
একজন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা করে নিলেও অন্যজন পারেননি। তবে ঢাকা ক্যাপিটাসের হয়ে দিনটা একসাথেই আলোকিত করলেন লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিম। দুর্বার রাজশাহীর বোলারদের রীতিমতো পাড়ার বোলার বানিয়ে স্রেফ ছেলেখেলা করলেন দুজন মিলে। রেকর্ড গড়া ওপেনিং জুটিতে দুই ব্যাটারই করলেন সেঞ্চুরি, আর নতুন করে লিখলেন ইতিহাসও।
শুরুটা করা যাক লিটনকে দিয়েই। সাদা বলের ক্রিকেটে গত বছর একেবারেই ছিলনে না ছন্দে। এই বিপিএলে প্রথম চার ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর বাদ পড়েন এক ম্যাচে। গত ম্যাচে ফিরেই করেন বিস্ফোরক ফিফটি। তবে জায়গা মেলেনি রোববার ঘোষিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে। সেই হতাশাই যেন মেটালেন প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর।
আরও পড়ুন
| লিটন-তানজিদের রেকর্ড গড়া ম্যাচে ঢাকা পেল প্রথম জয় |
|
অন্যপ্রান্তে তানজিদও কম যাননি। এই তাদের খুনে ব্যাটিংয়ে ৯ ওভারেই হয়ে যায় দলীয় শতক। ছক্কা মেরে মাত্র ২৪ বলে ফিফটি করেন লিটন। ছয় মেরে পঞ্চাশে পা রাখেন তানজিদও।
৪৪ বলে সেঞ্চুরি করেন লিটন, যা এখন বিপিএলের ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। ২০তম ওভারে গিয়ে শতকের দেখা পান তানজিদও। এর দুই বল বাদে যখন আউট হন, বোর্ডে রান ২৪১। বিপিএলের ইতিহাসে যেকোনো জুটিতেই এটিই সর্বোচ্চ রান। আগেরটি ছিল রংপুর রাইডার্সের ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের (দ্বিতীয় উইকেটে ২০১ রান)।
আরও পড়ুন
| সহ-অধিনায়ক কেন নেই, জানেন না প্রধান নির্বাচক |
|
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে যেকোনো উইকেটেই লিটন-তানজিদের ২৪১ এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শীর্ষে আছে জাপানের ইয়ামামোটো-লেক ও কে কাদোওয়াকি-ফ্লেমিংয়ের ২৫৮। ওপেনিং জুটিতে চীনের বিপক্ষে তারা এই রান করেছিলেন ২০২৪ সালে। তালিকায় তিনে নেমে গেছে আফগানিস্তানের হজরতউল্লাহ জাজাই ও উসমান গনির ২৩৬ রানের জুটি। প্রথম উইকেটে তাদের এই জুটিটি ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০১৯ সালে।
No posts available.
১১ মার্চ ২০২৬, ১:১৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নেবে না ইরান। বুধবার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
দোনিয়ামালি বলেন,
‘এই দুর্নীতিবাজ সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারব না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন শত শত মানুষ। বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে এই বিষয়টি সামনে এনেছে দোনিয়ামালি।
তিনি বলেন,
“গত ৮–৯ মাসে আমাদের ওপর দুইটি যুদ্ধ চাপানো হয়েছে এবং হাজার হাজার নাগরিক নিহত হয়েছে। এই অবস্থায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। যদি হোস্ট দেশ অন্য কোনো দেশ হতো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিতভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাত এবং ভেন্যুটি পরিবর্তন করত।”
একইদিন ফিফা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও চলমান সংঘাতের মধ্যেও ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই ইরানের। জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আরও জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প ইরান দলের অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছেন।
ইনফান্তিনোর আশ্বস্ত করার পরই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ। তার মন্তব্য ছিল,
'একদিকে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জনকে শহীদ করবেন, আমাদের মেয়েদের অপহরণ করবেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?’
মেহেদী তাজের সেই মন্তব্যের পরই ইরান রাষ্ট্রীয়ভাবে জানিয়ে দেয় ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেবে না দেশটির ফুটবলাররা।
সূচি
অনুযায়ী, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে ইরান। যেখানে
তাদের সঙ্গী বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড।
ইরানের তিনটি ম্যাচই হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে—দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে
ও একটি সিয়াটলে। ইরান
ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দলই যদি
নিজেদের গ্রুপে দ্বিতীয় হয়, তাহলে আগামী
৩ জুলাই শেষ ৩২-এর
লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে হওয়ার কথা
তাদের। তার আগেই বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় ইরান।
ইরানের অনুপস্থিতিতে বিশ্বকাপে কপাল খুলে যেতে পারে ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এই দুই দেশের যে কোনো একদল খেলবে ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে।

বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলের দু’টি প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছিলেন নেইমার। ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোসের তারকা ফুটবলারকে প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখেন কার্লো আনচেলোত্তি। তবে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার আগে নেইমারের চোটে পড়া তো অলিখিত নিয়ম। এবারও সেই নিয়মের বত্যয় ঘটেনি।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’ ও ‘ইউওএল’ এ খবর জানিয়েছে মাংসপেশিতে আবারও চোট পেয়েছেন নেইমার। আজ মিরাসলের বিপক্ষে সান্তোসের ম্যাচে খেলতে পারেনি ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এই ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ন ছিল নেইমারের জন্য। কারণ সেলেসাওদের কোচ আনচেলোত্তি এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখেই শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন যে সান্তোসের তারকাকে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা যাবে কি না।
বিশেষ এই ম্যাচটিতে খেলতে না পারায় নেইমারের ওপর চটেছেন সমর্থকদের একটি অংশ। একের পর এক চোট এমনিতে নিজের ওপরই বিরক্ত পিএসজির ও বার্সেলোনার সাবেক তারকা, এরমধ্যে সমালোচনা নেইমারের গায়ে অনেকটা কাঁটা গায়ে নুনের ছিটার মতোই লাগল।
সামাজিক মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আজ একটি ভিডিও পোস্ট করেন নেইমার। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচটি না খেলার কারণে যে সমালোচনার শিকার হয়েছেন তা নিয়ে মতামত জানান। নেইমার বলেন, তিনি নিজের প্রতি সমালোচনা বুঝতে পারছেন না, তবে নিশ্চিত যে তিনি যা কিছু করবেন, তার সমালোচকরা তা সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ করবেন।
নেইমার বলেন,
‘আমি যদি চোট নিয়ে খেলি, আমি দোষী। আমি যদি নিজের কথা ভাবি, আমি দোষী। আমি যদি নিজেকে সামলাই, আমি দোষী। আমি যদি ব্যথার মধ্যে খেলি, তাও আমিই খারাপ।’
নিজের জীবন নিয়ে নেইমার যেন ক্লান্ত-বিধ্বস্ত। ভিডি বার্তায় নেইমারের কণ্ঠে ছিল রাগ, অভিমান,
‘আমি হওয়া সত্যিই কঠিন… সবাইকে সন্তুষ্ট করা খুব কঠিন।’
নেইমার সবশেষ ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর। উরুগুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর ধারাবাহিক চোটের কারণে আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। এই মৌসুমে সান্তোসের হয়ে ৩টি ম্যাচ খেলে ২টি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেছেন নেইমার।

ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে বাধা নেই—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটাই জানিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ইরানকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেন এই বলে যে—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকলেও তা বিশ্বকাপে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
ফিফা প্রেসিডেন্ট আশার বাণী শুনালেও ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) সভাপতি মেহদি তাজ।
১১ জুন থেকে শুরু বিশ্বকাপ। ৪৮ দলের অংশগ্রহণে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ম্যাচ রয়েছে প্রধান হোস্ট যুক্তরাষ্ট্রে। যেখানে গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচ রয়েছে। শঙ্কাটা দ্বিগুণ তাতে।
যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাব শহরে একটি স্কুলে বোমা হামলার দায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপিয়েছে ইরান। এই হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিকে মেহদি বলেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি দুটি টুইটে আমাদের খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে লিখেছেন…এবং যদি অস্ট্রেলিয়া তা না করে, তাহলে তিনি সেটা করবেন। তিনি মিনাবে আমাদের শিশুদের হত্যা করে ১৬০ জনকে শহীদ করেছেন, আর এখন আমাদের মেয়েদের অপহরণ করছেন। এ পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে আশাবাদী হতে পারি?’
বিশ্বকাপের পাশাপাশি এএফসি উইমেন’স এশিয়া কাপে ইরানের পাঁচ নারী ফুটবলারের আশ্রয় গ্রহণ এবং জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন মেহেদি। তার মতে, ইরানের নারী ফুটবলারদের অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের আগে অপহরণ করা হয়েছে।
মেহেদি তাজ দাবি করেন, পাঁচ নারী খেলোয়াড়কে অপহরণ করা হয়েছে এবং দলকে অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের সময় বাধা দেওয়া হয়েছে, ‘খেলার পর দুঃখজনকভাবে অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করেছে এবং আমরা যে সংবাদ পেয়েছি, সে অনুযায়ী, হোটেল থেকে এক বা দুজন খেলোয়াড়কে বের করে নিয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়া সফরে আসা ইরান নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, আশ্রয় চাওয়া এক সদস্য তার সতীর্থদের সঙ্গে কথা বলার পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল ইরানের নারী ফুটবল দল। এর ঠিক আগে একজন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। এর আগে আরও পাঁচজন খেলোয়াড় একইভাবে আবেদন জানিয়েছিলেন।
এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গেয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন ইরানের ৫ ফুটবলার। তাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবামাধ্যমে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন তারা। দেশে ফিরলে নিপীড়নের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন ইরানের ঐ পাঁচ খেলোয়াড়।
আরও পড়ুন
| ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বৈঠক, ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সুখবর |
|
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সিডনি বিমানবন্দরে প্রতিটি খেলোয়াড়কে দল থেকে আলাদা করে ব্যক্তিগতভাবে ভাবার সময় দেওয়া হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ফুটবলারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনটি সম্পূর্ণ তার নিজস্ব ছিল।
বার্ক পার্লামেন্টে বলেন, ওই সদস্য দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করায় বাকি সদস্যদের অবস্থান জানাজানি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয়প্রার্থী বাকি সদস্যদের সেফ হাউস থেকে সরিয়ে অন্য গোপন স্থানে নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এবং আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরান নারী ফুটবল দলের অবশিষ্ট সদস্যরা আজ সকালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। ইরানের আকাশসীমা বর্তমানে বন্ধ থাকায় বিমান চলাচল স্বাভাবিক হলে তারা তেহরানের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়া সাতজনের ভবিষ্যৎ এখন অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

হার্ভি বার্নসের গোলের পর সেন্ট জ্যামস পার্কের গগনবিদারী চিৎকারে কান পাতা দায় হয়ে ওঠে। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনাকে তটস্থ রাখা নিউক্যাসল এগিয়ে থেকেই ক্যাম্প ন্যুতে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল। তবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগেই ভুলটা হয়ে যায়। গোল হজম করে জয়বঞ্চিত হয় স্বাগতিকরা, পিনপতন নিরবতা নেমে আসে গ্যালারিজুড়ে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গতকাল শেষ ষোলোর প্রথম লেগে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে নাটকীয় ড্র করে বার্সেলোনা। ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর ড্র নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেই খুশি বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক। বিপরীতে শেষ দিকে গোল হজমের আক্ষেপেও পুড়ছেন নিউক্যাসল কোচ এডি হাও।
ঘরের মাঠে ৮৬ মিনিটে স্বাগতিকদের হয়ে প্রাপ্য লিড এনে দেন বার্নস। কিন্তু ৯৪ মিনিটে ম্যালিক থিয়াওয়ের ফাউলে ডানি ওলমো পেনাল্টি আদায় করলে স্পট-কিক থেকে গোল করে সমতা ফেরান ইয়ামাল। জয়টা নিউক্যাসলেরই প্রাপ্য ছিল বলে মনে করেন ‘ম্যাগপাই’ কোচ হাও, ‘আমরা যে জয়টা প্রাপ্য ছিলাম, সেটা না পাওয়ায় আমি ভীষণ হতাশ। এটাই ফুটবল—এখানে রোমান্সের কোনো জায়গা নেই।’
আরও পড়ুন
| ট্রাম্প-ইনফান্তিনোর বৈঠক, ইরানের বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে সুখবর |
|
দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নিউক্যাসল কোচ আরও বলেন, ‘আজ আমাদের পারফরম্যান্সে অনেক ভালো দিক ছিল। অনেক মুহূর্তে আমরা নিজেদের সেরা রূপ দেখিয়েছি। মাঠে ও মাঠের বাইরে—ক্লাব হিসেবে এটা আমাদের জন্য দারুণ বিজ্ঞাপন ছিল। আমরা আমাদের কাজটা করেছি, সমর্থকেরাও কখনোই আমাদের নিরাশ করেনি—আজও করেনি।’
শেষ মুহূর্তে গোল হজম নিয়ে হাও বলেন, ‘ম্যাচের শেষ কিক থেকে গোল খাওয়া সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন। এক সেকেন্ডের জন্য মনোযোগ হারালেই তারা শাস্তি দেবে। পুরো ম্যাচে আমরা রক্ষণে দারুণ খেলেছিলাম।’
অবশ্য ড্র হলেও ম্যাচ এখনো উন্মুক্ত খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন নিউক্যাসল কোচ। আগামী বুধবার দ্বিতীয় লেগ খেলতে দলকে যেতে হবে স্পেনে। হাউ বলেন,
‘টাই এখনও পুরোপুরি জীবন্ত। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল খেলেছি এবং দেখিয়েছি যে নিজেদের সেরা দিনে আমরা বিশ্বের সেরাদের বিপক্ষেও খেলতে পারি।’
এদিকে ম্যাচ বার্সা কোচ স্পষ্টভাবেই স্বীকার করলেন, নিউক্যাসলই তুলনামূলক ভালো খেলেছে। শেষ দিকে বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের ক্লান্তও দেখাচ্ছিল। তবে দ্বিতীয় লেগে ‘ভিন্ন বার্সেলোনা’ দেখা যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ফ্লিক, ‘সম্প্রতি আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, আবার দলে কিছু চোটও আছে। মার্ক বার্নাল ও পেদ্রিও কিছুদিন মাঠের বাইরে থাকার পর ফিরছে। আমাদের উন্নতি করতে হবে—এটা পরিষ্কার। তবে ইতিবাচক দিক হলো ফলাফল। ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ড্র করা দারুণ ব্যাপার।’
১৮ মার্চ ক্যাম্প ন্যুতে হবে ফিরতি লেগ। ফ্লিকের বিশ্বাস, ঘরের মাঠে বার্সেলোনাকে চেনা রূপেই দেখা যাবে।