১২ নভেম্বর ২০২৪, ৭:৫৮ পিএম

ক্লাব ফুটবলের আপাতত বিরতি, কিন্তু বিরতি নেই ফুটবলারদের। ক্লাবের জার্সি ছেড়ে জাতীয় দলের জার্সি স্যুটকেসে ভরে যে যার মতো যোগ দিয়েছেন জাতীয় দলগুলোর ক্যাম্পে। আর আন্তর্জাতিক বিরতি মানেই ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার ম্যাচ, এবং সে ম্যাচগুলো ঘিরে বিশেষ উদ্দীপনা বাংলাদেশে। নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এবারও দুটি করে ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে বাছাই পর্বের ম্যাচকে কেন্দ্র করে আগেই জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন লিওনেল স্কালোনির অধীনে ডাক পাওয়া ফুটবলাররা। প্রাথমিক অনুশীলন সেশনে প্রস্তুতিতে অংশ নিয়েছেন ২০ জন ফুটবলার। লাউতারো মার্তিনেজ, আলেহান্দ্রো গারনাচোরা, নিকোলাস তালিয়াফিকো ও তাতি কাস্তেয়ানোসরা দলের সঙ্গে যোগ দিবেন মঙ্গলবার থেকে।
আরও পড়ুন
| কেমন হলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের স্কোয়াড? |
|
কারা আছেন এবারের আর্জেন্টিনা স্কোয়াডে?
ছয় দিন আগে আর্জেন্টিনা দল ঘোষণা করলেও চোটেরর কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন ডিফেন্ডার হেরমান পেৎ্সেল্লা। এছাড়া চোটের কারণে দল থেকে সরিয়ে নিয়েছেন নিকো গনজালেসও।
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), ওয়াল্টার বেনিতেজ (পিএসভি), হেরোনিমো রুই (অলিম্পিক মার্সেই)
ডিফেন্ডার: নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), গনজালো মনতিয়েল (সেভিয়া), ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহাম), লিওনার্দো বালেরদি (অলিম্পিক মার্সেই), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (লিঁও)
মিডফিল্ডার: এনজো ফেরনান্দেজ (চেলসি), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (এএস রোমা), ইজিকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেক্সিস ম্যাকঅ্যালাস্টার (লিভারপুল), গিওভান্নি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), এনজো বারেনেচেয়া (ভালেন্সিয়া), থিয়াগো আলমাদা (বোতাফোগো), ফাকুন্দো বুয়োনানতে (লেস্টার সিটি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), আলেহান্দ্রো গারনাচো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস গঞ্জালেস (ইয়্যুভেন্তস), হুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্তারনাৎ্সিওনাল), ভালেন্তিন কাসতেয়ানোস (লাৎ্সিও)
আরও পড়ুন
| যে কারণে নেইমারকে ব্রাজিল দলে রাখেননি দরিভাল |
|
আর্জেন্টিনার ম্যাচ সূচি
লাতিন অঞ্চলে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সময় আগামী শুক্রবার, ভোর ৫:৩০ এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামবে লিওনেল মেসির দল। প্যারাগুয়ের আসুনসিওনের উয়েনো দেফেনসোরেস দেল চাকো স্টেডিয়ামে হবে ম্যাচটি।
এরপর আগামী ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় আর্জেন্টিনার ম্যাচ পেরুর বিপক্ষে। বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটা আর্জেন্টিনা খেলবে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসের বিখ্যাত লা বম্বোনেরা স্টেডিয়ামে।
ব্রাজিলের প্রস্তুতি
অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের জাতীয় দলকে ঘিরে বয়ে গেছে অস্বস্তির বাতাস। দরিভাল জুনিয়র দলের রেকর্ড তখন বলছে, আটটা বাছাই পর্বের ম্যাচের মধ্যে চারটাতেই হার, একটা ড্র আর তিনটা জয়। তবে চিলি আর পেরুর সঙ্গে দুটো জয়ে দরিভাল জুনিয়র এবং ব্রাজিল দলকে নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব পার হতে না পারার শঙ্কা অনেকটাই দূর হয়েছে। ব্রাজিলের জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ফুটবলাররা, আর্জেন্টিনার চাইতে অবশ্য ব্রাজিলের জন্য এবারের বাছাই পর্বের ম্যাচগুলো তুলনামূলক কঠিনই বটে।
কারা আছেন এবারের ব্রাজিলের স্কোয়াডে?
স্কোয়াড ঘোষণার পর ব্রাজিল দলের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে দুই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা এদের মিলিতাওর এসিএল এবং রদ্রিগোর পেশির ইনজুরি। এই দুজনের বদলি ফুটবলার অবশ্য ঘোষণা করা হয়েছে। আগে থেকে ইনজুরির কারণে নেই আলিসন।
গোলরক্ষক: বেন্তো (আল নাসর), এদেরসন ম্যানচেস্টার সিটি), ওয়েভেরতন (পালমেইরাস)
ডিফেন্ডার: দানিলো (ইয়্যুভেন্তস), ভান্দেরসন (এএস মোনাকো), আবনের (লিঁও), গিলের্মে আরানা (আতলেতিকো মিনেইরো), লিও অরতিজ (ফ্লামেঙ্গো), গাব্রিয়েল মাঘালেস (আর্সেনাল), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), মুরিলো (নটিংহাম ফরেস্ট)
মিডফিল্ডার: আন্দ্রে (উলভস), ব্রুনো গিমারেস (নিউক্যাসল), গারসন (ফ্লামেঙ্গো), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্ট হাম), আন্দ্রেস পেরেইরা (ফুলহাম)
ফরোয়ার্ড: এস্তেভাও (পালমেইরাস), গাব্রিয়েল মার্তিনেলি (আর্সেনাল), লুইজ এনরিক (বোতাফোগো), সাভিনিও (ম্যানচেস্টার সিটি), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), ইগর হেসুস (বোতাফোগো), রাফিনিয়া (বার্সেলোনা)
আরও পড়ুন
| ২৮ সদস্যের আর্জেন্টিনা দল ঘোষণা, মেসি থাকলেও নেই বড় এক নাম |
|
ব্রাজিলের সূচি
নভেম্বর মাসের প্রথম বাছাই পর্বের ম্যাচ খেলতে ব্রাজিলকে যেতে হবে ভেনেজুয়েলার মাঠে। শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, বাংলাদেশ সময় রাত ৩ টায় দরিভাল জুনিয়রের দল মুখোমুখি হবে ফেরনান্দো বাতিস্তার ভেনেজুয়েলা দলের। আর পাঁচদিন পর ব্রাজিলের সালভাদোরে খেলতে আসবে মার্সেলো বিয়েলসার উরুগুয়ে, যারা কোপা আমেরিকার পর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে একটা ম্যাচও জিততে পারেনি। ২০ নভেম্বর বুধবার, বাংলাদেশ সময় ভোর ৬:৪৫ এ শুরু হবে ব্রাজিল-উরুগুয়ে ম্যাচটি।
লাতিন অঞ্চলের পয়েন্ট টেবিল :
| দল | ম্যাচ | পয়েন্ট |
| ১. আর্জেন্টিনা | ১০ | ২২ |
| ২. কলম্বিয়া | ১০ | ১৯ |
| ৩. উরুগুয়ে | ১০ | ১৬ |
| ৪. ব্রাজিল | ১০ | ১৬ |
| ৫. ইকুয়েডর | ১০ | ১৩ |
| ৬. প্যারাগুয়ে | ১০ | ১৩ |
| ৭. বলিভিয়া | ১০ | ১২ |
| ৮. ভেনেজুয়েলা | ১০ | ১১ |
| ৯. পেরু | ১০ | ৬ |
| ১০. চিলি | ১০ | ৫ |
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:০৪ পিএম

রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আলভারো আরবেলোয়া। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ তার দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই ম্যাচে এগিয়ে থাকার ওপর নির্ভর করছে চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের ভবিষ্যত।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কথা বলেছেন আরবেলোয়া। তিনি জানিয়েছেন, বায়ার্নের মতো দলকে হারাতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের সম্মিলিতভাবে ‘বিশ্বসেরা দল’ হয়ে খেলতে হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ হাপিত্যেশের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। লা লিগা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের। স্বপ্ন টিকে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগে।
আরবেলোয়া বলেন, “ফুটবলে জিততে হলে প্রতিটি ধাপে অনেক কিছু ঠিক করতে হয়। বড় দল হতে হলে শৃঙ্খলা ও দলগত মানসিকতা দরকার—এটাই আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলে সেরা খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাদেরকেই বিশ্বসেরা দল হতে হবে। ব্যক্তিগত প্রতিভা দলকে কাজে লাগাতে হবে।”
চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। বুন্দেসলিগাতেও একপ্রকার টাইটেল নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা। বায়ার্নকে তিনি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন, “তারা দারুণ মৌসুম কাটাচ্ছে। আমরা জানি, তারা আমাদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে।”
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে রিয়াল তাদের চারটি ম্যাচই জিতেছে। আরবেলোয়া চাইলে ইতিহাসও গড়তে পারেন—প্রথম পাঁচ নকআউট ম্যাচ জেতা কোচদের তালিকায় নাম লেখাতে।
তবে প্রথম লেগে ফেভারিট নয় রিয়াল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনায় বায়ার্ন এগিয়ে। এর মধ্যে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে হারও এসেছে রিয়ালের। মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। তবে এই ম্যাচকে ভিন্নভাবে দেখছেন কোচ।
তিনি বলেন, “এগুলো আলাদা ম্যাচ, আলাদা প্রেক্ষাপট। খেলোয়াড়রা জানে সামনে কী আছে। তাদের আলাদা করে সতর্ক করার দরকার নেই।”

ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি জানিয়েছেন, অনুরোধ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু ফিফা এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।
সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ। ২২ জুন একই শহরে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের চলমান যুদ্ধের কারণে ম্যাচগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা। ফলে দানিয়ামালি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।’ তবে তিনি জানান ‘সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলেই’ কেবল সরকার বিশ্বকাপে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা সেখানেই হবে। ফিফার কাছে প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই। প্ল্যান ‘এ’–ই একমাত্র সমাধান বলে জানান তিনি।

আগামী ১ থেকে ৮ অক্টোবর চীনের জাংজুতে হবে ঐতিহ্যবাহী ‘হুরাই কাপ’ অনূর্ধ্ব-১৬ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। যেখানে বিশ্বের নামকরা ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশের বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমি।
ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওলিংগার স্পোর্টস চীনের একটি স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকে। এবার অংশ নেবে মোট ১৬টি দল। এর মধ্যে ৮টি চীনের ক্লাব এবং বাকি ৮টি বিভিন্ন দেশের।
ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি নামকরা ক্লাবের একাডেমি নিয়মিত অংশ নেয় এই টুর্নামেন্টে। জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, নেদারল্যান্ডসের পিএসভি আইন্দহোভেন, সার্বিয়ার ক্লাব, আর্জেন্টিনার রিভার প্লেট ও ব্রাজিলের সাও পাওলোর মতো একাডেমিগুলো হুরে কাপে খেলেছে।
সাও পাওলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রিভার প্লেট। এশিয়া থেকে সাধারণত সীমিত সংখ্যক দল সুযোগ পায়। এর আগে জাপানের একটি দল অংশ নিয়েছিল। এবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে একমাত্র হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশের থেকেই প্রথম কোনো একাডেমি হিসেবে বসুন্ধরা কিংস একাডেমির তরুণরা খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
বসুন্ধরা কিংসের এমন অর্জনের মূলে রয়েছে তাদের সুসংগঠিত একাডেমি ব্যবস্থা। ক্লাবের সভাপতি ইমরুল হাসান এই আমন্ত্রণকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন। সোমবার বলেন, ‘পৃথিবীর নামী সব ক্লাবের বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়মিত হুরাই কাপে অংশ নেয়, যা টুর্নামেন্টটির মান প্রমাণ করে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং টুর্নামেন্ট কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই।'
'আমরা দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করছি। গত বছর থেকেই তৃণমূল থেকে প্রতিভা সংগ্রহ করে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের যাচাই করছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ছেলেরা কতটা উন্নতি করছে তা দেখা, এবং আনন্দের কথা হলো আমরা বেশ কয়েকজন ভবিষ্যৎ তারকাকে খুঁজে পেয়েছি। এই টুর্নামেন্ট আমাদের একাডেমি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।’ যোগ করেন বাংলাদেশ ফুটবল লিগের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটির সভাপতি।
দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর আবু জোবায়ের নিপু এই সফরকে দেখছেন তরুণদের জন্য এক বিশাল অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে, ‘ম্যানেজমেন্ট আমাকে সেরা একটি দল গড়ার নির্দেশ দিয়েছে। ডর্টমুন্ড, পিএসভি কিংবা সাও পাওলোর মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেলা চাট্টিখানি কথা নয়, এটা আমাদের কিশোরদের জন্য ভাগ্যের ব্যাপার। আগস্ট থেকেই আমরা অনূর্ধ্ব-১৬ দলের ক্যাম্প শুরু করব। এই আসর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা আমাদের ছেলেদের আগামীর বড় তারকা হওয়ার পথে অবিশ্বাস্য সাহস ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের নির্দেশে দেশে ফুটবলার সংকট দূর করতে বসুন্ধরা কিংস যে মেগা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা আজ দক্ষিণ এশিয়ায় প্রশংসিত। দেশের ফুটবল ইতিহাসে বসুন্ধরা কিংসই প্রথম এমন পূর্ণাঙ্গ একাডেমি চালু করেছে, যা ইউরোপীয় ধাঁচে পরিচালিত হয়। মূলত তাদের এই পেশাদারত্ব ও অবকাঠামো নজর কেড়েছে চীনা আয়োজকদের। ফলে এশিয়ায় স্বাগতিক চীন বাদে একমাত্র দল হিসেবে কিংসই এই আসরে সুযোগ পেয়েছে।
টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার ও ফুটবল বিশ্লেষক আহমেদ শায়েক বলেন, ‘এই ধরনের টুর্নামেন্টে খেলা বাংলাদেশের যে কোনো অ্যাকাডেমির জন্য সম্মানের এবং শিক্ষণীয় একটি বিষয়। এখানে খেললে দেশের তরুণ ফুটবলাররা বহিবিশ্বের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলার সুযোগ পাবে। তারা বাড়তি একটি অনুপ্রেরণা পাবে এবং নিজেদের আরও উন্নত করার তাগিদ তাদের মধ্যে তৈরি হবে। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের নামকরা সব ক্লাবের একাডেমির সঙ্গে খেলাটা আমি মনে করি দারুণ একটা সুযোগ। বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজমেন্টের সকলের প্রচেষ্টায় ক্লাব এমন পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এমন সুযোগ কাজে লাগানোর সিদ্ধান্তে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এবারই এই টুর্নামেন্টে প্রথম কোনও বাংলাদেশের ক্লাবের একাডেমি খেলতে যাচ্ছে। যা প্রমান করে দেশের বাইরে কিংসের একাডেমির সুনাম রয়েছে।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে বড় স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বসুন্ধরা কিংস ফুটবল একাডেমির। শুরুতে ৭০ জন নিয়ে শুরু হলেও একাডেমির শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ জনে। গত অক্টোবরে একাডেমির খেলোয়াড়দের কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করে আয়োজন করা হয় টুর্নামেন্ট। এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ কিংস একাডেমির কিশোরদের সামনে।

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী
এশিয়ান কাপের ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভিয়েতনামের মুখোমুখি
হবে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার বৃত্তে থাকা দুই প্রতিপক্ষের সামনেই অভিন্ন
সমীকরণ। দুই সেরা তৃতীয় স্থান অধিকারী দলের একটি হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর
শেষ চেষ্টা থাকছে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সামনে। এই ম্যাচ জয়ে রাঙানোর বিকল্প দেখছেন
না বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসাইন।
মঙ্গলবার ননথাবুরি স্টেডিয়ামে
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বাঁচা-মরা ম্যাচের আগে অনূর্ধ্ব-২০
নারী দলের সহকারি কোচ জানিয়েছেন—জয়ের ব্যাপারে তার দল শতভাগ আশাবাদী।
আবুল হোসাইন বলেন,
‘আজ অনুশীলন করেছে মেয়েরা। আগামীকাল কিভাবে ম্যাচ খেলা হবে, সে প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। প্লেয়ারদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, তাদের সেরাটা দেওয়া প্রয়োজন।’
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী
ম্যাচে বাংলাদেশ দারুণ সম্ভাবনার ছাপ ফেলেছিল। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে
থেকে ম্যাচের অনেকটা সময় আধিপত্য ধরে রাখে তারা। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার
মানতে হয় অর্পিতা বিশ্বাসদের। পরের ম্যাচে অর্থাৎ গত ২ মার্চ সিডনিতে দারুণ লড়েও ২-০
গোলে হেরেছিল চীনের কাছে।
টানা দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পরও সামনের দিকে তাকিয়ে ফরোয়ার্ড সুরভী আক্তার প্রীতি। এমনটাই বলছেন আবুল হোসাইন। তিনি বলেন,
‘আমরা কোচেরা সবসময় আত্মবিশ্বাসী। প্লেয়াররাও বুঝতে পেরেছে, তারাও আত্মবিশ্বাসী। আমরা দুইটা ম্যাচ হেরেছি। তবে তারা চেষ্টা করেছে সেরাটা দেওয়ার জন্য। আগামীকাল সেরাটা দিয়েই তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তারা কালকের ম্যাচে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে হারের
পর ব্যাংককের মাঠে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল চীন ম্যাচে ভুল কম করা। থাইল্যান্ড ম্যাচের
তুলনায় ভুল তুলনামূলক কমই হয়েছে। তবে নিজেদের আরও নিঁখুত করার লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলে
জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড প্রীতি।
সুরভী বলেন,
‘গতকাল আমরা বিশ্রামে ছিলাম। চায়নার ম্যাচে যেসব ভুল ত্রুটি হয়েছে, কোচ আমাদের তা ধরিয়ে দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ দলের সবাই সুস্থ রয়েছে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করব আমরা।’

গত কয়েক বছর ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদী ঘটনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসা ফুটবলারের নাম ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দর্শকদের নোংরা আক্রমণের শিকার হয়েও দমে যাননি রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। মাঠেই প্রতিবাদ করার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। এবার নিজের ক্লাবের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার তারকা উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালকে বর্ণবাদী আক্রমণকারীদের এক হাতে নিলেন ভিনি।
মিশরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে স্পেনের দর্শকদের ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে নড়েচড়ে বসে স্পেন সহ পুরো ফুটবলবিশ্ব। স্পেনের ফুটবল ফেডারেশন এবং ফুটবল নিয়ন্তক সংস্থা ফিফাও এই ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান ইয়ামাল। কদির পর আবার আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে দর্শকরা স্প্যানিশ উইঙ্গারকে উদ্দেশ্য করে কুৎসিত মন্তব্য করেন এক দর্শক।
আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইয়ামাল কর্নার নেওয়ার সময় আতলেতিকোর গ্যালারি থেকে এক দর্শক ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবিদ্বেষমূলক গালিগালাজ করছেন।এক ভক্তকে বলতে শোনা যায়, ‘তুমি দেখতে কুৎসিত, মোটেও ভদ্রলোক না… মরক্কোয় ফিরে যাও,। ওখানেই চলে যাও।’
স্পেনের ফুটবলে বর্ণবাদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব ভিনিসিয়ুস ক্রমাগত এমন ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানান। চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বর্ণবাদ ভিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে ফুটবল এবং সমাজে বর্ণবাদের সমস্যা এখনও সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর একটি, এবং সকল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এটি উদ্বেগজনকভাবে পুনরায় ঘটছে।
ভিনিসিয়ুস আশা করেন অন্যান্য খেলোয়াড়রাও—যেমন লামিনে ইয়ামাল—এই লড়াই চালিয়ে যাবেন, এবং এই দায়িত্ব কেবল এক খেলোয়াড়ের কাঁধে নয়, ‘এটা একটি জটিল বিষয়। এটি প্রতিনিয়ত ঘটে। আমরা সম্প্রতি দেখেছি লামিনে ইয়ামালও এর শিকার হয়েছেন। সে সাহস করে এগিয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
বর্ণবাদীদের নির্দিষ্ট কোনো দেশ নেয়, বরং সবদেশে সব বর্ণবাদীদেরই সবাই মিলে রুখে দেওয়ার কথা বলেন ভিনি, ‘আমাদের একত্রিত হতে হবে, আর যাঁদের বলা সামর্থ্য আছে, তাঁদের এগিয়ে আসতে হবে। আমি স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল বা ব্রাজিলকে বর্ণবাদী দেশ বলছি না, তবে এই দেশে বর্ণবাদী মানুষ আছেন। আমাদের সবাইকে মিলে এর বিরুদ্ধে লড়তে হবে।’