২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৯ পিএম

আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি) ফুটবলে কয়েকটি নিয়ম অনুমোদন করেছে। আসন্ন বিশ্বকাপ থেকেই কার্যকর করা হবে এসব নিয়ম।
ম্যাচের গতি বাধাগ্রস্ত করা কৌশল প্রতিরোধের জন্য কিছু নতুন ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে। ম্যাচের গতি কমে যাওয়া এবং সময় নষ্ট হওয়া রোধ করতে নতুন কিছু ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে গোল-কিক, থ্রো-ইন এবং সাবস্টিটিউশনের জন্য নতুন কাউন্টডাউন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে ভিডিও সহায়ক রেফারি (ভিএআর)-এর আওতায় কর্নার এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড যুক্ত করা হবে।
আইএফএবি শনিবার ওয়েলসের হেনসোল ক্যাসলে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন করেছে। এই পরিবর্তনগুলো ১ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রয়োগ করা হবে।
আইএফএবি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে অফসাইডে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা চালানো এবং খেলোয়াড়রা যখন প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হয় তখন মুখ ঢেকে রাখার ঘটনা প্রতিরোধে পরামর্শ নেওয়া। বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে মুখ ঢেকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগোর পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে মুখ ঢেকে ‘বানর’ বলার অভিযোগে শাস্তিও পেয়েছেন আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউয়েফা তাঁকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে।
আইএফএবি আরও পরীক্ষা চালাবে গোলকিপারের মাঠে চিকিৎসার সময় উদ্ভূত ‘কৌশলগত টাইমআউট’ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করার জন্য।
নতুন অনুমোদিত নিয়মগুলো হলো:
রেফারিরা থ্রো-ইন এবং ডেড-বল গোলকিকের জন্য পাঁচ-সেকেন্ড কাউন্টডাউন শুরু করতে পারবেন যদি মনে হয় খেলোয়াড়রা সময় নষ্ট করছে।
খেলোয়াড় বদলি সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড পাবে দলগুলো। না হলে সেই খেলোয়াড়কে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
যেকোনো খেলোয়াড়ের চোটের কারণে যদি খেলায় বিরতি হয়, তাকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে।
এই নিয়মগুলোর লক্ষ্য হলো ম্যাচের গতি বজায় রাখা এবং বিরতির জন্য অতিরিক্ত সময় কমানো, যা খেলোয়াড়দের কল্যাণ, দর্শক এবং সম্প্রচার সংস্থার সময়সূচির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আইএফএবি আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে গোলকিপারের কৌশলগত চোটের বিলম্ব নিয়ে পরীক্ষা চালানো হবে এবং এই আচরণ কমানোর জন্য সম্ভাব্য উপায় প্রস্তাব করা হবে।
নিয়ম অনুযায়ী:
ফুটবলে ভিএআর-এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি ঐচ্ছিক থাকবে। কর্নারের সময় ভিএআর ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু কিক নেওয়ার সময় কোনও বিলম্ব হবে না। এটি মূলত স্পষ্ট ভুল শনাক্তের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে এবং কোনো লিগ বা টুর্নামেন্ট কতৃপক্ষ চাইলে ব্যবহার করতে পারবে, না চাইলে ব্যবহার করা হবে না।
আর ভিএআর শুধু ভুলভাবে দেওয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পরীক্ষা করবে। যদি রেফারি মাঠে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড না দেখান, ভিএআর কখনও নতুন কার্ড দেওয়ার পরামর্শ দেবে না। অর্থাৎ ভিএআর কেবল ভুল ঠিক করার জন্য ব্যবহৃত হবে, নতুন করে কার্ড দেওয়ার জন্য নয়।
এছাড়া আইএফএবি রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ হিসেবে খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ে, বা যেখানে টিম কর্মকর্তা এমন আচরণ উস্কে দেয়, এবং যেখানে খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার সময় মুখ ঢেকে রাখার মতো বিষয় নিয়ে নতুন আইন আনার প্রক্রিয়া আছে।
No posts available.
৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ এম
৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৭ পিএম

বয়স ৪১ হলেও ধার কমেনি ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এক মাস পর মাঠে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন পর্তুগিজ মহাতারকা।
শুক্রবার রাতে সৌদি প্রো লিগে আল নাজমার বিপক্ষে জোড়া গোল করে আল নাসরকে ৫-২ ব্যবধানের বিশাল জয় উপহার দিয়েছেন রোনালদো।
এই জয়ের ফলে আল হিলালের চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেল লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আল নাসর।
আরও পড়ুন
| চ্যাম্পিয়ন দলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর আর্থিক পুুরস্কার ঘোষণা |
|
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আল ফায়হার বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন রোনালদো। এরপর চিকিৎসার জন্য স্পেনে গিয়ে তিন সপ্তাহের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে সৌদিতে ফেরেন তিনি।
ঘরের মাঠ আল আউয়াল পার্কে ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন রোনালদো। এরপর ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন।
এই জোড়া গোলের পর রোনালদোর ক্যারিয়ার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬৭ তে। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার পথে এখন মাত্র ৩৩ গোল দূরে আছেন তিনি।
সৌদি প্রো লিগে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়েও রোনালদো বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। বর্তমানে ইভান টোনির চেয়ে মাত্র ২ গোল পিছিয়ে থেকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন
| ইসলামবিদ্বেষ নিয়ে কড়া বার্তা হান্সি ফ্লিকের |
|
রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের রাতে উজ্জ্বল ছিলেন চোট কাটিয়ে ফেরা সাদিও মানেও। ম্যাচের দুই অর্ধে ইনজুরি টাইমে গোল করে তিনিও জোড়া পূর্ণ করেন। আল নাসরের হয়ে অন্য গোলটি করেন আব্দুল্লাহ আল হামদান।
এই জয়ের পর ২৭ ম্যাচে আল নাসরের সংগ্রহ এখন ৭০ পয়েন্ট। এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আল হিলাল। আজ আল তাওয়ানের বিপক্ষে জিতে ব্যবধান কমানোর সুযোগ রয়েছে হিলালের সামনে।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের তরুণরা।
ম্যাচ শেষে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী দলের লড়াকু মানসিকতার কথাই তুলে ধরেন,
'আমি চার বছর ধরে এটা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দিয়েছে। আমি একজনকে মিস করছি, আমার বন্ধু আশিক। ও থাকলে ভালো হতো। আমি এই ট্রফি তাঁকে উৎসর্গ করতে চাই।'
দেশের বাইরে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে গ্যালারিতে বাংলাদেশী সমর্থকদের ৯০ মিনিটের উল্লাসে খেলোয়াড়দের কাছে মনে হয়নি তারা দেশ থেকে অনেক দূরে আছেন। তাই সমর্থকদের প্রশংসা করে মিঠু বলেন,
'ফ্যানরা আমাদের অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। তাদের সাপোর্টের কারণে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। নেক্সট টাইম আমরা আরও ফ্যান চাইবো এবং আরও চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।'
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য থাকার পর ফাইনাল গড়ায় পেনাল্টি শু্যটে। যেখানে ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার মাহিন। খেলা শেষের প্রতিক্রিয়ায় মোহামেডান গোলকিপার বলেন,
'অসাধারণ। আমার কাছে মনে হয়েছে ২০ কোটি মানুষের স্বপ্ন রক্ষা করতে পেরেছি।'
অনূর্ধ্ব-২০ এর সদস্য মোর্শেদ বলেন,
'এক্সাইটেড ছিলাম, খুবই এক্সাইটেড। কি বলব! কিছু বলার ভাষা নেই। দেশবাসীর সঙ্গে দেখা হচ্ছে।'
আবদুল রিয়াদ ফাহিম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন,
'স্বপ্নের ফাইনাল, আলহামদুলিল্লাহ। সবার আগে আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আজকের জয় আমরা দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।'

মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই সঙ্গে তাদেরকে আর্থিকভাবে পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। কক্সবাজারে বসে প্রতিমন্ত্রী ফাইনাল খেলা দেখেছেন বলে জানা যায়।
শুক্রবার ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে নেপালকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
পুরুষদের বয়সভিত্তিক সাফে বাংলাদেশের জেতা দুটি শিরোপাই এসেছে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে। অনূর্ধ্ব-১৮-তে দুইবার এবং অনূর্ধ্ব-১৯-এ একবার ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি বাংলাদেশ। সেই হতাশা এবার মালদ্বীপে কিছুটা হলেও কাটল মোর্শেদ, সুলিভান ব্রাদার্স ও নাজমুল ফয়সালদের হাত ধরে।

দুই দলের আক্রমণাত্মক শুরুর পরও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। এরপর নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। টাইব্রেকারে ভারতের একটি শট ঠেকিয়ে নায়ক বনে যান গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন।
শুক্রবার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ ভারতকে (৪)০-০(৩) ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালেও শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ।
তবে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে গতবছর ভারতের কাছে পেনাল্টিতে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিদের। সেই ফাইনালের শোধও আজ নেওয়া হলো বাংলাদেশের।
চতুর্থ মিনিটে ডান দিকের কর্নারের কাছ থেকে রোহেন সিংয়ের ক্রসে বক্সে মাথা ছোঁয়ান আরবাশ। তবে বল বেরিয়ে যায় পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে। তিন মিনিট পর রোনানের শট সহজেই তালুবন্দি করেন ভারতীয় গোলকিপার সুরাজ সিং। প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশ গোলকিপার মাহিনের পরীক্ষা নেয় ভারত।
১৩ মিনিটে রোনারের দারুণ ফ্রি কিক থেকে বক্সে হেড নেন মিঠু। তবে অল্পের জন্য বল খুঁজে পায়নি জালের দেখা। অল্পের জন্য গোল না পেয়ে হতাশায় মুখ ঢাকেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
১৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মানিকের পাসে গোলমুখের সামনে রোনানের দারুণ প্রচেষ্টা আটকে দেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার।
৩২ মিনিটে বিপদ থেকে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। গোলকিপার মাহিন পোস্ট ছেড়ে কিছুটা উপরে উঠে আসেন, তবে বলের নাগাল পাননি। এ সময় বক্সের আশেপাশেই বল নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় ভারত, তখনও ফাঁকা পোস্ট; ডিফেন্ডারদের কল্যাণে এ যাত্রায় অরক্ষিত থাকে বাংলাদেশের পোস্ট। দুই মিনিট পর সেই একইভাবে উপরে উঠে এসে বাংলাদেশকে বিপদে প্রায় ফেলছিলেন মাহিন। এবারও রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা ছিলেন সজাগ।
৩৬ মিনিটে আবারও গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে ভারত। কর্নার কিকের পর গোলমুখের সামনে জটলা তৈরি হয়। একাধিক প্রচেষ্টার পর গোলে হেড নেন ভারতের জর্ডিক আবরানচেস। তবে অনায়াসেই বল গ্লাভসবন্দি করেন মাহিন।
যোগ করা সময়ে মোর্শেদের ফ্রি কিক ভারতীয় রক্ষণের দৃঢ়তায় ফিরে আসে। বক্সের একদম সামনে থেকে ফিরতি বলে অনেকটা ওভারহেড কিকের মতো শট নেন রোনান। তবে বল চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। এ সময় টানা আক্রমণে ভারতীয় রক্ষণকে নাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। যদিও গোল আদায় করতে পারেননি রোনান, মোর্শেদরা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুই দল।
৪৮ মিনিট থেকে ভারত আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল অটুট। ৫১ মিনিটে ভারত টানা আক্রমণ চালিয়ে বলের পজিশন নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করে। তবে ৫৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ।
ম্যাচের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ৬২ মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ আসে রোনানের সামনে। বক্সের সামনে থেকে মানিকের উড়িয়ে মারা বল বুক দিয়ে মাটিতে নামাতে চাইলে নিয়ন্ত্রণ হারান এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর থ্রো থেকে বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নেয় ভারত।
৬৬ মিনিটে নাজমুল ফয়সালকে তুলে ডেকলান সুলিভানকে মাঠে নামান বাংলাদেশ কোচ। ৮২ মিনিটে আরবাশের দূরপাল্লার শট বাংলাদেশের উপরের জাল কাঁপায়। পরের মিনিটে ৮ এর নিচু ক্রসে গোলমুখের সামনে বলে টোকা দেন রিসি যাদব। তবে বল চলে যায় দূরের পোস্ট ঘেঁষে।
৯০ মিনিটে প্রতি আক্রমণে উঠে বাংলাদেশ। তবে বক্সে ঢুকলে ডেকলানকে কর্নার করে দেন ভারতের ডিফেন্ডার বুনসং সিং। এরপর সেট পিসে অসফল হয় বাংলাদেশ।
যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সুলিভান ব্রাদার্সের জোড়া ক্যামিওতে গোলের ভালো সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ডেকলান ডানপ্রান্ত দিয়ে গতিময় দৌড়ে বক্সের দারুণ এক পাস দেন রোনানকে। তবে এই ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার আগে ভারতের গোলকিপার সুরাজ সিং আটকে দেন।
একটু পরই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। নিয়ম অনুযায়ী ৯০ মিনিট শেষে ফাইনাল নিস্পত্তি হওয়ার কথা ছিল পেনাল্টি শ্যুটআউটে। যেখানে আগে শট পায় ভারত।
প্রথম পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দেন মাহিন। ভারতের রিষি সিংয়ের নেওয়া নিচু শট ডান দিকে ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার। এরপর বা-পায়ের নিচু শটে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন মোর্শেদ।
নিজেদের দ্বিতীয় শটে মোহাম্মদ আরবাশ গতিময় শটে পরাস্ত করেন মাহিনকে। ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় শটে জাল কাঁপান চন্দন রায়।
তৃতীয় শটে স্যামসন সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের হাতে তখনও এক বাকি ছিল। আবদুল রিয়াদ ফাহিমের সফল স্পটকিকে আবার লিড নেয় বাংলাদেশ।
ভিশাল যাদব চতুর্থ শটে আবার সমতায় ফেরান ভারতকে। তবে বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাাকশাম টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে চাইলে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। দুই দলের চার শট নেওয়ার পর ৩-৩ সমতা বিরাজ করে। এরপর শেষ শট নিতে এসে একইভাবে মিস করেন ভারতের ওমাং দোদুম। ফাইনাল কিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি রোনান। চাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বিরতির পর ফিরল ক্লাব ফুটবলের রমরমা উৎসব। লা লিগায় শুরু হচ্ছে আজ। স্প্যানিশ লিগটিতে রিয়াল মাদ্রিদ মাঠে নামবে আগামীকাল। মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটিকে লিগের নয়টি ‘ফাইনালের’ একটি বলছেন লস ব্লাঙ্কোসদের কোচ আলভারো আরবেলোয়া।
লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে মৌসুমের শেষ অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক একটি ম্যাচেই বদলে যেতে পারে সমীকরণ। লা লিগায় পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে আছে রিয়াল মাদ্রিদ। ২৯ ম্যাচে ২২ জয়, ৩ ড্র ও ৪ হারে ক্লাবটির সংগ্রহ ৬৯। সমান ম্যাচ খেলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার চেয়ে চার পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা।
লিগে বাকি আছে আর নয়টি ম্যাচ। প্রতিটি ম্যাচকেই ফাইনাল ধরে এগোতে চান রিয়াল কোচ আরবলোয়া,
‘আমরা যারা এখানে থেকে কাজ করেছি, আমরা কঠোর এবং কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকালের ম্যাচ এবং ঘরের মাঠে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণভাবে সচেতন। প্রতিপক্ষও যেমন পয়েন্টের জন্য লড়ছে, আমরাও তেমনি। বিরতির পর মাঠে খেলতে সহজ হবে না। লা লিগায় আমাদের সামনে নয়টি ফাইনাল বাকি, এবং আগামীকাল প্রথম ফাইনাল।’
কোনো খেলোয়াড়ের চোট ছাড়া আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন আরবেলোয়া,
‘খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ভালোভাবে ফিরেছে। সৌভাগ্যক্রমে, সবাই নিরাপদ এবং সুস্থ রয়েছে, যা জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রার প্রথম উদ্দেশ্য। অধিকাংশ খেলোয়াড়ের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে—মিনিট পেয়েছে এবং উচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে।’
চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য দুটি শিরোপা জিততে পারে রিয়াল মাদ্রিদ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচ ধরে ধরে সতর্কতার সঙ্গে শেষ করতে চান আরবেলোয়া। ঘরের মাঠে কাল অবনমন অঞ্চলে থাকা মায়োর্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না বলছেন তিনি,
‘আমরা সেখানে পৌঁছেছি যেখানে আমরা চেয়েছিলাম—লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ উভয়ের জন্য লড়াই করতে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য আগামীকালের ম্যাচ জেতা, আর মায়োর্কা ম্যাচ শেষ হলে আমরা পরবর্তী ম্যাচের দিকে নজর দেব। প্রতিটি ম্যাচেই আমরা লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য খেলছি। কোনো ভুল করার সুযোগ নেই, এবং তাই আগামীকাল মাঠে নামার সময় আমাদের পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে—কারণ এটি একটি কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে।’
আন্তর্জাতিক বিরতির পর প্রায়ই বড় দলগুলোকে হোঁচট খেতে দেখা যায়। দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে খানিকটা বেগ পেতে হয় খেলোয়াড়দের। তবে শিষ্যরা প্রস্তুত বলেই মনে করছেন রিয়ালের কোচ,
‘বিরতির পর আবার ম্যাচের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় না, তবে আমি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ, তাদের ইচ্ছা, মনোভাব, মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসে ভরসা করি। আমি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও প্রেরণা দেখছি। তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের জন্য লড়াই করতে, জানি যে এটি সহজ হবে না।’