১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৩ পিএম

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে দুই লেগেই হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায়
ব্যর্থতার পর বাভারিয়ানদের কাছে ইউয়েফা ক্লাব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানও
হারাল সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এর ক্লাবটি।
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জার্মান জায়ান্টরা রিয়ালকে টপকে রাজত্ব দখল করেছে।
গত পাঁচ মৌসুমের সম্মিলিত
ফলাফল অনুযায়ী, ইউয়েফার ক্লাব র্যাঙ্কিংয়ে বর্তমানে
১৪৬.৫ পয়েন্ট নিয়ে
বায়ার্ন এখন এক নম্বরে।
বিপরীতে দীর্ঘ সময়
ধরে এক নম্বরে থাকা
রিয়াল মাদ্রিদ ১৪৪.৫ পয়েন্ট নিয়ে
দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।
মহাদেশের সেরা পাঁচটি ক্লাবের
তালিকায় এখন ইংল্যান্ডের লিভারপুল,
ইতালির ইন্টার মিলান এবং ফ্রান্সের পিএসজি-ও রয়েছে। সেরা দশের বাকি
ক্লাবগুলো হলো— ম্যানচেস্টার সিটি,
আর্সেনাল, বার্সেলোনা, বায়ার লেভারকুসেন এবং আতলেতিকো মাদ্রিদ।
এলিট এই তালিকার প্রথম
ভাগে বায়ার লেভারকুসেনের উত্থান গত কয়েক মৌসুমে
জার্মান ফুটবলের তাদের উল্লেখযোগ্য উন্নতিরই প্রতিফলন।
গত দুই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস
লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের পারফরম্যান্সের
তারতম্যের কারণেই র্যাঙ্কিংয়ে
পরিবর্তন আসে। এই প্রতিযোগিতায়
রিয়াল কোয়ার্টার
ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে,
যেখানে তারা যথাক্রমে ২৭
ও ২৪.৫ পয়েন্ট
সংগ্রহ করেছিল— শীর্ষস্থান ধরে রাখার জন্য
যা যথেষ্ট ছিল না।
নিয়ম অনুযায়ী ইউয়েফা র্যাঙ্কিং হালনাগাদ
করার সময় প্রতিবার
সবচেয়ে পুরনো মৌসুমের পয়েন্ট বাদ দেওয়া হয়
এবং সর্বশেষ পাঁচ মৌসুমের হিসাব
রাখা হয়। এর ফলে
রিয়াল মাদ্রিদ টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ জয়ের সেই সোনালী
সময়ে অর্জিত পয়েন্টের একটি বড় অংশ
হারিয়ে ফেলেছে।
অন্যদিকে, চলতি মৌসুমে সেমিফাইনালে
ওঠা এবং লিগ পর্বে
মাত্র একটি ম্যাচ বাদে
সবকটিতে জেতার সুবাদে বায়ার্ন ৩৮.২ পয়েন্ট
সংগ্রহ করেছে। গত পাঁচটি আসরের
প্রতিটিতেই জার্মান ক্লাবটি অন্তত কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং দুবার সেমিফাইনালে
খেলেছে। এই মৌসুমে তাদের
সামনে ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
শেষ চারে ভিনসেন্ট কোম্পানির দলকে পিএসজি বাধা টপকাতে হবে।
বার্সেলোনা এই তালিকার শীর্ষস্থানগুলো
থেকে বেশ দূরেই রয়েছে।
কাতালান ক্লাবটি ১১৩.২ পয়েন্ট
নিয়ে বর্তমানে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা
১১ বছর এই শিরোপার ছোঁয়া পায়নি। এমনকি ফাইনালও খেলতে পারেনি কাতালান ক্লাবটি। চলতি
মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হেরে বিদায় নেওয়া বার্সার সবশেষ
পাঁচ মৌসুমের সেরা সাফল্য সেমি ফাইনালে ওঠা।
No posts available.
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহন ব্যয় নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিলের দাবি, দর্শকদের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো রেল ভাড়ার দায় নিতে হবে ফিফাকেই। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সেই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে।
নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যেতে প্রায় ৩০ মিনিট সময় লাগে। এই পথের জন্য রেল ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার টাকা)। শিশু বা প্রবীণ- কোনো শ্রেণির জন্যই নেই ছাড়। বিকল্প হিসেবে শাটল বাসের ভাড়া ধরা হয়েছে ৮০ ডলার।
নিউ জার্সির গভর্নর শেরিলের দাবি, বিশ্বকাপের মতো এত বড় আসরে দর্শকদের স্বার্থে পরিবহন ব্যয়ে ফিফার ভর্তুকি দেওয়া উচিত।
তার অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসন এমন এক চুক্তি পেয়েছে, যেখানে পরিবহন খাতে ফিফার কোনো আর্থিক অংশগ্রহণ নেই। অথচ আয়োজক সংস্থাটি বিশ্বকাপ থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব পাবে।
তবে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হেইমো শিরিগি বলছেন, বর্তমান ভাড়া কাঠামোই বরং সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তার ভাষায়, অতিরিক্ত ভাড়া দর্শকদের গণপরিবহন থেকে দূরে ঠেলে দেবে। যার ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বাড়বে। এতে যানজট, দেরিতে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো ও সামগ্রিক আয়োজনের অভিজ্ঞতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফিফার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সংস্থাটি লাভের জন্য নয়, বরং অলাভজনক কাঠামোয় পরিচালিত হয়। বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত রাজস্ব বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
আগামী বিশ্বকাপে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে মোট ৮টি ম্যাচ, যার মধ্যে রয়েছে ফাইনালও। একই ধরনের বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রেও।
ফিফার দাবি, ২০১৮ সালেই স্বাগতিক শহরগুলোর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পরিবহন পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের আগে ভাড়া নিয়ে এই টানাপোড়েন এখন বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইংলিশ ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হলেন হামজা চৌধুরি। মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হলেন বাংলাদেশের তারকা ফুটবলার। এর প্রতিবাদ করায় উল্টো তাকেই দেখানো হয় হলুদ কার্ড।
ফ্র্যাটন পার্কে শনিবার বিকেলে পোর্টসমাউথের মুখোমুখি হয় লেস্টার সিটি। অবনমন শঙ্কা মাথায় নিয়ে খেলতে নেমে ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরে যায় হামজার দল। এই ম্যাচেই ৭১ মিনিটের সময় গ্যালারি থেকে হামজার উদ্দেশ্যে ছোঁড়া হয় আপত্তিকর মন্তব্য।
চোট থেকে সেরে ওঠায় ম্যাচের শুরু থেকেই হামজাকে খেলান লেস্টার কোচ গ্যারি রোয়েট। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৬৩ মিনিটে ইবান বোয়াতের গোলে পিছিয়ে পড়ে লেস্টার। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টায় ৭১ মিনিটে হামজাকে তুলে নিয়ে জর্ডান জেমসকে নামান রোয়েট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় স্বাগতিক দর্শকদের কাছ থেকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হন বাংলাদেশি সুপারস্টার। ডাগআউটে ফেরার আগে তখন গ্যালারির দিকে তাকিয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন হামজা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে ছুটে আসেন রেফারি। তখন তার দিকে তাকিয়ে ফের রাগান্বিত অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় হামজাকে। কিন্তু সেটি আমলে নেননি রেফারি। উল্টো বদলি হয়ে বাইরে চলে যাওয়া হামজাকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে দলের এক কোচকে ধাক্কা দিয়ে ডাগআউটে গিয়ে বসে পড়েন হামজা। তখনও তার চোখে-মুখে ছিল রাগ ও ক্ষোভের অভিব্যক্তি।
পরে ম্যাচের ফলও যায় হামজাদের বিপক্ষে। ইবান বোয়াতের গোলে পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই পরাজয়ে দ্বিতীয় স্তর থেকেও অবনমনের শঙ্কায় পড়ে গেছে লেস্টার। ৪৩ ম্যাচে তাদের ঝুলিতে মাত্র ৪১ পয়েন্ট। ২৪ দলের লিগে তাদের অবস্থান আপাতত ২৩ নম্বরে। বাকি থাকা তিন ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি অন্যদের দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে লেস্টারের।
আর যদি মঙ্গলবার রাতের ম্যাচে হাল সিটির বিপক্ষে হেরে যায় লেস্টার, তাহলে সেদিনই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে তাদের তৃতীয় স্তরে অবনমন।

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) নিয়মানুযায়ী সাফ দেশের খেলোয়াড়েরা লোকাল হিসেবে খেলতে পারবেন। সেই কোটায় আজ পাকিস্তানের চারজনকে খেলিয়েছে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এছাড়া বিদেশি কোটায় গিনির দুজন এবং সেনেগালের একজনকে মাঠে নামান কোচ ওমর সিসে। সব মিলিয়ে গোপীবাগের ক্লাবটিতে এই ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন দেশের বাইরের পাসপোর্টধারী সাতজন। কিন্তু এমন দল নিয়েও তারা হেরেছে পিডব্লিউডি এসসির বিপক্ষে।
মুন্সীগঞ্জের ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শনিবার মুখোমুখি হয় দুই দল। ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছে পিডব্লিউডি। দুই অর্ধে দুই গোল করেছেন পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড মারাত দেভেসা তারেক। ব্রাদার্সের হয়ে এক গোল শোধ দেন শায়েক দোস্ত। লিগে দুই দলের প্রথম দেখায় গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
এই জয়ে পিডব্লিউডি বেরিয়ে গেছে রেলিগেশন জোন থেকে। তারা ধরে ফেলেছে ব্রাদার্সকে। ১৩ ম্যাচে তিন জয়, চার ড্র এবং ৬ পরাজয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের আটে উঠে এসেছে পিডব্লিউডি। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেয়ে তালিকার সাতে ব্রাদার্স। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে বসুন্ধরা কিংস। সমান ২৫ পয়েন্ট তালিকার দুই ও তিনে থাকা আবাহনী ও ফর্টিসের।
এদিন একাদশ মিনিটে গোলে প্রথম শট নেয় ব্রাদার্স। বক্সের সামনে থেকে নেওয়া পাকিস্তানী মিডফিল্ডার আলমগীর গাজীর জোরালো শট আশা দেখিয়েছিল ব্রাদার্সকে। তবে পিডব্লিউডির গোলকিপার বাঁ-দিকে ঝাপিয়ে পড়ে কর্নার করে দেন।
তিন মিনিট পর ব্রাদার্সকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন পিডব্লিউডির মারাত দেভেসা তারেক। ডান দিকে দিয়ে উপরে উঠে ব্রাদার্স ডিফেন্ডার সিফাতকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেই ক্রস দেন রাতুল। গোলমুখের সামনে টোকায় বল জালে জড়ান পিডব্লিউডির রাশিয়ান ফরোয়ার্ড।
২৫ মিনিটে বক্সের সামনে জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি কিক একটুর জন্য জালের খোঁজ পায়নি। দুই মিনিট পর সিফাতকে তুলে ইনসানকে মাঠে নামান ওমর সিসে। ৩০ মিনিট পর টানা তিনটি কর্নার তুলে নেয় পিডব্লিউডি। যদিও সেখান থেকে গোল আদায় করে নিতে পারেনি তারা।
৩৬ মিনিটে কেরফালা বক্সে ঢুকে জটলার মধ্যে পড়েন, তিন-চারজনকে কাটালেও শট নিতে পারেননি। সেখান থেকে বল তুলে দেন শায়েক দোস্তের পায়ে। পাকিস্তানী ফরোয়ার্ড শট নিলে অনায়াসেই গ্লাভসবন্দি করেন পিডব্লিউডি গোলকিপার।
৩৮ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে আলমগীরের ক্রসে বলে মাথা ছোঁয়ান মনির। তবে হেডে গতি না থাকায় সহজেই বল ধরে ফেলেন পিডব্লিউডির গোলকিপার।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পিডব্লিউডির রক্ষণে চাপ বাড়ায় ব্রাদার্স। ৪৫ মিনিটে গোলে ভালো সুযোগ নেয় দলটি। বাঁ-দিক থেকে আসা শায়েকের ক্রসে আলমগীরের হেডে বল ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাদার্স। চার মিনিটের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ফাকা পোস্টেও হেডে গোল করতে পারেননি আলমগীর গাজী। পরের মিনিটে এই ফরোয়ার্ডের আরেকটি নিচু শট ছিল গোলকিপার বরাবর। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাদার্স।
৬৩ মিনিটে রাতুলের কাছ থেকে বল কেড়ে নেন জামাল। এরপর ব্রাদার্স অধিনায়কের ক্রসে হেডে গোল করে শায়েক দোস্ত দলকে ১-১ সমতায় ফেরান।
৭১ মিনিটে ভালো জায়গায় ক্রস পেয়েও গোল করতে পারেননি পিডব্লিউডির মিডফিল্ডার স্বাধীন। এগিয়ে যেতে দুই দলই বেশ চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি হজম করে পিছিয়ে পড়ে ব্রাদার্স। ৮৪ মিনিটে মানাত তারেক বটম কর্নার দিয়ে নিচু শটে পিডব্লিউডিকে পেনাল্টি থেকে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। বাকি সময় চেষ্টা করেও দুই দল পায়নি গোলের দেখা।

রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান
ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে আবারও ট্রান্সফার বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইউরোপের
বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও ইংলিশ ক্লাব চেলসি
স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই মুহূর্তে তারা তাঁকে দলে ভেড়াতে আগ্রহী নয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের
প্রতিবেদন, ভিনিসিয়ুসের এজেন্ট ইউরোপের একাধিক ক্লাবে সম্ভাব্য দলবদলের বিষয়ে যোগাযোগ
করেছেন। তবে বেশিরভাগ ক্লাবই এখনই এই ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারকে দলে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ
দেখায়নি।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে
গুঞ্জন উঠেছিল, চেলসি ভিনিসিয়ুসকে দলে নিতে প্রায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের বিশাল প্রস্তাব
দিতে পারে, যা হলে ইংলিশ ফুটবলে রেকর্ড হতো। তবে সেই সময়ই বিষয়টিকে জল্পনা হিসেবে উল্লেখ
করা হয়েছিল।
রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে
ভিনিসিয়ুসের বর্তমান চুক্তি শেষ হবে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে। তবে চুক্তি নবায়ন নিয়ে ধীরগতির
কারণে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্প্যানিশ ক্লাবটির পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত
দেওয়া হয়েছে, নতুন চুক্তি না হলে বড় অঙ্কের প্রস্তাব এলে তাঁকে বিক্রি করার বিষয়টি
বিবেচনায় আনা হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক এক ফরাসি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপের কোনো বড় ক্লাবই এখনই ভিনিসিয়ুসকে দলে নেওয়ার বিষয়ে সক্রিয়
নয়। এমনকি আর্থিকভাবে বড় খরচে অভ্যস্ত চেলসিও এই মুহূর্তে তাকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা
করছে না বলে দাবি করা হয়েছে।
চেলসির বর্তমান পরিকল্পনা
নিয়েও চলছে পুনর্গঠন। ক্লাবটির কোচ লিয়াম রোজেনিয়র জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও
দল শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালনা বিভাগের সঙ্গে তারা
মিলেই নতুন পরিকল্পনা তৈরি করছেন। তবে তাঁর মতে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান
সময়ের পারফরম্যান্সও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ক্লাবের লক্ষ্য শুধু পরিকল্পনা
নয়, মাঠের ফলাফলেও উন্নতি আনা।
প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের
অবস্থান শক্ত করতে চেলসি এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। আগামী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের, যেখানে পয়েন্ট টেবিলের লড়াই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

আরেকটি ট্রফিশূন্য মৌসুমের
পর রিয়াল মাদ্রিদের ডাগ-আউটে নতুন মুখ আসা প্রায় নিশ্চিত বললে ভুল হবে না। আলভারো আরবেলোয়ার
স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, সেটা নিয়েই এখন যত জল্পনা-কল্পনা। বড় ক্লাবে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতার
সঙ্গে বড় তারকাদের সামলাতে পারেন এমন কাউকেই চাওয়ার কথা ইউরোপের সবচেয়ে সফল ক্লাবটির।
জাবি আলোনসো বিদায় নেওয়ার
পরই রিয়ালের কোচ হতে পারেন এমন সম্ভাব্য নামের মধ্যে ইয়র্গেন ক্লপের নাম নিয়েই বেশি
উচ্চরিত হয়েছে। লিভারপুলের কিংবদন্তি এই কোচ আপাতত কোচিং থেকে দূরে থাকলেও ‘লস ব্লাঙ্কোসদের’
দায়িত্ব নিতে পারেন বলে ধারণা অনেকের। বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক
ম্যানেজার ফেলিক্স মাগাথ তো রিয়াল মাদ্রিদের জন্য আদর্শ পছন্দ
হিসেবে ইয়ুর্গেন ক্লপকে দেখছেন।
বায়ার্ন মিউনিখের সাবেক ম্যানেজার ফেলিক্স মাগাথ এখনও ফুটবল বিশ্বের
অন্যতম এক শ্রদ্ধেয় নাম।
বিশেষ করে তারকাখচিত দল সামলানোর ক্ষেত্রে
তাঁর দক্ষতা প্রশ্নাতীত। 'উইনউইন'-কে দেওয়া এক
সাক্ষাৎকারে ৭২ বছর বয়সী
এই জার্মান কোচ বিভিন্ন বিষয়ে
কথা বলেছেন, যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের
মধ্যকার চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল
ম্যাচটি ছিল আলোচনার মূল
কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়া রিয়ালের ভবিষ্যৎ
কোচ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
স্পেনে মাগাথের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে রাউল গঞ্জালেসকে নিয়ে
তাঁর কাজের জন্য। রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার
রাউল গঞ্জলেজ বুন্দেসলিগার ক্লাব শালকে ০৪-এ থাকাকালীন ক্যারিয়ারের
দ্বিতীয় সোনালি সময় ফিরিয়ে এসেছিল
মাগাথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার
নৈপুণ্যেই। রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের ছেলে এবং
ক্লাবের কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের কীভাবে সামলাতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা
মাগাথের বেশ ভালোই আছে।
আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে পছন্দের
তালিকায় আরেকজন জার্মান কোচকে সবার চেয়ে এগিয়ে
রেখেছেন।
মাগাথ বলেন, ‘ক্লপই হবেন রিয়ালের জন্য
সঠিক ব্যক্তি। লিভারপুলে তিনি অসাধারণ কাজ
করেছেন এবং বড় মাপের খেলোয়াড়দের
কীভাবে সামলাতে হয় তা তিনি
ভালো করেই জানেন। রিয়ালের
ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তাঁর
আছে।’
মাগাথ মনে করেন, রিয়াল
মাদ্রিদের কোচের পদটি একটি বিশেষ
যোগ্যতার দাবি রাখে। বিশেষ করে
বিশ্বসেরা তারকাদের নিয়ে গড়া একটি
দল সামলানোর চাপ ও জটিলতার
কথা মাথায় রাখলে। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি
আরবেলোয়ার কোচিং অধ্যায়ে হওয়া ব্যর্থতাগুলোর প্রতি
কিছুটা সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন। তাঁর মতে, এই চ্যালেঞ্জগুলো কোনো
নির্দিষ্ট ব্যক্তির সীমানা ছাড়িয়ে অনেক বেশি গভীর।
আরবেলোয়ার গত কয়েক মাসের
কাজ নিয়ে মাগাথ বলেন,
‘এই পরিস্থিতি যেকোনো কোচের জন্যই কঠিন হতো।’
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের
বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে অন্যতম প্রধান আলোচনার
বিষয় ছিল দুই দলের
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মাঝে শেষ মুহূর্তে
এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার লাল কার্ড দেখা।
অনেকের মতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ফরাসি এই মিডফিল্ডার দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ
ছাড়লে। মাগাথ অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি, ম্যাচের
ফলে এর সামগ্রিক প্রভাবকে
তিনি খুব একটা বড়
করে দেখেননি, ‘এটি সঠিক সিদ্ধান্ত
ছিল না। লাল কার্ডটি
খুবই কঠোর ছিল। আমার
মতে, ওই খেলোয়াড়কে মাঠ
থেকে বের করে দেওয়ার
কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
মাগাথ আরও যোগ করেন, ‘তা সত্ত্বেও, সত্যি
বলতে এটি এই লড়াইয়ের
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক ছিল না। আমরা
এখানে দুটি পূর্ণ ম্যাচ
বা ১৮০ মিনিটের কথা
বলছি, আট বা দশ
মিনিটের নয়। সামগ্রিকভাবে, বায়ার্ন
ভালো খেলেছে এবং তারাই কোয়ালিফাই
করার যোগ্য ছিল।’