
ব্রাজিলিয়ান সিরি’আতে রেলিগেশন জোনের কিনারায় দাঁড়িয়ে সান্তোস। রোববার কোরিটিবার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে হেরে পয়েন্ট টেবিলের ষোড়শ (১৬তম) অবস্থানে নেমে গেছে তারা। দলের এমন বড় হারের দিনে নিও কুইমিকা অ্যারেনায় ঘটে গেছে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিতর্কিত ঘটনা।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে খেলোয়াড় পরিবর্তনের বিষয়টি ভুল বোঝেন চতুর্থ রেফারি। কোচিং স্টাফের পরিকল্পনার বাইরে ভুলবশত নেইমার জুনিয়রকেই মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার সংকেত দেন তিনি। রেফারির এমন সিদ্ধান্তে মাঠেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় ব্রাজিলিয়ান এই তারকাকে।
প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সরাসরি ক্যামেরার সামনে চলে যান নেইমার। আকার-ইঙ্গিতে বিশ্ববাসীকে দেখানোর চেষ্টা করেন, তাকে মাঠ থেকে উঠিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ ভুল ছিল।
নেইমার মাঠে থাকলে শেষ মুহূর্তে সান্তোসের ভাগ্য বদলাত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কারণ ততক্ষণে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তাঁর দল। তবে সান্তোসের জার্সিতে নেইমার ছন্দে ছিলেন। এই ম্যাচের আগের তিন ম্যাচেও দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর নামের পাশে।
সান্তোসের জন্য এই হার অনেক বড় একটি ধাক্কা। পয়েন্ট টেবিলের ১৭তম স্থানে থাকা গ্রেমিও যদি তাদের পরের ম্যাচে জয় পায়, তবে সান্তোস সরাসরি রেলিগেশন জোনে পড়ে যাবে।
আগামীকাল (সোমবার) ব্রাজিলের ২০২৬ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তার ঠিক আগ মুহূর্তে নেইমারকে ঘিরে মাঠের এমন নাটকীয় পরিস্থিতি সে দেশের ফুটবল অঙ্গনে বেশ উত্তাপ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, দল ঘোষণার আবহে এই ঘটনার রেশ কতদূর গড়ায়।
No posts available.
১৭ মে ২০২৬, ৩:২০ পিএম

ক্রিস কোলম্যান, নাকি বার্নড স্টর্ক? বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে হাভিয়ের কাবরেরার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ফুটবলপ্রেমী এবং সমর্থকেরা প্রত্যাশায় ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ কোলম্যান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) কিংবা ক্রীড়া মন্ত্রণালয়েরও চাওয়া অভিন্ন।
দুইয়ে দুয়ে চার মিললেও জামাল ভূঁইয়া ও হামজা চৌধুরীদের নতুন কোচ নিয়োগে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বেশ। অথচ কোচ ঘোষণার নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৫ মে। দুদিন পেরিয়ে গেলেও নিশ্চয়তা নেই, কবে কখন আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাফুফের পক্ষ থেকে কোচ নিয়োগের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া মিললেও ঘোষণা না আসার পেছনে ইন্টারন্যাশনাল ফরমালিটিজ এবং কোলম্যানের এজেন্টের সঙ্গে বাফুফের বোঝাপড়ার বিষয়টি সামনে এনেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রবিবার ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আমিনুল জানিয়েছেন, কোলম্যানকে কোচ হিসেবে পেতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। তবে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাওয়া যাবে কি না, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে তার এজেন্টের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ওপর।
তিনি বলেন,
‘আমি যতটুকু শুনলাম, আমরা যাকে কোচ হিসেবে নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, তিনি কোলম্যানই। তার বিষয়ে ফেডারেশন যে সহযোগিতা চেয়েছে, তা করতে আমরা প্রস্তুত।’
বাফুফের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, এজেন্টের সাথে এখনো চূড়ান্ত বোঝাপড়া শেষ হয়নি। তাই কোলম্যানকে বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলে শুনলাম তার যে এজেন্ট রয়েছে, তার সঙ্গে বোঝাপড়া এখনও শেষ হয়নি। সেটা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে আসলে কোলম্যানকে শেষ পর্যন্ত পাব কি না। তবে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কোলম্যানকেই চায়। যদি কোনো কারণে এজেন্টের সাথে আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে বিকল্প কোচের বিষয়েও ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে।’
বাংলাদেশের কোচ হতে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ২৩০টি আবেদনপত্র জমা পড়ে বাফুফেতে। বাছাই ধাপ পেরিয়ে সেখান থেকে তালিকাটি ১১ জনে নামিয়ে আনা হয়। এখান থেকেই একজনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
জাতীয় দল কমিটির সর্বশেষ (১৩ মে) সভার সূত্রমতে, ওয়েলস জাতীয় দলের সাবেক কোচ ক্রিস কোলম্যান বর্তমানে কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। গ্যারেথ বেলদের মতো তারকাদের সামলানো কোলম্যানের কোচ হিসেবে রিয়াল সোসিয়েদাদ, সান্ডারল্যান্ড ও ফুলহ্যামের মতো ক্লাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
কোলম্যানের পাশাপাশি সমানভাবে আলোচনায় আছেন হাঙ্গেরি জাতীয় দলের সাবেক জার্মান কোচ বার্নড স্টর্ক। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ১৪৬টিসহ বুন্দেসলিগায় ১৭০টি ম্যাচ খেলা সাবেক এই ডিফেন্ডার হাঙ্গেরি ও কাজাখস্তানের কোচ হিসেবেও কাজ করেছেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আকাশে যে কালো মেঘ জমেছিল তা সরে গেছে অনেকটা। ২০২৫-২৬ মৌসুমের শুরুতে হাপিত্যেশে থাকা ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবে এখন উৎসব আমেজ। কোনো মেজর ট্রফি না জিতলেও জয়ের ধারাবাহিকতায় এক ধরনের স্বস্তি বিরাজমান ক্লাবটিতে। এসবের মূলে ম্যানেজার মাইকেল ক্যারিক ও তার অপরাজেয় দল।
রবিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ওল্ড ট্রাফোর্ডে আরও একটি ম্যাচ নিজেদের করে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। মাইকেল ক্যারিকের দল এই যাত্রায় হারাল নটিংহ্যাম ফরেস্টকে। ঘরের মাঠে পেরেইরার দলকে ৩-২ গোলে হারাল তারা।
প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের আরও একটি ম্যাচ থাকলেও ওল্ড ট্রাফোর্ডে শেষ বারের মাঠে নামলেন ক্যাসিমিরো। নতুন মৌসুমে ব্রাজিলিয়ান তারকাকে দেখা যাবে নতুন কোনো ক্লাবে। ঘরের মাঠে তার বিদায়ী ম্যাচ রাঙাল ম্যান ইউনাইটেড।
লুক শ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধের দুই দল চারটি গোল করে। শুরুতেই মোরাতার গোলে সমতায় ফেরে নটিংহ্যাম। তার ঠিক দুই মিনিট পর ম্যাথুস কুনহার গোলে লিড নেয় ইউনাইটেড। বাকি দুই গোলের একটি ৭৬তম মিনিটে দেন ব্রায়ান এমবাউমো এবং দুই মিনিট পর শেষটি গিবস হোয়াইটের পা থেকে। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে তৃতীয়স্থান আরও মজবুত হলো রেড ডেভিলদের।
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে লুক শ’র গোলে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ডি বক্সের দিকে ঠেলে দেওয়া ব্রুনো ফার্নান্দেসের বল ঠিকঠাক ক্লিয়ার করা সম্ভব হয়নি। তখনই বলের নিয়ন্ত্রণ নেন শ। এই লেফট-ব্যাক প্রথমে ওয়ান-টাচ শট নেওয়ার অঙ্গভঙ্গি করলেও আসলে বলটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ নিখুঁত এক শটে পোস্টের নিচের ডান কোণ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। গোলরক্ষক সেলস কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মোরাতার গোলে সমতায় ফেরে ফরেস্ট। তার ঠিক দুই মিনিট পর ফের এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। কুনহার সেই গোলের পর নটিংহ্যাম কফিনে আরেকটি পেরেক ঠোকেন এমবাউমো। ফার্নান্দেসের অ্যাসিস্টে পাওয়া সেই গোলের মিনেট দুয়েক পর নটিংহ্যামের হয়ে গিবস হোয়াইট একটি গোল শোধ করেন।

২০২২ কাতারে বিশ্বকাপ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) জন্য ছিল নিজেদের মেলে ধরার এক দারুণ বিজ্ঞাপন। সেবার ১১টি ভিন্ন দেশের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছিলেন ৩৬ জন এমএলএস ফুটবলার। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে পুরোপুরি। এবার ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে এমএলএস আরও বড় ধামাকা দেখাতে প্রস্তুত। এবার রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ৫০ এর বেশি এমএলএস তারকা বিশ্বমঞ্চে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।
নিশ্চিতভাবেই এটি আমেরিকার ঘরোয়া ফুটবলের জন্য দারুণ এক সুসংবাদ। বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ফুটবলকে প্রতিষ্ঠিত করার যে লড়াই তারা দীর্ঘদিন ধরে করছে, এটি তারই এক সফল প্রতিফলন। হাইতি ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, তাদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ যাত্রায় স্কোয়াডে থাকছেন তিন এমএলএস তারকা। তবে সবার চোখ থাকবে টুর্নামেন্টের ‘হেভিওয়েট’ তারকাদের ওপর। এমএলএসের আঙিনায় থেকে এবার কারা রাঙাবেন ২০২৬ বিশ্বকাপ? গোল ডটকমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন ১০ জন এমএলএস তারকার নাম, যাদের ওপর এবার চোখ থাকবে ফুটবলবিশ্বের।
লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা)
তালিকার প্রথম নামটি কে হবেন, তা নিয়ে কোনো সংশয়ের প্রয়োজন নেই। একটা সময় অবশ্য খোদ আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি কিংবা মেসি নিজেও বারবার বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর খেলার সম্ভাবনা অস্পষ্ট। তবে ফুটবলপ্রেমীদের সেই আশঙ্কা এখন অতীত। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলে এই গ্রীষ্মে আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে মাঠ জমিয়ে তোলবেন ফুটবল জাদুকর। ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকাকে ঘিরেই এবারও আবর্তিত হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশন।
সন হিয়ুং-মিন (এলএএফসি ও দক্ষিণ কোরিয়া)
লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির (এলএএফসি) হয়ে চলতি মৌসুম সনের চেনা ছন্দে কাটেনি, তা সত্যি। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য তিনি এখনও এক অবিসংবাদিত প্রতীক, ম্যাচ উইনার। এলএএফসির চেয়ে কোরিয়া দলে সনের ভূমিকা কিছুটা ভিন্ন হবে। সেখানে উইঙ্গার নয়, বরং খাঁটি ফিনিশার হিসেবেই তাঁকে ব্যবহার করা হবে। ২০১৮ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক গোলসহ দেশের জার্সিতে বহু রূপকথার জন্ম দিয়েছেন তিনি। এবারও কোরিয়ানরা সনের সেই জাদুকরী পায়ের দিকেই চেয়ে থাকবে।
হামেস রদ্রিগেজ (মিনেসোটা ইউনাইটেড ও কলম্বিয়া)
২০১৪ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটজয়ী হামেস রদ্রিগেজ বিশ্বকাপ শেষে মিনেসোটাতে ফিরবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপেরই পর অবসর নেবেন—এমন গুঞ্জনও বাতাসে ভেসেছিল, যা তিনি সরাসরি নাকচ করে দেন। ক্লাব তাকে আগেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। ভবিষ্যৎ যেখানেই হোক না কেন, কলম্বিয়ার হৃদস্পন্দন এখনও হামেস। আর এমএলএসের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বমঞ্চ মাতাতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।
ম্যাট ফ্রিস (নিউইয়র্ক সিটি এফসি ও যুক্তরাষ্ট্র)
স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের গোলপোস্টের নিচে এবার এক নম্বর ভরসা ম্যাট ফ্রিস। নিউ ইংল্যান্ড রেভোলিউশনের হয়ে ম্যাট টার্নারের দারুণ শুরুর পর দলে জায়গা নিয়ে কিছুটা আলোচনা হয়েছিল। তবে মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে নিউইয়র্ক সিটি এফসির এই গোলরক্ষক ধারাবাহিকভাবে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিজের জায়গা পাকা করেছেন। গত গোল্ড কাপে মার্কিন দলের পারফরম্যান্স মলিন হলেও ফ্রিসের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। আমেরিকার মাটিতে পচেত্তিনোর রণকৌশলে ফ্রিস যদি পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেন, তবে এবার মার্কিনদের নিয়ে যেকোনো অলৌকিক কিছুই সম্ভব।
টিম রিম (শার্লট এফসি ও যুক্তরাষ্ট্র)
৩৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার যেন মার্কিন রক্ষণভাগের সেই ‘প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক’, যাঁর অভিজ্ঞতা দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। বয়স বাড়লেও তাঁর খেলার ধার কমেনি, বরং ডিফেন্ডার হিসেবে তিনি যেন আরও পরিপক্ব হয়েছেন। এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। নিজেদের মাঠে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক রঙিন সমাপ্তি টানার মঞ্চ প্রস্তুত রিমের সামনে।
ডেন সেন্ট ক্লেয়ার (ইন্টার মায়ামি ও কানাডা)
কানাডার এক নম্বর গোলরক্ষকের জার্সিটা ডেন সেন্ট ক্লেয়ারের জন্য নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু লাইমলাইটের বাইরে থাকা ক্লাবে খেলার কারণে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন। সেই খরা কাটাতেই এই অফ-সিজনে মিনেসোটা ইউনাইটেডের বড় অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে কম বেতনে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন তিনি। বড় ম্যাচে খেলার আগ্রহ থেকেই যে এই সিদ্ধান্ত, তা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। কানাডার কোচ জেসি মার্শ এখনও তাঁকে স্থায়ী এক নম্বর হিসেবে ঘোষণা না করলেও, সেন্ট ক্লেয়ারের ওপরই যে ভরসা রাখতে যাচ্ছেন, তা স্পষ্ট।
মিগুয়েল আলমিরন (আটলান্টা ইউনাইটেড ও প্যারাগুয়ে)
ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেল ইউনাইটেডে সফল অধ্যায় শেষ করে ২০২৫ সালের শুরুতে আটলান্টায় ফিরে আসেন এই প্যারাগুইয়ান তারকা। আটলান্টার ইতিহাসের অন্যতম সেরা এবং আদি নায়ক বলা হয় তাঁকে। ক্লাবে ফেরার পর সময়টা খুব একটা স্বপ্নের মতো না কাটলেও প্রতিপক্ষের ডিফেন্সে ভীতি ছড়াতে তিনি এখনও সমান পারদর্শী। এক কঠিন গ্রুপে পড়া প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে আলমিরনের জাদুকরী পায়ের কোনো বিকল্প নেই।
পেতার মুসা (এফসি ডালাস ও ক্রোয়েশিয়া)
ক্রোয়েশিয়া ফুটবল দল তাদের কিংবদন্তি মারিও মানজুকিচের উত্তরসূরি খুঁজে পাবে টেক্সাসের মাটিতে—তা কে ভেবেছিল? ২০১৮ সালের পর জাতীয় দলে নিয়মিত না হলেও, ডালাসের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার এবার ক্রোয়েট স্কোয়াডে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশের হয়ে প্রথম গোল করা মুসা এবার মড্রিচদের আক্রমণভাগে বাড়তি শক্তি জোগাবেন।
মাইকেল বক্সাল (মিনেসোটা ইউনাইটেড ও নিউ জিল্যান্ড)
ফুটবল মাঠে যারা নীরবে কাজ করে যান কিন্তু স্পটলাইট পান না, বক্সাল তাদের একজন। ৩৭ বছর বয়সেও যেভাবে ডিফেন্সে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ বক্সাল ২০২৫ সালের শেষের দিকে অল-হোয়াইটসদের অধিনায়কত্বও করেছেন। মিনেসোটার দর্শকদের প্রিয় ‘বক্সা’র আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষটা রঙিন করার এটাই সেরা সুযোগ।
স্টিভেন মেহরিরা (কলাম্বাস ক্রু ও কেপ ভার্দে)
কেপ ভার্দের এবারের বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করাটা যেন এক রূপকথা, তবে এটি কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। দেশটির ফুটবল অনেকদিন ধরেই উন্নতির গ্রাফে ঊর্ধ্বমুখী। আর সেই রূপকথার অন্যতম কারিগর কলাম্বাস ক্রুর ডিফেন্ডার স্টিভেন মেহরিরা। ক্লাবের হেড কোচ উইলফ্রেড নান্সির বিদায়ের পর কলাম্বাসের সময়টা ভালো না গেলেও, মেহরিরার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল সবসময়ই নিঁখুত ও লড়াকু। আফ্রিকার এই দলটির রক্ষণভাগের মূল কাণ্ডারি থাকবেন তিনিই।

কয়েকদিন ধরেই চলছিল আলোচনা। অবশেষে আজ জাবি আলোনসোকে নিজেদের নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে চেলসি। দায়িত্ব নিয়ে পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটিকে ট্রফি জয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আলোনসো।
৪৪ বছর বয়সী আলোনসোর সঙ্গে আজ চার বছরের চুক্তি করেছে চেলসি। আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এই স্প্যানিশ কোচ।
বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, ‘আলোনসোর কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা, খেলার ধরন, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং ব্যক্তিত্বের ওপর ক্লাবের গভীর আস্থা রয়েছে। চেলসির আগামীর যাত্রাকে সফলভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে সাফল্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে জাবির সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করার ব্যাপারে চেলসি ফুটবল ক্লাব সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।‘
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানকে থামিয়ে উল্টো লিড নিল বাংলাদেশ |
|
সবশেষ রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব পালন করেন আলোনসো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মাত্র ৭ মাস কাটানোর পর জানুয়ারিতে তাকে বরখাস্ত করে রিয়াল। এরপর থেকে দলহীন ছিলেন আলোনসো।
চেলসির কোচ হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আলোনসো বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় ক্লাব চেলসি। এই ক্লাবের কোচ হতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। ক্লাবের মালিকপক্ষ ও ক্রীড়া পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনার পর এটা স্পষ্ট, আমাদের লক্ষ্য একই। আমরা এমন একটি দল গঠন করতে চাই যা নিয়মিত শীর্ষ স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ট্রফির জন্য লড়াই করবে।‘
চেলসির জন্য চলতি মৌসুম ছিল বেশ নাটকীয়। জানুয়ারিতে এনজো মারেস্কাকে বরখাস্ত করে ক্লাবটি। এরপর লিয়াম রসেনিয়রের সঙ্গে সাড়ে ছয় বছরের চুক্তি করে তারা। তবে মাত্র ১০৬ দিনের মাথায় গত মাসে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
রসেনিয়রের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন ক্যালাম ম্যাকফারলেন। গত সোমবার বিবিসি স্পোর্টস জানায়, চেলসি তাদের সম্ভাব্য নতুন কোচের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। এই তালিকায় আলোনসো ছাড়াও ছিলেন বোর্নমাউথের আন্দোনি ইরাওলা, ফুলহামের মার্কো সিলভা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের অলিভার গ্লাজনার। গত কয়েকদিন ধরে চলা আলোচনার পর অবশেষে তা চূড়ান্ত রূপ পেল।
চেলসিকে ট্রফি জেতাতে চান জানিয়ে আলোনসো বলেন, ‘এই স্কোয়াডে দারুণ সব প্রতিভা রয়েছে এবং ক্লাবের সম্ভাবনাও অসীম। এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। এখন আমাদের মূল মনোযোগ থাকবে কঠোর পরিশ্রম, ক্লাবের সঠিক সংস্কৃতি তৈরি এবং ট্রফি জেতার ওপর।‘
আরও পড়ুন
| তাইজুলের ঘূর্ণিতে লিডের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ |
|
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চলতি মৌসুমটা ভালো যায়নি চেলসির জন্য। শনিবার ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১-০ গোলে হেরে এফএ কাপের শিরোপা খুইয়েছে তারা।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা রেসে চেলসি কখনও ছিল না। আগামী মৌসুমে ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায়ও তারা কোয়ালিফাই করতে পারেনি। ৩৬ ম্যাচ খেলে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ৯-এ অবস্থান দলটির।

ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক দল আগেই ফিফার কাছে জমা দিয়েছে ইরান। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে টিম মেল্লিরা। তুরস্কে চূড়ান্ত ক্যাম্পের জন্য দেশ ছাড়ার আগে ৩০ সদস্যের দলে জায়গা পাননি অভিজ্ঞ ও তারকা স্ট্রাইকার সর্দার আজমুন। এখান থেকেই ২৬ জনের স্কোয়াড দেবেন কোচ আমির ঘালিনোই।
আল জাজিরা ও ইয়াহু স্পোর্টসের প্রতিবেদন, সরকারের প্রতি ‘অবিশ্বস্ততার’ অভিযোগে সর্দার আজমুনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে আজমুনকে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলছেন। গত মার্চ মাসে দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন আজমুন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুদ্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই ছবি প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয় দেশটির সরকার ও ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি মার্চ মাসেই জাতীয় দলের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আজমুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আজমুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবিটি সরিয়ে নিলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়। ইরানের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই তারকা স্ট্রাইকার গত দুটি বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম মূল ভরসা ছিলেন।
আজমুনের অনুপস্থিতিতে এবার ইরানের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা তারেমি বর্তমানে গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।
ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই জানিয়েছেন, আজ ৩০ সদস্যের এই দল নিয়ে তুরস্কে ক্যাম্প করতে যাবে ইরান। সেখানে অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ফুটবলারদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ জুনের মধ্যে এই এখান থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের দল ঘোষণা করতে হবে।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। ‘জি’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।