১৭ মে ২০২৬, ৩:২০ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য প্রাথমিক দল আগেই ফিফার কাছে জমা দিয়েছে ইরান। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বড় ধাক্কা খেয়েছে টিম মেল্লিরা। তুরস্কে চূড়ান্ত ক্যাম্পের জন্য দেশ ছাড়ার আগে ৩০ সদস্যের দলে জায়গা পাননি অভিজ্ঞ ও তারকা স্ট্রাইকার সর্দার আজমুন। এখান থেকেই ২৬ জনের স্কোয়াড দেবেন কোচ আমির ঘালিনোই।
আল জাজিরা ও ইয়াহু স্পোর্টসের প্রতিবেদন, সরকারের প্রতি ‘অবিশ্বস্ততার’ অভিযোগে সর্দার আজমুনকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সরকারের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে আজমুনকে জাতীয় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলির হয়ে খেলছেন। গত মার্চ মাসে দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে একটি সাক্ষাতের ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন আজমুন। ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুদ্ধের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে এই ছবি প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয় দেশটির সরকার ও ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি মার্চ মাসেই জাতীয় দলের এক অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, আজমুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আজমুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবিটি সরিয়ে নিলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁকে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়। ইরানের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করা এই তারকা স্ট্রাইকার গত দুটি বিশ্বকাপেও দলের অন্যতম মূল ভরসা ছিলেন।
আজমুনের অনুপস্থিতিতে এবার ইরানের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড মেহেদি তারেমি। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা তারেমি বর্তমানে গ্রিসের ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।
ইরানের কোচ আমির ঘালিনোই জানিয়েছেন, আজ ৩০ সদস্যের এই দল নিয়ে তুরস্কে ক্যাম্প করতে যাবে ইরান। সেখানে অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি ফুটবলারদের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ জুনের মধ্যে এই এখান থেকে চূড়ান্ত ২৬ জনের দল ঘোষণা করতে হবে।
আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরান। ‘জি’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর।
No posts available.
২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। সোমবার রাতে ঘরের মাঠে বার্নলিকে হারিয়েছে গানার্সরা।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালের জয় ১-০ ব্যবধানে। ম্যাচের জয়সূচক গোলটি করেন জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।
এই জয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে গেল মিকেল আরতেতার দল।
অবনমন নিশ্চিত হয়ে যাওয়া বার্নলি শুরু থেকেই কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে সেই ডেডলক ভাঙেন হাভার্টজ। বুকায়ো সাকার কর্নার কিক থেকে চমৎকার এক হেডে বল জালে জড়ান তিনি। চলতি মৌসুমে কর্নার থেকে এটি ছিল আর্সেনালের ১৮তম গোল।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য আক্রমণ বজায় রাখে আর্সেনাল। সেই সুযোগ ও এসেছিল গানারদের সামনে। মিডফিল্ডার এবারোচি ইজের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে ব্যবধান ২-০ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা।
এই জয়ের পর ৩৭ ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট এখন ৮২। এক ম্যাচ কম খেলে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। আজ মঙ্গলবার রাতে বোর্নমাউথের মুখোমুখি হবে পেপ গার্দিওলার দল। এই ম্যাচে সিটিজেনরা যদি হেরে যায়, তবে কোনো সমীকরণ ছাড়াই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে আর্সেনাল।
ম্যান সিটির ম্যাচের দিকে নজর থাকবে আর্সেনাল কোচেরও। ম্যাচ শেষে আরতেতা রসিকতা করে বলেন, ‘আজ আমি বোর্নমাউথের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভক্ত বনে যাব। আমি টিভির সামনেই থাকব, তবে কতটা চাপ সহ্য করে ম্যাচটা দেখতে পারব তা জানি না।‘
যদি ম্যানচেস্টার সিটি আজ জিতে যায়, তবে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী রোববারের শেষ দিনে। সেক্ষেত্রে শেষ ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় পেলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে গানারদের।
গায়েল কাকুতার প্রত্যাবর্তন এবং জর্থি মকিওরের বাদ পড়া; এই বড় দুটি ঘটনার মধ্য দিয়ে সোমবার ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে ২৬ সদস্যের এই চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন।
দীর্ঘ ৫২ বছর পর এই আবার বিশ্বকাপে ফিরেছে ডি আর কঙ্গো। এবারের ঐতিহাসিক যাত্রায় বেলজিয়ামের ঘেন্টে জন্ম নেওয়া ১৮ বছর বয়সী বহুমুখী প্রতিভা মকিওরের কোনো জায়গা হয়নি। মকিও চলতি মৌসুমে ইরেডিভিসিতে (ডাচ লিগ) আয়াক্সের হয়ে ২৬টি ম্যাচ খেলেছেন এবং কোচ দেসাব্রের নজর কেড়েছিলেন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে বেলজিয়ামের হয়ে অভিষেক হওয়া সত্ত্বেও মকিও তাঁর বাবা-মায়ের দেশ কঙ্গোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তের পুরস্কার তিনি কতটুকু পেলেন সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দেশটির ফুটবল সমর্থকদের মধ্যে।
ফরাসি কোচ দেসাব্রে মূলত সেইসব খেলোয়াড়দের ওপরই আস্থা রেখেছেন যারা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে (আফকন) মধ্য আফ্রিকার এই দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে অধিনায়ক চান্সেল এমবেম্বা, সেড্রিক বাকাম্বু এবং স্যামুয়েল মুতুসামির মতো চেনা মুখগুলো সবাই দলে আছেন।
ডিআর কঙ্গো এর আগে একমাত্র ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছিল। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। এর ছয় দিন পর জাপোপানে তারা কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে। ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তারা গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে।
ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলরক্ষক: টিমোথি ফায়ুলু (এফসি নোয়াহ), লিওনেল এমপাসি (লা অভ্র), ম্যাতিউ এপোলো (স্ট্যান্ডার্ড লুইক)।
ডিফেন্ডার: অ্যারন ওয়ান-বিসাকা (ওয়েস্ট হ্যাম), গেডিয়ন কালুলু (আরিস), চান্সেল এমবেম্বা (লঁস), স্টিভ কাপুয়াদি (উইদজেভ লডজ), অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে (বার্নলি), ডিলান বাতুবিৎসিকা (লারিসা), রকি বুশিরি (হাইবার্নিয়ান), আর্থার মাসুয়াকু (আরসি লঁস), জোরিস কায়েম্বে (কেআরসি জাঙ্ক)।
মিডফিল্ডার: স্যামুয়েল মুতুসামি (অ্যাট্রোমিটোস), এনগাল'আয়েল মুকাউ (লঁস), গায়েল কাকুতা (লারিসা), চার্লস পিকেল (এস্পানিওল), নোয়াহ সাদিকি (সান্ডারল্যান্ড), ইডো কায়েম্বে (ওয়াটফোর্ড)।
আক্রমণভাগ: থিও বঙ্গোন্ডা (স্পার্তাক মস্কো), নাথানায়েল এমবুকু (মন্টপিলিয়ার), সেড্রিক বাকাম্বু (রিয়াল বেতিস), সাইমন বাঞ্জা (আল-জাজিরা), ফিস্তোন মায়েলে (পিরামিডস এফসি), ব্রায়ান সিপেঙ্গা (সিডি কাস্তেলন), ইয়োয়ান উইসা (নিউকেসল), মেশাক এলিয়া (আলানিয়াস্পোর)।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ছিল নানা জল্পনা। বিশেষ করে নেইমার জুনিয়র থাকবেন কি না তা নিয়ে ছিল সমর্থকদের তুমুল আগ্রহ। শেষ পর্যন্ত নেইমারকে রেখেই আজ রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছেন হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে দল ঘোষণার জন্য স্টেজে ওঠেন আনচেলত্তি। প্রায় এক ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর দল ঘোষণার আগে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই ২৬ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল, কারণ এই দেশে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আমি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলাম যে এখানে প্রচুর প্রতিযোগিতা রয়েছে, এবং সেটাই সত্যি। আমি খুব ভালো করেই জানি যে, আমাদের সাথে থাকা কিছু খেলোয়াড় এই তালিকাটি দেখে খুশি হবেন না। আমি তার জন্য সত্যিই দুঃখিত। যারা আমাদের সাথে ছিলেন এবং যারা (দলে) থাকতে পারেননি, অথচ এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার জন্য দুর্দান্ত চেষ্টা করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
প্রাথমিক বক্তব্যের পর আনচেলত্তি দল ঘোষণা শুরু করেন আলিসন বেকারের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে। তিনি একে একে পড়তে থাকেন ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, এন্দ্রিকদের নাম। অবশেষে নেইমারের নাম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হলরুমে করতালিতে মুখোর হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের নেইমার খেলেন ঘরের মাঠে ২০১৪ সালের আসরে। সেবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় তাঁকে নিয়ে উন্মাদনা ছিল আকাশচুম্বী। টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে ৫ ম্যাচে ৪টি গোল করেছিলেন তিনি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হুয়ান জুনিগার মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। ফলে জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি খেলতে পারেননি।
এরপর পায়ের পাতার চোট কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট না হয়েও তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন। ওই আসরে তিনি ২টি গোলও করেন। তবে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল দল:
গোলকিপার : আলিসন বেকার, এদেরসন, ওয়েভেরতন।
ডিফেন্ডার: আলেক্সা সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেস, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনহো, লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: এন্দ্রিক, গাব্রিয়েল মার্তিনেলি, ইগোর থিয়াগো, লুইস এনরিকে, মাথিয়েউস কুনহা, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।

ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ। ৪০ বছর বয়সী এসি মিলানের এই প্লেমেকার অবশ্য পুরোপুরি সুস্থ নয়। এপ্রিলের শেষের দিকে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচে মাথায় আঘাত পান। সেজন্য তাঁকে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে। তবে কোচ জ্লাতকো দালিচ ২৬ সদস্যের দলে রেখেছেন ২০১৮ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ীকে।
কোচ দালিচ বলেন,
‘সে (মডরিচ) মুখে একটি মাস্ক পরে অনুশীলন করছে এবং ভালো করছে। সম্ভবত বিশ্বকাপের আগের বিরতিতে সে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। আমরা তাঁর অবস্থা দেখব, তবে তাঁকে নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। সে ভালো ফর্মে থাকবে।’
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও টটেনহ্যাম তারকা মডরিচ ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২২ সালে সেমি-ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটি হতে যাচ্ছে তাঁর পঞ্চম বিশ্বকাপ।
গত জানুয়ারি মাসে পা ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার জোকো গাভার্দিওলকেও ক্রোয়েশিয়া দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দালিচ জানান, ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেওয়া হবে যাতে তিনি আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য নিজের ফর্ম ফিরে পান। ক্রোয়েশিয়া কোচ বলেন,
‘আমরা আশা করি সে খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সে আমাদের জন্য বড় একটি শক্তি হবে।’
গাভার্দিওলের সিটি সতীর্থ মাতেও কোভাচিচ ছাড়াও ইংল্যান্ডে খেলা আরও দুজন ফুটবলার চূড়ান্ত স্কোয়াডে আছেন। যাদের একজন হাল সিটির গোলকিপার ইভোর পান্দুর। এ ছাড়া এভারটন ও ওয়েস্ট হ্যামের সাবেক মিডফিল্ডার নিকোলা ভ্লাসিচ এবং স্পার্সের সাবেক উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ উভয়েই দলে জায়গা পেয়েছেন। পেরেসিচ বর্তমানে পিএসভি আইন্দহোভেনে খেলছেন।
আগামী ১৭ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে ‘এল’ গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর তারা পানামা ও ঘানার মুখোমুখি হবে।
দালিচ বলেন,
‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। আমি বরাবরের মতোই আশাবাদী, আমাদের একটি ভালো দল আছে। দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়, তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতা- সবই আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা নিশ্চিতভাবেই আরও কঠোর এবং রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব, যেখানে মিডফিল্ডারে সংখ্যা বেশি থাকবে। ইংল্যান্ড বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চায়। তবে ঘানা এবং পানামার বিপক্ষে ম্যাচগুলো ভিন্ন হবে, অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হবে। কিন্তু কোনো ম্যাচই সহজ হবে না।’
ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার: ডমিনিক লিভাকোভিচ (ডায়নামো জাগরেব), ডমিনিক কোতারস্কি (কোপেনহেগেন), ইভোর পান্দুর (হাল সিটি)।
ডিফেন্ডার: জোকো গাভার্দিওল (ম্যানচেস্টার সিটি), দুয়ে চালেতা-কার (রিয়াল সোসিয়েদাদ), ইয়োসিপ শুতালো (আয়াক্স আমস্টারডাম), ইয়োসিপ স্ট্যানিসিচ (বায়ার্ন মিউনিখ), মারিন পনগ্রাচিচ (ফিওরেন্টিনা), মার্টিন এরলিচ (মিতজিল্যান্ড), লুকা ভুশকোভিচ (হামবুর্গ)।
মিডফিল্ডার: লুকা মডরিচ (এসি মিলান), মাতেও কোভাচিচ (ম্যানচেস্টার সিটি), মারিও পাশালিচ (আতালান্তা), নিকোলা ভ্লাসিচ (তোরিনো), লুকা সুচিচ (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মার্টিন বাতুরিনা (কোমো), ক্রিস্তিয়ান ইয়াকিচ (অগসবুর্গ), পেতার সুচিচ (ইন্তার মিলান), নিকোলা মোরো (বোলোনিয়া), টনি ফ্রুক (রিয়েকা)।
ফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ (পিএসভি আইন্দহোভেন), আন্দ্রে ক্রামারিচ (হোফেনহেইম), আনতে বুদিমির (ওসাসুনা), মার্কো পাশালিচ (অরল্যান্ডো সিটি), পেতার মুসা (ডালাস), ইগর মাতানোভিচ (ফ্রেইবুর্গ)।

সবশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল ক্রোয়েশিয়া। দুবারই দলের অধিনায়ক ছিলেন লুকা মডরিচ। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও এসি মিলান তারকার হাতে উঠছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।
বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া মোট অংশগ্রহণের অর্ধেকবারই সেমিফাইনালে উঠেছে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরেই তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
এরপর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা ফাইনাল পর্যন্ত খেলে। যেখানে তারা ফ্রান্সের কাছে ২-৪ ব্যবধানে হেরে যায়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয় ক্রোয়েশিয়া। জ্লাতকো দালিচের দল ২০২৬ সংস্করণের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দাপটের সঙ্গে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করে ডার্ক হর্সরা। এবার উত্তর আমেরিকাতেও আরেকটি বড়সড় প্রভাব ফেলার আশায় ইউরোপের দলটি।
ক্রোয়েশিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াড
গোলকিপার: ডোমিনিক লিভাকোভিচ (ডায়নামো জাগরেব), ডোমিনিক কোটারস্কি (কোপেনহেগেন), ইভোর পান্দুর (হাল সিটি), কার্লো লেতিসা (লোজান-স্পোর্ট)।
রক্ষণভাগ: জোকো গাভার্দিওল (ম্যানচেস্টার সিটি), দুয়ে চালেতা-সার (রিয়াল সোসিয়েদাদ), জোসিপ শুতালো (আয়াক্স), জোসিপ স্ট্যানিশিচ (বায়ার্ন মিউনিখ), মারিন পনগ্রাচিচ (ফিওরেন্তিনা), মার্টিন এরলিচ (মিডজিল্যান্ড), লুকা ভুশকোভিচ (হামবুর্গার এসভি), ইভান স্মোলচিচ (কোমো)
মধ্যমাঠ: লুকা মদ্রিচ (মিলান), মাতেও কোভাচিচ (ম্যানচেস্টার সিটি), মারিও পাশালিচ (আতালান্তা), নিকোলা ভ্লাশিচ (তোরিনো), লুকা সুচিচ (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মার্টিন বাতুরিনা (কোমো), ক্রিস্টিয়ান ইয়াকিচ (অসবুর্গ), পেতার সুচিচ (ইন্টার মিলান), নিকোলা মোরো (বোলোনিয়া), টনি ফ্রুক (রিয়েকা), লোভ্রো মায়ের (ভলফসবুর্গ), অ্যাড্রিয়ান সেগেচিচ (পোর্টসমাউথ), লুকা স্টয়কোভিচ (ডায়নামো জাগ্রেব)।
আক্রমণভাগ: ইভান পেরিশিচ (পিএসভি আইন্দহোভেন), আন্দ্রে ক্রামারিচ (হোফেনহেইম), আনতে বুদেমির (ওসাসুনা), মার্কো পাশালিচ (অরল্যান্ডো সিটি), পেতার মুসা (ডালাস), ইগর মাতানোভিচ (ফ্রেইবার্গ), ফ্রানিয়ো ইভানোভিচ (বেনফিকা), দিওন ড্রেনা বেলিও (ডায়নামো জাগ্রেব)।