
বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে গোল-অ্যাসিস্টের সূচক উর্ধ্বগতিতে ছুটছে। এই ছুটে চলা কতদূরে থামবে এখনই বলা কঠিন। সে হিসেব পরেই কষা যাক। তবে আজ লিওনেল মেসি এক ম্যাচেই করেছেন হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্ট, সঙ্গে দারুণ এক গোল। মেজর লিগ সকার (এমএলএস) প্লে অফের ফাইনালে তুললেন মেসি। তাঁর হাত ধরেই এই প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠল মায়ামি।
মায়ামিকে তিন গোলে সহায়তা করে মেসির সব মিলিয়ে অ্যাসিস্টের সংখ্যা হলো ৪০৪টি। হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ফ্রেঞ্চ পুসকাসের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এখন মেসির। পেশাদার ফুটবলে সব মিলিয়ে মেসির গোল হলো ৮৯৬টি।
আরও পড়ুন
| গোল ও হ্যাটট্রিক অ্যাসিস্টে মায়ামিকে ফাইনালে তুলে ইতিহাস মেসির |
|
মেসির গোল-অ্যাসিস্ট মিলিয়ে সংখ্যাটা ১৩০০। ফুটবল ইতিহাসে এই অবিশ্বাস্য রেকর্ডটি শুধুই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি মেসির। মেসির পরে থাকা পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গোল ও অ্যাসিস্টের সংখ্যা ১২১৩টি।
১৩শ গোল করতে মেসির লেগেছে ১১৩৫ ম্যাচ। রোনালদোর এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১২৯৮ ম্যাচ। তাঁর চেয়ে ১৬৩ ম্যাচ কম খেলে ১৩০০ গোল অবদানের মাইলফলকে পৌঁছেছেন। প্রত্যেক ম্যাচে মেসির গড় গোল অবদান ১.১৪৫, রোনালদোর ০.৯৩৪।
মেসির ১২টি গোলে অবদান এক এমএলএস পোস্টসিজনে নতুন রেকর্ড। ১৯৯৯ সালে আন্টে রাজভেরে করা ১০ গোল অবদানকে ভেঙে দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী মেসি।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২১ পিএম

স্বপ্নের দুয়ারে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ। তাতে ছিল ভয় ও শঙ্কার মিশ্রণ। পা হড়কালেই সবশেষ। তৈরি হতো ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে দেশে ফেরার উপলক্ষ। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটতে দেননি মোহাম্মদ মানিক। বাংলাদেশ ফরোয়ার্ডের বদৌলতে আরও একবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে লাল সবুজ দল।
বুধবার মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে মানিকের একমাত্র গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। গত আসরে যাদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজ দল এবার তাদের সেমিফাইনালেই হারাল তারা।
ম্যাচের ১১ মিনিটেই বাংলাদেশকে উৎসব উপহার দেন মানিক। নিজে কর্নার কিক নিয়ে নিখুঁত পরিকল্পনায় কাজে লাগান মুর্শেদ আলী। তার বাড়ানো ক্রসে ডি-বক্সে জটলার ভেতর থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন মানিক। তার এই গোলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশের ডাগআউট।
নেপালের বিপক্ষে গোল এবং জয় মানিক তার অসুস্থ মাকে উৎসর্গ করেছেন। ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
‘সর্বপ্রথম আ্ল্লাহ তা’লার কাছে অশেষ শুকরিয়া যে, আমরা ফাইনালে যেতে পেরেছি। ম্যচাটি ছিল আমার মায়ের জন্য। মা অসুস্থ। তাকে আমি এই ম্যাচ উপহার দিয়েছি।’
ফাইনালে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ অপর সেমিফাইনালের জয়ী দল। শিরোপার লড়াইয়ের আগে মানিক দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি বলেন,
‘আমরা যেন ট্রফি নিয়ে ফাইনাল জিততে পারি। ভালো কিছু উপহার দিতে পারি। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নতুন আরেকটি আসরেও ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে নেপালের বিপক্ষে লাল-সবুজ দলের জয় ১-০ গোলের ব্যবধানে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচে অতিথি দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মোহাম্মদ মানিক। ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয়েছে প্রথমার্ধে।
শিরোপা ধরে রাখার মিশন এবং নেপালকে সেমিফাইনাল থেকে বিদায় করার লক্ষ্যে নেমে ম্যাচ ঘড়ির ১১ মিনিটে লিড আদায় করে বাংলাদেশ। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে মোর্শেদ আলির বাড়ানো চিপ থেকে দুর্দান্ত হেডে লক্ষ্যভেদ করেন মানিক।
পরের মিনিটেই লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি বক্সের কাছাকাছি চলে যান ইউসুফ আলি। সেখান থেকে বল পান রোনান সুলিভান। গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। তবে অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় বাতিল হয় সেই গোল।
প্রথমার্ধে আরো বেশ কয়েকটি আক্রমণ করেছে বাংলাদেশ। তবে জালের দেখা মেলেনি। নেপালও সমতায় ফেরতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে ৬০তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় নেপাল। বড় সুযোগ মিস করেন বিগ্যান খাডকা! বাঁ-দিকের সেট-পিস থেকে ভেসে আসা ফ্রি-কিক হেডারে কাজে লাগানো চেষ্টা করেন খাড়কা। গোলকিপার ইসমাইলকে তিনি প্রায় পরাস্ত করে ফেলেছিলেন, কিন্তু বলটা জালে না ঢুকে বারের ওপরের জালে লেগে বাইরে চলে যায়।
৭৯তম মিনিটে বাঁ-প্রান্ত হয়ে আক্রমণে ওঠেন সংগ্রাম। বারের কাছে পৌঁছে তিনি ক্রস দেন শিমুল রাকসামকে। বলটি পায়ের হালকা ছোঁয়া পেলেই হয়তো লিড দ্বিগুণ হত বাংলাদেশের। তবে তার আগে ব্লকের মুখে পড়েন। এসময় অবশ্য শিমুলকে টেনে ফেলে দেন নেপালের এক ডিফেন্ডার। একে তো গোল মিস, দ্বিতীয়ত রেফারির সিদ্ধান্ত যায়নি লাল-সবুজের পক্ষে।
৯০তম মিনিটে সমতায় ফেরার শেষবারের মতো চেষ্টা করে নেপাল। প্রসাদ কৃষ্ণার ফ্রি কিক শট হেডারে ক্লিয়ার করেন মোহাম্মদ ইউসুফ। তবে ফিরতি শটে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন প্রসাদ মোক্তান। ডি বক্সের খানিক দূর থেকেই বুলেট গতির শট নেন তিনি। সে শটও রক্ষণ দেয়ালের বাঁধায় ফিরে আসে। আর সেখান থেকেই বাইসাইকেল কিক নেওয়ার চেষ্টা করেন নেপালের সুভাস বাম। জটলার মধ্যে তার সেই শট বিপদ বাড়াতে পারতো। ভাগ্য সহায় ছিল বাংলাদেশের।
গ্রুপ ‘এ’-তে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে নেপাল। ভুটানকে ২-১, শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারানোর পর মালদ্বীপের সঙ্গে ১-১ ড্র করে তারা শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। আর বাংলাদেশ গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানারআপ হয়ে শেষ চারে উঠেছে। তারা পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে। আর নক আউটে হারাল নেপালকে।

পারেনি ইতালি। শেষ পর্যন্ত আরও একবার ‘আজ্জুরিরা’ বিশ্বমঞ্চের আসরে শুধুই দর্শকের ভূমিকায় থাকাবে। বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক ‘ট্রেজেডির’ জন্ম দিয়ে চারবারের চ্যাম্পিয়নরা এখন হতাশার অথৈ সমুদ্রে ভাসছে। বিশ্বকাপের অভিশাপ এবারও মুক্তি মেলেনি তাদের। ঠায় দাঁড়িয়ে ইতালি দেখল এবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপের টিকিট কাটার দৃশ্য।
বিশ্বকাপের প্লে অফের ফাইনালে ১-১ ব্যবধানে ড্র হওয়ার পর পেনাল্টিতে হেরে এখন দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা-ক্ষোভে পুড়ছে ইতালি। এরমধ্যে ইউয়েফার একটি নিয়ম তাদের ক্ষোভের মাত্রা যেন দ্বিগুন করল।
গ্রুপপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল ইতালি। ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করেও জেন্নেরো গাত্তুসোর দল পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান দখলে নিতে ব্যর্থ হয়। অসাধারণ ছন্দে থাকা নরওয়ের কাছেই হার মানতে হয় ইতালির। তবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে গ্রুপে ইউরোপের বেশ কয়েকটি শক্তিশালী দলের চেয়ে বেশি পয়েন্ট পেয়েও শেষ পর্যন্ত বিদায়—ইতালির জন্য যেন এক নির্মম পরিহাস।
এই হতাশাজনক বিদায়ের পর পুরো ইতালিজুড়ে ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে—দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও কীভাবে এমন চূড়ান্ত ব্যর্থতায় শেষ হতে পারে? পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে বিশ্বকাপে সুইডেনের ‘বিতর্কিত’ যোগ্যতা অর্জনের কারণে । গ্রুপপর্বে একটি ম্যাচও জিততে না পারা সুইডেন যেখানে বিশ্বকাপ খেলবে, সেখানে আটটির মধ্যে ছয়টি ম্যাচ জিতেও বিশ্বকাপে নেই ইতালি।
মূলত ইউয়েফার একটি নিয়মই সুইডেনের পথ সহজ করে দেয়। নেশন্স লিগ পথ ধরে প্লে-অফে জায়গা পায় স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। পরে প্লে অফের সেমি ফাইনালে ইউক্রেনকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ফাইনালে পোল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ ইতালি ফুটবল দলের কর্মকর্তা ও সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ, এই পদ্ধতি মূলত ত্রুটিপূর্ণ। অনেকের মতে, ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু পথকে অযৌক্তিকভাবে বেশি সুবিধা দিচ্ছে ইউয়েফার এই ফরম্যাট।
সামাজিক মাধ্যমে ইতালির এক সমর্থক ইয়েফার নিয়ম নিয়ে ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন,
‘এটা বোঝার বাইরে—এমন পারফরম্যান্স করেও কেউ বাদ পড়ে, আবার কেউ এমন ফল নিয়ে বিশ্বকাপে চলে যায়।’

আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ার পর আরেক দফা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্থান-পতন দেখা গেল। কদিন আগের হালনাগাদে একধাপ করে নিচে নেমে যায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। পাশপাশি র্যাঙ্কিংয়ে পেছায় বাংলাদেশও। এবার আবারও র্যাঙ্কিংয়ে পতন হলো আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের, রেটিং কমল বাংলাদেশের। আর স্পেনকে হটিয়ে শীর্ষে উঠে এলো ফ্রান্স।
ভিয়েতনামের কাছে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলে হারের পর একধাপ নিচে নেমে ১৮১ নম্বরে অবস্থান করে বাংলাদেশ। এরপর এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যাওয়ার পর ৯.১৮ রেটিং কমে হামজা চৌধুরী ও জামাল ভূঁইয়াদের। লাল-সবুজ বাহিনীদের বর্তমান রেটিং ৮৯৯.৫৩।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য মৌরিতানিয়া ও জাম্বিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে দু’টিই জয় পায় আর্জেন্টিনা। তবে দুই জয়ের পরও র্যাঙ্কিংয়ে পেছাল আলবিসেলেস্তারা। দুই থেকে তিনে নেমে গেছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-১ গোলে হারের পর ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারানো ব্রাজিল পাঁচ থেকে ছয়ে নেমে গেল। আন্তর্জাতিক বিরতিতে মেক্সিকোর বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় পাওয়া পর্তুগাল পাঁচে উঠে এলো।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে আসা ফ্রান্স ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ের পর ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে চূড়া দখল করে। সাত বছরেরও বেশি সময় পর আবার শীর্ষে ওঠার স্বাদ পেল দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিল ও কলম্বিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে বড় পয়েন্ট অর্জন করায় ‘লে ব্লু’রা শীর্ষে উঠেছে। ফ্রান্স এর আগে মাত্র দু’বার এক নম্বরে ছিল—২০০১ সালের মে থেকে ২০০২ সালের মে পর্যন্ত এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর অল্প সময়ের জন্য।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শীর্ষে ছিল স্পেন। প্রীতি ম্যাচে সার্বিয়াকে হারালেও মিশরের সঙ্গে ড্র করে ‘লা রোজারা’। এই সময়সূচিতে স্পেনের আর্জেন্টিনার সঙ্গে ‘লা ফিনালিসিমা’ খেলার কথা থাকলেও ম্যাচটি বাতিল হওয়ায় দুই দলই শেষ মুহূর্তে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে। র্যাঙ্কিংয়ে ইংল্যান্ড চতুর্থ স্থানেই রয়েছে। নেদারল্যান্ডস, মরক্কো, বেলজিয়াম ও জার্মানি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে, আর ১১ নম্বরে আছে ক্রোয়েশিয়া।
১২ নম্বরে রয়েছে এমন একটি দল, যারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না—ইতালি। প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ মিস করছে আজ্জুরিরা। তবে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফাইনাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বদলে যাওয়ায় সেনেগালের পতনের সুযোগে ইতালি এক ধাপ এগিয়েছে।
বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে সবার ওপরে আছে মেক্সিকো, তাদের অবস্থান ১৫ নম্বরে। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের মতো শীর্ষ দলের সঙ্গে ড্র করায় তাদের র্যাঙ্কিং উন্নতি করেছে তারা। বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে তারা, যুক্তরাষ্ট্র নেমে গেছে ১৬ নম্বরে। আরেক সহ-আয়োজক কানাডা রয়েছে ৩০ নম্বরে।

আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসির পেনাল্টি নেওয়ায়ই অলিখিত নিয়ম। তবে আজ ভোরে জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। ডি-বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন থিয়াগো আলমাদা। তারপর দেখা যায় হাতের ইশারায় কাকে যেন ডাকছেন মেসি। সে আর অন্য কেউ নয়, নিকোলাস ওতামেন্ডি। দীর্ঘদিনের সতীর্থ বা বন্ধুর ‘বিশেষ’ ম্যাচটা রাঙাতে আলবিসেলেস্তাদের কিংবদন্তি আরও একবার ‘উদারতার’ অনন্য নজির উপহার দিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ফিফা বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার শেষ ম্যাচ। অবসরের আগে নিজের শেষ হোম ম্যাচে ওতামেন্ডি যাতে গোল করতে পারেন, সেজন্যই মূলত মেসির এই মহানুভবতা। নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন ওতামেন্ডি।
আরও পড়ুন
| ‘বিশ্বকাপের টিকিট প্রাপ্য ছিল’, বাদ পড়ে বললেন ইতালি কোচ |
|
বুয়েন্স আয়ার্সে জাম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৫-০ ব্যবধানের জয়ের রাতে গোল পেয়েছেন মেসি নিজেও। প্রথময়ার্ধের শেষদিকে অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের চমৎকার কারিকুরিতে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে ১১৬ তম গোল করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। সেই সঙ্গে জাম্বিয়া ৪০তম ভিন্ন দেশ যাদের বিপক্ষে গোল করলেন মেসি।
জাম্বিয়ার বিপক্ষে গোল করে মেসির ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৯০২টিতে। অবশ্য আর্জেন্টিনার অধিনায়ক চাইলেই আজ পেনাল্টি নিয়ে নিজের গোলের সংখ্যা বাড়াতে পারতেন। কিন্তু প্রকৃত অধিনায়কের ভূমিকাতেই দেখা গেল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরাকে। আর এই কারণেই যে ওতামেন্ডির মতো বাকি সতীর্থরাও মেসিকে এতোটা শ্রদ্ধা করেন, এমনকি শরীরে মেসির ট্যাটুও আঁকেন।
প্রীতি ম্যাচে প্রস্তুতি সেরে নেওয়ার পর মেসিদের আর কোনো ম্যাচ নেই। জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বমঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ‘জে’ গ্রুপে তাদের পরের দুই ম্যাচ অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে।