
ফিফা বিশ্বকাপে খেলা থেকে অনেক দূরে আছে পাকিস্তান। র্যাঙ্কিংয়েও তাদের অবস্থান নাজুক। তবে এই দলটিই পেয়ে যেতে পারে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সঙ্গে ম্যাচ খেলার সুযোগ। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এই বিষয়ক আলোচনা।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও সুপার জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএফ)। একই সঙ্গে ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার পথ খুঁজছে দুই দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পিএফএফ ও এএফএর মধ্যে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সম্ভাব্য প্রীতি ম্যাচের পাশাপাশি পাকিস্তানের ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করতে কারিগরি সহায়তার বিষয়টিও উঠে আসে।
আলোচনায় কোচিং উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও নির্দিষ্ট পরিকল্পনার আওতায় আর্জেন্টিনার কোচদের পাকিস্তান সফরের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রীতি ম্যাচটি বাস্তবায়িত হলে তা ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের পর আয়োজন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আগে দুই পক্ষ লজিস্টিক ও কারিগরি বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করবে।
পিএফএফ সভাপতি সৈয়দ মহসিন গিলানির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে সক্রিয় পাকিস্তান। শক্তিশালী ফুটবল দেশের বিপক্ষে এমন একটি ম্যাচকে নিজেদের মানোন্নয়নের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে তারা।
আর্জেন্টিনায় পাকিস্তান দূতাবাস জানিয়েছে, ‘এএফএ পাকিস্তান’ উদ্যোগ চালুর পর দুই ফেডারেশনের মধ্যে ফলপ্রসূ বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোবদ্ধ অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষ।
রাষ্ট্রদূত হাসান আফজাল খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পিএফএফ প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি এএফএর বিপণন পরিচালক ফ্রান্সিসকো লেম্মিও উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের ফুটবল অঙ্গনের সঙ্গে কার্যকর সম্পৃক্ততা গড়ে তোলাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য।
তবে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। প্রীতি ম্যাচ বা উন্নয়ন কর্মসূচি- কোনোটিই এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আরও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
No posts available.
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১৮ পিএম
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৬ পিএম

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) নিয়মানুযায়ী সাফ দেশের খেলোয়াড়েরা লোকাল হিসেবে খেলতে পারবেন। সেই কোটায় আজ পাকিস্তানের চারজনকে খেলিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এছাড়া বিদেশি কোটায় গিনির দুজন এবং সেনেগালের একজনকে মাঠে নামান কোচ ওমর সিসে। সব মিলিয়ে গোপীবাগের ক্লাবটিতে এই ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন দেশের বাইরের পাসপোর্টধারী সাতজন। কিন্তু এমন দল নিয়েও তারা হেরেছে পিডব্লিউডি এসসির বিপক্ষে।
মুন্সীগঞ্জের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শনিবার মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে পিডব্লিউডি। দুই অর্ধে দুই গোল করেছেন পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত দেভেসা তারেক। ব্রাদার্সের হয়ে এক গোল শোধ দেন শায়েক দোস্ত। লিগে দুই দলের প্রথম দেখায় গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
এই জয়ে পিডব্লিউডি বেরিয়ে গেছে রেলিগেশন জোন থেকে। তারা ধরে ফেলেছে ব্রাদার্সকে। ১৩ ম্যাচে তিন জয়, চার ড্র এবং ৬ পরাজয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে উঠে এসেছে পিডব্লিউডি। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেয়ে তালিকার সাতে ব্রাদার্স। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে বসুন্ধরা কিংস। সমান ২৫ পয়েন্ট তালিকার দুই ও তিনে থাকা আবাহনী ও ফর্টিসের।
এদিন একাদশ মিনিটে গোলে প্রথম শট নেয় ব্রাদার্স। বক্সের সামনে থেকে নেওয়া পাকিস্তানী মিডফিল্ডার আলমগীর গাজীর জোরালো শট আশা দেখিয়েছিল ব্রাদার্সকে। তবে পিডব্লিউডির গোলকিপার বাঁ-দিকে ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন।
তিন মিনিট পর ব্রাদার্সকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পিডব্লিউডির মারাত দেভেসা তারেক। ডান দিকে দিয়ে উপরে উঠে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার সিফাতকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেই ক্রস দেন রাতুল। গোলমুখের সামনে টোকায় বল জালে জড়ান পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড।
২৫ মিনিটে বক্সের সামনে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক একটুর জন্য জালের খোঁজ পায়নি। দুই মিনিট পর সিফাতকে তুলে ইনসানকে মাঠে নামান ওমর সিসে। ৩০ মিনিট পর টানা তিনটি কর্নার তুলে নেয় পিডব্লিউডি। যদিও সেখান থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি তারা।
৩৬ মিনিটে কেরফালা বক্সে ঢুকে জটলার মধ্যে পড়েন, তিন-চারজনকে কাটালেও শট নিতে পারেননি। সেখান থেকে বল তুলে দেন শায়েক দোস্তের পায়ে। পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড শট নিলে অনায়াসেই গ্লাভসবন্দি করেন পিডব্লিউডি গোলকিপার।
৩৮ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে আলমগীরের ক্রসে বলে মাথা ছোঁয়ান মনির। তবে হেডে গতি না থাকায় সহজেই বল ধরে ফেলেন পিডব্লিউডির গোলকিপার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পিডব্লিউডির রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্রাদার্স। ৪৫ মিনিটে গোলে ভালো সুযোগ নেয় দলটি। বাঁ-দিক থেকে আসা শায়েকের ক্রসে আলমগীরের হেডে বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স। চার মিনিটের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ফাকা পোস্টেও হেডে গোল করতে পারেননি আলমগীর গাজী। পরের মিনিটে এই ফরোয়ার্ডের আরেকটি নিচু শট ছিল গোলকিপার বরাবর। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাদার্স।
৬৩ মিনিটে রাতুলের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন জামাল। এরপর ব্রাদার্স অধিনায়কের ক্রসে হেডে গোল করে শায়েক দোস্ত দলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
৭১ মিনিটে ভালো জায়গায় ক্রস পেয়েও গোল করতে পারেননি পিডব্লিউডির মিডফিল্ডার স্বাধীন। এগিয়ে যেতে দুই দলই বেশ চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি হজম করে পিছিয়ে পড়ে ব্রাদার্স। ৮৪ মিনিটে মানাত তারেক বটম কর্নার দিয়ে নিচু শটে পিডব্লিউডিকে পেনাল্টি থেকে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বাকি সময় চেষ্টা করেও দুই দল পায়নি গোলের দেখা।

রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান
ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে আবারও ট্রান্সফার বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইউরোপের
বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও ইংলিশ ক্লাব চেলসি
স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা তাঁকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী নয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদন, ভিনিসিয়ুসের এজেন্ট ইউরোপের একাধিক ক্লাবে সম্ভাব্য দলবদলের বিষয়ে যোগাযোগ
করেছেন। তবে বেশিরভাগ ক্লাবই এখনই এই ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ
দেখায়নি।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে
গুঞ্জন উঠেছিল, চেলসি ভিনিসিয়ুসকে দলে নিতে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বিশাল প্রস্তাব
দিতে পারে, যা হলে ইংলিশ ফুটবলে রেকর্ড হতো। তবে সেই সময়ই বিষয়টিকে জল্পনা হিসেবে উল্লেখ
করা হয়েছিল।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে
ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে। তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে ধীরগতির
কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটির পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত
দেওয়া হয়েছে, নতুন চুক্তি না হলে বড় অঙ্কের প্রস্তাব এলে তাঁকে বিক্রি করার বিষয়টি
বিবেচনায় আনা হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক এক ফরাসি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবই এখনই ভিনিসিয়ুসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সক্রিয়
নয়। এমনকি আর্থিকভাবে বড় খরচে অভ্যস্ত চেলসিও এই মুহূর্তে তাকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা
করছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
চেলসির বর্তমান পরিকল্পনা
নিয়েও চলছে পুনর্গঠন। ক্লাবটির কোচ লিয়াম রোজেনিয়র জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও
দল শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালনা বিভাগের সঙ্গে তারা
মিলেই নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন। তবে তাঁর মতে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান
সময়ের পারফরম্যান্সও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ক্লাবের লক্ষ্য শুধু পরিকল্পনা
নয়, মাঠের ফলাফলেও উন্নতি আনা।
প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের
অবস্থান শক্ত করতে চেলসি এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। আগামী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, যেখানে পয়েন্ট টেবিলের লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরেকটি ট্রফিশূন্য মৌসুমের
পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ-আউটে নতুন মুখ আসা প্রায় নিশ্চিত বললে ভুল হবে না। আলভারো আরবেলোয়ার
স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সেটা নিয়েই এখন যত জল্পনা-কল্পনা। বড় ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতার
সঙ্গে বড় তারকাদের সামলাতে পারেন এমন কাউকেই চাওয়ার কথা ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির।
জাবি আলোনসো বিদায় নেওয়ার
পরই রিয়ালের কোচ হতে পারেন এমন সম্ভাব্য নামের মধ্যে ইয়র্গেন ক্লপের নাম নিয়েই বেশি
উচ্চরিত হয়েছে। লিভারপুলের কিংবদন্তি এই কোচ আপাতত কোচিং থেকে দূরে থাকলেও ‘লস ব্লাঙ্কোসদের’
দায়িত্ব নিতে পারেন বলে ধারণা অনেকের। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক
ম্যানেজার ফেলিক্স মাগাথ তো রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আদর্শ পছন্দ
হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে দেখছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক ম্যানেজার ফেলিক্স মাগাথ এখনও ফুটবল বিশ্বের
অন্যতম এক শ্রদ্ধেয় নাম।
বিশেষ করে তারকাখচিত দল সামলানোর ক্ষেত্রে
তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। 'উইনউইন'-কে দেওয়া এক
সাক্ষাৎকারে ৭২ বছর বয়সী
এই জার্মান কোচ বিভিন্ন বিষয়ে
কথা বলেছেন, যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের
মধ্যকার চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল
ম্যাচটি ছিল আলোচনার মূল
কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া রিয়ালের ভবিষ্যৎ
কোচ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
স্পেনে মাগাথের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে রাউল গঞ্জালেসকে নিয়ে
তাঁর কাজের জন্য। রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার
রাউল গঞ্জলেজ বুন্দেসলিগার ক্লাব শালকে ০৪-এ থাকাকালীন ক্যারিয়ারের
দ্বিতীয় সোনালি সময় ফিরিয়ে এসেছিল
মাগাথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার
নৈপুণ্যেই। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের ছেলে এবং
ক্লাবের কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কীভাবে সামলাতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা
মাগাথের বেশ ভালোই আছে।
আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে পছন্দের
তালিকায় আরেকজন জার্মান কোচকে সবার চেয়ে এগিয়ে
রেখেছেন।
মাগাথ বলেন, ‘ক্লপই হবেন রিয়ালের জন্য
সঠিক ব্যক্তি। লিভারপুলে তিনি অসাধারণ কাজ
করেছেন এবং বড় মাপের খেলোয়াড়দের
কীভাবে সামলাতে হয় তা তিনি
ভালো করেই জানেন। রিয়ালের
ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁর
আছে।’
মাগাথ মনে করেন, রিয়াল
মাদ্রিদের কোচের পদটি একটি বিশেষ
যোগ্যতার দাবি রাখে। বিশেষ করে
বিশ্বসেরা তারকাদের নিয়ে গড়া একটি
দল সামলানোর চাপ ও জটিলতার
কথা মাথায় রাখলে। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি
আরবেলোয়ার কোচিং অধ্যায়ে হওয়া ব্যর্থতাগুলোর প্রতি
কিছুটা সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কোনো
নির্দিষ্ট ব্যক্তির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক বেশি গভীর।
আরবেলোয়ার গত কয়েক মাসের
কাজ নিয়ে মাগাথ বলেন,
‘এই পরিস্থিতি যেকোনো কোচের জন্যই কঠিন হতো।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের
বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অন্যতম প্রধান আলোচনার
বিষয় ছিল দুই দলের
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে শেষ মুহূর্তে
এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার লাল কার্ড দেখা।
অনেকের মতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ফরাসি এই মিডফিল্ডার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ
ছাড়লে। মাগাথ অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি, ম্যাচের
ফলে এর সামগ্রিক প্রভাবকে
তিনি খুব একটা বড়
করে দেখেননি, ‘এটি সঠিক সিদ্ধান্ত
ছিল না। লাল কার্ডটি
খুবই কঠোর ছিল। আমার
মতে, ওই খেলোয়াড়কে মাঠ
থেকে বের করে দেওয়ার
কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
মাগাথ আরও যোগ করেন, ‘তা সত্ত্বেও, সত্যি
বলতে এটি এই লড়াইয়ের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল না। আমরা
এখানে দুটি পূর্ণ ম্যাচ
বা ১৮০ মিনিটের কথা
বলছি, আট বা দশ
মিনিটের নয়। সামগ্রিকভাবে, বায়ার্ন
ভালো খেলেছে এবং তারাই কোয়ালিফাই
করার যোগ্য ছিল।’

২০২২-২৩ মৌসুম ম্যানচেস্টার
সিটির ইতিহাসে স্বর্ণক্ষরে লেখা থাকবে। এই মৌসুমেই ইংলিশ ক্লাবটি ‘ট্রেবল’ জিতেছিল।
ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছিল পেপ গার্দিওলার দলের হাত ধরে। ম্যানচেস্টার
সিটির ঐতিহাসিক 'ট্রেবল' জয়ের সেই মৌসুমের এক সেট মেডেলই নাকি নিলামে উঠতে যাচ্ছে!
তবে কোন খেলোয়াড় বা স্টাফ সদস্য এগুলো বিক্রি করছেন, তাঁর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে—যা
এই নিলামকে ঘিরে এক রহস্যের সৃষ্টি করেছে।
ক্রীড়া স্মারক নিলামকারী
শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাডস’ নিশ্চিত করেছে, পাঁচটি মেডেলের এই ‘অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক
সেটটি’ চলতি মাসের শেষের দিকে নিলামে তোলা হবে। আগামী ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ‘মেড ইন ম্যানচেস্টার
লাইভ’ নিলামের অংশ হিসেবে এগুলো বিক্রি করা হবে। এই সেটে রয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, এফএ
কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের মেডেল।
প্রিমিয়ার লিগের মেডেলটি
তার আসল বক্সসহ পাওয়া যাবে, যার উল্টো পিঠে ‘চ্যাম্পিয়নস ২০২২-২৩’ লিখা খোদাই করা আছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের মেডেলটিতেও খোদাই করা লেখা এবং রিবন (ফিতা) রয়েছে। অন্যদিকে, এফএ
কাপের মেডেলটির সঙ্গেও থাকছে এর আসল ফিতা এবং মেডেল রাখার বিশেষ কেসটি।
এই মেডেল সংগ্রহের তালিকায়
আরও দুটি মেডেল রয়েছে—২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার সিটির জেতা উয়েফা সুপার কাপ এবং ফিফা
ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ।
ইংলিশ সংবাদমাধ্যম ডেইল
মেইল স্পোর্টস-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ‘বাডস’ নিশ্চিত করেছে যে, এগুলো ট্রেবল
জেতা মৌসুমের অফিশিয়াল মেডেল সেট। তবে বিক্রেতা নিজের পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিলামকারী প্রতিষ্ঠানটি
জানায়, ‘মেডেলের এই চমৎকার সংগ্রহটি সংগ্রাহক, ভক্ত এবং ফুটবল ইতিহাসের বিনিয়োগকারীদের
জন্য এক বিরল সুযোগ। ম্যানচেস্টার সিটির সেই ঐতিহাসিক মৌসুমের স্মারক নিজের করে নেওয়ার
জন্য তারা এখানে বিড করতে পারবেন।’ তারা আরও যোগ করে, ‘আমরা এই নিলামটি আয়োজন করতে
পেরে অত্যন্ত উৎসাহিত এবং আশা করছি এটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হবে।’
আগামী ২৮ এপ্রিলের সরাসরি
নিলামের আগে ওপেনিং বিড শুরু হয়েছে ৩০ হাজার পাউন্ড থেকে। বাডস-এর ধারণা, পুরো সেটটি
৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার পাউন্ডে (বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৮৩ লাখ থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ
টাকার মতো) বিক্রি হতে পারে।
২০২২-২৩ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার
ম্যানসিটি তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালের চেয়ে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে প্রিমিয়ার
লিগ শিরোপা জিতেছিল। এরপর তারা নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে
হারিয়ে এফএ কাপ জয় করে। সবশেষে ইস্তাম্বুলে ইন্টার মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের
প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে তারা, যেখানে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেছিলেন
রদ্রি।
এরপর আগস্টে সেভিয়াকে পেনাল্টিতে
হারিয়ে উয়েফা সুপার কাপ এবং ডিসেম্বরে সৌদি আরবে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সকে ৪-০
গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ নিজেদের করে নেয় গার্দিওলার শিষ্যরা।
চলতি মৌসুমে সিটির ট্রফি
কেবিনেটে যোগ হতে পারে তিনটি শিরোপা। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে রিয়াল মাদ্রিদের
কাছে দুই লেগেই হেরে বিদায় নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। আর প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল থেকে
এক ম্যাচ কম খেলে তিন পয়েন্ট কম নিয়ে দুই নম্বরে আছে সিটিজেনরা।
এছাড়া গানার্সদেরই হারিয়ে
লিগ কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। বাকি থাকল এফ এ কাপ। এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে
গার্দিওলার দলের প্রতিপক্ষ শেষ আটে মিকেল আরতেতার আর্সেনালকে বিদায় করে দেওয়া সাউদাম্পটন।

সমীকরণ এখন খুব সরল। ম্যানচেস্টার সিটি-আর্সেনাল ম্যাচের জয়ী দলের জন্য প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের পথ হবে উজ্জল। এই একটি ম্যাচই নির্ধারণ করে দিতে পারে তাদের এবারের মৌসুমের ভাগ্য - এবং সম্ভবত আর্সেনালের কোচ হিসেবে মিকেল আরতেতার ভবিষ্যৎও। টেনশন বা স্নায়ুচাপ দূর করার জন্য যদি কোনো ‘ভিটামিন’ থাকত, তবে আর্সেনাল খেলোয়াড়রা নিশ্চিতভাবেই তা গ্রহণ করত।
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে আগামীকাল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান পোক্ত করার লড়াইয়ে নামছে আর্সেনাল। টেবিলের শীর্ষে থাকা গানার্সরা বর্তমানে সিটির চেয়ে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে। তবে পেপ গার্দিওলার দলের চেয়ে দুটি ম্যাচ বেশি খেলেছে আরতেতার দল। জয় পেয়েছে তারা।
আর্সেনাল সবশেষ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে ২০০৩-০৪ মৌসুমে। সমর্থকদের এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সাফল্যের তৃষ্ণা মাঝেমধ্যে কিছু উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে নিজেদের ঘরের মাঠে। লিগে সর্বশেষ বোর্নমাউথের কাছে হারের আগে ভক্তদের উদ্দেশ্য দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় আরতেতা বলেছিলেন,
‘দুপুরের খাবার আর রাতের খাবার সঙ্গে করেই নিয়ে আসুন (অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আসুন), চলুন আমরা সবাই মিলে এক হয়ে লড়ি।’
শেষ পর্যন্ত বোর্নমাউথের কাছে ২-১ ব্যবধানে হারের পর দর্শকরা আরতেতার দলকে দুয়োধ্বনি দিয়ে মাঠ ছাড়ে। এর ঠিক চার দিন পরেই ছিল স্পোর্টিংয়ের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ, যেখানে স্নায়ুচাপ থাকাটা ছিল খুবই স্বাভাবিক।
রোববারের এই মহা-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আর্তেতা চাইছেন না সেই মানসিক চাপ মাঠের পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব ফেলুক,
‘সাফল্যের এই আকাঙ্ক্ষাই সবার জন্য 'ভিটামিন' হওয়া উচিত। আমরা যা-ই করি না কেন, এই জেদটাই যেন আমাদের আরও ভালো করার প্রেরণা দেয়; যেন আমাদের ক্ষুধা আর ইচ্ছাশক্তি নেতিবাচক চিন্তার বদলে ইতিবাচক ড্রাইভিং ফোর্স হিসেবে কাজ করে।’
টানা তিনবার রানার্স-আপ হওয়া এবং দীর্ঘ ২২ বছর লিগ শিরোপার প্রতীক্ষায় থাকা আর্সেনাল সমর্থকদের জন্য শিরোপার চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্নায়ুচাপে ভোগার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। ৬ পয়েন্টে এগিয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকা কোনো দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠা কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও, আর্সেনালের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, খেলার ধরন এবং ফলাফলের যে নিম্নগতি দেখা গেছে, তার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সচরাচর আরতেতার দল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখে খেলে এবং প্রতিপক্ষকে তাদের নিজেদের অর্ধে চেপে ধরে রেখে ধীরে ধীরে পরাস্ত করে। কিন্তু যখন কোনো প্রতিপক্ষ এই কৌশলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তখনই গানার্সদের খেলায় অস্থিরতা ফুটে ওঠে এবং তাদের খেলার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
আর্সেনাল স্কোয়াড বর্তমানে প্রতিভায় ঠাসা। সমর্থকরা প্রায়ই হতাশ হন যখন দেখেন তাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা মাঠে নিজেদের সহজাত সামর্থ্য বা সৃজনশীলতা পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারছেন না। তবে আর্তেতা এই নিয়ন্ত্রিত কৌশলেই খেলছেন কারণ তিনি মনে করেন এটিই আর্সেনালকে চ্যাম্পিয়ন করার সেরা উপায়; আর যদি তারা শিরোপা জিততে পারে, তবে খুব কম মানুষই তাঁর এই পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দর্শকদের কাছ থেকে আসা দুয়োধ্বনি খুব একটা পাত্তা দেননি আরতেতা। স্প্যানিশ এই কোচ বরং বলেছেন, সমর্থকদের এই ক্ষোভ
‘সঠিক জায়গা থেকেই (সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা থেকে) আসছে।’