বলে বেশি জোর দিয়ে বলতে পারছেন বলে জানান অর্পিতা, 'আমরা ফাইনালে ভালো কিছু করবো। যেহেতু ভারতকে আমরা একবার হারিয়েছি, আবার তাদের সঙ্গে আমাদের ফাইনাল খেলা। তো আমাদের মধ্যে আলাদা একটা এনার্জি কাজ করছে।'
বাংলাদেশ দলের পরিস্থিতি এবং দলের মনোভাব ইতিবাচক। দলে কোনো ইনজুরি প্রভাব নেই বলেও জানা গেছে। আগামী পরশু তাই পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

আসন্ন বিশ্বকাপে কী নেইমার খেলবেন? অমীমাংসিত এই প্রশ্ন বেশ পীড়া দিচ্ছে ব্রাজিল সমর্থকদের। সান্তোসের এই তারকা নিজেও জানিয়েছেন, সম্ভবত শেষবারের মতো তিনি বিশ্বকাপে খেলতে চান। তবে সেলেসাওদের হয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তন এখনো অনিশ্চিত, আর এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের এক কিংবদন্তি সোজাসাপ্টা মন্তব্য করে বলেছেন—নেইমার না থাকলে ব্রাজিল হয়ে যাবে ‘আর দশটা দলের মতোই সাধারণ একটি দল।’
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতানো রোমারিও দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আইকনিক ব্যক্তিত্ব। দুইবার কোপা আমেরিকা ও একবার কনফেডারেশনস কাপজয়ী সাবেক বার্সেলোনা ও ভ্যালেন্সিয়া ফরোয়ার্ডের বিশ্বাস, বর্তমান ব্রাজিল দলের কেন্দ্রবিন্দু এখনও নেইমারই। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়ার মতো উঠতি তারকা নয় বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন নেইমার, এমনটাই মনে করছেন রোমারিও।
ব্রাজিলের ম্যাগাজিন ‘ভেজা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার বিশ্বকাপ মিস করলে তার প্রভাব কেমন পড়বে এ নিয়ে রোমারিও বলেন, ‘নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য অবশ্যই বড় ধাক্কা হবে। ষষ্ঠ শিরোপা তখন আরও দূরে সরে যাবে। আমরা শুধু আশা করতে পারি সে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে এবং নিজের সবটুকু দিতে পারবে।’
আরও পড়ুন
| বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় রোনালদো, আল নাসর ছাড়ার ইঙ্গিত |
|
নেইমারের ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তা মেনে নিলেও রোমারিও জোর দিয়ে বললেন, শতভাগ ফিট না থাকলেও সাবেক বার্সেলোনা-পিএসজি তারকা ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে সক্ষম, ‘সে পুরোপুরি ফিট থাকবে কি না জানি না, কিন্তু নেইমার যদি ৭০ শতাংশ ফিটও থাকে, তাতেই যথেষ্ট—সে তখনও দলকে সাহায্য করতে পারে, পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’
রোমারিও আরও যোগ করেন, ‘আর নেইমার ছাড়া জাতীয় দল দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর দশটা দলের মতোই হয়ে যায়।’
এদিকে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, নেইমার বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনায় থাকবেন কেবল তখনই, যখন তিনি পুরোপুরি ফিট থাকবেন। অবশ্য ব্রাজিলের কোচের সঙ্গে এ জায়গায় একতম নন রোমারিও, কিংবদন্তি এই ফুটবলার মনে করেন শতভাগ ফিট না থাকলেও নেইমার ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর থেকে প্রায় আড়াই বছর কেটে গেছে, নেইমারকে ব্রাজিলের জার্সিতে দেখার অপেক্ষা কেবলই বেড়েছে সমর্থকদের। এই সময়ে মাঠের ভেতরে-বাইরে সেলেসাও দলে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন—নেতৃত্বে বদল হয়েছে, আর আগের মতো আধিপত্যও অনেকটাই কমে গেছে।
নেইমারবিহীন সময়ে ব্রাজিল মোট ২৬টি ম্যাচ খেলেছে—প্রীতি ম্যাচ, ২০২৪ কোপা আমেরিকা এবং কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব মিলিয়ে। এই সময়ের ফলাফল ছিল ১১টি জয়, ৮টি ড্র এবং ৭টি হার। পাশাপাশি কোপা আমেরিকায় উরুগুয়ের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট টেবিলে ব্রাজিল শেষ করেছে পঞ্চম স্থানে; আগের ফরম্যাট হলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির প্লে-অফ খেলতে হতো।