
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা নিয়ে কয়েক দিন ধরেই ছিল নানা জল্পনা। বিশেষ করে নেইমার জুনিয়র থাকবেন কি না তা নিয়ে ছিল সমর্থকদের তুমুল আগ্রহ। শেষ পর্যন্ত নেইমারকে রেখেই আজ রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল ঘোষণা করেছেন হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ৫৫ মিনিটে দল ঘোষণার জন্য স্টেজে ওঠেন আনচেলত্তি। প্রায় এক ঘণ্টার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর দল ঘোষণার আগে আনচেলত্তি বলেন, ‘এই ২৬ জন খেলোয়াড়কে বেছে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল, কারণ এই দেশে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। আমি প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই বলেছিলাম যে এখানে প্রচুর প্রতিযোগিতা রয়েছে, এবং সেটাই সত্যি। আমি খুব ভালো করেই জানি যে, আমাদের সাথে থাকা কিছু খেলোয়াড় এই তালিকাটি দেখে খুশি হবেন না। আমি তার জন্য সত্যিই দুঃখিত। যারা আমাদের সাথে ছিলেন এবং যারা (দলে) থাকতে পারেননি, অথচ এই তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার জন্য দুর্দান্ত চেষ্টা করেছেন, আমি তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
প্রাথমিক বক্তব্যের পর আনচেলত্তি দল ঘোষণা শুরু করেন আলিসন বেকারের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে। তিনি একে একে পড়তে থাকেন ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, এন্দ্রিকদের নাম। অবশেষে নেইমারের নাম পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হলরুমে করতালিতে মুখোর হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপে প্রথমবারের নেইমার খেলেন ঘরের মাঠে ২০১৪ সালের আসরে। সেবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হওয়ায় তাঁকে নিয়ে উন্মাদনা ছিল আকাশচুম্বী। টুর্নামেন্টে দারুণ খেলে ৫ ম্যাচে ৪টি গোল করেছিলেন তিনি। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে হুয়ান জুনিগার মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে মেরুদন্ডে আঘাত পেলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। ফলে জার্মানির বিপক্ষে সেমিফাইনালে তিনি খেলতে পারেননি।
এরপর পায়ের পাতার চোট কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট না হয়েও তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেন। ওই আসরে তিনি ২টি গোলও করেন। তবে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিল দল:
গোলকিপার : আলিসন বেকার, এদেরসন, ওয়েভেরতন।
ডিফেন্ডার: আলেক্সা সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, ইবানেস, লিও পেরেইরা, মার্কিনিওস, ওয়েসলি।
মিডফিল্ডার: ব্রুনো গুইমারেস, ক্যাসেমিরো, দানিলো, ফাবিনহো, লুকাস পাকেতা।
ফরোয়ার্ড: এন্দ্রিক, গাব্রিয়েল মার্তিনেলি, ইগোর থিয়াগো, লুইস এনরিকে, মাথিয়েউস কুনহা, নেইমার জুনিয়র, রাফিনিয়া, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
No posts available.
১৮ মে ২০২৬, ৬:১২ পিএম

ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ। ৪০ বছর বয়সী এসি মিলানের এই প্লেমেকার অবশ্য পুরোপুরি সুস্থ নয়। এপ্রিলের শেষের দিকে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ম্যাচে মাথায় আঘাত পান। সেজন্য তাঁকে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছে। তবে কোচ জ্লাতকো দালিচ ২৬ সদস্যের দলে রেখেছেন ২০১৮ সালের ব্যালন ডি'অর জয়ীকে।
কোচ দালিচ বলেন,
‘সে (মডরিচ) মুখে একটি মাস্ক পরে অনুশীলন করছে এবং ভালো করছে। সম্ভবত বিশ্বকাপের আগের বিরতিতে সে পুরোপুরি ঠিক হয়ে যাবে। আমরা তাঁর অবস্থা দেখব, তবে তাঁকে নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। সে ভালো ফর্মে থাকবে।’
সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও টটেনহ্যাম তারকা মডরিচ ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং ২০২২ সালে সেমি-ফাইনালে ওঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটি হতে যাচ্ছে তাঁর পঞ্চম বিশ্বকাপ।
গত জানুয়ারি মাসে পা ভেঙে যাওয়া সত্ত্বেও ম্যানচেস্টার সিটির ডিফেন্ডার জোকো গাভার্দিওলকেও ক্রোয়েশিয়া দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দালিচ জানান, ২৪ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডারকে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেওয়া হবে যাতে তিনি আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের জন্য নিজের ফর্ম ফিরে পান। ক্রোয়েশিয়া কোচ বলেন,
‘আমরা আশা করি সে খেলার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠবে। এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সে আমাদের জন্য বড় একটি শক্তি হবে।’
গাভার্দিওলের সিটি সতীর্থ মাতেও কোভাচিচ ছাড়াও ইংল্যান্ডে খেলা আরও দুজন ফুটবলার চূড়ান্ত স্কোয়াডে আছেন। যাদের একজন হাল সিটির গোলকিপার ইভোর পান্দুর। এ ছাড়া এভারটন ও ওয়েস্ট হ্যামের সাবেক মিডফিল্ডার নিকোলা ভ্লাসিচ এবং স্পার্সের সাবেক উইঙ্গার ইভান পেরিসিচ উভয়েই দলে জায়গা পেয়েছেন। পেরেসিচ বর্তমানে পিএসভি আইন্দহোভেনে খেলছেন।
আগামী ১৭ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে ‘এল’ গ্রুপে ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর তারা পানামা ও ঘানার মুখোমুখি হবে।
দালিচ বলেন,
‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো গ্রুপ পর্ব পার হওয়া। আমি বরাবরের মতোই আশাবাদী, আমাদের একটি ভালো দল আছে। দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়, তারুণ্য এবং অভিজ্ঞতা- সবই আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আমরা নিশ্চিতভাবেই আরও কঠোর এবং রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলব, যেখানে মিডফিল্ডারে সংখ্যা বেশি থাকবে। ইংল্যান্ড বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চায়। তবে ঘানা এবং পানামার বিপক্ষে ম্যাচগুলো ভিন্ন হবে, অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হবে। কিন্তু কোনো ম্যাচই সহজ হবে না।’
ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড
গোলকিপার: ডমিনিক লিভাকোভিচ (ডায়নামো জাগরেব), ডমিনিক কোতারস্কি (কোপেনহেগেন), ইভোর পান্দুর (হাল সিটি)।
ডিফেন্ডার: জোকো গাভার্দিওল (ম্যানচেস্টার সিটি), দুয়ে চালেতা-কার (রিয়াল সোসিয়েদাদ), ইয়োসিপ শুতালো (আয়াক্স আমস্টারডাম), ইয়োসিপ স্ট্যানিসিচ (বায়ার্ন মিউনিখ), মারিন পনগ্রাচিচ (ফিওরেন্টিনা), মার্টিন এরলিচ (মিতজিল্যান্ড), লুকা ভুশকোভিচ (হামবুর্গ)।
মিডফিল্ডার: লুকা মডরিচ (এসি মিলান), মাতেও কোভাচিচ (ম্যানচেস্টার সিটি), মারিও পাশালিচ (আতালান্তা), নিকোলা ভ্লাসিচ (তোরিনো), লুকা সুচিচ (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মার্টিন বাতুরিনা (কোমো), ক্রিস্তিয়ান ইয়াকিচ (অগসবুর্গ), পেতার সুচিচ (ইন্তার মিলান), নিকোলা মোরো (বোলোনিয়া), টনি ফ্রুক (রিয়েকা)।
ফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ (পিএসভি আইন্দহোভেন), আন্দ্রে ক্রামারিচ (হোফেনহেইম), আনতে বুদিমির (ওসাসুনা), মার্কো পাশালিচ (অরল্যান্ডো সিটি), পেতার মুসা (ডালাস), ইগর মাতানোভিচ (ফ্রেইবুর্গ)।

সবশেষ ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ এবং ২০২২ সালে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল ক্রোয়েশিয়া। দুবারই দলের অধিনায়ক ছিলেন লুকা মডরিচ। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও এসি মিলান তারকার হাতে উঠছে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড।
বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া মোট অংশগ্রহণের অর্ধেকবারই সেমিফাইনালে উঠেছে। ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক আসরেই তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে।
এরপর ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে তারা ফাইনাল পর্যন্ত খেলে। যেখানে তারা ফ্রান্সের কাছে ২-৪ ব্যবধানে হেরে যায়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয় ক্রোয়েশিয়া। জ্লাতকো দালিচের দল ২০২৬ সংস্করণের ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে দাপটের সঙ্গে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। প্রতিযোগিতায় ৮ ম্যাচের মধ্যে সাতটিতে জয় এবং একটিতে ড্র করে ডার্ক হর্সরা। এবার উত্তর আমেরিকাতেও আরেকটি বড়সড় প্রভাব ফেলার আশায় ইউরোপের দলটি।
ক্রোয়েশিয়ার প্রাথমিক স্কোয়াড
গোলকিপার: ডোমিনিক লিভাকোভিচ (ডায়নামো জাগরেব), ডোমিনিক কোটারস্কি (কোপেনহেগেন), ইভোর পান্দুর (হাল সিটি), কার্লো লেতিসা (লোজান-স্পোর্ট)।
রক্ষণভাগ: জোকো গাভার্দিওল (ম্যানচেস্টার সিটি), দুয়ে চালেতা-সার (রিয়াল সোসিয়েদাদ), জোসিপ শুতালো (আয়াক্স), জোসিপ স্ট্যানিশিচ (বায়ার্ন মিউনিখ), মারিন পনগ্রাচিচ (ফিওরেন্তিনা), মার্টিন এরলিচ (মিডজিল্যান্ড), লুকা ভুশকোভিচ (হামবুর্গার এসভি), ইভান স্মোলচিচ (কোমো)
মধ্যমাঠ: লুকা মদ্রিচ (মিলান), মাতেও কোভাচিচ (ম্যানচেস্টার সিটি), মারিও পাশালিচ (আতালান্তা), নিকোলা ভ্লাশিচ (তোরিনো), লুকা সুচিচ (রিয়াল সোসিয়েদাদ), মার্টিন বাতুরিনা (কোমো), ক্রিস্টিয়ান ইয়াকিচ (অসবুর্গ), পেতার সুচিচ (ইন্টার মিলান), নিকোলা মোরো (বোলোনিয়া), টনি ফ্রুক (রিয়েকা), লোভ্রো মায়ের (ভলফসবুর্গ), অ্যাড্রিয়ান সেগেচিচ (পোর্টসমাউথ), লুকা স্টয়কোভিচ (ডায়নামো জাগ্রেব)।
আক্রমণভাগ: ইভান পেরিশিচ (পিএসভি আইন্দহোভেন), আন্দ্রে ক্রামারিচ (হোফেনহেইম), আনতে বুদেমির (ওসাসুনা), মার্কো পাশালিচ (অরল্যান্ডো সিটি), পেতার মুসা (ডালাস), ইগর মাতানোভিচ (ফ্রেইবার্গ), ফ্রানিয়ো ইভানোভিচ (বেনফিকা), দিওন ড্রেনা বেলিও (ডায়নামো জাগ্রেব)।

ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় যেন এক নতুন প্রতিভার উদয় হলো। সোমবার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পর্যায়ের ফাইনালে নেত্রকোণাকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে স্বাগতিক ময়মনসিংহ জেলা দল। ফাইনালে দাপুটে জয়ের সুবাদে তারা সরাসরি জাতীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
ময়মনসিংহের বড় জয়ের নায়ক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উদীয়মান ফুটবলার মোসাম্মৎ রিমি। ৪ গোল করে ফাইনাল সেরা ও টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার নিজের করে নিয়েছেন এই খুদে ফুটবলার।
সোমবার নেত্রকোণার রক্ষণভাগকে যেন খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন রিমি। ম্যাচের শুরু থেকেই তাঁর ক্ষিপ্র গতি ও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা।
রিমির দারুণ পারফরম্যান্সে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শক করতালির মাধ্যমে মুখরিত করে তোলেন পুরো চারপাশ।রিমির এই গোলবন্যা কেবল ফাইনালেই সীমাবদ্ধ ছিল না, সেমিফাইনাল থেকেই তিনি ছিলেন ফর্মের তুঙ্গে। এর আগে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে শেরপুর জেলার বিপক্ষেও ময়মনসিংহের জয়ে মূল ভূমিকা ছিল তাঁর। প্রতিপক্ষের জালে ২ বার বল পাঠিয়ে দলের ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন ঈশ্বরগঞ্জের এই ফুটবল কন্যা।
টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচেই তাঁর পা থেকে এসেছে ৬টি চোখ ধাঁধানো গোল। মাঠের চারপাশে বল ড্রিবলিং ও গোলপোস্টের সামনে তাঁর ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেখে অনেকে ইতিমধ্যেই তাঁর মাঝে দেশের নারী ফুটবলের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন।
ঈশ্বরগঞ্জের চরনিখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর ফুটবলার হয়ে ওঠার গল্পটা অবশ্য বেশ সংগ্রামের। বাবা-মা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাবা-মায়ের অনুপস্থিতিতে নানার আশ্রয়ে থেকেই নিজের ফুটবল খেলার স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। নানার হাত ধরে ও নিজের অদম্য ইচ্ছায় আজ ঈশ্বরগঞ্জ ছাড়িয়ে পুরো ময়মনসিংহের গর্বে পরিণত হয়েছেন রিমি।
আঞ্চলিক পর্বের এই দুর্দান্ত সাফল্যের পর এবার রিমির লক্ষ্য জাতীয় পর্যায়। ময়মনসিংহের ক্রীড়াপ্রেমীদের এখন একটাই আশা, রিমি তাঁর এই চেনা গোলক্ষুধা ধরে রেখে জাতীয় মঞ্চেও ময়মনসিংহের নাম উজ্জ্বল করবেন এবং দেশের ফুটবলকে নিয়ে যাবেন এক অনন্য উচ্চতায়।

মোহাম্মদ সালাহ ‘স্বার্থপরের মতো’ আচরণ করেছেন এবং ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডে অলরেডদের মৌসুমের শেষ ম্যাচের স্কোয়াড থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া উচিত— এমনটাই মন্তব্য করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েন রুনি।
অ্যাস্টন ভিলার কাছে ৪-২ গোলে হেরে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগ ভাগ্য যখন শঙ্কায়, তখন সালাহ এক বিবৃতিতে বলেন, লিভারপুলকে আবার সেই ‘হেভি মেটাল অ্যাটাকিং দল’ হিসেবে ফিরতে হবে। যাকে প্রতিপক্ষ ভয় পায়।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মিশরীয় রাজপুত্র লেখেন,
‘আমি এই ফুটবলই খেলতে জানি এবং এটাই ক্লাবের আসল পরিচয়, যা পুনরুদ্ধার করা ও ধরে রাখা উচিত। এটি নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না এবং যারা এই ক্লাবে যোগ দেবে, তাদের অবশ্যই এর সাথে মানিয়ে নিতে হবে।’
সালাহর এই পোস্টটিকে মূলত কোচ আর্নে স্লটের প্রকাশ্য সমালোচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে ‘দ্য ওয়েন রুনি শো’-তে রুনি বলেন,
‘লিভারপুলের হয়ে সে (সালাহ) যা কিছু অর্জন করেছে। তার এমন এক শেষ দেখাটা সত্যিই দুঃখজনক। স্লটকে লক্ষ্য করে তাঁর এভাবে আবারও খোঁচা দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
রুনি আরও যোগ করেন,
‘সে হেভি মেটাল ফুটবল খেলতে চায়, যার মানে সে আসলে ইয়ুর্গেন ক্লপের ফুটবল স্টাইল ফিরে পেতে চাইছে। কিন্তু আমার মনে হয় না সালাহ এখন আর সেই উচ্চ গতি ও তীব্রতার ফুটবলের সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন। তাঁর সেই ধার আর নেই।’
নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে রুনি বলেন,
‘আমি যদি আর্নে স্লট হতাম, তবে শেষ ম্যাচে সালাহকে স্টেডিয়ামের আশেপাশেও ঘেঁষতে দিতাম না। ওল্ড ট্রাফোর্ডে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের শেষ ম্যাচে আমার সাথেও তাঁর দ্বিমত ও ঝামেলা হয়েছিল, যার কারণে ফার্গুসন আমাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেছিলেন।’

প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের ১৮ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের হাতে অবশিষ্ট আর মাত্র একটি ম্যাচ। টেবিলে তাদের ঠিক ওপরে থাকা টটেনহ্যামের পয়েন্ট দুই বেশি। স্পার্সের হাতে একটি ম্যাচ বাকি এবং গোল ব্যবধানেও তারা অনেক এগিয়ে। ফলে মঙ্গলবার চেলসির সাথে টটেনহ্যাম যদি ড্র-ও করে, তবে দ্বিতীয় স্তরের লিগ বা ‘চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ নেমে যাওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে ওয়েস্ট হ্যামের।
প্রিমিয়ার লিগ থেকে ওয়েস্ট হ্যামের এই অবনমনে লন্ডনের করদাতাদের অতিরিক্ত ২৫ লাখ পাউন্ড গুণতে হতে পারে। লন্ডন স্টেডিয়ামের সাথে ক্লাবটির চুক্তিপত্রের শর্তাবলীর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্টেডিয়ামটির সাথে ওয়েস্ট হ্যামের ৯৯ বছরের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রয়েছে— ক্লাবটি যদি রেলিগেটেড হয়, তবে গ্রেটার লন্ডন অথরিটিকে তারা বর্তমান বার্ষিক ভাড়া ৪৪ লাখ পাউন্ডের মাত্র অর্ধেক পরিশোধ করবে।
লন্ডনের সাধারণ করদাতারা বর্তমানে স্টেডিয়ামের নিরাপত্তাকর্মী (স্টুয়ার্ড) নিয়োগসহ বিভিন্ন পরিচালন ব্যয়ে অবদান রাখেন; ভাড়ার এই ঘাটতি তখন তাদের পকেট থেকেই মেটাতে হবে।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন,
‘ওয়েস্ট হ্যাম যদি অবনমিত হয়, তবে আমরা করদাতারা এবং সিটি হল প্রতি বছর ২৫ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত রাজস্ব হারাতে পারি।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘লন্ডনের যেসব বাসিন্দা স্পার্সের (টটেনহ্যাম) সমর্থক নন, তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব— আপনাদের সম্ভবত ওয়েস্ট হ্যামের হয়েই গলা ফাটানো উচিত। কারণ ওয়েস্ট হ্যাম নিচে নেমে গেলে লোকসানটা করদাতাদেরই হবে।’
ধারণা করা হচ্ছে, ওয়েস্ট হ্যাম চ্যাম্পিয়নশিপে খেললে লন্ডন স্টেডিয়ামের বাণিজ্যিক আয় অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগের ১৯টি হোম ম্যাচের তুলনায় চ্যাম্পিয়নশিপের ২৩টি হোম ম্যাচে নিরাপত্তাকর্মী ও স্টেডিয়াম পরিচালনার খরচ আরও অনেক বেড়ে যাবে।