
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) ফাইনালে সেনেগালের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের আচরণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ‘লায়ন্স অব তেরেঙ্গা’দের বিশৃঙ্খলা ভালোভাবে নেয়নি আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা।
ম্যাচের যোগ করা সময়ে রেফারির একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে সেনেগালের ফুটবলাররা নজিরবিহীন ঘটনা ঘটায়। পরিস্থিতি চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ১৬ মিনিট থেমে থাকার পর আবার শুরু হয় ম্যাচ, যা আফকনের নিয়মাবলির ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।
নিয়ম অনুযায়ী, রেফারির অনুমতি ছাড়া ম্যাচ শেষ হওয়ার আগে কোনো দল মাঠ ছেড়ে দিলে, সেই দলকে পরাজিত হিসেবে গণ্য করা হবে। আফকনের নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা আছে—
‘যেকোনো কারণে যদি কোনো দল প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়, ম্যাচে উপস্থিত না হয়, খেলতে অস্বীকৃতি জানায় অথবা রেফারির অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে মাঠ ত্যাগ করে, তবে সেই দলকে পরাজিত হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং চলমান প্রতিযোগিতা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হবে। সিএএফের সিদ্ধান্তে আগে যারা অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।’
ফ্রান্সের প্রভাবশালী গণমাধ্যম এএফপিকে ফিফা সভাপতি বলেছেন, “আমরা মাঠে ও স্ট্যান্ডে অগ্রহণযোগ্য দৃশ্য দেখেছি। কিছু সমর্থক, সেনেগালের কিছু খেলোয়াড় এবং টেকনিক্যাল স্টাফের সদস্যদের আচরণের তীব্র নিন্দা জানাই। এভাবে খেলার মাঝখানে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া অগ্রহণযোগ্য এবং একইভাবে আমাদের খেলায় সহিংসতাও সহ্য করা হবে না—এটা ঠিক নয়।”
সেনেগারের ফুটবলাররা প্রায় ১৬ মিনিট মাঠের বাইরে থাকার পর দলটির অধিনায়ক সাদিও মানের অনুরোধে মাঠে ফেরেন তারা। বিষয়টি মোটেও পছন্দ হয়নি ইনফান্তিনোর।
ফিফা সভাপতি বলেছেন, “খেলায় এইভাবে মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং তদ্রূপ আমাদের খেলায় সহিংসতাও সহ্য করা যাবে না—এটা সঠিক নয়।”
তিনি যোগ করেন, “আমাদের সবসময় খেলার মাঠে ও বাইরে ম্যাচ অফিসিয়ালদের নেওয়া সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে। দলগুলোকে মাঠে এবং খেলার আইনের মধ্যেই থাকতে হবে, কারণ তা না হলে ফুটবলের মূল চেতনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়।”
বিতর্কিত এই ঘটনায় নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সেনেগাল কোচ পাপে থিয়াও। তিনি বলেছেন, ‘আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম না যে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে বলাই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না। ফুটবলের কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি। কিছু মুহূর্তে উত্তেজনার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে আমরা রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি এবং ফুটবলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
No posts available.
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪৬ পিএম
১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম

মার্ক গেইহির সঙ্গে পাকাপাকি চুক্তি সারল ম্যানচেস্টার সিটি। ২০ মিলিয়ন পাউন্ডে সাড়ে পাঁচ বছরের জন্য ক্রিস্টাল প্যালেস ডিফেন্ডার যোগ দিলেন ইতিহাদের ক্লাবে। আজ এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিটি।
চুক্তিনামার সাক্ষরের পর গেইহি আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ম্যানসিটি প্লেয়ার হতে পেরে বেশ আনন্দিত এবং অবিশ্বাস্যরকম গর্বিত বোধ করছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই সিদ্ধান্তটা আমার ক্যারিয়ারে এতদিন যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, তারই চূড়ান্ত ফল। এখন আমি ইংল্যান্ডের সেরা ক্লাবে আছি এবং অবিশ্বাস্য এক দল খেলোয়াড়ের অংশ। এটা বলতে পারাটা সত্যিই ভালো লাগছে।’
লিভারপুলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল গেইহির। তাঁর সঙ্গে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তিটি শেষ পর্যায়ে ছিল। মেডিকেলও সম্পন্ন হয়েছিল গেইহির। তবে নাটকীয়ভাবে সিটিতেই যোগ দিয়েছেন তিনি।
বিবিসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেইহির এজেন্টের সঙ্গে ইউরোপের বেশ কয়েকটি ক্লাবের আলোচনা চলছিল। তার মধ্যে লিভারপুলের সঙ্গে পাকাপাকি কথাও হয়েছিল। তবে সিটির সঙ্গে চূড়ান্ত ঐক্যমতে পৌঁছে ইংলিশ সেন্টারব্যাকের। ফলে লিভারপুলে এক পা দিয়ে রাখা গেইহি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি হয়েছে ম্যানসিটির।
গত সপ্তাহে বোর্নমাউথ থেকে সাড়ে ৬ কোটি পাউন্ড ট্রান্সফার ফিতে ম্যানসিটিতে যোগ দেন অ্যান্টনি সেমেনিও। এবার সিটি শিবিরে যোগ দিলেন গেইহি।
ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে ১৮৮ ম্যাচ খেলেছেন গেইহি। ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন ২০২১ সালে। এর আগে ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার খেলেছেন চেলসিতে।

সোমবার শেষ হলো প্রথম বিভাগ (সিনিয়র ডিভিশন) ফুটবলের এবারের মৌসুম। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ হয়ে আগামী মৌসুমের জন্য বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে (বিসিএল) উন্নীত হয়েছে যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্র এবং মহাখালী একাদশ। শিরোপা জিততে না পারলেও সর্বোচ্চ গোলের পুরস্কার জিতেছেন মহাখালীর স্ট্রাইকার মো. মাশরাফি ইসলাম।
এ নিয়ে মাশরাফি দ্বিতীয়বার খেললেন সিনিয়র ডিভিশনে। আগের মৌসুমে ৬ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে করেন ২ গোল। তবে দ্বিতীয় মৌসুমে মাঠে নেমেই দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে যান রাজশাহীর পবা উপজেলা থেকে উঠে আসা মাশরাফি। এবার করেছেন সর্বোচ্চ ১৮ গোল। এবার সামনে তাকাতে চান তিনি। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে (বিএফএল) খেলে পূরণ করতে চান জাতীয় দলের খেলার স্বপ্ন।
খেলা শেষে মাশরাফি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে ভালো লাগছে। চেষ্টা করব এই ফর্মটা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে টেনে নিতে।’ বাংলাদেশ ফুটবল লিগে এখন চলছে বিরতি। লিগ শুরু হওয়ার কথা আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এর মধ্যে হবে দলবদল। তাঁর সঙ্গে অবশ্য এখনো কোনো ক্লাব যোগাযোগ করেনি বলে জানান।
যদি পেশাদার লিগে সুযোগ আসে তবে প্রস্তুত বলেই জানান এক সময় বাড্ডা জাগরনী সংসদের হয়ে খেলা এই ফুটবলার। মাশরাফি বলেন, ‘পরবর্তী লক্ষ্য আমি বিএফএল খেলব। বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখি।’
তিন ভাইয়ের মধ্যে মাশরাফিই খেলাধুলার সঙ্গে আছেন। বড় ভাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ট্রাক ড্রাইভার বাবা। তবে খেলাটায় তাকে উৎসাহ দেন বড় ভাই। পবা থেকে উঠে আসার গল্প শুনিয়েছেন মাশরাফি, ‘আমি তৃণমূল থেকে উঠে আসছি, মানে আমার একাডেমি থেকে (রাজশাহী কিশোর ফুটবল একাডেমি)। মামুনুল ইসলাম জেট ভাইয়ের হাত ধরে আমি উঠে এসেছি। আমার ফুটবলার হওয়ার পেছনে ওনার অবদান অনেক বেশি।’
১৯ বছর বয়সি মাশরাফি কতদূর যাবে সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে নিজের লক্ষ্য পূরণে সর্বোচ্চ দিয়ে লড়াই করার অদম্য স্পৃহা যে তাঁর মধ্যে আছে সেটা কথা বলার সময় চোখে-মুখেই ফুটে ওঠে।

প্রথম পর্বের খেলা শেষে বিরতি চলছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল)। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়ানোর কথা ছিল লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচ। আর ৩ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ ফেডারেশন কাপের খেলা সপ্তম দিনের খেলা। তবে আসন্ন নির্বাচনের কারণে লিগ এবং ফেডারেশন কাপের ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।
ক্লাবগুলোকে আজ সোমবার খেলা স্থগিত করা নিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের সাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে লিগ এবং ফেডারেশন কাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্লাবের অনুরোধ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে আগামী ৩ এবং ৬ ফেব্রুয়ারি হতে পরবর্তী খেলাসমূহ পূনঃ আরম্ভ হচ্ছে না।’
তবে ফেডারেশন কাপের সপ্তম দিনের খেলা এবং লিগের ১০ম রাউন্ডের খেলার সূচি নতুন করে সাজানো হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়। বলা হয় প্রতিযোগিতাসমূহের পরবর্তী সময় যথাশিগগির জানানো হবে।
প্রথম পর্ব শেষে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে অবস্থান করছে বসুন্ধরা কিংস ও ফর্টিস এফসি। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি। বর্তমান লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অবস্থান ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ছয়ে।

২০২৫-২৬ ক্লাব ফুটবল মৌসুমে মাঝামাঝি পর্যায়ে। প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, বুন্দেসলিগা কিংবা সিরি’এ র টাইটেল রেসে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় লক্ষণীয়। এরই মধ্যে ব্যর্থ হওয়া দলগুলোও কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি কোচ ছাঁটাই করেছে। রিয়াল মাদ্রিদও নিয়েছে কঠিন এক সিদ্ধান্ত।
দলের খারাপ পারফরম্যান্স এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাবে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ক্লাব থেকে বিদায় নেন জাবি আলোনসো। স্পেন কোচের বিদায় অনেক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। পাশাপাশি বিপদে ফেলেছে নামি-দামি ক্লাবগুলোর কোচকেও। সে হিসেবে চাপের মধ্যে লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট।
বড় ক্লাবগুলোর এই সিদ্ধান্তে অ্যানফিল্ডে স্লটের অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আর্নে স্লট বলেছেন, “কঠিন সময় এলেই বড় ক্লাবগুলো যেভাবে দ্রুত কোচ ছাঁটাই করছে—তার পেছনে আধুনিক ফুটবলে স্পোর্টিং ডিরেক্টরদের বাড়তি ক্ষমতা দায়ী কি না, সে বিষয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই।”
আলোনসো লিভারপুলের কোচিং স্টাফে ছিলেন। এরপরই বায়ার লেভারকুসেন ও রিয়ালের মতো বড় ক্লাব সামলেছেন। যদিও স্পেন কোচ এখন বেকারই বলা চলে। যার কারণে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের পর ঘুরে ফিরে তাঁকে লিভারপুলে দেখছেন অনেকেই।
কোচ ছাঁটাই নিয়ে স্লট বলেছেন, “এই পরিবর্তনটা কি আগের তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয় বছরের মতো? সত্যিকার অর্থে আমার জানা নেই। আমি শুধু আমার ব্যাপারটিই জানি। আমি আমার প্রথম ক্লাবে তিন বছর ছিলাম। দ্বিতীয় ক্লাবে চার বছর কাজ করা উচিত ছিল, তৃতীয় ক্লাবে তিন বছর এবং বর্তমান ক্লাবে রয়েছি দেড় বছর।”
অ্যানফিল্ডের কোচ আরও বলেছেন, “চেলসি, ম্যান ইউনাইটেড ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবগুলো ইতিহাস সমৃদ্ধ। কিছু ম্যানেজার দীর্ঘ সময় ধরে কোনো না কোনো ক্লাবে প্রতিনিধিত্ব করছে। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যেও একজন ম্যানেজার আছেন—পেপ গার্দিওলা। যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ম্যানসিটিতে কাজ করে যাচ্ছেন।”
হঠাৎ কোচ ছাঁটাইকে আধুনিক ফুটবলে স্পোর্টিং ডিরেক্টরদের বাড়তি ক্ষমতা বলে মনে করছেন। স্লট জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার সঠিক ধারণা নেই। বরং তিনি দুটি সূত্র মেলাতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন।

আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (আফকন) ফাইনালে চরম নাটকীয়তা শেষে মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতেছে সেনেগাল। চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ হবার আগেই খেলা মাঠে গড়ানো নিয়ে দেখা দিয়েছিল শঙ্কা। শেষভাগে টানা ১৬ মিনিট বন্ধ ছিল খেলা ।
ঘটনার শুরু ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯৮ মিনিটে। মরক্কোর নেওয়া কর্নারে বল উড়ে যাচ্ছিল দূরের পোস্টে, সেখানেই ফাউলের শিকার হন মরক্কোর ফরোয়ার্ড ব্রাহিম দিয়াজ। এই চ্যালেঞ্জকে পেনাল্টি ঘোষণা করেন রেফারি। মরক্কো পেনাল্টি পেয়ে গেলে বাধে বিপত্তি।
এরপরই ম্যাচে দেখা দেয় চরম নাটকীয়তা। রেফারির সিদ্বান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়ে সেনেগাল শিবির। কোচ পাপে থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।
আন্তর্জাতিক ফাইনালে এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। সেনেগালের খেলোয়াড়রা টানেলে ঢুকে পড়েন। প্রায় ১৬-১৭ মিনিট মাঠ পুরোপুরি ফাঁকা ছিল। দর্শক, সম্প্রচার-সবাই ছিল অনিশ্চয়তায়।
এই সময় সেনেগাল অধিনায়ক সাদিও মানে হয়ে ওঠেন মধ্যস্থতাকারী। এই তারকা বারবার রেফারি ও সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলে দলকে মাঠে ফেরাতে সক্ষম হন।
বিতর্ক এখানেই থেমে থাকেনি। খেলা ফের শুরু হওয়ার পর পেনাল্টি নেওয়ার আগে ঘটে আরেক নাটক। সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার মেন্দি গোলপোস্টে নিজের তোয়ালে রাখেন।
কিন্তু হঠাৎ মরক্কোর স্টাফ ও বলবয়রা সেই তোয়ালে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে দেখা যায় সেই তোয়ালে ডাগআউটের দিকে ফেলে দিতে। অভিযোগ ওঠে, তোয়ালেতে নাকি পেনাল্টি নেওয়ার কৌশল লেখা ছিল।
এরপর সেনেগালের বদলি গোলকিপার ইয়েভান দিয়ুফ নিজেই তোয়ালে আবার ফেরত নিয়ে আসেন। এই তোয়ালে নাটকে পেনাল্টি নিতে প্রায় তিন মিনিট দেরি হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষা ও চাপের মধ্যে পেনাল্টিতে দিয়াজ পানেনকা শটে গোল করতে ব্যার্থ হন। পুরো স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে যায়। এখানেই যেন মরক্কোর মানসিক ভাঙন শুরু হয়।
অতিরিক্ত সময়ে সেনেগালের পাপে গুয়ে দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ে শিরোপা জিতে নেয় সেনেগাল।
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার আফকনের শিরোপা জিতল সেনেগাল। ২০২১ সালে সাদিও মানের দল প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৭৬ সালে আফ্রিকার সেরা হওয়ার পর আর এই ট্রফি জেতা হলো না মরক্কোর।